08/04/2022
#হে_আমার_ছেলে
লেখক:ড.আলী তানতাবী
পর্ব:০১
পৃষ্ঠা:০৪-১১
এক টগবগে যুবক। ইউনিভার্সিটিতে পড়ত । অন্যদের মত যৌবনের
তাড়না তাকেও বিমূঢ় করে ফেলেছিল । চার দিকে হারামের হাতছানি
অথচ কুরআনের কড়া নিষেধাজ্ঞা। কী করবে, স্থির করতে পারছিল না ।
আচানক তার মাথায় বুদ্ধি এল, এমন সময় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
বাঞ্ছনীয়। কাগজ-কলম হাতে নিল সে। বেসামাল তাড়নার কথা লিখে
পাঠিয়ে দিল, ডক্টর আলী তানতাবীর কাছে। তানতাবী আধুনিক
জ্ঞান-বিজ্ঞানের আকড়, ইসলামী শরীয়তের প্রজ্ঞাবান আলেম ।
তানতাবী চিঠি পড়লেন। যুবককে নিজের ছেলের পর্যায়ে ভাবলেন।
তারপর নিজের প্রজ্ঞা আর শরীয়তের নির্দেশনার সারনির্যাসের আলােকে
লিখলেন সেই চিঠির উত্তর ।
তানতাবীর সেই উত্তরপত্রটি বিশ্বপত্রসাহিত্যে এক অনন্য সংযােজন।
যুগের পর যুগ তা সংরক্ষিত থাকবে। অগণিত যুবককে দিবে সঠিক
পথের দিশা
বাংলা ভাষাভাষী টগবগে যুবকদের জন্য পত্রটি অনুবাদ করে উপহার
দিলাম । যদি এটি তাদেরকে হারাম পথ থেকে ফিরতে সাহায্য করে,
হলে আমাদের শ্রম সার্থক হবে ।
|
।
বরাবর
জনাব, মীম হামযা
ইসমাঈলিয়া, মিশর
(সে আমার কাছে চিঠি লিখে কসম দিয়েছিল, যেন আমি তাঁর চিঠি পড়ি
এবং উত্তর প্রদান করি।)
তুমি কেন সংশয় ও লজ্জা নিয়ে আমার কাছে চিঠি লিখছ? তুমি কি
ভাবছ, তুমি একাই শিরাউপশিরায় যৌবনের উত্তাপ অনুভব করছ এবং
দুনিয়াতে এই সমস্যা শুধুই তােমার; আর কারও নয়?
হে আমার ছেলে! বিষয়টি এমন নয়। সহজ করে ভাবাে। এই রােগ শুধু
তােমার একার নয়; বরং এটা যৌবনের রােগ। বিষয়টি নিয়ে
আগেপরে অনেক লিখেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমি
আমার প্রবন্ধ-নিবন্ধ খুব একটা সংরক্ষণ করতে পারি
না। তা ছাড়া আমি কথার দ্বিরুক্তিও পছন্দ করি না।
তা না হলে আগের কোন লেখা তােমার কাছে
পাঠিয়ে দিতে পারতাম, অথবা বলে দিতে পারতাম
তা সংগ্রহের কোন উপায়।
যে সমস্যা তুমি অনুভব করছ, তা যদি তােমার ঘুম
কেড়ে নিয়ে থাকে, তা হলে মনে রেখাে, ছােট বড়
আরও অনেকেরই ঘুম সে কেড়ে নিয়েছে।
অনেকের চোখ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে দ্রিাসুখ ।
ছাত্রকে সরিয়ে দিয়েছে তার পড়াশােনা থেকে;
শ্রমিককে তার কাজ থেকে এবং ব্যবসায়ীকে
তার ব্যবসা থেকে। যেই প্রেমের বর্ণনায়
পরীক্ষায় পড়েছেন শত শত কবি, যেই
