মারকাযুল খিদমাহ আল-ইসলামিয়্যাহ

মারকাযুল খিদমাহ আল-ইসলামিয়্যাহ শিক্ষা, দা'ওয়াহ ও সেবার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে তাবলীগ ও তাগলীবে দ্বীনই লক্ষ্য ৷

৮ম শ্রেণি পাস বা হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্যবিশেষ শর্টকোর্স!মাত্র ৩ বছরে বিশেষ জামাত থেকে শরহে বেকায়া জামাত সম্পন্ন করার স...
30/03/2026

৮ম শ্রেণি পাস বা হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্য
বিশেষ শর্টকোর্স!

মাত্র ৩ বছরে বিশেষ জামাত থেকে শরহে বেকায়া জামাত সম্পন্ন করার সুযোগ ও বেফাক বোর্ডের সনদ অর্জনের সুব্যবস্থা।

বিস্তারিত ↓

ভর্তি চলছে!পুরোটা দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন!
24/03/2026

ভর্তি চলছে!
পুরোটা দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন!

ভর্তি বিজ্ঞপ্তি!পুরোটা দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন!
24/03/2026

ভর্তি বিজ্ঞপ্তি!
পুরোটা দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন!

ডিসেম্বরে ভর্তিতে ২৫% ছাড়!আর মাত্র ৫ দিন!নতুন বছরের ভর্তিতে এক চতুর্থাংশ ছাড় চলছে!৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন কর...
26/12/2025

ডিসেম্বরে ভর্তিতে ২৫% ছাড়!
আর মাত্র ৫ দিন!

নতুন বছরের ভর্তিতে এক চতুর্থাংশ ছাড় চলছে!
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করলেই পাচ্ছেন ২৫% ছাড়!

সেরা মানের শিক্ষা অর্জনে
বিলম্ব না করে
আপনার সন্তানকে আজ‌ই ভর্তি করে দিন
আল-খিদমাহ মাদ্রাসা এন্ড স্কুলে...

যোগাযোগ: 01930-308098

এক প্রতিষ্ঠানেই মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষা ইংলিশ ও এরাবিক মিডিয়াম
26/11/2025

এক প্রতিষ্ঠানেই মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষা
ইংলিশ ও এরাবিক মিডিয়াম

28/10/2025

⭕ "আরেকজনের ইসলাহের জন্য নিজে জাহান্নামে যেও না"
-উসতাযে মুহতারাম মাওলানা যাইনুল আবিদীন হাফিযাহুল্লাহ

*তারবিয়ত বনাম শাসন, প্রহার ও শাস্তিদান বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা সংগ্রহ :
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1534586336959652&id=100012249007790

শাস্তিদানে মাত্রাজ্ঞান
মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম
http://www.alkawsar.com/article/1719

সন্তানের শিক্ষায় অতিউৎসাহও নয় বাঞ্ছনীয়
মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম
http://www.alkawsar.com/article/1737

শাসনের নীতি
মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ
http://www.alkawsar.com/article/680/print

শাসন ও প্রহার ~ সাবের চৌধুরী
https://www.facebook.com/groups/2025218824263486/permalink/2131603356958365/
লিংক কাজ না করলেও লেখাটা যুক্ত করা আছে

সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে বহুল-সংঘটিত ২০টি ভুল
https://m.facebook.com/IslamicOnlineMedia/posts/864607100308069

বাচ্চাদের শাসন করার শর‘ঈ পদ্ধতি ও বাচ্চাদের সাথে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত
https://www.facebook.com/252319372024448/posts/858926764697036/?sfnsn=mo

নম্রতা ও কোমলতা - মাসিক আলকাউসার
https://www.alkawsar.com/bn/article/76/

ফলপ্রসূ শাস্তি
https://www.alkawsar.com/bn/article/1615/

সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষা : পিতা- মাতার আকুলতা ও ব্যাকুলতা
http://www.alkawsar.com/article/1684

তারবিয়ত ও লালন-পালন | মাসিক আলকাউসার
http://www.alkawsar.com/topic/67

শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা : কঠোরতা নয়, কোমলতাই আসল পন্থা
»» http://www.alkawsar.com/article/588

সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষা সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি
»» http://www.alkawsar.com/article/1412

সন্তানের শিক্ষায় অতিউৎসাহও নয় বাঞ্ছনীয়
»» http://www.alkawsar.com/article/1737

তারবিয়াত বা শাসন
-----------------------------
https://www.facebook.com/groups/2025218824263486/permalink/2044130889038946/

