নওগাঁ সেবাশ্রম সংঘ/Naogaon Sevashram Sangha

নওগাঁ সেবাশ্রম সংঘ/Naogaon Sevashram Sangha Which was established in 1923 in Chak Enayet mouza of Naogaon district headquarters under Rajshahi division of Bangladesh.

Naogaon sevashram sangha is a branch of Bharat sevashram sangha.The motive of this sangha is to Propagation of liberal ideals of Sanatan Hinduism and service to people irrespective of caste,creed and caste. শ্রী শ্রী প্রণব মঠ, নওগাঁ সেবাশ্রম সংঘ একটি হিন্দু ধর্মীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

যা ইং ১৯২৩ সালে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত নওগাঁ জেলা সদরের চকএনায়েত মৌজায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

এর প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।

এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য সনাতন হিন্দু ধর্মের উদার আদর্শের প্রচার; জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে আর্ত মানুষের সেবা।

উল্লেখ্য, নওগাঁ সেবাশ্রম সংঘ বিখ্যাত মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের একটি অন্যতম শাখা।

বর্তমানে এই আশ্রমে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন স্বামী দিগ্বিজয়ানন্দজী মহারাজ।

ব্রহ্মচারী বলরাম মহারাজ ও সেবক মৃদুল মহারাজ এই আশ্রমে আছেন।

যোগাযোগের জন্য : +8801716-709188 (স্বামী দিগ্বিজয়ানন্দজী), +8801742-627063 (ব্রহ্মচারী বলরাম)।

Sri Sri Pranab Math, Naogaon Sevashram Sangha is a Hindu religious service organization. Its founder was Acharya Srimat Swami Pranavanandaji Maharaj. The purpose of this organization is to propagate the liberal ideology of traditional Hinduism; Service to the afflicted people irrespective of race, religion and caste. It may be mentioned that Naogaon Sevashram Sangha is one of the branches of Bharat Sebashram Sangha, a famous humanitarian organization. At present Swami Digvijayanandaji Maharaj is working as the principal of this ashram. Brahmachari Balaram Maharaj and Sebak Mridul Maharaj are in this ashram. It may be mentioned that Naogaon Sebashram Sangha is one of the branches of Bharat Sebashram Sangha, a famous humanitarian organization. For contact: + 8801716-709188 (Swami Digvijayanandaji), + 8801742-627063 (Brahmachari Balaram).

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় 🔴|| হরিদ্বারে পূর্ণকুম্ভে সঙ্কল্প গ্রহণ ||🔴১৯২৪ খৃষ্টাব্দে প্রয়াগের অর্দ্ধ কুম্ভমেলায় স্বামী গ...
26/08/2026

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায়
🔴|| হরিদ্বারে পূর্ণকুম্ভে সঙ্কল্প গ্রহণ ||🔴

১৯২৪ খৃষ্টাব্দে প্রয়াগের অর্দ্ধ কুম্ভমেলায় স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরি মহারাজের নিকট সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করার পরে তাঁর নাম হয় স্বামী প্রণবানন্দ। ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে হরিদ্বারে পূর্ণকুম্ভমেলায় তিনি শুভ পদার্পণ করেন। সেবার তিনি হরিদ্বার স্টেশন হতে ব্রহ্মকুণ্ডে যাবার পথে সদর রাস্তার উপর জটামায়ীর মন্দিরে আচার্য্যদেব সিদ্ধাসন স্থাপন করেন। সঙ্ঘের বহু সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারী সেবকবৃন্দ এই মন্দিরে অবস্থান করেন। আসনের সামনে দিবারাত্রি কীর্তন স্তবপাঠ আরতি হতে লাগল। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীগণ আচার্য্যদেবের দর্শন, স্পর্শন, আশীর্বাদ লাভের জন্য ছুটে আসতে লাগল। এই দেবমানব দিবারাত্রির অধিকাংশ সময় নর-নারীকে কৃপা করতে লাগলেন। কুম্ভমেলা থেকে ফিরে এসে বলেছিলেন-ভবিষ্যতে যা করা হবে এখান থেকে তার শুভ সঙ্কল্প গ্রহণ করলাম। সমগ্র ভারতে ধর্মরাজ্য স্থাপনে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ নেতৃত্ব করবে এই কুম্ভে তার ঢেড়া পেটান হল।

এরপর তিনি ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে প্রয়াগে অর্ধকুম্ভমেলায় সকল সন্ন্যাসীবৃন্দকে নিয়ে উপস্থিত হন। মেলার কয়েকদিন পূর্বে উপস্থিত হয়ে আচার্য্যদেব বিরাট শোভাযাত্রা করেন। কুম্ভমেলায় এসে সমস্ত কার্য তত্ত্বাবধান করেন- নিজেদের থাকার ক্যাম্প, মন্দির, যাত্রীনিবাস প্রভৃতি। প্রচণ্ড শীতে ভোর ৪টা হতে রাত্রি ১১ টা পর্যন্ত কান ঢাকা টুপী পরে মজুর খাটিয়ে কাজগুলি নিষ্পত্তি করছেন এবং সন্ন্যাসী সন্তানদের আদেশ-নির্দেশ দিয়ে সেবা ও ব্যাপকভাবে প্রচারকার্য করেছেন। ডাক্তার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় প্রচুর মানুষের সেবা শুশ্রূষার জন্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করে চলেছেন। প্রতি সন্ধ্যায় চললো সন্ন্যাসী সন্তানদের দ্বারা শাস্ত্রচর্চা, প্রবচন, যজ্ঞ ও পূজারতি। তিনি নিজে থাকলেন স্বয়ং শিবরূপী আচার্য্যবেশ ধারণ করে। ভক্তযাত্রিগণকে দর্শন ও আশীর্বাদ করে তাদের বলতে লাগলেন-মনকে শুদ্ধ, শান্ত, অন্তর্মুখী করা চাই- আত্মনিষ্ঠায় সচেতন করা চাই। এইভাবে তাদের মলিনচিত্ত আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দেন। যা সুপ্রাচীনকাল হতে ঋষি-মুনিও সাধু-সন্ন্যাসিগণ করে আসছেন। ইনারাই হলেন অধ্যাত্ম শক্তিসম্পন্ন এবং ব্রহ্মনিষ্ঠ মহাত্মা জঙ্গমতীর্থ। তাঁরই চলন্ত জীবন্ত শরীরে বর্তমান থেকে শক্তি ও আশীর্বাদ করেন।

