12/07/2026
দুইটা ঘটনা শেয়ার করি, তাহলে বুঝতে পারবেন বাস্তবতা কী?
১ম ঘটনা.......
ঢাকায় এক দম্পতির সমস্যা হইলো, একজন আরেকজনকে নিয়া খুব চিন্তিত থাকে। একজন আরেকজনের সামনে গেলেই মনে মনে আফসোস করে, আবার একা হইলে অপরাধবোধে ভোগে। অথচ তাদের দুইটা সন্তানও আছে।
এই সমস্যা নিয়া তারা কয়েকজন রাকির কাছেও গেছে। একেকজন একেক কথা বলছে, রুকইয়াহও করছে।
আমিও প্রথমে রুকইয়াহ শুরু করছিলাম। কিন্তু কেন জানি মনে হইলো, ঘটনা ভিন্ন কিছু আছে কি না। তাই দুইজনকে আলাদা করে কথা বললাম।
প্রথমে মহিলাকে জিগাইলাম, কেন এমন মনে হয় বলেন তো?
বলল, হুজুর, উনি অনেক ভালো মানুষ, আমি ভালো না। এই জন্য এত খারাপ লাগে যে মাঝে মধ্যে মনে হয় আত্মহত্যা করি।
আপনি কোনো অপরাধ করে থাকলে খাঁটি তওবা করেন।
বলল, অনেক করছি, কিন্তু তবুও শান্তি পাই না।
বললাম, কী অপরাধ করছেন বলেন তো?
উনি স্বামীকে না বলার শর্তে জানালেন, তিনি একাধিকবার পরকীয়ায় জড়াইছিলেন।
পরে স্বামীকে আলাদা করে জিগাইলাম, কী কারণে আপনার এত অপরাধবোধ হয়?
উনিও জানালেন, তিনি একসময় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে সম্পর্কে জড়াইছিলেন।
বললাম, এখনো আছেন?
উত্তরে না বললেন।
এখন তাহলে এত হতাশা কেন?
বললেন, হুজুর, আমার স্ত্রীকে প্রায়ই জায়নামাজে বসে কান্নাকাটি করতে দেখি। তওবা করছি, আর এসব করব না। কিন্তু কেন জানি মনে হয় আমার তওবা কবুল হয় না।
তখন বুঝলাম, দুজনের সমস্যার বড় অংশই অপরাধবোধ, অনুশোচনা আর তওবা কবুল হওয়ার ব্যাপারে হতাশা।
পরে দুজনকে কিছু নসিহত করলাম। বললাম, শয়তান অনেক সময় মানুষের আগের গুনাহ বারবার মনে করাইয়া দেয়, যাতে সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়া যায়। কিন্তু একজন মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না।
নামাজ, পর্দাসহ কিছু মাসনুন আমল দিলাম। পাশাপাশি হারকের রুকইয়াহও দিলাম, যেন জাহান্নামের শাস্তির ভয় অন্তরে গেঁথে যায়।
২য় ঘটনা ......
ময়মনসিংহের কোনো এক এলাকায় গেলাম এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে রুকইয়াহ করতে। গিয়ে শুনি তার সারাক্ষণ মনমরা থাকে, কথা বলে না, ঠিকমতো খাওয়া-ঘুম নাই, মাঝে মধ্যে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নাকাটি করে। অনেক কবিরাজ দেখানো হইছে, কেউ কেউ বলছে জিনের আছর আছে। ডাক্তারও দেখানো হইছে, বলছে মানসিক সমস্যা আছে। রোগীও কিছু বলে না, কেন কী হইছে চুপচাপ থাকে।
আমি যাওয়ার পর জিগাইলাম, কী হইছে বলেন? কিছুই বলে না, মাথা নিচু করে বসে থাকে। অনেকবার জিগাইলাম, কিন্তু কোনো উত্তর নাই। পরে রোগীর আত্মীয়দের একটু দূরে সরাইয়া আস্তে করে বললাম, কেউ কি আপনাকে কষ্ট দিছে? আরো কিছু প্রশ্ন করলাম, উত্তর নাই। পরে বললাম, কেউ কি আপনার সাথে এমন কিছু করছে, যা কাউরে বলতেও পারতেছেন না?
তখন মাথা উঠাইয়া আবার নিচু করল। বুঝলাম, ঘটনা অন্য কিছু। পরে আবার জিগাইলাম, ছেলেটা কে? বলেন, আপনার অনুমতি ছাড়া কাউরে কিছুই বলব না।
তখন বলল, খালাতো ভাই জোর করে...😪
সে কীভাবে সুযোগ পাইলো?
বলল, মাদরাসা থেকে আইসা দেখে তার মা পাশের বাড়িতে গেছে। তখন খালাতো ভাইও কোনো কাজে আসছিল। এই জন্যই সারাদিন কান্নাকাটি করে আর কি,,, বাদবাকি বিস্তারিত পরে অনেক আগের লম্বা ঘটনা সব টা মনে নাই
যাইহোক সমস্যা হইছে কী আর কবিরাজরা বলছে কী—
আসলে এই দুইটা ঘটনা থেকে আবারো বুঝলাম, সব সমস্যার সমাধান রুকইয়াহ না। অনেক সময় মানুষের সমস্যা মানসিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা অপরাধবোধের সাথে সম্পর্কিত হয়। তখন প্রয়োজন হয় ধৈর্য নিয়ে কথা শোনা, সমস্যার মূল কারণ বের করা, নসিহত করা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া।
কিছু ভাই মানসিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অপরাধবোধজনিত সমস্যাকেও জিন, যাদু বা বদনজর বলে চালাইয়া দেয়। ফলে প্রকৃত সমস্যাটা আড়ালেই থেকে যায়।
তাই চিকিৎসা বা রুকইয়াহ শুরুর আগে রোগীর অবস্থা ভালোভাবে বুঝাটা খুবই জরুরি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক বুঝ, হিকমাহ এবং ইনসাফের সাথে মানুষের উপকার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।