Mymensingh Salafi

Mymensingh Salafi আল কুরআন ও সহিহ হাদিসের নিঃশর্ত অনুসারী

19/02/2026
আপনাদের সন্তানদেরকে এই প্রশ্নগুলো বারবার করে তাওহীদ শিক্ষা দিন:⭕ ১) প্রশ্ন: আল্লাহ কোথায়?✅ উত্তর: আসমানে (আরশের উপর)।⭕ ...
19/02/2026

আপনাদের সন্তানদেরকে এই প্রশ্নগুলো বারবার করে তাওহীদ শিক্ষা দিন:

⭕ ১) প্রশ্ন: আল্লাহ কোথায়?
✅ উত্তর: আসমানে (আরশের উপর)।

⭕ ২) প্রশ্ন: আল্লাহ আরশের উপর—এর কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: “আর-রহমান আলাল আরশিস্তাওয়া।”

⭕ ৩) প্রশ্ন: “ইস্তিওয়া” অর্থ কী?
✅ উত্তর: তিনি উপরে উঠেছেন (বাস্তব অর্থে, রূপক নয়)।

⭕ ৪) প্রশ্ন: আমরা আমাদের আকীদা কোথা থেকে গ্রহণ করি?
✅ উত্তর: কুরআন, সুন্নাহ ও আসার (সাহাবীদের বর্ণনা) থেকে।

⭕ ৫) প্রশ্ন: আল্লাহ জিন ও মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
✅ উত্তর: শুধু তাঁরই ইবাদতের জন্য, তাঁর কোনো শরীক নেই।
⭕ ৬) প্রশ্ন: এ বিষয়ে কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ বলেন, “আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”
⭕ ৭) প্রশ্ন: “ইবাদত করে” অর্থ কী?
✅ উত্তর: তারা তাওহীদ মানে ও আনুগত্য করে।
⭕ ৮) প্রশ্ন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থ কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।
⭕ ৯) প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় ইবাদত কী?
✅ উত্তর: তাওহীদ।
⭕ ১০) প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় গুনাহ কী?
✅ উত্তর: শির্ক।
⭕ ১১) প্রশ্ন: তাওহীদ কী?
✅ উত্তর: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক করা।
⭕ ১২) প্রশ্ন: শিরক কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদত করা।
⭕ ১৩) প্রশ্ন: তাওহীদের কয়টি অংশ?
✅ উত্তর: তিনটি।
⭕ ১৪) প্রশ্ন: তাওহীদের অংশগুলো কী?
✅ উত্তর: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।
⭕ ১৫) প্রশ্ন: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর কাজসমূহে তাঁকে একক করা; যেমন সৃষ্টি, মালিকানা ও পরিচালনা।
⭕ ১৬) প্রশ্ন: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ কী?
✅ উত্তর: বান্দাদের কাজসমূহে আল্লাহকে একক করা; যেমন দুআ, যবেহ, সিজদাহ ইত্যাদি।
⭕ ১৭) প্রশ্ন: আল্লাহর কি নাম ও গুণাবলি আছে?
✅ উত্তর: হ্যাঁ, তিনি নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং নবী ﷺ যা সাব্যস্ত করেছেন।
⭕ ১৮) প্রশ্ন: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি কোথা থেকে গ্রহণ করি?
✅ উত্তর: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে।
⭕ ১৯) প্রশ্ন: আল্লাহর গুণাবলি কি সৃষ্টির গুণাবলির মতো?
✅ উত্তর: না, তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির মতো নয়; যদিও কখনো কখনো নামের মিল থাকতে পারে।
⭕ ২০) প্রশ্ন: এর কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর বাণী: “তাঁর মতো কিছুই নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
⭕ ২১) প্রশ্ন: কুরআন কী?
✅ উত্তর: কুরআন হলো আল্লাহর কালাম।
⭕ ২২) প্রশ্ন: কুরআন অবতীর্ণ না সৃষ্টি?
✅ উত্তর: অবতীর্ণ; এটি আল্লাহর কালাম, বাস্তব অর্থে (অক্ষর ও শব্দসহ)।
⭕ ২৩) প্রশ্ন: পুনরুত্থান (বাআছ) কী?
✅ উত্তর: মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করা।
⭕ ২৪) প্রশ্ন: পুনরুত্থান অস্বীকারকারীর কুফরের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর বাণী: “কাফিররা ধারণা করে যে তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না।”
⭕ ২৫) প্রশ্ন: আল্লাহ আমাদের পুনরুত্থিত করবেন—এর দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর বাণী: “বলুন, অবশ্যই! আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে।”
⭕ ২৬) প্রশ্ন: “ইসলাম” শব্দের অর্থ কী?
✅ উত্তর: তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং শিরক ও শিরকের অনুসারীদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা।

প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া See

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রামাজান।মহিমান্বিত এ মাসকে সামনে রেখে মসজিদ কমপ্লেক্স বাস্তব...
12/02/2026

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রামাজান।মহিমান্বিত এ মাসকে সামনে রেখে মসজিদ কমপ্লেক্স বাস্তবায়নে আপনার দানের হাতকে প্রসারিত করুন।আধুনিক উত্তরার প্রাণকেন্দ্র মেট্রো রেল উত্তরা উত্তরের পাশেই দিয়াবাডীতে হতে যাচ্ছে “সেন্ট্রাল আহলে হাদীস মসজিদ কমপ্লেক্স” আপনিও হতে পারেন তার গর্বিত অংশীদার। অল্প সময়ের মধ্যেই জমির বায়না করা হবে ইনশাআল্লাহ. বিকাশ নাম্বারঃ01713-495348

10/02/2026

আহলে হাদিসরা রাষ্ট্র ক্ষমতা পাওয়ার কথা কিন্তু তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না কেন?

ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানি হাফিজাহুল্লহ

শাইখ ইবনে জিবরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ—আজ থেকে ত্রিশ বা চল্লিশ বছর আগে আমরা দ্বীনের অবস্থা দেখে প্রায় নিরাশ হতে চলছিলাম এব...
29/01/2026

শাইখ ইবনে জিবরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ—

আজ থেকে ত্রিশ বা চল্লিশ বছর আগে আমরা দ্বীনের অবস্থা দেখে প্রায় নিরাশ হতে চলছিলাম এবং আশা ছেড়ে দিচ্ছিলাম। কারণ তখন আমরা এমন সব কারণ ও পরিবেশ দেখছিলাম যা মানুষকে ইসলাম এবং দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিল। আমরা মানুষের মাঝে দ্বীনের প্রতি উদাসীনতা, মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং ঠাট্টা-বিদ্রূপ দেখতাম, এমনকি শিক্ষিত এবং যারা দ্বীন সম্পর্কে জানত তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা ছিল। ​কিন্তু আজ আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে যুবসমাজ শরীয়ত মেনে চলা এবং এর ওপর অবিচল থাকার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই যে শরীয়তের অনুসরণ এবং দৃঢ়তা, এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে; আর তা হলো এই 'ইসলামী পুনর্জাগরণ' (আস সাহওয়া আল ইসলামিয়্যাহ), যা আজ বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। এই জাগরণ মূলত দ্বীনের দিকে ফিরে আসা, শরীয়ত অনুযায়ী জীবন গড়া এবং এর ওপর অবিচল থাকারই একটি অনিবার্য ফলাফল।"

(ফাতাওয়া আশ শাইখ ইবনে জিবরীন, ৫৮/২)

لقد كنا قبل ثلاثين أو أربعين سنة نكاد أن نيأس ونقطع الرجاء لما نراه من الأسباب التي تبعد عن الإسلام وعن الدين، ولما نراه من الجفوة والإدبار والسخرية والاستهزاء حتى في المتعلمين والمتفقهين. ولكن والحمد لله اليوم نرى إقبال الشباب على التمسك وعلى الالتزام بالشرع وعلى الاستقامة عليه.
لقد حصل من هذا الالتزام وهذه الاستقامة أثر بليغ؛ ألا وهو هذه الصحوة الإسلامية التي انتشرت في جميع أرجاء المعمورة. فما هذه الصحوة إلا نتيجة من نتائج الإقبال على هذا الدين وتطبيق الشرع والتمسك به والاستقامة عليه.

فتاوى الشيخ ابن جبرين ٥٨/‏٢ — ابن جبرين (ت ١٤٣٠) See less

১৯ শতকের আফগান নারীদের ব্যবহৃত বোরখা। তৎকালীন ইরান ও আফগানিস্তানে মুসলিম নারীরা বাইরে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ পর্দা করতেন। ত...
09/01/2026

১৯ শতকের আফগান নারীদের ব্যবহৃত বোরখা। তৎকালীন ইরান ও আফগানিস্তানে মুসলিম নারীরা বাইরে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ পর্দা করতেন। তারা ঘরের পোশাকের উপর একটি অতিরিক্ত পোশাক পরতেন এবং মুখ ঢেকে রাখতেন। ইরানে এটি সাধারণত গাঢ় নীল বা কালো কাপড়ের (চাদর) তৈরি হতো, যার উপর আলাদা করে সাদা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতেন। কিন্তু আফগানিস্তানের এই সাদা সুতির বোরখা দুটি অংশ একসঙ্গে যুক্ত করেছে। এতে চোখের জন্য সূচিকর্ম করা ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে। নারীরা বোরখার সাথে ঢিলেঢালা পায়ের মোজা পরতেন। এই পোশাকের সাথে তারা স্যান্ডেল বা বুট পরতেন।

শার‘য়ী ‘ইলমের ত্বলিবুল ‘ইলম (ছাত্র) যে কিতাবগুলো সংগ্রহ করবে এবং অধ্যয়ন করবে: শাইখুল ইসলাম ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ ইব...
28/12/2025

শার‘য়ী ‘ইলমের ত্বলিবুল ‘ইলম (ছাত্র) যে কিতাবগুলো সংগ্রহ করবে এবং অধ্যয়ন করবে: শাইখুল ইসলাম ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ছ্বলিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ

প্রথমত: আক্বীদাহ (العقــيدة):

১. কিতাব: ছালাছাতুল উছূল (ثـلاثة الأصـول)।

২. কিতাব: আল-ক্বাওয়া‘ইদুল আরবা‘আহ (القـواعد الأربـعة)।

৩. কিতাব: কাশফুশ শুবুহাত (كـشف الشـبهات)।

৪. কিতাব: আত-তাওহীদ (الـتوحــيد)। “আর এই চারটি কিতাব শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদিল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহর লেখা।”

৫. কিতাব: আল-আক্বীদাতুল ওয়াসিত্বিয়্যাহ (الـعقيدة الـواسطية)। “আর এতে তাওহীদ আল-আসমা ওয়াস ছ্বিফাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর এই বিষয়ে যা লেখা হয়েছে এটি তার মধ্যে অন্যতম সেরা এবং এটি পড়া ও পর্যালোচনা করার যোগ্য।”

৬. কিতাব: আল-হামাউইয়্যাহ (الحـموية)।

৭. কিতাব: আত-তাদমুরিয়্যাহ (التـدمرية)। “আর এই দুটি রিসালাহ (পুস্তিকা) আল-ওয়াসিত্বিয়্যাহ-এর চেয়ে বিশদ। আর এই তিনটি কিতাব শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহর লেখা।”

৮. কিতাব: আল-আক্বীদাহ আত-ত্বহাউইয়্যাহ (العقيدة الطحاوية)। “লেখক: শাইখ আবূ জা‘ফার আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আত-ত্বহাবী।”

৯. কিতাব: শারহুল আক্বীদাতিত ত্বহাউইয়্যাহ (شرح العقيدة الطحاوية)। “লেখক: আবূল হাসান ‘আলী ইবনু আবীল ‘ইয।”

১০. কিতাব: আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ (الدرر السنية في الأجوبة النجدية)। “সংকলক: শাইখ ‘আবদুর রহমান ইবনু ক্বাসিম রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা।”

দ্বিতীয়ত: হাদীস (الـحديـث):

১. কিতাব: ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী (فتح الباري شرح صحيح البخاري)। “লেখক: হাফিয ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা।”

২. কিতাব: সুবুলুস সালাম শারহু বুলূগিল মারাম (سبل السلام شرح بلوغ المرام)। “লেখক: ইমাম ছ্বন‘আনী। আর তাঁর কিতাবটি হাদীস ও ফিক্বহকে একত্রকারী।”

৩. কিতাব: নাইলুল আওত্বার শারহু মুনতাক্বাল আখবার (نيل الأوطار شرح منتقى الأخبار)। “লেখক: ইমাম শাওকানী।”

৪. কিতাব: ‘উমদাতুল আহকাম (عمدة الأحكام)। “লেখক: ইমাম মাক্বদিসী। আর এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব এবং এর সবগুলো হাদীস সহীহ বুখারী ও মুসলিমে অথবা তাদের দুটির কোনো একটিতে রয়েছে, তাই এর বিশুদ্ধতা খোঁজার প্রয়োজন নেই।”

৫. কিতাব: আল-আরবা‘য়ীন আন-নাওয়াউইয়্যাহ (الأربعين النووية)। “লেখক: আবূ যাকারিয়্যা আন-নাওয়াওয়ী রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা। আর এটি একটি ভালো কিতাব, কারণ এতে আদব, উত্তম মানহাজ এবং অত্যন্ত উপকারী মূলনীতিসমূহ রয়েছে।”

৬. কিতাব: বুলূগুল মারাম (بلوغ المرام)। “লেখক: হাফিয ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী। আর এটি একটি উপকারী ও ফলপ্রসূ কিতাব, বিশেষ করে তিনি বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেন এবং কে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও কে য্ব‘য়ীফ বলেছেন, তা উল্লেখ করেন।”

৭. কিতাব: নুখবাতুল ফিকার (نخبة الفكر)। “লেখক: হাফিয ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী। আর এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব হিসেবে গণ্য, ত্বলিবুল ‘ইলম (ছাত্র) যদি এটি সম্পূর্ণরূপে বুঝে এবং আয়ত্ত করে, তবে এটি মুস্ত্বালাহ (হাদীসের পরিভাষা) বিষয়ক অনেক কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। আর ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহর এটি রচনার ক্ষেত্রে একটি উপকারী পদ্ধতি রয়েছে, আর তা হলো আস-সাবর ওয়াত তাক্বসীম (পর্যালোচনা ও বিভাজন)। সুতরাং ত্বলিবুল ‘ইলম যখন এটি পড়ে, সে উদ্দীপনা পায়। কারণ এটি বুদ্ধিমত্তা জাগিয়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে রচিত।”

৮. আল-কুতুবুস সিত্তাহ (الكتب الستة): [সহীহুল বুখারী, মুসলিম, আন-নাসায়ী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ এবং তিরমিযী]। “আর আমি ত্বলিবুল ‘ইলমকে নসীহত করছি, যেন সে এগুলো বেশি বেশি পড়ে; কারণ এতে দুটি ফায়দা রয়েছে: প্রথমত: মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া। দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীদের নাম তার মস্তিষ্কে বারবার আসা। সুতরাং যখন বর্ণনাকারীদের নাম বারবার আসবে, তখন উদাহরণস্বরূপ যেকোনো সনদে আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীস ইমাম বুখারীর কোনো বর্ণনাকারী তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করবে না, বরং সে চিনতে পারবে যে, ইনি ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে এই হাদীসগত ফায়দাটি অর্জন করবে।”

তৃতীয়ত: ফিক্বহ (الـفـقه):

১. কিতাব: আদাবুল মাশয়ি ইলাছ ছ্বালাতি (آداب المشي إلى الصلاة)। “লেখক: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদিল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ।”

২. কিতাব: যাদুল মুসতাক্বনি‘ ফী ইখতিছারিল মুক্বনি‘ (زاد المستقنع في اختصار المقنع)। “লেখক: আল-হাজ্জাবী। আর এটি ফিক্বহের উত্তম মতন (মূল পাঠ) সমূহের অন্যতম। আর এটি একটি বারাকাহপূর্ণ, সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব।”

৩. কিতাব: আর-রাওযুল মুরবি‘ শারহু যাদিল মুসতাক্বনি‘ (الروض المربع شرح زاد المستقنع)। “লেখক: শাইখ মানছূর আল-বাহুতী।”