কুম্ভ স্নানের তিথিতে আচার্য্যরূপী শিব ভোর ৪টা হতে একটি ধুনী প্রজ্জ্বলিত করে তার সামনে বসে ভক্ত নরনারীগণকে অবিরাম অবিশ্রাম আশীর্বাদ করতে লাগলেন। ধুনীর আসনে বসে আচার্য্যদেব এক মহাভাবে ডুবে থাকলেন। সেই মূর্তি নরনারীগণ দর্শন করে কেহ বলতে লাগলো-এ সাধু তো স্বয়ং মহাদেব, কেহ কেহ বলতে লাগলো-এ সাধুতো স্বয়ং নারায়ণ; কেহ কেহ বলতে লাগলো-এসাধু তো স্বয়ং ভগবতী, কেহ কেহ দর্শন শেষে বলতে লাগলো-এ সাধু তো সাক্ষাৎ ভারত মাতা। যার যেমন ভাব তাকে সেই ভাবে দর্শন দিলেন। লক্ষ লক্ষ ভক্ত যাত্রিগণকে রাত্রি ১১টা পর্যন্ত একাসনে বসে নানা দেবদেবীর মূর্তিরূপে দর্শন দিয়ে ধন্য করলেন। তাঁর সেই ধ্যাননিষ্ঠ মূর্তি থেকে যেন দিব্যজ্যোতি ঠিকরে পড়তে লাগল। এমনকি সঙ্ঘ সন্ন্যাসীগণও সেদিন আচার্য্যদেবকে জ্যোতির্ময় পরম পুরুষরূপেই দর্শন করলেন। তাঁর চারিদিকের বায়ুমণ্ডল যেন নীরব, নিথর ও অপার গাম্ভীর্যে ভরপুর থাকলো। কারো মুখে কোন কথা নেই সেদিনের তাঁর অলৌকিক তপঃপ্রভাবে যেন সারা মেলা নিস্তব্ধ হয়ে রইল। মেলাক্ষেত্রে ভক্ত যাত্রিগণ দ্বারা তাঁর এই অদ্ভুতদর্শন যোগীরাজের অপূর্ব যোগবিভূতির কথা সারা মেলা ক্ষেত্র ছড়িয়ে পড়ল। রাত্রি ১১টা পর্যন্ত চললো দর্শন তার মধ্যে নড়াচড়া নেই এমনকি সেদিন প্রস্রাব পর্যন্ত করতে যাননি। খাওয়া দাওয়াতে দূরস্ত।

রাত্রি ১১টার পর আচার্য্যদেব আস্তে আস্তে ধুনীর আসনে ছেড়ে নিজের বিশ্রাম ঘরে প্রবেশ করলেন সামান্য আহার্য্য গ্রহণ করে দেবাদিদেব মহাদেব এক্ষণে ধারণ করলেন করুণাঘন বরাভয় মূর্তি।
(স্বামী প্রণবানন্দজীর সাধনা ও অলৌকিক লীলা-২ পৃষ্ঠা:- ১৩৪-১৩৫।)

ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্

26/08/2026
ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় আচার্য্যদেব প্রথম সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন বাজিতপুর সেবাশ্রম। দ্বিতীয় মাদারিপুর সেবাশ্রম। এই আশ...
26/08/2026

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায়

আচার্য্যদেব প্রথম সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন বাজিতপুর সেবাশ্রম। দ্বিতীয় মাদারিপুর সেবাশ্রম। এই আশ্রমের পাশের বাড়ীতে থাকতো সুরেন ঠাকুর ও দেবেন ঠাকুর দুই ভাই। তারা ছিল দুর্ধর্ষ লাঠিয়াল ও বলশালী এবং পাঁড় মাতাল। কাউকে মানে না। তাদের আচরণে সকলে ভয় পেতো। এমনকি ইংরেজ আমলে বিপ্লবীদের পর্যন্ত রেহাই দিত না। একদিন কয়েকজন বিপ্লবীকে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করে গোপনে ডেকে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয় এই দুইভাই।

আশ্রমে ধর্ম ও সেবামূলক কাজ কর্ম তারা একেবারে সহ্য করতে পারতো না। তারা সবসময় তক্কে তক্কে থাকতো কখন আশ্রমের দোষ ত্রুটি পাওয়া যায়। তাহলে আশ্রমের কাজ কর্ম বন্ধ করা যাবে। আশ্রমের ক্ষতি সাধন করা যাবে এই চিন্তায় থাকতো তারা।

এরমধ্যে আশ্রমের পাশে একখণ্ড জমি দানে পাওয়া যায়। আচার্য্যদেব সেই জমিতে একটি আবাসিক ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয় করলেন। বর্ষাকালে আশ্রমের একটি থেকে অন্যটিকে যাতায়াত করতে খুবই অসুবিধা হতো। যদি একটি রাস্তা বানানো যায় সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পাশের পোড়ো জমি থেকে কিছু মাটি কেটে রাস্তা বানানো শুরু হয়। অমনি দু'ভাই তেড়ে এসে কর্মী, সন্ন্যাসীদের নিন্দাবাদ গালিগালাজ দিয়ে কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়। সেই সময় সেই জায়গায় আচার্য্যদেব উপস্থিত থেকে রাস্তায় মাটি ফেলাচ্ছিলেন। তিনি কর্মী ও সন্ন্যাসীদের প্রতিবাদ করতে মানা করেন। তখনকার মত কাজ বন্ধ করে দেন। আচার্য্যদেব ধীর, স্থির ও নির্বিকার থেকে সকলকে নিয়ে আশ্রমে ফিরে যান। কিন্তু দু'ভাইয়ের শত্রুতা কমে নাই। নানা অছিলায় আশ্রমের সঙ্গে ঝগড়া ঝাটি করতেই থাকে। যেমন এখনও বিভিন্ন আশ্রমের পাশের বাড়ির লোকেরা হিংসা, নিন্দা করেই থাকে।

