Mymensingh Salafi

Mymensingh Salafi আল কুরআন ও সহিহ হাদিসের নিঃশর্ত অনুসারী

02/06/2026

এমন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার বিধান কী যেখানে মিউজিক বা গান বাজানো হয়❓

🎙️ শাইখ আব্দুল আজিজ ফারহান আল এনাজি (হাফিযাহুল্লহ)

30/05/2026

মায়ের রান্নার সমালোচনা করা অবাধ্যতা 🚫

🎙️ শাইখ সাঈদ রাসলান (হাফিজাহুল্লহ)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা

শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। কোনো খাবারের দোষত্রুটি বর্ণনা না করা এবং তার প্রশংসা করা উত্তম।

আবূ হুরইরো (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল ﷺ কখনো কোন খাবারের দোষ বর্ণনা করেন নি। ভাল লাগলে তিনি তা খেয়েছেন এবং খারাপ লাগলে তিনি তা ত্যাগ করেছেন। [সহিহ বুখারী: ৩৫৬৩, সহিহ মুসলিম: ৫৫০৪]
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
সমালোচনা না করে, যদি রান্নার কোনো সমস্যা থাকে, তবে তা ভদ্র ও সম্মানজনকভাবে বলতে পারেন যেমন:
"মা, আমি এই খাবারটা অন্যভাবে খেতে চাই, একটু মশলা কম দিতে পারবে?"

Think positive, Be positive. সর্বদা positive way তে চিন্তা করলে দেখবেন positive way তে নানা কথা বলতে পারবেন।

একজন পুরুষের জন্য ৪ বিয়ে বৈধ এইটা তো আমরা সবাই জানি কিন্তু একজন স্বামীর প্রতি স্ত্রীর জন্য আরোপিত সুন্নাহসম্মত বাকী দায়ি...
07/05/2026

একজন পুরুষের জন্য ৪ বিয়ে বৈধ এইটা তো আমরা সবাই জানি কিন্তু একজন স্বামীর প্রতি স্ত্রীর জন্য আরোপিত সুন্নাহসম্মত বাকী দায়িত্বগুলি কি কি তা কি আমরা জানি..? বিস্তারিত জানতে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
▬▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬

প্রিয় পাঠক ইসলামী শরীয়তে পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল হলেও স্ত্রীর প্রতি স্বামীর রয়েছে ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু বর্তমান সমাজে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা হয়। মনে হয় যেন সংসারে স্ত্রীর কোন মূল্যই নেই, স্বামীর সংসারে মুখ বুজে খেটে যাবার জন্যই তার জন্ম। যখন সমাজে এই চিন্তা প্রবল হয়, তখনই কাঙ্খিত সুখের সংসার ও প্রেমের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর কাছে অত্যন্ত বিকট ও বীভৎস আকার ধারণ করে। এ বীভৎসতা থেকে সমাজকে মুক্তি দিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ গ্রহণই একমাত্র পথ। একনজরে কুরআন সুন্নাহর আলোকে সংক্ষিপ্তভাবে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ৬৪ টি দায়িত্ব ও কর্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

(১).কুমারী মেয়েকে বিবাহ সুন্নাহ এবং উত্তম।[আবূদাউদ হা/২০৫০; নাসাঈ হা/৩২২৭; ইরওয়াউল গালীল হা/১৭৮৪; মিশকাত হা/৩১৯১]

(২). বয়স্ক মহিলাকে বিবাহ করা সুন্নাত।[ইবনু হিশাম ১/১৮৭, টীকা ১-২; হাকেম হা/৪৮৩৮, ৩/২০০; বায়হাক্বী দালায়েল হা/৪০৪; মা শা-‘আ ১৮-১৯ পৃঃ]

(৩). ডিভোর্সী নারীকে বিবাহ করা সুন্নাত।[আহমাদ হা/২৯২৬; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৫২৩]

(৪). বিধবা নারীকে বিবাহ করা সুন্নাত।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫০৩৮,৫৩৫৩]

(৫).সামর্থ্য থাকলে এবং স্ত্রীর প্রতি সমান ইনসাফ ও অধিকার রক্ষা করতে পারলে একাধিক বিবাহ করা (সর্বোচ্চ চারটি বিবাহ করা সুন্নত)।[ সূরা নিসা ৩; বুখারী হা/৪৮৭৮]

(৬).সামর্থ্য থাকলে স্ত্রীর পূর্বের সন্তানদের লালন-পালন করা সুন্নত। [সহীহ বুখারী হা/৫৩৭৬; মুসলিম হা/২০২২]

(৭).স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা ফরজ। [সূরা নিসা,৪ সহীহ বুখারী ৫১৫১, মুসলিম ১৪১৮, মিশকাতুল মাসাবিঃ ৩১৪৩]

(৮)কেউ মোহরের বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করল, অথচ মোহর পরিশোধ করবে না বলে নিয়ত করলে,হাদীসের ভাষায় ঐ স্বামী যিনাকারী।’[বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান হা/৫৫৪৯; বাযযার হা/৮৭২১; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৮০৬, সহীহ লিগায়রিহী]

(৯).স্বামীর মৃত্যু বা ত্বালাক্বের সময় স্ত্রী তার অনাদায়ী মোহরের দাবী করতে পারে।’[ইলামুল মুওয়াক্বেঈন, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৮১)। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, আবূ ই‘আলা, ইবনু তাইমিয়্যা, নাখঈ, শা‘বী এবং লাইছ বিন সা‘দ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন]

(১০).স্ত্রীকে পর্দায় রাখা ফরজ বেপর্দায় চলতে দিলে দাঈউস হতে হবে। [সূরা নূর ২৪/৩১ তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯ নাসাঈঃ ২৫৬২ মিশকাতঃ ৩৬৫৫; সহীহুল জামেঃ ৩০৫২]

(১১). স্ত্রীকে দ্বীনের ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া ওয়াজিব।[সূরা ত্ব-হা ২০/১৩২ সহীহ বুখারী হা/৭০৬৯]

(১২).স্ত্রীকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করাও স্বামীর এক বড় দায়িত্ব। তাকে দ্বীন, আকীদা, পবিত্রতা, ইবাদত, হারাম, হালাল, অধিকার ও ব্যবহার প্রভৃতি শিক্ষা দিয়ে সৎকাজ করতে আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দিয়ে আল্লাহর আযাব থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। [সূরা তাহরীম,৬]

(১৩).স্ত্রীর হক আদায় করা ফরয।[সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২৮ সহীহ বুখারী, হা/৫১৯৯]

(১৪). আর্থিক অবস্থানুযায়ী সংসারের সকল খরচ স্বামীর বহন করা ওয়াজিব।[সূরা তালাক্ব ৬৫/৭ বাক্বারাহ ২/২৩৩ আবু দাউদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯]

(১৫).একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে পালা বণ্টন করা ওয়াজিব।[সহীহ বুখারী, হা/৫০৬৭;সহীহ মুসলিম, হা/১৪৫৬]

(১৬).একাধিক স্ত্রী থাকলে এক স্ত্রীর ঘরে একদিন অবস্থান করলে অন্য স্ত্রীর ঘরেও একদিন অবস্থান করতে হবে,এটি ওয়াজিব। [সহীহ বুখারী, হা/৪৪৫০, ৫২১৭]

(১৭).যদি দু’জন স্ত্রী থাকে আর তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করা ওয়াজিব।[তিরমিযী, হা/১১৪১; আবূ দাঊদ, হা/২১৩৩]

(১৮). স্ত্রীর সাথে রান্না করার কাজে, পরিস্কারের কাজে, ধোয়া-মোছার কাজে সহায়তা করা সুন্নাত।[সহীহ বুখারী, হা/৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯ আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৪১; শামায়েলে তিরমিযী, হা/৩৪৩; সহীহুল জামে‘, হা/৪৯৯৬]

(১৯).স্ত্রীর রান্না করা খাবারের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করা সুন্নত। [ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৬৩; সহীহ মুসলিম, হা/২০৬৪।

(২০).ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্ত্রীকে মুখে খাবার তুলে খাওয়ানো সুন্নাত।[আবু দাঊদঃ২৮৬৪]

(২১).বাড়িতে ব্যতীত অন্যত্র স্ত্রীকে ছেড়ে না রাখা কর্তব্য। [আবু দাউদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯, সনদ হাসান]

(২২).স্ত্রীর প্রতি উত্তম ধারণা রাখা সুন্নত বিনা দলিলে সন্দেহ করা হারাম। [সূরা হুজুরাত ৪৯/১২ সহীহ বুখারী হা/৫১৪৩, ৬০৬৪; মুসলিম হা/২৫৬৩; মিশকাত হা/৫০২৮]

(২৩).স্ত্রীর নিকট থেকে যত বড় আদর্শের ব্যবহারই আশা করা যাক না কেন, তার মধ্যে কিছু না কিছু দোষ ত্রুটি থাকবেই। সম্পূর্ণভাবে স্বামীর মনে অঙ্কিত সরল পথে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে হাড় ভাঙ্গার মত ভেঙ্গে যাবে সেটা মাথায় রাখা স্বামীর অন্যতম কর্তব্য।[মুসলিম ১৪৬৮, সহীহাহ্ ৩৫১৭, সহীহ আল জামি‘ ৩৯৪৩।মিশকাত,৩২৩৯]

