28/07/2021
আলহামদুলিল্লাহ, দুজনই স্টুডেন্ট। মজার বিষয়, দুজনই IIUCian। একজন কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্টের আর অন্যজন দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ এর।
আদন সাহেব, আমার অন্যতম কাছের বন্ধুদের একজন। বিয়ে হলো কিছুদিন আগে।
বন্ধু একদিন হোয়াটসএপে ছবি পাঠালো–দুটো জায়নামাজ পাশাপাশি বিছানো, কেবল জায়নামাজ।
চক্ষুশীতলকারী ছবি যাকে বলে। একটা ছবিই ছিল মাত্র–কিন্তু তার আড়ালে যেন ছিল এক স্বপ্নিল আকাশ, এক সবুজ বাগান।
স্ক্রিনের এপাশ থেকে আমার মনে হলো–দুটো মানুষ 'একসাথে' ভাল আছে। এই ফিৎনার ঘোর অন্ধকারে দুটো মানুষ একে অপরের পাশে আছে যেন আলোর প্রদীপ নিয়ে। একজনের প্রদীপের আলো নিভু নিভু হলে অন্যজন তার আলো দিয়ে পথ চলতে সাহায্য করবে; বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুনিয়ার পথ বলে ভ্রম হয়, আসলে যা জান্নাতের পথ ইনশা আল্লাহ।
দ্বীনের অর্ধেক নিশ্চয় এমনি এমনি বলা হয়নি। দ্বীনের অর্ধেক যাকে বলা হয়েছে, সেই জীবনসঙ্গিনী ব্যতীত জীবন অপূর্ণই।
এই পোস্টের মাধ্যমে প্রথম যে বার্তাটা পৌঁছুতে চাই–স্টুডেন্ট লাইফে বিয়ে করা যাবে না–এই মানসিকতা দূর করুন, সমাজ থেকে দূর হতে দিন।
সামগ্রিক দিক ভেবেই বলছি, ফর্মুলাটা পানির মতো সরল–আল্লাহ তা'আলা সামর্থ্য দিলে, স্টুডেন্ট লাইফে বিয়েতেই বরকত, এই বিয়েই হয়তো হতে পারে দুজনের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।
বয়স কম, ম্যাচিউরিটি নেই, হেন নেই, তেন নেই–সেসব ভিন্ন আলাপ। বিয়ের দায়িত্ব নেয়ার ম্যাচিউরিটি না আসলে সেটা ব্যক্তির সমস্যা, তার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, সর্বহালতে এই ফর্মুলা খাটাচ্ছি না।
বরং দৃষ্টিপাত করতে চাই সমাজের এক অদ্ভুত স্বভাবের দিকে–তারা হারাম সম্পর্ক দেখে এত কথা বলবে না, এতে তাদের সমস্যা নেই৷ যখনই হালালে আসে, তখনই তাদের ভেতরের বুদ্ধিজীবী সত্তা যেন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে–'ছাত্রাবস্থায় বিয়ে কেন!'
অথচ আল্টিমেটলি, হাশরের দিন আপনার আমলনামার হিসেবটা তারা দিয়ে দেবে না, আপনাকেই দিতে হবে।
ফ্যান্টাসিতে ভুগানো উদ্দেশ্য নয়, যাদের বিয়ে করা সম্ভব নয়, তাদের এতেই কল্যাণ; ফায়সালা হয় আসমানে। আর্লি ম্যারেজ বেনেফিটস বলাও উদ্দেশ্য নয়।
বক্তব্যটা স্পষ্ট–হালাল সহজ করুন, সহজ হতে দিন।
বিয়ের সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করুন; করানোর মতো মানুষ থাকলে করিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নিন। না থাকলে, ছাত্রাবস্থায় বিবাহকে উৎসাহিত করুন।
তাও না পারলে চুপ থাকুন। কেউ একজন ছাত্রাবস্থায় বিয়ে করেছে বলেই সমালোচনার কামান নিয়ে তেড়ে আসার কিছু নেই। গুনাহ থেকে বাঁচতে পবিত্র যে বন্ধনে আবদ্ধ হলো দুটো মানুষ, তা নিয়ে কিছু বলার আগে আল্লাহকে ভয় করুন।
হালাল কঠিন করবেন, হারাম ছড়িয়ে পড়বে।
আর যারা হারামে লিপ্ত–হারাম ছাড়ুন, হালালের বরকত বরণ করে নিন।
হালাল ছড়িয়ে পড়ুক আলোর বেগে। হারামের এই কুৎসিত আঁধারে প্রতিটি সম্পর্ক হয়ে উঠুক আলোর বিচ্ছুরণের উৎস, প্রতিটি ঘর হয়ে উঠুক দ্বীনের নূর ছড়ানোর মারকাজ।
আমার বন্ধু ও তার আহলিয়ার জন্য দু'আ রইলো। আল্লাহ তা'আলার জন্য যে ভালোবাসা, যে বন্ধন; মহান আল্লাহ যেন তা দুজনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত দৃঢ় ও অটুট রাখেন; আখিরাতের কঠিন সময় পেরিয়ে জান্নাতেও যেন তাদের মিলিয়ে দেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর একটি উক্তি দিয়ে ইতি টানছি–
"যদি এক রাত পরেই পৃথিবীর আয়ু ফুরিয়ে যায়, তবুও আমি পছন্দ করি, ওই একটি মাত্র রাতেও আমার সাথে আমার স্ত্রী থাকুক।”
(মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা : ৪/১২৮).
Tahsin kamal