Nur Al'Umam ﷺ Organisation

Nur Al'Umam ﷺ Organisation Assalamu Alaikum. Welcome to the ocean of knowledge.Here you can learn Islamic knowledge every day.

**ইসলামে সান্ডা খাওয়ার বিধান**সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত মরুর দেশের প্রাণী সান্ডা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দে...
20/05/2025

**ইসলামে সান্ডা খাওয়ার বিধান**

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত মরুর দেশের প্রাণী সান্ডা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেশগুলোতে বসবাসকারী বেশ কিছু বাঙালি তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দিচ্ছেন। সেখানে দেখা যায় তারা তাদের কফিলের জন্য সান্ডা ধরছে। এ সময় কেউ কেউ শেয়ার করছেন বিভিন্ন ছবি। যা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে এখানেই শেষ নয়, বানানো হচ্ছে নানা মিম।
এদিকে সান্ডা খাওয়া নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রায়ই জিজ্ঞাসা দেখা যায় – এটি কি ইসলামে হারাম নাকি হালাল? কুরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে আলেমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেহেতু কুরআন মাজিদে সরাসরি সান্ডা খাওয়ার ব্যাপারে কোনো উল্লেখ নেই, তাই এর বিধান নির্ধারণে হাদিস ও ফিকহি নীতি অনুসরণ করা হয়।
সান্ডা কি?
‘দব’ মূলত আরবের মরুভূমির একটি প্রাণী । সুতরাং আরবী অভিধান থেকে আমরা ‘দব’ এর পরিচয় জেনে নিতে পারি।
প্রসিদ্ধ আরবী অভিধান ‘আল মুজামুল ওয়াসীত’-এ ‘দব’ এর পরিচয় দেয়া হয়েছে এভাবে-
الضب حيوان من جنس الزواحف من رتبة العظاء، غليظ الجسم خشنة، و له ذنب عريض حرش أعقد، يكثر في صحراء الأقطار العربية.
‘দব’ হলো সরীসৃপজাতীয় বুকে ভর দিয়ে চলা একটি প্রাণী। যার শরীরের চামড়া পুরু ও অমসৃণ। তার লেজ চওড়া যা রুক্ষ, খসখসে ও অতি গিটবিশিষ্ট। আরব মরুভূমিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। -আল মুজামুল ওয়াসীত পৃ.৫৩২
আর আমরা যাকে গুইসাপ বলি তা আরবী ورل (ওয়ারাল) নামক প্রাণীর বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে, ضب (দব)এর সাথে নয়। আরবী অভিধানে ‘ওয়ারাল’ এর পরিচয় দেয়া হয়েছে এভাবে-
الورل حيوان من الزحفات طويل الأنف والذنب دقيق الخصر، لا عقد في ذنبه كذنب الضب، و هو أطول من الضب أقصر من التمساح، يكون في البر و الماء، يأكل العقارب و الحيات و الحرابي و الخنافس، و العرب تستخبثه و تستقذره فلا تأكله.
ওয়ারাল হল সরীসৃপজাতীয় একটি প্রাণী, যার নাক ও লেজ সুদীর্ঘ। কোমর সরু ও চিকন। দবের লেজের মত তার লেজে কোনো গিট নেই। তার দেহের দৈর্ঘ্য দবের চেয়ে বড়, কুমিরের চেয়ে ছোট। এরা জল ও স্থল উভয়স্থানে চলাচল করে (উভচর প্রাণী)। এরা বিচ্ছু, বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ, সাপ, গিরগিটি, গোবরপোকা ইত্যাদি আহার করে থাকে। আরবরা ওয়ারালকে ঘৃণা করে এবং নিকৃষ্ট মনে করে এবং তা খায় না। -আল মুজামুল ওয়াসীত পৃ.১০২৭
আরবী বিভিন্ন অভিধানে ‘দব’ এবং ‘ওয়ারাল’ দুটো প্রাণীরই ছবি দেয়া আছে। তা দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ‘দব’ এবং ‘ওয়ারাল’ দুটো আলাদা প্রাণী। এছাড়া এ দুই প্রাণীর পরিচয় থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, দুটো ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী।

আরবী ভাষার সুপ্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য অভিধান ‘লিসানুল আরব’-এ আল্লামা ইবনে মানযুর রহ. বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন-
(ضب) الضب دويبة من الحشرات معروف وهو يشبه الورل ... قال أبو منصور : الورل سبط الخلق طويل الذنب كان ذنبه ذنب حية ورب ورل يربي طوله على ذراعين، وذنب الضب ذو عقد وأطوله يكون قدر شبر والعرب تستخبث الورل وتستقذره ولا تأكله. وأما الضب فإنهم يحرصون على صيده وأكله.
দব একটি ছোট প্রাণী, যা দেখতে ওয়ারালের মত। ... আবু মানসূর বলেন, ওয়ারাল হল সুগঠিত দেহের অধিকারী একটি প্রাণী। তার লেজ লম্বা; দেখতে সাপের লেজের মত। কোনো কোনো ওয়ারাল দুই হাতেরও বেশি লম্বা হয়। আর দবের লেজ গিটবিশিষ্ট এবং তা সর্বোচ্চ এক বিঘত লম্বা হয়। আরবরা ওয়ারালকে ঘৃণা করে ও নিকৃষ্ট মনে করে। ফলে তা খায় না। আর দব শিকার করতে ও খেতে পছন্দ করে। (দ্র. লিসানুল আরাব, খ.৮ পৃ.৮ মাদ্দা: ضبب)
আরো দেখুন- তাজুল আরূস খ.১ পৃ.৩৪৩ (فصل الضاد،باب الباء), হায়াতুল হায়াওয়ান খ.২ পৃ. ৬৩৬।
আরবী অভিধানের পাশাপাশি হাদীসের বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভাষ্যমতেও ‘দব’ ও ‘ওয়ারাল’ দুটি ভিন্ন প্রাণী।
সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন-
قوله "باب الضب" هو دويبة تشبه الجرجون، لكنه أكبر من الجرجون، ...، و يقال للأنثى ضبة،....و يقال لأصل ذكر الضب فرعين، و لهذا يقال له ذكران.
و ذكر ابن خالويه أن الضب يعيش سبعمائة سنة، و أنه لا يشرب الماء، و يبول في كل أربعين يوما قطرة، و لا يسقط له سن، و يقال بل أسنانه قطعة واحدة، و حكى غيره أن أكل لحمه يذهب العطش، و من الأمثال "لا أفعل كذا حتى يرد الضب" يقوله من أراد أن لا يفعل الشيء، لأن الضب لا يرد بل يكتفي بالنسيم و برد الهواء، و لا يخرج من جحره في الشتاء. (راجع فتح الباري جـ ٩ صـ ٥٨٠)
হাদীসের বিখ্যাতব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতেও একই বর্ণনা পাওয়া যায়। দেখুন-উমদাতুল কারী; হাশিয়াতুস সিন্দী আলা সহীহিল বুখারী; তুহফাতুল আহওয়াযী; আওনুল মাবুদ (‘দব’’ অধ্যায়)
এদের আদি নিবাস আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য । এদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মোটা ও শক্তিশালী লেজ, যা কাঁটার মতো খাঁজযুক্ত এবং আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।
وذكر ابن خالويه أن الضب يعيش سبعمائة سنة ، وأنه لا يشرب الماء ويبول في كل أربعين يوما قطرة ولا يسقط له سن ، ويقال بل أسنانه قطعة واحدة
এটি ৭০০ বছর বেঁচে থাকে। সে কখনো পানি পান করে না। ৪০ দিনে একফোঁটা প্রসাব করে। তার দাঁত কখনো পড়ে না।
সান্ডা খাওয়া নিয়ে নবী করিম (সা.) এর হাদীস?

