Write Of Islam

Write Of Islam Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Write Of Islam, Religious Center, Mymensingh.

গুনাহ্’র বিভিন্ন অপকারমুসলিম বলতেই সবারই এ কথা জানা উচিৎ যে, বিষ যেমন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর তেমনিভাবে গুনাহ্ও অন্ত...
16/09/2022

গুনাহ্’র বিভিন্ন অপকার

মুসলিম বলতেই সবারই এ কথা জানা উচিৎ যে, বিষ যেমন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর তেমনিভাবে গুনাহ্ও অন্তরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তবে তাতে ক্ষতির তারতম্য অবশ্যই রয়েছে। এমনকি দুনিয়া ও আখিরাতে যত অকল্যাণ অথবা ব্যাধি রয়েছে তার মূলে রয়েছে গুনাহ্ ও পাপাচার।

এরই কারণেই আদম ও হাউওয়া’ বা হাওয়া (আলাইহিমাস্ সালাম) একদা জান্নাত থেকে বের হতে বাধ্য হন।

এরই কারণে শয়তান ইব্লীস আল্লাহ্ তা‘আলার রহমত থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়।

এরই কারণে নূহ্ (আঃ) এর যুগে বিশ্বব্যাপী মহা প্লাবন দেখা দেয় এবং কিছু সংখ্যক ব্যক্তি ও বস্ত্ত ছাড়া সবই ধ্বংস হয়ে যায়।

এরই কারণে ’হূদ্ (আঃ) এর যুগে ধ্বংসাত্মক বায়ু প্রবাহিত হয় এবং সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়।

এরই কারণে সা’লিহ্ (আঃ) এর যুগে ভয়ঙ্কর চিৎকার শুনে সবাই হৃদয় ফেটে অথবা হৃদয় ছিঁড়ে মারা যায়।

এরই কারণে লুত্ব (আঃ) এর যুগে তাঁরই আবাসভূমিকে উল্টিয়ে তাতে পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং শুধু একজন ছাড়া তাঁর পরিবারের সকলকেই রক্ষা করা হয়। আর অন্যরা সবাই দুনিয়া থেকে একেবারেই নির্মূল হয়ে যায়।

এরই কারণে শু‘আইব (আঃ) এর যুগে আকাশ থেকে আগুন বর্ষিত হয়।

এরই কারণে ফির‘আউন ও তার বংশধররা লোহিত সাগরে ডুবে মারা যায়।

এরই কারণে ক্বারূন তার ঘর, সম্পদ ও পরিবারসহ ভূমিতে ধসে যায়।

এরই কারণে আল্লাহ্ তা‘আলা বনী ইস্রাঈল তথা ইহুদিদের উপর এমন শত্রু পাঠিয়ে দেন যারা তাদের এলাকায় ঢুকে তাদের ঘর-বাড়ি ধ্বংস করে দেয়, তাদের পুরুষদেরকে হত্যা করে, তাদের মহিলা ও বাচ্চাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের সকল সম্পদ লুটে নেয়। এভাবে একবার নয়। বরং দু’ দু’ বার ঘটে। পরিশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে কসম করে বলেন:

«وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ يَّسُوْمُهُمْ سُوْءَ الْعَذَابِ».

‘‘(হে নবী!) তুমি স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন তোমার প্রভু ঘোষণা করলেন, তিনি অবশ্যই কিয়ামত পর্যন্ত ইহুদিদের প্রতি এমন লোক পাঠাবেন যারা ওদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে’’। (আ’রাফ : ১৬৭)
ইব্নু ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) গুনাহ্’র অপকার সম্পর্কে বলেন: হে গুনাহ্গার! তুমি গুনাহ্’র কঠিন পরিণাম থেকে নিশ্চিন্ত হয়ো না। তেমনিভাবে গুনাহ্’র সঙ্গে যা সংশ্লিষ্ট তার ভয়াবহতা থেকেও। গুনাহ্’র চাইতেও মারাত্মক এই যে, তুমি গুনাহ্’র সময় ডানে-বামের লেখক ফিরিশ্তাদের লজ্জা পাচ্ছো না। তুমি গুনাহ্ করে এখনো হাসছো অথচ তুমি জানো না যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার সাথে কিয়ামতের দিন কি ব্যবহার করবেন। তুমি গুনাহ্ করতে পেরে খুশি হচ্ছো। গুনাহ্ না করতে পেরে ব্যথিত হচ্ছো। গুনাহ্’র সময় বাতাস তোমার ঘরের দরোজা খুলে ফেললে মানুষ দেখে ফেলবে বলে ভয় পাচ্ছো অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা যে তোমাকে দেখছেন তা ভয় করছো না। তুমি কি জানো আইয়ূব (আঃ) কি দোষ করেছেন যার দরুন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে কঠিন রোগে আক্রান্ত করেন এবং তাঁর সকল সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। তাঁর দোষ এতটুকুই ছিলো যে, একদা এক মযলুম তথা অত্যাচারিত ব্যক্তি যালিমের বিরুদ্ধে তাঁর সহযোগিতা চেয়েছিলো। তখন তিনি তার সহযোগিতা করেননি এবং অত্যাচারীর অত্যাচার তিনি প্রতিহত করেননি। তাই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে উক্ত শাস্তি দিয়েছেন।

এ কারণেই ইমাম আওযায়ী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: গুনাহ্ যে ছোট তা দেখো না বরং কার শানে তুমি গুনাহ্ করছো তাই ভেবে দেখো।

ফুযাইল বিন্ ’ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: তুমি গুনাহ্কে যতই ছোট মনে করবে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট তা ততই বড় হয়ে দেখা দিবে। আর যতই তুমি তা বড় মনে করবে ততই তা আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট ছোট হয়ে দেখা দিবে।

কখনো কখনো গুনাহ্’র প্রতিক্রিয়া দ্রুত দেখা যায় না। তখন গুনাহ্গার মনে করে থাকে যে, এর প্রতিক্রিয়া আর দেখা যাবে না। তখন সে উক্ত গুনাহ্’র কথা একেবারেই ভুলে যায়। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভুল চিন্তা-চেতনা।

আবুদ্দারদা’ (রাঃ) বলেন: তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার ইবাদত এমনভাবে করো যে, তোমরা তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। নিজকে সর্বদা মৃত বলে মনে করো। এ কথা সর্বদা মনে রাখবে যে, যথেষ্ট পরিমাণ স্বল্প সম্পদ অনেক ভালো এমন বেশি সম্পদ থেকে যা মানুষকে বেপরোয়া করে তোলে। নেকী কখনো পুরাতন হয় না এবং গুনাহ্ কখনো ভুলা যায় না। বরং উহার প্রতিক্রিয়া অনিবার্য।

জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি একদা এক অল্প বয়স্ক ছেলের প্রতি দৃষ্টিপাত করে তার সৌন্দর্য সম্পর্কে ভাবতেছিলেন। তখন তাকে স্বপ্নে বলা হলো যে, তুমি এর পরিণতি চল্লিশ বছর পরও দেখতে পাবে।