৪. কিতাব: ‘উমদাতুল ফিক্বহ (عمدة الفقه)। “লেখক: ইবনু কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা।”

৫. কিতাব: আল-উছূলু মিন ‘ইলমিল উছূল (الأصول من علم الأصول)। “আর এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব যা ছাত্রের জন্য দরজা খুলে দেয়।” (এটি শাইখ, যিনি বইয়ের সাজেস্ট করছেন, এর কিতাব)।

চতুর্থত: তাফসীর (الـتــفسير):

১. কিতাব: তাফসীরুল কুর‘আনিল ‘আযীম (تفسير القرآن العظيم)। “লেখক: ইবনু কাছীর রাহিমাহুল্লাহ। আর এটি তাফসীর বিল আছার-এর (কুর‘আন ও সুন্নাহ ভিত্তিক তাফসীর) ক্ষেত্রে ভালো এবং উপকারী ও নিরাপদ।”

২. কিতাব: তায়সীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান (تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان)। “লেখক: শাইখ ‘আবদুর রহমান আস-সা‘দী রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা। আর এটি একটি ভালো, সহজ ও নিরাপদ কিতাব এবং আমি এটি পড়ার নসীহত করছি।”

৩. কিতাব: মুকাদ্দিমাতু শাইখিল ইসলাম ফীত তাফসীর (مقدمة شيخ الإسلام في التفسير)। “আর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো ভূমিকা।”

৪. কিতাব: আয্বওয়াউল বায়ান (أضواء البيان)। “লেখক: ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ আশ-শানক্বীতী রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা। আর এটি হাদীস, ফিক্বহ, তাফসীর ও উছূলে ফিক্বহ একত্রকারী একটি কিতাব।”

পঞ্চমত: কিছু ফন বা শাস্ত্রের সাধারণ কিতাবসমূহ (كتب عامة في بعض الفنون):

১. নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ে: মাতনুল আজুররূমিয়্যাহ (متن الأجرومية)। “আর এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য কিতাব।”

২. নাহু বিষয়ে: আলফিয়্যাতু ইবনি মালিক (ألفية ابن مالك)। “আর এটি নাহু শাস্ত্রের সারসংক্ষেপ।”

৩. সীরাহ (জীবনী) বিষয়ে, আর আমি সবচেয়ে ভালো যা দেখেছি, তা হলো কিতাব: যাদুল মা‘আদ (زاد المعاد)। “লেখক: ইবনুল ক্বাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ। আর এটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব, তিনি এতে নবীজির (ﷺ) সীরাহ তাঁর সকল অবস্থার প্রেক্ষিতে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর প্রচুর আহকাম (বিধান) বের করেছেন।”

৪. কিতাব: রাওয্বাতুল ‘উক্বালা’ (روضة العقلاء)। “লেখক: ইবনু হিব্বান আল-বুস্তী রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা। আর এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও একটি উপকারী কিতাব। তিনি এতে প্রচুর ফায়দা এবং ‘উলামা, মুহাদ্দিসীন ও অন্যান্যদের গুণাবলী একত্র করেছেন।”

৫. কিতাব: সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা (سير أعلام النبلاء)। “লেখক: ইমাম যাহাবী। আর এই কিতাবটি অত্যন্ত উপকারী, ত্বলিবুল ‘ইলমের (ছাত্রের) উচিত এটি পড়া এবং পর্যালোচনা করা।”

[কিতাবুল ‘ইলম, পৃষ্ঠা নং ৯২।]

শায়েখের সাথে আমার এক্ষণই কথা হয়েছে।শায়েখ বলছেন যে শায়েখ সেখানে আক্বীদার বিষয়টা পড়ান। আর প্রফেসর মোখতার সাহেব মূলত শায়েখক...
24/12/2025

শায়েখের সাথে আমার এক্ষণই কথা হয়েছে।

শায়েখ বলছেন যে শায়েখ সেখানে আক্বীদার বিষয়টা পড়ান। আর প্রফেসর মোখতার সাহেব মূলত শায়েখকে আক্বীদা পড়ানোর জন্য আবদার করেছিলো আর শায়েখ এই চিন্তা করে সেখানে রাজি হইসেন যে সহীহ আক্বীদা প্রচারের একটা সুযোগ। কিন্তু শায়েখ জানতেন না যে আর কে কোন সাবজেক্ট পড়ায়।

শায়েখকে আপনার এই পোস্ট আমি পাঠিয়েছি। আর জানতে চেয়েছি যে শায়েখ বিদ'আতিদের সাথে উঠাবসা করাতো জায়েয নেই তাহলে যারা আপনার এই ছবি দেখাবে তাদের কি উত্তর দিবো। তিনি বলছেন যারা এটা প্রচার করবে তারা মিথ্যাচার করবে আর তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে আমি বিচার দিয়ে রাখলাম। আর জাকারিয়া মাসুদের ব্যাপারে আমি সত্যিই জানতাম না। এটা মূলত অর্গানাইজারদের দোষ সম্পূর্ণ।

তারপর আমি জানতে চাইলাম শায়েখ সালাফি দ্বীনি ভাইদের কি বলবো আপনি কি উপদেশ দিবেন এই ব্যাপারে? তাদের কি সেই কোর্সে ভর্তি হওয়া উচিত? তিনি উত্তরে বলসেন, না না না আ'ঊযুবিল্লাহ। আমি কখনোই এটা বলবো না। বরং আমি নিজেই এক্ষণ মোখতার সাহেবকে কল দিবো যে আমাকে কেন জানানো হয় নাই জাকারিয়া মাসুদের ব্যাপারে আর আমি এই কোর্স আর আগাবো না। আমিই ছেড়ে দিবো। তারাতো শয়তান সবগুলো। আসলেই সত্যিকারে আমি জানতাম না।

আমি পারমিশন চেয়েছি যেন অনলাইনে শায়েখের সাথে কথোপকথন শেয়ার করতে পারি আর তিনি বলছেন যে সবাই যেন জেনে নেয় যে শায়েখের সাথে এই মাদ্রাসার কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই। যারাই শায়েখের সাথে এর প্রচার করবে তারা মিথ্যাচার করেছে বলে গণ্য হবে।

[সালাফি দ্বীনিভাইদের উচিত আলিমদের ভুল পেলে আলিমদের জিজ্ঞেস করা আর তারপর যদি সালাফদের মানহাজের বিপরীতে আলেমের কথা যায় তাহলে আলেমের কথাকে ছুড়ে ফেলে সালাফদের কথাকেই ধারণ করা। আর মুকাল্লিদ না হওয়া উচিত। আমরা সবাই আলিমদের সাথে সালাফদের পথে চলবো।]

🖋️ Tanzid Hossain Akash

শুরুতেই সন্দেহ করেছিলাম যে এই ডাক্তারের মধ্যে কোনো ঘাপলা আছে, নাহলে প্রমোশন হবে না কেন? আসলেও তাই জানা গেল, সরকারি চাকরি...
08/12/2025

শুরুতেই সন্দেহ করেছিলাম যে এই ডাক্তারের মধ্যে কোনো ঘাপলা আছে, নাহলে প্রমোশন হবে না কেন? আসলেও তাই জানা গেল, সরকারি চাকরিতে প্রমোশনের জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা লাগে তা অনুসরণ না করেই প্রমোশন চান তিনি। এ যেন গাছ না লাগিয়েই ফল খেতে চাওয়া। দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে এসেছে, অবহেলা করে ডা. ধনদেব ফাউন্ডেশন ট্রেনিং করেননি, ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষায় পাশ করেননি, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষাই দেননি। অর্থাৎ তার চাকরি স্থায়ীকরণের বেসিক শর্তই পূরণ করেননি, প্রমোশন তো দূর কি বাত!

এগুলো তিনি কেন করেননি জানেন? ময়মনসিংহ শহরে থেকে বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করার সুবিধা নেওয়ার জন্য তিনি নিজেই পদোন্নতির জন্য আবেদন করেননি।

এটা অনেক ডাক্তারেরই ওপেন সিক্রেট, আয়-রোজগার ভালো হলে তারা সহজে ফাউন্ডেশন ট্রেনিং এ যেতে চান না, কারণ গেলেই আসার পর প্রমোশন নিতে হবে, সরকারি চাকরিতে প্রমোশন মানেই ট্রান্সফার, নতুন জায়গায় নতুন করে শুরু করলে আগের মতো পসার হয় না। ডাক্তাররা সচরাচর যে বনে যে রাজা সেই বন ছেড়ে তিনি সহজে অন্য কোথাও যেতে চান না, কিন্তু তারা এটাকে নরমালি নেন, হিপোক্রেসি করেন না, নিজের কাজের জন্য কাউকে দোষারোপ করেন না। একমাত্র এই ডাক্তারকেই দেখলাম, নিজের ভন্ডামি অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে।

তার সিম্প্যাথাইজদের মধ্যে কতিপয় ডাক্তারকেও দেখলাম, তারাও কি ভন্ড নাকি?

গতকাল নামধারী কিছু মুসলিম যারা ধনদেবকে দেবতার আসনে বসিয়ে তৈলাক্ত করে ফেলেছিলা তারা কি এ বিষয়ে কিছু বলবে?

খুলনায় আহলে হাদিস মাদরাসা
01/12/2025

খুলনায় আহলে হাদিস মাদরাসা

আল্লাহ্‌ উপরে আছেন।◑ আল্লাহ্‌ নিজ সত্তাসহ আরশের উপরে আছেন—এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন তথা উম্মতের সম্মানিত পূর্বসূরীদের এগার...
01/12/2025

আল্লাহ্‌ উপরে আছেন।

◑ আল্লাহ্‌ নিজ সত্তাসহ আরশের উপরে আছেন—এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন তথা উম্মতের সম্মানিত পূর্বসূরীদের এগারোটি ইজমা তথা সর্বসম্মত মত।

➊ ইমাম আল-আওযা’ঈ (মৃত্যু: ১৫৭ হিজরি)

তিনি বলেছেন,

“আমরা এবং তাবেঈনরা যখন তখন পর্যাপ্তরূপে জীবিত ছিলাম, আমরা বলতাম — নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আয্যা ওয়াজাল্লা তাঁর আরশের উপরে আছেন এবং আমরা তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে সুন্নাহতে যা এসেছে, তা ঈমানসহ গ্রহণ করি।”

সূত্র: মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৩৭; বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত ও ইবন হাজার, ফাতহুল বারী ১৩/৪১৭।



➋ ইমাম কুতাইবা ইবনু সাঈদ (১৫০–২৪০ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“এটাই ইসলামের ইমামগণ, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ-এর মতামত: আমরা আমাদের প্রতিপালককে চিনি — তিনি সপ্তম আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপর রয়েছেন, যেমন তিনি বলেছেন: ﴿الرحمن على العرش استوى﴾।”

আল-যাহাবী বলেনঃ

“এই ইমাম কুতাইবা তাঁর নেতৃত্ব ও সততার মাধ্যমে এই বিষয়ে ‘ইজমা’ (ঐকমত্য) বর্ণনা করেছেন। তিনি মালিক, লাইস, হাম্মাদ ইবনুয যায়েদ প্রমুখ মহৎ ইমামদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।”

সূত্র: মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৮৭; ইবন তাইমিয়‍্যাহ, দারউ তাআরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকল ৬/২৬০; বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ ২/৩৭।



➌ হাদীস বিশারদ ইমাম যাকারিয়া আস-সাজি (মৃত্যু: ৩০৭ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“সুন্নাহর যে আকীদাহর ওপর আমি আমাদের আহলুল হাদীসদের (সাথীদের) দেখেছি তা হলো:

আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর আসমানে, আরশের উপরে আছেন; তিনি যেভাবে চান, সেভাবে তাঁর সৃষ্টির নিকটে আসেন।”

আল-যাহাবী বলেনঃ

“আস-সাজি ছিলেন বসরার শায়খ ও হাফিজ; তাঁর থেকেই আবুল হাসান আল-আশআরি হাদীস ও আহলুস সুন্নাহর আকীদাহ শিখেছিলেন।”

সূত্র: মুখতাসারুল উলু পৃ. ২২৩; ইজতিমাউল জুয়ূশিল ইসলামিয়‍্যাহ পৃ. ২৪৫।



➍ ইমাম ইবনু বাত্তা আল-‘উকবারি (৩০৪–৩৮৭ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

‎“باب الإيمان بأن الله على عرشه بائن من خلقه…সাহাবা, তাবেঈন এবং সকল ঈমানদার আলেমগণের সর্বসম্মত মত হলো:

আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর আসমানের উপর, তাঁর আরশের উপর রয়েছেন, সৃষ্টির থেকে পৃথক, আর তাঁর জ্ঞান সমস্ত সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে। এর বিরোধিতা করে কেবল সেই সব লোক, যারা হুলুলিয়্যাহর (আল্লাহ সর্বত্র মিশে আছেন বলে বিশ্বাস করে) পথ অবলম্বন করেছে — যাদের হৃদয় বিপথগামী হয়েছে।”

সূত্র: আল ইবানাহ ৩/১৩৬; যাহাবী, মুখতাসারু উলু পৃ. ২৫২



➎ ইমাম আবু উমর আত-তালামানকি আল-আন্দালুসি (৩৩৯–৪২৯ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“আহলুস সুন্নাহর মুসলিমগণ সর্বসম্মত যে, ﴿وهو معكم أين ما كنتم﴾ (তিনি তোমাদের সাথে আছেন) — এর অর্থ হলো তাঁর ‘জ্ঞানের অধীন’ এবং আল্লাহ্‌ তাআলাতাঁর সত্তাসহ আসমানের উপরে, আর তাঁর আরশের উপর যেভাবে ইচ্ছা তেমনভাবে অবস্থান করেছেন।

তাঁরা বলেন: ﴿الرحمن على العرش استوى﴾ — এর অর্থ ‘আল্লাহ্‌ সত্যিকারভাবে আরশের উপর উপরে উঠেছেন’, কোনো রূপক অর্থে নয়।”

সূত্র: ইবন তাইমিয়‍্যাহ, দারউত তাআরুদ্ব ৬/২৫০; মাজমূ ফাতাওয়া ৫/১৮৯; বায়ানু তালবীসিল জামিয়‍্যাহ, ২/৩৮; যাহাবী, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ২৬৪



➏ শায়খুল ইসলাম আবু উসমান আস-সাবুনী (৩৭২–৪৪৯ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“আহলুল হাদীস বিশ্বাস করে এবং সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্‌ সাত আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপর আছেন — যেমন তাঁর কিতাবে বলা হয়েছে। উম্মাহর আলেমগণ ও সালাফগণের ইমামগণ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেননি।”

সূত্র: মুখতাসারুল উলু ও সিয়ারু আলামিন নুবালা।



➐ ইমাম আবু নাসর আস-সাযজী (মৃত্যু: ৪৪৪ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“আমাদের ইমামগণ — সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ প্রমুখ — সকলেই একমত যে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজ সত্তাসহ আরশের উপরে আছেন; তাঁর জ্ঞান সর্বত্র; কিয়ামতের দিনে তিনি আরশের উপর থেকে দৃষ্টিগোচর হবেন।”

সূত্র: ইবন তাইমিয়‍্যাহ, দারউত তাআরুদ্ব ৬/২৫০; যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৭/৬৫৬।



➑ হাফিজ আবু নু‘আইম (৩৩৬–৪৩০ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“আমাদের পথ হলো সালাফদের পথ — যারা কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা অনুসরণ করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন: আল্লাহ্‌ সর্বদা তাঁর সকল গুণসহ পরিপূর্ণ, পরিবর্তনশীল নন। আর কুরআনে যেসব হাদীস এসেছে ‘আরশ ও আল্লাহর তাতে উঠা’ সম্পর্কে — তাঁরা তা বিনা ধরণ নির্ধারণ ও বিনা তুলনার সাথে গ্রহণ করেন। তাঁরা বলেন: আল্লাহ্‌ তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক, সৃষ্টিও তাঁর থেকে পৃথক; তিনি তাঁদের মধ্যে প্রবেশ করেন না, একীভূতও হন না; বরং তিনি তাঁর আকাশে, আর তাঁর আরশের উপর অবস্থান করছেন।”

সূত্র: ইবন তাইমিয়‍্যাহ, দারউত তাআরুদ্ব ৬/২৬১; যাহাবী, মাজমূ’ ফাতাওয়া ৫/১৯০; যাহাবী, মুখতাসারুল উলু, ২৬১।



➒ ইমাম আবু যুর‘আ আর-রাযি (২৬৪ হিজরি) ও ইমাম আবু হাতিম (২৭৭ হিজরি)

ইবনু আবি হাতিম বলেনঃ

“আমি আমার পিতা (আবু হাতিম) ও আবু যুর‘আকে আহলুস সুন্নাহর আকীদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম… তাঁরা বললেন: আমরা সব দেশের আলেমদের দেখেছি — হিজাজ, ইরাক, শাম, ইয়ামান— তাঁদের মাযহাব ছিলো: ঈমান হলো কথা ও কাজ, বৃদ্ধি ও হ্রাস পায় এবং আল্লাহ্‌ আয্যা ওয়াজাল্লা তাঁর আরশের উপর রয়েছেন, সৃষ্টির থেকে পৃথক, যেমন তিনি নিজেই কুরআনে বলেছেন এবং রাসূল ﷺ তাঁর ভাষায় বলেছেন; কোনো ‘ধরণ’ (কেমন) তা নির্ধারণ ছাড়া।”

সূত্র: ইমাম লালাকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ, ১/১৯৭–২০৪



➓ ইমাম ইবনু আবদিল বার (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ “হাদীসে ‘নুযূল’ (আল্লাহ্‌র নেমে আসা) সম্পর্কে যা এসেছে, তা এই দিকের প্রমাণ যে, আল্লাহ্‌ আয্যা ওয়াজাল্লা আকাশে, তাঁর আরশের উপর, সাত আসমানের উপরে রয়েছেন — যেমন আহলুস সুন্নাহর জামা‘আহ বলে থাকে। এটাই তাদের যুক্তি মুতাযিলা ও জাহমিয়ার বিপরীতে, যারা বলে: আল্লাহ সর্বত্র আছেন এবং আরশের উপর নন।”

তিনি আরও বলেনঃ

“তাওহীদে বিশ্বাসীরা — আরব ও অ-আরব — যখন বিপদে পড়ে, তারা আকাশের দিকে মুখ তুলে সাহায্য চায়। এটি এতই সুপরিচিত বিষয় যে, একে প্রমাণের প্রয়োজন নেই; কারণ এটি মানুষের স্বভাবজাত অন্তর্দৃষ্টি।”

সূত্র: আত তামহীদ, ফাতহুল বার্র বি তারতীবিত তামহীদ ২/৭–৪৮



⓫ ইমাম ইবনু খুযাযইমা (মৃত্যু: ৩১১ হিজরি)

তিনি বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি বলে না যে আল্লাহ্‌ তাঁর আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপর আছেন এবং সৃষ্টির থেকে পৃথক — তাকে তওবা করানো হবে; যদি সে তওবা না করে, তার গলা কেটে ফেলা হবে এবং তাকে আবর্জনার স্তূপে ফেলা হবে, যাতে তার দুর্গন্ধে মুসলিম বা অমুসলিম কেউ কষ্ট না পায়।”

আল-যাহাবী বলেনঃ “তিনি ছিলেন হাফিজ, ফকীহ, শায়খুল ইসলাম, ইমামুল আইম্মাহ।

তিনি আরও বলেন: ‘যে ব্যক্তি স্বীকার করে না যে আল্লাহ্‌ আরশের উপর, সাত আসমানের উপরে উচ্চাসনে আছেন — সে কাফির, তার রক্ত বৈধ।’”সূত্র: ইবন তাইমিয়‍্যাহ, দারউত তাআরুদ্ব ৬/২৬৪; যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/৩৬৫



অতিরিক্ত দলিলসমূহ

➤ আশআরীদের বিভ্রান্তি

১- আশআরীরা দাবি করে যে, সালাফরা “بذاته” (নিজ সত্তাসহ) বলেননি।

তারা বলে, “আল্লাহ আরশের উপরে” মানে “মর্যাদা ও স্থানগত উচ্চতা”, সত্তাগত নয়।

কিন্তু শুনো —

# ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ (মৃত্যু: ২৯৭ হিজরি) বলেছেনঃ

“বহু বর্ণনা এসেছে যে, আল্লাহ্‌ তাআলা আরশ সৃষ্টি করেছেন, তারপর নিজ সত্তাসহ (بذاته) তার উপর উচ্চাসনে আরাহণ করেছেন; তিনি আকাশমণ্ডল ও আরশের উপরে রয়েছেন তাঁর সত্তাসহ।”

সূত্র: ইবনু আবি শাইবা, কিতাবুল আরশ

# ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানি (মৃত্যু: ৩৮৬ হিজরি) বলেছেনঃ

“আল্লাহ্‌ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তুলনা নেই, সন্তান নেই, স্ত্রী নেই, সঙ্গী নেই; এবং তিনি তাঁর মহিমান্বিত আরশের উপরে রয়েছেন নিজ সত্তাসহ (بذاته)।”

সূত্র: মুকাদ্দামাতুর রিসালাহ, আকীদাতুস সালাফ।



২- আশআরীরা মিথ্যা আরোপ করে বলে থাকেন—

যে, ইমাম ইবনু জারীর আত-তাবারী নাকি তাদের মতো বিশ্বাস করতেন!

কিন্তু বাস্তবে, ইমাম তাবারী স্পষ্টভাবে বলেছেন—“وهو على عرشه فوق سمواته السبع” — “তিনি তাঁর আরশের উপর, সাত আসমানের উপরে।”

এবং তাঁর ব্যাখ্যায়ও বলেনঃ

“তিনি তাঁদের ‘জানেন’ — তাঁর জ্ঞানের দ্বারা, অথচ তিনি তাঁর আরশের উপর আছেন।”

“তিনি আরশের উপরে আছেন, আর তাঁর জ্ঞানের পরিধি তাঁদের সাথে সর্বত্র।”

সূত্র: তাফসীর তাবারী, সূরা আল হাদীদ, তাফসীর আয়াত ৪; সূরা আল মুজাদালাহ ৭; সূরা আয-যুখরুফ ৮৪।



সারসংক্ষেপে:

সালাফে সালেহীন, মুজতাহিদ ইমাম, হাদীস বিশারদ ও আহলুস সুন্নাহর সর্বসম্মত আকীদাহ হলো —

- আল্লাহ্‌ তাআলানিজ সত্তাসহ (بذاته) সাত আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপর অবস্থান করেছেন।

- তাঁর জ্ঞানের পরিধিতে সব জায়গা রয়েছে।

- তিনি সৃষ্টির থেকে পৃথক।

✍️ Abubakar Muhammad Zakaria

সমতল ও গোলাকার ইসলামি আক্বীদার মৌলিক বিষয় নয়।কিন্তু—গেলিলিওর জন্ম ১৫৬৪সালে। সে-ই প্রথম যে দুরবিক্ষণ যন্ত্র দিয়ে চাক্ষুশ ...
26/11/2025

সমতল ও গোলাকার ইসলামি আক্বীদার মৌলিক বিষয় নয়।
কিন্তু—
গেলিলিওর জন্ম ১৫৬৪সালে। সে-ই প্রথম যে দুরবিক্ষণ যন্ত্র দিয়ে চাক্ষুশ দেখার দাবি করে যে কোপার্নিকাসের হেলিওসেন্ট্রিক থিওরির প্রমাণ আছে বলেছিলো। কোপার্নিকাস মারা গিয়েছিলো গেলিলিওর জন্মের ২০বছর আগে; ১৫৪৩সালে।
গেলিলিওর জন্মের আরও আগে মুসলিম সুন্নি বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদ আল বিরুনির জন্ম।
গ্যালিলিও গ্যালিলেই জন্মেছিলেন ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে।
আল-বিরুনি জন্মেছিলেন ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে।
তাই—
📌 গ্যালিলিওর জন্মের প্রায় ৫৯০–৬০০ বছর আগে আল-বিরুনি জন্মেছিলেন।
অর্থাৎ আল-বিরুনি গ্যালিলিওর প্রায় ছয় শতাব্দী আগের বিজ্ঞানী ছিলেন।
সম্পূর্ণ দুনিয়ায় এমনকি গেলিলিওর ৬০০বছর আগেই হেলিওসেন্ট্রিকের ধারণাকে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে এই দাবি পেশ করেন আল বিরুনি। এবং তিনি সে সময়েই কোনো প্রকার যন্ত্র ছাড়াই শুধু গাণিতিক ব্যাখ্যা ও জ্যামিতি দিয়ে ধারণা পেশ করেন যে, যদি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাহলে এখানে দিন-রাত ও ঋতুবৈচিত্র কিভাবে হচ্ছে ইত্যাদি।
⭐ আল-বিরুনির অনেক পরে ছিলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ এর যুগ। যদি আল-বিরুনির এইসব জ্ঞান কুফরি হতো তাহলে অবশ্যই তিনি তার সমালোচনা ও তার বিরুদ্ধে ফতোয়া থাকতো। ইবনে তাইমিয়্যাহ না হলেও ইমাম যাহাবি, ইবনুল কাইয়্যুম, ইবনে কাছীরের নিকট থাকতো। কিন্তু ইমাম যাহাবি থেকে প্রশংসা পাওয়া যায় যে—
📜 সিয়ারু আলামিন নুবালা (খন্ড- ১৭, পৃষ্ঠা ৫৪৮-৫৫০)
ইমাম যাহাবি লিখেছেন:
"كان صاحب فنون، وفضائل، وأوحد زمانه في معرفة الفلك والهيئة."
“তিনি বহু বিদ্যার মানুষ ছিলেন; জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যামিতিতে তার যুগে তার মতো আর কেউ ছিল না।”
📜 تاريخ الإسلام
আর আল-বিরুনির পরবর্তী কোনো সালাফি কিবার থেকে আল-বিরুনির এই থিওরির বিরুদ্ধে কোনো মত পাওয়া যায় না। যদিও তিনি জ্যোতির্বিদ্যা ও কালামচর্চার সমালোচনা অনেকেই করেছেন এবং আমরাও কালামী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সমালোচনা করি এবং করতে থাকবো।
কিন্তু গবেষণা ও বিজ্ঞানের বিষয়কে আক্বীদার মৌলিক বিষয়ের মধ্যে টেনে এনে তাকফির করা ও আলিমদের গালাগালি করা নিতান্তই মূর্খ্যতা। মৌলিক আক্বীদা ছাড়া শরীয়াহ ও ফিক্বহে এবং দুনিয়াবি ইলমের মধ্যে মতানৈক্য যুগে যুগে থাকবেই।
বারাকাল্লাহু ফিকুম।

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mymensingh Salafi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share