Jalkuri Young Society Jame Mosque

Jalkuri Young Society Jame Mosque House of Rabbul Kaba
Since 2005

আহলে বিদ’আহ ওয়াল জামাআহর সিন্নিখোররা নবীর আশেক আশেক বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে কিন্তু জিবনে একদিন নবীর সিরাতের কোনো ব...
05/09/2025

আহলে বিদ’আহ ওয়াল জামাআহর সিন্নিখোররা নবীর আশেক আশেক বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে কিন্তু জিবনে একদিন নবীর সিরাতের কোনো বই বা লেকচার পড়েনি বা শুনেনি। তারা যদি কোনো দিন এগুলো পড়তো বা শুনতো তাহলে দেখতে পারতো যে সাহাবায় কেরামরা কেমন তাকে ভালোবাসতো। সিন্নিখোরার কী আবু বকর, উমার, উসমান এবং আলী (রাঃ) তাদের থেকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বেশী ভালোবাসে? সিন্নিখোররা কী তাদের থেকে বেশী দ্বীনকে বুঝে ফেলছে? তাহলে সাহাবায় কেরাম (রাঃ) যদি কোনো দিন রসুল্লুল্লাহর (রাঃ) মিলাদ পালন না করে, এই আহলে বিদাআহ ওয়াল জামাআহর সিন্নিখোরার এই নিকৃষ্ট বিদাআহ পেলো কোথ্থেকে?

25/06/2025

নামাজ শেষ হলে সুন্নাহ হচ্ছে তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা কিন্তু এখনকার মাসজিদের জাহেল ইমাম এবং মাসজিদ কমিটি নামাজ শেষে তাসবিহ তাহলিলের পরিবর্তে কালেকশনবাজি শুরু করছে এবং তারপর হাত তোলা মোনাজাত যা মুসুল্লিরা কিছুই বুজে না কি চাইলো ইমাম। এভাবেই চলছে মাসজিদ গুলো জাহেল ইমাম এবং কমিটির তত্ত্বাবধানে।

11/06/2025

মুসলিম জীবনে ‘সময়’ – ১
ইন্জিনিয়ার এনামুল হক চৌধুরী

কলেজ জীবন শেষে, আমরা, অর্থাৎ জাহাজের যাযাবর জীবন বেছে নেয়া তরুণেরা, মেরিন একাডেমীতে নিজেদের স্থান করে নিই। যারা মেরিন একাডেমীতে গেছেন, তারা হয়তো মনে করতে পারবেন যে, কর্ণফুলী নদী থেকে মেরিন একাডেমীতে যাবার জন্য প্রায় পোয়া মাইল দীর্ঘ সেতুর মত রেলিং দেয়া একটা রাস্তা রয়েছে – যা স্থলভাগকে জেটির সাথে সংযুক্ত করে। জোয়ারে এবং ভাটায়, উভয় অবস্থায় যেন মানব বহনকারী কোন জলযান সহজে ঐ জেটিতে ভিড়তে পারে, সেজন্য এই আয়োজন। জলযান-ভেড়া ঐ জেটিকে, আমরা বলতাম ‘জেটি-হেড’। যাহোক, মেরিন একাডেমীর অপোকৃত নিঃসঙ্গ জীবনে আমাদের চিত্ত-বিনোদনের একটা ব্যাপার ছিল, বিকেলে খাবার পরে (যা সাধারণত বিকাল ৬ টার দিকে সমাধা হয়ে যেত) হেঁটে হেঁটে ‘জেটি-হেডে’ যাওয়া। এই হাঁটতে যাওয়ার পর্বটা, শীতের দিনে হয়তো খাবার আগে এবং দৈনিক গোসলের পরেই সারতে হতো – কারণ, সূর্যাস্তের পরে ওখানে যাবার কোন মানে হয় না। ঐ জেটিতে দাঁড়িয়ে সমুদ্র ও সমুদ্রে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যেত। আমি খেয়াল করতাম যে, ওখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখতে গিয়ে, প্রতিটি সূর্যাস্তেই আমি কেমন বিষন্ন বোধ করতাম – যদিও তখনও এর গূঢ় মনস্তাত্ত্বিক বা নৈতিক দিক নিয়ে ভাবার তেমন চেষ্টা করিনি অথবা বলা যায় তেমন অবকাশও ছিল না। সব সূর্যাস্তই হচ্ছে একটা দিনের অবসান, আর সে দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষের আগের দিনের সূর্যাস্ত বা অন্য কোন বিশেষ দিনের সূর্যাস্ত ভিন্ন কিছু নয়। তবু, নববর্ষকে আমরা যেহেতু দিন পঞ্জিকায় বিশেষভাবে স্থান দিয়েছি এবং একটা বছর পার হওয়াকে আমরা যেহেতু সময়কালের একটা মাপ হিসেবে অনুভব করতে শুরু করেছি – একটা বছর শেষ হওয়াকে হিসেব তো করতে হয়ই আমাদের জীবনে। নিজের জন্মদিন অথবা নববর্ষ – দুটোর কোনটাতেই আমি কখনো উৎফুল্ল বোধ করিনি। তবে নববর্ষের আগের সন্ধ্যায়, মেরিন একাডেমীর জেটি-হেডে দাঁড়িয়ে, সূর্যটাকে টুপ করে সমুদ্রে হারিয়ে যেতে দেখে আমার হৃদয় ব্যথায় নীল হয়ে উঠেছে।

আমাদের প্রজন্মের নববর্ষ উদ্যাপন করা বলতে তেমন কিছু ছিল না – অন্তত আমরা আমাদের মধ্যবিত্ত পটভূমিতে তা কখনোই টের পাই নি (আমি আমার কৈশোরের শেষ দিকের এবং যৌবনের প্রারম্ভের দিনগুলোর কথা বলছি)। তবু, তারুণ্য বোধকরি তখনো নতুন বছরের আগমনীতে নতুন কিছু আশা করতো – কি জানি? হয়তো বা! আমি, আমার অত্যন্ত কাছের সুহৃদ-জনদেরও কখনো বোঝাতে পারিনি যে আমার কেমন লাগতো, কতটুকু কষ্ট হতো বা কেন কষ্ট হতো। অন্যদের ভিতর নতুন বছরের জন্য যে উচ্ছ্বাসটুকু দেখা যেতো, বা জন্মদিনে কেউ একটা কার্ড পাঠালে যে আনন্দের অভিব্যক্তি দেখা যেতো – নিজের ভিতরে তেমনটা অনুভব না করাতে আমি অনেক সময়ই নিজেকে নৈরাশ্যবাদী বলে সন্দেহ করেছি। কিন্তু অন্য সকল ব্যাপারে আমার মাত্রাতিরিক্ত উদ্যম দেখে নিজেকে কখনোই নৈরাশ্যবাদী বলে মেনে নিতে পারিনি। অল্প বয়সের নানা আবেগের ভিতর মনে হয়েছে, “আমি বোধহয় মানুষ নই…।” অশীতিপর কেউ ভাবতে পারে, নতুন সূর্যোদয়ে তার জন্যে কিছু নেই, কিন্তু ১৯ বছরের কাউকে তা ভাবা মানায়? আমি তখনো দ্বীন ইসলাম সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না বলতে গেলে। আমি এও জানতাম না যে, কোন মুসলিম কখনোই Passage of time সেলিব্রেট করতে পারে না!! তবু আল্লাহ্ প্রদত্ত ‘ফিতরা’ বা সহজাত বোধ থেকেই হয়তো আমার তেমন লাগতো – অথবা এও হতে পারে যে, বয়সের তুলনায় আমি তখনো অপরিপক্ক ছিলাম। প্রতিটি শিশুই নাকি মুসলিমের ‘ফিতরা’ নিয়ে জন্মায় – মা-বাবা বা পরিবেশ তাকে ইহুদী, খৃষ্টান বা কাফির বানায়।