ইমান অর্থ বিশ্বাস। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসকেই ইমান বলে। প্রকৃত অর্থে মহান আল্লাহতায়ালা, নবি-রাসূল, ফের...
30/07/2022

ইমান অর্থ বিশ্বাস। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসকেই ইমান বলে। প্রকৃত অর্থে মহান আল্লাহতায়ালা, নবি-রাসূল, ফেরেশতা, আখেরাত, তাকদির ইত্যাদি মনে প্রাণে বিশ্বাস করা এবং মেনে চলাই ইমান।

কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে এসব বিষয়কে বিশ্বাস করে তিনিই হলেন মুমিন। ইমানের তিনটি দিক রয়েছে। যথা : ১. অন্তরে বিশ্বাস করা ২. মুখে স্বীকার করা এবং ৩. তদানুসারে আমল করা।

প্রকৃত ইমান হলো আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও তদানুযায়ী আমলের সমষ্টি। প্রকৃত মুমিন থেকে এ তিনটি বিষয় থাকা জরুরি। কেউ যদি অন্তরে বিশ্বাস করে কিন্তু মুখে স্বীকার না করে। বিপরীতে আবার মুখে স্বীকার করলেও অন্তরে বিশ্বাস করে না, এমন মনোভাব থাকলে কোনো ব্যক্তি ইমানদার হতে পারে না। ইমান বা বিশ্বাসের মৌলিক বিষয় সাতটি। মুমিন হওয়ার জন্য সাতটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস

ইমানের প্রথম ও সর্ববিধান বিষয় হলো মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। মহান আল্লাহতায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তার কোনো শরিক নেই। তিনি কাউকে জন্ম দেননি তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি।

তিনি আমাদের রব, মালিক, রক্ষাকর্তা, পালনকর্তা, সৃষ্টিকারী, সাহায্যকারী, জন্ম-মৃত্যুর মালিক। আল্লাহতায়ালা অনন্ত অসীম। তিনি তার বান্দার মাঝে সব সময় আছেন এবং থাকবেন। তিনি পবিত্র, ক্ষমাশীল, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান, সর্ব স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান।

ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস

ফেরেশতারা নুরের তৈরি। মহান আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তারা সর্বদা মহান আল্লাহর জিকির ও তাসবিহ পাঠ করে। ফেরেশতা অদৃশ্য, তবে মহান আল্লাহর আদেশে তারা নানা আকৃতি ধারণ করতে পারে।

ফেরেশতাদের সংখ্যা অগণিত, এর প্রকৃত সংখ্যা কেবল একমাত্র আল্লাহতায়ালাই জানেন। ফেরেশতাদের মধ্যে চারজন প্রসিদ্ধ। তারা হলেন হজরত জিবরাইল (আ.), হজরত মিকাইল (আ.), হজরত আজরাইল (আ.) এবং হজরত ইসরাফিল (আ.)।

আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস

মানবজাতির কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে নবি-রাসূল দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন এবং তাদের কাছে কিতাব নাজিল করেছেন। এসব কিতাবে আল্লাহতায়ালার স্বীয় পরিচয় ও ক্ষমতার বর্ণনা প্রদান করেছেন। আসমানি কিতাব সর্বমোট একশ চারখানা।

তন্মধ্যে একশখানা ছোট আর বাকি চারখানা বড়। বড় চারখানা কিতাব হলো তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কুরআন। তন্মধ্যে আল কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এটি শেষ জামানার

সবর বা ধৈর্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারিমে অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। সবর থেকে বিরত ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত বল...
30/07/2022

সবর বা ধৈর্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারিমে অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। সবর থেকে বিরত ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সবর বা ধৈর্যকে আল্লাহ তআলা ইবাদতের সুস্বাদু ফল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাইতো সবরকারী ব্যক্তিকে সফলকাম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
হাদিসে পাকে হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ হযরত মুহম্মদ (সা.) বলেছেন, সবর ৩ ধরনের।

(১) বিপদাপদের সময় সবর অবলম্বন;

(২) পাপাচার পরিহার করতে সবর অবলম্বন;

(৩) আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ পালনে সবর অবলম্বন করা।

সবর যে ইবাদতের সুস্বাদু নেয়ামত; তা সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য থেকেও বুঝা যায়। সবরের তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয় সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামগণ বলেছেন-

হজরত আলি (রা.) বলেন, সবর বা ধৈর্য হলো ঈমানের রহস্য। যার মধ্যে সবর নেই, তার মধ্যে ঈমানও নেই। বাস্তবেই শিরকমুক্ত ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে অবশ্যই সবর বা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সবরকে দুই ভাগে ভাগ করে বলেন-

(১) বিপদের সময় সবর অবলম্বন করা উত্তম;

(২) পাপাচার পরিহার করার সময় সবর করা। বিপদের সময় ও পাপাচার পরিত্যাগের সবর অবলম্বন অনেক কষ্টকর। আর এ কারণেই এ সবর উত্তম।

আল্লাহ তাআলার তরফ থেকেই মানুষের সব কিছু (সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি) হয়ে থাকে। এ কথা বিশ্বাস করে সাওয়াবের তালাশ করা; আর বিপদাপদের জন্যেও আল্লাহ পাকের কাছে রয়েছে সাওয়াব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার প্রতিটি কাজে সবর বা ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফিক দান করুন।

তুমি ফিরবে বলে১। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/123416280380962/২। https://www.facebook.com/105159248873...
04/07/2022

তুমি ফিরবে বলে
১। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/123416280380962/
২। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/123416557047601/
৩। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/123690237020233/
৪। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/123690700353520/
৫। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/124456036943653/
৬। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/126253043430619/
৭। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/126425160080074/
৮। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/126425433413380/
৯। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/126425650080025/
১০। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/126425873413336/
১১। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/126426433413280/
১২। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/127400519982538/
১৩। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/127400789982511/
১৪। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/127401139982476/
১৫। https://www.facebook.com/105159248873332/posts/127401429982447/
১৬ Last: https://www.facebook.com/105159248873332/posts/127401933315730/
Page Link; https://www.facebook.com/islamicknowledge1k/
Collected BY: https://www.facebook.com/profile.php?id=100045584741807

#তুমিফিরবেবলে

বর্তমান সময়ে যিনা-ব্যভিচার একটি মারাত্মক সমস্যা। বর্তমানে এ ব্যাধি এত মারাত্মক আকার ধারণ করছে যে প্রায় প্রতিটি ফ্লাট বাড়ী একটি যৌন কেন্দ্র। অভিজাত ফ্যামিলির ছেলে মেয়েরা এ সব অপকর্মকে কোনো অন্যায় মনে করছে না। তারা মনে করছে এটি তাদের তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার ও স্বাধীনতা। তারা উন্নত বিশ্বকে তাদের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা বলে উন্নত বিশ্বের মেয়েরা রাস্তা-ঘাট, হোটেল, পার্ক সব জায়গায় যেভাবে যৌন ক্ষুধা মিটিয়ে ঘরে ফিরে, তারাও এমন সমাজ ব্যবস্থার পক্ষপাতি। এ সব যেনা-ব্যভিচারের কারণে আজ সমাজে অশান্তি, মানবতার হাহাকার।

সত্য বলেছেন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সত্য তাঁর নবুওয়তের অহীলব্ধ ভবিষ্যদ্বাণী। তিনি বলেছেন,

«يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ: لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا، إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ، وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا، وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ، إِلَّا أُخِذُوا بِالسِّنِينَ، وَشِدَّةِ الْمَئُونَةِ، وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ، وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ، إِلَّا مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ، وَلَوْلَا الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا، وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللَّهِ، وَعَهْدَ رَسُولِهِ، إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ، فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ، وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ، وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ، إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ».

“হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর। যখনই কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না। যখনই কোনো জাতি ওজন ও মাপে কম দিতে আরম্ভ করবে তখনই তাদেরকে দুর্ভিক্ষ, জীবন-নির্বাহের কষ্ট ও শাসককুলের অত্যাচার পেয়ে বসবে। আর যখনই কোনো জাতি সম্পদের যাকাত প্রদানে বিরত থাকবে তখনই তাদের মধ্যে আকাশ থেকে অনাবৃষ্টি দেখা দিবে। যদি না জীব-জন্তু থাকত, তাদের মোটেই বৃষ্টি দেওয়া হতো না। আর যখনই আল্লাহ ও রাসূলের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে তখনই তাদের অধিকৃত বস্তুর কিছু হাতছাড়া হয়ে যাবে। আর যখনই কোনো জাতির নেতারা আল্লাহর কিতাব কুরআন দ্বারা বিচার-ফয়সালা করা ত্যাগ করবে এবং তা থেকে হুকুম পছন্দ করে গ্রহণ করবে না তখনই তাদের মধ্যে পরস্পর ভীতির সঞ্চার করবেন।”[1]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখনই কোনো জাতি তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তখনই তাদের মাঝে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। যখনই কোনো জাতির মাঝে অশ্লীলতা আত্মপ্রকাশ করে তখনই সে জাতির জন্য আল্লাহ মৃত্যুকে আধিপত্য প্রদান করেন। (তাদের মধ্যে মৃতের হার বেড়ে যায়।) আর যখনই কোনো জাতি যাকাত-দানে বিরত হয় তখনই তাদের জন্য (আকাশের) বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয়।”[2]

অবৈধ যৌনাচারের ফলে প্রাদুর্ভূত বিভিন্ন পুরনো রোগ তো আছেই। গনোরিয়া, সিফিলিস, শুক্র-ক্ষরণ প্রভৃতি যৌনরোগ ব্যভিচারীদের মাঝেই আধিপত্য বিস্তার করে। গনোরিয়া বা প্রমেহ রোগে জননাঙ্গে ঘা ও জ্বালা সৃষ্টি হয় এবং সেখান হতে পুঁজ নিঃসরণ হয়। মূত্রনালি জ্বালা করে, সুড়সুড় করে। মূত্রত্যাগে কষ্ট হয়। পানির মত প্রস্রাবের পর হলুদ পুঁজযুক্ত পদার্থ বের হয়। সে সঙ্গে মাথা ধরা ও ঘোরা, জ্বর এবং নিম্ন-গ্রন্থি-স্ফীতি তো আছেই।

সিফিলিস বা উপদংশ রোগ শরীরে প্রবেশ করার পর সপ্তাহ মধ্যে লাল দাগ ও ফুস্কুড়ি প্রকাশ পায়। এরপর হতে শরীর অনবরত চুলকায় ও তার চারিধারে প্রবাহযুক্ত পানি-ভরা ফোস্কা দেখা দেয় এবং ঐ সব ফুস্কুড়ি হতে পরে গলে ঘা হয় ও পুঁজ বের হয়। রোগ পুরনো হলে নখ খসে যায়, চুল ওঠে এবং সর্বাঙ্গে বিভিন্ন রোগ ও রোগের উপসর্গ প্রকাশ পায়।

আর শুক্র-ক্ষরণ রোগে তরল বীর্য যখন-তখন ঝরতে থাকে। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, বুক ধড়ফড় করে, মাথা ধরে ও ঘোরে ইত্যাদি।

সুতরাং এমন সব রোগের কথা শুনে শঙ্কিত হওয়া উচিত ব্যভিচারীকে। ক্ষণস্থায়ী সে স্বাদে লাভ কি, যার পরে আছে দীর্ঘস্থায়ী বা চিরস্থায়ী বিষাদ।

ব্যভিচার ব্যভিচারীর জন্য সাংসারিক ও পারিবারিক লাঞ্ছনা ডেকে আনে। আত্মীয়স্বজনের সামনে হতে হয় অপমানিত। কারণ, ব্যভিচারী যতই সতর্কতা ও গোপনীয়তা অবলম্বন করুক না কেন, একদিন না একদিন তার সে পাপ-রহস্য মানুষের সমাজে প্রকাশ পেয়েই যায়। ফলে তার ব্যাপারে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে একটা এমন দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে, যার দরুন সে প্রায় সকলের কাছে নিন্দার্হ ও ঘৃণার্হ হয়। সহজে কেউ তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম করতে চায় না। অনেক সময় তার কারণে তার পুরো বংশ ও পরিবারেরই বদনাম হয়। শেষে পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, ভালো লোকেরা তাদের সহিত কোনো সম্পর্ক কায়েম করতে চায় না। অবশ্য ‘কানা বেগুনের ডগলা খদ্দের’ তো আছেই।

পক্ষান্তরে ব্যভিচারীর জীবনে লাঞ্ছনা যখন আসে, তখন তার হৃদয়ের জ্যোতি বিলীন হয়ে যায় এবং মন ভরে ওঠে অন্ধকারে। অপমানের পর এমনও হয়ে থাকে যে, শেষে সে একজন নির্লজ্জ ধৃষ্টতে পরিণত হয়ে যায়। সমাজে চলার পথে তার আর কোনো প্রকার ‘হায়া-শরম’ বলতে কিছু থাকে না। আর যার লজ্জা থাকে না, তার কিছু থাকে না। লজ্জাহীনের পূর্ণ ঈমানও থাকে না। যার ফলে মানুষের মনুষ্যত্ব ধ্বংস হয়ে যায় এবং পশুর পশুত্ব এসে স্থান নেয় তার মনে ও আচরণে।

ব্যভিচারীর মনে সব সময় এক প্রকার ভয় থাকে। অন্তরে বাসা বাঁধে সার্বক্ষণিক লাঞ্ছনা। যেমন আল্লাহর আনুগত্যে থাকে সম্মান ও মনের প্রফুল্ল­তা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَٱلَّذِينَ كَسَبُواْ ٱلسَّيِّ‍َٔاتِ جَزَآءُ سَيِّئَةِۢ بِمِثۡلِهَا وَتَرۡهَقُهُمۡ ذِلَّةٞۖ ٢٧ ﴾ [يونس : ٢٧]