নবী করিম (সা.)-এর সামনে একবার তার সাহাবীরা সান্ডা পরিবেশন করে। তখন তিনি সেটি খাননি। সে সময় তার সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি এটি খেতে অপছন্দ করেন, এটি হারাম?’
এই প্রশ্নের উত্তরে নবী করিম (সা.) বললেন- ‘এটি আমার কওমের খাদ্য নয়, তাই আমি খাই না।’
(সহীহ বুখারী: ৫৫৩৭, সহীহ মুসলিম: ১৯৪৪)

অর্থাৎ, এটি তিনি নিজে না খেলেও সাহাবীদের খেতে মানা করেননি। এমনকি সাহাবীরা তার সামনে এটি খেয়েছেন।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) যাকে ‘সাইফুল্লাহ্’ বলা হতো তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাইমূনাহ (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করলেন। মাইমূনাহ (তার ও ইবনু ‘আব্বাসের খালা ছিলেন। তিনি তার কাছে একটি ভুনা দাব্ব দেখতে পেলেন, যা নজদ থেকে তার (মাইমূনাহর) বোন হুফাইদা বিন্ত হারিস নিয়ে এসেছিলেন। মাইমূনাহ (রাঃ) দাব্বটি রাসূলুল্লাহ স.-এর সামনে হাজির করলেন। রাসুলের অভ্যাস ছিল, কোনো খাদ্যের নাম ও তার বর্ণনা বলে না দেয়া পর্যন্ত তিনি খুব কমই তার প্রতি হাত বাড়াতেন।

তিনি দাব্বের দিকে হাত বাড়ালে উপস্থিত মহিলাদের মধ্যে একজন বললেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ স.-এর সামনে যা পেশ করছ সে সম্বন্ধে তাকে অবহিত কর। বলা হল- হে আল্লাহর রাসূল! ওটা দাব্ব। এ কথা শুনে রাসূল স. তার হাত উঠিয়ে নিলেন। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দাব্ব খাওয়া কি হারাম? তিনি বললেন, না। কিন্তু যেহেতু এটি আমাদের এলাকায় নেই। তাই এটি খাওয়া আমি পছন্দ করি না। খালিদ (রাঃ) বলেন, আমি সেটি টেনে নিয়ে খেতে থাকলাম। আর রাসূল স. আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। [৫৪০০, ৫৫৩৭; মুসলিম ৩৪/৭, হাঃ ১৯৪৫, ১৭৪৬, আহমাদ ১৬৮১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৬)
এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, নবী সা. নিজে দাব্ব খাননি।
عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن أكل الضب، فقال : لا آكله ولا أحرمه....قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح، و قد اختلف أهل العلم في أكل الضب، فرخص فيه بعض أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم و غيرهم، و كرهه بعضهم . و يروى عن ابن عباس أنه قال: أُكِل الضب على مائدة رسول الله صلى الله عليه و سلم، و إنما تركه رسول الله صلى الله عليه و سلم تقذرا.

অর্থ : আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘দব’ খাওয়া না খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, আমি নিজে তা খাই না তবে তা খাওয়া হারামও বলি না ...। ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন, ...আহলে ইলমের মাঝে ‘দব’ খাওয়া না-খাওয়া নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অনেক আহলে ইলম সাহাবী ও পরবর্তী ফকীহগণ তা খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অনেকে তা খাওয়া মাকরূহ বলেছেন। আর হযরত ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দস্তরখানে ‘দব’ খাওয়া হয়েছে। তিনি ঘৃণার কারণে তা খাননি।

ফিকহবিদদের মতামত:
ফিকহবিদগণ এই সকল হাদীসগুলো বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মাজহাবে সান্ডা খাওয়ার হুকুম নির্ধারণ করেছেন।
হানাফি মাজহাব:
ইসলামি আইনবিশারদগণ সান্ডা খাওয়ার বিধানের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। হানাফি ফকিহদের মতে সান্ডা খাওয়া হারাম। কারণ এটা তাদের দৃষ্টিতে খাবাইস বা নাপাক ও অরুচিকর প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। যেসব হাদিসে সান্ডা খাওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়, সেগুলোকে তারা ইসলামের শুরুর সময়ের ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন—অর্থাৎ, সেই সময়ের, যখন কোরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হয়নি,
وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ

আর তিনি তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেছেন। (সুরা আ'রাফ: ১৫৭)
وقال ابن عابدين في حاشيته "رد المحتار": [والدليل عليه أنه صلى الله عليه وآله وسلم "نهى عن أكل كل ذي ناب من السِّبَاع، وكل ذي مخلب من الطير" رواه مسلم وأبو داود وجماعة، والسر فيه أن طبيعة هذه الأشياء مذمومةٌ شرعًا، فيُخشى أن يتولَّد من لحمها شيءٌ من طباعها، فيحرم إكرامًا لبني آدم، كما أنه يحل ما أحل إكرامًا له، وفي "الكفاية":
# ‘মাছ ব্যতীত জলচর বা উভচর সরীসৃপ যেমন: কচ্ছপ, গুইসাপ, সাপ এবং দব—এগুলো খাওয়া হানাফি মাজহাবে হারাম।’ (আল-হিদায়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৫৭)
#‘শুধু সামুদ্রিক মাছ হালাল; জলজ ও স্থলজ মিলিত প্রাণী, যেমন দব (Spiny-tailed Lizard), গুইসাপ ইত্যাদি খাওয়া হারাম।’ (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৯০)
#‘দব প্রাণীটি সরীসৃপ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, আর হানাফি মাজহাবে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী খাওয়া হারাম হিসেবে গণ্য করা হয়।’ (আল-মাবসুত, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৩১)
#‘প্রকৃতিগতভাবে অপবিত্র বা অরুচিকর সকল প্রাণী হারাম, যেমন: সাপ, গুইসাপ, দব ইত্যাদি।’ (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৮০)

#আয়েম্মায়ে সালাসার বক্তব্য: #
শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাব:
এই সব মাজহাবের আলেমদের মতে, সান্ডা খাওয়া পুরোপুরি হালাল।
তারা উপরোক্ত হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
#সান্ডা খাওয়ার চিকিৎসাগত দিক:
বিশ্বের বহু দেশে সান্ডার তেলের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এবং যৌন শক্তি বৃদ্ধির উপাদান হিসেবে এর তেল ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমান আধুনিক চিকিৎসায় এটির কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে
دار الإفتاء المصرية
الرئيسية
الفتاوى
حكم أكل لحم الضب

حكم أكل لحم الضب
تاريخ الفتوى: 13 سبتمبر 1958 م
رقم الفتوى: 1987
من فتاوى: فضيلة الشيخ حسن مأمون
التصنيف: أطعمة وأشربة
حكم أكل لحم الضب
السؤال:
ما حكم أكل لحم الضب، هل حرامٌ أو حلالٌ بموجب السنة المحمدية؟

الجواب:
اختلف الفقهاء في حكم أكل الضب: فالحنفية يرون حرمته؛ لأنه من الخبائث عندهم، وحملوا ما روي من أكله على ابتداء الإسلام قبل نزول قوله تعالى: ﴿وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ﴾ [الأعراف: 157]، والجمهور يرون حِل أكله؛ مستدلين بأحاديث رويت عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم في جواز أكله.