সেই সময়ও দু ভাইয়ের হিংসা, নিন্দা চলতে লাগলো। আচার্য্যদেব তাদেরকে নানা সৎপরামর্শ দেন। কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। নীচ প্রবৃত্তি লোকে সৎপরামর্শ নেয় না।

আচার্য্যদেব এসব মীমাংসায় এবার অন্যপন্থা অবলম্বন করলেন। সবাই দেখলো আচার্য্যদেব রাত্রি বেলায় ঐ দু'ভাইয়ের বাড়ি গেলেন। তারা আচার্য্যদেবকে দেখে প্রহার করতে উদ্যত হওয়া মাত্র উজ্জ্বল আলোক জ্যোতিতে চোখ ধাঁধিয়ে জেল। জটাজুটধারী শিবের মূর্তি দর্শন করলো। এবং তারা ভয়ে আচার্য্যদেবের পায়ে লুঠিয়ে পড়লো। তারা বলল প্রভু! আমাদের ক্ষমা করে দিন আমরা অবোধ। আপনার আশ্রমের রাস্তার কাজ আমরাই করে দেবো।

আশ্রমের কোন কাজ থাকলে আমাদের বলবেন সব কাজ করে দেবো।

আচার্য্যদেবের এই আচরণে আশ্রমবাসী সকলে ভয় পেয়েছিলেন কারণ এই দুর্ধর্ষ শত্রুর বাড়ীতে রাত্রিবেলায় একা যাওয়া ভয়ের ব্যাপার। যে কোন মুহূর্তে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরূপ চিন্তা করে আশ্রমবাসীরা অধীর অস্থির হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন আশ্রমবাসী সকলে অবাক বিস্ময়ে দুভাইয়ের কাজ কর্ম দেখতে দেখতে আশ্রমের সন্ন্যাসীরা তাদের জিজ্ঞেস করলো কি ব্যাপার, তোমরা ভক্ত হয়ে গেলে গুরুদেবেরও কি প্রকারে? দুভাই বললো-কাল রাত্রিবেলায় আচার্য্যদেব গিয়েছিলেন বাড়িতে তখন দেখলাম জটাজুট ধারী শিব তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। চোখ দুটিতে আগুন জ্বলচ্ছে মনে হলো সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেবেন। বাঁচার জন্য তাই আমরা তাঁর পায়ে পড়লাম।
( তথ্যসূত্র:- স্বামী প্রণবানন্দজীর সাধনা ও অলৌকিক লীলা-২)

ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্

​বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরের ছবিটি artificial intelligence (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত।

|| জাতিভেদ প্রথা দূরীকরণে স্বামী প্রণবানন্দ ||শ্রীশ্রী গুরু মহারাজ স্বামী প্রণবানন্দজী কয়েকজন সন্ন্যাসী সন্তানকে নিয়ে নৌ...
26/08/2026

|| জাতিভেদ প্রথা দূরীকরণে স্বামী প্রণবানন্দ ||

শ্রীশ্রী গুরু মহারাজ স্বামী প্রণবানন্দজী কয়েকজন সন্ন্যাসী সন্তানকে নিয়ে নৌকা পথে চলেছেন বাজিতপুর থেকে বরিশাল জেলার চাঁদসী ও ফুলশ্রী অঞ্চলে। প্রচার কার্যের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলে কয়েকটি মিলন মন্দির প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে তাঁর এই নদীপথে নৌকা যাত্রা।

ফুলশ্রী গ্রামের রাসবিহারী বাবু শ্রীশ্রী গুরু মহারাজের প্রিয় গৃহীভক্ত। বহুকাল যাবৎ তিনি গুরু মহারাজের নিকট প্রার্থনা জানিয়ে আসছেন তার গ্রামে শুভ পদার্পণের জন্য। এতদিন পরে ভক্ত রাসবিহারী বাবুর মনের ইচ্ছা পূর্ণ হলো। সেই সাথে গ্রামবাসীরাও ধন্য হলো মহাপুরুষ দর্শনের সুযোগ পেয়ে। ব্যান্ডপার্টি, ঢাক, ঢোল, কাঁসর, করতাল, মৃদঙ্গসহ বহু কীর্তনের দল গুরু মহারাজকে সম্বর্ধনা জানালো। চাঁদসী ও ফুলশ্রী গ্রাম অঞ্চলে গুরু মহারাজ তিন দিন অবস্থান করেন। ইতোমধ্যে আশেপাশের অনেক গ্রামের অগণিত নরনারী ছুটে এলো তাঁকে দর্শনের উদ্দেশ্যে। বিরাট জনসভায় প্রচারিত হলো হিন্দু সমাজ সংস্কার ও সংগঠনের বাণী। শত শত নরনারী ধন্য হলো দীক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে। দুটি গ্রামে গঠিত হলো দুটি মিলন মন্দির।

চাঁদসী গ্রামের বিখ্যাত কুষ্ঠ ক্ষত চিকিৎসকদের দুটি পরিবারে আমন্ত্রিত হয়ে শ্রীশ্রী গুরু মহারাজ, সন্ন্যাসীবৃন্দসহ শুভ পদার্পণ করলেন। তারা নিজেদের নিম্ন বর্ণের হিন্দু মনে করে ভেবেছিলেন গুরু মহারাজ তাদের গৃহে কোনো আহার্য গ্রহণ করবেন না। তাই তারা গুরু মহারাজকে নানাভাবে আদর যত্ন ও সম্বর্ধনা করলেও তাঁর খাবারের কোনো ব্যবস্থা করেননি। তাদের সাধন-দীক্ষা দানের পর শ্রীশ্রী গুরু মহারাজ ঘরের মেয়েদের ডাক দিয়ে বললেন, "মা, তোদের ঘরে যা কিছু খাবার জিনিস আছে তা নিয়ে আয়। তোদের ঘর থেকে না খেয়ে যাব ভেবেছিস? গৃহীর ঘর থেকে সাধু মহাত্মারা না খেয়ে গেলে গৃহস্থের অকল্যাণ হয়।"

