10/06/2026
একই মজলিসে তিনজন আলেম!!
(শাইখ আল-আলবানী, শাইখ ইবনে বায এবং শাইখ ইবনে উসাইমিন, আল্লাহ তাঁদের উপর রহম করুন)
সময়টা ছিল হজের মৌসুম, এবং এটাই ছিল শাইখ আল-আলবানীর (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) হজ পালনের শেষ বছর।
শাইখ ইবনে বায মজলিসটির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
লোকদের পক্ষ হতে প্রশ্ন পেশ করা হচ্ছিল এবং শাইখ বিন বায (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) সেগুলো গ্রহণ করছিলেন। প্রশ্নটি যদি ফিকহ সংক্রান্ত কোনো বিষয় হতো, তবে তিনি তা শাইখ ইবনে উসাইমিনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন।
যদি তা হাদিস-সম্পর্কিত কোনো বিষয় হতো, তবে তিনি তা শাইখ আল-আলবানীর কাছে পাঠিয়ে দিতেন।
আর যদি প্রশ্নটি আকিদা-সম্পর্কিত কোনো বিষয় হতো, তবে শাইখ ইবনে বায নিজেই উত্তর দিতেন।
উপস্থিত মুসলিমরা যোহরের সালাতে ইমামতিকে করবেন তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।
আর তাঁরা তখন হজ্জের সফরে মিনায়।ছিলেন!
তখন শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায– আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন– শাইখ আল-আলবানিকে বললেন: “আবু আব্দুর রহমান, এগিয়ে আসুন এবং আমাদের সালাতে ইমামতি করুন। আপনিই আমাদের ইমাম।”
শাইখ আল-আলবানি উত্তর দিলেন: “না, না, আপনিই আমাদের শাইখ।”
তখন শাইখ ইবনে বায– আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন– তাঁকে বললেন:
“কুরআনের জ্ঞানে আমরা সবাই সমান, এবং আল্লাহর রাসূলের হাদীসের ব্যাপারে আপনিই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী। এগিয়ে আসুন, আবু আব্দুর রহমান।”
সুতরাং শাইখ আল-আলবানি তাদেরকে সালাতে ইমামতি করার জন্য এগিয়ে গেলেন।
তারপর তিনি শাইখ ইবনে বাযের দিকে ফিরে তাঁকে বললেন:
“হে শাইখ, আমি কি লোকদেরকে আল্লাহর রাসূলের সালাতে ইমামতি করব, নাকি তা সংক্ষিপ্ত করব?”
তিনি উত্তর দিলেন:
“আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতে আমাদের ইমামতি করুন ।
হে শাইখ, আমাদের শিক্ষা দিন, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে সালাত আদায় করতেন?”
কী শ্রদ্ধা! সুবহানাল্লাহ কি আদব!!
ইবনে বায আল-আলবানিকে বললেন: “হে শাইখ, আমাদের শিক্ষা দিন!”
এটাই হলো আলেমদের মধ্যকার শ্রদ্ধা, এবং এগুলোই হলো আলেমদের আদব-কায়দা। এই মহৎ ব্যক্তিদের অনুকরণ করা আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন, এটাই হচ্ছে সালাফদের প্রকৃত মানহাজ।
এবং উত্তম আদব-কায়দা, চরিত্র ও পরস্পরের প্রতি বিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করা।
আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন, তাঁদের ক্ষমা করুন, জান্নাতে তাঁদের জন্য প্রশস্ত উদ্যান দান করুন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।