“যারা মন্দ কাজ করে, তাদের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে---।”[3] ব্যভিচারী সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে। জারজ জন্ম নিলে তো আরও। এ ছাড়া ব্যভিচারের ফলে তার সম্ভ্রম ও আত্মমর্যাদা যায়, স্ত্রী-কন্যার ব্যাপারে ঈর্ষা থাকে না। বরং ব্যভিচারী মিথ্যাবাদীও হয়, খেয়ানত-কারী ও ধোকাবাজ হয়। সাধারণত: বন্ধুর বন্ধুত্বের মানও খেয়াল রাখে না[4]।

ব্যভিচারী দ্বীনী ইলম থেকে বঞ্চিত হয়। কারণ, ইলম হলো আল্লাহর নূর। আর আল্লাহর নূর কোনো পাপিষ্ঠকে দেওয়া হয় না, তথা পাপের কালিমা সে জ্যোতিকে নি®প্রভ করে ফেলে।

ব্যভিচার এমন এক ‘ফ্রি সার্ভিস’ চিত্তবিনোদনের সুন্দর উপায় যে, ব্যভিচারীকে বিবাহ করে ঘর-সংসার করতে বাধা দেয়। তাকে বিবাহে আগ্রহহীন ও নিঃস্পৃহ করে তোলে। বিনা খরচ ও পরম স্বাধীনতায় যদি কাম-চরিতার্থ করা সহজ হয় এবং স্বামীর কোনো প্রকার দায়িত্ব ঘাড়ে না নিয়েই যদি মনের মত ‘বউ’ পাওয়া যায়, তবে কে আর বিয়ে করবে? ব্রিটেনের প্রায় ৯০ শতাংশ যুবক-যুবতী এই দায়-দায়িত্বহীন সম্পর্ককেই পছন্দ করে এবং বিবাহে জড়িয়ে পড়াকে বড্ড ঝামেলার কাজ মনে করে![5]

ব্যভিচার স্বামী-স্ত্রীর সংসারে ফাটল ধরায়। কারণ, অন্যাসক্ত স্বামীর মন পড়ে থাকে অন্য যুবতীর প্রতি। অনুরূপ অন্যাসক্তা স্ত্রীর মন পড়ে থাকে কোনো অন্য রসিক নাগরের যৌবন-আসনে। আর এই উভয়ের মাঝে সন্দেহ বাসা বাঁধে। একে অপরের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। সন্দেহ হয় স্বামীর নিজের সন্তানের ব্যাপারেও। প্রতিবাদ ও কৈফিয়ত হলে কলহ বাধে। অতঃপর চলে মারধর। আর তারপরই তালাক অথবা খুন!

ব্যভিচার পিতার পিতৃ-বোধ এবং মাতার মাতৃ-বোধ বিনষ্ট করে ফেলে। পিতৃ ও মাতৃবৎশল্য সন্তানদের উপর থেকে উঠে যায়। যেমন অনেকের জানতে বা অজান্তে সমাজে পয়দা হয় হাজারো জারজ সন্তান।

ব্যভিচার সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ডেকে আনে। ধর্ষণের ভয়ে কিশোরী-যুবতীর নিরাপত্তা থাকে না। এমন কি নিরাপত্তা থাকে না কোনো সুদর্শন কিশোরও! বাড়ির ভিতরে থেকেও মনের আতঙ্কে শান্তির ঘুম ঘুমাতে পায় না তারা। অনেকে ঐ শ্রেণীর হিংস্র নেকড়ের পাল্লায় পড়ে জীবন পর্যন্তও হারিয়ে বসে। নিরাপত্তা থাকে না কোনো সুদর্শন কিশোরও! বাড়ির ভিতরে থেকেও মনের আতঙ্কে শান্তির ঘুম ঘুমাতে পায় না তারা। অনেকে ঐ শ্রেণীর হিংস্র নেকড়ের পাল্লায় পড়ে জীবন পর্যন্তও হারিয়ে বসে।মানসিক বিপর্যয় ঘটিয়েই ব্যভিচার বহু সমাজ-বিরোধী অপরাধী সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পিতা-মাতার স্নেহ ও মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত জারজ সন্তানরা মানসিক কঠোরতা ও সামাজিক ঘৃণার মাঝে মানুষ হতে থাকে এবং পরিশেষে অপরাধ জগৎকেই মনের মত জগত বলে নিজের জন্য বেছে নয়।

১৬চক্ষুকে অবনত রাখার কয়েকটি উপকারিতা ইমাম ইবনুল কাইয়েম রহ. বর্ণনা করেন:এক- আফসোসের যন্ত্রণা ও না পাওয়ার বেদনা থেকে অন্তর...
04/07/2022

১৬
চক্ষুকে অবনত রাখার কয়েকটি উপকারিতা ইমাম ইবনুল কাইয়েম রহ. বর্ণনা করেন:

এক- আফসোসের যন্ত্রণা ও না পাওয়ার বেদনা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখা। কারণ, যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়, তার আফসোস আর না পাওয়ার বেদনা লেগেই থাকে।

দুই- দৃষ্টির হেফাযত মানুষের অন্তরে নূর ও আলো সৃষ্টি করে। অনুরূপভাবে দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া দ্বারা অন্তর, চেহারা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

তিন- দৃষ্টির হেফাযত করা দ্বারা একজন মানুষের দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায় এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়। যেমন আল্লামা কিরমানী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তার বাহ্যিক দিকসমূহকে সুন্নাত দারা সাজায়, আর সবসময় অন্তর দিয়ে আল্লাহর কথা চিন্তা করে, নিষিদ্ধ বস্তু হতে চোখকে হেফাযত করে, প্রবৃত্তিকে অন্যায় কর্ম হতে বিরত রাখে এবং হালাল খায় সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কখনোই অক্ষম হবে না।

চার- তার জন্য ইলমের পথ ও দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং ইলমের উপকরণসমূহ তার জন্য সহজ হবে। আর এটি অন্তরের নূরের কারণেই হয়ে থাকে। কারণ, যখন অন্তর নূর দ্বারা আলোকিত হবে, তখন তার মধ্যে সব কিছুর হাকিকত স্পষ্ট হবে। আর যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে যেভাবে ইচ্ছা ছেড়ে দেবে, তার অন্তর অন্ধকার ও আবর্জনাময় হবে।

পাঁচ- চোখের হেফাযত করা দ্বারা মানুষের আত্মার শক্তি, দৃঢ়তা ও সাহসিকতা বৃদ্ধি পায়।

ছয়- চোখের হেফাযত করা মানুষের অন্তরে তৃপ্তি, আনন্দ ও উজ্জ্বলতাকে বৃদ্ধি করে। চোখে দেখে কোনো কিছু উপভোগ করার লজ্জা হতে, অন্তরের আনন্দ ও খুশি অনুভব করা অনেক বড়।

