07/03/2023
❗❗শবে বরাত এর আমল❗❗
শবে বরাত শব্দটি ফার্সি শব্দ সুতরাং শবে বরাত কথাটি হাদীস বা কোরআন থেকে আসে নি। তবে এই রাত্রি সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হলেও বেশিরভাগ হাদীস জাল।যেহেতু এই রাত্রিকে নিয়ে সবথেকে বেশি বাড়াবাড়ি করা হয় সেহেতু এই রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে অস্বীকার করার উপায় নেই। হাদীসে এই রাত্রিকে ""লায়লাতুন নিসফে মিন শাবান অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ""।এখন কথা হচ্ছে এই রাত্রির গুরুত্বের বিষয়ে একটি হাদিস সম্পর্কে অনেক বড় বড় আলেমগণ সহীহ এবং হাসান হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হচ্ছে...."আবু মূসা আল আশআরী(রা) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ-১৩৯০)"
এখন এই হাদীসের কথা অনুযায়ী এই রাত্রি তার কাছেই গুরুত্বের রাত্রি হবে যিনি মুশরিক এবং হিংসা পোষনকরী নন অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি যদি এই রাত্রিতে ঘুমিয়েও থাকে তবুও তিনি ক্ষমা পেয়ে যাবেন। এখন হতাশার বিষয় হচ্ছে আমারা যারা এই শর্ত গুলোর বাহিরে আছি তারা কি করবো!!!
আল্লাহ তায়ালা কোরআনের অনেক যায়গায় বলেছেন বান্দাহ তার রবের নিকট তওবা করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ খুশি হন।যেহেতু এই রাত্রি সম্পর্কে কোনো আমল সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং আমরা যেহেতু জানি না আমরা ঐ ২ শর্তের মধ্যে আছি কিনা তাই আমাদের উচিত মন থেকে তওবা করা যে আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন অর্থাৎ মুশরিক ও হিংসা পোষনকরীদের থেকে বিরত রাখুন এবং সকল গুনাহ এর কাজ থেকে মুক্ত করুন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পূর্বে সালাত আদায় করতেন।তাই আমাদের উচিত নফল সালাত আদায় করে আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।
যেহেতু ক্ষমা প্রার্থনা একান্ত একটা বিষয় সেহেতু আমাদের উচিত নিজ ঘরে বসে ইবাদত করা মসজিদে দল বেঁধে নয়। তবে অবশ্যই নিয়ত থাকতে হবে যেন আগে যা গুনাহ করেছি আগামীকাল থেকে তা করবো না এবং ইসলামের সকল বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করবো।
সুতরাং এই রাত্রিতে যেহেতু কোনো আমল সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় সেহেতু আমাদের উচিত প্রচলিত বিদআতি আমল থেকে দূরে থেকে সহীহ আমল অন্বেষণ করা।
আল্লাহ তায়ালা সকলকে সহীহ আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন।