The Message of Muhammadi Islam

The Message of Muhammadi Islam মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করাই আমাদের উদ্দেশ্য

02/05/2026

আমার দরবারে কেউ পীর হবে না। মোহাম্মদী ইসলাম রাসূল সা: ইসলাম।
সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগী হুজুরের বাণী মোবারক

তরিকার বাদশাহ্ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরি (রহঃ)-এর সান্নিধ্যে তার মনোনীত ইমাম হযরত মাহবুব এ খোদা (রহঃ) হুজুর কেবলাজান।🌼🥀
01/05/2026

তরিকার বাদশাহ্ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরি (রহঃ)-এর সান্নিধ্যে তার মনোনীত ইমাম হযরত মাহবুব এ খোদা (রহঃ) হুজুর কেবলাজান।🌼🥀

"ইরাকে অবস্থানরত আল্লাহর মহানওলী-হযরত মুনসুর হাল্লাজ রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"স্থানঃ বাগদাদ ইরাক।মনসুর হাল্লাজ রহঃ এর...
30/04/2026

"ইরাকে অবস্থানরত আল্লাহর মহানওলী-
হযরত মুনসুর হাল্লাজ রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ বাগদাদ ইরাক।
মনসুর হাল্লাজ রহঃ এর জীবনী আজও মুসলিম বিশ্বের কবি, দার্শনিক পাগলফকির এবং সুফীস্বাধকদের কাছে এক বিশাল বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার উৎস।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
মানসুর আল–হাল্লাজ (ফার্সি: منصور حلاج Mansūr-e Ḥallāj; পুরো নাম আরবি: "أبو عبد الله حسين بن منصور الحلاج" আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন ইবনে মানসুর আল-হাল্লাজ) (৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ – মার্চ ২৬, ৯২২ খ্রিষ্টাব্দ) (হিজরী ২৪৪ হিজরী – ৩০৯ হিজরী) ছিলেন একজন ইরানী[১] মরমি সুফী, বৈপ্লবিক সাহিত্যিক এবং সুফিবাদ-এর একজন দিকদর্শি। তিনি মুসলিম জগতে খ্যাত প্রধানত তার চরম বিতর্কিত বক্তব্য "আনাল হাক্ক" ("আমিই পরম সত্য") এবং এর ফলশ্রুতিতে লম্বা বিচার-প্রক্রিয়ার পরে আব্বাসীয় খলিফা আল মুকতাদির এর আদেশে মৃত্যুদন্ড হওয়ার কারণে।[২]

প্রাথমিক জীবন
মনসুর আল-হাল্লাজ এর জন্ম আনুমানিক ৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ইরানের ফারস্ প্রদেশে। উনার পিতা ছিলেন একজন সুতা-প্রস্তুতকারক (আরবী শব্দ হাল্লাজ অর্থাৎ "সুতা-প্রস্তুতকারক")। উনার দাদা ছিলেন মেজাই বা জরথুস্ত্রের একজন অনুসারী ধর্মযাজক।[৩] উনার বাবা খুব সাধাসিধে জীবন যাপন করতেন, এবং এধরনের জীবনধারা শিশু আল-হাল্লাজকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। শিশুবয়সেই তিনি আল-কুরআনের হিফয করেন এবং অল্পবয়স থেকেই খেলাধুলা ইত্যাদি এড়িয়ে আবু কুবাইস পর্বতের পাথরে ধ্যান করা সুফিদের মজলিসে উঠাবসা করতেন। এরা হলো আল-জুনায়েদ বিন মুহাম্মদ, আমর বিন ওসমান আল-মাক্কি এবং আবু আল-হুসাইন আল-নূরি। ইবনে কাসীর বলেন, আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: সুফিরা তার সঙ্গে মতভেদ করতেন, তাদের অধিকাংশই অস্বীকার করেছেন যে আল হাল্লাজ তাদের মতবাদের অনুসারী ছিলেন এবং তাকে তাদের মধ্যে গণ্য করতে অস্বীকার করতেন। ইবনে খাফিফ বলেছেন: আল-হুসাইন বিন মনসুর একজন রব্বানী (ইহুদি) পণ্ডিত।[৪]

তরুণ আল-হাল্লাজ বিয়ে করেন এবং এরপর মক্কায় হজ্বে যান, সেখানে তিনি এক বছর সময় অতিবাহিত করেন, কেবলার দিকে মুখ করে, রোজা-অবস্থায় এবং সম্পূর্ণ নীরবতার সাথে। এরপর তিনি মক্কা নগরী ত্যাগ করেন, লম্বা এক সফরে সময় ব্যয় করেন আর পথিমধ্যে শিক্ষাদান এবং লেখালেখি করেন। তিনি সুদুর ভারতবর্ষ পর্যন্ত সফর করেন এবং মধ্য-এশিয়া এবং অনেক শিষ্য তার সাথে যোগদান করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই উনার ২য় এবং ৩য় হজ্বের সফরে সফরসঙ্গী হন। তার এই সফরকালীন সময় অতিবাহিত করার পরে তিনি বাগদাদের প্রাণকেন্দ্র আব্বাসিদ এ অবস্থান শুরু করেন।

উনি প্রাথমিক যুগে জুনায়েদ বাগদাদী এবং আমর-আল-মক্কীর শিষ্য ছিলেন, কিন্তু পরে দুজনেই উনাকে পরিত্যক্ত করেন। সাহল আল-তাশতারিও আল-হাল্লাজের একজন প্রাথমিক যুগের উস্তাদ ছিলেন।[৫]

তীর্থযাত্রা ও ভ্রমণ
মক্কায় তিনি এক বছর উপবাস এবং সম্পূর্ণ নীরবতায় মসজিদের প্রাঙ্গণে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।[৬] মক্কা থেকে ফিরে আসার পর, তিনি সুফি পোশাক ছেড়ে একটি সাধারণ পোশাক পরিধান করেন যাতে আরও স্বাধীনভাবে প্রচার করতে পারেন।[৬] সেই সময়ে কিছু সুন্নি, যাদের মধ্যে কিছু প্রাক্তন খ্রিস্টানও ছিলেন যারা পরে আব্বাসীয় আদালতে ভিজির হয়েছিলেন, তার শিষ্য হন। তবে অন্যান্য সুফিরা এতে মর্মাহত হন এবং কিছু মুতাজিলি এবং শিয়া যারা সরকারে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাকে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং জনতাকে তার বিরুদ্ধে উসকে দেন।[৬] আল-হাল্লাজ পূর্ব ইরানে চলে যান এবং পাঁচ বছর সেখানে অবস্থান করেন। তিনি আরব উপনিবেশ এবং দুর্গম মঠগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের মধ্যে প্রচার করেন। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং তার পরিবারকে বাগদাদে স্থাপন করেন।[৬]