সাত- চোখের হেফাযত একজন মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। কারণ, খারাপ বস্তুর দিক তাকানো মানুষকে অশ্লীল কর্মের দিকে ধাবিত করে। আর যখন কোনো ব্যক্তি তার চোখের হেফাযত করে, সে অশ্লীল কাজের মধ্যে পতিত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে। আর যখন সে তার দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেবে, তখন তার ধ্বংস অনিবার্য।

পরিশেষে আমরা বলব, আজ আমাদের যুব সমাজের সমস্যা অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করছে। তারা আজ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। যুব সমাজকে যদি রক্ষা করা সম্ভব না হয়, তাহলে সমাজের অবক্ষয় দূর করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। তাই আমরা সবাই সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং তাদেরকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো প্রাণপণ চেষ্টা যেন চালিয়ে যাই।আল্লাহর নিকট আমাদের কামনা আল্লাহ তা‘আলা যেন, আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে আমাদেরকে একটি সুন্দর সমাজ উপহার দেন। আমীন
Collected :Al Hadid
Collected By

১৫নারীরাও চক্ষুকে অবনত রাখতে নির্দেশিত। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَي...
04/07/2022

১৫

নারীরাও চক্ষুকে অবনত রাখতে নির্দেশিত। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠﴾ [النور : ٣٠]

“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত”।[1]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ﴾ [النور: ٣١]

“আর আপনি মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিশক্তিকে নত করে”। [সূরা আন-নূর: ৩১]

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«وخير صفوف النساء المؤخر، وشرها المقدم، يا معشر النساء إذا سجد الرجال فاغضضن أبصاركن..» الحديث.

“নারীদের জন্য উত্তম কাতার শেষের কাতার আর নিকৃষ্ট কাতার হলো সামনের কাতার। হে নারীর দল! যখন পরুষেরা সেজদা করে, তখন তোমরা তোমাদের চক্ষুকে অবনত রাখ”[2]

সালফে সালেহীন তথা এ উম্মতের ভালো পূর্বসূরীগণ চক্ষুকে অবনত রাখা বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকতেন। আমরা তাদের থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন ওয়াজ নসিহত শুনতে পাই এবং তাদের অবস্থান বুঝতে পারি, যা আমাদেরকে তাদের সাহসিকতা বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন। যেমন, আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

إذا مرت بك امرأة فغمض عينيك حتى تجاوزك".

“যদি তোমার পাশ দিয়ে কোনো নারী অতিক্রম করে, তখন অতিক্রম না করা পর্যন্ত তুমি তোমার চোখকে অবনত রাখ।”

কেউ কেউ বলেন,

من حفظ بصره أورثه الله نورا في بصيرته.

“যে ব্যক্তি তার দৃষ্টির হেফাযত করে, আল্লাহ তা‘আলা তার দূর-দৃষ্টির মধ্যে নূর ঢেলে দেন।”

আর সুফিয়ান রহ. যখন ঈদের দিন ঘর থেকে বের হতেন, তখন তিনি বলতেন,

«إن أول ما نبدأ به اليوم غض أبصارنا»

আজকের দিন আমি সর্বপ্রথম যে জিনিসটি দিয়ে শুরু করব, তা আমরা আমাদের চক্ষুকে অবনত রাখব।

এক ব্যক্তি যখন হাসান বসরীকে বলল, অনারব নারীরা তাদের বক্ষ ও মাথাকে খোলা রাখে, তখন সে বলল, اصرف بصرك. তুমি তোমার চোখকে বিরত রাখ। রবী ইবন খাসইয়াম তিনি সর্বদা দৃষ্টিকে নিচু করে রাখতেন। একদিন তার পাশ দিয়ে কতক নারী অতিক্রম করলে, তিনি তার মাথাকে নিচু করে তার বুক পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তখন মহিলা মনে করল, তিনি অন্ধ, ফলে তার অন্ধত্ব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় কামনা করল।

>
[1] সূরা নূর, আয়াত: ৩০

[2] আহমদ, হাদিস: ১৫১৬১

১৪ #তুমি_ফিরবে_বলেঅনেক সময় একজন মানুষ এমন কোনো স্থান বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন ইচ্ছা না থাকলেও নিষিদ্ধ বস্তু সমূহের...
04/07/2022

১৪
#তুমি_ফিরবে_বলে
অনেক সময় একজন মানুষ এমন কোনো স্থান বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন ইচ্ছা না থাকলেও নিষিদ্ধ বস্তু সমূহের উপর তার দৃষ্টি পড়ে, যাকে আমরা ‘হঠাৎ দৃষ্টি পড়া’ বলে আখ্যায়িত করে থাকি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে করনীয় হল, দৃষ্টিকে সাথে সাথে ফিরিয়ে নেয়া। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন,

سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نظر الفجأة فأمرني أن أصرف بصري".

“আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হঠাৎ দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি আমাকে আমার চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।[1] কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর উপর দৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে দীর্ঘায়িত না করে চোখ ফিরিয়ে নেওয়াই হল, সর্বাধিক উপকারী ও দ্রুত চিকিৎসা। দৃষ্টিকে দীর্ঘায়িত করা হলে অপরাধী ও গুনাহগার বলে সাব্যস্ত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«يا عليُّ لا تتبع النظرة النظرة فإن لك الأولى وليست لك الآخرة».

“হে আলী, তুমি দৃষ্টির পুনরাবৃত্তি করবে না, কারণ, প্রথম দৃষ্টি তোমার পক্ষে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য নয়”[2]।

>
[1] মুসলিম, হাদিস: ২১৫৯, তিরমিযি, হাদিস: ২৭৭৬

[2] তিরমিযি, হাদিস: ২৭৭৭, আবুদাউদ, হাদিস: ২১৪৯, আহমদ: ২২৯৯১

১৩যুব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো দৃষ্টি। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার সর্বত্র উলঙ্গ, অর্ধ উলঙ্গ ও নগ্ন ছবি দেখে যুব সমাজ তাদে...
04/07/2022