গুরু মহারাজের সেই কথা শুনে তারা তো অবাক। তারা স্বপ্ন-কল্পনায়ও ভাবতে পারে নি যে, এত বড় মহাপুরুষ তাদের নিকট খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন। কিন্তু গুরু মহারাজের নির্দেশ পেয়ে তাদের ভুল ধারণা চলে গেল। তাই সাথে সাথে তারা চিড়া, মুড়ি, দুধ, ডাব প্রভৃতি যা কিছু ঘরে ছিল, তাই দিয়ে গুরু মহারাজের উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করল। তিনি খুশি হয়ে তাঁদের প্রদত্ত আহার্য গ্রহণ করে সকলকে প্রাণভরে প্রসাদ দিলেন।

শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দজী মহারাজসহ যে সকল সন্ন্যাসীরা গুরু মহারাজের সাথে তখন উপস্থিত ছিলেন, তারা কেউ কোনদিন কোনো গৃহস্থের বাড়িতে এভাবে গুরু মহারাজকে খাবার জিনিস চেয়ে খেতে দেখেন নি। তাই উপস্থিত স্বামীজীরাও গুরু মহারাজের কথা শুনে ও সেই পরিবারে তাঁর আহার্য গ্রহণের দৃশ্য দেখে আশ্চর্য হলেন এবং ভাবলেন- গুরু মহারাজ প্রকৃতপক্ষে হিন্দু সমাজের মধ্যে যে ভেদ বিভেদ-অস্পৃশ্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা দূর ক'রে, জাতিভেদ প্রথা ভুলে সকল শ্রেণির হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাই তো তিনি এসেছেন এই অঞ্চলে মিলন মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই আচরণ ক'রে শিক্ষা দিলেন যে, হিন্দু কখনও হিন্দুর নিকট অস্পৃশ্য হতে পারে না।

"আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শেখান" তাই সত্যই তাঁর আচার্য নাম সার্থক। শ্রীশ্রী গুরু মহারাজের ঐ আদর্শ গ্রহণ ক'রে আমাদেরও কর্তব্য-হিন্দু সমাজের মধ্যে প্রচলিত অস্পৃশ্যতা ও ভেদাভেদ ভুলে পরস্পর মিলিত ও সংগঠিত হওয়া। তবেই হিন্দু সমাজ শক্তিশালী হতে পারবে এবং গুরু মহারাজের পরিকল্পিত হিন্দু জাতিগঠন সম্ভব হবে।

( শ্রীশ্রী প্রণবানন্দ স্মৃতি কুসুমাঞ্জলি; পৃষ্ঠা:- ২৪৪-২৪৫)

ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্

26/08/2026

🌻ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় 🌻

❤️শ্রী শ্রী প্রণব মঠ,বাংলাদেশ ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের বরেণ্য প্রতিষ্ঠাতা যুগাচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের আবির্ভাব পূর্ণময় তীর্থ ভূমি বাজিতপুর ধাম।
❤️বাজিতপুরের প্রধান মন্দিরে শ্রীগুরু মহারাজের পূজা আরতি করছেন,, শ্রী শ্রীপ্রণব মঠ, বাংলাদেশ সভাপতি পরম পূজনীয় স্বামাজী শ্রীমৎ স্বামী দিগ্বিজয়ানন্দজী মহারাজ।
🙏🏼🙏🏼সময় করে অন্তত একবার হলেও, এই পূর্ণ তীর্থভূমি বাজিতপুরধাম দর্শন করে আসবেন সকলে।
🪴শ্রীগুরু ভগবানের অভয় আশীর্বাদ সকলের উপর বর্ষিত হোক।

🪷ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্ 🪷

" কঠোর তপঃসাধনায় এই শরীরে এই জীবনে যে মহাশক্তির স্ফুরণ ঘটিয়াছে, সেই মহাশক্তি সমগ্র জাতির মহামুক্তি আনয়নে সমর্থ। যাও তোমর...
25/08/2026

" কঠোর তপঃসাধনায় এই শরীরে এই জীবনে যে মহাশক্তির স্ফুরণ ঘটিয়াছে, সেই মহাশক্তি সমগ্র জাতির মহামুক্তি আনয়নে সমর্থ। যাও তোমরা ঘরে ঘরে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলকে এই মহাশক্তির সংস্পর্শে আনয়ন করো।"
~ আচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় সৎগুরুর সন্ধানে: এক ভক্তের অবিস্মরণীয় যাত্রা(শ্রীশ্রী প্রণবানন্দ শতরূপে শতমুখে গ্রন্থ অবলম্বন...
25/08/2026

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায়
সৎগুরুর সন্ধানে: এক ভক্তের অবিস্মরণীয় যাত্রা

(শ্রীশ্রী প্রণবানন্দ শতরূপে শতমুখে গ্রন্থ অবলম্বনে)

মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল একজন প্রকৃত সদ্গুরুর সান্নিধ্য লাভ। কিন্তু সেই সদ্গুরুকে পাওয়া কখনোই সহজ নয়। যুগে যুগে সাধক, ভক্ত ও সত্যসন্ধানীরা অসংখ্য ত্যাগ, কষ্ট, অপেক্ষা এবং আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সেই মহামূল্যবান আশীর্বাদ লাভ করেছেন। শ্রীশ্রী সঙ্ঘনেতা আচার্যদেব স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের এক ভক্তের জীবনকাহিনীও তেমনই এক অনুপম দৃষ্টান্ত, যেখানে রয়েছে অদম্য অধ্যবসায়, অটল বিশ্বাস এবং পরম করুণাময়ের অলৌকিক কৃপাধারা।

আশ্রমের পথে এক দুরূহ যাত্রা

সেটি ছিল বর্ষাকাল। চারদিকে জল-কাদা, ভাঙাচোরা রাস্তা। রাজারহাটের পাথরঘাটা গ্রাম থেকে রাজারহাট রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাইল পথ হেঁটে পৌঁছতে হতো। সেই সময় অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। শ্যামবাজার পর্যন্ত ট্রেনভাড়া ছিল সাড়ে চার আনা, অথচ সঙ্গে ছিল মাত্র দুই আনা।

কিন্তু অন্তরে তখন একটাই আকাঙ্ক্ষা—সদ্গুরুর দর্শন।

তাই ভোরবেলা রেললাইনের ধারে ধারে হাঁটা শুরু। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে যখন কলকাতার ২৪/৩ মীর্জাপুর স্ট্রিটে পৌঁছলেন, তখন বেলা প্রায় এগারোটা। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারলেন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ইতিমধ্যেই বালীগঞ্জে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছে।

অনেকের কাছে এটি হতাশার কারণ হতে পারত। কিন্তু যার হৃদয়ে গুরুলাভের অগ্নিশিখা জ্বলছে, তাকে কি এত সহজে থামানো যায়?

শরীর ক্লান্ত, পা অবশ, তবুও তিনি আবার হাঁটা শুরু করলেন। শিয়ালদহ পেরিয়ে, রাস্তা ধরে ধরে অবশেষে পৌঁছলেন বালীগঞ্জের ২১১, রাসবিহারী এভিনিউতে।

স্বপ্নের আশ্রম, অথচ গুরুদর্শন নেই

আশ্রমে প্রবেশ করতেই তাঁর বিস্ময়ের সীমা রইল না। দ্বিতল ভবনের একটি প্রশস্ত হলঘর দেখে মনে হল, যেন বহুদিন আগে স্বপ্নে দেখা সেই স্থান! সেই স্বপ্নেই এক মহাপুরুষ তাঁকে দীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!

জানতে পারলেন, শ্রীশ্রীগুরুমহারাজ সেখানে নেই। তিনি বাজিতপুরে গিয়েছেন।

মন ভেঙে গেলেও আশ্রমে পূজনীয় স্বামী বেদানন্দজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রসাদ গ্রহণ করে তিনি বাড়ি ফিরে এলেন।

কিন্তু সেই দিন থেকেই শুরু হল তাঁর নিয়মিত আশ্রমযাত্রা।

অপেক্ষার পরীক্ষা

বছরের পর বছর নয়, কিন্তু মাসের পর মাস তিনি বারবার আশ্রমে আসতে লাগলেন। কখনও বন্যার জল ভেঙে, কখনও কোমরজল পেরিয়ে, কখনও গামছা পরে প্রায় সাঁতার কেটে বাড়ি ফিরেছেন। গভীর রাত হয়ে যেত, তবুও যাত্রা বন্ধ হয়নি।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—প্রতিবারই তিনি আশ্রমে এসেছেন, অথচ একবারও শ্রীশ্রীগুরুমহারাজের দর্শন পাননি।

ক্রমে মন ভেঙে পড়ছিল।

একদিন গভীর হতাশায় স্বামী বেদানন্দজীকে বললেন—

"স্বামীজী, আমার ভাগ্য বোধহয় খুবই মন্দ। এত কষ্ট করে বারবার আসছি, অথচ গুরুদর্শন পাচ্ছি না। হয়তো আমি তাঁর শ্রীচরণের যোগ্য নই।"

তখন স্বামীজীর উত্তর ছিল বজ্রকঠোর অথচ অমৃতসম—

"সদ্গুরু কি এমন বস্তু যে পথে পড়ে আছে, আর তুমি যখন-তখন এসে তুলে নিয়ে যাবে? তিনি তোমার ইচ্ছাধীন নন, তুমি তাঁর ইচ্ছাধীন। কত জন্মের সাধনার পরে সদ্গুরুর কৃপা লাভ হয়। অপেক্ষা করো, একদিন নিশ্চয়ই তাঁর কৃপা লাভ করবে।"

এই বাণী তাঁর হৃদয়ে নতুন শক্তি সঞ্চার করল। তিনি সংকল্প করলেন—

"যতদিন না গুরুদর্শন পাব, ততদিন আসতেই থাকব।"

অবশেষে মহামিলনের দিন

অবশেষে এল সেই শুভদিন।

আশ্বিন মাসের একদিন তিনি আশ্রমে পৌঁছতেই স্বামী বেদানন্দজী তাঁর কথা শ্রীশ্রীগুরুমহারাজকে জানালেন। সঙ্গে সঙ্গেই দর্শনের অনুমতি এল।

তিনি উপরে উঠে গুরুদেবের বিশ্রামকক্ষে প্রবেশ করলেন।

শ্রীচরণে প্রণাম করতেই গুরুদেব স্নেহভরে তাঁর মস্তকে হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন।

তারপর মধুর কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন—

"কখন আসিয়াছিস?"

মাত্র একটি বাক্য!

কিন্তু সেই একটি বাক্য যেন সমস্ত ক্লান্তি, সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত দুঃখ মুহূর্তে দূর করে দিল।

স্বপ্নে যাঁকে দেখেছিলেন, আজ তাঁকেই বাস্তবে সামনে পেলেন।

আনন্দে, আবেগে, বিস্ময়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।

দীক্ষার প্রতীক্ষা ও প্রাপ্তি

সেদিন তিনি দীক্ষার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেন।

গুরুদেব বললেন—

"শিবরাত্রির সময় দীক্ষা দিব।"

কয়েক মাসের অপেক্ষা।

কিন্তু এবার সেই অপেক্ষা ছিল আনন্দের।

প্রতি মাসে অন্তত দু'বার করে তিনি আশ্রমে যেতেন। নতুন একটি হাঁটার পথও আবিষ্কার করেছিলেন। বাণতলা, তপসে, বোন্দেল হয়ে সরাসরি বালীগঞ্জ পৌঁছে যেতেন।

অবশেষে এল মহাশিবরাত্রি।

সেই শুভদিনে তিনি তাঁর মা, স্ত্রী এবং গ্রামের কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে আশ্রমে পৌঁছলেন।

শ্রীশ্রীগুরুমহারাজ তাঁদের দেখে বললেন—

"তোরাও কি দীক্ষা নিবি?"

মায়ের কাছে উপযুক্ত দক্ষিণা ছিল না। তখন করুণাময় গুরুদেব বললেন—

"তাহাতে কি? হরিতকী শ্রেষ্ঠ ফল। হরিতকী দক্ষিণাতেই চলিবে।"

এক মুঠো হরিতকী!

আর সেই সামান্য উপচারের বিনিময়ে করুণাময় সদ্গুরু তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ—দীক্ষা ও ঈশ্বরলাভের পথ—দান করলেন।

মন্ত্রপ্রদানের পর তাঁর আশীর্বাদ, স্নেহ, উপদেশ ও করুণার স্পর্শে ভক্তের জীবন ধন্য হয়ে উঠল।

অন্তর্যামী গুরুর অলৌকিক কৃপা

দীক্ষার পর বহুবার তিনি গুরুদেবের অন্তর্যামী শক্তির পরিচয় পেয়েছেন।

একবার শিবরাত্রি উৎসবে যাওয়ার পথে তাঁর মা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আশ্রমের প্রসাদ না পাওয়া পর্যন্ত কিছু খাবেন না বলে স্থির করেছিলেন।

আশ্রমে পৌঁছে গুরুদেবকে প্রণাম করতেই তিনি বললেন—

"যাও, আগে খাইয়া লও গিয়া।"

কেউ কিছু বলেনি, তবুও গুরুদেব সব জেনে গিয়েছিলেন।

আর একবার তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল—উৎসবকালে এত মানুষের রান্নাবান্না কীভাবে হয়?

আশ্রমে পৌঁছতেই গুরুদেব নির্দেশ দিলেন তাঁকে রান্নাঘরে বসিয়ে খাওয়ানোর জন্য।

সেই সঙ্গে তাঁর মনের প্রশ্নেরও উত্তর মিলল।

এভাবেই ভক্ত উপলব্ধি করেছিলেন—গুরু কেবল বাহ্যদৃষ্টিতে মানুষ নন; তিনি অন্তরের গভীরতম ভাবও অনুভব করেন।

চিরস্মরণীয় আশীর্বাদ

১৩৪৭ সালের কালীপূজার উৎসবে গভীর রাতে শ্রীশ্রীগুরুমহারাজ তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে স্নেহভরা উপদেশ দিয়েছিলেন।

সেই রাত্রির স্মৃতি আজও তাঁর হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে।

আজও তিনি সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করে ভাবেন—কত কষ্ট, কত অপেক্ষা, কত পথচলা! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সদ্গুরুর করুণা লাভ করে জীবন ধন্য হয়েছে।

এই কাহিনী আমাদের শেখায়—সত্যিকার গুরুপ্রাপ্তি কখনো সহজলভ্য নয়। ধৈর্য, বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ এবং অবিচল সাধনার মধ্য দিয়েই সদ্গুরুর কৃপা লাভ হয়। আর যখন সেই কৃপা লাভ হয়, তখন জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শ্রীশ্রী সঙ্ঘনেতা আচার্যদেব স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের এই কৃপাকাহিনী আজও অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে বিশ্বাস, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের দীপশিখা জ্বালিয়ে রাখে।

জয় গুরু মহারাজ।
জয় শ্রীশ্রী স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।

ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় || কপালপাণিং প্রণবং ভজামি ||      ~ স্বামী নির্মলানন্দ।ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রাণপুরুষ শিবাবতা...
25/08/2026

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায়
|| কপালপাণিং প্রণবং ভজামি ||
~ স্বামী নির্মলানন্দ।
ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রাণপুরুষ শিবাবতার আচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ কেবল ত্রিশূলপাণিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কপালপাণি। তাই শিবস্তুতির অনুসরণে তাঁকেও "কপালং ত্রিশূলং করাভ্যাং দধানং" ব'লে প্রণতি জানাতে ইচ্ছা হয়। স্বামীজী মহারাজের যে বহুপ্রচারিত শ্রীমূর্তি আমরা দর্শন করি, তা জটাজুটধারী, রুদ্রাক্ষমাল্যভূষিত, গৈরিকমণ্ডিত, ত্রিশুলধারী মূর্তি। তাঁর দীপ্ত নয়নে যেন শিবেরই ন্যায় বহ্নি প্রজ্জ্বলিত। পাথরে খোদাই করা যেন একখানি নিখুঁত শিবমূর্তি। শিবেরই ন্যায় তিনি ছিলেন আবাল্য শ্মশানচারী ও মহাযোগী। তদীয় গর্ভধারিণীর স্বপ্ন-শিশুরূপে শিবের আবির্ভাব-সার্থক হয়েছিল।

কৈশোরে সাধনকালে তাঁর শ্রীহস্তে ত্রিশূলের সঙ্গে দেখা যেত একখানি মৃত খর্পর। শুনা যায় ঐ খর্পরটি নাকি তাঁরই ভ্রাতুষ্পুত্র গদাই এর। গদাই ছিল স্বামীজী মহারাজের দ্বিতীয় ভ্রাতা যামিনী ভুইঞার পূত্র *। অতি শৈশবে তার আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। আচার্য্যদেবের সহপাঠী শ্রীকিরণ শশি নাগ (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাব্রতী)। একদা আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন-"আমরা উভয়ে এবং ক্ষিতীশ চৌধুরী (স্বামী শুদ্ধানন্দজী), যে বৎসর প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে ঢাকা যাই, গদাই এর মৃত্যু সেই বৎসরের (ইং ১৯১৬) ঘটনা; বাড়ী থেকে বেরুবার সময় গদাইকে সম্পূর্ণ সুস্থই দেখে গিয়েছিলাম। পরীক্ষা উপলক্ষ্যে দিন দশেক আমাদিগকে ঢাকা থাক্তে হয়েছিল। হঠাৎ একদিন তিনি বলে উঠলেন-"বাড়ী গিয়ে দেখখো, গদাই নাই।” আমি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলুম তাঁর ভবিষ্যৎ উক্তিতে। এই উক্তির সত্যতা যাচাই করার জন্য যে দিন যে সময়ে তিনি একথা বলেছিলেন, খাতার এক কোণে সেই তারিখ ও সময়টা লিখে রেখেছিলাম। বাড়ী ফিরে শুনে আশ্চর্য্য হয়েছিলাম, ঠিক সেই দিন সেই সময়েই গদাই মাতৃ-অঙ্ক অন্ধকার করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। একই পল্লীর অধিবাসী এবং একই বিদ্যালয়ের সহপাঠীরূপে স্বামীজীকে শিশুকাল থেকে দেখেছি ও তাঁর চরিত্র লক্ষ্য করেছি। তাঁকে জিতেন্দ্রিয়, সাধনশীল, সংসারনিস্পৃহ, স্বল্পভাষী, সত্যনিষ্ঠ, সাধুচরিত্রের মানুষ ব'লেই জানতাম । কিন্তু এ ঘটনা তাঁর অধ্যাত্ম ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে আমার মনে নূতন শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রম বুদ্ধি জাগিয়েছিল । আমি বুঝেছিলাম-এতদিন তাঁকে যে-ভাবে জেনেছি, তিনি তাঁর চেয়েও অনেক উচ্চ ভূমির দেবমানব। তিনি অন্তঃচক্ষুবিশিষ্ট, ক্রান্তদর্শী: তিনি অন্তর্যামী পুরুষ। আমাদের মধ্যে আমাদেরই একজন হয়ে কোন্ লোকাতীত পুরুষটি এমন ক'রে আত্মগোপন ক'রে আছেন, তা জানিবার জন্য ক্রমেই আগ্রহ ও কৌতূহলবৃদ্ধি পেয়েছিল।”

কিরণবাবু পরবর্তী জীবনে শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণপূর্ব্বক সাধন ও দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

সঙ্ঘনেতা শ্রীশ্রীস্বামী প্রণবানন্দজী তখন 'সাধু' বা 'ব্রহ্মচারী বিনোদ' নামে সাধারণের নিকট পরিচিত। তিনি শ্মশান থেকে ঐ মৃত খর্পরটি সংগ্রহ করেছিলেন। ওটি তাঁর সাধন-কুটীরে থাক্তো এবং সাধনার অবলম্বনরূপে ব্যবহৃত হতো। একদা তাঁর অগ্রজা ভগ্নী হেমাঙ্গিনী বসু (ওরফে বুড়ি) ঐ অশুচি মৃত খর্পরটি সম্বন্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। যা ছুঁলে স্নান করা উচিত। সেটাকে ঘরে এনে এমন অনাচার করা কেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, "এই তো মনুষ্য দেহের চরম পরিণাম। যাকে তোমরা আদর ক'রে কোলে নিয়েছ, খাইয়েছ, কত স্নেহভরা চুম্বন তার কচি কমল-মুখখানিতে মধুর মধুর হাসি ফুটিয়ে তুলেছ, সে আজ কোথায়? তার শরীরই কি আজ অস্পৃশ্য, অশুচি হলো? সে-ই আজ ঘৃণ্য, পরিত্যজ্য হলো? মনে রেখো-প্রতি মনুষেরই এক দিন এই দশা হবে। এ দেহ নশ্বর। জীবন-যৌবন ক্ষণভঙ্গুর। যে দেহের ভোগের জন্য মানুষ পাগল, সে দেহ মাটিতে মিশে মাটি হয়ে যাবে, না হয় চিতানলে পরিণত হবে দুই মুষ্টি ভস্মে। " এ বৈরাগ্যদৃপ্ত আপ্তবাণী শ্রবণে আবাল্য ব্রতপরায়ণা বিধবা ভগ্নীরও জ্ঞানোদয় হয়েছিল। প্রত্যুত্তর তো দূরের কথা, তিনি হয়ে গিয়েছিলেন যেন নিরুত্তর ছবি।

আত্মনিষ্ঠ স্বামী প্রণবানন্দজী স্বয়ং ছিলেন বিবেক ও বৈরাগ্যের ঘনীভূতা মূর্তি। জীবের চরম লক্ষ আত্ম-তত্ত্বোপলব্ধির সাধনার পথে মহাশত্রু হচ্ছে-আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা, জড়তা, রিপু ও ইন্দ্রিয়গণ। ইন্দ্রিয়ের উত্তেজনা ও রিপুর উৎপীড়ন থেকে আত্মরক্ষাপূর্ব্বক নিয়ত প্রাণে আত্মস্মৃতি জাগিয়ে রাখতে হলে কি প্রয়োজন? তিনি বার বার বলতেন-মৃত্যুচিন্তা কর, দেহের নশ্বরতা ও জগতের অবাস্তবতা সম্বন্ধে ভাবো। তা হলে আর রিপু-ইন্দ্রিয় প্রবল হবে না, মায়া-মোহের ঘোরে বিভ্রান্ত হবে না, আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা, জড়তা তোমার সাধনায় শৈথিল্য আনয়ন করতে পারবে না। তাঁর নিজ শ্রীমুখের উক্তি-“যে ব্যক্তি নিয়ত মৃত্যুচিন্তা করে সে কদাপি কোন প্রলোভনের দ্বারা প্রলুব্ধ হয় না, কোন মায়ামোহের দ্বারা আবদ্ধ হয় না। যে ব্যক্তি প্রতি নিমিষে নিমিষে, প্রতি পলকে পলকে, প্রতি ভাবনায়, প্রতি চিন্তায়-শয়নে, স্বপনে, জাগরণে মৃত্যুর স্মৃতিকে প্রাণে জাগাইয়া রাখিতে পারে, সে অচিরে মহামুক্তি লাভে সমর্থ হয়।”

আরো বলেছেন-“মৃত্যুচিন্তা রিপুর উত্তেজনা ও ইন্দ্রিয়ের উৎপীড়ন হইতে মানুষকে রক্ষা করে। মৃত্যুচিন্তা বিষয় বাসনাকে বিধ্বংস করিয়া মানুষের অন্তরে বিবেক- বৈরাগ্য জাগাইয়া তোলে, ভোগ-বিলাসের স্পৃহাকে নষ্ট করিয়া মানবপ্রাণে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগাইয়া দেয়।” তিনি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছিলেন- "মৃত্যুচিন্তাই তো সিদ্ধার্থকে বুদ্ধত্ব লাভের পথ প্রদর্শন করিল। মৃত্যুচিন্তাই তো শঙ্করকে শৈশবে সন্ন্যাসী করিয়াছিল।” এ যুগে আর এক দৃষ্টান্ত আচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী স্বয়ং। তাঁকে শুধু ত্রিশূলপাণিরূপে ভজনা করলেই চলে না, তাঁর কপালপাণি স্বরূপটিও উপলব্ধি করতে হবে। তাইতো বিনম্র প্রার্থনাপ্লুত অন্তরে স্তুতি করতে ইচ্ছা হয়-“কপালপাণিং প্রণবং ভজামি।”

আচার্য্যদেবের শ্রীহস্তে রচিত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ আজ ধর্মভিত্তিতে জাতিগঠনের পরিকল্পনা নিয়ে ভারত ও বহির্ভারতে ব্যাপক ভাবে কর্তব্যরত। সেবা, শিক্ষা, ব্যক্তিগঠন, সমাজগঠন, তীর্থসংস্কার, অনুন্নতোন্নয়ন, আদিবাসী কল্যাণ, শুদ্ধি আদি নানা বিভাগে সঙ্ঘের কর্মসাফল্য আজ কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করছে। তাঁর স্থূলদেহের অবসানেও সঙ্ঘের কলেবর উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপরায়ণ। সঙ্ঘের এই সাফল্য, স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধির প্রকৃত রহস্য কি? উত্তর-এ সঙ্ঘের পশ্চাতে আছে যুগপুরুষের অলৌকিক তপঃশক্তি ও ইচ্ছাশক্তির মহান্ আশীর্ব্বাদ। এ সঙ্ঘের জন্ম তপস্যায়, স্থিতি তপস্যায়, গতিও তপস্যায়। সঙ্ঘনেতার তপোলব্ধ সত্যানুভুতির দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এই সঙ্ঘ। যোগেশ্বর শিবের অবতারী পুরুষ লোকরক্ষার্থে ও লোকশিক্ষার্থে স্বয়ং দুস্তর তপশ্চরণ করেছেন এবং তাঁর উত্তর সাধকগণের জীবনগুলিকেও ত্যাগ, সংযম, সত্য ব্রহ্মচর্য্যের তপস্যার আদর্শে সুগঠিত ক'রে গেছেন।

দধীচির অস্থিতে ইন্দ্রের হস্তে বজ্র তৈরী হয়েছিল; তাতেই দেবগণ বৃত্রাসুরের অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেয়েছিলেন। স্বামী প্রণবানন্দজীও উপলব্ধি করেছিলেন- ভারতের মুক্তি আত্মত্যাগে। তাই এ যুগের পরিত্রাতা স্বয়ং ত্যাগীর মূর্ত্তি পরিগ্রহ ক'রে আবির্ভূত এবং নিজ পরিকরগণকেও গড়ে তুললেন ত্যাগ-বৈরাগ্যের ভাস্বর আলোকে এবং তাদিগকে উদ্বুদ্ধ ও নিয়োজিত ক'রে গেলেন সহস্র বৎসরের পরপদানত স্বধর্মভ্রষ্ট ভারতবাসীর মহামুক্তির জন্য তিলে তিলে নিজেদের শরীরের রক্তমোক্ষণে ত্যাগ ও বৈরাগ্যের উদ্দীপ্তি মৃত্যুচিন্তায়, মৃত্যুচিন্তার উদ্দীপ্তি মৃত-খর্পর অবলম্বনে জীবন-যৌবনের পরিণাম বিচারে। যোগেশ্বর শিব এ জন্যই তো শ্মশানের মৃত-খর্পর নিয়েছিলেন বেছে, শিবাবতার স্বামী প্রণবানন্দজীরও সাধন-জীবনের করভূষণ ছিল ত্রিশূলের সঙ্গে একটি মৃতের কপাল। ঐ মৃত কপালটির অবদান কম নয়। কপালপাণি স্বামী প্রণবানন্দজী ভারতের শ্বাশত আদর্শ ত্যাগ ও বৈরাগ্যের দৃপ্ত প্রসাদে সঙ্ঘের অন্তর্জীবনকে করেছেন পরিপুষ্ট এবং ত্রিশূলপাণি স্বামী প্রণবানন্দ শিবের রুদ্রশক্তির সমাশ্রয়ে অন্যায়ের প্রতিকার ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য সঙ্ঘের জাতিগঠন ও লোককল্যাণমূলক বহুমুখী ব্রতকে প্রসারিত ক'রে দিয়েছেন বিশ্বময়। ত্রিশূলপাণি স্বামী প্রণবানন্দকে যথার্থরূপে বুঝতে হলে কপালপাণি স্বামী প্রণবানন্দের তপস্যাদৃপ্ত জীবনের অনুধ্যান অবশ্যই করা চাই।

শ্রীশ্রীপ্রণবানন্দ-শতরূপে, শতমুখে-তৃতীয় খণ্ড:- স্বামী নির্মলানন্দ।
ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্

Address

Sevashram Road, Chakenayet
Naogaon
6500

Opening Hours

Monday 05:00 - 22:00
Tuesday 05:00 - 22:00
Wednesday 05:00 - 22:00
Thursday 05:00 - 22:00
Friday 05:00 - 22:00
Saturday 05:00 - 22:00
Sunday 05:00 - 22:00

Telephone

+8801716709188

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নওগাঁ সেবাশ্রম সংঘ/Naogaon Sevashram Sangha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to নওগাঁ সেবাশ্রম সংঘ/Naogaon Sevashram Sangha:

Shortcuts

Share