22/07/2023
চোখে পানি এসে গেলো😥🥺
সুন্দরী গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়ার পর ব্রেকআপ হওয়ার সাথে সাথে তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলাম-'তোর থেকেও সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করব এক মাসের মাঝে।'
রাগে ক্ষোভে তখন অন্ধ হয়েই বাবাকে বলি ইমিডিয়েটলি আমার বিয়ের ব্যবস্থা করুন,আমি বিয়ে করতে চাই।
বাবা এটারই অপেক্ষায় ছিলেন।
আমার বিয়ে করা বৌকে যখন দেখে তখন আকাশ থেকেই পড়লাম।বাবার প্রতি ভরসা ছিলো বলেই মেয়ে দেখতে যাইনি।
বৌয়ের সাজে সজ্জিত এই মেয়েটিকে আমার মনে হচ্ছিলো সবচেয়ে কুৎসিত মানুষ।তখন মানুষ না মনে হয়ে প্রাণী মনে হলো।মোটা ঠোঁট, কুচকুচে কালো গায়ের রঙ,তীক্ষ্ণ নাক তার উপর বৌয়ের সাজ। মনের ভিতর থেকে নিজের অজান্তেই বের হয়ে আসলো -'ওয়াক থুহ,এত্ত বিশ্রী দেখতে মানুষ হয়!'
আমি কিছু বলার আগেই বৌ সালাম দিয়ে বলে উঠলো-'আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি আমি জানি,বাবা যখন বললেন আমার পছন্দই আমার ছেলের পছন্দ তখন আমার পরিবার আপত্তি করেনি।আপনার কাছে অনুরোধ আমাকে স্ত্রী হক দিতে হবে না শুধু স্বামীর হক আদায় করার সুযোগ দিবেন।আর বাবাকে এসব বলবেন না,তিনি কষ্ট পাবেন।'
তার এসব কথা আমার গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দিলো।রেগে বললাম-'তুই চুপ কর,অশিক্ষিত কুৎসিত মেয়ে।তোকে তো আমার বাসার কাজের বুয়াও বানাবো না আমি আবার স্ত্রী। নাম খাট থেকে এখানে তোর জায়গা হবে না।
সে নেমে গেলো নিঃশব্দে। বাবার উপর একরাশ ক্ষোভ নিয়েই আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
কান্নার শব্দে ঘুমটা ভেঙে যাওয়াতে জেগে দেখে আমার কুৎসিত বৌ মুনাজাতে কাঁদছে। খেঁকিয়ে বললাম-'তুই আমার নামে আল্লাহর কাছে বিচার দিচ্ছিস?দে আমার কি!তবে বলে রাখি এসব ভণ্ডামি চলবে না। আমার ঘুম নষ্ট করতে আসবি না।'
সে ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকিয়ে মাথা ঝাকালো।
আমার কাছে তার কুকুরের মতোও দাম ছিলো না।তাকে দেখলেই গা জ্বালা দিয়ে উঠতো।
তাকে আমি দেখেছি একজন স্বামী ব্রত নারী।আমার কখন কি লাগবে সে বলার আগেই জেনে যেতো।সে যা ছুয়ে দিতো তাতে বরকত আসতো।আমি কখনো চাইনি কেউ জানুক সে আমার বৌ।লজ্জায় মাথা কাটা যাবে।তাকে কেউ কখনো দেখেনি,কোনো পরপুরুষ না।বাবা বলল সে পর্দা করে।আমি মুখ বাকিয়ে বলেছিলাম-'পর্দা না ছাই,দেখতে কুৎসিত এজন্য সামনে যায় না।'
সেদিন বাবা আমার আর আমার বৌয়ের সম্পর্কে অবস্থার সত্যতা জানলো।
তখন বাবার সে কি রাগ,তিনি আমাকে ধিক্কার দিলেন এমন মেয়ের জন্য, ত্যাজ্জ দেওয়ার হুমকি দিলো।এমন মেয়ে নাকি পাওয়াই যায় না।
হা হা হা।কি বলে!এর চেয়ে আমার গার্লফ্রেন্ড ভালো ছিলো।
বিয়ের সাত মাস পর বৌ বাপের বাড়ি যায়।বাবা মা যায় বোনের বাসায়।
অফিস থেকে ফেরার পর পুরো বাসা যেন মরুভূমি মনে হলো।বিয়ের পর যখনই কলিং বেল চাপতাম আমার সেই কুৎসিত বৌ দৌড়ে এসে দরজা খুলে সালাম দিতো। হঠাৎ করে মনে হলো সালামটা শুধু সালাম ছিলো না আমার হৃদয়ের প্রশান্তি ছিলো।মিস করছিলাম তার হাত থেকে নেওয়া শরবতের গ্লাসকে।পিপাসা লেগেছিলো ভীষণ।ফ্রীজ খুলে চমকে গেলাম।লেবু কুঁচি দিয়ে এক গ্লাস শরবত রাখা।গ্লাসের গায়ে লেখা-আমি লজ্জিত আজ আপনাকে নিজে কষ্ট করতে হচ্ছে বলে,সকালে ফিরে আসবো।কষ্ট দেওয়ার জন্য আফওয়ান।
প্রথমবার তাঁর প্রতি ভালো লাগা কাজ করল।ইচ্ছে হলো তাঁকে দেখতে।এতো মাসেও একবারও তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখা হয়নি।
ইচ্ছে তাকে একটা টেক্সট করি,লিখি আমি তোমার প্রেমে পড়েছি।তোমার কেয়ারের প্রেমে পড়েছি।
মোবাইল বের করার পর মনে হলো তাঁর নাম্বারই আমার কাছে নেই।
আসলে কারও উপস্থিতি আমাদের বুঝতে দেয় না তাঁর গুরুত্ব।
কি অদ্ভুত! আজ প্রতিটি সেকেন্ড আমার কাছে কয়েক হাজার বছর মনে হচ্ছে। বারবার ইচ্ছে করছে তাঁকে সামনে বসিয়ে কেঁদে বলতে 'আমাকে ক্ষমা করে দাও,প্লিজ আর কখনো একা রেখে যাবে না কথা দাও।'
সারা রাত চটপট করতে করতে চলে গেলো।কত কি ভেবে পেললাম।সে আসলে তাঁকে নতুন করে বৌ সাজাবো,আমাদের ছোট্ট সংসার সাজাবো,এত্ত গুলা গুলুমুলু বাচ্চা আসবে।সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ঝটপট একটা কেক অর্ডার করে দিলাম।ঘরটাকে গুছিয়ে নিলাম।
স্বপ্ন সাজাতে সাজাতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম নিজেও জানি না।
বাবার ডাকে ঘুম ভাঙলো।তৎক্ষনাৎ উঠে বের হলাম।আমার টুকটুকে বৌটা এসেছে ভেবে।
রুম থেকে বের হয়ে তড়িঘড়ি করে বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম সে এসেছে কিনা।
বাবা আমতা আমতা করে বলল-'একটু মেডিকেলে চল,সমস্যা হয়েছে।'
তখনও আসল বিষয় মাথায় আসছিলো না।
বাবার সাথে গেলাম।বাবা পুরো রাস্তায় চুপ ছিলেন।বারবার ওর কথা জিজ্ঞেস করে জবাব পাচ্ছিলাম না।আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো।তার কিছু হয়নি তো?
জোর করে এসব চিন্তা বাদ দিলাম।
হাসপাতালে পৌছানোর পর রিসিপশনে কিসে যেন সিগনেচার নিলো।পড়ে দেখার ইচ্ছেটুকুও হয়নি।
বাবা আমাকে একটা রুমের সামনে নিয়ে গেলেন।কি হচ্ছে কিছুই বুঝলাম না।স্ট্রেচারে করে সাদা কাপড়ে ঢেকে রাখা লাশটাকে যখন বের করা হলো তখন বুঝলাম তা লাশঘর।আমার শক্তিটুকু লোপ পেয়ে গেলো।বাবার নিরবতাই সব কিছুর জবাব দিলো।আমার সে নয় তো এখানে?
কম্পিতা হাতে লাশের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে আমার কুৎসিত বৌ! এর চেহারা দেখতে পেলাম।
আমি চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করলাম।সে তো কথা দিয়েছিলো ফেরার তাই বলে নির্জীব লাশ হয়ে ফিরবে।নিষ্ঠুর সড়ক আমার প্রকৃত প্রণয়টুকু হতে দিলো না।খুব ইচ্ছে ছিলো তাঁকে জড়িয়ে ধরে আজন্ম নিজের করে নেওয়ার।
কিন্তু আমি কি তার ভালোবাসার হকদার? যেখানে সাতটা মাস তাকে হেও করে গিয়েছি,এক তিলও সুখ দিইনি।আমি তার অপরাধী।
আজ আমার টুকটুকে বৌর মৃত্যু বার্ষিকী। তাহাজ্জুদ পড়া সে বৌয়ের কান্নার আওয়াজ এখনো কানে বাজে।যখনই তার কথা মনে পড়ে তার লেখা ডাইরী পড়ি।শুধু একটা পৃষ্ঠাতেই লেখা আছে-'সৌন্দর্যের মাপকাঠি যেখানে সাদা চামড়া সেখানে কালো হয়ে জন্মানোটা পাপ।আমি এই পাপের পাপী বটে।জান্নাতে না হয় খুব সুন্দর হবো।আমার তিনি না হয় তখনই আমাকে ভালোবাসবেন।'
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি।