30/09/2021
‘তুমি বাড়াবাড়ি করছ?’
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। প্রশ্ন করলাম, ‘কীভাবে বাড়াবাড়ি করছি?
তিনি বললেন, ‘ঈমান এত ঠুনকো নয় যে এত সহজেই চলে যাবে।‘
আমি চুপ হয়ে গেলাম। এনার সাথে তর্ক করে লাভ নেই।
এনার মতো অধিকাংশ মানুষের মাথায় একটা কথা গেঁথে গেছে যে, সহজে ঈমান চলে যায় না। কারো ভেতর বিন্দুমাত্র ঈমান থাকলে, সে যত পাপই করুক না কেন জান্নাত কনফার্ম।
ঈমান কী, ঈমান কীভাবে চলে যায় তা-ও আমরা অধিকাংশই জানি না।
ব্যাংক থেকে সুদ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনি, গাড়ি কিনি, ঘুষ খাই, বোনের সম্পদ মেরে খাই, শুক্রবার ছাড়া নামাজ পড়ি না।
মিউজিক শুনি, টিভিতে ইউটিউবে হারাম গান বাজনা সিনেমায় মত্ত থাকি।
জন্মদিনসহ হাজার দিবস পালন করি, হালাল-হারাম মানি না, সামনে কোনো অন্যায় কিছু ঘটলে প্রতিবাদ করি না।
ভোগবিলাসে মত্ত থাকি, কমফোর্ট জোনে বসে ট্রেডিশনাল ইসলাম পালন করি। কুরআনের যতটুকু মানলে এই সমাজে টিকে থাকা যায়, ততটুকুই মানি, বাকি বিধানগুলোকে এই জামানার জন্য অকার্যকর ভাবি। এতকিছুর পরও দাবি করি, আমাদের ঈমান আছে।
ঈমান আসলে কী?
ঈমান হচ্ছে - অন্তরে বিশ্বাস করা, জবান দ্বারা স্বীকার করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা।
আমরা আখেরি নবির উম্মত, শেষ জামানার ফিতনাময় পরিবেশ চারদিকে। এখানে ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা হাতে আগুন নিয়ে বেঁচে থাকার মতো কষ্টসাধ্য।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়া সাল্লামের সেই দুইটা হাদিস স্মরণ করি।
“এমন এক সময় আসবে যখন মুসলমানদের জন্য ঈমান ধরে রাখা, জ্বলন্ত কয়লা হাতের মধ্যে রাখার ন্যায় কঠিন হবে।” (তিরমিযি : ২২৬০)
“অন্ধকার রাতের মতো ফিতনা আসার আগেই তোমরা নেক আমলের প্রতি অগ্রসর হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীন বিক্রি করে বসবে।” (সহীহ মুসলিম : ২১৪)
যারা সত্যিকারের ঈমানদার তারা ঠিকই বুঝতে পারছেন যে ঈমান ধরে রাখা কতটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
তাঁদের অবস্থা সূরা কাহাফের সেই গুহাবাসী যুবকদের মতো। তাঁরা সব কষ্টের বিনিময়ে ঈমান নিয়ে মারা যেতে চান। সফল তো তাঁরাই।
দুনিয়া মুমিনদের জন্য কারাগার স্বরূপ। এই দুনিয়ার সব কষ্টের বিনিময়ে তাঁরা আখিরাতে সম্মানিত হবেন ইন শা আল্লাহ।
✍️লেখা: ড. উম্মে বুশরা সুমনা
©