Jalkuri Koroitola Central Mosque

Jalkuri Koroitola Central Mosque Assalamualikum Wa Rahmatullahi Wa Baraqatu This is all from authority of Jalkuri Koroitola Central Jame Mosque, the official page of the mosque.

We are here to spread the true massage of Quran & Sunnah against the false massage. This is our main purpose!

05/09/2024

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস কেন পালন করবেন বা করবেন না❓

◾️এক. কুরআনে কারীমে নবীর জন্মদিবস পালন করতে বলা হয়নি।
◾️দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে জন্মদিবস পালনের কোনো নির্দেশনা আসেনি।
◾️তিন. সাহাবায়ে কিরাম আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবকিছু বর্ণনা করেছেন, যেমন,
১। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। (বুখারী ১০২১)।
২।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু শব্দ করে হাসলেন। (বুখারী ১৯৩৬)।
৩।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। (বুখারী ৩৬৯৫)।
৪।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেরেশান হলেন। (বুখারী ৬৯৮২)
৫।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে দিলেন। (বুখারী ১৩০৪)

এভাবে সাহাবায়ে কিরাম আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল এক্টিভিটির বর্ণনা দিলেন, কিন্তু কেউ এটা বর্ণনা করলেন না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মদিবসের উৎসব করলেন। তাহলে আমরা কীসের উপর ভিত্তি করে নবীর জন্মদিবস পালন করবো?? বিবেকবানরা একটু চিন্তা করবেন??

◾️চার. আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার আড়াই বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️পাঁচ. উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর দশ বছরের খেলাফতকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️ছয়. উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর তেরো বছরের বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️সাত. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর চার বছরের বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️আট. হাসান ইবন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ছয় মাস বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️নয়. খলীফা মুআওয়িয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বিশ বছরের ইমারতকাল ও বিশ বছরের বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️দশ. উমাইয়া খলীফাদের কেউ তাদের বহু বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️এগারো. আব্বাসীয় খলীফাদের কেউ তাদের বহু বছরের খেলাফত কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️বারো. ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ তার জীবনে কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️তেরো. ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ তার জীবনে কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️চৌদ্দ. ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ তার জীবনে কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
◾️পনেরো. ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ তার জীবনে কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস পালন করেননি।
তাহলে এদের অনুসরণ না করে বলুন কাদের অনুসরণ আপনি করছেন?? যে কাজ না করে তারা শ্রেষ্ঠ হয়েছেন আপনি সেটা না করেই তো চলতে পারেন।
◾️ষোলো. এ জন্মদিবস পালনের বিদআতটি প্রবর্তন করেছে শিয়া রাফযী বাতেনী ফির্কার নেতা আল-মুইয লি- দীনিল্লাহ। যারা তাদের রাজত্বে সুন্নীদেরকে মারাত্মক ভয়াবহ অত্যাচার করে হত্যা করত। যারা পাঁচ ধরণের জন্মদিবস চালু করেছিল।
১- রাসূলের,
২- আলীর,
৩- ফাতেমার,
৪- হুসাইনের
৫- মুইয লি দ্বীনিল্লাহর।
দুর্ভাগ্যবশত সুন্নীদের কেউ কেউ সেখান থেকে একটি বিদআতকে ভালো মনে করে আত্মস্থ করে নেয়। আর দীন ও ইলমের অজ্ঞতার মাঝে সেটা পরবর্তী অনেক মানুষের মনে তা জায়গা করে নেয়।
◾️সতেরো. নিঃসন্দেহে এ কাজটি বিদআত। আর বিদআতের ভয়াবহতায় কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য আমাদের সবার জানা রয়েছে। শুধু দুটি আয়াত ও দুটি হাদীস বর্ণনা করতে চাই।
১। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يوم تبيض وجوه وتسود وجوه
মুফাসসিরগণ বলেছেন, বিদআতীদের চেহারা কিয়ামতের দিন কালো হবে।
২। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قل هل ننبئكم بالأخسرين أعمالًا الذين ضل سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا
বলুন, আমি কি তোমাদের জানিয়ে দিব না তাদের সম্পর্কে, যারা আমলের দিক থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? যারা তাদের দুনিয়ার জীবনের সকল আমল খুইয়ে বসেছে, অথচ তারা মনে করছে তারা কতই না ভালো কাজ করেছে।
◾️আঠারো. সালাফে সালেহীন তথা সাহাবায়ে কিরাম, তাবে’ঈন, তাবে তাবে’ঈন ও ইমামগণ থেকে বিদআত ও বিদআতীদের পরিণাম সম্পর্কে শত শত ভাষ্য এসেছে।
সুতরাং আসুন আমরা কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের পথে ও বুঝে অবস্থান করি।

কুরআনকে খতম করবেন না প্লিজ!
24/03/2023

কুরআনকে খতম করবেন না প্লিজ!

| কুরআনকে খতম করবেন না প্লিজ! |

তাজওয়ীদ শাস্ত্রে ওয়াজিব গুন্নাহ নামে একটা টার্ম আছে। আমি জীবনের প্রথমদিকে বড় একটা সময়জুড়ে ভাবতাম এটা শার’ঈ ওয়াজিব, না করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে। অনেক পরে গিয়ে বুঝেছি যে এটা শার’ঈ ওয়াজিব নয়, শাস্ত্রীয় ওয়াজিব।

তাজওয়িদ শাস্ত্র নামের একটা স্বতন্ত্র শাস্ত্র গড়ে উঠেছে কেবল কুরআন পাঠের সৌন্দর্য নিশ্চিত করার জন্য। দেখুন সাধারণ আরবি বলার সময় কিন্তু এই একই আলিফ বা তা সা নূন মিম ইত্যাদি দিয়েই ভাষাটা উচ্চারিত হয় , কিন্তু সেখানে এই মাদ্দ—গুন্নাহর কোনো ব্যাপার নেই।

আমাদের হাফেজরা সবাই কমবেশ এই শাস্ত্রের বিষয়ে জানেন, তবুও তারাবীহ সালাতে কুরআন খতমের নামে এভাবে কুরআনকে খতম করার কালচার কীভাবে গড়ে উঠল!

এর জন্য কারা দায়ী? হাফেজরা? নাকি সাধারণ মানুষ! হাফেজ আলিমরা চাইলে কি এর কোনো প্রতিকার করতে পারতেন না? মসজিদ তো তাদেরই নিয়ন্ত্রনে। তাদের কি এতটুকু ব্যক্তিত্ব, আত্মসম্মান, লিডারশিপ কিংবা ধর্মীয় গাইরাত থাকতে নেই যে এখানটাতে তারা এতটুকু বিষয় প্রতিষ্ঠিত করবেন? এতটুকু গাট যদি না থাকে তাহলে সমাজ বদলের আশা আমরা কাদেরকে নিয়ে করি?

আজ এই প্রসঙ্গে কিছু গল্প বলব জীবন থেকে, একেবারে নিজের জীবন থেকে। কারো ভালো লাগবে, কারো হয়ত ভালো করে গায়ে লাগবে। তবু কিছু শিক্ষা থেকে যাবে। শিক্ষাটা হলো আমাদের যদি সত্যিই আত্মসমান থাকে তো সমাজ আমাদের সম্মান দিতে বাধ্য হবে; আর যদি তা না-ই থাকে তবে ফাফা হুংকার দেওয়া বন্ধ করা উচিৎ। এতে অপমানিত হওয়ার সম্ভাবনাই বৃদ্ধি পাবে।

………
আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। আমার বয়স তখন চৌদ্দ পনের’র মতো হবে। তখন আমরা যেখানে থাকতাম সেটা ছিল কিছুটা শহরতলি ধরণের। আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আমার বেশ ভালো একটা সম্পর্ক। আমাদের বাসায় মাঝেমধ্যে আসেনও।

আমি বয়সে বেশ ছোট হলেও তিনি কেমন যেন একটা সম্মান-মিশ্রিত স্নেহ করেন। একবার, তিনি তার গ্রামের বাড়ি যাবেন। আমাকে অনুরোধ করলেন, শুক্রবার জুম’আর নামাজটা একটু পড়িয়ে দিতে। ওনার শুক্রবারে বাড়িতে থাকা জরুরি।

এমনিতেও আমার বয়স কম। তাছাড়া ইমামতির দায়িত্ব কোনো এক অজানা কারণে এড়িয়ে চলতাম। রমজানের এই তারাবীহ ছাড়া মসজিদের মিম্বারের দিকে যেতাম না। কিন্তু তার উপকারের কথা ভেবে রাজি হয়ে গেলাম। স্বাভাবিক কারণেই ভেবেছিলাম, তিনি নিশ্চয়ই মসজিদ কমিটিকে বলে গেছেন। কিন্তু শুক্রবার মসজিদে গিয়ে বুঝলাম, তিনি অফিশিয়ালি তেমন কিছু বলে যাননি। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হয়ত জানিয়ে গিয়েছেন।

লোকজন মোটামুটি এসে পড়েছে। এদিক-সেদিক তাকাচ্ছে ইমাম কোথায়, কে নামাজ পড়াবে। এর মধ্যে দারাজ কণ্ঠে সভাপতি সাহেব বলে উঠলেন, “নামাজ কে পড়াবে আজ? আমি বললাম, 'আমি পড়াবো, ইমাম সাহেব আমাকে বলে গিয়েছেন'। একই মহল্লায় আমাদের বাড়ি। সভাপতি সাহেব অল্পবিস্তর চেনেন ও জানেন আমাকে। কিন্তু আজ কেমন যেন না চেনার ভান করলেন। সম্ভবত বয়সের কমতির কারণে কিছুটা তাচ্ছিল্লের স্বরে বললেন, “নামাজ পড়াইতে হইলে তো আগে ইন্টারভিউ দিতে হবে”।

আমিও কেন যেন আর কম্প্রোমাইজ করলাম না। যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেতুল মেরে দিলাম সাথে সাথে। বললাম, ভালো, ইন্টারভিউটা কে নেবে শুনি এখানে? আপনি নিবেন? আমার তো ত্রিশ পারা মুখস্ত আছে, মাদ্রাসাতে পড়ি, কমবেশ মাসআলা মাসায়েলও জানা আছে। এবার আপনার কয় পারা মুখস্ত আছে আর ইসলাম নিয়ে লেখাপড়া কদ্দুর করেছেন বলেন। এরপর একটু ঔদ্ধত্যের সাথেই বলেছিলাম, “আমি যে মসজিদে এই বয়সে নামাজ পড়িয়েছি সেই মসজিদে যতজন মানুষ বাথরুমে লাইন দিয়ে থাকে আপনার এই মসজিদে তো সেই ক’জন মুসল্লিও নেই, আপনি আমার কিসের ইন্টারভিউ নিবেন!”

ভদ্রলোক যারপনাই হতভম্ব হয়ে গেলেন। হেসে উড়িয়ে দিয়ে ‘ভাতিজা রাগ হইলা কেন’টাইপ কথা বলে পরিস্থিতি নরমাল করার চেষ্টা করলেন। চালাক মানুষ। হয়ত বুঝতে পেরেছেন সহজেই, আগে বাড়লে খবর আছে।

কিশোর বয়সের কিছুটা ড্যামকেয়ার ভাব আর ফটাস ফটাস কথা বলার স্বভাবের ছাপ আমার আচরণে থাকলেও এর পেছনে একটা সুপ্ত ক্ষোভ ছিলো। এখন বুঝি এটা অনেকটা যৌক্তিকও বটে। যে সভাপতি আমার ইন্টারভিউ নিতে চেয়েছিলেন তিনি ছিলেন এলাকার বিখ্যাত একজন সূদখোর। তার পেছনে লোকেরা তার নামের সাথে সূদখোর শব্দ যোগ করে ডাকত। আমার দ্বন্দের জায়গাটা ছিলো এমন যে, একজন প্রকাশ্য সূদখোর ফাসিক একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে তাচ্ছিল্ল করছে। এই সুযোগ তাকে দেওয়া হবে না, শক্তভাবে প্রতিরোধ করা হবে, এবং সাথে সাথে। এই ব্যবচ্ছেদ সেই কিশোর বয়সে হয়ত আমার সামনে এত নিপুণভাবে স্পষ্ট ছিল না, তবে এখন বুঝি ব্যাক ইন দ্য মাইন্ড এটাই ছিল আমার এই শক্ত অবস্থান নেওয়ার পেছনে মূল কারণ।

এবার বাথরুমে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মতো পিকিউলিয়ার কথাটা যে মসজিদে নামাজ পড়ানোর কারণে বলেছিলাম সেটার একটা গল্পটা বলি। এটা আমাদের বিভাগীয় শহরের অন্যতম বড় মসজিদ। সে মসজিদে চৌদ্দ বছর বয়সের এই কিশোরের নামাজ পড়ানোর কথা না। কিন্তু সেই মসজিদের খতিব সাহেবের সাথে আমার হিফজ উস্তাদের বিশেষ সুসম্পর্ক, আর আমার ইয়াদের ব্যাপারে আমার উস্তাদের আস্থাই ছিলো এই সুযোগ পাওয়ার মূল কারণ।