১৩
যুব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো দৃষ্টি। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার সর্বত্র উলঙ্গ, অর্ধ উলঙ্গ ও নগ্ন ছবি দেখে যুব সমাজ তাদের চরিত্রকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে প্রতি নিয়ত। এ ছাড়া ঘরে বসে টিভির পর্দায় বিভিন্ন ধরনের জোন উত্তেজক নাটক সিনেমা দেখে দেখে তারা ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। তাই যুব সমাজকে ধ্বংস ও অপ মৃত্যুর হাত থেকে বাচাতে হলে, অবশ্যই এ সব খারাপ দৃশ্য ও নগ্ন নাটক সিনেমা থেকে চোখকে হেফাযত করতে হবে। চোখ মানবাত্মার অন্তরে কোনো কিছু প্রবেশ করা বা উদ্রেকের জন্য বড় ধরণের সু-রঙ্গ ও প্রবেশদ্বার। ইমাম কুরতবী রহ. বলেন, চোখ অন্তরে কোনো কিছু প্রবেশের বড় দরজা। চোখের কারণেই মানুষের পদস্খলনটি বেশি হয়। ফলে চোখ থেকে অধিক সতর্ক হতে হবে। চক্ষুকে নিষিদ্ধ বস্তু ও ফিতনার আশংকা থাকে এমন সব বস্তুর দিক তাকানো হতে অবনত রাখতে হবে। আর চক্ষু অবনত রাখার অর্থ, একজন মুসলিম নিষিদ্ধ বস্তুর দিক তাকানো হতে বিরত থাকবে, সে শুধু বৈধ বিষয়সমূহ দেখবে। আর যদি অনিচ্ছায় কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর দিক নজর পড়ে যায়, তবে সাথে সাথে তা ফিরিয়ে নেবে। দৃষ্টিকে দীর্ঘায়ত করবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠ ﴾ [النور : ٣٠]

“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হিফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত”।[1]

আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে লজ্জা স্থানের হেফাজতের পূর্বে চোখের হেফাজত করার নির্দেশ দেন। কারণ, যাবতীয় দূর্ঘটনা ও বিপদের মূল হলো দৃষ্টি। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হাদিসে আমাদেরকে চক্ষু অবনত রাখতে নির্দেশ দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত তিনি বলেন,

اضمنوا لي ستا من أنفسكم أضمن لكم الجنة: اصدقوا إذا حدثتم، وأوفوا إذا عاهدتم، وأدوا إذا ائتمنتم، واحفظوا فروجكم، وغضوا أبصاركم، وكفوا أيديكم".

“তোমরা আমার জন্য ছয়টি জিনিসের জিনিসের দায়িত্ব নিলে, আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব নিব। যখন কথা বল, সত্য বল। যখন প্রতিশ্রুতি দেবে তা পুরো করবে, আর যখন তোমার নিকট আমানত রাখা হবে, তা রক্ষা করবে। আর তোমরা তোমাদের লজ্‌জাস্থানের হেফাজত করবে, তোমাদের চক্ষুকে অবনত করবে এবং তোমরা তোমাদের হাতকে বিরত রাখবে”।[2]

বরং অপর একটি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম চক্ষু অবনত রাখাকে রাস্তার হক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি তার সাথীদেরকে বলেন,

" إياكم والجلوس في الطرقات، فقالوا: يا رسول الله مالنا من مجالسنا بُدٌّ نتحدث فيها. فقال: " فإذا أبيتم إلا المجلس فأعطوا الطريق حقه. قالوا: وما حق الطريق يا رسول الله؟ قال: غض البصر، وكف الأذى ، ورد السلام، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر".

“তোমরা রাস্তা বা মানুষের চলাচলের পথে বসা থেকে বিরত থাক। সাহাবীরা বলল, হেহে আল্লাহর রাসূল! রাস্তায় বসা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নাই আমরা রাস্তায় বসে কথা-বার্তা বলি-আলোচনা করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমাদের বসতেই হয়, তাহলে তোমরা আল্লাহর হক আদায় কর। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কি? তিনি বললেন, চক্ষু অবনত করা, কষ্ট দায়ক বস্তু পথের থেকে সরানো, সালামের উত্তর দেয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা”।[3]

وقد وجد النبي صلى الله عليه وسلم الفضل بن عباس رضي الله عنهما ينظر إلى امرأة جاءت تستفتيه صلى الله عليه وسلم فأخذ بذقن الفضل فعدل وجهه عن النظر إليها.

একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একজন মহিলা ফতোয়া জানতে আসলে, তার দিক ফযল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে তাকাতে দেখলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থুতনী নীচে ধরে তার চেহারাকে অন্যদিক ফিরিয়ে দেন।[4] আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রহ. বলেন, এ কাজটি হল, তাকে এ ধরনের দৃষ্টি হতে নিষেধ করা এবং কাজটি থেকে বারণ করা। যদি এ ধরনের কাজ বৈধ হত, তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‌আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিত।

>
[1] সূরা নূর, আয়াত: ৩০

[2] আহমদ, হাদিস: ২২৭৫৭

[3] মুসলিম, হাদিস: ২১২১

[4] বুখারি, হাদিস: ৬২২৮

১২যুব সমাজের যত সব সমস্যা আছে তার মধ্যে বিবাহ না করা বা দেরিতে বিবাহ করা এটি একটি অন্যতম সমস্যা। সুতরাং যুবকদের সমস্যার ...
04/07/2022

১২
যুব সমাজের যত সব সমস্যা আছে তার মধ্যে বিবাহ না করা বা দেরিতে বিবাহ করা এটি একটি অন্যতম সমস্যা। সুতরাং যুবকদের সমস্যার প্রতিকারের জন্য অবশ্যই বিবাহ সম্পর্কে যুবকদের মধ্যে যে আতঙ্ক রয়েছে তা দূর করতে হবে এবং যথা সময়ে তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করতে হবে। নিম্নে আমরা বিবাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরব।

যুব সমাজ ও বিবাহ

যুবকদের অন্যতম সমস্যা হল, সময়মত বিবাহ না করা। এটি একটি মারাত্মক সমস্যা, যার কারণে যুব সমাজকে এত বেশি ও অসংখ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, যা কেবল আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। বিবাহ না করার তারা বিভিন্ন কারণ দেখায়। যেমন-

এক- তাড়া-তাড়ি বিবাহ করলে, পড়া লেখার ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়।

দুই- দ্রুত বিবাহ করা দ্বারা তার উপর স্ত্রী সন্তানের খরচ করার দায়িত্ব বর্তায়, যা তার জন্য কঠিন হয়।

তিন- যুবকদের বিবাহ করা হতে দূরে থাকার সবচেয়ে ক্ষতিকর বিবাহ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। যেমন, অধিক খরচ, যা অনেক সময় একজন যুবক বহন করতে সক্ষম হয় না। এটি আমার দৃষ্টিতে যুবকদেরকে বিবাহ হতে দূরে রাখার সবচেয়ে বড় সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা।

আমরা আন্তরিক হলে, যুবকদের এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা খুব সহজ এবং সহনীয়। প্রথমত: বিবাহ করার মধ্যে একজন যুবকের জন্য কি কি কল্যাণ, সাওয়াব, নেকী ও গুণাগুণ রয়েছে, তার বর্ণনা যুবকদের সামনে তুলে ধরতে হবে। দুনিয়াতে সব কিছুরই ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। অনুরূপভাবে বিবাহও। আমি বলি না যে, এর কোনো খারাপ দিক নাই। কিন্তু বিবাহের ভালো দিক, খারাপ দিকের তুলনায় অধিক উত্তম, ভালো, কল্যাণকর ও অগ্রগণ্য। সুতরাং, একজন যুবককে বিবাহের কল্যাণকর দিকগুলো বুঝাবে এবং বিবাহ করার প্রতি উৎসাহ দেবে, যাতে তারা বিবাহের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