আল-হাল্লাজ চারশ শিষ্য নিয়ে তার দ্বিতীয় তীর্থযাত্রায় মক্কায় যান। সেখানে কিছু সুফি, তার প্রাক্তন বন্ধুরা, তাকে জাদু এবং জিনের সাথে চুক্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।[৬] এরপর তিনি একটি দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন যা তাকে ভারত এবং তুর্কিস্তানে ইসলামী ভূমির সীমানার বাইরে নিয়ে যায়।[৬] প্রায় ২৯০/৯০২ সালে তিনি তার চূড়ান্ত তীর্থযাত্রার জন্য মক্কায় ফিরে আসেন, তখন তিনি একটি ভারতীয় কোমরবন্ধ এবং একটি প্যাঁচানো পোশাক পরিধান করেছিলেন।[৬] সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন যেন তাকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যাত করা হয়, যাতে আল্লাহ কেবল তার দাসের ঠোঁটের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রদান করতে পারেন।

শিক্ষা, গ্রেফতার এবং কারাভোগ
অনেক সুফী-সাধক মনে করতেন যে সাধারন জনগনের কাছে আধ্যাত্মবাদের গূঢ়তত্ত্ব প্রকাশ করা অনুচিত, অথচ মানসুর হাল্লাজ তা প্রকাশ্যে তার লেখনি আর শিক্ষার ভিতর দিয়ে প্রকাশ করেন। এভাবে তিনি অনেক শত্রু তৈরী করেন। এই অবস্থার আরো অবনতি হয়, যখন তিনি বলতে লাগলেন যে তার ধ্যানকালীন অবস্থায় তিনি আত্মিক বা দৈহিকভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যে বা সংস্পর্শে থাকেন।

মানসুর হাল্লাজের মৃত্যুদণ্ড। প্রায় ১৬০০ সালের মুঘল ভারতের জলরঙ চিত্র।[৭]
একসময় ধ্যানরত অবস্থায়, তিনি উচ্চারণ করলেন أنا الحق("আনাল্ হাক্ক", প্রচলিত বাংলায় একে আয়নাল হক বলা হয়ে থাকে) "আমিই পরম সত্য", যা তিনি নিয়েছিলেন ভারত ভ্রমণের সময় মহাবাক্য দর্শনের একটি বাক্য "অহম ব্রহ্মাস্মি" থেকে।[৮] এর কারণে তৎকালীন সময়ে এই ধারণা গড়ে উঠে যে, তিনি খোদাত্ব দাবি করছেন। যেহেতু আল-হাক্ক বা "প্রকৃত সত্য" বা "চরম সত্য" মহান আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নামের একটি নাম। আরেকটি চরম বিতর্কের তৈরী হয় যখন তিনি (মানসুর হাল্লাজ) দাবি করেন যে, "আমার পাগড়িতে শুধু খোদা ছাড়া আর কোনো কিছুই প্যাঁচানো নেই" এবং একই ভাবে তিনি তার জামার দিকে ইশারা করে বলেন যে, ما في جبتي إلا الله Mā fī jubbatī illā l-Lāh "আমার জামার ভিতরে খোদা ছাড়া আর কেউ নেই"। ইবনে কাসীরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার ১১ তম খণ্ডে বলা হয়েছে, হাল্লাজ আধ্যাতিকতার নামে ভুয়া আত্মিক চিকিৎসার কথা বলে নিজের ভাড়া করা লোক দিয়ে নাটক সাজিয়ে লোক ঠকিয়ে তাদের কাছ থেকে কৌশলে ও গোপনে অর্থ আদায় করতেন, এবং পাশাপাশি তিনি ভারতে এসে ভারতীয় জাদুবিদ্যা শিখতেন ও তার চর্চা করতেন।[৪] ইবনে কাসীর গ্রন্থটিতে আরও বলেন, "আবূ আবদ আল

"সাউথ আফ্রিকায় অবস্থানরত আল্লাহ'র মহান ওলী- সুফী স্বাধক হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান শাহ্ গায়েবী রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ...
29/04/2026

"সাউথ আফ্রিকায় অবস্থানরত আল্লাহ'র মহান ওলী-
সুফী স্বাধক হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান শাহ্ গায়েবী রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ কেপটাউন সাউথ আফ্রিকা।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান গায়েবী (রহঃ) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ইসলাম প্রচার এবং আধ্যাত্মিক সাধনার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে সেখানে গিয়েছিলেন এবং নিজ আমল ও আখলাকের মাধ্যমে হাজারো মানুষের জীবন বদলে দিয়েছিলেন।
​তাঁর জীবন ও কর্মের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​১. জন্ম ও বংশ পরিচয়
​তিনি ভারতের একটি সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ আধ্যাত্মিক সাধনা ও ইসলামের সেবার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর নামের সাথে 'গায়েবী' উপাধি যুক্ত হওয়ার পেছনে বিশেষ আধ্যাত্মিক রহস্য রয়েছে বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন।
​২. কেপটাউনে আগমন
​বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে হিজরত করেন। সেই সময় সেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় অবস্থা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি কেপটাউনের সল্ট রিভার (Salt River) এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেন।
​৩. আধ্যাত্মিক ধারা ও সংস্কার
​তিনি মূলত কাদেরিয়া ও চিশতিয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন। তাঁর দাওয়াতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল:
​আখলাক বা চরিত্র গঠন: তিনি কঠোরভাবে সুন্নাহর অনুসরণ করতেন এবং অন্যদেরও চারিত্রিক শুদ্ধির নসিহত করতেন।
​জিকির ও মজলিস: তিনি নিয়মিত জিকিরের মাহফিল আয়োজন করতেন, যা স্থানীয় মানুষের মনে আল্লাহর ভালোবাসা জাগিয়ে তুলত।
​সামাজিক সেবা: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর অন্যতম চারিত্রিক গুণ ছিল।
​৪. কারামত ও আধ্যাত্মিক প্রভাব
​তাঁর অনুসারীরা তাঁর অনেক অলৌকিক ঘটনা বা কারামতের কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি সবসময় কারামতের চেয়ে ইস্তেকামত (ধর্মের ওপর অবিচল থাকা) এবং শরীয়তের অনুসরণকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর হাতে হাত রেখে বহু মানুষ অন্ধকার পথ ছেড়ে ইসলামের আলোয় ফিরে আসেন।
​৫. মৃত্যু ও মাজার শরীফ
​তিনি কেপটাউনেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাজার শরীফ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের সল্ট রিভার (Salt River) কবরস্থানে অবস্থিত। প্রতি বছর তাঁর ওরস মোবারক এবং ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে ভক্তরা তাঁকে স্মরণ করেন। আজও তাঁর মাজার জিয়ারত করতে এবং তাঁর রুহানি ফয়েজ হাসিল করতে বহু মানুষ ভিড় করেন।
​দ্রষ্টব্য: হযরত হাসান গায়েবী (রহঃ) এর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত তথ্যের চেয়ে মৌখিক বর্ণনা এবং তাঁর মুরিদদের স্মৃতিচারণ বেশি পাওয়া যায়। কেপটাউনের স্থানীয় মুসলিম সংস্কৃতিতে তাঁর প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
মাজার দর্শন
The Great Saint Of Allah Residing In South Africa
Sufi Saint Hazrat Syed Mohammad Hassan Gayebi Rh.Ah. Mazar Sharif.
Venue: Cape Town South Africa.

বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থানরত-"৩৬০ আউলিয়াগনদের প্রধান- হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামেনী রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"স্থানঃ আম্...
28/04/2026

বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থানরত-
"৩৬০ আউলিয়াগনদের প্রধান- হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামেনী রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ আম্বরখানা সিলেট সদর বাংলাদেশ।
বাৎসরিক ওরোছ মোবারকঃ ১৯/২০শে জ্বীলক্বদ আরবী।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
বাংলাদেশ আসাম তথা বৃহত্তর বঙ্গকে ইসলামের আলোকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে যাঁর নাম সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং এদেশের সূফি, দরবেশ, আউলিয়াগণের মাঝে যাঁর প্রভাব ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামেনী রহঃ। এতদাঞ্চলে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে জনসাধারণের মাঝে তাঁর প্রতি ভালবাসা ও নামের মাহাত্ম ব্যাপক ও অতুলনীয়।

সিলেটে তাঁর মাধ্যমেই ইসলামের বহুল প্রচার ঘটে। সিলেট বিজয়ের পরে শাহজালাল (রহ.) সঙ্গী অনুসারীদের মধ্য হতে অনেক পীর দরবেশ এবং তাদের পরে তাদের বংশধরগণ সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসবাস করেন। শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সিলেট শহরের আম্বরখানা নামক স্থানে সমাহিত করা হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহ্ জালাল (রহ.) ৬৭১ হিজরী এবং ১২৭১ খ্রীষ্টাব্দে তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম শায়খ শাহ্ জালাল কুনিয়াত মুজাররদ। ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ ইংরেজী সালে ৩২ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। সিলেট আগমনের সময়কাল নিয়ে যদিও বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। তদুপরি শাহ্ জালাল (রহ.)’র সমাধীর খাদিমগণের প্রাপ্ত পারসী ভাষার একটি ফলকলিপি হতে উল্লেখিত সন-তারিখই সঠিক বলে ধরা হয়। পারসী ভাষায় লিখিত ফলকলিপিটি বর্তমানে ঢাকা যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

প্রাথমিক জীবনঃ
হিজরী ষষ্ঠ শতকের শেষাংশে মক্কার কোরাইশ বংশের কিছু লোক মক্কা শহর হতে হেজাজ ভূমির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ইয়েমেন প্রদেশে গিয়ে বসবাস করেন। এদের মধ্যে মোহাম্মদ বা মাহমুদ ছিলেন শাহ্ জালাল (রহ.) এর পিতা। মাহমুদের পিতার নাম ইব্রাহিম। ৬৭১ হিজরী - ১২৭১ খ্রিস্টাব্দে শাহজালাল (রহ.) জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর জন্মভূমি ছিল প্রাচীন আরবে আযমের হেজাজ ভূমির তৎকালীন প্রদেশ ইয়েমেন দেশের কুনিয়া নামক শহর। শাহ্ জালাল (রহ.) যখন তিন মাসের শিশু বালক, তখনই তাঁর মাতার মৃত্যু হয়।
শাহজালাল (রহ.) শিশুকালেই মাতৃহীন হন এবং পাঁচ বছর বয়সে পিতাকে হারান। মামা আহমদ কবির তাঁকে পালক নেন। আহমদ কবির আরবী ভাষায় কোরআন হাদিস এবং আধ্যাত্তিক শিক্ষা দেওয়াসহ ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করান। পরবর্তিতে আহমদ কবীর শাহজালাল (রহ.)কে ইয়েমেন থেকে মক্কায় নিয়ে যান। মক্কা শহরে আহমদ কবীরের একটি আস্তানা (হোজরা) ছিল। সেখানে অন্যান্য শিষ্যদের সঙ্গে শাহজালাল (রহ.)কেও উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়।
আধ্যাত্মিকতাঃ
শাহজালাল (রহ.)কে সুফি মতবাদে দীক্ষিত করাই আহমদ কবিরের মুল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা যায়। যে কারণে তিনি শাহ জালাল (রহ.)কে নিয়ে মক্কায় আসা। মক্কা শহরে সোহরাওয়ার্দি তরিকার প্রবর্তক সিহাবুদ্দীনের প্রতিষ্ঠিত খানকায় (মরমী স্কুল) তৎকালে আহমদ কবির ছিলেন প্রধান তত্ত্বাবধায়ক। আহমদ কবির ইসলামের শরীয়ত ও মারিফত উভয় ধারায় শিক্ষা দানে দীক্ষিত করেন শাহজালাল (রহ.)কে।
দরবেশী জীবনঃ
জন্মগতভাবে শাহজালাল (রহ.) দরবেশ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। জানা যায়, তাঁর পিতা ছিলেন একজন ধর্মানুরাগী মোজাহিদ। ইয়েমেনে ধর্ম যুদ্ধে তিনি নিহত হন এবং তার মাতার দিক দিয়ে তিনি সৈয়দ বংশের প্রখ্যাত দরবেশ সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারীর দৌহিত্র ছিলেন। তদুপরি দরবেশ আহমদ কবির তাঁর মামা, যিনি শাহজালাল (রহ.) এর শিক্ষা গুরু ছিলেন। তিনিও তৎকালের একজন বিখ্যাত দরবেশ ছিলেন বলে জানা যায়। আহমদ কবির যখন শাহজালাল (রহ.) এর লালন পালনের ভার গ্রহণ করেন সেই ছোটবেলা থেকেই তাঁকে দরবেশী তর-তরিকায় জীবন যাপনের প্রণালী শিক্ষা দিয়েছেন বলেও পাওয়া যায়।
সিলেট আগমন পর্বঃ
শাহজালাল (রহ.)কে তাঁর মামা ও গুরু সৈয়দ আহমদ কবিরের আস্তানায় আরব দেশে ছিলেন। একদিন শাহজালাল (রহ.) ভারতবর্ষে ধর্ম প্রচার করছেন তা স্বপ্নে দেখলেন, এই কথা সৈয়দ আহমদ কবিরের কাছে ব্যক্ত করেন। মামা ও মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে শাহজালালকে ভারতবর্ষে যাবার পরামর্শ দেন। যাত্রাকালে কবির শাহজালাল (রহ.) এর হাতে এক মুঠো মাটি তুলে দিয়ে বললেনঃ যে স্থানে এই মাটির স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণের মিল এক হবে, সেখানেই ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গড়বে। মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির (রহ) এর দোয়া নিয়ে শাহজালাল (রহ.) ধর্ম প্রচার অভিযানে আরবের মক্কা শরিফ হতে একা একাই যাত্রা শুরু করেন।
হিন্দুস্থানে প্রবেশঃ
শাহজালাল (রহ.) মক্কা হতে বিদায়কালে যে কয়জন সঙ্গী তাঁর সঙ্গে যাত্রা করেন তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হাজী ইউসুফ, হাজী খলিল, হাজী দরিয়া। হিন্দুস্থানে আসার পূর্ব পর্যন্ত সমরবান্দ থেকে সৈয়দ ওমর, রোম থেকে করিমদাদ, বাগদাদ থেকে নিজামুদ্দীন, ইরান, জাকারিয়া ও শাহ দাউদ এবং সৈয়দ মুহম্মদ প্রমুখ তার অনুগামী হলেন। তাদের নিয়ে তিনি হিন্দুস্থানে প্রবেশ করলেন। এরপর সুলতান থেকে আরিফ, গুজরাট থেকে জুনায়েদ, আজমীর শরীফ থেকে মুহম্মদ শরীফ, দাক্ষিণাত্য থেকে সৈয়দ কাসিম, মধ্যপ্রদেশের হেলিম উদ্দীন প্রমুখ মুরিদ হয়ে শাহজালাল (রহ.)’র সঙ্গে সঙ্গে চললেন। এভাবে দিল্লী যখন পৌঁছলেন তখন শিষ্যদের সংখা ২৪০ জন বলে ধারণা পাওয়া যায়।
নিজামুদ্দীন আউলিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎঃ
দিল্লিতে আসার পর নিজামুদ্দিন আউলিয়ার জনৈক শিষ্য গুরুর কাছে শাহজালাল (রহ.) নামে কুত্সা প্রচার করে। সঙ্গে সঙ্গে নিজামুদ্দীন কুৎসা রটনাকারী এ শিষ্যকে উপযুক্ত শাস্তিস্বরুপ দরবার থেকে বের করে দিলেন এবং অন্য দুই শিষ্যকে ডেকে তাদের মারফতে শাহজালাল (রহ.) এর কাছে সালাম পাঠালেন। শাহজালাল (রহ.) সালামের উত্তরে উপটৌকন স্বরুপ ছোট একটি বাক্সে প্রজ্জলিত অঙ্গারের মধ্যে কিছু তুলা ভরিয়া নিজামুদ্দীন আউলিয়ার নিকট পাঠালেন। নিজামুদ্দিন আউলিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.)’র আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে তাঁকে সাদরে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। বিদায়কালে প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাঁকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দিলেন। সিলেটে মাজার সংলগ্ন এলাকায় সুরমা রঙের যে কবুতর দেখা যায়, তা ওই কবুতরের বংশধর। যা জালালী কবুতর নামে খ্যাত।
শেখ বুরহান উদ্দীনের দেখা ও দুঃখ প্রকাশঃ
শ্রীহট্টে ইসলাম জ্যোতিসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থের বর্ণনা অনুসারে তুর্কি বিজয়ের মধ্য দিয়ে শ্রীহট্টে মুসলমান জনবসতি গড়ে ওঠে। সিলেটের টুলটিকর মহল্লায় ও হবিগঞ্জের তরফে তৎকালে মুসলমানরা বসতির গড়ে ছিলেন। এ সময় শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্যে গৌড়-গোবিন্দ নামে এক অত্যাচারি রাজা ছিল। গৌড় রাজ্যের অধিবাসী বুরহান উদ্দীন নামক জনৈক মুসলমান নিজ ছেলের জন্ম উৎসব উপলক্ষে গরু জবাই করে গৌড়ের হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দের কাছে অপরাধি সাবস্ত হন।

ফলে গোবিন্দ বুরহান উদ্দীনের শিশু ছেলেকে ধরে নিয়ে হ্ত্যা করে। বুরহান উদ্দীন বাংলার তৎকলীন রাজা শামস উদ্দীন ফিরুজ শাহের নিকট গিয়ে এই নিষ্ঠুর হ্ত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করলে রাজা তাঁর ভাগিনা সিকান্দর গাজীকে প্রখণ্ড সৈন্য বাহিনীর সঙ্গে শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্যে প্রেরণ করেন। শাহী সৈন্য যখন ব্রহ্মপুত্র নদী পার হতে চেষ্টা করে তখনই রাজা গোবিন্দ ভৌতিক শক্তির সাহায্যে মুসলিম সৈন্যের উপর অগ্নীবাণ নিক্ষেপ করে সমস্ত চেষ্টাকে বিফল করে দেন। গোবিন্দের ঐন্দ্রজালিক শক্তির প্রভাবে সিকান্দর গাজীর প্রতিহ্ত ও বিফল মনোরথের সংবাদ দিল্লীর সম্রাট আলাউদ্দীন খিলজীর নিকট পৌঁছলে সম্রাট এ সংবাদে মর্মাহত হন।

পরবর্তিতে সম্রাট তাঁর রাজদরবারী আলেম-উলামাসহ জ্যোতিষদের সঙ্গে আলোচনায় এই মর্মে অবহিত হন যে, সুলতানের সেনাবাহিনীতে আধ্যাতিক শক্তি সম্পন্ন এক ব্যক্তি রয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে অভিযান প্রেরণ করা হলে গৌড়গোবিন্দের যাদু বিদ্যার মোকাবেলা করে সিলেট বা শ্রীহট্ট জয় সম্ভব হবে। জ্যোতিষরা উক্ত আধ্যাতিক শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তির পরিচয়ের পন্থা হিসেবে এও বলেছিল, আগামী দুই/এক রাতের মধ্যে দিল্লী নগরীতে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টিতে সমস্ত নগরী ভেসে যাবে, প্রতিটি ঘর বাড়ির ভীষণ ক্ষতি লক্ষিত হবে, কোথাও কোন প্রদীপ থাকবে না একটি মাত্র তাঁবু ব্যতিত।

সম্রাট জ্যোতিষদের কথামত অনুসন্ধান করে সেই ঝড় বৃষ্টির রাতে দেখতে পেলেন একজন সাধারণ সৈনিক একটি তাঁবুতে একাগ্র মনে বসে কোরআন পড়ছেন। সম্রাট সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর সব বিষয় অবগত হয়ে সিলেট অভিযানের নেতৃত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি সৈয়দ নাসির উদ্দীন সম্রাটের অনুরোধে সম্মত হলে সম্রাট তাঁকে সিপাহসালার সনদ প্রদানের মাধ্যমে সিকান্দর গাজীর কাছে প্রেরণ করেন। এদিকে গাজী বুরহান উদ্দীন তখন দিল্লীতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শাহজালাল (রহ.)ও তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে দিল্লীতে আসেন। দিল্লীতেই বুরহান উদ্দীনের সাথে শাহ জালালের সাক্ষাৎ হয় এবং এখানেই বুরহান উদ্দীন নিজের দুঃখময় কাহিনী তাঁর নিকট বর্ণনা করেন।
সিপাহশালার নাসির উদ্দীনের দেখাঃ
শাহজালাল (রহ.) দিল্লী হতে বুরহান উদ্দীনকেসহ ২৪০ জন সঙ্গী-সহচর নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলেন। শাহজালাল (রহ.) সাতগাঁও এসে ত্রিবেণীর কাছে দিল্লীর সম্রাট প্রেরিত অগ্রবাহিনী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীনের সঙ্গে মিলিত হন। সৈয়দ নাসির উদ্দীন শাহজালাল (রহ.) সম্পর্কে অবগত হয়ে তদীয় শিষ্যত্ব গ্রহণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। পথে পথে শাহজালাল (রহ.) এর শিষ্য বর্ধিত হতে লাগল। ত্রিবেনী থেকে বিহার প্রদেশে আসলে আরও কয়েকজন ধর্ম যোদ্ধা অনুসঙ্গী হলেন। যাদের মধ্যে হিসাম উদ্দীন, আবু মোজাফর উল্লেখযোগ্য। এখান থেকে সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীনের আনিত এক হাজার অশ্বারোহী ও তিন হাজার পদাতিক সৈন্য সহ শাহজালাল (রহ.) নিজ সঙ্গীদের নিয়ে সোনারগাঁ অভিমুখে সিকান্দর গাজীর সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
সিকান্দর গাজীর দেখা ও ব্রহ্মপুত্র পারঃ
শাহজালাল (রহ.) সোনারগাঁ আসা মাত্রই শাহ সিকান্দর গাজীর সাথে সাক্ষাৎ ঘটলো। সিকান্দর গাজী শাহজালাল (রহ.)কে সসম্মানে গ্রহণ করলেন। শাহজালাল (রহ.) তাঁর সঙ্গী অনুচর ও সৈন্যসহ শাহ সিকান্দরের শিবিরে সমাগত হয়ে সিকান্দর হতে যুদ্ধ বিষয়ে সব বিষয় অবগত হন। সিকান্দর শাহজালাল (রহ.) এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শিষ্য গ্রহণপূর্বক সিলেট অভিমুখে যাত্রা করলেন। এভাবে শাহ জালাল (রহ.) এর শিষ্য সংখ্যা ৩৬০ জনে পৌঁছে। এদিকে গৌড় গৌবিন্দ নিজস্ব চরদ্বারা শাহজালাল (রহ.) এর আগমনের সংবাদ পেয়ে তাঁরা যাতে ব্রহ্মপুত্র নদী পার না হতে পারেন, সে ব্যবস্থা অনুসারে নদীর সমস্ত নৌ চলা-চল বন্ধ করে দেয়। শাহজালাল (রহ.) ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, তিনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে বিনাবাধায় জায়নামাজের সাহায্যে ব্রহ্মপুত্র নদী অতিক্রম করেন।
সিলেটে প্রবেশঃ
খ্রিস্টিয় দশম শতকে শ্রীহট্ট ভুমী লাউড়, জয়ন্তীয়া ও গৌড় নামে তিনটি স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। উক্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে গৌড় অন্যতম রাজ্য হিসেবে বিবেচিত ছিল। এ রাজ্যে প্রাচীন সীমারেখা বর্তমান মৌলভীবাজার জেলাসহ হবিগঞ্জ জেলার কিয়দাংশ নিয়ে বিস্তৃত থাকায় গৌড় রাজ্যের দহ্মিণ সীমাভূমী নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগণার পাশে রাজা গোবিন্দের চৌকি ছিল। শাহজালাল (রহ.) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদী পার হয়ে প্রথমত সেখানে অবস্থান করেন। এখানে গৌড়ের সীমান্ত রক্ষীরা অগ্নীবাণ প্রয়োগ করে তাদেরকে প্রতিহত করতে চায়। কিন্তু মুসলমান সৈন্যের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। রাজা গোবিন্দ সমস্ত বিষয় অবগত হয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে বরাক নদীতে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। শাহজালাল (রহ.) পুর্বের মত জায়নামাজের সাহায্যে বরাক নদী পার হন। বরাক নদী পারাপারে বাহাদুরপুর হয়ে বর্তমান সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলায় ফতেহপুর নামক স্থানে রাত্রি যাপন করেন। উল্লেখিত তথ্য সম্মেলিত প্রাচীন গ্রন্থ তোয়ারিখে জালালীতে উল্লেখ আছে।

সর্ব প্রকার কলাকৌশল অবলম্বন করে রাজা গৌড় গোবিন্দ যখন দেখলেন সকল প্রয়াসই বিফল হচ্ছে, তখন শেষ চেষ্টা করার লক্ষে যাদুমন্ত্র সহ এক প্রকাণ্ড লৌহ ধনুক শাহজালাল (রহ.) এর কাছে প্রেরণ করেন। যার শর্ত ছিল যদি কেহ একা উক্ত ধনুকের জ্যা ছিন্ন করতে পারলে গোবিন্দ রাজ্য ছেড়ে চলে যাবে। শাহজালাল (রহ.) তাঁর দলের লোকদের ডেকে বললেন, যে ব্যক্তির সমস্ত জীবনে কখনও ফজরের নামাজ কাজা হয় নাই বা বাদ পরে নাই একমাত্র সেই পারবে গোবিন্দের লৌহ ধনুকের জ্যা ছিন্ন করতে। অতপর মুসলিম সৈন্য দলের ভেতর অনুসন্ধান করে সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীনকে পাওয়া গেল এবং তিনিই ধনুকের জ্যা ছিন্ন করলেন।

সুরমা নদী পারাপারঃ
উত্তর-পূর্ব ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়ে যায়। সিলেট বিভাগের বেষ্টনী হিসেবে এ নদীগুলো প্রাচীনকালে প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হত। বর্ষাকালের দৃশ্য প্রায় সাগরের মত দেখাত। ঐতিহাসিক পর্যটক ইবনে বতুতা সুরমা নদীকে ‘নহরি আজরফ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শাহজালাল (রহ.) ফতেপুর হতে যাত্রা করে যখন সুরমা তীরে অবস্থান নিলেন। এ নদী পার হয়েই গৌড়ের রাজধানী। তখন শাহজালাল (রহ.) আউলিয়ার কেরামতি ও আলৌকিক বিভিন্ন ঘটনায় রাজা গোবিন্দ বীতশ্রদ্ধ হন। গোবিন্দ শক্রবাহিনীকে কিছু সময় ঠেকিয়ে রাখার জন্য সুরমা নদীতে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করেন। তা সত্ত্বেও শাহজালাল (রহ.) নদী পার হলেন। শাহ্জালাল (রহ.) বিসমিল্লাহ বলে সকল মুরিদকে নিয়ে জায়নামাজে করে অনায়াসে চলে গেলেন নদীর ওপারে।
সিলেট প্রথম আজান ধ্বনিঃ
সিলেট শহরে সর্বপ্রথম হযরত শাহজালাল (রহ.) এর আদেশে সৈয়দ নাসিরুদ্দিন সিপাহসালার আজান দেন।

গৌড় গোবিন্দের আত্মগোপনঃ
রাজা গোবিন্দ গড়দুয়ারস্থিত রাজবাড়ি পরিত্যাগ করে পেচাগড়ের গুপ্ত গিরি দুর্গে আত্মগোপন করেন। এরপর থেকে তার আর কোন হদিস মেলেনি। শাহ্ জালাল রহঃ তিন দিন সিলেটে অবস্থান করার পর মিনারের টিলায় অবস্থিত রাজবাড়ি দখল নেন এবং পরবর্তীতে মক্কা নগরী থেকে আহমেদ কবিরের দেওয়া মাটি এবং সিলেটের মাটির স্বাদ গন্ধ বর্ণ এক হওয়ায়- হযরত শাহ্ জালাল রহঃ ঐ স্থান হতেই ইসলাম প্রচার শুরু, সুফীবাদের আস্তানা ও স্থায়ীভাবে বসবাস এবং ধ্যান স্বাধনায় ইহ জীবন কাটিয়ে দেন।
সে-ই থেকে বাংলাদেশের সিলেট জেলাকে পূর্ণভুমি বা পবিত্র ভুমি বলা হয়ে থাকে। এবং তৎকালীন সময় থেকে হযরত শাহ্ জালাল এর বাংলাদেশ।
৩৬০ আউলিয়ার বাংলাদেশ!
ওলী-আউলিয়াদের বাংলাদেশ নামে আখ্যায়িত হয়।

বাৎসরিক ওরোছ মোবারকঃ ১৯/২০শে জ্বীলক্বদ আরবী।
উক্ত বাৎসরিক ওরোছ মাহফিল কে কেন্দ্র বাংলাদেশের তথা ভারতবর্ষ সহ বহু দেশের দর্শনারর্থী তরীকা জগতের ভক্ত আশেক পাগল স্বাধু পীর-মাশায়েখদের সমাগম ঘটে এবং সাত দিন ব্যাপী মহাসমারোহে ওরোছ মাহফিল উৎযাপিত হয় এবং মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা রাস উৎসবে স্থানীয় ও আগতদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করে।

🙏🙏🙏🙏🙏🙏
27/04/2026

🙏🙏🙏🙏🙏🙏

বাংলাদেশে হযরত শাহ কামাল (রহঃ) নামে বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত সুফি সাধক ও আউলিয়া ইসলাম প্রচার করেছেন। অঞ্চলভেদে তাঁদের জীবনী ও...
26/04/2026

বাংলাদেশে হযরত শাহ কামাল (রহঃ) নামে বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত সুফি সাধক ও আউলিয়া ইসলাম প্রচার করেছেন। অঞ্চলভেদে তাঁদের জীবনী ও পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হযরত শাহ কামাল ইয়ামানি (রহঃ) – জামালপুর
তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুর্মুঠে সমাহিত আছেন এবং উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে পরিচিত।
আগমণ: জনশ্রুতি অনুযায়ী, তিনি ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দের (৯১০ বাংলা) দিকে মুলতান বা আরব থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে জামালপুরে আসেন ।
বিখ্যাত অলৌকিক ঘটনা: কথিত আছে, তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল স্রোতকে আধ্যাত্মিক শক্তিতে পূর্বপাড়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন । এছাড়াও মহেন্দ্রগঞ্জের রাজা মহেন্দ্র নারায়ণের অসুস্থ পুত্রকে সুস্থ করার মাধ্যমে রাজাকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন ।
মাজার: মেলান্দহ উপজেলার ১নং দুর্মুঠ ইউনিয়নে তাঁর পবিত্র মাজার শরীফ অবস্থিত । প্রতি বছর বৈশাখ মাসে সেখানে মাসব্যাপী বিশাল ওরস ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় ।
বংশ পরিচয়: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, তিনি হযরত শাহ জামাল (রহঃ)-এর সহোদর ভাই ছিলেন ।
২. হযরত শাহ কামাল ইয়ামানি (রহঃ) – সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ জেলাতেও একজন শাহ কামাল ইয়ামানি (রহঃ)-এর স্মৃতি পাওয়া যায়।
আবাসস্থল: তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নান্দিনা কামালিয়া গ্রামে আস্তানা গেড়েছিলেন ।
পরিচয়: তিনি কোরাইশ বংশের একজন বংশধর ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে জমিদারদের থেকে প্রচুর জমি উদ্ধার করায় তাঁকে 'ভূঁইয়া' উপাধি দেওয়া হয় ।
স্থাপত্য: নান্দিনা কামালিয়ায় তাঁর নামানুসারে গ্রাম গড়ে ওঠে এবং সেখানে একটি উঁচু গম্বুজ বিশিষ্ট পাকা ঘরে তাঁর মাজার অবস্থিত ।
৩. হযরত শাহ কামাল (রহঃ) ওরফে 'শাহ বাঙ্গাল' – পিরোজপুর
বরিশাল ও পিরোজপুর অঞ্চলে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে তিনি ইসলাম প্রচার করেন ।
উপাধি: এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে তাঁর ব্যাপক সাফল্যের কারণে তাঁকে 'শাহ বাঙ্গাল' উপাধি দেওয়া হয় ।
অবদান: তিনি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের শেহাঙ্গল গ্রামে বসবাস করতেন এবং এই অঞ্চলে ৭টি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন ।
৪. হযরত শাহ কামাল উদ্দীন কোহাফাহ (রহঃ) – সিলেট
তিনি হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম একজন ছিলেন

ছবিঃ হযরত মোজাদ্দেদ আল-ফেসানী (রহঃ) -এর মহা পবিত্র রওজা মোবারক।হযরত মোজাদ্দেদ আল-ফেসানী সেরহিন্দী (রহঃ) ৯৭৫ হিজরীতে (১৫৬...
25/04/2026

ছবিঃ হযরত মোজাদ্দেদ আল-ফেসানী (রহঃ) -এর মহা পবিত্র রওজা মোবারক।
হযরত মোজাদ্দেদ আল-ফেসানী সেরহিন্দী (রহঃ) ৯৭৫ হিজরীতে (১৫৬৩ খ্রি.) পাঞ্জাবের তৎকালীন পাতিয়ালা রাজ্যের বিখ্যাত সেরহিন্দ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর বংশধর ছিলেন। তাঁর বয়সকাল ছিল রাসূল (সাঃ)-এর ন্যায় ৬৩ বছর। তাঁর জীবন ও কর্ম তাঁকে সত্যিকারের ওয়ারাছাতুল আম্বিয়ার মর্যাদা দান করেছে। উম্মতের মোহাম্মাদীর মুক্তির ফয়সাল স্বরূপ মহান আল্লাহ পাক তার উপর এনায়েত করেছেন সহজ, সরল ও মুক্তিকামী মানুষের তরিকা "তরিকায়ে মোজাদ্দেদীয়া "। মোজাদ্দেদীয়া তরিকা সম্মন্ধে মোজাদ্দেদ আল-ফেসানী (রহঃ) বলেনঃ "এ তরিকা মুক্তিকামী মানুষের তরিকা, কোন জাহান্নামী লোক এ তরীকায় সামীল হতে পারবে না। অন্যান্য তরিকার যেখানে শেষ মোজাদ্দেদীয়া তরিকা সেখান হইতেই শুরু "। মোজাদ্দেদ (রহঃ) হানাফী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন, তবে ইমাম শাফেয়ীকে তিনি অত্যন্ত ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন এবং কোনো কোনো আমল ইমাম শাফেয়ীর তরীকায় সম্পাদন করতেন।
ফসলের ক্ষেতে যেরূপ আগাছা জন্মায় এবং উক্ত আগাছা যথাযথ রূপে মূল উৎপাটন না করলে যেভাবে ফসলের মাঠ আগাছার মাঠে পরিণত হয় ঠিক তদ্রুপ ইসলাম নামক শস্যক্ষেত্রেও শিরক, বেদাত, কুফরীসহ বিভিন্ন আগন্তুক মতবাদের আগাছা জন্মায় অথবা উদ্দেশ্য মূলকভাবে আগাছার বীজ ছড়িয়ে দেয়া হয়, যাতে ইসলামের বাগান বাতিলের বাগানে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় যে ধর্মনেতা পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) কে অনুসরণ করে ইসলামের বাগানকে আগাছামুক্ত করার দায়িত্ব পালন করেন তাঁকে বলা হয় মুজাদ্দেদ বা সংস্কার কর্তা। শেখ আহমদ সারহিন্দী ছিলেন একজন যুগনায়ক, মুজাদ্দিদ ও মুজাহিদ। ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের এক মহাসংকট কালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং স্বীয় সাধনা ও কর্মশক্তি গুণে জাতির ইতিহাসে মোজাদ্দেদে আলফেসানী (দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মোজাদ্দেদ) নামে পরিচিত হন। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স.) বলেন- “আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর অবসান কালে এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি উম্মতের স্বার্থে তাঁর দ্বীনের (ইসলামের) সংস্কার সাধন করবেন।” -(আবু দাউদ)
মোজাদ্দেদ আলফেসনী (রহঃ) সময়কালে হিন্দুস্তানের সম্রাট ছিলেন সম্রাট আকবর, আকবরের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৬ খ্রি. সিংহাসনারোহণ করেন। সুতরাং আহমদ সেরহিন্দ এই উভয় প্রবল প্রতাপান্বিত মোগল সম্রাটদের রাজত্ব প্রত্যক্ষ করেন। মোজাদ্দেদ (রহঃ) যখন সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন তখন সম্রাট আকবরের চূড়ান্ত উন্নতি, সমৃদ্ধি ও শান শওকতের কাল। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য আকবর তখন ইরানী শিয়া ও ব্রাহ্মণ্যবাদী ঠাকুর-পুরোহিতদের পরামর্শে সঠিক ইসলামকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দ্বীনে ইলাহী নামক কুফরী ধর্ম প্রচারে ব্যস্ত। এমতাবস্থায় শেখ আহমদ সারহিন্দ অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতো প্রথমে রোগীর রোগের কারণ নির্ণয় করেন এবং অতঃপর রোগমুক্তির দাওয়াই সংগ্রহ করে প্রয়োগ করা শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি সফলতার দিকে এগিয়ে যায় এবং মুরতাদ আকবর শেষ জীবনে তওবা করে নিজ ধর্মে ফিরে আসেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীর পর্যায়ক্রমে সংশোধিত হয়ে এক পর্যায়ে শেখ আহমদ সারহিন্দ (রঃ) এর মাধ্যমে ইসলামের নিকট আত্মসমর্পণ করেন ও ইসলামী শরীয়ায় ইসলামী আইন জারি করেন।
শেখ আহমদ সারহিন্দীর সংস্কার কর্মসূচি তিনি সহজ-সরল-বোধগম্য ভাষায় তাঁর উপলব্ধি ও সিদ্ধান্ত মৌখিক ও লিখিত আকারে জাতির সামনে তুলে ধরেন। তিনি বুঝেছিলেন মূল ইসলাম ধর্মে অন্যান্য বিষয় অনুপ্রবেশের ধারাবাহিকতায় ধর্মনেতাদের বেশির ভাগ অংশ বিপদগামী এবং মাতৃভাষায় ইসলামকে না বুঝার কারণে জনগণ গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তাঁর সমকালীন উপলব্ধি ছিল- শাসকগোষ্ঠীই সকল অনাচারের মূল। আরবীতে একটি প্রবচন আছে যার অর্থ
হলো- “জনগণ শাসকদেরই অনুসারী হয়ে থাকে।” এ প্রসঙ্গে পত্র নং-৪৭, (১ম খ-)-এর ৬৫ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, “সাম্রাজ্যের সঙ্গে বাদশাহর সম্পর্ক ঠিক তেমন- যেমন সম্পর্ক দেহের সাথে মনের। মন যদি ঠিক থাকে তবে দেহও ঠিক থাকে। যদি মন বিগড়ে যায় তবে দেহ বিপথগামী হয়। সুতরাং বাদশাহর সংশোধন সাম্রাজ্যেরই সংশোধন। বাদশাহর বিপর্যয় সমগ্র সাম্রাজ্যের ধ্বংসের নামান্তর। এ জন্য তিনি শাসক পরিবর্তনের চাইতে শাসকের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনকেই অগ্রাধিকার দেন। হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) -এর সংগ্রাম ছিল অপশক্তি ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে। তিনি রক্ত, ঢাল,তরবারী দ্বারা যুদ্ধ সম্পাদন করেন নি, করছেন প্রেম দিয়ে। প্রেম অস্ত্র দিয়ে তিনি শাষকদের সংশোধন করেছেন, সংশোধন করেছেন সামাজিক সমাজ ব্যবস্থাকে। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা জগতেরবুকে প্রতিষ্টিত করে রক্ষা করেছেন দ্বীন এবং ইসলামকে।

