02/09/2026
ছবিগুলো শুধু ছবি নয়—এগুলো আমাদের বিবেকের আয়না।
থিমের নামে কয়েক দিনের প্যান্ডেল বানাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। আলো ঝলমলে মণ্ডপ, বাহারি সাজসজ্জা—চলছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। কে কত বড়, কে কত দামী, কে কতটা নজর কাড়তে পারে!
কিন্তু সেই একই সমাজের গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে থাকা অসংখ্য মন্দির। কোথাও ভাঙা দেয়াল, কোথাও ধসে পড়ছে ছাদ, কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে প্রাঙ্গণ। যত্নের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া স্মৃতি।
কেন এই বৈপরীত্য?
উৎসব শেষ হলে প্যান্ডেল ভেঙে যাবে, আলো নিভে যাবে। কয়েক দিনের সেই জাঁকজমক একসময় স্মৃতি হয়ে থাকবে। অথচ আমাদের প্রাচীন মন্দিরগুলো থেকে যাবে—আমাদের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিকড় এবং আমাদের অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে।
তাই থিমের বিরোধিতা নয়, প্রশ্নটা হওয়া উচিত থিমের নামে কতটা ব্যয় করছি এবং সেই ব্যয় কতটা প্রয়োজনীয়।
থিম হোক—কিন্তু আয়ত্তের মধ্যে।
সাজসজ্জা হোক—কিন্তু অপ্রয়োজনীয় অপচয় নয়।
আয়োজন হোক—কিন্তু একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়।
পূজা কোনো প্রতিযোগিতা নয়।
কার মণ্ডপ বড়, কার আলো বেশি, কার থিম বেশি ব্যয়বহুল—তার মধ্যে মায়ের প্রতি ভক্তির গভীরতা নির্ধারিত হয় না।
বরং আমাদের পূজায় ফিরে আসুক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শুদ্ধতা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার পরিবেশ।
কয়েক দিনের জাঁকজমকের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে, সামর্থ্যের মধ্যে থেকে যদি আমরা পূজার আয়োজন করি এবং সেই অর্থের সামান্য অংশও জরাজীর্ণ মন্দির সংরক্ষণ, সংস্কার কিংবা ধর্মীয় ও মানবিক কাজে ব্যয় করতে পারি—তাহলে সেটিই হয়তো আমাদের সমাজের জন্য আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
সময় এসেছে শুধু প্যান্ডেলের জাঁকজমক দেখানোর নয়।
সময় এসেছে আমাদের মন্দিরগুলোর দিকে তাকানোর।
সময় এসেছে ঐতিহ্যকে বাঁচানোর।
সময় এসেছে নিজেদের শিকড়কে মনে রাখার।
কারণ উৎসব কয়েক দিনের, কিন্তু ঐতিহ্য প্রজন্মের।
থিম থাকুক, সৌন্দর্য থাকুক, আনন্দ থাকুক—
কিন্তু অপচয় নয়, অন্ধ প্রতিযোগিতা নয়।
সীমার মধ্যে থেকে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে, ভক্তি ও শ্রদ্ধায় হোক আমাদের পূজার আয়োজন।
মন্দির বাঁচান।
ঐতিহ্য বাঁচান।
নিজের শিকড়কে বাঁচান।
🙏 জয় মা দুর্গা। 🌺