বহু বছর পরে ২০০৪ সালের ১ লা জানুয়ারীতে আমি দেশে ছিলাম, ঢাকায় ছিলাম। আত্মীয় স্বজনের মন্তব্য থেকে বুঝেছি যে, নববর্ষের রাতে কাফির নিয়ন্ত্রিত IMF ও World Bank-এর ভিক্ষার উপর নির্ভর করা পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশের একটি এবং দুর্নীতিতে পর পর তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমার এই হতভাগ্য দেশের মহানগরীতে, প্রলয় কাণ্ড ঘটে থাকে। নববর্ষের সময়কার ঢাকা সম্বন্ধে তাদের সেসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, আমাদের দেশের ‘কাফিরায়ন’ প্রক্রিয়া এখন বেশ পরিণত পর্যায়ে রয়েছে। বন্ধুর বরের সাথে নববর্ষের তামাশা দেখতে আসা জনৈকা বাঁধনের ‘বস্ত্রের বাঁধন’ যে নববর্ষ উদযাপনকারীরা আলগা করেছে, তা দেশে ফিরে লোকমুখে শুনেছি। ২০০৩-এর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে প্রলয়ঙ্করী পটকা ফুটানো এবং ছেলে-মেয়েদের মিশ্র চিৎকার শুনে বুঝেছি যে “এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই।” মাননীয় পাঠক, আমি মধ্যবিত্ত পল্লীতে বাস করি। সেখানেই এমন অবস্থা হলে, আমি অনুমান করতে পারি যে, নববর্ষ উপলক্ষে পত্রিকান্তরে ধনীর দুলাল-দুলালীদের উন্মত্ততায় যে Near pornographic বর্ণনা প্রকাশিত হয় – তাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের অবস্থা কি! ঘুমাতে না পেরে বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ চিত্তে আমি ভাবছিলাম যে, ঐ পটকার টাকা দিয়েই হয়তো সেবারকার প্রচণ্ড শীতে ঢাকার ফুটপাতে, রেল-স্টেশনে রাত্রি যাপনকারী হাড্ডিসার মানুষগুলোর হাড্ডির কাঁপুনী অনেকটা নিরসন হতে পারতো। আমি আরো ভাবছিলাম বেশ ক’বছর আগে শোনা একটা গল্পের কথা। বেশ অনেক বছর আগে এক পরিচিতির মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের শ্যামলী ফরেস্ট রেঞ্জে গিয়েছিলাম তথাকথিত বনভোজনে। সেখান থেকে ফেরার পথে, ঐ বনভোজী বিরাট গ্রুপের একজন – “মৌলবীর বাগান” নামক এক চা বাগানের ম্যানেজার – সবাইকে তার বাঙ্গলোয় বিকালের চা খাবার আমন্ত্রণ জানালেন। ঐ চা বাগানের ম্যানেজারের বাঙ্গলোয় চা খেতে খেতে গল্প শুনলাম যে, ঐ বাগানে নাকি এক ‘সাদা-চামড়া’ সাহেব ম্যানেজার ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়। ঐ সময়কার সংশয়পূর্ণ বাস্তবতায়, বহুদিন ধরে অত্যাচারিত কুলীরা নাকি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং আক্ষরিক অর্থেই, প্রতিহিংসাবশত, তার চামড়া তুলে ফেলে। ম্যানেজার দেখালেন যে, তার বাঙ্গলোর নির্ধারিত শোবার ঘরখানি কাঠের বর্গা ও পেরেক দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখা – কারণ ওখানে কেউ ঘুমাতে পারে না। চামড়া তুলে নেয়া সাহেবের প্রেতাত্মা নাকি ঘুরে বেড়ায়। সত্যি মিথ্যা – আল্লাহু ‘আলাম (ইসলামে কিন্তু প্রেতাত্মার কোন concept নেই) । আমাদের দেশে যারা কাফির-সৃষ্ট নববর্ষ উদ্যাপন করতে গিয়ে, উন্মাদনায় মত্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি টাকা ড্রেনে প্রবাহিত করেন – আমাদের দেশের শ্রমিক পিঁপড়া শ্রেণীর হাড্ডিসার মানুষেরা যদি কখনো বুঝতে পারে যে, ঐ পয়সা আসলে তাদের মজ্জা নিংড়ানো, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থকে কোন না কোনভাবে আত্মসাত করা থেকে এসেছে এবং তারা যদি তখন ঐ সব নির্লজ্জ ও বেহায়া মানুষকে জানোয়ার ভেবে তাদের চামড়ায় জুতা বানিয়ে পরতে চান ; তবে তাদের কি বিশেষ দোষ দেয়া যাবে?

কারো চামড়ায় জুতা পরতে চাইবার প্রসঙ্গে আরেকটা গল্প মনে পড়লো। এই তো সেদিন, আমার গ্রামের দিন মজুর এখলাস আলী আমাকে তার দুঃখের কথা বললেন। কাজ করতে গিয়ে একটা বাঁশের চটার বাড়ি খেয়ে, তিনি চোখ হারাতে বসেছিলেন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে যেতে হয় তাকে। দায়-সারা চিকিৎসা সত্ত্বেও, আল্লাহর রহমতে তার চোখ রক্ষা পায়। কিন্তু কিছুদিন পরে তিনি বোঝেন যে, তার সেই চোখে তিনি ঝাপসা দেখেন। এ ব্যাপারে আবার সরকারী হাসপাতালে গেলে ‘ডাক্তর সাব’ তাকে বলেন যে, ব্যাপারটা ভালোভাবে দেখা প্রয়োজন (অর্থাৎ তার চাকুরীর আওতায় যে ভাবে দেখা সম্ভব, তা পর্যাপ্ত নয়) – সুতরাং এখলাস আলী যেন তার ‘চেম্বারে’ যান। আমাদের এখলাস আলী একদিন সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলে বর্তমানে ১৫০ টাকা পান। এবছর দেশে ভালো ডাক্তাররা তাদের ফি ধার্য করেছেন ৪০০-৫০০ টাকা। এখলাস আলীর মাথায় এই জটিল সমীকরণ ঢোকে না যে, ঐ সব ‘ডাক্তর সাবরা’ তার মত দিন মজুরের পয়সায় পরিচালিত মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে তবে ডাক্তার হয়েছেন। আজো তারা নামের সাথে যে প্রফেসর বা সার্জন পদবী লেখেন, তাও ঐ সব সংস্থার চাকুরীর কারণে। এই জটিল সমীকরণ যদি কেউ একবার এখলাস আলীদের বুঝিয়ে দেয়, তবে হয়তো তারা ডাক্তার সাহেবদের চামড়ায় জুতা পরতে চাইতেও পারেন!

যে কথা বলছিলাম – মুসলিম কখনো Passage of Time সেলিব্রেট করতে পারে না – মুসলিমের জন্য সময়ই জীবন। পরীক্ষার হলে বসে কেউ যদি সিনেমা পত্রিকা পড়ে সময় কাটায় এবং প্রতিটি ঘণ্টা অতিবাহিত হবার সংকেতে যদি সে আনন্দ/উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, তাকে যেমন লোকে উন্মাদ বা অপ্রকৃতিস্থ ভাবার কথা, জীবনে যারা ‘সময় হারিয়ে গেছে’ বা ‘সময় কেটে গেছে’ বলে আনন্দিত বোধ করেন, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরও তেমনি উন্মাদ বলে গণ্য করার কথা। অন্য সব বাদ দিলেও, কেবল এই যুক্তিতেই মুসলিম কখনো নববর্ষ, জন্মদিন বা বিবাহ-বার্ষিকী নিয়ে হৈ-হুল্লোড়ে আত্মনিয়োগ করতে পারে না।

আমাদের প্রপিতামহরা, সিলেটে আমাদের বাড়ী থেকে ৫০/৬০ মাইল হেঁটে করিমগঞ্জে কোর্ট-কাচারীর কাজে গিয়েছেন। একটা সময় ছিল যখন কেউ কোন আত্মীয় বাড়ী বেড়াতে যাচ্ছেন – পথে হেঁটেই একদিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। আজ সে সব দূরত্ব রকেটে নয়, বরং বাস-মিনিবাস বা মোটর গাড়ীতে করেই দিনে চারবার পরিভ্রমণ করা যায়। কি বিশাল সময়ের সাশ্রয়। একদিন আমাদের দেশ থেকে মানুষ হজ্জ্ব করতে মক্কায় গেছেন ৬ মাসের সফরে। আজ ঢাকা থেকে জেদ্দায় পৌঁছাতে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে – কি বিশাল সাশ্রয় – হজ্জ্বের এই একটি কাজের বেলায়ই ৫ মাস ২৯ দিন ১৯ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাচ্ছে। এভাবে আপনি যদি রান্না, কাপড় কাচা বা বাজার করার মত দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে, হজ্জ্বযাত্রার মত জীবনে একবার আসা বিশেষ ব্রতগুলোর কথা ভাবেন, তাহলে দেখবেন যে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনি অকল্পনীয় সময় বাঁচাতে পারছেন আজ। মাননীয় পাঠক, এভাবে চিন্তা করলে আপনার জীবনের ‘অর্জন’, আজ থেকে ১০০ বছর আগের একজন মানুষের জীবনের অর্জনের ১০ গুণ হবার কথা। সত্যি কি তাই হয়!!

চলবে ইন শা’ আল্লাহ্.................

Send a message to learn more

08/06/2025

প্রায়োরিটি লিস্ট
আসিফ আদনান

আমরা কোন বিষয়কে কতটুকু গুরুত্ব দেই সেটা আমাদের ব্যক্তিত্ব এবং পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করে। কোন ব্যক্তি কিভাবে বিভিন্ন বিষয়কে অ্যাপ্রোচ করেন সেটা থেকে আপনি তাঁর ধ্যানধারণা এসব সম্পর্কে মোটামুটি স্বচ্ছ একটা ধারণা পাবেন। শার্লক হোমস একবার এক মহিলার বাসায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটি মূল্যবান ডকুমেন্ট ঐ ঘরের কোথায় লুকোনো আছে সেটা জানা। হোমসের যুক্তি হল, বাসায় আগুন লাগলে মরিয়া হয়ে ঘর থেকে বের হতে চাওয়া ব্যক্তি শুধুমাত্র ঐ জিনিষই বাঁচানোর চেষ্টা করবে যা তাঁর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। হোমসের যুক্তি সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল। আগুন লেগেছে বুঝতে পারার পর মহিলা প্রথমে ঐ ডকুমেন্ট বাঁচাতে গিয়েছিলেন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও এরকম প্রমান পেয়েছি, তবে একটু ভিন্ন ভাবে। আগের চাকরিতে, আমার কাজের একটা অংশ ছিল দেশের অর্থনীতি, মার্কেটের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে অনলাইন ফাইন্যানশিয়াল বুলেটীনের মতো একটা জিনিষ তৈরি করা। এই জন্য বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রকাশিত বিভিন্ন সার্কুলারগুলোর মূল বক্তব্য ইংরেজীতে অনুবাদ করতে হত। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের দাঁতভাঙ্গা বাংলার মর্মোদ্ধার করে, তারপর অনুবাদ করতে গিয়ে আমি পড়লাম বিপদে। পিডিএফ খুলে বসে আছি আধা ঘন্টা ধরে, সেই কখন পরেই যাচ্ছি তো পড়েই যাচ্ছি, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারি না। আজব অবস্থা। যে ভাষা পড়ছি সেটা বাংলা। যেই শব্দগুলো পড়ছি সেগুলোও চেনা, চেস্টা করলে এগুলো দিয়ে বাক্যরচনাও মনে হয় করতে পারবো। কিন্তু এই সব শব্দ এক সাথে মিলে কি এক্স্যাক্ট অর্থ প্রকাশ করছে কোনভাবেই তার কূলকিনারা করতে পারছি না। আবার যদি কোনভাবে এক লাইন বুঝেও ফেলি, ইংরেজী করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে আরেক ডিলেমায়। ফাইন্যানশিয়াল টার্মগুলোর যে বাংলা ব্যবহৃত হয়েছে সেটা দেখে বুঝতে পারছি না এগুলোর ইংলিশ কি হবে। আমি নিজে ফাইন্যান্স কিম্বা অ্যাকাউন্টিং এর ছাত্র না। তখন সবে এসব ব্যাঙ্কিং টার্ম চেনা জানার চেস্টা করছি। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক আবার কোনক্রমেই ইংলিশ টার্ম ব্যবহার করবে না। যতো র‍্যান্ডম, দুর্লভ, দুর্বোধ্য এবং দুর্বিষহ রকমের কঠিন বাংলা শব্দ আছে তারা ব্যবহার করবে, কিন্তু ইংলিশ ব্যবহার করা যাবে না। শুধু ব্যাঙ্ক শব্দটা ছাড়া। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের বাংলা ভাষার প্রতি এমন পিউরিট্যানিক্যাল এবং কিছুটা গোঁয়ারের মতো ভালোবাসার চাপে পড়ে আমার তখন পুরোপুরি পাকিস্তানে চলে যাবার মতো অবস্থা। আমরা কি এমন বাংলা চেয়েছিলাম? আমরা কি এমন বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক চেয়েছিলাম?

কি অবস্থা! ইকোনোমিক্সে মাস্টার্স করার পর একটা ব্যাঙ্ক সার্কুলার অনুবাদ করতে পারছি না! আমার “রাজাকারী”-সম বাংলাভাষার দক্ষতা নিয়ে দুঃক্ষ-কস্ট হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাবার প্রস্তুতি নেয়ার সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম ফাইন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের মতো কিছু পেইপারে কিছু সার্কুলারের মূলভাষ্য ইংরেজিতে দিয়ে দেয়া হয়। সুন্দর কপি করে, কিছুটা রিরাইট করে কাজ চালিয়ে দেয়া যায়। আমি তো মহা খুশি। আলহামদুলিল্লাহ! সুন্দর কাজ গুছিয়ে সিইও-র কাছে নিয়ে গেলাম। ..বেশীর ভাগ সময় দেখা যায় যেই ব্যাপার নিয়ে আপনি চিন্তা করতে করতে অস্থির হয়ে গেছেন, সেটা নিয়ে কোন সমস্যা হয় না। আমারো হল না। সমস্যা হল অন্য জায়গায়। আমি সব জায়গায় রেফারেন্স দিয়েছি সেকেন্ডারী সোর্স থেকে। উনি বললেন সব প্রাইমারী সোর্সের রেফারেন্স হতে হবে। ভেরিফায়েবল প্রাইমারী সোর্স। মেজাজ খারাপ হবার মতো ব্যাপার। ব্যাঙ্ক সার্কুলারের লিঙ্ক নাহয় ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে নিলাম, কিন্তু বাকি সবকিছুর কি হবে? তিন মাসের পুরো ইকোনমির ডেইটা, মার্কেট স্পেসিফিক ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ডেইটা সব কিছু নেয়া সেকেন্ডারী সোর্স থেকে, অর্থাৎ বিভিন্ন পেইপার, সাইট, ব্লগ এসব থেকে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আবার সেকেন্ডারী সোর্সে প্রাইমারী সোর্সের রেফারেন্স দেয়া নেই। শুধু “আজকে বিকেলে এক বিজ্ঞপিতে…”, “…এক প্রেস বার্তায়”, “বাংলাদেশ আমদানী রফতানী ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী…” – দিয়ে কাজ সেরে ফেলা হয়েছে। এখন এই সব কিছু ব্যাকট্র্যাক করে কিভাবে প্রাইমারী সোর্স খুঁজে বের করা সম্ভব! যতোই চিন্তা করছি মেজাজ ততো খারাপ হচ্ছে। ভেরিফায়েবল প্রাইমারী সোর্সের এমন কিইবা দরকার?

মেজাজ খারাপ হত থাকলে চিন্তা বন্ধ করে দেয়া ভালো। নইলে চিন্তা করতে করতে রাগ একটা সময় অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অন্তত আমার ক্ষেত্রে। তাই চিন্তা করা বন্ধ করে দিলাম। কাজ বন্ধ করে নেট ঘাটাঘাটি শুরু করলাম। মেজাজ ঠান্ডা হবার পর মনে হল, সিইও-র কথার পেছনে যুক্তি আছে। শক্ত যুক্তি। প্রথমত বুলেটীনের মাধ্যমে তথ্য যেহেতু তার প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকাশ করা হচ্ছে, তাই এটার সাথে কিছু রেসপন্সিবিলিটী, কিছু দায়বদ্ধতা সংযুক্ত থাকে। এখানে নিখুত থাকার চেস্টা করাই উচিত। দ্বিতীয়ত, এবং এটাই প্রধান যুক্তি, এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হবে ব্যবসায়ীদের কাছে। তাঁরা এর উপর ভিত্তি করে, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেগুলোর ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। এমন সব সিদ্ধান্ত যেগুলোর সাথে অনেক মানুষের আর অনেক অনেক টাকার প্রশ্ন জড়িত। অবশ্যই এরকম একটা ক্ষেত্রে আপনি কারো মুখের কথা মেনে নেবেন না। সে পেইপার কাটিং নিয়ে আসলেও আপনি আরও প্রমাণ চাইবেন। যতো ভালো পেইপার-ই হোক তাঁদের ভুল হতেই পারে। আপনি চাইবেন প্রাইমারী সোর্স থেকে নিশ্চিত ভাবে জানতে। যখন প্রশ্নটা আপনার সারা জীবনের সঞ্চয়ের অথবা কোটি কোটি টাকার অথবা হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকার, তখন অবশ্যই আপনি চাইবেন যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে ১০০% নিশ্চিত হতে।

প্রাইমারী সোর্সের রেফারেন্স দিতে বলা ছিল উনার বিচক্ষণ এবং কেন দিতে হবে এটা বুঝতে না পারা আমার অজ্ঞতা।..আমি বিভিন্ন সময় এই মানুষটার ব্যবসায়িক বুদ্ধি এবং বিচক্ষণতা পরিচয় পেয়েছি। মার্কেট অ্যানালাইসিস খুব সহজ কিছু না। হ্যা, গৎবাধা, ধরা-বাঁধা কিছু কথাকে অ্যনালাইসিস বলে চালিয়ে দিলে অন্য কথা। কিন্তু প্রপার অ্যানালাইসিস, যার অর্থ হল কোন একটা সেক্টরে বর্তমান এবং অতীত পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে, সরকারের পলিসি ডিসিশানের জন্য অ্যাডজাস্ট করে আরও নানা পেরিফেরাল ভ্যারিয়েবল আমলে নিয়ে সেই সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা পূর্বাভাস দেয়া – এটা কঠিন কাজ। এই ধরণের অ্যানালাইসিসের জন্য মাথা খাটাতে হয়, বিবেচ্য বিষয় সম্পর্কে ভালো রকমের জানাশুনা থাকতে হয় এবং প্রাপ্য তথ্য উপাত্ত যাচাইবাছাই এর মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবার ক্ষমতা থাকতে হয়।। মোট কথা গভীর এবং সূক্ষভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা ছাড়া এই কাজটা করা সম্ভব না।

* * *
এই সূক্ষ চিন্তা করার সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিই আমাকে একবার ডেকে পাঠালেন আমি কেন নামাযের পর সবার সাথে একসাথে হাত তুলে মুনাজাত করি না এবং “ওহাবী-আহলে হাদীস”দের মতো নামায পড়ি সেটা জানতে। সবাই মুনাজাত করছে আমি করছি না, এটা দৃষ্টিকটু, ব্যাপারটা শোভনীয় না – ইত্যাদি বলার এক পর্যায়ে উনি বলে বসলেন “দেখো মুনাজাতটা হল নামাযের আসল জিনিষ, মূল জিনিস…এটা না করলে কিভাবে হবে?” সম্মিলিত ভাবে প্রতি জামাতের পর মুনাজাত করা নামাযের মূল বিষয়! কুর’আন হাদীস, সালাফ সালেহীন থেকে যার ওয়াজিব-সুন্নাত-নাফল কোনটা হবার প্রমান নেই উনি সেটাকে নামাযের ফরয বিষয় বানিয়ে দিলেন! এটা শুধু একটা উদাহরণ। বিভিন্ন সময়ে ইসলাম এবং ইবাদাত সম্পর্কে কুর’আন সুন্নাহ-র সাথে সাংঘর্ষিক উনার অদ্ভুত, ভিত্তিহীন, ভ্রান্ত বিশ্বাসের অন্যান্য আরো উদাহরণ আমি পেয়েছি।

* * *
এই যে মানুষটা, তিনি কিন্তু মূর্খ নন। বোকা বা চিন্তা করতে পারেন না, বিবেক-বুদ্ধি নেই, এমনটা না। অথচ একটা ব্যাঙ্ক সার্কুলার কিম্বা অর্থনীতির ডেইটার ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশানের যেই প্রিন্সিপাল উনি অ্যাপ্লাই করছেন বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সেটা করছেন না। আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষ করছে না। যখন ব্যাপারটা টাকাপয়সার সাথে জড়িত, আর্থিক লাভক্ষতির সাথে জড়িত, বিয়ের সাথে জড়িত, সংসারের সাথে জড়িত তখন সঠিক ভাবে জানা, বোঝা, যাচাই-বাছাই করার গুরুত্ব আমরা বুঝি বুঝছেন, কিন্তু যখন এটা আখিরাতের প্রশ্ন, অনন্তকাল আগুনের খোরাক হওয়া আর জান্নাতে প্রবেশ করার প্রশ্ন, তখন আমরা প্রাইমারী সোর্স থেকে যাচাই-বাছাই করা, জানা এবং বোঝার প্রয়োজন অনুভব করছেন না।...আশ্চর্য একটা ব্যাপার! চিন্তা করার সক্ষমতা কিন্তু একটা সুইচের মতো না। ইচ্ছেমতো অন-অফ করা সম্ভব না। একবার শেখার পর এই সুইচ অন-ই থাকে। ব্যাপারটা কিন্তু এমন না যে আমি ব্যাবসা নিয়ে চিন্তা করার সময় এই সুইচ অন করে দিলাম, আর কুর’আন নিয়ে যখন বসলাম তখন বন্ধ করে দিলাম। অথচ কোন একটা কারণে ইসলামের ব্যাপারে আমরা আমাদের চিন্তা করার সুইচ অফ করে দিচ্ছি। আল্লাহ বলেছেন কুর’আনে চিন্তাশীলদের নিদর্শন রাখা হয়েছে। তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন কুর’আন নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করার জন্য। যেই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সবচাইতে বেশী চিন্তা করা উচিত, সবচেয়ে বেশী লাভক্ষতির হিসেব করা উচিত সেটা নিয়েই আমরা সব চাইতে বেশী উদাসীন।

* * *
একটা মানুষ এক্সপোর্ট ডেইটা, কোন ঐতিহাসিক তথ্য, কন্সপিরেসি থিওরী, কোন খেলোয়াড়ের ব্যক্তি জীবন, গিটার বাজানোর কোন একটা টেকনিক, সিনেমাটোগ্রাফির কোন ট্রিক, নতুন কোন সিনেমা কিম্বা টিভি সিরিয, এসব নিয়ে জানার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন নানা রিসোর্স ঘাটছে, তথ্য সংগ্রহ আর সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা চেস্টা করছে। সেই একই মানুষের ইসলাম নিয়ে জানার চেস্টা করার সময় হয় না। সময় হয় না একটু কুর’আনের অর্থসহ বুঝে পড়ার। সময় হয় না রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সীরাহ পড়ার। সময় হয় না রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদীস পড়ার। সময় হয় না আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে আসলে কি চান সেটা নিয়ে একটু চিন্তা করার। কি অদ্ভুত বৈপরীত্য! এই বৈপরীত্যের কারণ কি? কারণ হল আমরা এই বিষয়গুলোকে যতোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি, যতোটা দরকারী মনে করছি ইসলাম কে ততোটা গুরুত্বপূর্ণ বা দরকারী মনে করছি না। কারণ ইসলাম আমাদের কাছে যথেস্ট গুরুত্বপূর্ণ না। আল্লাহ কি চান সেটা আমাদের কাছে যথেস্ট গুরুত্বপূর্ণ না। আমাদের প্রায়োরিটী লিস্টের উপরের দিকটা পুরোপুরি বুকড, শেষের দিকে খালি কিছু স্লট আছে, ওগুলোর কোন একটা আমরা বরাদ্দ করি ইসলামের জন্য। হয়তো “বছরে একবার গ্রামে যাওয়া”-র উপরের বা নিচের স্লটটা।

* * *
একটা সবজি কেনার সময় আপনি সেটা যাচাইবাছাই করছেন, একটা পোষাক কেনার সময় আপনি বারবার খেয়াল করছেন কোন খুঁত আছে কিনা। কিন্তু আপনি জান্নাত কিনছেন নাকি জাহান্নাম কিনছেন সেটা যাচাই-বাছাই করছেন না। ইসলাম হল কিছু কাজ যা করতে হয় তাই করা? ধর্ম হল বাপদাদারা যা করে এসেছেন প্রশ্ন না করে সেটা করে যাওয়া? ইবাদাত হল কোন পীর আপনাকে যা বোঝালো তাই? আপনার অগ্রবর্তীরা কোন কাজ করে এসেছেন তাই সেটাকে সঠিক ধরে নেয়া – এটাই ইসলাম? জীবনের আর কোন ক্ষেত্রে আপনি এভাবে চিন্তা করেন না। আপনার জীবিকার ব্যাপারে, আপনার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যাপারে, টাকা-পয়সার ব্যাপারে কোন ক্ষেত্রেই আপনি এভাবে চিন্তা করবেন না। কিন্তু অনন্ত আগুন থেকে নিজেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে আপনি উদাসীন হয়ে গেলেন? একটু কস্ট করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ আসলে কি বলেছেন সেটা জানার চেস্টা করলেন না? ইসলামকে কতোটা অগুরুত্বপূর্ণ মনে করলে এরকম করা সম্ভব? প্রায়োরিটি লিস্টের কত নাম্বারে ইসলাম থাকলে এরকম উদাসীন হওয়া সম্ভব?

* * *
এখন আছে কি না জানি না, আমাদের সময়ে এসএসসি-এএইচসি পরীক্ষাতে ফোর্থ সাবজেক্ট নামক এক বস্তু ছিল। খারাপ করলে সমস্যা না ভালো করলে তো ভালোই। এটা নিয়ে শিক্ষকরাও সিরিয়াস ছিলেন না, ছাত্ররাও না। ইসলামের অবস্থা আমাদের কাছে ফোর্থ সাবজেক্টের মতো হয়ে গেছে। ছেড়ে দিলে সমস্যা না কিছু মানলে ভালো। তবে বেশী আবার মানা যাবে না, পুরোটা মানা যাবে না। ডিগ্রী, ক্যারিয়ার, সম্পদ, সম্মান, পোশাক, চেহারা, সিনেমা, গান, হ্যাং আউট, উৎসব এইসব কিছুর জন্য সময় ও শক্তি বরাদ্দ করার পর (A+ নিশ্চিত করার পর) যা সময় বেঁচে থাকবে সেইটুক হল “ধর্মকর্ম” করার জন্য। তাই আমাদের সমাজে দাড়ি রাখার, নামাজী হবার, ইসলাম পালন করার উপযুক্ত বয়স হল পঞ্চাশের পরে। তাই আমাদের সমাজে বিগতযৌবনারা ছাড়া আর কেউ পর্দা করলে আমরা ভ্রূ কুঁচকে তাকাই। আমরা দুনিয়া পাওয়াকে আমাদের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছি। আমরা ছোটকাল থেকে শিখে আসছি আর শেখাচ্ছি কিভাবে যাবতিক সাফল্য আর আর মাইলফলকের পেছনে ছুটতে হয়। মানব জীবনের উদ্দেশ্যকে আমরা ডিগ্রী, সম্মান, সম্পদ আর ইট-কাঠের সীমানার মধ্যে বেধে ফেলেছি। তোমার যতো বেশী আছে তুমি ততো সফল। তোমার যতো সুন্দর আছে তুমি ততো সফল। তোমার যতো বড় আছে তুমি ততো সফল। কিছু জিনিষ যা আপনার ছিল না, সেগুলো পাবার জন্য সারাটা জীবন ছুটলেন। আবার চলে যাবেন এগুলোর কোন কিছুই সাথে না নিয়ে। এটাই কি জীবনের অর্থ? এটা জীবনের উদ্দেশ্য? অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল পরিষ্কার বলছেনঃ

“আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি **শুধুমাত্র** আমার ইবাদাতের জন্যই [সূরা আয যারিয়াত, ৫৬]

* * *
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বলেছেন দুনিয়াতে মুসাফিরের মতো সময় কাঁটাতে। ব্যাগ গোছানো আছে, আপনি প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছেন। ডাক আসলেই উঠে পড়বেন চলে যাবার জন্য। কিন্তু আমরা তো গন্তব্যকে বাদ দিয়ে সফরকেই আমাদের মূল লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছি। আমি মাঝে মাঝে অবাক হবার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলি। কিছুদিন আগে আমি একটা খবর দেখলাম জাপানের এক ছেলে একটা পুতুলের মত হবার জন্য অপারেশান করে তার পাজড়ের দুটো হাড় সরিয়ে ফেলেছে। এই ছেলের গার্লফ্রেন্ড এবং তার জীবনের লক্ষ্য হল বার্বি এবং কেন [as in Barbie and Ken from the Barbie Doll franchise] এর মতো হওয়া। এই জন্য তারা লাখ লাখ ডলার খরচ করে অপারেশান করে নিজেদের চেহারা, শরীর, চামড়া বদলে ফেলেছে। পুতুল বার্বি আর তার বয়ফ্রেন্ডের শারীরিক গঠনের অনুপাত বাস্তবসম্মত না। এজন্য মানুষ বার্বি আর তার বয়ফ্রেন্ড নিজেদের শরীর থেকে হাড় সরিয়ে ফেলছে যাতে করে সেই অনুপাতের এবং মাপের শরীর পাওয়া যায়। সুবহান’আল্লাহ! এই মানুষগুলোর জীবনের উদ্দেশ্য পুতুলের মতো হওয়া!

আপনি যদি একটু মেকাপ, ফিটনেস, কাপড়, লাইফস্টাইল এ ধরণের ব্লগ, ওয়েবসাইট একটু খুজে দেখেন। আপনি অবাক হয়ে যাবেন। কত হাজার লাখ সাইট আছে তার হিসেব নেই। আপনি পেইপার দেখুন, বা টিভির দিকে তাকান। সব জায়গায় শুধু এই মন্ত্র, কিভাবে আরো বেশী জিনিষ কেনা যায়, কিভাবে আরো বেশী জিনিসের মালিক হওয়া যায়, কিভাবে নিজেকে সুন্দর করা যায়, কিভাবে নিজেকে আরো আকর্ষণীয় করা যায়, কিভাবে আরো বেশী মানুষের সাথে শোয়া যায়, কিভাবে মানুষকে নিজের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলা যায়। ব্যস এটাই মানব জীবনের লক্ষ্য? আমাদের শুরু এক ফোঁটা বীর্য থেকে আর শেষ হল পচে-গলে মাটিতে মিশে যাওয়ায়। আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি সময়টা আমরা কাঁটিয়ে দেই আমাদের শরীরের ভেতর মলমূত্র বহন করে। তাহলে কিসের জন্য আমরা ছুটছি?

“আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি **শুধুমাত্র** আমার ইবাদাতের জন্যই”

এই সব কিছু যার পেছনে হন্যে হয়ে আমরা ছুটছি তার কিছুই আমাদের সাথে কবরে যাবে না। এই সব কিছু, এই দুনিয়া, এই পৃথিবী, এগুলো তো ধূলোবালির রাজ্য। সমুদ্র কিনারে বানানো বালির প্রাসাদ। যতো বিশাল, যতো জাঁকজমকপূর্ণ, যতো চোখ ধাঁধানো সুন্দর হোক না কেন একটা স্রোত আসবে আর সব কিছু ভেঙ্গেচুড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এবং আপনি নিশ্চিত থাকুন যে স্রোত আসবেই। নিশ্চিতভাবেই আপনার বালির প্রাসাদ ভাঙ্গার জন্য স্রোত রওনা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু আপনি উপলব্ধি করছেন না। আপনি আপনার বালির প্রাসাদ নিয়ে মগ্ন হয়ে আছেন। শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে আপনার বালির প্রাসাদ কে সাজাচ্ছেন। কিন্তু স্রোত আসছে। এবং এই স্রোত থামানোর কোন ক্ষমতা আমাদের নেই। যেই নির্জন আবাসে আপনাকে যেতে হবে, সেই পান্থনিবাসে আপনি এই সব কিছুই নিয়ে যেতে পারবেন না। হাতুড়িধারী দুইজন একটি শব্দও উচ্চারণ করবেন না এই দুনিয়া নিয়ে। তাঁরা শুধু জানতে চাইবেন তোমার রাব্ব কে? তোমার দ্বীন কি? তোমার নাবী কে? আল্লাহু আকবার। যদি এই জীবন থেকে একটি জিনিস আপনি নিয়ে যান তবে সেটা হল ঈমান। ঈমান ছাড়া আর কোন কিছুই আপনার সাথে যাবে না।

“আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি **শুধুমাত্র** আমার ইবাদাতের জন্যই”

তাই আমাদের নিজেদের প্রায়োরিটি লিস্টটা নিয়ে আমাদের গভীর ভাবে চিন্তা করা উচিত। আমাদের ভাবা দরকার আমাদের লিস্টের উপরের দিকে আমরা কি রাখব। ডিগ্রী, ক্যারিয়ার,সংসার, সন্তানাদি, ব্যবসা, অর্থ, সম্পদ, সম্মান, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, এগুলো যদি আপনার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ – এর চাইতে আমাদের কাছে বেশী প্রিয় হয় – যদি পরিবারকে খুশি করা, বস-কে খুশি করা, সমাজকে খুশি করা, রাস্ট্রকে খুশি করা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-কে খুশি করার চাইতে আপনার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয় – যদি দুনিয়ার জন্য আপনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকেন- যদি এই জীবনে প্রাপ্তির জন্য আপনি আল্লাহ-র বিধানকে উপেক্ষা করে থাকেন, উপহাস করে থাকেন, অবহেলা করে থাকেন-তাহলে প্রস্তুতি নিন ঐ ভয়ঙ্কর আযাবের জন্য যা কবরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। প্রস্তুতি নিন হাতুড়িধারীদের প্রচন্ড আঘাত সহ্য করার জন্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন–

“তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসী হবে না যতোক্ষন না তোমার কাছে আমি তোমার নিজের চাইতেও বেশী প্রিয় হব।“ [বুখারী]

যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চাইতে নিজের জীবন বেশী প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে ঈমান অপূর্ণ থেকে যাবে। তাহলে আমাদের কি হবে যাদের কাছে ব্যবসা, জীবিকা, পরিবার, পোশাক, সম্পদ এসব কিছু আল্লাহ-র দ্বীনের চাইতে বেশী প্রিয় হয়ে গেছে? আর যদি আল্লাহ-র আদেশের চাইতে আরাম-আয়েশ-সুখ আর নিরাপত্তা আমাদের কাছে বেশী প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে কি হবে সেটা স্বয়ং মালিকুল মূলক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের বলে দিয়েছেনঃ

বল [হে মুহাম্মাদ], তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জিহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান [মৃত্যু] আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। [সূরা আত-তাওবাহ, ২৪]

* * *
আমরা কোন বিষয়কে কতটুকু গুরুত্ব দেই সেটা আমাদের ব্যক্তিত্ব এবং পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করে। আমাদের প্রয়োরিটি লিস্টে কোন জিনিষটাকে আমরা কোথায় রাখছি এটা নির্ধারণ করে দেয় আমাদের পরিচয়। দুনিয়াতে এবং আখিরাতে। ব্যবসায়ী এক নম্বরে রাখবে ব্যবসাকে, প্রেমিক রাখবে প্রেমিকাকে, মধ্যবিত্ত রাখবে সম্মান আর স্বাচ্ছন্দ্যকে, কিছু মানুষ রাখবে ক্ষমতাকে আর কিছু মানুষ রাখবে খেয়াল খুশিকে। কিন্তু নিশ্চিত ভাবে এটা জেনে রাখুন মু’মীন এক নাম্বারে রাখবে দ্বীন ইসলামকে – আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ সন্তুষ্টিকে। এটাই ঈমানের দাবি এবং এটাই ঈমানের সংজ্ঞা। কবরের প্রশ্নোত্তরে মাল্টিপাল চয়েস দেয়া হবে না। ওখানে একাধিক সঠিক উত্তর থাকবে না। কোন সৃজনশীল প্রশ্ন করা হবে না, উত্তর ও গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ, ইসলাম এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ ছাড়া আর কোন উত্তর সেই ভয়ানক দিনে আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। তাই আসুন জিজ্ঞাসিত হবার আগে আমরা নিজেরা নিজেদের জিজ্ঞাসা করি। পরীক্ষিত হবার আগে নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরীক্ষা করে দেখি। আমাদের যার যার প্রায়োরিটি লিস্টে ঈমানকে আমরা কতো নাম্বারে রেখেছি সেটা একটু চিন্তা করে দেখি। যেই ধূলোবালির রাজ্যের পেছনে জীবনকে নস্ট করছি, আসুন সেই রাজ্যের প্রকৃত রূপটা দেখার এবং স্বীকার করার চেস্টা করি। আসুন সমুদ্র তীরে বালির প্রাসাদ গড়া বাদ দিয়ে, সেই অনন্ত উদ্যানে প্রাসাদ বানাই যার পাদদেশে প্রবাহিত হয় নদী। আসুন দুনিয়ার সাফল্যের পেছনে ছোটা বন্ধ করে সেই জিনিষের পেছনে ছুটি যাকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল মহাসাফল্য বলে অভিহিত করেছেন, নিশ্চয় এটাই সর্বোৎকৃষ্ট লেনদেন।

মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ। [সূরা আস-সফ, ১০, ১১]

আল্লাহর পথে ক্বিতাল কর এবং জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন। এমন কে আছে যে, আল্লাহকে কার্জ দেবে, কার্জে হাসানা; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে। [সূরা আল বাক্বারা, ২৪৪, ২৪৫]

* * *
নিশ্চয় আল্লাহ-র কালাম সত্য, তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য, তাঁর নাবী ﷺ সত্য , তাঁর দ্বীন সত্য, জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য। আমরা আল্লাহ-র কাছ থেকে এসেছি এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবো এবং সাফল্য তো শুধু তাঁদের জন্য যারা নিজেদের জীবনকে আল্লাহ-র জন্য সস্তায় বিক্রি করে দিয়েছে। অভিনন্দন তো শুধু তাঁদেরই জন্য যারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। নিশ্চয় সম্মান ও মর্যাদা শুধুমাত্র আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺ এবং মুসলিমদের জন্য। এই লেখায় যদি কোন কল্যাণ থাকে তবে তা আল্লাহ-রই পক্ষ থেকে, আর যা কিছু অকল্যাণ ও ভুল এখানে আছে তা আমার পক্ষ থেকে। শান্তি বর্ষিত সকলের প্রতি যারা হিদায়েতের অনুসরণ করে।

07/06/2025

আজকে এক মক্কার মুশরিককে দেখলাম পশু কুরবানী দিল। এখন প্রশ্ন হলো যে এই ১৪০০ বছর পর মক্কার মুশরিক কোথায় থেকে আসলো?

যারা কম-বেশী আকীদ্বা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তারা জানেন যে, মক্কার মুশরিকদের তাওহীদুর রবুবিয়্যাত ছিল কিন্তু তাওহীদুল উলুহিয়্যাত ছিল না তাই তারা মুশরিক এবং কাফির। ঠিক তেমনি যাকে দেখলাম কুরবানী দিতে তারও কিন্তু তাওহীদুল উলুহিয়্যাত নাই কেননা সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহর কাছে যেতে হলে বা চাইতে হয় তার প্রিয় বান্দার (মানে পীর তার ভাষায় আরকি) মাধ্যমে ঠিক যেমন মক্কার মুশরিকদের মত বিশ্বাস। তাহলে এমন মুশরিকের কুরবানী কিভাবে কী বুঝে আসে না।

বিঃদ্ব্যঃ আমাদের সমাজে এমন মক্কার মুশরিক অহরহ 🤔

03/06/2025

কুরবানী হচ্ছে একটা ইবাদত, এটা কোনো পদমর্যাদা না বা সোস্যাল স্ট্যাটাস না। আমাদের মাসজিদে নিয়মিত মুসল্লি যারাই আছেন তাদের ৯০% হচ্ছে মধ্যবিত্ত এবং নিন্ম মধ্যবিত্ত। এখন প্রশ্ন হলো, এই যে ১০% এলিট যারা নিয়মিত সালাত পরে তারাই কী শুধু কুরবানী করবেন এই ঈদে নাকি সমাজের সকল বেনামাজি মধ্যবিত্ত এবং এলিটরাও করবেন? যদি উত্তর হয় হ্যা তাহলে তাদের কুরবানী হচ্ছে লুঙ্গি খুলে পাগড়ি বাধার মত। একজন বেনামাজীর কুরবানী কী কবুলযোগ্য হবে আল্লাহর ?

05/03/2025

রমাদান মাস আসার সাথে সাথে মাসজিদের জাহেল ইমাম, জাহেল কমিটি এবং জাহেল মুসল্লি ব্যতি ব্যাস্ত হয়ে পরেছে কে কবে ইফতার দিবে, কে কবে ইতিকাফের আসন অলঙ্কিত করবে টাকার বিনিময়ে, কিভাবে 5G স্পিডে নামাজ শেষ করে বাসায় গিয়ে আবার অনলাইনে ডুবে থাকা যায়, কিভাবে শবে কদর রাতকে উৎসব মুখোর পরিবেশে পরিনত করা যায় কিন্তু এই কুরআন নাযিলের মাসে মাসজিদে থাকে না কোনো কুরআনের দারস অথবা কুরআন শিক্ষা করার কোনো আয়োজন। আপসোস এই জাহেল কমিটির জন্য যারা মাসজিদ পুন-র্নিমানে সদা মনোযোগ রাখে, যারা রমাদানের আগে শিতাতপ যন্ত্র পরিচর্চা করার দিকে মনোযোগ দিতে পারে কিন্তু কুরআনের একটা দারস আয়োজনে ভ্রক্ষেপ করতে পারে না। এই জাহেল কমিটি দিয়ে হয়তো মাসজিদ আধুনিক হবে কিন্তু সমাজ কুরআনময় হবে না, মানুষের অন্তর কুরআনের শীতল তিলাওয়াত শোনার জন্য মাসজিদে আসবে না, এসির শীতল বাতাসে নামাজ পরা ছাড়া।

27/01/2025
15/01/2025

আল্লাহর একটি নাম হলো আল-জামিল। আল-জামিলের অর্থ, যিনি সুন্দর। যিনি সবচেয়ে সুন্দর। নামটি যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি আরোপ করা হয় তখন এটি চারটি অর্থ প্রকাশ করে।

প্রথম অর্থঃ
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজেই সৌন্দর্য এবং পারফেকশনের সর্বোচ্চ চূড়া। কোনো কিছুই আল্লাহর চেয়ে বেশি সুন্দর নয়। ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের চেয়েও বড় একটি পুরস্কার রয়েছে। যে পুরস্কারের কাছে জান্নাত ম্লান হয়ে পড়বে। আর তা হলো— আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে দেখার পুরস্কার। কুরআনে এসেছে- وُجُوۡهٌ یَّوۡمَئِذٍ نَّاضِرَۃٌ - اِلٰی رَبِّهَا نَاظِرَۃٌ - "কতক মুখ সেদিন উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।" (৭৫:২২-২৩)

এ জন্য রাসূলুল্লাহ (স) এর একটি দোয়া ছিল- اللهم اني اسالك لذة النظر الى وجهك الكريم - আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা লাজ্জাতান নাজারি ইলা ওয়াজহিকাল কারিম। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার অভিজাত এবং সুন্দর মুখের দিকে তাকানোর স্বাদ পেতে চাই।

দ্বিতীয় অর্থঃ
আল্লাহর সকল নাম এবং গুণাবলী সুন্দরতম।

তৃতীয় অর্থঃ
আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সাথে সুন্দরতম উপায়ে আচরণ করেন। আল্লাহ আমাদের সাথে উত্তম উপায়ে আচরণ করেন। তিনি আমাদের প্রায় সকল পাপকে অগ্রাহ্য করেন। তিনি ক্ষমা করেন, ঢেকে দেন। তিনি আমাদের সাথে মন্দ বা অমার্জিত উপায়ে আচরণ করেন না। তিনি আমাদের সাথে এমন সুন্দর পন্থায় আচরণ করেন যেভাবে কোনো মানুষের পক্ষে আচরণ করা সম্ভব নয়।

আল্লাহ যদি আমাদের সাথে আমাদের কৃত অন্যায় অনুযায়ী আচরণ করতেন, যদি একেবারে ন্যায্য পন্থায় আচরণ করতেন, যদি সকল মন্দ কাজের শাস্তি দিতেন, যদি প্রতিটি পাপের জন্য পাকড়াও করতেন, আল্লাহ বলেন - مَا تَرَكَ عَلَىٰ ظَهْرِهَا مِن دَابَّةٍ - "তাহলে যমীনের উপর একটি প্রাণীকেও তিনি ছেড়ে দিতেন না।" (৩৫:৪৫)

আমরা যেমন আচরণ পাওয়ার যোগ্য আল্লাহ যদি সেভাবে আচরণ করতেন তাহলে কারোই বাঁচার কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তা করেন না। কেন? কারণ, তিনি হলেন আল-জামিল। তিনি সুন্দর। আর তিনি আমাদের সাথে সুন্দরতম উপায়ে আচরণ করে থাকেন। তিনি প্রায় আমাদের সকল পাপকে উপেক্ষা করেন। আর যদি আমরা তাঁর দিকে ফিরে আসি তাহলে তিনি আমাদের প্রতিটি পাপ ক্ষমা করে দিতে রাজি আছেন। তদুপরি, আমরা যতটুকু পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আল্লাহ আমাদেরকে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রদান করে থাকেন। এভাবেই আল-জামিল তাঁর সৃষ্টির সাথে আচরণ করে থাকেন।

চতুর্থ অর্থঃ
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর সৃষ্টি জগতকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ হলেন আল-জামিল। আর তিনি বিশ্ব জগতকে বেশ মনোরম করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদেরকে সুন্দর আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন। প্রাকৃতিক জগতকে তিনি এতো মনোরম করে সৃষ্টি করেছেন যে, এমনকি একজন অবিশ্বাসীও আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখে তাজ্জব হয়ে যায়।

এক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছেন—স্রষ্টার অস্তিত্বের অন্যতম বড় একটি প্রমাণ হলো আমরা মানুষেরা সৃষ্টির সৌন্দর্যের তারিফ করতে পারি। কারণ, একটি বায়োলজিক্যাল সত্ত্বার জন্য সৌন্দর্য উপভোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা একটি জৈবিক সৃষ্টি হয়েও যে চারপাশের সৃষ্টির সৌন্দর্য অবলোকন করে বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যাই, এটা ইঙ্গিত করে যে স্রষ্টা নিজেই সুন্দর। তিনি তাঁর সৃষ্টিকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আমাদের এমন ম্যাকানিজম দিয়েছেন যার মাধ্যমে আমরা সেই সৌন্দর্য শনাক্ত করতে পারি এবং উপভোগ করতে পারি। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি সত্য।

আল্লাহ নিজেই বলেছেন- اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَ النَّهَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ - নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে। (৩:১৯০)

আমাদের প্রত্যেকে যখন আমরা রাতের আকাশে তারা দেখি, সূর্যের উদয় এবং অস্ত যাওয়া দেখি, যখন আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক স্থানগুলো দেখি, তখন আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকে না।

পরিশেষে, আবারো বলছি উপরে উল্লেখিত দোয়াটি মুখস্ত করে রাখুন এবং নিয়মিত পড়ুন। - اللهم اني اسالك لذة النظر الى وجهك الكريم - আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা লাজ্জাতান নাজারি ইলা ওয়াজহিকাল কারিম। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার অভিজাত এবং সুন্দর মুখের দিকে তাকানোর স্বাদ পেতে চাই।

— ড. ইয়াসির কাদি

Address

Ward 09, Block B, Jalkuri YS Square, NCC
Narayanganj
1420

Opening Hours

Monday 05:00 - 22:00
Tuesday 05:00 - 22:00
Wednesday 05:00 - 22:00
Thursday 05:00 - 22:00
Friday 05:00 - 22:00
Saturday 05:00 - 22:00
Sunday 05:00 - 22:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jalkuri Young Society Jame Mosque posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Jalkuri Young Society Jame Mosque:

Share

Category