التفاصيل....
إن المنصوص عليه شرعًا في مذهب الحنفية كما جاء في "التنوير" وشارحه "الدر المختار" أنه: لا يحل ذو نابٍ يصيد بنابه أو مخلبٍ يصيد بمخلبه من سَبُعٍ أو طيرٍ، ولا الحشرات، والضبع والثعلب؛ لأن لهما نابًا، والضب، وما رُوِيَ من أكله محمولٌ على ابتداء الإسلام قبل نزول قوله تعالى: ﴿وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ﴾ [الأعراف: 157].

وقال ابن عابدين في حاشيته "رد المحتار": [والدليل عليه أنه صلى الله عليه وآله وسلم "نهى عن أكل كل ذي ناب من السِّبَاع، وكل ذي مخلب من الطير" رواه مسلم وأبو داود وجماعة، والسر فيه أن طبيعة هذه الأشياء مذمومةٌ شرعًا، فيُخشى أن يتولَّد من لحمها شيءٌ من طباعها، فيحرم إكرامًا لبني آدم، كما أنه يحل ما أحل إكرامًا له، وفي "الكفاية":

والمؤثر في الحرمة الإيذاء، وهو طورًا يكون بالناب، وتارةً يكون بالمخلب أو الخبث، وهو قد يكون خلقةً كما في الحشرات والهوام] اهـ. ثم قال بعد ذلك تعليقًا على قول "الدر": (والخبيث ما تستخبثه الطباع السليمة): [أجمع العلماء على أن المستخبثات حرامٌ بالنص؛ وهو قوله تعالى: ﴿وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ﴾ [الأعراف: 157]، وما استطابه العرب حلالٌ؛ لقوله تعالى: ﴿وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ﴾ [الأعراف: 157]، وما استخبثه العرب فهو حرامٌ بالنص، والذين يعتبر استطابتهم أهل الحجاز من أهل الأمصار؛ لأن الكتاب نزل عليهم وخوطبوا به، ولم يعتبر أهل البوادي؛ لأنهم للضرورة والمجاعة يأكلون ما يجدون] اهـ.

وذكر صاحب "مجمع الأنهر" الضب من المحرم أكله، وعلَّلَ الحرمة بقوله: [لأنه من السِّبَاع، خلافًا للأئمة الثلاثة] اهـ، وقال صاحب "الدر المنتقى": [حرمته لأنه من الخبائث] اهـ، هذا هو مذهب الحنفية.

وأما الأئمة الثلاثة فقد ذهبوا إلى حِل أكله مستدلين بأحاديث رُويت عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما -وأصله في مسلم- قال: إن النبي صلى الله عليه وآله وسلم سُئل عن الضب فقال: «لَمْ يَكُنْ مِنْ طَعَامِ قَوْمِي، فَأَجِدُ نَفْسِي تَعَافُهُ، فَلَا أُحِلُّهُ وَلَا أُحَرِّمُهُ»، وحديث ابن عباس رضي الله عنهما -وأصله في الصحيحين- قال: "أُكِلَ الضب على مائدة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وفي الآكلين أبو بكر رضي الله عنه"، وقد أجاب عنه صاحب "العناية" وغيره من الحنفية بأن الأصل أن الحاظر والمبيح إذا تعارَضَا يرجح الحاظر، على أن المبيح في هذا الأمر مُؤَوَّلٌ بما قبل التحريم.

والله سبحانه وتعالى أعلم.

অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলাদেশ থেকে ১৯৮০-৮১ সালে অনেক তরুণ যুবকেরা ফি[লি]স্তি[নে] গিয়ে ই জ রা ই লে র সাথে সরাসরি যুদ্ধ ক...
07/04/2025

অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলাদেশ থেকে ১৯৮০-৮১ সালে অনেক তরুণ যুবকেরা ফি[লি]স্তি[নে] গিয়ে ই জ রা ই লে র সাথে সরাসরি যুদ্ধ করেছে, শহীদও হয়েছে।

খোদ ঢাকাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সহ বহু মানুষ লাইন ধরে নিজেদের নাম রেজিস্ট্রি করে ফি লি স্তি [নে] গিয়ে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে যারা শহীদ হয়ে ফিরেছেন, তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মুকারাম মসজিদের উত্তর গেটে। ইমামতি করেন জা মা য়া তে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম।

জি[য়া]উর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তখন ফি[লি]স্তিনি যো[দ্ধা]দের স্বরণে ডাকটিকিট ও পোস্ট কার্ড ছাপিয়েছিল।

ফলো করুন: Nur Al'Umam ﷺ Organisation

21/04/2024

সিলেট আহালে হাদিসদের মসজিদে চলছে ফুটবল খেলা। ইসলাম কি ব্যাখ্যা দেয় এই বিষয়ে?

#ইসলাম #ভাইরাল #আহালেহাদিস #সিলেট

❝বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন: মক্কা থেকে ইয়াসরিব; দিল্লি থেকে ঢাকা❞•আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে গেলো মঙ্গল শোভাযাত্রা❗৬২২ ঈসায়ী ...
14/04/2024

❝বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন: মক্কা থেকে ইয়াসরিব; দিল্লি থেকে ঢাকা❞
•আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে গেলো মঙ্গল শোভাযাত্রা❗

৬২২ ঈসায়ী সন; কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রিয় রাসুল (দ:) আল্লাহর ইশারায় মক্কা থেকে ইয়াসরিবে (মদিনা) হিজরত করলেন।

হিজরত অর্থ একস্থান থেকে অন্য স্থানে গমন। ইংরেজিতে যাকে আমরা মাইগ্রেশন বলি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হিজরত শুধু এক জনপদ থেকে আরেক জনপদে দৈহিকভাবে স্থানান্তরই ছিলনা, বরং সে হিজরত ছিল অন্ধকার থেকে আলোর পথে (মিনাজ জুলুমাতি ইলান নূর)। অশুভ অকল্যাণ থেকে শুভ ও কল্যাণের পথে, অসত্য ও অসুন্দর থেকে সত্য ও সুন্দরের পথে, অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে ইনসাফ ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে।