ছাত্রকে বেত বা লাঠি দিয়ে মারার বিষয়ে দেওবন্দের ফতোয়া
https://www.ourislam24.com/2021/03/15/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/

ইসলামের দৃষ্টিতে শাসনের পদ্ধতি ও আদব
https://www.ourislam24.com/2021/03/13/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-2/

⭕ "আরেকজনের ইসলাহের জন্য নিজে জাহান্নামে যেও না"
-উসতাযে মুহতারাম মাওলানা যাইনুল আবিদীন হাফিযাহুল্লাহ

আমার দায়িত্ব কেবল ভদ্রতার সাথে এবং শরীয়তের গণ্ডি ও উসূলের ভেতর থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, এরপর আল্লাহর হাওয়ালা। কারণ :
﴿إِنَّكَ لَا تَهۡدِی مَنۡ أَحۡبَبۡتَ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ یَهۡدِی مَن یَشَاۤءُۚ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِینَ﴾ [القصص ٥٦]

فَذَكِّرۡ إِنَّمَاۤ أَنتَ مُذَكِّرࣱ ۝٢١ لَّسۡتَ عَلَیۡهِم بِمُصَیۡطِرٍ ۝٢٢ [الغاشية ٢١،٢٢]
============

ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে শাস্তি বা বেত্রাঘাত দেওয়া, বিশেষত তাযীর (শিক্ষামূলক শাস্তি) হিসেবে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর বিষয় এবং ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে শর্তসাপেক্ষ বিষয়। ইসলামী আইনজ্ঞ ও ফুকাহায়ে কিরাম এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন এবং কঠোর নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন।

নিচে রেফারেন্সসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. তাযীরের ধারণা ও শিক্ষকের অবস্থান:
তাযীর (تَعْزِير) হলো এমন শাস্তি যা শরীয়ত কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত নয় (যেমন: হদ বা ক্বিসাস), বরং অপরাধের গুরুত্ব ও অপরাধীর অবস্থা অনুযায়ী শাসক বা বিচারক নির্ধারণ করে থাকেন। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, শিক্ষা ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে অভিভাবক (পিতা-মাতা) এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষক এই ধরনের মৃদু শাস্তি প্রয়োগের অনুমতি রাখেন।
শিক্ষকের ভূমিকা: ইসলামে শিক্ষককে শিক্ষার্থীর জন্য পিতৃতুল্য মনে করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আমি তোমাদের জন্য পিতার মতো, আমি তোমাদের শিক্ষা দিই..."
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৮)
শিক্ষক শুধু জ্ঞান দেন না, বরং শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

২. তাযীর হিসেবে শাস্তির ভিত্তি (প্রহারের অনুমতি ও শর্তাবলী):
শিক্ষকের হাতে মৃদু প্রহারের অনুমতি থাকার মূল ভিত্তি হলো একটি বিখ্যাত হাদিস, যা মূলত সন্তানের অভিভাবকের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে:
হাদিস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে উপনীত হলে নামাজের নির্দেশ দাও এবং তাদের বয়স দশ বছর হলে তাদের (নামাজের জন্য) প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।"
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইসলামী আইনজ্ঞরা (ফুকাহায়ে কিরাম) শিক্ষকের জন্য তাযীর হিসেবে মৃদু প্রহারের বৈধতা দেন। *তবে এই বৈধতা দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত কঠোর শর্ত ও সীমা আরোপ করে:*

ক. উদ্দেশ্য হবে সংশোধন, ক্রোধ নয়:
শিক্ষকের শাস্তির একমাত্র উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীর সংশোধন এবং শিক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টি করা। ব্যক্তিগত রাগ, ক্ষোভ বা হিংসার বশবর্তী হয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
"সর্বাবস্থায় শাস্তির উদ্দেশ্য থাকবে শিক্ষার্থীকে সংশোধন করা, ব্যক্তিগত ক্রোধ বা হিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো নয়।"
(আল-মাওসূ'আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ৪৫/১৭০)

খ. প্রহারের আগে ধাপসমূহ:
প্রহারকে চূড়ান্ত অবস্থা ব্যতীত কোনোভাবেই বেছে নেওয়া যাবে না। প্রথমে অবশ্যই নরম পন্থা অবলম্বন করতে হবে:
১. বোঝানো/উপদেশ (وعظ): প্রথমে সুন্দরভাবে বোঝাতে হবে।
২. তিরস্কার/ভর্ৎসনা (هجر): এরপরও সংশোধন না হলে মৃদু তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করতে হবে।
৩. শাস্তির ভয় দেখানো: প্রয়োজনে শাস্তির ভয় দেখাতে হবে।
৪. মৃদু প্রহার: এতেও কাজ না হলে সর্বশেষ পন্থা হিসেবে মৃদু প্রহার করা যেতে পারে।
(বিন বায, মাজমূ' ফাতাওয়া ৬/৪০৩; ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত ৭/৫০০)

গ. প্রহারের ক্ষেত্রে ফিকহী নীতিমালা:
শরীয়ত প্রহারের ব্যাপারে কঠোর সীমারেখা নির্ধারণ করেছে:

বয়সসীমা :
সাত বছর বয়স তথা শাসন বোঝার মতো বয়স হওয়ার আগে কোনো কঠোর ব্যবহার বা প্রহার নয়। প্রহার কেবল দশ বছর অতিক্রম করার পর প্রযোজ্য।সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫

আঘাতের সংখ্যা :
একবারে তিনের বেশি প্রহার করা যাবে না।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তুমি তিনের বেশি আঘাত করা থেকে বিরত থাকো। তুমি যদি তিনের বেশি প্রহার করো, তবে আল্লাহ তোমার কাছ থেকে হিসাব নেবেন।" (তাজরিদু আসমায়িস-সাহাবাতি: ২/৬৯)

আঘাতের স্থান :
মাথা, চেহারা, বুক, পেট বা শরীরের অন্য কোনো স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মুখে মারা রাসূল (সা.) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।(আল-মাওসূ'আতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৪৫/১৭০)

আঘাতের ধরণ :
প্রহার এমনভাবে করতে হবে যাতে ক্ষত বা দাগ না পড়ে এবং হাড়ে আঘাত না লাগে। অর্থাৎ, তা হবে মৃদু প্রহার।(ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ৭/৫০১)

উপকরণ :
অনেক ফকীহ হাত দ্বারা শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন, এবং লাঠি বা বেত ইত্যাদি দ্বারা শাস্তি না দিতে বলেছেন, কেননা বেতের ব্যবহার সাধারণত হদ-এর জন্য অনুমোদিত। তবে কেউ কেউ সরু ও হালকা বেতের ব্যবহারেরও অনুমতি দিয়েছেন, যা যেন কোনো আঘাতের চিহ্ন না ফেলে।(ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ৭/৫০০-৫০১)

অভিভাবকের অনুমতি :
যদি শিক্ষার্থীর অভিভাবক অথবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোনো শিক্ষার্থীকে প্রহার করতে নিষেধ করে, তবে সেই শর্ত সাপেক্ষে প্রহারের কোনো অনুমতি নেই।(ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ৭/৫০১)

৩. কঠোরতার কুফল সম্পর্কে সতর্কবাণী:
অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ অতিরিক্ত কঠোরতা ও প্রহারের কুফল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
ইবনে খালদুন (রহ.) বলেন:
"সেবক ও শিক্ষকদের মধ্যে কঠোরভাবে লালন-পালন করলে ছাত্রদের মনও কঠোর ও রূঢ় হয়ে পড়ে। অতঃপর অলসতা ও মিথ্যা বলার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এমনিভাবে প্রাথমিক অবস্থায় কঠোরতা ও রূঢ়তার ফলে ধীরে ধীরে একটি জাতির মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।"
(মুকাদ্দিমাতু ইবনে খালদুন)
আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) প্রহারের পরিবর্তে উত্তম আচরণ ও চরিত্র গঠনের প্রতি জোর দিয়েছেন।

আধুনিক সময়ে, শারীরিক ও মানসিক শাস্তির নেতিবাচক প্রভাব সুপ্রমাণিত হওয়ায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সীমা অতিক্রম করার কারণে, অনেক ফিকহী পরিষদ ও ইসলামী পণ্ডিত তাযীর হিসেবেও বেত্রাঘাত সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে বিকল্প শিক্ষামূলক কৌশল (যেমন: তিরস্কার, সাময়িক বহিষ্কার, বা বিশেষ দায়িত্ব প্রদান) অবলম্বনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, এটিই রাসূল (সা.)-এর সাধারণ কোমল আচরণের নীতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

*গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:*
* অনেকে মনে করেন, শিশুদের উপর শারীরিক শাস্তি প্রয়োগ করা বান্দার হকের সাথে সম্পর্কিত, যা তওবা দ্বারা মাফ হয় না, বরং শিশুর কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। আর নাবালেগ শিশুর ক্ষমা গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এটি একটি মারাত্মক ভয়াবহ অপরাধ।
* বর্তমানে অনেক ইসলামী আইনজ্ঞ ও আলেম বেত্রাঘাতের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে প্রহারমুক্ত অন্য পন্থা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন, কারণ মাত্রাতিরিক্ত শাস্তি হিতে বিপরীত ফল আনে এবং শিক্ষার্থীর পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হতে পারে।

সারসংক্ষেপ: ইসলামে শিক্ষকের প্রধান কর্তব্য হলো স্নেহ ও মমতা দিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তাযীর হিসেবে মৃদু ও শিক্ষামূলক শাস্তি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, তা কঠোর শর্তসাপেক্ষে এবং কেবলই সংশোধনের শেষ উপায় হিসেবে সীমিত। অধিকাংশ ইসলামী আইনজ্ঞরা প্রহারের পরিবর্তে অন্য শিক্ষামূলক শাস্তির পদ্ধতি অবলম্বনকে উৎসাহিত করেন। আধুনিক সময়ে, অনেক মুসলিম পণ্ডিত ও কর্তৃপক্ষ শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণরূপে পরিহারের পক্ষে মত দেন।

সংগৃহীত

=================

নম্রতা ও কোমলতা - মাসিক আলকাউসার

নম্রতা ও কোমলতা
ইবনে নসীব

মনে করা হয়, রুক্ষতা ও কঠোরতা তারবিয়তের পক্ষে সহায়ক। কিন্তু তা ঠিক নয়। কঠোরতার দ্বারা শিশু-কিশোরদের স্তব্ধ করে দেওয়া যায়, একে তারবিয়ত বলে না। প্রকৃত অর্থে তারবিয়ত হচ্ছে শিশুর প্রতিভাগুলোকে বিকশিত হতে সাহায্য করা। মানুষের প্রতিভাগুলো অতি নাযুক ও সংবেদনশীল। সদ্য অঙ্কুরিত চারা গাছের মতোই কোমল। এর পূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন খোলা আকাশের আলো আর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা। আলোহীন বদ্ধ ঘরে চারাগাছ যেভাবে হলদে হয়ে শুকিয়ে যায় সেভাবে স্তব্ধ মানসের মধ্যেও প্রতিভাগুলো শুকিয়ে যায়। তাই শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত মানসিক বিকাশের জন্য তারবিয়তকারীর কোমল আচরণ অতি প্রয়োজন।

শুধু শিশু-কিশোরদের বেলায়ই নয়, সকল শ্রেণীর তারবিয়ত গ্রহণকারীর জন্য নম্রতা ও কোমলতা অত্যন্ত ফলপ্রসু। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-(তরজমা) আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি তাদের জন্য কোমল হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন-হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার চার পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। অতএব তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং (বিভিন্ন) বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। এরপর যখন কোনো বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হবেন তো আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালবাসেন।-সূরা আল ইমরান : ১৫৯

এই আয়াতের তাফসীরে মুফতী শফী রাহ. লেখেন-উপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে ইসলাহ ও সংশোধন এবং তাবলীগ ও দ্বীন প্রচারের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া গেল। তা এই যে, যে ব্যক্তি মানুষের ইসলাহ ও সংশোধন এবং দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজে আত্ম নিয়োগ করতে চায় তার জন্য উপরোক্ত গুণাবলি-নম্রতা ও সুন্দর ব্যবহার এবং কোমলতা ও ক্ষমাশীলতা, অর্জন করা অপরিহার্য। কেননা, *আল্লাহর পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে কঠোরতা হলে তাও মানুষ বরদাশত করতে পারে না তাহলে আর কার পক্ষে সম্ভব হবে যে, রুক্ষতা ও মন্দ ব্যবহার দ্বারা আল্লাহর বান্দাদের নিজের সঙ্গে একত্র করবে এবং তাদের ইসলাহ ও সংশোধনের কাজ আঞ্জাম দিবে?* -তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ২/২১৬-২১৭ কোমলতা ও এর ফলাফল উল্লেখ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বিষয়ে কোমলতা আছে তা সৌন্দর্যমণ্ডিত। আর যেখানে কোমলতা নেই তা হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২৫৯৪

কোমলতার দ্বারা মানুষের কথাবার্তা ও আচার-ব্যবহার সুন্দর হয়। আর সুন্দর ব্যবহার মানুষের মনে যে প্রভাব সৃষ্টি করে তা অন্য কোনোভাবে সৃষ্টি হয় না।

এ প্রসঙ্গে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাত থেকে কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করছি।

হযরত মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আসসুলামী রা. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে জামাতে নামায পড়ছিলাম। ইতিমধ্যে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল। আমি বললাম, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ।’ এতে অন্য মুসল্লীরা আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাতে লাগল। আমি বললাম, হা! আমার মরণ! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ কেন? এতে তারা আরো বিচলিত হল এবং তাদের উরুতে চাপড় দিয়ে আমাকে নিবৃত্ত করতে চাইল। এতে আমি নিশ্চুপ হলাম। নবীজী যখন নামায সমাপ্ত করলেন-আমার পিতামাতা তাঁর ওপর কুরবান হোক! কোনো শিক্ষককে তাঁর চেয়ে উত্তমরূপে শিক্ষা দিতে আমি দেখিনি! না তার আগে আর না তার পরে।-খোদার কসম, তিনি আমাকে কোনো ধমক দিলেন না, প্রহার করলেন না, কোনো কটুবাক্য বললেন না। শুধু বললেন-‘এ নামাযে জাগতিক কথাবার্তা বলা যায় না।’-সহীহ মুসলিম

আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখুন। হযরত আবু উমামা রা. বলেন, এক যুবক এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমাকে যিনা করার অনুমতি দিন।’ একথা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে উঠলেন এবং তাকে তিরস্কার করতে লাগলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কাছে এস। সে কাছে এল। বললেন, বস। সে বসল। এরপর বললেন, ‘তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এটা পছন্দ করবে?’ সে বলল, না ইয়া রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ আমাকে আপনার প্রতি উৎসর্গিত করুন। কোনো মানুষই তার মায়ের জন্য এটা পছন্দ করবে না।’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাহলে তোমার মেয়ের জন্য?’ যুবকটি বলল, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি উৎসর্গিত। কোনো মানুষই তার

মেয়ের জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তোমার বোনের জন্য?’ যুবক বলল, ‘না ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি উৎসর্গিত। কোনো মানুষই তার বোনের জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাহলে তোমার ফুফুর জন্য?’ যুবক বলল, ‘না ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি উৎসর্গিত। কোনো মানুষই তার ফুফুর জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তোমার খালার জন্য?’ যুবক বলল, না কক্ষনো না। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। কোনো মানুষই তার খালার জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শরীরে হাত রাখলেন এবং দুআ করলেন- ইয়া আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করুন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তার চরিত্র রক্ষা করুন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষার ফলাফল এই হল যে, পরবর্তী জীবনে সে কোনো দিকে চোখ তুলেও তাকাত না।- মুসনাদে আহমদ ৫/২৫৬-২৫৭

https://www.alkawsar.com/bn/article/76/

ফলপ্রসূ শাস্তি
https://www.alkawsar.com/bn/article/1615/

=============

দৈহিক শাস্তি
**********
হাদিসের আলোকে ইসলামী আইনজ্ঞরা বলেন, শিশুর চরিত্র গঠনের জন্য অভিভাবকের জন্য এবং অভিভাবকের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষকের জন্য মৃদু প্রহার করা বৈধ। তবে তারা কিছু শর্তারোপ করেন। তাহলো—

১. সাত বছর বয়স তথা শাসন বোঝার মতো বয়স হওয়ার আগে শিশুর সঙ্গে সব ধরনের কঠোর ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
২. শিশুর বয়স ১০ অতিক্রম করলে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার মতো অন্যায় করলে তাকে শাসন করা যাবে।

৩. হাত দ্বারা শাস্তি দেওয়া, লাঠি, বেত ইত্যাদি দ্বারা শাস্তি দেওয়া যাবে না। কেননা বেতের ব্যবহার ইসলামী শরিয়ত হদ-তাজির বাস্তবায়নের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

৪. একবারে তিনের বেশি প্রহার না করা। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি তিনের বেশি আঘাত করা থেকে বিরত থাকো। তুমি যদি তিনের বেশি প্রহার করো, তবে আল্লাহ তোমার কাছ থেকে হিসাব নেবেন।’ (তাজরিদু আসমায়িস-সাহাবাতি : ২/৬৯)

৫. শরীরের স্পর্শকাতর স্থানগুলো, যেমন—মাথা, চেহারা ইত্যাদিতে শাস্তি না দেওয়া।

৬. শরীরে ক্ষত বা দাগ পড়া কিংবা হাড়ে আঘাত লাগার মতো শাস্তি না দেওয়া।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীর অভিভাবক অথবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রহার করতে নিষেধ করা হলে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষেও প্রহার করার অনুমতি নেই। (বিস্তারিত দেখুন : ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৭/৫০১)

লেখেছেন : মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান আনসারি

https://www.facebook.com/groups/shikkhokmilonayoton/permalink/6164687760316551/?mibextid=Nif5oz

যারা খুব রাগী প্রকৃতির শিক্ষক হয়ে থাকেন, স্বভাবত রাগের কারণে তাদের থেকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় ছাত্রদের উপর বিভিন্ন জুলুম হয়েই যায়। ছাত্ররাও কিন্তু আল্লাহর বান্দা! সুতরাং এটা বান্দার হক সংক্রান্ত অন্যায় বলে গণ্য হয়। যা বান্দা দিল থেকে মাফ না করলে আল্লাহও মাফ করবেন না। এ কথাটা খুব ভালোভাবে মাথায় রাখা চাই।

সাধারণত হুজুরদের মধ্যে কেউ ভীষণ রাগী প্রকৃতির হলে তার বিষয়টি আদবের সাথে বলা হয় "হুজুর খুব জালালী তবিয়তের মানুষ"। ছাত্ররা/ভক্তরা হয়ত আদব-ইহতেরামের স্বার্থে এভাবে বলে থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হল, জালালী তবিয়তের মানুষ বলে যা বলা হয় তা আদতে 'বদ মেজাজ'। যা একটি আত্মার ব্যধি। যা একটি মানবিক দুর্বলতা। এর ইসলাহ-সংশোধন অতীব জরুরি।

রাগ দু'ধরণের হয়ে থাকে-

এক. শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য, আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থে রাগ করা। যেখানে ব্যক্তিগত কোন জেদ বা অহংবোধের প্রভাব থাকে না। যে ধরণের রাগ নবী-রাসুলগণ করেছেন। আবু বকর, ওমর, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম করেছেন। এমন রাগ তো অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং প্রশংসনীয়।

দুই. নিছক ব্যক্তিগত কারণে রাগ করা। ব্যক্তিগত কারণে রাগের পেছনে অনেক সময় থাকে অহংকার, জেদ কিংবা হিংসা-বিদ্বেষ। যেগুলোর প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্র আত্মার ব্যধি। সুতরাং আখেরাতে আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার ভয় করে এমন কোন ব্যক্তি এ জাতীয় রোগ নিয়ে পড়ে থাকতে পারে না।

আমরা যারা এখনও সত্যিকার অর্থে খুব একটা আল্লাহওয়ালা, মুত্তাকি-পরহেজগার হতে পারি নি, আমাদের যাদের অন্তরে এখনও ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাতের প্রচুর ঘাটতি আছে, নিঃসন্দেহে আমাদের বেশিরভাগ রাগই খালেস আল্লাহর জন্য, দ্বীনের জন্য হয় না। বরং সেই রাগে অবশ্যই ব্যক্তিগত অপছন্দি ও মনের ক্ষোভের বিরাট প্রভাব থাকে। আর সেই প্রভাব থেকে নিজেদের ছাত্রদের উপর, স্ত্রী-পরিবার ও অধিনস্থদের উপর যে রাগের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকে তাতে অবশ্যই কিছু না কিছু জুলুম হয়েই যায়। এ জুলুমগুলো বান্দারা মাফ না করলে কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে মাফের কোন আশা করা যায় না।

সুতরাং যে সকল শিক্ষকদের মধ্যে এ জাতীয় সমস্যা ও দুর্বলতা আছে তারা এর সমাধানকল্পে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।

১। ছাত্রদের থেকে খেদমত নেয়া সম্পূর্ণ ছেড়ে দিন। খানা তোলা বাদে নিজের সবকাজ (কাপড় ধোয়া, টুকটাক কেনাকাটা, নিজের রুম-হাম্মাম সাফাই) সব নিজেরটা নিজেই করুন।

২। তাহাজ্জুদে ছাত্রদের জন্য দোয়া করুন। প্রয়োজনে কারো কারো সংশধোনের জন্য নাম ধরে ধরে দোয়া করুন। ছাত্রদের ইসলাহ-তরবিয়তে এর বিরাট প্রভাব আছে।

৩। নিজের আখলাকের উন্নতির জন্য খাস করে দোয়া করুন।

৪। ছাত্রদের যথাযথ হক আদায়ের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক চান।

৫। বেত্রাঘাত এবং শক্ত ভাষা ব্যবহার ছেড়ে দিন।

৬। বেশি রাগ উঠে গেলে ছাত্রদের সামনে থেকে উঠে চলে আসুন অথবা তাদের চলে যেতে বলুন।

৭। শাসনের চেয়ে বুঝানো-সমঝানোকে বেশি প্রাধান্য দিন। এতে কাজও হয় বেশি।

৮। সর্বপোরি নিজের ব্যক্তিগত আমল-আখলাকের সংশোধনের দিকে বেশি নজর দিন। বাস্তবে উস্তাদের ইসলাহের মধ্য দিয়েই ছাত্রদের অধিক ইসলাহ হয়। এজন্য আমাদের আকাবিররা ছাত্রদের ইসলাহ করার চাইতে নিজেদের ইসলাহের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাই তাদের মাধ্যমে এরকম সোনার ফসল ফলতো। হাজারো ছাত্রের জীবনের মোড় বদলে যেতো, আমূল পরিবর্তন চলে আসতো, জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিই পালটে যেতো তাঁদের ক্ষণিকের সোহবতে। কিন্তু এখনকার উস্তাদরা আমরা নিজেদের ইসলাহ-সংশোধনের কথা বেমালুম ভুলে যাই। বিলকুল বে-খবর, বে-ফিকির হয়ে যায় নিজেদের আমলি-আখলাকি ও ফিকরি তরবিয়তের ব্যাপারে। করি শুধু অন্যের ফিকির। তাই... পরিণতিতে যা হওয়ার ছিল তা-ই হয়।https://www.facebook.com/groups/shikkhokmilonayoton/permalink/6162572703861390/?mibextid=Nif5oz

=============

শাসন ও প্রহার ~
-সাবের চৌধুরী

ভূমিকা :
শিক্ষার সাথে শাসনের একটা উৎপ্রোত সম্পর্ক আছে। কিন্তু, শাসনের সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা, অর্থাৎ, ধরণ নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল আসলে। পাত্র, পরিবেশ, অবস্থা, অবস্থান-- নানা সূত্রে এর ধরণ ও পরিমাণ বিচিত্র হবে, জানা কথা। শাসনের ক্ষেত্রে সফল শিক্ষক তিনিই যিনি সঠিক পাত্রে সঠিক সময়ে উপযুক্ত কৌশল সঠিক ভঙ্গিতে এবং পরিমিত পরিমাণে প্রয়োগ করতে পারেন।

শাসনের অনুষঙ্গ :
শাসনের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হলো—আদর করা, বোঝানো, প্রলোভিত করা, উৎসাহ দেওয়া, কাজের চাপে রাখা, নিয়মিত জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা, নানাভাবে তার ভেতরে স্পিরিট ও জেদ ঢুকিয়ে দেওয়া, ধমক দেওয়া, কোন সুবিধা থেকে সাময়িক বঞ্চিত করে রাখা, প্রয়োজনে হালকা প্রহার করা। সংক্ষেপ করার জন্য আমি চট করেই প্রহারের বিষয়টি নিয়ে এসেছি; আসলে, আমার ধারণা, অনুষঙ্গ-তালিকায় এর নামটি আসবে আরো অনেক পরে।

দুইটি ফুটনোট :
মূল কথায় যাওয়ার আগে দুইটি বিষয় বলে রাখি—
১. শাসনের যে কৌশলগুলো আছে, এগুলো যে অল্প সময়েই ফলাফল দেবে এমন নয়। একটি কৌশল থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে সময় নিতে হবে। এভাবে প্রত্যেকটি কৌশলই বেশ একটা সময়কে দাবি করে। এ কারণে দ্রুতই কৌশল পাল্টে চট-চট করে প্রহারের স্তরে চলে যাওয়া সঠিক না।

২. আমি যখন বাহুবল কাসিমুল উলূম মাদরাসায় পড়াতাম, প্রথম বছর আমাদের মুহাতামিম সাহেব একটি কথা বলেছিলেন। তাঁর শব্দগুলো আমার মনে নাই। ব্যাখ্যাযুক্ত সারমর্মটি এমন—দেখেন, একজন মানুষকে প্রহার করা কিন্তু হারাম। এতে কোন সন্দেহ নাই। এটা আপনাদেরকে মাথায় রাখতে হবে। একটা হারাম জিনিস শুধুমাত্র বিশেষ জরুরতের কারণে সীমিতভাবে জায়েজ হবে। অর্থাৎ, জরুরত পরিমাণে। সুতরাং, কোন কারণে মারতে হলে উপস্থিত সময়ে আগে নিয়ত ঠিক করুন। রাগের মাথায় বা রাগের বশে মারা জায়েজ হবে না। রাগ পরিহার করে শান্তভাবে হুঁশের সাথে প্রহার করবেন এবং অবশ্যই তা যেন সামান্য পরিমাণে হয়।

কথাটি আমার খুব ভালো লেগেছিল। এটি যেন শাসনের জন্য প্রহারের ব্যাপারটিতে আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বচ্ছ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে আমি নিজে এর উপর আমল করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

