03/10/2025
যাদুগ্রস্ত রোগীদের একটি সাধারণ সমস্যা হলো ‘খাওয়ানো যাদু’। এই যাদু কখনো সরাসরি খাবারের মাধ্যমে খাওয়ানো হয়, আবার কখনো স্বপ্নের ভেতর জ্বিনদের দ্বারা খাওয়ানো হয়। তবে যেসব রোগী নিয়মিত আমল, সদকা ও রুকইয়া করে—তাদের শরীরে যাদুর প্রভাব কম থাকে।
আর যারা রুকইয়া করে না, যাদুর দ্বারা আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা দেখা দেয়। অর্থাৎ, প্রায়ই তারা স্বপ্নে দেখে কেউ তাকে ঘুমের মধ্যে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।
এভাবে স্বপ্নের মাধ্যমে যাদু খাওয়ানোর পেছনে মূল উদ্দেশ্য থাকে—জ্বিন যেন রোগীর শরীরে টিকে থাকতে পারে এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে।
• পেটের যাদু বের করার উপায়: (إستفراغ)
‘ইস্তিফারগ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ—বমি করা, বা উদরস্থ (পেটের ভিতরের) কোনো বস্তু বের করে দেওয়া। শরীর থেকে যাদু, বদনজর, অথবা অন্যান্য ক্ষতিকর বস্তু বের করার জন্য এটি একটি পরীক্ষিত চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রাকৃতিক উপায়ে যেমন বমি হতে পারে, তেমনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যেও ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করানো হয়।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তার বিখ্যাত বই “আত-তিব্বুন্নববী”-তে বলেন—“ইস্তিফারগ শরীরের জন্য উপকারী, কারণ এতে দেহে জমে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ (যাদু, বদনজর, হাসাদ) বের হয়ে যায়।”
হাকিমি চিকিৎসায় (প্রাচীন হিজামী বা হাকিমি শাস্ত্র) ইস্তিফারগ হলো— “ইলাজ বিল ইস্তিফারগ”— অর্থাৎ বমির মাধ্যমে চিকিৎসা। এটি প্রচলিত ও কার্যকরী একটি পদ্ধতি।
• ইস্তিফারগ করার সহজ নিয়ম:
এটি করতে হবে সকালে। একদম খালি পেটে (ফজরের পর)। ২ লিটার পানিতে ৭টি বরই পাতা (বেটে বা ব্লেন্ড করে) মেশাবেন। তারপর কুরআনের আয়াত পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিন। সূরা ফাতিহা ৩ বার । আয়াতুল কুরসি ৩ বার। সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস—প্রতিটি ৩ বার করে। এরপর সব আয়াত পানিতে ফুঁ দিয়ে শেষ করুন। তারপর পানি পান করুন। প্রথমে ১ লিটার পানি পান করবেন—এই নিয়তে যে, পেটের যাদু আল্লাহর হুকুমে বের হয়ে যাক।
পানি পান শেষে রুকইয়ার অডিও শুনবেন। ইয়ারফোনে “খুরুজে সিহর” (যাদু বের হওয়ার) আয়াতের অডিও শুনবেন।
অডিও চলাকালীন সময় আরও ১ লিটার পানি পান করবেন। বমি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সাধারণত এতে স্বাভাবিকভাবে বমি হয়ে যায়।
কত দিন করবেন?
এই পদ্ধতি ৩ দিন ধরে নিয়মিত করলে ইনশাআল্লাহ পেটের যাদু বের হয়ে যাবে।সাথে সাথে শরীরের অনেক গোপন সমস্যা ও রোগ থেকেও মুক্তি মিলবে।
সতর্কতা:
একা না করে কারো উপস্থিতিতে করা ভালো। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তারা আগে যেকোন একজন রাক্কির কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন। রুকইয়া ও আমল অব্যাহত রাখা জরুরি। এটা কেবল চিকিৎসার মাধ্যম, আর আসল শিফা শুধুই আল্লাহর পক্ষ থেকে।
#