তাঁর সেই ঐতিহাসিক হিজরত থেকেই শুরু হলো নতুন এক সন‌ গণনা, যা হিজরী সন বলে পরিচিত। কাল পরম্পরায় হিজরী ৯৬৩ সনে দিল্লির বাদশাহ আকবর রাজস্ব বা খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ফসলি সন হিসেবে একে বাংলার জনগণের জন্য নতুন নামে নামকরণ করলেন হিজরী ৯৬৩ সালকে সরাসরি ৯৬৩ বঙ্গাব্দ ঘোষণা করে। বাংলা সন আকাশ থেকে পড়েনি, এটি হল হিজরী সনেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। যা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ৪৬৮ বছর আগে। অর্থাৎ বাংলা সনের ইতিহাস মাত্র ৪৬৮ বছরের পুরোনো, কিছুতেই তা কতিপয় তাত্ত্বিকদের কল্পিত হাজার বছরের নয়।


কয়েকজন ঐতিহাসিক বাঙ্গলা দিনপঞ্জি উদ্ভাবকের কৃতিত্ব আরোপ করেন ৭ম শতকের রাজা শশাঙ্ক। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট আকবর এটিকে রাজস্ব বা কর আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিবর্তিত করেন।

ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে রাজকীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে "বঙ্গাব্দ" বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে।

দিল্লির বাদশাহ আকবর প্রবর্তিত সেই ৯৬৩ হিজরী সন থেকে ধর্মীয় গণনার সাথে বঙ্গীয় ভূখণ্ডের ভৌগোলিক, নৃতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্য সংস্কৃতির আচার যোগ হয়ে সুবাহ বাঙলার রাজধানী ঢাকায় আমরা পেলাম বাংলা সন। বাংলা সনের জন্ম হয়েছে ৯৬৩ বছরের সমৃদ্ধ হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে। কোন পৌত্তলিক দেবীর বাহন হুতুম পেঁচা বা মূর্তি-মুখোশের আড়ালে নয়। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর নামে আগুনের উপাসনা বা মূর্তি পূজার মতো করে ঢাক ঢোল বাজিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়।

হালখাতা শব্দটাও মুসলিম ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত, হাল শব্দটি আরবি, খাতা শব্দটি ফার্সি। সন শব্দটিও আরবি। আজকে যারা মুসলিম সন্তান হয়েও নিজের পূর্বপুরুষদের উজ্জ্বল ঐতিহ্য ভুলে এতে বিধর্মীদের দেবদেবীর মূর্তি-মুখোশ ঢুকিয়ে বিশেষ চেতনা ও সংস্কৃতির নামে পূজা-অর্চনার পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তারা পথভ্রষ্ট। পরদেশী প্রভুদের পা চাটা এই দালালেরা আমার জাতি এবং আমার ঈমানের শত্রু। তারা শয়তানের মিত্র। এদেরকেই পবিত্র কোরআনে 'উলায়িকা হিজবুশ শয়তান' বলা হয়েছে। এরাই হলো শয়তানের দলভুক্ত।

শয়তানের কাছে মিথ্যা অতি প্রিয়। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের কতিপয় পৌত্তলিকতা প্রিয় ও নিজ ধর্মের ব্যাপারে হীনমন্য ছাত্র কর্তৃক চালু হওয়া "আনন্দ শোভাযাত্রা"। দু-এক বছর পরে তা পরিবর্তিত হল 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'য়। আর এখন বলা হচ্ছে এটি নাকি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি- হাস্যকর। সংস্কৃতির নামে আজ বাঙালি মুসলমান ছেলে-মেয়েরা নিজেদের অজান্তেই বাধ্য হচ্ছে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে।

আল্লাহ স্পষ্ট করে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, *তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।* (সূরা বাকারা ২:১৬৮)

বাংলা নববর্ষ বাঙালির সংস্কৃতির অংশ, অপসংস্কৃতি দিয়ে তা কলঙ্কিত করবেন না। অভিশপ্ত শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ হতে দূরে থাকুন, নিজেদেরকে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করুন। অন্ধকার থেকে আলোর পথে (মিনাজ জুলুমাতি ইলান নূর) হিজরত করুন, সত্যের পথে অবিচল থাকুন। যারা সত্যের পথে অবিচল থাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদেরকে বলেছেন উলায়িকা হিজবুল্লাহ। এরাই হলো আল্লাহর (অনুশাসনের) দলভুক্ত।

অত:পর... সমস্যাটা শোভাযাত্রায় নয়, মঙ্গলে। আনন্দ শোভাযাত্রা কী করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে গেল!

যে মঙ্গল শোভাযাত্রা মাত্র ত্রিশ বছর আগেও আনন্দ শোভাযাত্রা ছিলো, সেটা কী করে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হয়ে গেল!

যাঁরা নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক প্রমাণ করতে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, কিংবা সৃষ্টিকর্তা মানুষের মঙ্গল বা অমঙ্গল কিছুই করতে পারেনা— এমন ধারণা পোষণ করে; তাঁরা কী করে আবার বিশ্বাস করে নতুন বর্ষ বরণে মঙ্গল শোভাযাত্রায় সাপ, ব্যাঙ, হুতোম প্যাঁচা, রক্ষস, হনুমানরা জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে?

মুক্তমনা আর উদার সম্প্রীতির নামে এক ধর্মের কৃষ্টি কালচার সব ধর্মের লোকের উপর চাপিয়ে দেওয়া ভণ্ডামি ছাড়া আর কি-বা হতে পারে। কিছু হলে বলে এটা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি; কোনো ধর্মের সংস্কৃতি না। বাঙালি সংস্কৃতির উৎস কোত্থেকে এলো? এই ভূখন্ডে তো দীর্ঘ আটশ বছর ধরে মুসলমানরাও বাস করে আসছে, তাহলে মুসলমানদের কৃষ্টি কালচারের কোনটাই কেন যোগ হলো না বাঙালি সংস্কৃতিতে?

স্পষ্টত হনুমান, হুতোম প্যাঁচা কাঁধে নিয়ে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে শোভাযাত্রা ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। মুসলমানরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত আর কারো পক্ষেই মঙ্গল-অমঙ্গল বয়ে আনার ক্ষমতা নাই। কেউ আল্লাহ ব্যতিত অন্যকোনো প্রাণীর উপর মঙ্গল-অমঙ্গলে ক্ষমতাধর এ বিশ্বাস রাখলে তার ঈমান থাকবে না।

চৌদ্দশ বছর ধরে দৈনিক পাঁচবার মোয়াজ্জিন মসজিদ হতে "হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ অর্থাৎ নামাজের দিকে আসো, মঙ্গলের বা সফলতার দিকে আসো" বলে আহ্বান করছে। এরপরও কী আমাদের ঘটা করে বর্ষবরণে হুতোম প্যাঁচা, হনুমান আর রাক্ষসদের কাছে মঙ্গল খোঁজার কোনো কারণ আছে?

সচেতন ভাবে সিদ্ধান্ত নিন- আপনি কি আল্লাহর অনুগত অনুসারী হবেন, নাকি হিজবুশ শয়তান বা শয়তানের অনুসারী হবেন।

* শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।*
Nur Al'Umam

#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি
Al'Umam

12/04/2024

ইমাম বুখারী রহ. নিশাপুর থেকে বহিষ্কারের সময় আলেমসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন- তুমি যখন আলেম হবে, ৪ টি বিপদ মনে রেখঃ

১. শত্রুদের হাসি
২. বন্ধুদের তিরস্কার
৩. মূর্খদের গালি
৪. খোদ আলেমসমাজ এর হিংসা

(وابتلى باربع : بشماتة الاعداء، و ملامة الاصدقاء، و طعن الجهلاء، و حسد العلماء)
Nur Al'Umam
#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি

Al Umam ﷺ Academy

11/04/2024
ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এক রাস্তা দিয়ে যেতেন, অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরতেন (সহীহ বুখারী, ৯৮৬)। ইমাম ইবন হাজা...
10/04/2024

ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এক রাস্তা দিয়ে যেতেন, অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরতেন (সহীহ বুখারী, ৯৮৬)।
ইমাম ইবন হাজার আসকালানী এর ১২টি সম্ভাব্য কারণ এনেছেন। একটি হচ্ছে, ইসলামের নিদর্শন ব্যাপকভাবে প্রকাশ করা। ঈদের দিনের একটি আমল হচ্ছে ঈদগাহে যাতায়াতের পথে (ঈদ-উল ফিতরে মৃদুস্বরে এবং ঈদ-উল আযহায় উচ্চস্বরে) তাকবীর পাঠ করা। কল্পনা করুন, মুসলমানরা ঈদগাহে যাচ্ছে। হাজার কণ্ঠের তাকবীরে পুরো জনপদে আল্লাহর বড়ত্বের ধ্বনি গুঞ্জিত হচ্ছে। ইসলামের নিদর্শন প্রচারিত হচ্ছে প্রতিটি অলিগলিতে। একজন মুসলমানের জন্য এরচেয়ে বড় 'ঈদ' আর কী হতে পারে!

الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله الله أكبر الله أكبر ولله الحمد
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله الله أكبر الله أكبر ولله الحمد

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের যাবতীয় নেক আমল কবুল করুন। ঈদ মুবারক।
Nur Al'Umam
#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি #ঈদুল_ফিতর #নূর আল উমাম

বেশি নিয়ামত একসাথে পেয়ে গেলে শুকুর আদায়ে কিছু ঘাটতি তৈরি হয়। এতটি দিন ধরে পড়ে আছি সেই পাক যমিনে, যে শহর একদা আমার নবীকে ...
08/04/2024

বেশি নিয়ামত একসাথে পেয়ে গেলে শুকুর আদায়ে কিছু ঘাটতি তৈরি হয়। এতটি দিন ধরে পড়ে আছি সেই পাক যমিনে, যে শহর একদা আমার নবীকে বুক পেতে আপন করে নিয়েছিল– রোজা এখানে, ইফতার এখানে, এখানে নামাজ, কুরআন ও যিয়ারত– এত নিয়ামতের শুকরিয়া কীভাবে আদায় করতে হয়, তা জানি না। শুধু বলি-
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

প্রয়োজনের তাগিদে মদীনার বহিরাবরণ দিন দিন বদলে যাচ্ছে। রাসূল ﷺ এর সময়ের পুরো মদীনা শহর আজ মসজিদে নববীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। মূল মসজিদ ও চারপাশের চত্ত্বর যতটুকু, রাসূল ﷺ এর সময় এটুকুই ছিল পুরো মদীনা শহরের সীমানা। পশ্চিমে সাকীফা বনু সায়িদা (যেখানে আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বি. এর হাতে প্রথমবার বাই‘আত হয়েছিল) ও পূর্বপাশের জান্নাতুল বাক্বী কবরস্থান সে সময় শহরের বাইরে ছিল। রাসূল ﷺ মদীনায় হিজরত করার পর মসজিদ নির্মাণের জন্য দুই ইয়াতিম ভাইয়ের মালিকানাধীন এই জায়গাটি পছন্দ করেছিলেন। দুই ভাই এই জায়গা উপহার দিতে চাইলেও রাসূল ﷺ দাম না দিয়ে জায়গা নিচ্ছিলেন না। পরে আবু আইয়ুব আনসারী রাদ্বি. জায়গাটি ক্রয় করে রাসূল ﷺ এর কাছে হস্তান্তর করেন। মাত্র ৩৫ মি. দৈর্ঘ্য ও ৩০ মি. প্রস্তের ওপর নির্মিত হয়েছিল ‘ইসলামের ঘর’ মসজিদে নববী শরীফ। বিস্তৃত হতে হতে আজ এটি প্রায় পনের-বিশ লাখ লোকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল মসজিদে পরিণত হয়েছে। আমি মসজিদে নববী হাটি আর বলি-
إنَّ الإِيمانَ لَيَأْرِزُ إلى المدينةِ كَمَا تَأرِزُ الحيَّةُ إلى جُحرِها

বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, নবীর এত কাছে আমি চলে এসেছি। যে চত্ত্বরে সারাক্ষণ হাটছি, সেটি ধরে কত হেটেছেন তিনি। ওই তো ওখানে ছিল আবু বকর রাদ্বি. এর ঘর, আজ এটি মসজিদের ২ নং দরজা। ওপাশে ছিল উসমান ও আব্বাস রাদ্বি. এর ঘর। ওই তো ওখানে, হুজরা শরীফের পাশেই থাকতেন আলী ও ফাতিমা রাদ্বি.। পরে অবশ্য তাঁরা আওয়ালী চলে গিয়েছিলেন। একটু উঁচু করে নির্মিত ওই জায়গাটি ছিল আহলে সুফফার জন্য। ওই তো ওখানে তাওবার সুতুন, ওখানে বসে রাসূল ﷺ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করতেন। ওখানে, মিম্বরের পাশেই কোথাও শায়িত আছে উসতুনে হান্নানাহ। ওপথ দিয়ে হেটে হেটে আযান দিতে ঢুকতেন বিলাল। হয়তো ওখানে কোথাও রাসূলের জুতাজোড়া বুকে জড়িয়ে বসে রইতেন ইবন মাসউদ। উমর রাদ্বি. এর ঘর ছিল একটু দূরে, তবে কত আর দূরে হবে! ২২ নং গেইট দিয়ে ঢুকে কার্পেট সরালেই দেখা যায় আবু তালহা রাদ্বি. এর কূপের চিহ্ন, যেটি তিনি মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। রাসূল ﷺ ওই কূপ থেকে বহুবার পানি খেয়েছেন। কিবলাহ পার হয়ে পশ্চিমদিকে এগুলেই মসজিদে গামামাহ ও মসজিদে আবু বকর, যেখানে রাসূল ﷺ ঈদের নামাজ পড়তেন। বাক্বী পার হয়ে উত্তর-পূর্বদিকে হাটলে আসে মসজিদে ইজাবাহ, যেখানে রাসূল ﷺ দুআ করেছিলেন, যেন তাঁর উম্মাহ গযবের কারণে ধ্বংস না হয়। আমি হাটি, দেখি, বলি-
اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ اللَّهُمَّ وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّهَا وَصَاعِهَا

মসজিদের সীমানার পূর্বপাশে বাক্বী। হাজারো সাহাবা, আহলুল বাইত শায়িত আছেন বাক্বীর কোলজুড়ে। ঢুকতেই ডান দিকে আছেন উম্মাহাতুল মু‘মিনীনের মধ্যে ৯ জন। এরপর রাসূল ﷺ এর ৩ কন্যা সায়্যিদা যায়নাব, রুকাইয়া ও উম্মে কুলছুম রাদ্বি.। একটু ভেতরে সায়্যিদা ফাতিমা ও হাসান রাদ্বি.। বাদিকে রাসূল ﷺ এর ফুফু। সামনে এগুলে পুত্র ইবরাহীম, অন্যান্য আত্মীয়রা। কিছুদুর পরে বাদিকে শুহাদায়ে হাররা, আরেকটু দূরেই উসমান রাদ্বি.। আরও কত হাজার সাহাবা, হিসেব নেই। বাক্বী আসলেই জান্নাত। বাক্বী তো জান্নাত-ই।

শহরের বাইরে গারস কূপ। এই কূপের পানি দিয়ে রাসূল ﷺ এর গোসল দেওয়া হয়েছিল। কুবার চত্ত্বরে খাতাম কূপ, যে কূপের ধারে রাসূল ﷺ পা ঝুলিয়ে বসতেন। এই কূপে উসমান রাদ্বি. এর হাত থেকে রাসূল ﷺ এর সীলমোহরের আংটি পড়ে গিয়েছিল। কূপটি নেই, তবে চিহ্ন আছে। রাসূল ﷺ প্রায়ই মসজিদে কুবায় নামাজ পড়তে আসতেন। মসজিদে কিবলাতাইন দাঁড়িয়ে আছে কিবলাহ পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে। খন্দক যুদ্ধের বীরত্বগাঁথা গেয়ে যাচ্ছে যুদ্ধের কমান্ড সেন্টার মসজিদে রায়াহ। পাশেই মসজিদে ফাতহ, যেখানে খন্দক যুদ্ধের সময় রাসূল ﷺ নামাজ পড়তেন। আমি আমার নবীর কথাগুলো আওড়াই-
إنَّ إبْراهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ ودَعا لأَهْلِها وإنِّي حَرَّمْتُ المَدِينَةَ كما حَرَّمَ إبْراهِيمُ مَكَّةَ

মদীনা থেকে অনেক দূরের পথ বদর। শুহাদায়ে বদরের যিয়ারত করে ফেরার পথে সামনে পড়ে সেই পাহাড়, যেখানে বদরের দিন তিন হাজার ফেরেশতা নাযিল হয়েছিলেন। কি মসৃণ বালুকাময় এই পাহাড়! বদর প্রান্তর থেকে সামান্য আগে মসজিদে আরিশ, যেখানে বদরের দিন রাসূল ﷺ নামাজ পড়েছিলেন। বদরের পথেই পড়ে রাওহা কূপ। যুদ্ধে যাওয়ার পথে ১৪ রামাদান রাসূল ﷺ এই কূপের পাশে অবস্থান করেছিলেন।

তবে মদীনা ও তার আশেপাশে মসজিদে নববীর পর ইসলামের সবচেয়ে বড় স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে নিদর্শন, তা হচ্ছে উহুদ। মসজিদে নববী থেকে চোখ মেললে উহুদ দেখা যায়। যেন কানে ভাসে প্রিয় সে কথাগুলো, “উহুদ আমাদেরকে ভালোবাসে, আমরা তাকে ভালোবাসি।” উহুদ যিন্দা, উহুদ যেন হাত বাড়িয়ে ডাকে! বিশাল উহুদ তার কোলের ভেতর যত্নে আগলে রেখেছে শহীদদের কবরগুলো। ওখানে ঈমান, কিতাল, শাহাদতের নমুনা হয়ে শুয়ে আছেন আল্লাহর সিংহ হামযা রাদ্বি. ও বাকি শুহাদা। সামনে ছোট্ট পাহাড় জাবালে রুমা, উহুদের দিন যেখানে রাসূল ﷺ ৫০ জন তীরন্দাজ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন।

মদীনা যিয়ারতের ফেরিস্ত লিখছি না। লিখে অর্ধেকও শেষ করা যাবে না। দশটি দিন মদীনার বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়েছি, কাঠফাটা রোদে মদীনাকে ঝলমল করতে দেখেছি, আসমান কালো করা বৃষ্টিতে মদীনাকে ভিজতে দেখেছি। আহলে মদীনার আতিথেয়তা পেয়েছি। বুকভরা নিঃশ্বাস সালাত-সালাম হয়ে বেরিয়ে এসেছে রাওদ্বা শরীফের সামনে। বিদায়বেলায় আমি শুধু বলেছি আমার নবীর কথাগুলো-
وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لهمْ لو كَانُوا يَعْلَمُونَ
وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لهمْ لو كَانُوا يَعْلَمُونَ
Nur Al'Umam

#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি
#নূর আল উমাম

টাকা দিয়ে (ফিতরা) সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের দলীল-☞সাহাবিদের যুগের আমল:حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِ...
06/04/2024

টাকা দিয়ে (ফিতরা) সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের দলীল-

☞সাহাবিদের যুগের আমল:

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يَقُولُ: «أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدَّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطَّعَامِ»

অর্থ : হযরত যুহাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা রমজানে সাদাকায়ে ফিতর খাবারের বিনিময়ে টাকা দ্বারা আদায় করতেন। ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭১। এটির সনদ সম্পূর্ণ সহীহ।

☞বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. এর বক্তব:

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «لَا بَأْسَ أَنْ تُعْطِيَ الدَّرَاهِمَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ»

অর্থ : হযরত হাসান বসরী (রহ.) বলেন, টাকা দ্বারা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করার দ্বারা কোন সমস্যা নেই। সহীহ হাদিস। ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭০।

☞২য় ওমর যাকে বলা হয় নেককার পরহেজগার ওমাইয়া খলিফা ও তাবিই হজরত ওমর বিন আব্দুল আজিজের রাহ. নির্দেশ:

عَنْ قُرَّةَ، قَالَ: جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ «نِصْفُ صَاعٍ عَنْ كُلِّ إِنْسَانٍ أَوْ قِيمَتُهُ نِصْفُ دِرْهَمٍ»

কুররা রহঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত উমর বিন আব্দুল আজীজ রহঃ এর ফরমান আসলঃ “প্রত্যেক লোক থেকে আধা সা’ বা অর্ধেক দিরহামের সমমূল্য সদকায়ে ফিতির আদায় করার। সহিহ হাদিস। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৬/৫০৮, বর্ণনা নং-১০৪৭০]

☞ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ বলেন,

لا يشترط إخراج التمر أو الشعير أو البر في زكاة الفطر بل لو أخرج قيمتها مما هو أنفع للفقير جاز لأن المقصد منها إغناء الفقراء عن المسألة وسد حاجتهم في هذا اليوم

খেজুর, গম বা যব দিয়ে সদকায়ে ফিতির আদায় করা আবশ্যক নয়। বরং যদি এর মূল্য দ্বারা আদায় করা হয়, যা গরীবদের জন্য অধিক উপকারী, তবে তা জায়েজ আছে। কেননা, সদকার দ্বারা মূল মাকসাদ হল, গরীবদের দারিদ্রতা দূর করা এবং তার সেদিনের প্রয়োজন পূর্ণ করা। [মাউসূআতু ফিক্বহি সুফিয়ান সাওরী-৪৭৩]

☞ইমাম বুখারী রহ. এর মতে টাকা দ্বারা উত্তম:

ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহ বুখারিতে মুআজ (রা.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।
তিনি ইয়ামেনবাসীকে বলেন, তোমরা সদকার মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে কাপড় নিয়ে আসো। কেননা এটা তোমাদের জন্য অধিকতর সহজ এবং মদিনার সাহাবিগণের জন্যও অধিক উপযোগী। (বুখারি, হাদিস : ১১৪৭)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বলেছেন, টাকা দিয়ে আদায় করা উত্তম। কারণ এটি মানুষের জন্য সহজ এবং উপকারী।

আল্লামা ইবনু রাশিদ (রহ.) বলেন, উক্ত মাসআলাটির মাঝে ইমাম বুখারি (রহ.) হানাফিদের সহমত পোষণ করেছেন। (ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার : ৩/৩১২)

Nur Al'Umam
#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি
#ফিতরাহ #ফিতরা #রমজান
#নূর আল উমাম ﷺ একাডেমি

বাইতুল মুকাদ্দাসের পূর্বকোণে ছোট্ট একটি হুজরায় আল্লাহর ইবাদাতে নিবদ্ধ থাকেন কিশোরী মারইয়াম বিনত ইমরান। নবী যাকারিয়া (আ.)...
02/04/2024

বাইতুল মুকাদ্দাসের পূর্বকোণে ছোট্ট একটি হুজরায় আল্লাহর ইবাদাতে নিবদ্ধ থাকেন কিশোরী মারইয়াম বিনত ইমরান। নবী যাকারিয়া (আ.) মারইয়ামের অভিভাবক ও মুর্শিদ। সম্পর্কে তিনি মারইয়ামের খালু। মারইয়াম প্রায়ই তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, মাসীহ কবে আসবেন? তাওরাতের বর্ণনা মতে, মাসীহ আগমনের সময় হয়ে গেছে। যাকারিয়া নিজেও মাসীহ’র জন্য অপেক্ষমাণ। একদা মারইয়ামের সামনে এসে দাঁড়ালেন খোদার বার্তাবাহক জিবরীল। বললেন, “মারইয়াম, আল্লাহ তোমাকে একটি সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে মাসীহ।” মারইয়াম অবাক! আমার তো বিয়েই হয়নি! সন্তান কীভাবে হবে? জিবরীল বললেন, এভাবেই হবে। আল্লাহ এই সন্তানকে বিশ্ববাসীর জন্য একটি নিদর্শন বানাবেন।

আল্লাহর কুদরতে মারইয়াম গর্ভবতী হলেন। কাকে কী বুঝাবেন, বুঝতে না পেরে ইয়ারুশালেম ছেড়ে বেথলেহেম চলে গেলেন। জন্ম দিলেন এক পুত্র সন্তান, ঈসা ইবন মারইয়াম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রাব্বুল আলামীন সেই অলৌকিক জন্মকে সালামের দ্বারা মহিমান্বিত করলেন। কুরআন শরীফে উল্লেখিত হয়েছে সেই কথা-
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
“(ঈসা বললেন) আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন আমি পুনর্জীবিত হব।” (সুরা মারইয়াম, ৩৩)

দ্বীনি দাওয়াতের পথে তিনি দুনিয়ালোভী মিথ্যুক ইহুদি উলামার চরম বিরোধিতা সহ্য করেছেন। যে বনী ইসরাইলের জন্য তিনি রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন, সেই বনী ইসরাইল তাঁর জন্ম নিয়ে কটুক্তি করেছে, তাঁকে যাদুকর বলেছে, মুরতাদ বলেছে। ইহুদিদের সাথে মিলে তাঁর নিজের সঙ্গী জুডাস ইস্কেরিয়ট তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ওরা তাঁকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করতে চেয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছেন এবং জীবিত আসমানে তুলে নিয়েছেন। তবে ইহুদিদের যুলমের চেয়ে বড় যুলম তাঁকে সহ্য করতে হচ্ছে এমন মানুষদের কাছ থেকে, যারা নিজেদেরকে তাঁর অনুসারী তথা খ্রিস্টান বলে দাবী করে। এই মূর্খরা তাঁকে ‘আল্লাহর পুত্র’ বানিয়ে দিয়েছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে জঘন্য শিরক চলছে তাঁকে কেন্দ্র করে। তবে তিনি এসব শিরক থেকে মুক্ত, তিনি পাক-পবিত্র, তিনি ঈসা, তিনি মাসীহ, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত, তিনি আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রাসূল। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আজ ২৫ ডিসেম্বর। তাঁর মূর্খ অনুসারীরা আজ তাঁর জন্মদিন পালন করেছে। আমরা জানি না, আজ তাঁর জন্মদিন কিনা। তবে যেদিনই তাঁর জন্মদিবস হোক, আমরা তাঁর প্রতি সালাম জানাই৷ তিনি আমাদের প্রিয় নবী সায়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আগমনের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। তিনি কিয়ামতের পূর্বে আবার পৃথিবীতে আসবেন। জাফরানি রঙের দু'টুকরো কাপড় পরে দামেস্কের কেন্দ্রীয় মসজিদের পূর্বপাশের মিনারে অবতীর্ণ হবেন। উম্মাতে মুহাম্মাদীর নেতৃত্ব দেবেন। দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং পুরো পৃথিবীজুড়ে ‘আল-খিলাফাতু আলা মিনহাজিন নুবুয়্যাহ’ প্রতিষ্ঠিত করবেন। তাঁর দ্বারা আমাদের নবী ﷺ এর لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ এর মিশন সমাপ্ত হবে। তিনি ঈসা, তিনি মাসীহ, তিনি সিদ্দীক। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনি, তাঁকে নবী বলে বিশ্বাস করি, তাঁকে হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি।

আমাদের প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন-
مَنْ شَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنَ الْعَمَلِ
“যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং (ঈসা) আল্লাহর সেই কালিমা, যা তিনি মারইয়ামকে পৌঁছিয়েছেন এবং তাঁর নিকট হতে একটি রূহ এবং (সাক্ষ্য দেবে) জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ্‌ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
Nur Al'Umam
#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি #নূর আল উমাম ﷺ একাডেমি

লাইলাতুল কদর : পরম করুনাময়ের পরম উপহারলাইলাতুল কদর অর্থ মহিমান্বিত রাত। এই রাতের মর্যাদার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, এই এক র...
31/03/2024

লাইলাতুল কদর : পরম করুনাময়ের পরম উপহার

লাইলাতুল কদর অর্থ মহিমান্বিত রাত। এই রাতের মর্যাদার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, এই এক রাতের ব্যাপারে কুরআনে পুরো এক সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। আরেকটি অর্থ হচ্ছে ভাগ্যের রাত। কারণ এই রাতে ফেরেশতাগণ এবং খোদ জিবরীল (আ.) সৃষ্টিজগতের প্রতি পরের বছরের জন্য আল্লাহর আদেশ নিয়ে অবতীর্ণ হন।

লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম— এ কথাটির দ্বারা আক্ষরিক অর্থে হাজার মাস হতে পারে। আবার অগণিত মাস ও যুগ হতে পারে। আরবি ভাষায় সত্তুর, এক হাজার, সত্তুর হাজার প্রমুখ পরিভাষা অসংখ্য-অগণিত অর্থেও ব্যবহৃত হয়। পূর্ববর্তী জাতি দীর্ঘ হায়াত পেত বলে বেশি আমল করতে পার‍ত। আমরা এত হায়াত পাই না। রাসূল ﷺ বলেছেন, “আমার উম্মাতের গড় আয়ু ষাট থেকে সত্তুর বছর। খুব কম মানুষ এই আয়ু অতিক্রম কর‍বে” (ইবন মাজাহ, ৪২৩৬)। তাই রব আমাদেরকে এই রাত দিয়েছেন। এই এক রাতের ইবাদত কমপক্ষে এক হাজার মাসের অনবরত ইবাদতের চেয়ে বেশি, যা লাইলাতুল কদরবিহীন একশ বছরেও সম্ভব নয়।

কদরের রাত কোনটি, এ ব্যাপারে এত বেশি মতামত আছে যে, এগুলো জমা করে আলাদা এক নিবন্ধ লেখা যাবে। সংক্ষেপে বললে, রামাদান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
“রামাদান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।” (সহীহ বুখারী, ২০১৭)

বলা যায়, রামাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে কদর হওয়ার ব্যাপারে উম্মাতের ইজমা রয়েছে। তবে কোন বিজোড় রাত, তা নিয়ে মতানৈক্য আছে। ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ প্রত্যেক রাতের ব্যাপারে সাহাবিদের মত, এমনকি হাদীসও রয়েছে। ইমাম ইবন হাজার বলেছেন, এই রাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ থেকে বুঝা যায় এটি রামাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতের মধ্যে স্থানান্তরিত হয় (ফাতহুল বারি, ৪/২৬৬)। ইমাম নববীর মতেও এটি রামাদান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতের মধ্যে স্থানান্তরিত (Move) হয়। অর্থাৎ প্রতি বছর কদর একই রাতে নাও আসতে পারে।

আমভাবে রামাদানের ২৭তম রাতকে লাইলাতুল কদর গণ্য করা হয়। এ মতটিও যথেষ্ট শক্তিশালী। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
مَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ
“যে (কদরের) সন্ধান চায়, সে যেন ২৭তম রাতে এটি তালাশ করে।” (মুসনাদে আহমদ, ৪৮০৮)
উবাই ইবন কা‘ব (রা.) বলেছেন, “আল্লাহর কসম, আমি কদরের রাতটি জানি। রাসূল ﷺ আমাদেরকে এই রাতে জেগে ইবাদত করতে বলেছেন। এটি হচ্ছে ২৭তম রাত।” (সহীহ মুসলিম, ৭৬২)

রাসূল ﷺ বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে কদরের রাত সম্পর্কে জানাতে এসেছিলাম। অমুক অমুক ব্যক্তি ঝগড়ায় লিপ্ত থাকায় আল্লাহ এ সংবাদ উঠিয়ে নিয়েছেন। সম্ভবত এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ আছে। তোমরা রামাদানের ২৭, ২৯ ও ২৫তম রাতে তালাশ করো” (সহীহ বুখারী, ৪৯)। প্রশ্ন আসে, আল্লাহ কেন এই রাত নির্দিষ্ট করে জানাননি? কারণ এতে বড় হিকমাত রয়েছে। প্রথমত, অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহ কিছুটা গোপন রাখেন। যেমন, কিয়ামতের দিনক্ষণ, আল্লাহর ইসমে আ‘জম, জুমআর দিনে দুআ কবুলের মূহুর্ত। প্রতিটি বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে। কদরের রাতও এরকম। আল্লাহ চান, তাঁর বান্দার অনুসন্ধিৎসা ও আকর্ষণ সৃষ্টি হোক। দ্বিতীয়ত, কদরের রাত একদম নির্দিষ্ট হলে বাকি রাতগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিতাম না। তৃতীয়ত, যদি কদরের রাত একদম নির্দিষ্ট হতো, আর কেউ রাতটি নষ্ট করত বা গোনাহ করত, তাইলে আফসোসের সীমা থাকত না। তাই এই রাতকে কিছুটা আড়াল করে রাখা আল্লাহর অপার মেহেরবানি।

শেষ প্রশ্ন, এই রাতে আমরা কী করব? মূলত এই রাতকে তালাশ করা ও কাজে লাগানোর শ্রেষ্ঠ পন্থা ইতিকাফ। রাসূল ﷺ কখনও ইতিকাফ ছাড়েননি। যদি কেউ ইতিকাফ নাও করেন, তাঁর জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো উপকারী হবে।

এক. এই রাতের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, উত্তম পোশাক পরিধান ও খুশবু ব্যবহার করা। আনাস (রা.) ও ইমাম ইবরাহীম নাখয়ীসহ বহু সাহাবা ও তাবিয়ীন এই আমল করতেন। এ রাতে ফেরেশতারা নাযিল হন এবং তাঁরা পাক-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য পছন্দ করেন।

দুই. ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা। রাসূল ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইশা ও ফজর জামাতে আদায় করল, সে যেন সারারাত কিয়ামুল লাইলে কাটালো।” (আবু দাউদ, ৫৫৫)
তারাবীর নামাজ শেষপর্যন্ত ইমামের সাথে আদায় করলেও এই সাওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিযী, ৮০৬)

তিন. রাতের বড় অংশ কিয়ামুল লাইলে ব্যয় করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং প্রতিদানের আশা নিয়ে লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

চার. গোনাহ মাফের জন্য তাওবা ও দুআ করা। কদরের রাতের জন্য রাসূল ﷺ বিশেষ দুআ শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি হচ্ছে-
اللَّهُمَّ إنَّكَ عَفُوٌ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنّي
“হে আল্লাহ, তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমাকে তুমি পছন্দ করো। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও।” (তিরমিযী, ৩৫১৩)

পাঁচ. কুরআন তিলাওয়াত ও দান-সাদকাহ। রামাদানে অত্যাধিক তিলাওয়াত ও দান-সাদকাহ স্বয়ং রাসূল ﷺ ও সাহাবায়ে কিরাম থেকে প্রমাণিত। সেইসাথে যিকর, তাসবীহ, দুরূদ ও মোনাজাত।

একটি লাইলাতুল কদর আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের হিসেব বদলে দিতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلَّهُ وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا مَحْرُومٌ
“যে ব্যক্তি এই রাত থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। কেবল হতভাগা ব্যতীত কেউ এই রাত থেকে বঞ্চিত হয় না।” (ইবন মাজাহ, ১৬৪৪)

লাইলাতুল কদরের দুআয় আমাকে স্মরণ রাখবেন। ‘রামাদানের হিকমাত’ সিরিজ এখানে সমাপ্ত। রামাদান কারীম।।
Nur Al'Umam

#নূর_আল_উমাম_ﷺ_একাডেমি
#নূর_আল_উমাম_ﷺ_অরগানাইজেশন
#লাইলাতুল ক্বদর #নূর আল উমাম ﷺ একাডেমি

Address

Nabinagar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nur Al'Umam ﷺ Organisation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Nur Al'Umam ﷺ Organisation:

Share