09/05/2022
যুবক বয়সের বেশির ভাগ নারী-পুরুষই দুনিয়া অর্জন তথা ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি ও চাকচিক্যময় জীবন-যাপন নিয়েই ব্যস্ত থাকে। পরকালের কথা বেমালুম ভুলে যায়। অনাগত পরকালের সীমাহীন জীবনের সুখ-শান্তির কথা মনে থাকে না। দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য তাকে পেয়ে বসে। এ ছাড়া মানুষের প্রকাশ্য দুশমন বিতাড়িত শয়তান দুনিয়াতে যুবক-যুবতীদের পরস্পরের সামনে সুমিষ্ট ও সুশোভিত করে তুলে।
সমাজে নানা ধরনের অন্যায়-অবিচার-অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার জন্য সর্বাগ্রে যুবকরাই দায়ী। তাদের বেপরোয়া ভাব ও অনৈতিকতার কারণেই সব অপকর্মের জন্ম। আল্লøাহ তায়ালা এসবকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বলো, আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন সব প্রকার অশ্লীলতা। তা প্রকাশ্য হোক আর অপ্রকাশ্য হোক’ (সূরা আল আরাফ : ৩৩)।
আল্লøøাহ তায়ালার কাছে যুবক বয়সের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা তখন মানুষ বেশির ভাগই সুস্থ থাকে এবং সব ইবাদত যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হয়। নবী-রাসূলগণ আল্লøাহর পক্ষ থেকে যে রিসালাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তা ছিল যৌবন বয়সে। ইবনু আব্বাস রা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীদের যৌবনকালে নবুয়ত দান করেছেন, যৌবনকালেই আলেমদের ইলম প্রদান করা হয়।’ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি (মূসা আলাইহিস সালাম) যখন পূর্ণ যৌবনে পৌঁছিলেন, তখন তাকে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি দান করলাম’ (সূরা আল কাসাস : ১৪)।
আসহাবে কাহাফের সাত ব্যক্তিও ছিল যুবক। যারা এক আল্লাহর ইবাদতে বিশ্বাসী ছিলেন। যাদেরকে শত্রুর হাত থেকে আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসূল!) আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করেছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম’ (সূরা আল কাহাফ : ১৩)।
ইসলামে প্রবিষ্ট হওয়ার দিক থেকেও যুবকরা ছিল অগ্রণী। মূসা আ:-এর অনুসারীদের মধ্য থেকে যুবকরাই সর্বপ্রথম ঈমান এনেছে। মুহাম্মদ সা:-এর দাওয়াতে সর্বপ্রথম শতাধিক যুবক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর তাদের বেশির ভাগ ছিলেন ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের। ইমাম ইবনু কাসির রহ: বলেছেন, ‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দানকারীরা বেশির ভাগই ছিল যুবক। আর কুরাইশদের বুড়োরা তো তাদের বাপ-দাদার ধর্মেই অটল ছিল। এদের খুব অল্পসংখ্যকই ঈমান এনেছিল।’
যৌবনকালকে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাওয়ার মাধ্যম। হাদিসে এসেছে, সাত শ্রেণী