15/09/2026
জি ভাই আপনাকে বলছি -
আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন এবং ক্ষুব্ধ হৃদয় নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। সমাজসেবা, শিক্ষা এবং দ্বীনের খিদমতে যিনি আজীবন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন—
আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ডা. মোঃ মতিউর রহমান ভূঁইয়া সাহেব, এবং তাঁর মরহুম পিতা, রায়ের বাজারের (বর্তমান আঠারোবাড়ি বাজার) প্রখ্যাত সততা ও মানবতার প্রতীক মরহুম আছির উদ্দিন ভূঁইয়া সাহেবের
[আপনার দাদার পিতা অথবা তৎকালীন ময়মনসিংহ মহকুমা প্রশাসন চলাকালীন সময়ে যদি কেউ বেঁচে থাকেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে নিবেন জনাব আছির উদ্দিন ভূঁইয়া কে ছিলেন ]
বিরুদ্ধে সম্প্রতি কিছু মানুষ অত্যন্ত নিচু, নোংরা ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং কুরুচিপূর্ণ কটূক্তি করেছে।
এই জঘন্য ঘটনা শুধু দুটি পবিত্র নামের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ, মুরুব্বিদের প্রতি সম্মান এবং ইসলামি সংস্কৃতির ওপর এক চরম কুঠারাঘাত।ইসলাম আমাদের স্পষ্ট ভাষায় শিখিয়েছে মানুষের সম্মান রক্ষা করতে এবং জিহ্বাকে সংযত রাখতে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:“পূর্ণ মুমিন কখনো লানতকারী, গালিবাজ, অশ্লীলভাষী ও কটুভাষী হতে পারে না।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ১৯৭৭)
ডা. মোঃ মতিউর রহমান ভূঁইয়া একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, শিক্ষানুরাগী এবং দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম। তিনি যখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান (প্যাথলজি) এবং ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন তিনি শুধু চাকরি করেননি; বরং নিজের মেধা ও উজাড় করা ভালোবাসা দিয়ে আজকের চিকিৎসা জগতের হাজার হাজার সুযোগ্য ছাত্র-ছাত্রী (ডাক্তার) তৈরি করেছেন। আজ দেশের আনাচে-কানাচে যে হাজার হাজার ডাক্তার লাখো মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন, চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন—তারা সবাই ডা. সাহেবের হাতে গড়া সুযোগ্য সন্তানতুল্য ছাত্র।
রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা আমি এখানে নাইবা বললাম।
যিনি ‘জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসা ও এতিমখানা’র মতো পবিত্র দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন, অসহায় এতিম শিশুদের মুখে অন্ন ও শিক্ষা তুলে দিচ্ছেন, এবং
‘ডা. মতিউর রহমান ভুইয়া উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করে অবহেলিত সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন—তাঁর মতো একজন সাদা মনের মানুষের বিরুদ্ধে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ উচ্চারণ করা কতটা জঘন্য অপরাধ, তা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা কোনো ভদ্র মানুষের নেই।
আরও বড় কষ্টের বিষয় হলো, যিনি আজ দুনিয়ায় নেই, যিনি জীবদ্দশায় মেসার্স ভূঁইয়া ক্লথ স্টোরের মাধ্যমে একজন সৎ, ধর্মপ্রাণ, মানবতাপ্রেমী এবং সফল ব্যবসায়ী হিসেবে মানুষের সেবা করে গেছেন—সেই পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব মরহুম আছির উদ্দিন ভূঁইয়া সাহেবকে নিয়েও নোংরা কথা বলা হয়েছে। ইসলামে মৃত মানুষের সম্মানহানি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:“তোমরা মৃতদের গালমন্দ করো না, কারণ তারা যা আমল করেছে তার ফলাফলের কাছে পৌঁছে গেছে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ১৩৯৩)
যারা মুখে ভদ্রতার কথা বলে বা মুসলিম সমাজে বাস করে অন্য ভাইয়ের সম্মানহানি করে, তাদের মনে রাখা উচিত—কারো সম্মান নিয়ে টানাটানি করা কতটা ভয়াবহ পাপ। যে মুখ দিয়ে পবিত্র আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, সেই মুখ দিয়ে কীভাবে একজন সম্মানিত চিকিৎসক, শিক্ষাগুরু, সমাজসেবক ও তাঁর পরলোকগত পিতার নামে এত জঘন্য গালি বের হতে পারে?
আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে ইসলাম আমাদের ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। আমরা আল্লাহর দরবারে এই অন্যায়ের বিচারপ্রার্থী।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” যারা ডা. সাহেব এবং তাঁর পিতার আত্মাকে কষ্ট দিয়েছে, আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুন।
আর যদি তাদের কপালে হেদায়েত না থাকে, তবে আল্লাহ যেন দুনিয়া ও আখিরাতে এর উপযুক্ত বিচার করেন।
আসুন, আমরা গালি ও নোংরামির জবাব কাদা ছোড়াছুড়ি দিয়ে না দিয়ে, ইসলামি সংস্কৃতির সৌন্দর্য, ধৈর্য এবং সততা দিয়ে দিই।
আল্লাহ আমাদের সমাজকে এই মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করুন। আমিন।