শাসনের লক্ষ্য :
এবার আমি মূল কথায় আসছি। শাসনের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য কী? এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের লক্ষ্য কিন্তু একটা ছেলেকে ভালো করে ফেলা না। এটা তো আল্লাহ তাআলার হাতে। আমি মনে করি, লক্ষ্য হলো—ভালো করার চেষ্টাটা জারি রাখা। সোজা কথায়—আমি শাসন করছি যেন তাকে ভালো করার চেষ্টটা জারি থাকে। আমাদের দায়িত্ব এতোটুকুই। আমার খুব ভয় হচ্ছে, আমি মনে হয় কথাটা বুঝিয়ে বলতে পারবো না। আসলে বলতে চাচ্ছি, শুধু শাসনের ক্ষেত্রে নয়, আমাদের জীবনের সকল সাধনার ক্ষেত্রে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।

ধরা যাক, ইসলামি সমাজ কায়েম করার জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। তো, এখানেও আমার লক্ষ্য কী? সমাজ কায়েম করে ফেলা কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য না। এটা একটা প্রাপ্তি। আমার কাজ হলো চেষ্টাটা চালিয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের থেকে শুধু এটুকুই চান। পৃথিবীর বাহ্যিকতা অনুযায়ী যে একটা লক্ষ্য সামনে থাকে, একে বাস্তবায়ন করার জন্য সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পরিশ্রম করে যাও। আমি পুনরাবৃত্তি করছি—সাধ্যের সবটুকু; সাধ্যের বাইরে নয় কিন্তু। এই চেষ্টাটা করলেই আমার সাধনায় আমি সফল।

মুমিনের জীবনদর্শন :
এখন, বাহ্যিক লক্ষ্যটা যদি অর্জিত হয়ে যায়, তাহলে আমার ভেতরে প্রাপ্তির একটা আনন্দ থাকবে। এ কারণেই মুমিনের জীবনে প্রাপ্তির আনন্দ আছে, অপ্রাপ্তির বেদনা আছে, কিন্তু, ব্যার্থতার গ্লানি নাই। আপনাদের কি মনে নাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে হাদীসটি, তিনি বলেছেন, মুমিনের বিষয়টি বড় অবাককর। …। এ জন্য মুমিনের জীবনপথটি মূলত একমুখী—ওয়ানওয়ে। এটি কেবলই গেছে সফলতার দিকে।

না, আমি বলছি না যে, আপনারা এটি জানেন না। আমি বলছি, একে, এই বোধটিকে আমাদ

বহু ভাষা শেখার সুযোগ এখন হালুয়াঘাটে!আছে অনলাইনেও পড়ার সুবিধা!
23/09/2025

বহু ভাষা শেখার সুযোগ এখন হালুয়াঘাটে!

আছে অনলাইনেও পড়ার সুবিধা!

একাধিক ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি ক‌ওমী মাদ্রাসার একাধিক ক্লাস সমাপ্তির এই সুযোগ সত্যিই অবিশ্বাস্য!বিস্তারিত সংযুক্ত ইমেজে। আ...
15/09/2025

একাধিক ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি ক‌ওমী মাদ্রাসার একাধিক ক্লাস সমাপ্তির এই সুযোগ সত্যিই অবিশ্বাস্য!

বিস্তারিত সংযুক্ত ইমেজে।
আর‌ও জানতে কল করুন- 01930-308098

মাত্র ৭ মাসে ৫টি ভাষা শেখার সুযোগ এখন হালুয়াঘাটে। দূরের আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আছে অনলাইনে পড়ার সুযোগ‌ও! পড়তে পা...
07/09/2025

মাত্র ৭ মাসে ৫টি ভাষা শেখার সুযোগ এখন হালুয়াঘাটে। দূরের আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আছে অনলাইনে পড়ার সুযোগ‌ও!

পড়তে পারবেন কওমি, আলিয়া ও জেনারেল শিক্ষার সবাই। বাংলা রিডিং পড়তে পারলেই পাবেন ভর্তি হওয়ার সুযোগ।

আগ্রহীগণ দ্রুত যোগাযোগ করুন- 01930-308098

এই কোর্সগুলো কওমি, আলিয়া ও জেনারেল শিক্ষার সবার জন্য উপযোগী বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুফতী ইলিয়াস সারোয়ার...
20/08/2025

এই কোর্সগুলো কওমি, আলিয়া ও জেনারেল শিক্ষার সবার জন্য উপযোগী বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুফতী ইলিয়াস সারোয়ার।

Address

নতুন বাস স্ট্যান্ড, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ
Mymensingh
MYMENSINGH,DHAKA

Telephone

+8801930308098

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মারকাযুল খিদমাহ আল-ইসলামিয়্যাহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to মারকাযুল খিদমাহ আল-ইসলামিয়্যাহ:

Share