ছবি পরিচিতিঃজামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দআবুল ফজল সুলতান আহমদ শাহ চন্দ্রপুরী নকশবন্দীমোজাদ্দেদী (রহঃ) সাহ...
24/04/2026

ছবি পরিচিতিঃ
জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ
আবুল ফজল সুলতান আহমদ শাহ চন্দ্রপুরী নকশবন্দী
মোজাদ্দেদী (রহঃ) সাহেব হুজুর কেবলার ব্যবহৃত ছনের
হুজরা শরীফ ¤ চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ ¤ চন্দ্রপাড়া
শরীফ, সদরপুর, ফরিদপুর,
বাংলাদেশ।

হযরত আবু উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ (রা.) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহাবী এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত (আশা...
23/04/2026

হযরত আবু উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ (রা.) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহাবী এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত (আশারায়ে মুবাশশারা) ১০ জন সাহাবীর একজন [৬, ১২]। তাঁর পবিত্র মাজার শরীফ সিরিয়ার জর্ডান উপত্যকার [৩] আমওয়াস (Amwas) বা আবু উবাইদা নামক স্থানে অবস্থিত, যা দামেস্কের নিকটবর্তী [৮, ৯]। তিনি আমওয়াসের মহামারীতে শাহাদাত বরণ করেছিলেন [৯]।

মাজার শরীফ ও হযরত আবু উবায়দাহ (রা.) সম্পর্কে মূল তথ্য:

স্থান: সিরিয়ার জর্ডান উপত্যকা, দেরা (Daraa) গভর্নরেটের [৩] আমওয়াস নামক স্থান।

পরিচিতি: তিনি "উম্মতের আমানতদার" (Aminul Ummah) হিসেবে পরিচিত ছিলেন [১৩]।

মুবারক জীবনী: তিনি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ছিলেন এবং সিরিয়া বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন [৯, ১৪]।

নাম: পূর্ণ নাম আমীর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জাররাহ [২]।

তিনি ছিলেন রাসূল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ও আস্থাভাজন সাহাবী।

আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ - উইকিপিডিয়া

আবু উবাইদা আমর ইবনে আবদিল্লাহ ইবনুল জাররাহ (৫৮১-৬৩৮) (আরবি: أبو عبيدة عامر بن عبدالله بن الجراح ) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ বলে অধিক পরিচিত, ছিলেন মুহাম্মদ (সা.) ...

22/04/2026

হযরত মুসা (আ.)-এর জামানার একজন আল্লাহ্‌প্রেমিকের ঘটনা।
- সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী

#হযরতমুসাআ #আল্লাহরপ্রেম #আল্লাহপ্রেমিক #সূফীসম্রাটদেওয়ানবাগী #দেওয়ানবাগী #হৃদয়স্পর্শীঘটনা #শিক্ষণীয়কাহিনী

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Message of Muhammadi Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share