21/02/2026
আস-সালা-মু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারকাতুহ্
সালাতুল ইশরাক (দুহা ও চাশত)-
ইশরাক শব্দটির অর্থ হলো আলোকিত হওয়া উদ্ভাসিত হওয়া । দুনিয়ার সকল ব্যস্ততা শুরু হওয়ার পূর্বেই আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক অপূর্ব সুযোগ হলো সালাতুল ইশরাক। সূর্য পরিপূর্ণ ভাবে উদিত হওয়ার পর ইশরাকের সালাত আদায় করতে হয়।
রসূলুল্ল-হ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতেন।এ সময় দুআ তাসবিহ পাঠ ও দ্বিনী আলোচনা করতেন। সূর্যোদয়ের পর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিকর করবে এবং এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরা পালনের সওয়াব হবে।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ রসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরার পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে।
সুনান আত তিরমিজী (ই.ফা.),হা/৫৮৬: মিশকাত,হ/৯৭১।
সুন্নাত ও নফল সালাতগুলো আল্লাহ তাআলা নৈকট্য লাভের অনন্য উপায়।ফরজের ঘাটতি গুলো ও পূরন করবে সুন্নাত ও নফল সালাত। এ প্রসঙ্গে রসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্ব প্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাতের। যদি তা সঠিক বলে গণ্য হয়, তবে সে হবে কল্যাণপ্রাপ্ত ও সফলকাম। আর যদি তা সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সে হবে অসফল ও ক্ষতিগ্রস্ত।
ফরযের মধ্যে যদি কোন ক্রটি দেখা যায়, তবে মহান প্রভু বলবেনঃ লক্ষ্য কর, আমার বান্দার কোন নফল আমল আছে কি? তা দিয়ে তার ফরযের যতটুকু ক্রটি আছে তা পূরণ করে দাও। পরে এতদনুসারেই হবে অন্যান্য সব আমলের অবস্থা।
সুনান আত তিরমিজী (ই.ফা.),হা/৪১৩; আবূ দাউদ,হা/৮৬৪; ইবনে মাজাহ,হা/১৪২৫।
সূর্য পরিপূর্ণ ভাবে উদিত হওয়ার (১৫-২০) মিনিট পর ইশরাকের সালাত আদায় করতে হয়। নবীজী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য উদিত হওয়ার পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতেন। দোয়া , তাসবিহ ও দ্বিনী আলোচনা করতেন সূর্য পরিপূর্ণ উদিত হওয়ার পর দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং এই আমলের প্রতি তিনি অন্যদেরও উৎসাহিত করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খলীল ও বন্ধু (নবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যাত (বিশেষ আদেশ) করেছেন, মৃত্যু পর্যন্ত তা আমি পরিত্যাগ করব না। তা হলো -
(১) প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম,
(২) সালাতুয্-যুহা এবং
(৩) বিতর (সালাত) আদায় করে শয়ন করা।
সহীহ বুখারী (তা.পা.),হা/১১৭৮; সহীহ মুসলিম,হা/ ৭২১।
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
মানুষের শরীরের ৩৬০টি জোড়া আছে।প্রত্যেক জোড়ার জন্য একটা সাদাকা ওয়াজিব হয়। যে দেখা করে, তাকে সালাম করা- সাদাকা; কাউকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয়া- সাদাকা; খারাপ কাজ থেকে মানা করা- সাদাকা; রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা- সাদাকা; এমনকি নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও- সাদাকা। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো নিজের কামস্পৃহা পূরণ করে, এটা সাদাকা হবে কিরূপে? তিনি বলেনঃ যদি সে তা অবৈধ স্থানে চরিতার্থ করে, তবে কি সে গুনাহগার হবে না?
এরপর নবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ সব কিছুর পক্ষ থেকে চাশতের সময় দু’রাকা’আত সালাত আদায় করাই যথেষ্ট।
সুনান আবূ দাউদ (ই.ফা.),হা/৫১৫৩,৫২৪২।
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্ল-হ্ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ঠিকভাবে নিষ্ঠাসহ কাজ করে নৈকট্য লাভ কর। জেনে রেখ, তোমাদের কাউকে তার ’আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না এবং
আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ’আমল হলো, যা সদাসর্বদা নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়।
সহীহ বুখারী (তা.পা.),হা/৬৪৬৪।
তাই আমরা যদি এটি নিয়মিত করি তাহলে আমাদের এই আমলটুকু আল্লাহ তাআলা কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমলে পরিনত হবে। এই জন্য নফল আমল বা অতিরিক্ত আমল কম করে হলেও আমরা নিয়মিত আদায়ের চেষ্টা করবো ইংশা আল্ল-হ।
আল্ল-হ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আমাদের আমলটি নিয়মিত করার তৌফিক দান করুন আমিন সূম্মা আমিন।