সারা মাস বেশ সুনামের সাথেই নামাজ পড়ালাম। শেষের দিন এক আজব ঘটনা ঘটল। প্রথমে সূরা কাফিরুন পড়ার সময় হাফেজ সাহেব লোকমা দিলেন, (লোকমা মানে নামাজে ভুল হলে পেছন থেকে শুধরে দেওয়া)। তিনি ছাড়াতে পারছেন না দেখে ইমাম সাহেবও লোকমা দিলেন।

কোনোমতে টেনেটুনে সালাম ফেরালাম। এরপর একেবারে শেষের সময়, সূরা ফালাক্ব আর পড়তেই পারছি না যেন। হাফেজ সাহেব, ইমাম সাহেব, মুয়াযযিন সাহেবও লোকমা দিলেন। যেন এক এক আয়াত বলে দেওয়ার পরও পড়তে পারছিলাম না। আমার নিজের অবস্থা আর না-ই বললাম, সব মুসল্লীরাও তাজ্জব। গোটা রামাদানে মাত্র মনে হয় দুইবার পেছন থেকে বলে দিতে হয়েছিল; অথচ কাফিরুন আর ফালাকে এই অবস্থা!

নামাজ শেষে খতিব সাহেব একান্তে ডেকে নিয়ে বললেন, “দেখো, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য আজীবনের এক শিক্ষা ছাড়া কিছু না। আল্লাহর কালাম কেউ নিজ ক্ষমতায় হৃদয়ে রাখতে পারে না; আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় যার মধ্যে চান রাখবেন, যার কাছ থেকে চান উঠিয়ে নেবেন; তিনি না চাইলে তুমি সূরা ফালাক্বও পড়তে পারবা না। এটা মনে রাখবা, কখনও অহংকার করবা না, ইখলাস বজায় রাখবা”।

কেন কয়েক যুগ আগের ব্যক্তিগত এই গল্পগুলো বলছি এবার সেই গল্পে আসি। আমাদের মহল্লার এই মসজিদে ইমাম সাহেব নিজেও হাফেজ, তারাবিহর জন্য আরও দুজন হাফেজ রাখা হয়েছে। প্রথম দিন নামাজ পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। এত দ্রুত পড়ল যে মনে হচ্ছিল কুরআনের সাথে কুস্তি চলছে। দ্রুত পড়ার সাথে যদি কম ইয়াদ যুক্ত হয় তাহলে কি যে একটা মারত্মক অবস্থা তৈরি হয় তা কেবল হাফেজরাই বোঝেন। পেঁচিয়ে এখান থেকে ওখানে, ওখান থেকে সেখানে, এই কখনও আয়াত বাদ কখনও শব্দ। শেষ পর্যন্ত একটা গোজামিল দিয়ে লম্বা একটা টান মেরে রুকুতে। অবস্থাটা এমন যেন নামাজে ভুল হলে তার মান-ইজ্জত কিছুই থাকবে না।

আমাদের এই তিনজন হাফেজের একজন—যিনি মসজিদের স্থায়ী ইমাম—প্রতিদিনই দু’চার রাকাতে এমন করেন। অন্য দু’জন হাফেজকে কখনও লোকমা দিতে দেখি না। তো একদিন জিজ্ঞেস করলাম, কী লোকমা দেওয়া নিষেধ আছে নাকি? ছোট হাফেজ সাহেব চূপচাপ। সম্ভবত অস্থায়ী দু’জনের রিক্রুটমেন্টে তার ভুমিকা আছে। তাই রিক্রুটকারীর মান-ইজ্জত রক্ষার ব্যাপারে তারা হয়ত কমিটেড।

এই যে নামাজে তিলাওয়াতে ভুল হলে লোকমা দিলে সেটাকে নিজের প্রেস্টিজ ইস্যু মনে করাটা কিন্তু একটা আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসহীনতার প্রমাণ। আমি মসজিদে নববীর মাগরিব সালাতের ছোট্ট সূরাতেও ইমামকে কুরআন ভুলে যেতে দেখেছি এবং পেছন থেকে বলেও দেওয়া হয়েছে।

আত্মমর্যাদাহীন মানুষ এমন কাজে নিজের ইজ্জত হারানোর শংকায় ভোগে যেটার সাথে ইজ্জত হারানোর কোনো সম্পর্কই হয়তো ছিল না; আবার অনেক নীচ কাজ অবলীলায় করতেও তাদের আত্মসম্মানে লাগে না। সভাপতির যে অন্যায় নির্দেশ পালন ছিলো চরম অবমাননাকর সেটাকে তারা মোটেই অসম্মানজক মনে করছে না, কিন্তু তিলাওয়াতে লোকমা খাওয়াকে তার ইজ্জতের ব্যাপার মনে করছে।

আমি অবশ্যই বলছি না ব্যতিক্রম নেই, অবশ্যই আছে; তাদের প্রতি স্যালুট। তবে সেটা এত কম যে তা আর গোনায় ধরা যাচ্ছে না; সেটা আমাদের সমাজ জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করার মতো সংখ্যায় নয় একদমই, বরং একেবারেই নগণ্য। আর নগণ্যতা অস্ত্বিত্বহীনতার মতোই। যেটা মেইন্সট্রিম সেটাই আলোচ্য বিষয়।

যাই হোক, কিছু বললাম না। চারিদিকের অবস্থা তো সুবিধার না। বাবা-মা, পরিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা আছে, কোথাও কোনো কথাবার্তা বলা যাবে না। সহ্য করলাম। পরদিন মসজিদের সভাপতি সাহেব নামাজের আগে ইমামদেরকে আরও দ্রুত পড়ার তাগিদ দিলেন। বললেন, সৌদি আরবে নাকি তারাবীহ অর্ধেক করে দিছে। আরও দ্রুত শেষ করতে হবে, নইলে সমস্যা আছে।

ইমাম সাহেবগণ সভাপতির কথা রাখার জন্য যে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তা বুঝানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করলেন না। কিরাতে, রুকুতে, সিজদাতে, সব জায়গায় গতি যতদূর সম্ভব বাড়িয়ে দিলেন। দাঁতে দাঁত কামড়ে ১২ রাক’আত পড়ে বাসায় চলে এলাম। আর সহ্য করতে পারছিলাম না নামাজের সাথে এই কুস্তি, কুরআনের সাথে এই ঝগড়া।

ভাবলাম, আমার মনের কথাগুলো ইমাম সাহেবদের সাথে শেয়ার করি; ওনারা তো আমাদেরই মানুষ, হয়ত অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু হয়ে উঠছিল না। সেদিন ফজরের পর কিভাবে যেন তিনজনকে একেবারে একা পেয়ে গেলাম। হুজুরদের বললাম, “আপনারা তো সমঝদার লোক, আপনাদেরকে সমঝ দেওয়ার মতো কিছু নেই। আচ্ছা আপনারা যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করছেন এটা কি ঠিক হচ্ছে?

তারা এক বাক্যে স্বীকার করলেন যে ঠিক হচ্ছে না। কেন করছেন সে কথা জিজ্ঞেস করে তাদেরকে ছোট করতে ইচ্ছে হলো না। কথাটাকে অন্যদিকে নিয়ে গেলাম। বললাম, এই আপনারাই হলেন এদেশে ইসলামী শক্তির বাস্তব প্রতিচ্ছবি; আর যে সভাপতি আপনাদেরকে ডিকটেট করছে তিনি কী তাও আপনাদের জানা। আপনারা এমন লোকদের কথায় আল্লাহর কুরআনের সাথে আদব রক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে কিভাবে অবহেলা করছেন?

ওনারা মাথা নিচু করেই শুনলেন। কোনো জবাব দিলেন না।

বললাম, দেখুন আপনারা তিনজনই মূলত ইসলাম, আপনারাই ইসলামের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ইসলাম। ওয়াজের ময়দানের চিৎকার আর হুংকার একটা ফাপানো মেকি চিত্র। আপনারা এই মসজিদের গণ্ডির মধ্যেই যদি সেক্যুলারদের চোখে চোখ রেখে একটা অকাট্য সত্য বিষয়ে শক্ত অবস্থান না নিতে পারেন তাহলে কীভাবে হবে? মসজিদে তো আপনাদের একটা কর্তৃত্ব আছে; এটা আপনাদের এক্সপার্টিজ এর কোর ফিল্ড; আপনাদের তোয়াজ করতে এখানে তারা বাধ্য; ব্যাপারটা এমন নয় যে আপনি রুখে দাড়ালে সে এসে নিজেই নামাজটা পড়িয়ে দিতে পারবে। আপনারা বলতে পারতেন, কুরআন নিয়মানুসারে যেভাবে পড়া উচিৎ সেভাবেই পড়া হবে; তারাবীহ ফরজ নামাজ নয়, যার যত রাকাত ভালো লাগে পড়বেন, কিন্তু কুরআনের সাথে বেয়াদবি করা হবে না।

ওনারা একটা রা শব্দও উচ্চারণ করলেন না।

শেষে একথাও বললাম যে, যত কমই হোক না কেন, যদি ন্যুনতম কোনো কর্তৃত্ব থাকে সেটা আপনাদের মসজিদ মাদ্রাসাতেই আছে। আপনাদের কর্তৃত্বের জায়গাটাতেই যদি আপনারা ন্যায় রক্ষার সময় বাতিলের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারেন, তাহলে রাজনৈতিক ময়দানে আপনারা কিভাবে বাতিলের মোকাবেলা করবেন? সেখানে তো আপনারা দুধভাত।

আর বলা যায় না। আমি “আপন মনে করে অনেক কথা বললাম, ভুলত্রুটি হলে মাফ করে দিয়েন” বলে উঠলাম। আশায় বুক বাধলাম, আজ থেকে নিশ্চয়ই একটা চমৎকার কুরআন তিলাওয়াত পেতে যাচ্ছি। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। পরের দিন সেই একই অবস্থার পুনরাবৃত্তিই ঘটল।

আমার মন কিছুটা হতাশায় ছেয়ে গেলো; আমি একদম চুপ হয়ে গেলাম।

ইমাম সাহেবদের সাথে প্রতিদিনই দেখা হয়, কিন্তু সালাম দেওয়ার সময় আর চোখে চোখ রাখতে পারি না। ওনারাও কেমন যেন একটা হাত কচলানো, অতি বিনয়ী ভাব নিয়ে থাকেন ।

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

~ আবু তাসমিয়া আহমদ রফিক
প্রধান সম্পাদক, সিয়ান পাবলিকেশন

সিয়ান | বিশুদ্ধ জ্ঞান | বিশ্বমান

Dear Brothers and Sisters!Do not delay paying your zakah (2.5% of your wealth). Give it now as a lot of daily wage worke...
22/03/2023

Dear Brothers and Sisters!
Do not delay paying your zakah (2.5% of your wealth).
Give it now as a lot of daily wage workers lost their work and job. The poor and needy are suffering and they have nothing to eat.
JazakAllah khairan

Dear Brothers and Sisters!
Do not delay to pay your zakah (2.5% of your wealth).
Give it now as a lot of of daily wage workers lost their work and job. Poor and needy are suffering and they have nothing to eat.

JazakAllah khairan

পবিত্র মাস রামাদান
22/03/2023

পবিত্র মাস রামাদান

22/03/2023

রমাদান মাসে একজন মুসলিমের সারাদিন :

একজন মুসলিম তাঁর দিন শুরু করবে ফজরের সালাতের আগে সেহেরী গ্রহণের মাধ্যমে। উত্তম হচ্ছে যদি রাতের শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করে সেহেরী গ্রহণ করা যায়।আযানের আগে তিনি ফজরের সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। বাসা হতে ওজু করে আযানের আগেই মসজিদে যাবেন। মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। এরপর মুয়াজ্জিন আযান দেয়ার আগ পর্যন্ত বসে বসে দোয়া দুরুদ, কুরআন তিলাওয়াত বা যিকির আযকারে মশগুল থাকবেন। আযান দিলে মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে আযানের বাক্যগুলোর পুনরাবৃত্তি করবেন। আযান সমাপ্ত হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত দুআপাঠ করবেন। এরপর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। তারপর ফরজ সালাত দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত যিকির, দুআ ও কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করবেন। “সালাতের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তি সালাতেই রয়েছেন”। [ বুখারী (৬৪৭) ও মুসলিম (৬৪৯)]
জামাতের সাথে সালাত আদায় শেষে, সালাম ফিরানোর পর তিনি শরিয়ত নির্দেশিত দুআসমূহ পাঠ করবেন। এরপর চাইলে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে থেকে যিকির, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকবেন। এটি করতে পারলে ভাল। ফজরের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে আমল করতেন। এরপর সূর্যোদয়ের পর সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে এবং উদয়নের পর ১৫ মিনিটের মত অতিক্রান্ত হলে তিনি চাইলে সালাতুদ্‌ দোহা তথা চাশ্‌তের নামায (সর্বনিম্ন দুই রাকাত) আদায় করবেন। এটি ভাল। আর চাইলে কিছুটা দেরী করে এই নামায পড়ার উত্তম সময়ে নামাযটি পড়তে পারেন। উত্তম সময় হলো- সূর্য আরো উপরে উঠলে এবং রোদের প্রখরতা বাড়লে। এই সময়ে নামাযটি পড়তে পারলে আরো ভাল। [মুসলিম (৭৪৮),তিরমিযী (৫৮৬)] এরপর কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ কিছু সময় ঘুমাতে চাইলে এই ঘুমের দ্বারা ‘ইবাদত ও রিযিক অন্বেষণের নিমিত্তে শক্তি অর্জনের নিয়্যত করবেন। যাতে আল্লাহ চাহেত এ ঘুমের মাধ্যমে সওয়াব পেতে পারেন। ইসলামী শরিয়ত যেসব কথা ও কাজকে ঘুমের আদব হিসেবে নির্ধারণ করেছে সেগুলো পালনে যত্নবান হওয়া উচিত। এরপর তিনি তার কর্মস্থলে যাবেন। যোহরের নামাযের ওয়াক্ত নিকটে এলে যথাসম্ভব শীঘ্রই আযানের আগে অথবা আযানের পরপরই মসজিদে হাযির হবেন। নামাযের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকবেন। এরপর তিনি ২ সালামে যোহরের ৪ রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। এরপর কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না জামাত শুরু হয়। এরপর জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন। জামাতের পর যোহরের ২ রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। সালাত আদায় শেষে তার ডিউটির বাকী অংশ সম্পন্ন করবেন। ডিউটি শেষে তিনি বাসায় ফিরে আসবেন। যদি আসরের সালাতের পূর্বে লম্বা সময় বাকি থাকে তাহলে কিছু সময় বিশ্রাম নিবেন। আর যদি ঘুমানোর মত বেশি সময় বাকি না থাকে এবং ঘুমিয়ে পড়লে আসরের সালাত ছুটে যাওয়ার আশংকা করেন তাহলে নামাযের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত কোন কাজে ব্যস্ত থাকবেন। যেমন– বাসার লোকজনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কিনতেবাজারে যাওয়া।নতুবা কর্মস্থল থেকে ফিরে সোজা মসজিদে চলে যাবেন এবং আসরের সালাত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করবেন। আসরের পর একজন মানুষ তার নিজের অবস্থা বিবেচনা করবে। তিনি যদি মসজিদে বসে কুরআন তিলাওয়াতে নিয়োজিত থাকার মত শক্তি পান তাহলে এটা এক মহান সুযোগ। আর যদি তিনি ক্লান্তি বোধ করেন তবে এ সময়ে বিশ্রাম নিবেন; যাতে রাতে তারাবীর নামাযের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। মাগরিবের আযানের আগে তিনি ইফতারের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। এই মুহূর্তগুলোকে তিনি যেকোন ভালো কাজে ব্যয় করবেন। যেমন- কুরআন তিলাওয়াত করা, দুআ করা, অথবা পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে ভাল কোন কথা আলোচনা করা। এ সময়ের সবচেয়ে ভাল কাজ হল – রোযাদারদেরইফতার করানোতে অংশ নেওয়া। হয়তো তাদের জন্য খাবার কিনে দেয়ার মাধ্যমে অথবা তা বিতরণ করার মাধ্যমে অথবা এর ব্যবস্থাপনা করার মাধ্যমে। এই আমলের মধ্যে অপরিসীম আনন্দ রয়েছে। এটা তিনিই জানেন যিনি নিজে এ আমল করেছেন।
ইফতারের পর তিনি জামাতের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাবেন। এরপর দুই রাকাত মাগরিবের সুন্নত সালাত আদায় করবেন। বাসায় ফিরে তিনি প্রয়োজন মাফিক খাদ্যগ্রহণ করবেন। অতিরিক্ত খাবেন না। এরপর এই সময়কে তার নিজের জন্য ও তার পরিবারের জন্য কল্যাণকর কোন পন্থায় ব্যয় করবেন।যেমন – কোন কাহিনীর বই পড়া, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় হুকুম আহকামের কোন বই পড়া, প্রতিযোগিতার বই পড়া, বৈধ কোন আলাপ আলোচনায় রত থাকা অথবা অন্য যে কোন আকর্ষণীয় কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা এবং এগুলোর মাধ্যমে মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হারাম অনুষ্ঠান থেকে পরিবারের সদস্যদেরকে বিরত রাখা। কারণ চ্যানেলগুলোরজন্য এটি পিক আওয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আপনি দেখবেন এ সময় তারা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। যে অনুষ্ঠানগুলো আক্বীদা বিনষ্টকারী ও আখলাক বিনষ্টকারী বিষয়াদিতে ভরপুর থাকে।
প্রিয় ভাই, এসব অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করুন এবং আপনার অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। যাদের ব্যাপারে কিয়ামাতের দিন আপনি প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। সেদিনের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। এরপর এশার সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিন এবং মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হোন। মসজিদে গিয়ে কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হোন। অথবা মসজিদে কোন ইলমী আলোচনা অনুষ্ঠান থাকলে তা শুনুন। এরপর এশার সালাত আদায় করুন। অতঃপর ২ রাকাত এশার সুন্নত নামায আদায় করুন। এরপর ইমামের পিছনে তারাবির নামায খুশূ (আল্লাহর ভয়), তাদাব্বুর (অনুধাবন), তাফাক্‌কুর (চিন্তাভাবনা)এর সাথে আদায় করুন। ইমাম নামায শেষ করার আগে আপনি নামায ছেড়ে চলে যাবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
" إنه من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة ". رواه أبو داود (1370) وغيره ، وصححه الألباني في "صلاة التراويح " (ص 15)
“ইমাম নামায শেষ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি তাঁর সাথে নামায আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত নামায পড়ার সওয়াব লিখে দেয়া হবে।”[হাদিসটি আবু দাউদ (নং ১৩৭০) এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সংকলন করেছেন।আলবানী সালাতুত্‌ তারাবীহ অধ্যায়ে হাদিসটিকে সহীহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন]
সালাতুত্‌ তারাবীর পর আপনি আপনার নিজস্ব ব্যতি ব্যস্ততার সাথে সামঞ্জস্যশীল প্রোগ্রাম তৈরি করে নিন। এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন:
- সমস্ত হারাম থেকে এবং হারামের আহ্বায়ক বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকুন।
- আপনার বাসার সদস্যদেরকে হারাম থেকে ও হারামের যাবতীয় উপকরণ থেকে কৌশলে বিরত রাখুন। যেমন–তাদের জন্য বিশেষ কোন প্রোগ্রাম তৈরি করুন। অথবা তাদের নিয়ে শরিয়ত অনুমোদিত স্থানে ঘুরতে বের হোন। তাদেরকে অসৎসঙ্গ থেকে দূরে রাখুন। তাদের জন্য সৎ সাহচর্যের অনুসন্ধান করুন।
- কম ফজিলতপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমলে মশগুল হওয়া।
আগে আগে বিছানায় যেতে চেষ্টা করুন। ইসলামী শরিয়ত যেসব কথা ও কাজকে ঘুমের আদব হিসেবে নির্ধারণ করেছে সেগুলো পালনে যত্নবান হবেন। ঘুমের আগে যদি কিছু কুরআন তেলাওয়াত বা ভাল কোন বইয়ের কিছু অংশ পড়তে পারেন তবে তা ভাল। বিশেষ করে আপনি যদি কুরআন থেকে আপনার দৈনন্দিন পাঠ্য (ওয়াজীফাহ্) শেষ না-করে থাকেন তবে তা সম্পন্ন না করে ঘুমাবেন না।এরপর সেহেরীর আগে যথেষ্ট সময় নিয়ে ঘুম থেকে উঠুন। যাতে দুআতে ব্যস্ত হতে পারেন। কারণ এই সময় – রাতের শেষ তৃতীয়াংশ – আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে থাকেন। আল্লাহ তাআলা এ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করেছেন। এ সময়ে দুআকারীদের দুআ কবুলের এবং তওবাকারীদের তওবা কবুলের ওয়াদা করেছেন। তাই এই মহা সুযোগটি আপনার হাতছাড়া করা উচিত হবে না।
জুমাবার:
জুমাবার সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। তাই এই দিনের ‘ইবাদত ও আনুগত্যের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম থাকা উচিত। এক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার :
# জুমার সালাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আগে আগে বের হওয়া।
# আসরের সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা এবং এ দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিলাওয়াত ও দুআতে ব্যস্ত থাকা। কারণ এ সময়ে দুআ কবুল হওয়ার আশা করা হয়।
# সপ্তাহের মাঝে যে কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেননি তা সম্পন্ন করতে এই দিনকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। যেমন কুরআনের সাপ্তাহিক পাঠ্য (ওয়াজীফাহ) বা কোন বই পাঠ অথবা ক্যাসেট শোনা অথবা এ জাতীয় কোন ভাল কাজের কিছু অসম্পন্ন থাকলে এদিনে তা সম্পন্ন করুন।
শেষ দশক:
রমাদানের শেষ দশকে আছে লাইলাতুল কদর (ভাগ্য রজনী)। যে রাত হাজার মাস থেকে উত্তম। তাই এই দশকে মসজিদে ই‘তিকাফ করার বিধান এসেছে। লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে ইতিকাফ করেছেন। সুতরাং যার ইতিকাফ করার সুযোগ রয়েছে তার জানা উচিত এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য এক মহান করুণা। আর যার পুরো দশদিন ইতিকাফ করার সুযোগ নেই তিনি যে কয়দিন পারেন ইতিকাফ করতে পারেন। আর যার একেবারেই ইতিকাফ করার সুযোগ নেই তিনি যেন এ রাত্রি গুলোতে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে কাটাতে সচেষ্ট হন। যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকির করা, দু‘আ’ করা। রাতজেগে এসব আমল করার জন্য তিনি যেন দিনেরবেলা বিশ্রাম নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
লক্ষণীয় কিছু বিষয় :
# এই রুটিন একটি প্রস্তাবিত রুটিন। এটি একটি পরিবর্তনযোগ্য রুটিন। যে কেউ তার ব্যতিব্যস্ততার আলোকে এটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
# এই রুটিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে প্রমাণিত সুন্নতসমূহ যথাযথভাবে পালনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, এতে উল্লেখিত সবকিছুই ওয়াজিব বা ফরজ। বরং এতে অনেক সুন্নাহ ও মুস্‌তাহাব্ব কাজ রয়েছে।
# আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হল সে কাজ যা নিয়মিত করা হয় – তা অল্প হলেও। রমাদান মাসের শুরুতে মানুষ আনুগত্য ও ইবাদতের খুব যোশ নিয়ে সক্রিয় থাকে। কিছুদিন পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকুন এবং এই মহান মাসে পালনকৃত সমস্ত কাজ নিয়মিতভাবে ধরে রাখতে সচেষ্ট হউন।
# একজন মুসলিমের উচিত এই মুবারক মাসে তার সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সচেষ্ট হওয়া। যাতে করে কল্যাণ ও ভাল কাজে এগিয়ে যাওয়ার বড় বড় সুযোগ তার হাতছাড়া হয়ে না যায়। যেমন– রমাদান মাস শুরু হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে দিতে সচেষ্ট হওয়া। একইভাবে দৈনিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এমন সময়ে কিনতে সচেষ্ট হওয়া যখন বাজারে ভিড় থাকে না। আরেকটি উদাহরণ হল: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দেখা সাক্ষাতের জন্য এমন রুটিন করে নেয়া যাতে ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে।
# এই মুবারক মাসে বেশি বেশি ইবাদত করা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভকে আপনার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণকরুন।
# সালাতের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মসজিদে হাযির হওয়ার ব্যাপারে মাসের শুরুতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াত খতম (সমাপ্ত) করার সিদ্ধান্ত নিন। এই মহান মাসে নিয়মিত ক্বিয়ামুল লাইল পালন করার সংকল্প করুন। স্বীয় সম্পদ থেকে সাধ্যানুপাতে দান করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হউন।
# এই রমাদান মাসে আল্লাহ তাআলার কিতাবের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার সুযোগ গ্রহণ করুন। নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে হতে পারে:
-সঠিক উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত করা। ভাল একজন কুরআনের শিক্ষকের (ক্বারীর) নিকট কুরআন পড়া সংশোধন করে নেয়া। আর তা সম্ভব না হলে দক্ষ ক্বারীগণের তিলাওয়াতের ক্যাসেট অনুসরণ করা।
-আল্লাহ আপনাকে যতটুকু কুরআন হিফ্‌জ করার তাওফিক দিয়েছেন তা রিভিশন দেওয়া এবং হিফ্‌জ করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।
-কুরআনের আয়াতের তাফসীর পাঠ করা।এটা হতে পারে যে আয়াত বুঝতে আপনার সমস্যা হয় সে আয়াতের তাফসীর নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থগুলো (যেমন– তাফসীরে বাগাবী, তাফসীরে ইবনে কাছীর ও তাফসীরে সা‘দী) থেকে সেটা জেনে নেওয়া। অথবা নির্দিষ্ট কোন তাফসীর গ্রন্থ থেকে নিয়মিত পড়ার জন্য রুটিন তৈরি করে নেয়া। প্রথমে আমপারা (পারা-৩০), তারপর তাবারাকা পারা (পারা-২৯) এভাবে পড়তে থাকবেন।
-আল্লাহ তাআলার কিতাবে যে আদেশাবলী পাওয়া যায় তা বাস্তবায়নে যত্নশীল হওয়া।
আমরা দু‘আ’ করছি যাতে আল্লাহ তাআলা সিয়াম, ক্বিয়াম সম্পন্ন করার তাওফিক দানের মাধ্যমে আমাদের উপর রমাদান মাস পাওয়ার নেয়ামত পূর্ণ করে দেন। আমাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করে নেন এবং আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো মাফ করে দেন।

02/05/2022

নবীজী (সাঃ) এর সাথে ঈদ
ওয়াফিলাইফ

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন বেশ কিছু কাজ করতেন। এটা তাঁর প্রত্যহিক চর্চা ছিল। হাদীস ও ফিকহের কিতাবাদিতে এগুলো নবীজির সুন্নাহ হিসেবে এসেছে। চলুন, আজ আমরা জেনে নিই ঈদের দিন নবীজি কী কী কাজ করতেন। আমাদের কী করণীয়।

১) তাকবীর দেওয়া
ঈদের রাতে তাকবীর দেওয়া মুস্তাহাব। রমযান মাসের সর্বশেষ দিনের সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে ঈদের নামাযের ইমাম ঈদগাহে হাযির হওয়া পর্যন্ত। তাকবীরের শব্দাবলী হচ্ছে নিম্নরূপ:

اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।

কিংবা ‘তাকবীর’ তিনবার উচ্চারণ করে এভাবেও বলতে পারেন:

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ . وَاللهُ أَكْبَرُ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।

আলিমদের মতে সবগুলোই জায়েয। হাটেবাজারে, মসজিদে-নামাযের স্থানে ও বাড়ীঘরে এ যিকির উচ্চস্বরে পড়বেন পুরুষরা। তবে নারীরা তাকবীর দেওয়ার সময় তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করবেন না।

২) বেজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া
ঈদের নামাযের উদ্দেশ্য বের হওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খেয়ে বের হবেন। কারণ, নবীজি (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে তারপর বের হতেন।

৩) সবচেয়ে ভালো পোশাক পরা
নিজের সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পোশাক পরবেন। এটি পুরুষদের জন্য। নারীরা ঈদগাহে যাওয়ার সময় সুন্দর পোশাক পরে বের হবেন না। কারণ, নবীজি (সা.) বলেছেন: (وليخرجن تَفِلات) অর্থাৎ তারা সাধারণ পোশাকে বের হবে; আকৃষ্টকারী কোনো পোশাকে নয়। নারীদের জন্য বেপর্দায়, সুগন্ধি মেখে ও আকৃষ্টকারী হয়ে বের হওয়া হারাম।

৪) গোসল করে নেওয়া
কোনো কোনো আলেম ঈদের নামাযের জন্য গোসল করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এর কারণ হলো, সোনালী যুগের পূর্বসূরিদের অনেকেই এটি করতেন। ঈদের জন্য গোসল করা মুস্তাহাব; যেমনিভাবে জুমার নামাযে যাবার আগে গোসল করার বিধান এসেছে। যদি কেউ গোসল করেন তাহলে সেটা ভালো।

৫) ঈদের নামায আদায় করা
ঈদের নামায আদায় করা। ঈদের নামায আদায় করা শরিয়তের বিধান মর্মে সকল মুসলমান ইজমা (একমত পোষণ) করেছেন। ঈদের নামাযের সুন্নাহ হচ্ছে, ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে সূরা ‘আ’লা’ পড়বেন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘গাশিয়া’ পড়বেন কিংবা প্রথম রাকাতে সূরা ‘ক্বফ’ পড়বেন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘ক্বমার’ পড়বেন। উভয় পদ্ধতির পক্ষে নবীজি (সা.) থেকে বিশুদ্ধ হাদীস রয়েছে।

৬) অতিরিক্ত কিছু না করা
অনেক আলেমের মতে, কেউ যদি ইমামের আগে ঈদগাহে উপস্থিত হয় তাহলে সে বসে পড়বে; দুই রাকাত নামায পড়বে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দুই রাকাত নামায পড়েছেন; এর আগে বা পরে কোনো নামায পড়েননি। তবে আলিমদের মতে কেউ চাইলে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (বা মসজিদে প্রবেশের) নামায পড়ে বসতে পারে। কেউ কাউকে বাধা দিবো না।

৭) ফিতরা আদায় করা
ঈদুল ফিতরের বিধানাবলীর মধ্যে রয়েছে যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) ফরয হওয়া। নবী (সা.) ঈদের নামাযের আগেই ফিতরা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে ফিতরা পরিশোধ করা জায়েয। ইমাম বুখারী সংকলন করেছেন: ইবনে উমর (রাঃ) বলেছেন, “তারা (সাহাবায়ে কেরাম) ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে দিয়ে দিতেন”। যদি কেউ ঈদের নামাযের পরে পরিশোধ করে তাহলে সেটা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরা) হিসেবে আদায় হবে না। যেহেতু ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে: “যে ব্যক্তি নামাযের আগে আদায় করেছে সেটা ‘মকবুল ফিতরা’। আর যে ব্যক্তি নামাযের পরে আদায় করেছে সেটি (সাধারণ) সদকাসমূহের মধ্যে থেকে একটি সদকা।”

৮) একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো
একে অপরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা। পুরুষেরা পরস্পর যে কোলাকুলি করতে পারে, এতে কোন অসুবিধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শরিয়ত গর্হিত কাজ অনেক মানুষের পক্ষ থেকে ঘটে থাকে। যেমন মহিলাদের বেপর্দা অবস্থায় পর পুরুষদের সামনে উপস্থিত হওয়া, পাড়ায় মহল্লায় গান বাজনা বাজানো, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

৯) কবর যিয়ারত জরুরী নয়
আমাদের সমাজে কিছু কিছু মানুষের ঈদের দিন কবর যিয়ারত করা ও কবরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর অভ্যাস রয়েছে। কবরবাসীদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর কিছু নেই। তারা তো রোযাও রাখেনি, নামাযও পড়েনি।

আলিমদের মতে, কবর যিয়ারত ঈদের দিন বা জুমার দিন বা অন্য কোনো দিনের সাথে খাস কিছু নয়। কবর যিয়ারত একটি ইবাদত। কোনো ইবাদত শরিয়ত মোতাবেক না হলে শরিয়তে সেটা অনুমোদনহীন। নবী (সা.) কবর যিয়ারতের জন্য ঈদের দিনকে সুনির্দিষ্ট করেননি। সুতরাং কবর যিয়ারতের জন্য ঈদের দিনকে নির্দিষ্ট করা উচিত নয়।

১০) ঈদের নামায শেষে ভিন্ন পথ দিয়ে যাওয়া
ঈদের নামাযের জন্য এক রাস্তা দিয়ে বের হলে রাসূল (সা.)-এর অনুসরণে অপর রাস্তা দিয়ে ফেরত আসার শরয়ি বিধান রয়েছে। এটি ঈদের নামায ব্যতীত অন্য কোনো নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুন্নত নয়; জুমার নামাযের ক্ষেত্রেও নয়; অন্য কোনো নামাযের ক্ষেত্রেও নয়। বরং এটি ঈদের নামাযের সাথে সুনির্দিষ্ট।

[মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন (১৬/২১৬-২২৩) সংক্ষেপে সংকলিত]

29/03/2022

প্রেম বনাম দ্বীন
শিহাব আহমেদ তুহিন

হঠাৎ করেই যে ছেলেটা দ্বীন মানতে চায় তাকে একসাথে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। লাইফ স্টাইল, ফ্রেন্ড সার্কেল, এমনকি যাকে সে একসময় পছন্দ করত কিংবা ভালোবাসত তাকেও। অনেকসময় এমন হয় যে মেয়েটাকে সে পছন্দ করত তাকে দ্বীনের পথে আনতে গিয়ে শয়তানের ফাঁদে পড়ে সে নিজেই উল্টো বেদ্বীনি হয়ে বসে থাকে। মানুষ তার অতীতের প্রতি দুর্বল। বিশেষ করে সে অতীত যদি প্রায়ই চোখের সামনে এসে পড়ে তাহলে তো অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়।

বহুদিন পর হঠাৎ দেখায় সে ভুলে যায় সূরা নূরে যে দৃষ্টি সংযত করতে বলা হয়েছে। শয়তান পুরানো দিনগুলো অনেক সুন্দর করে সামনে তুলে আনে। চেষ্টা করে আবার তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলার। সন্দেহ নেই, এমনটা হয় মূলত অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অভাবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) বলেন,
“যদি কোনো হৃদয় আল্লাহকেই ভালোবাসে আর তাঁর কাছেই নিজেকে নিবেদিত করে, তবে সেটা অন্য কারো প্রেমে পড়ার কথা চিন্তাও করবে না, প্রেমে পড়া তো পরের কথা। তাই কারো মন যখন প্রেমে পড়ে সেটা হয় আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অভাবেই। ইউসুফ (আ) আল্লাহকে ভালোবেসেছিলেন আর তাঁর প্রতি নিবেদিত ছিলেন বলেই তিনি প্রেমের ফাঁদে পড়েননি। আল্লাহ তা’আলা বলেন (সূরা ইউসুফ ১২:২৪) ‘আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দূর করে দিয়েছি। সে ছিল বিশুদ্ধ মনের একজন’।” (মাজমু ফতোয়া, ১০/১৩৫)

মেয়েটার ব্যাপারে মনে খচখচানি শুরু হলে অধিকাংশ ছেলে হতাশ হয়ে পড়ে। চুরি করে হয়তো তার প্রোফাইলে ঢুকে, পুরানো ছবি দেখে আর তারপর অনুশোচনায় ভোগে। দুনিয়ার সব মেয়ে থেকে বেঁচে থাকলেও এর থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হয় না। শাইখ জাওয়াদ বলেন,
“দুনিয়ার সব মেয়েই থেকেই একজন পুরুষ বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু একজন নারী থাকতে পারে, যে তার হৃদয়ে খুব গোপনে জায়গা করে নেয়।” (সুলাইমান আল উবাইদি, ১/৬১)

আবার কখনো এসব কিছু না করেও হঠাৎ শুধু একদিনের একপলক দেখাতেই দ্বীনি জযবা চুরমার হয়ে যায়। সে সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। নিজেকে গোনাহগার মনে করে। এদের সান্তনা দিয়ে ইবনুল কায়্যিম (রহ) লিখেছেন,
“যদি ভালোবাসা এমন কারণে হয় যেটা হারাম নয় তাহলে তার কোনো দোষ নেই। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, একজন ব্যক্তির কথা যে তার স্ত্রী কিংবা দাসী থেকে আলাদা হয়ে গেছে। কিন্তু ভালোবাসা তো থেকে যায়, তা তাকে ছেড়ে চলে যায় না। এমনটা হলে তার কোনো দোষ নেই। একইভাবে, হঠাৎ যদি দৃষ্টি পড়ে যায় আর সে তার চোখ সরিয়ে ফেলে, তখন অনিচ্ছা স্বত্তেও ভালোবাসা তার হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। তবে অবশ্যই তাকে এ অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” (রাওদাতুল মুহিব্বিন, ১/১৪৭)

নিজের সাথে এ যুদ্ধের কথা কেউ না জানলেও আল্লাহ জানেন। তাই তিনি এর জন্যে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রেখেছেন। ইবনে তাইমিয়া (রহ) বলেন,
“কেউ যদি প্রেমের কারণে ফিতনায় পরে, কিন্তু ধৈর্য ধরে আর নিজেকে পবিত্র রাখে, তবে তাকওয়ার কারণে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে পুরস্কৃত করবেন।” [মাজমু ফতওয়া ১০/১৩৩]
তিনি সেখানে কুরআনের এ আয়াতটি নিয়ে এসেছেন-
“যে আল্লাহ্‌কে ভয় করে আর ধৈর্য ধরে, আল্লাহ এমন ভালো মানুষদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [সূরা ইউসুফ ১২:৯০]

আল্লাহ তা’আলা যেন এ সকল ভাইদের ত্যাগগুলোকে কবুল করেন। অন্তরের কষ্টগুলো যেন দূর করে দেন। তাদেরকে এর জন্যে দুনিয়াতে উত্তম জীবনসঙ্গিনী ও আখিরাতে জান্নাত দান করেন। রাসূল (সা) বলেছেন,
“আল্লাহর জন্য তুমি কিছু ত্যাগ করবে আর আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রতিদান হিসেবে দিবেন না এমনটা কখনোই হবে না।” (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নংঃ ৫৩৬৪)

Address

Block C, Word 09, Beside The Dhaka-Narayanganj Link Road, NCC
Narayanganj
1420

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jalkuri Koroitola Central Mosque posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category