15/01/2022
মিশনারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে এত বিরোধীতা কেন?
১৮ শতক থেকে শুরু করে ২০ শতক পর্যন্ত ইংরেজরা ভারতবর্ষ শাসন করেছে ও ইংরেজরা তাদের পৈত্রিক ধর্ম ও মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু ২০০ বছরের কলোনিয়াল শাসনেও তারা বাংলার মানুষের মন থেকে ইসলাম সরাতে পারে নি। মধ্যযুগের ক্রুসেডরা মুজাহিদদের কাছে করুনভাবে পরাজিত হয়ে তারা বুঝতে পারে মুসলমানদের সামনাসামনি কোনোদিন হারানো সম্ভব নয়। তখন তারা ভন্ড আলেম-উলামা ও ইমাম তৈরি করে মুসলিমদের মাঝে পাঠাতে থাকে যাতে তারা মুসলমানদের মধ্যে ৩ টা জিনিস সৃষ্টি করতে পারে।
১. বিভ্রান্তি : উল্টাপাল্টা, ইখতেলাফি ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে
ঘন ঘন কথা বলে সবাইকে বিভ্রান্ত করা।
২. বিরোধ : পরস্পর বিরোধী অথবা অমিল যুক্ত
মতামতাবলম্বীদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ানো।
৩. বিভাজন: স্বাভাবিকভাবেই উপরের দুইটা ফ্যাক্টরকে
ভিন্ন জাতীয়তাবাদ, আকীদা, মাজহাব, কিংবা
ধারার অনুসারীদের মধ্যে খুব সহজেই লংটার্ম
গণ্ডগোল পাকানো সম্ভব।
রোমানদের এই পরিকল্পনা আংশিক সফলতা পেলেও ব্যর্থ হয়। উল্টা রোমান সাম্রাজ্যেরই পতন ঘটে। তবে রেনেসাঁ পরবর্তী কলোনিয়াল শাসনে ইসলামের ক্ষতি না করে পেরে ইংরেজরা এই পরিকল্পনা হাতে নেয়। আজ তাদের সফলতা বিশ্বজুড়ে।
📍মিশনারী এনজিও :
বাংলাদেশ পার্বত্য ও উত্তরের দরিদ্র ও দুর্গম এলাকাকে ঘিরে
এনজিও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান লবির তাদের দেশী সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে সুদীর্ঘ কাল ব্যাপী নানা মুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। সবসময় শিক্ষা, চিকিৎসা,
সমাজ ও মানবতার সেবার অভিনয়ে তারা মূলতঃপার্বত্য
এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে ইউরোপীয়
জীবনাচার ও দর্শনের দিকে আকৃষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছে।মুঘল আমলেই এদেশের প্রতি এন জি ও এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের দৃষ্টি পতিত হয়। তখন থেকেই তারা দরিদ্রদের জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করে। অনেক সময় তারা নিজেদের খ্রিস্টান না বলে ''ঈসায়ী ইসলাম" অনুসারী বলে মানুষকে ধোঁকা দেয়। এবিষয়ে বিস্তর আলোচনার লিংক কমেন্টে দিয়া হলো। [১]
📍মিশনারী কলেজ : মিশনারী প্রতিষ্ঠান কখনোই কাউকে মুসলমান থেকে খ্রিস্টান বানানোর জন্যে কাজ করে না। বরং তাদের উদ্দেশ্য আরও জঘন্য। তারা মুসলমানদের নিজ ধর্মজ্ঞানহীন ও ইনফিরিয়রটি কমপ্লেক্সে ভুগা সেকুলার বানায় যাদের কাছে ''আগে চান্স পেয়ে দেখান" টাইপ কথা বলে ইনস্টিটিউটশনাল প্রাইড শো অফ করাটাই জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য।
মিশনারী কলেজের শিক্ষামান খারাপ তা বলার কোনো অবকাশ নেই। তারা বেছে বেছে ভালো শিক্ষার্থীই নেয়। পড়াও ভালো। কিন্তু সমস্যাটা তাদের দ্বিচারি আচরণে।
প্রকাশ্যে "যাজক ও সন্ন্যাস" দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং মাথার উপর "খ্রিস্টান মিশনারী" ট্যাগ লাগিয়ে, হিজাব নিষিদ্ধ করে তারা আবার নিজেদের অসাম্প্রদায়িক - ধর্ম নিরপেক্ষ বলে।
চোরের মায়ের বড় গলা!!!
▪️হলিক্রস : মিশনারী কলেজ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল। চরম নির্লজ্জ ও বেহায়া মানুষ তৈরী করে এই হলিক্রস। মুসলিম প্রধান দেশে হিজাব নিষিদ্ধ করার পরও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবার দেখি নির্লজ্জের মতো সেইটাকে ডিফেন্ড করার জন্যে মনগড়া যুক্তি দিয়ে পোস্ট দেয়। ''শিক্ষকের কোনো লিংগ নাই'', "পর্দা করা ফরজ না" এই টাইপ হাস্যকর কথা বলে রীতিমতো বিনোদনের খোরাক হয়।
▪️সেন্ট গ্রেগরি :অবশ্য আপনারা অনেকে ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন। হ্যা...!!! সেন্ট গ্রগর ক্যাথলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ১৫ই ডিসেম্বর ২০২১ এর হিজাব নিষিদ্ধের নোটিশ। পুরাতন ঢাকার বাহাদুর পার্ক সংলগ্ন মিউনিসিপ্যাল রোডে এক বিবাহিত খ্রিষ্টান পাদ্রি গ্রেগোরি দি গ্রুট ১৮৮২ সালে সেন্ট গ্রগর ক্যাথলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮২ সাল থেকে বর্তমান একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এ স্কুলটিতে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি কৌশলে অনেককে খ্রিষ্ট ধর্মের জ্ঞান ও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। বলতে গেলে এই স্কুলে Protestant Christianity তথা মডারেট খ্রিষ্টধর্মের দাওয়াত ও শিক্ষা, বিশ্বাসের বীজ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মগজে প্রবেশ করানো হচ্ছে Orthodoxical Christianity তথা আহলে কিতাবের খ্রিষ্টধর্মের পরিবর্তে। বলতে গেলে Protestant Christianity এর শিক্ষা ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংস করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে কেননা প্রকৃতভাবে খ্রিষ্টান ধর্মের এই ভ্যারিয়েন্ট একটা মানুষকে নাস্তিক, মদখোর, জুয়াখোর, পতিতাবাজ, রংবাজ হবার শিক্ষা দেয়। অন্যদিকে আহলে কিতাবের খ্রিষ্টধর্ম একটা মানুষকে ইসলামের দিকেই বেশি অগ্রগামী করে তুলে। ফলে সে মুমিন, হালাল খাদ্য গ্রহণকারী, মিতব্যয়ী, দায়িত্ববান স্ত্রী/স্বামী, ন্যায়পরায়ণ হতে পারবে। আমাদের দেশে এই স্কুলটির পাশাপাশি যতগুলো খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুল আছে, সব উপরোক্ত প্লান-বি এর সাথে যুক্ত কেননা প্লান-এ প্রত্যক্ষভাবে কায়েম করা সম্ভব নয়। ফলে তারা প্লান-বি এর সাথে যুক্ত রয়েছে। এরা প্রকাশ্যে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানোর পূর্বে গোপনে ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড করে থাকবে। আমরা ইতিমধ্যে জানি যে: ১৫ই ডিসেম্বর ২০২১ এ সেন্ট গ্রেগর স্কুলের প্রিন্সিপাল একটা নোটিশ দেন স্কুলের শিক্ষকদেরকে উদ্দেশ্য করে এই মর্মে: "শিক্ষকবৃন্দদের অনুরোধ করা হচ্ছে তারা যেন ক্লাসরুমে, অনুষ্ঠানে ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ডে যেন হিজাব পরিধান না করে।" খুব কম মানুষই আছে যারা কিনা এই বিষয় নিয়ে ভাবে কিংবা আলোচনা করে। একটা বিষয় স্পষ্ট যে: হিজাব নিষিদ্ধের মূল কারণ সম্ভবত খুশি কবির, লোপা রহমান প্রমুখরা নাস্তিক্যবাদী নেড়িবাদের বিশাল বাস্তবায়ন। ছবি কমেন্টে। [২]
▪️ভিকারুন্নিসা : এটা মিশনারী না হলেও কিছুটা মিশনারীর আদলেই গঠিত। মিশনারী প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোথাও নটরডেমের সমালোচনা হলেই কোনো এক অদ্ভুত কারণে তারা চেতে যায়। নামটা শুনলেই আজকাল অনেকের হাসি পায়। অবশ্য তার কারণ যুক্তিসংগত। হলিক্রসের মতো হিজাব নিষিদ্ধ না করলেও এরা হিজাবী সমকামী সমর্থক তৈরী করতে পারে। আলাদাভাবে মোরালিটি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানের স্বয়ং প্রিন্সিপাল একজন ক্রিমিনাল গ্রেডের মানুষ। বিশ্বাস হয় না? কমেন্টে প্রমাণ দিয়ে দিচ্ছি। [৩]
এটা অবশ্যই সত্য যে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া সবাই খারাপ হয় না, প্রচুর ভালো মানুষও দেখেছি। সমস্যা শিক্ষা কিংবা শিক্ষার্থীদের নয়। সমস্যা ইসলামবিরোধী রেটোরিককে জাস্টিফাই করা মানুষদের মধ্যে। মিশনারী কলেজে ঢুকেই নিজেদের সুপিরিয়র ভেবে জেনারেল বা মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে টিটকারি অহংকারী কালপিটগুলার মধ্যে।
মিশনারী বিরোধীতার কারণ খ্রিস্টত্ববাদ নয়। এর বিরোধিতার কারণ মিশনারী প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া কলোনিয়াল স্লেভগুলা। যেকোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের নিজেদের ড্রেসকোড দিতে পারে। নিজেদের নিয়ম-কানুন প্রয়োগ করতে পারে। এস্বাধীনতা তাদের আছে।
কিন্তু ইসলাম বিরোধী কানুন করে নিজেদের অসাম্প্রদিয়ক বলবা, আবার মুসলমানদের ব্রেনওয়াশ করে তাদরকে দিয়া ওইটারে ডিফেন্ড করাবা আবার মনে মনে আশা করবা আমরা তালি দিবো? ফাউ কামে ইন্টেলেকচুয়াল স্লেভারি সবার কাছে আশা করবেন না।
Written by - Tanzirul Islam Nibeer & Rafiul Islam