প্রেমকে হালাল করতে গিয়ে ধরাশায়ী
হয়েছেন শত শত সাহিত্যিক, সেই প্রেম
এবং তােমার অনুভূত বিষয় পুরােপুরি অভিন্ন কিন্তু তুমি একে নিয়েছ উন্মুক্ত ও আবরণমুক্ত বিষয়রূপে । মানুষ এর
সাথে পরিচিত হয়েছে; তবে তারা প্রতারিত হয়নি। তারা একে ধরেই
চকোলেটের কাগজের মত মুড়িয়ে ফেলেছে, যাতে এর প্রকৃতি থেকে
অন্যদেরকে ফাঁকি দেওয়া যায়। তুমি ঝর্ণায় ঠোট লাগিয়ে পান করেছ;
আর মানুষ তা পান করেছে কারুকার্যমণ্ডিত পেয়ালায় ভরে । পানি আবু
নাওয়াসের পেয়ালায় সােরাহির পানির মত, যার অভ্যন্তরে তিনি কেসরা
প্রতিষ্ঠা করেছেন। চিঠিতে লেখা তােমার উত্তেজনা কবির কবিতা,
গায়কের গান ও চিত্রকরের ফলকে পুঞ্জিভূত উত্তেজনার মতই; কিন্তু
সর্বনাম এখানে স্পষ্ট, আর ওখানে উহ্য। তবে সুপ্ত ও গােপন রােগ
অধিক সর্বনেশে।
তােমার মত এই বয়সে যে-ই উপনীত হয়, তার-ই পুঞ্জিভূত
শান্ত আগুন জ্বলে ওঠে এবং শিরাউপশিরায় তার তাপ
অনুভব করে। দুনিয়া তার চোখে আরেক দুনিয়ায়
পরিণত হয়। তার চোখে বদলে যায় মানুষও। তখন
আর সে নারীকে রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে দেখতে
পায় না। নারীর মানবীয় বৈশিষ্ট্যের কথা সে বিস্মৃত
হয়; ভুলে যায় তার দোষত্রুটিও একটি
আকাক্ষার মধ্যে শত আকাঙ্ক্ষা, আর একটি
আরজুর মধ্যে শত আরজু সমবেত হয়।
1
স্বভাবজাত কল্পনায় সে নারীকে এমন কাপড়
পরিধান করায়, তার সব দোষত্রুটি ঢেকে
দেয়, আড়াল করে সব অসম্পূর্ণতা; তাকে
প্রকাশ করে শুধু কল্যাণ ও পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের
প্রতিমারূপে। সে তাকে নিয়ে সেই খেলাই
খেলতে থাকে, যে খেলা একজন মূর্তিপূজারী
পাথর নিয়ে খেলে। পূজারী নিজেই সেটা
হেঁটে মূর্তি বানায়, তারপর সেটাকে রব মনে
করে পূজতে থাকে। মূর্তিপূজারীর জন্য
পাথরের মূর্তি প্রভু; আর প্রেমিকের জন্য নারী কল্পনার প্রতিমা
এগুলাে সবই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক; তবে যা সবসময় স্বাভাবিক ও
যৌক্তিক থাকে না, তা হল এই যে, তরুণ যুবক এসব অনুভব করে
পনেরাে-ষােলাে বছর বয়সে; কিন্তু তারপরও শিক্ষাব্যবস্থা তাকে বিশপঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে বাধ্য করে।
এই বছরগুলােতে তরুণ কী করবে? যৌবনের দহন, দেহের উষ্ণতা ও
আবেগ-উত্তেজনার বিচারে জীবনের কঠিনতম সময়।
কী করবে সে?
এখানেই সমস্যাটা।
আল্লাহর নিয়ম আর মানুষের প্রকৃতি তাকে বলবে, বিয়ে করাে।
তবে সামাজিক পরিবেশ ও শিক্ষাব্যবস্থা তাকে বলবে,
তিনটা থেকে যেকোন একটা পথ গ্রহণ করাে; যার।
সবগুলাে ক্ষতিকর। কিন্তু তুমি চতুর্থ পথ, যেটাই
একমাত্র কল্যাণ, অর্থাৎ বিবাহ থেকে বিরত থাকো।
হয়তাে তুমি আপন মনে নিজের স্বভাবজাত কল্পনা
ও যৌবনের স্বপ্নে বিভাের থাকো। এই ভাবনায়ই
আত্মনিয়ােগ করাে। রুচিহীন গল্প পড়ে, অশ্লীল
ফিল্ম আর নগ্ন ছবি দেখে এই চাহিদা পূর্ণ করাে।
এক সময় দেখৰে, ওগুলাে তােমার মন ভরিয়ে
তুলছে; তােমার দৃষ্টি ও চোখ তৃপ্ত হচ্ছে। এরপর
তুমি যেদিকে তাকাবে, সেদিকে শুধু সুতন্বী
নারীদের বিভ্রান্তিকর ছবিই দেখতে পাবে।
ভূগােলের বই খুললে দেখবে তাদের চেহারা
ভাসছে। পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালে
দেখবে, সেখানেও তারা আছে। দিগন্তের
লালিমায়, রাতের আঁধারে, জাগরণের
কল্পনায় এবং ঘুমের স্বপনে দেখতে পাবে
শুধু তাদেরই ছবি।
কবির ভাষায়أريد لأني كرها فكأنما نمل لي لیلی بگ سبيل
আমি যতই চাই লাইলাকে ভুলে যেতে
ততই সে দশদিক থেকে আড়ি পাতে।
এক পর্যায়ে তুমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ভারসাম্যহীন অথবা নিষ্ক্রিয় হয়ে
পড়বে।
অথবা তুমি অবলম্বন করতে পারাে আরেক পথ, আজকাল বর্ণচোরারা
যাকে বলে গােপন অভ্যাস (হস্তমৈথুন)। এর আগে এই কাজের এ নাম
ছিল না। এর হুকুম সম্পর্কে ফকীহগণ আলােচনা করেছেন। কবিরা
এ নিয়ে সরব হয়েছেন। সাহিত্যের গ্রন্থাবলিতে এ সম্পর্কে
একটি অধ্যায় ছিল। আমি তােমাকে সেদিকে ইঙ্গিত
দিতে চাই না। তার সূত্রও বলতে চাই না। যদিও তিন
পন্থার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম অনিষ্টকর, কিন্তু
যদি এটা সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং প্রয়ােগ খুব বৃদ্ধি
পায়, তা হলে মন বিষন্ন হয়ে পড়ে; অসুস্থ হয়ে
পড়ে শরীর। এই কাজ ভুক্তভােগী যুবককে করে
তােলে হাড্ডিসার বুড়াে, ভিতু ও হতাশ। সমাজ
থেকে সে পালায়। মানুষের সাক্ষাতে সে আতঙ্ক
বােধ করে। জীবনকে ভয় করে এবং জীবনের
সব অনুষঙ্গকে এড়িয়ে চলে।
অথবা তুমি হারাম স্বাদের কাদায় নামতে
পারাে। এগিয়ে যাবে অন্ধকার পথে; নােংরা
পল্লীর দিকে। খুইয়ে ফেলবে তােমার স্বাস্থ্য,
যৌবন, ভবিষ্যৎ ও ধর্ম- ক্ষণিকের তৃপ্তিতে।
তুমি দেখবে, যে সনদের আশায় তুমি
দিনরাত দোড়ঝাপ করছ, যে চাকরি পাওয়ার
জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছ, যে ইলম হাসিলের জন্য তুমি স্বপ্নে বিভাের,
এগুলাে সব তুমি হারিয়ে ফেলেছ। আরও দেখবে, তােমার শরীরে শক্তি
ও যৌবনের এমন কিছু অবশিষ্ট নেই, যার বলে তুমি কর্মতৎপরতার
উষ্ণ ভুবনে আত্মনিয়ােগ করবে।
এতদসত্ত্বেও তুমি ভেবাে না যে, তুমি পরিতৃপ্ত হতে পারবে। কক্ষণও
নয়। যখন তুমি একজনের সাথে মিলিত হবে, তখন সেই মিলন তােমার
লােলুপতা বৃদ্ধি করবে। ব্যাপারটি তৃষ্ণা মেটাতে লােনা পানি পান করার
মত। তৃষ্ণাকাতর ব্যক্তি যতই লােনা পানি পান করে, তার পিপাসা
ততই বাড়তে থাকে। তুমি যদি তাদের হাজার জনের সাথে সখ্য গড়ে
তােল, তারপর আরেক জনকে আকর্ষণীয়া রূপে এবং তােমাকে এড়িয়ে
চলতে দেখতে পাও, তা হলে তাকে পাওয়ার জন্য তুমি পাগল
হয়ে যাবে। তাকে না পেলে তুমি ওই ব্যক্তির মতই ব্যথা
অনুভব করবে, যে জীবনে কখনও নারীর পরশ
পায়নি।
ধরাে, তুমি যা চাও, তার সবকিছুই তাদের কাছে।
পেয়ে গেলে এবং দেশের সরকার ও তােমার।
সম্পদ পরিপূর্ণ রূপে তােমাকে সঙ্গতি দিল, তবে
তােমার স্বাস্থ্য কি সঙ্গতি দিবে? স্বাস্থ্য কি পারবে
জৈবিক চাহিদার শত ভার বইতে? এক্ষেত্রে বীররবাহাদুরও ধরাশায়ী হয়ে যায়। কতজন শক্তির
নায়ক ছিল- ভারােত্তোলন, কুস্তি, তীরনিক্ষেপ ও
দৌড় প্রতিযােগিতায় ছিল বিস্ময়; তবে তারা
জৈবিক চাহিদার ডাকে সাড়া দিয়েছিল এবং
স্বভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, ফলে।
তারা বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
আল্লাহর হেকমতের বিস্ময়কর দিক হচ্ছে
তিনি উত্তম কাজের সঙ্গে সওয়াব, সুস্থতা ও উদ্যম রেখেছেন; আর গর্হিত কাজের সঙ্গে রেখেছেন শাস্তি, পতন ও
রােগব্যাধি। আর পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনের কারণে ষাট বছরের বৃদ্ধকে
দেখা যায় তিরিশ বর্ষীয় যুবকের মত। যেসব সত্য ও যথার্থ ইংরেজী
প্রবাদ আমরা পেয়েছি, সেগুলাের মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে এই
কথাটি- “যে ব্যক্তি তার যৌবন সংরক্ষণ করবে, তার বার্ধক্যও সুরক্ষিত
থাকবে।'
পুরুষ মানুষকে যদি তার প্রাকৃতিক অবস্থার উপর ছেড়ে দেওয়া হত
এবং এসব নগ্ন ছবি, কামােত্তেজক গল্প-উপন্যাস, অশ্লীল সিনেমা, নারীর
নগ্নতা ও বেহায়াপনার সয়লাব না থাকত, তা হলে তার কামভাব মাসে
বা দুই মাসে একবার জাগ্রত হত। কেননা, একথা শাস্ত্রে স্বীকৃত যে,
প্রাণী (এখানে মানুষও প্রাণী) যত বেশি উন্নতির সিঁড়িতে
আরােহন করে, ততই তার যৌনমিলন হ্রাস পায় এবং গর্ভ
দীর্ঘায়িত হয়। এজন্য মােরগ-মুরগী প্রতিদিনই
যৌনমিলন করে থাকে। কেননা, একটি ডিমের
গর্ভজাত হওয়ার মেয়াদ হচ্ছে একদিন। তবে
বিড়াল একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। সে বিড়ালীর সাথে
যৌনমিলন করে বছরে একবার বা দুইবার ।
কেননা, বছরে তার গর্ভধারণ একবার বা দুইবার।
আমার ধারণা, মানুষ বিড়ালের চেয়ে উন্নত। তা
হলে এমন কেন যে, বিড়ালের একটি মৌসুম
আছে, তা হল আমাদের দেশে ফেব্রুয়ারী মাস;
অথচ কিছু কিছু মানুষের বেলায় বছরের
সবগুলাে মাসই ফেব্রুয়ারী? এই উত্তেজক
বস্তুগুলাের কারণে নয় কি?
এই প্ররােচনা দানকারী বিষয়গুলােই আপদের
মূল। অনিষ্টের আহ্বায়ক ও ইবলীসের
প্রতিনিধিরা হচ্ছে এগুলাের উৎস, যারা উন্নতি,
অগ্রগতি ও বিকাশের শ্লোগান দিয়ে নারীর জন্য নগ্নতা, বেহায়াপনা ও
পরপুরুষের সাথে মেলামেশাকে মােহনীয় করে তুলছে। নারীর প্রতি
তাদের দরদ ছাগলের প্রতি কসাইয়ের দরদের মত। কসাই ছাগল
পালে, তার যত্ন নেয়, তাকে মােটাজাতা করে। কিন্তু সে এসব কিছু করে
ছাগলটাকে যবাই করা জন্য।
প্রথমে একদল লােক বিদেশী অভিনেত্রীদের নগ্ন ছবি তাদের পত্রিকায়
প্রকাশ করে। তারপর শরীরচর্চার দোহাই দিয়ে প্রকাশ করে স্কুলের
মেয়েদের ছবি। এরপর উপকূলের নারীদের ছবি প্রকাশ করে ভ্রমণের
অজুহাতে। সূক্ষ্ম কৌশল আর পরিকল্পিত ছক অনুসারে এর উপর তারা
বহু দিন পর্যন্ত তারা তৎপরতা চালাতে থাকে । ইবলীসকে খুশি করার
জন্য এক্ষেত্রে তারা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দেয়। যদি তাদের।
এই চক্রান্ত, তাদের পত্রিকা এবং পূর্বের অশ্লীল গল্পমালা
আর পরের অসভ্য সিনেমা না থাকত, যদি ভ্রষ্টতার
বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত লােকজন আমাদের বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়ের দায়িত্ব না নিত, তা
হলে আমরা দেখতাম না এবং আমাদের কল্পনায়ও
আসত না যে, এমন একদিন সামনে আসবে, যখন
মুসলিম মেয়েরা বাস্কেট বল খেলার নামে,
ব্যায়ামের অনুষ্ঠান প্রদর্শনীর নামে অথবা
সমুদ্রভ্রমণের নামে পায়ের গােছা ও উরু পর্দামুক্ত
করছে। যদি কাসেম আমীনকে আর ফেতনার
সূচনাতে তার ডাকে যারা সাড়া দিয়েছিল,
তাদেরকে পুনর্জীবিত করা হয় এবং নারীর যে
অবস্থা হয়েছে, তা তারা প্রত্যক্ষ করে (যা
কখনই তারা চায়নি), তা হলে নিশ্চয় তারা
জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে।
তােমাকে সুদৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে, কামচাহিদা
চরিতার্থকরণের কাজটি প্রকৃতপক্ষে খুব
তুচ্ছ এবং তােমার ধারণার চেয়ে অনেক হাল্কা। তবে তার সম্পর্কে
আলােচনা বিরাট ব্যাপার। কাজটির চেয়ে তার বর্ণনা অন্তরে অনেক
বেশি দাগ কাটে। যদি এই শাস্ত্র অথাৎ কবিতা, গল্প, চিত্রাঙ্কন ও গান
না থাকত, যদি না থাকত এই চক্রান্ত, যা নারীকে মােহনীয় করে পেশ
করে এবং প্রেমকে কমনীয় করে উপস্থাপন করে, তা হলে সেই দৈহিক
সম্পর্কের জন্য যে উষ্ণতা তুমি অনুভব করছ, তার দশ ভাগের এক
ভাগও তােমার ও অন্য যুবকদের অন্তরে দেখা যেত না। নিশ্চয় কাজটি
চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি অপারেশনের মত। নিশ্চয় কাজটি খুব নােংরা।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তার জন্য একটি অবশকারী ওষুধের ব্যবস্থা
রেখেছেন, যা একেবারে বধির ও অন্ধ করে দেয়। ফলে মানুষ এর মধ্যে
কোন কদর্যতা দেখতে পায় না। আর এই অবশকারী ওষুধ হচ্ছে।
কামচাহিদা। মানুষ যদি শান্তভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবে,
শিরাউপশিরার আকলের পরিবর্তে যদি মাথার আকল
দিয়ে এ সম্পর্কে চিন্তা করে, তা হলে আমি যা
বললাম, সেটাই প্রমাণিত হবে।
এসব উত্তেজক বিষয় কাজ করতে পারে না এবং
তিক্ত ফল দিতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যায়ের
সহচর না পাওয়া যায়, যে তােমাকে অশ্লীলতার
রাস্তা দেখিয়ে দিবে এবং তােমাকে তার দরজায়
পৌছে দিবে। এগুলাে সব পরিপূর্ণ প্রস্তুত গাড়ির
মত। আর এই সহচর হচ্ছে স্টিয়ারিঙের মত।
গাড়ির যত শক্তিই থাক, স্টিয়ারিং ছাড়া তা
অচল।
চলবে....!
সম্পাদনা:মোঃরাতুল আমিন