বিবাহের উপকারিতা:

এক- বিবাহ লজ্জাস্থানের হেফাযত এবং চোখের হেফাযত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، عَلَيْكُمْ بِالبَاءَةِ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمُ البَاءَةَ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ»

“হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যার ক্ষমতা আছে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ, এটি চোখের জন্য নিরাপদ এবং লজ্জা-স্থানের হেফাযত। আর যদি কোনো ব্যক্তি অক্ষম হয়, সে যেন রোযা রাখে। কারণ, রোযা তার জন্য প্রতিষেধক”।[1]

বর্তমানে আমাদের এ যুগে অধিকাংশ যুবকই বিবাহ করতে সক্ষম। সুতরাং, তাদের বিবাহের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার গড়িমসি করা উচিত নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِفُرُوجِهِمۡ حَٰفِظُونَ ٢٩ إِلَّا عَلَىٰٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ فَإِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُومِينَ ٣٠ ﴾ [المعارج: ٢٩، ٣٠]

আর যারা তাদের যৌনাঙ্গসমূহের হিফাযতকারী, তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে, সে দাসীগণের ক্ষেত্র ছাড়া। তাহলে তারা সে ক্ষেত্রে নিন্দনীয় হবে না।[2]
বিবাহ লজ্জা-স্থানের জন্য নিরাপদ। অর্থাৎ বিবাহ তোমাকে মহা ক্ষতি-লজ্জা-স্থানের বিপদ-থেকে নিরাপত্তা দেবে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিবাহ লজ্জা-স্থানের হেফাজত এবং চোখের নিরাপত্তা। বিবাহ একজন যুবকের চোখকে ঠাণ্ডা করে এবং বিবাহ করার কারণে একজন যুবক এদিক সেদিক তাকায়-না অথবা আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তার প্রতি কোনো প্রকার কর্ণপাত করে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাকে হালালের মাধ্যমে হারাম হতে ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তার অনুগ্রহ ও দয়া দ্বারা অন্য সবকিছু হতে তাকে যথেষ্ট করেছে।

দুই- বিবাহ দ্বারা আত্মার তৃপ্তি ও প্রশান্তি লাভ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنۡ خَلَقَ لَكُم مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ أَزۡوَٰجٗا لِّتَسۡكُنُوٓاْ إِلَيۡهَا وَجَعَلَ بَيۡنَكُم مَّوَدَّةٗ وَرَحۡمَةًۚ ٢١ ﴾ [الروم: ٢١]

“আর তার নিদর্শনা বলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নির্দেশাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা চিন্তা করে”।[3]

যখন কোনো যুবক বিবাহ করে, তখন তার খারাপ আত্মা ও কু-প্রবৃত্তি খামুশ হয়ে যায়, দিক-বেদিক ছুটা-ছুটি করা হতে বিরত থাকে এবং তার অন্তর প্রশান্তি পায়। একজন যুবক অনেক সময় দুশ্চিন্তা ও পেরেশানিতে থাকে। কিন্তু যখন সে বিবাহ করে, তখন তার আত্মা শান্তি ও নিরাপদ থাকে। মোটকথা, বিবাহ করা, একজন যুবকের জন্য অসংখ্য কল্যাণের কারণ হয়ে থাকে।
দ্রুত বিবাহ করার উপকারিতা:

দ্রুত বিবাহ করার অন্যতম উপকারিতা হল, সন্তান লাভ করা যা একজন মানুষের চোখের শীতলতা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ أَزۡوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعۡيُنٖ وَٱجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِينَ إِمَامًا٧٤ ﴾ [الفرقان: ٧٤]

“আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’।[4]

আয়াত দ্বারা বুঝা যায় স্ত্রী সন্তানরা মানুষের চোখের শীতলতা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দেন যে, বিবাহের দ্বারা চোখের শীতলতা লাভ হয়। এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যুবকদের বিবাহ করার প্রতি উৎসাহ দেন এবং বিবাহ করার জন্য সাহস দেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন,

﴿هَبۡ لَنَا مِنۡ أَزۡوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعۡيُنٖ وَٱجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِينَ إِمَامًا ٧٤﴾ [الفرقان: ٧٤]

“আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’।[5]

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ٱلۡمَالُ وَٱلۡبَنُونَ زِينَةُ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَٱلۡبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّٰلِحَٰتُ خَيۡرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابٗا وَخَيۡرٌ أَمَلٗا ٤٦﴾ [الكهف: ٤٦]

“সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা। আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম”[6]।

সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য। আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয়, সন্তান দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য। আর মানুষ দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্যের প্রেমিক। একজন মানুষ যেভাবে ধন-সম্পদ তালাশ করে অনুরূপভাবে সে সন্তান-সন্ততিও তালাশ করে। কারণ, মাল যেমন দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য এমনিভাবে সন্তানও দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য। আর আখিরাতে নেক সন্তানের নেক আমলের সাওয়াব মাতা-পিতার উপরও বর্তাবে। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٌ جَارِيَةٌ، وَعِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ، وَوَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ »

“যখন আদম সন্তান মারা যায় তখন তার তিনটি আমল ছাড়া সব আমলের সাওয়াব বন্ধ হয়ে যায়। উপকারী ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকার লাভ করতে থাকে, সদকায়ে জারিয়া এবং নেক সন্তান যারা তাদের জন্য দু’আ করতে থাকে”।[7] সুতরাং সন্তান-সন্ততির মধ্যে দুনিয়ার জীবন ও আখিরাতের জীবন উভয় জাহানের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। অনুরূপভাবে যৌবনের শুরুতে বিবাহ করা দ্বারা যখন অধিক সন্তান লাভ হবে, তখন উম্মতে মুসলিমার সংখ্যা ও মুসলিম সমাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আর মানুষ ইসলামী সমাজ গঠনের বিষয়ে অবশ্যই দায়িত্বশীল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, بِكُمُ الْأُمَمَ»

“তোমরা বিবাহ কর এমন স্ত্রীদের যারা অধিক মহব্বত করে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের আধিক্যকে নিয়ে গর্ব করব”।[8]

