03/11/2023
এক জিহ্বাই আমাদের সব নেক আমল খেয়ে নিচ্ছে আর জাহান্নামের পথ প্রস্তুত করছে।
একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের প্রশ্ন করলেন, ‘‘তোমরা কি জানো, দেউলিয়া (নিঃস্ব) কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার দিরহামও নেই, কোনো সম্পদও নেই।’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে সেই ব্যক্তি হচ্ছে (প্রকৃত) দেউলিয়া, যে কিয়ামতের দিন (বহু) নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে এবং এর সাথে (দুনিয়াতে) সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত (হত্যা) করেছে, কাউকে মারধর করেছে (সেসব অপরাধও নিয়ে আসবে)। সে তখন বসবে এবং তার নেক আমল হতে অমুক ব্যক্তি কিছু নিয়ে যাবে, তমুক ব্যক্তি কিছু নিয়ে যাবে। এভাবে সম্পূর্ণ বদলা (বিনিময়) নেওয়ার আগেই তার নেক আমল নিঃশেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহসমূহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৭৩]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যদি কেউ (গিবত, গালি বা অপমান করে) কারো মর্যাদা নষ্ট করে অথবা অন্য কোনোভাবে কারো প্রতি জুলুম করে থাকে, তবে সে যেন কিয়ামতের পূর্বে আজই তার থেকে মুক্তি নিয়ে নেয়। কারণ সেই দিন কোনো দিনার-দিরহাম (অর্থের বিনিময়) থাকবে না। যদি তার নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুসারে নেক আমল নিয়ে নেওয়া হবে (এবং মজলুমকে এর দ্বারা বদলা দেওয়া হবে)। আর যদি তার নেক আমল না থাকে, তবে তার সাথির (যার অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে) পাপ নিয়ে তার কাঁধে চাপানো হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২৪৪৯]
এজন্য ইমাম শাফিয়ি (রাহ.) বলেন, ‘‘মানুষ যখন কথা বলতে চায়, তখন তার উচিত আগে ভেবে নেওয়া। যদি (কথা বলা) স্পষ্টত কল্যাণকর (মনে) হয়, তাহলে বলবে; আর যদি সন্দেহ হয়, তাহলে স্পষ্ট কল্যাণ না দেখা পর্যন্ত কথা বলবে না।’’ [জবানের হেফাজত, পৃষ্ঠা: ২৮]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬০১৮]
াক (পর্ব: ১৫)
আগের পর্বগুলোর লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো।