21/01/2026
🌼 আগামি প্রভাতে শুরু হচ্ছে অমৃতময় মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান 🌼
আজ অধিবাস
হে শ্রীকৃষ্ণের চরণাশ্রিত সুধী ভক্তবৃন্দ,
কলিযুগের ঘোর অন্ধকারে যে একমাত্র প্রদীপ মানবহৃদয় আলোকিত করে, সে হলো হরিনাম। নাম সংকীর্তনই এই যুগের একমাত্র ধর্ম, একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র মুক্তির পথ। সকল মন্ত্রের শিরোমণি— ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে’— এই মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনে চিত্তের সমস্ত মলিনতা দূরীভূত হয়, হৃদয়ে প্রস্ফুটিত হয় ভক্তির নির্মল পদ্ম।
হরিনাম কীর্তনের মাধ্যমে জীব ভগবানের সাক্ষাৎ সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবর্ষি নারদকে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন—
“আমি বৈকুণ্ঠে থাকি না, যোগীদের হৃদয়েও থাকি না; যেখানে আমার ভক্তরা প্রেমভরে আমার নাম কীর্তন করে, আমি সেখানেই সদা অবস্থান করি।”
অতএব যিনি শ্রবণ ও কীর্তনে রত, তাঁর উদ্ধারে কোনো সংশয় নেই। এই নামের প্রভাবেই সমগ্র জগৎ নিস্তার লাভ করতে পারে।
এই মহামন্ত্রে কোনো জাগতিক প্রার্থনা নেই, নেই ভোগ বা ঐশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষা— তবুও এর অন্তঃস্থলে রয়েছে পরম আসক্তিতে ভরপুর সর্বরসের মধুর উদ্দীপনা। যখন ভক্তির বন্ধনে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে একাত্ম হয়, তখনই এই দিব্যনাম হৃদয়ে প্রকাশিত হয়। নিরন্তর নামস্মরণই ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ আরাধনা, সর্বোচ্চ সাধনা।
আজকের মানবসমাজ যুগধর্ম বিস্মৃত হয়ে অনাচার, কুসংস্কার, ভোগ-বিলাস ও বিত্তমোহের অন্ধকারে নিমজ্জিত। মানবতা, করুণা ও কৃষ্ণভক্তি ক্রমেই বিলুপ্তপ্রায়। এই তমসাচ্ছন্ন মানবকুলের কল্যাণে, দেশমাতৃকার মঙ্গল ও বিশ্বশান্তির সংকল্পে
শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পবিত্র উদ্যোগে,
৫৬ প্রহর মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে
৮৩তম বার্ষিক ৫৬ প্রহরব্যাপী অখণ্ড শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন।
ভক্তবৃন্দের পদধূলিতে কীর্তনাঙ্গিনা হয়ে উঠুক বৃন্দাবনের প্রতিচ্ছবি,
নামরসে প্লাবিত হোক প্রতিটি হৃদয়,
আর প্রেমভরে ধ্বনিত হোক— হরি হরি ধ্বনি।
শুভানুষ্ঠানিকা অনুযায়ী এই সনাতনী মহাযজ্ঞের প্রতিটি পর্বে আপনার সপরিবার ও সবান্ধব উপস্থিতি, একাগ্র শ্রবণ-কীর্তন ও ঐকান্তিক সহানুভূতিতে সার্থক ও পূর্ণতা পাক আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
🙏 জয় শ্রীকৃষ্ণ
🌸 হরিনামেই মুক্তি, হরিনামেই শান্তি 🌸