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও বিবাহ করাতে অনেক কল্যাণ নিহিত। যখন তুমি একজন যুবকের সামনে এ ধরনের বিষয়গুলো তুলে ধরবে, তখন তার সামনে বিবাহ হতে বিরত রাখে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও বাধা দূর হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি বলে, দ্রুত বিবাহ করা দ্বারা পড়া লেখার ক্ষতি হয় বা উচ্চ ডিগ্রি লাভ করতে বাধা হয়, সে আসলে তোমাকে সঠিক কথা বলে নি। বরং সঠিক কথা হলো এর বিপরীত। কারণ, বিবাহ করার যে সব ফায়দা লাভ ও বৈশিষ্ট্যের কথা আমরা উপরে উল্লেখ করলাম, এগুলোর সাথে সাথে বিবাহ দ্বারা আরও যা লাভ হয়, তা হল, আত্মার প্রশান্তি, অন্তরের শান্তি ও চোখের শীতলতা। আর যখন কোনো মানুষের মন শান্ত থাকে, আত্মা পরিতৃপ্ত এবং চোখের শীতলতা থাকে, তখন তার জন্য সব কিছুই সহজ হয় এবং শিক্ষা লাভ করা সহজ হয়। আর বিবাহ বিলম্ব করা বা না করা দ্বারা মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য তথা অধিক জ্ঞান অর্জন করাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় না। কিন্তু যখন বিবাহ করে, তখন তার প্রবৃত্তি শান্ত হয় এবং সে একটি বিশ্রাম স্থল লাভে ধন্য হয় এবং এমন একজন স্ত্রী লাভে সক্ষম হয়, যে তাকে শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে এবং বাড়ি ফিরলে তার খেদমত ও সেবা যত্ন করবে। সুতরাং, আল্লাহ তা‘আলা যখন তাড়াতাড়ি বিবাহ করার সুযোগ করে দেয়, তা অবশ্যই করা উচিত, কাল ক্ষেপণ করা কোনো ক্রমেই উচিত না। কারণ, এটি একজন ছাত্রকে তার জ্ঞান অর্জনে সহযোগিতা করে। আর বিবাহ করাতে পড়া লেখা ও জ্ঞান অর্জনে বিঘ্ন ঘটে এ ধরনের ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক। অনুরূপভাবে তাড়াতাড়ি বিবাহ করার কারণে একজন ছাত্র বা যুবক স্ত্রী সন্তানের খরচ বহন করার দায়িত্ব নিতে হয় যার কারণে অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হয়, এ ধরনের কথা বলাও অমূলক। কারণ, বিবাহ করা দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা বরকত ও কল্যাণ দান করবেন। বিবাহ হচ্ছে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ ও আনুগত্য করা। আর এটি একটি সাওয়াবের কাজ ও উত্তম কাজ। যখন কোনো যুবক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশের অনুকরণ করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, বিবাহ করাতে যে সব বরকতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার অনুসন্ধান করে এবং তার নিয়ত খাটি হয়, তাহলে অবশ্যই এ বিবাহ তার জন্য কল্যাণের কারণ হবে। আর মনে রাখতে হবে, রিযকের মালিক আল্লাহ। আল্লাহ বলেন,

﴿۞وَمَا مِن دَآبَّةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ رِزۡقُهَا وَيَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّهَا وَمُسۡتَوۡدَعَهَاۚ كُلّٞ فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٖ ٦ ﴾ [هود: ٦]

“আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিযকের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল”। [সূরা হুদ, আয়াত: ৬] আল্লাহ তা‘আলা যাকে বিবাহ করার তাওফিক দেন তার জন্য ও তার স্ত্রী সন্তানের রিযকের ব্যবস্থা তিনিই করবেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَوۡلَٰدَكُم مِّنۡ إِمۡلَٰقٖ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكُمۡ وَإِيَّاهُمۡۖ ١٥١﴾ [الانعام: ١٥١]

“আর তোমরা দারিদ্রের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। আমিও তোমাদেরকে রিযক দেই এবং তাদেরকেও”।[9] সুতরাং, মনে রাখতে হবে, কোনো যুবককে তার ক্ষমতার অতিরিক্ত কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় না। এটি নিছক একটি ধারনা বৈ আর কিছু নয়। কারণ, বিবাহের কারণে বরকত হয় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়। বিবাহ মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চিরন্তন একটি বিধান। বিবাহ করা মানুষের জন্য কোনো প্রকার আতঙ্ক বা দুঃখ কষ্টের কারণ নয়। যদি মানুষের নিয়ত ভালো হয়, তাহলে বিবাহ কল্যাণ লাভের মাধ্যমসমূহ হতে একটি অন্যতম মাধ্যম। আর বর্তমানে মানুষ বিবাহের ক্ষেত্রে যে সমস্যা ও অসুবিধার কারণ দেখায়, এগুলো সবই মানুষের –নিন্দনীয়- আবিষ্কার। কারণ, বিবাহতে এ ধরনের কোনো অসুবিধা বা সমস্যা বিবাহের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন, বড় অংকের মোহর নির্ধারণ করা, বড় করে অনুষ্ঠান করা, অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অধিক টাকা পয়সার অপচয় করা ইত্যাদি যেগুলো বর্তমানে মানুষ করে থাকে, এগুলো করার বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলার বিধানে নেই। বরং, বিবাহ শাদিকে সহজকরণই ইসলামী শরিয়তের মূল লক্ষ্য। বিবাহ শাদিতে যে সব অনৈতিক ও অনর্থক কাজ করা হয়ে থাকে, সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের কোনো উপকারে আসে না বরং তা তাদের স্ত্রী সন্তানদের ক্ষতির কারণ হয়। সুতরাং, এগুলোর সংস্কার করতে হবে এবং বিবাহ শাদিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে না হয়, বিবাহ যাতে সহজ হয়, বিবাহতে খরচ কমিয়ে আনা যায় তার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আর অতিরিক্ত ব্যয়, অনুষ্ঠানাদি ইত্যাদি অনৈতিক ও অনর্থক বিষয়গুলো দূর করার উপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে বিবাহ শাদি তার আপন অবস্থা-সহজ পদ্ধতি কম খরচ-এর প্রতি ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলার নিকট আমাদের কামনা তিনি যেন, আমাদের সবার প্রতি দয়া করেন এবং আমাদেরকে সঠিক পথের দিক হিদায়েত দেন। আর তিনি যেন, মুসলিমদের অবস্থা ও মুসলিম যুবকদের অবস্থা সংশোধন করে দেন। আরও কামনা করি আল্লাহ যেন মুসলিমদেরকে তাদের হারানো ইজ্জত, সম্মান ও গৌরবকে ফিরিয়ে দেন, তাদের অবস্থার উন্নতি দান করেন। আল্লাহর নিকট কামনা, আল্লাহ যেন, মুসলিমদের তাদের দ্বীনের বিষয়ে সাহায্য করেন এবং তাদেরকে তাদের দুশমনদের অনিষ্টতা থেকে হেফাযত করার ক্ষেত্রে তিনিই যথেষ্ট হন। আর সালাত ও সালাম নাযিল হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার পরিবার পরিজন ও তার সব সাথীদের উপর। আর যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক।

>
[1] বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬, মুসলিম, হাদিস: ১৪০০

[2] সূরা মায়ারেয, আয়াত: ২৯, ৩০

[3] সূরা রুম, আয়াত: ২১

[4] সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪

[5] সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪

[6] সূরা কাহাফ, আয়াত: ৪৬

[7] তিরমিযি, হাদিস: ১৩৭৬, নাসায়ী হাদিস: ৩৬৫১

[8] আবু দাউদ, হাদিস:২০৫০, আহমদ: ১৩৫৬৯

[9] সূরা আনআম, আয়াত: ১৫১

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Write Of Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share