(২৪).স্ত্রীর সাথে হাসিমুখে কথা বলা ও উত্তম ব্যবহার করা সুন্নত।[তিরমিযী হা/১৯৭০; মিশকাত হা/১৯১০]

(২৫). স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করা সুন্নাত।[সহীহ বুখারী, হা/২৭৩১-২৭৩২]

(২৬).স্ত্রীর উপর অযথা রাগ না করা, তারা রেগে গেলে ধৈর্যধারণ করা সুন্নত।[ছহীহ বুখারী, হা/৫২২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৯]

(২৭).স্ত্রীর রাগ অভিমান এবং মন বোঝার চেষ্টা করা সুন্নাত।[সহীহ বুখারীঃ৫২২৮]

(২৮).স্ত্রীর অভিমান ভাঙ্গানো সুন্নাত।[সহীহ বুখারীঃ৫২২৮]

(২৯).স্ত্রীর নিকট থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু লাভ করেই সন্তুষ্ট থাকা সুন্নত।[সহীহ বুখারি, হা: ৩৩৩১; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৬৮]

(৩০).স্ত্রীকে ক্রোধান্বিত না করা এবং শুধু তার দোষত্রুটি না দেখা সুন্নত। [সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৬৯; স্তন্যপান অধ্যায় (১৮); পরিচ্ছেদ: ১৮]

(৩১).স্বামীর উপর স্ত্রীর অন্যতম অধিকার এই যে, বিপদ আপদ থেকে স্বামী তাকে রক্ষা করবে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি স্বামী শত্রুর হাতে মারা পরে, তবে সে শহীদের মর্যাদা পাবে।[তিরমিযী, আবু দাঊদ, নাসাঈ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫২৯]

(৩২). স্ত্রীকে গালিগালাজ না করা সুন্নত, করা হারাম। [
তিরমিযী, হা/২০১৬; মিশকাত, হা/৫৮২০, সনদ ছহীহ।
আবু দাউদ, হা: ২১৪২]

(৩৩).স্ত্রীকে,কোন খাদিমকে মারধর না করা সুন্নাত। [সহীহ মুসলিম, হা/২৩২৮; মিশকাত, হা/৫৮১৮ মুসলিম হা/২৩২৮; ইবনু মাজাহ হা/১৯৮৪]

(৩৪).বিনা দোষে স্ত্রীকে বয়কট না করা সুন্নত। [পাগুত্ব]

(৩৫).স্ত্রীর ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুল ক্ষমা করা সুন্নাত।[মুসলিম হা/১৪৬৯; মিশকাত হা/৩২৪০, ‘বিবাহ’ অধ্যায়। আহমাদ হা/২০১০৫; সহীহুল জামে‘ হা/১৯৪৪; সহীহ আত-তারগীব হা/১৯২৬। মুসলিম হা/১৪৬৮।]

(৩৬).স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করা ও তাকে গুরুত্ব দেওয়া সুন্নত। [আলে ইমরান ৩/১৫৯ বুখারী হা/৪৯৫৩; মুসলিম হা/১৬০; মিশকাত হা/৫৮৪১ ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়, ‘অহি-র সূচনা’ অনুচ্ছেদ। বুখারী হা/২৭৩২]

(৩৭). স্ত্রীর জন্য নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাত।[’।[ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৩ আবূ দাঊদ, হা/৪১৬৩ তাফসীর কুরতুবী, ৫/৯৭]

(৩৮). স্ত্রীর অনুভূতিগুলো জানার চেষ্টা করা এবং তাকে যখন প্রয়োজন হয় শান্তনা দেওয়া সুন্নাত।[বুখারী, হা/৫২২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৯ তিরমিযী, হা/৩৮৯৪]

(৩৯). স্ত্রীর সাথে খেলা করা, গল্প করা, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া সুন্নাত।[তিরমিযী, হা/৩৬৯১; আলবানী হাদীস ছহীহ বলেছেন। অনুরূপ হাদীছ সহীহ বুখারী, হা/৪৫৫, সহীহ মুসলিম, হা/৮৯২-তেও বর্ণিত হয়েছে]

(৪০).কখনো কখনো খাবার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় স্ত্রীদেরও সাথে নিয়ে যাওয়া সুন্নত।[সহীহ মুসলিম, হা/২০৩৭।শারহে ছহীহ মুসলিম, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ২০৯]

(৪১).স্ত্রীকে বিভিন্ন উপলক্ষে (যেমন ঈদ, কুরবানী প্রভৃতিতে) ছোটখাট উপহার দেওয়া সুন্নত।[সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫১, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৮৭৮।মিশকাত,১৯৩১]

(৪২). স্ত্রীর কোলে আবদ্ধ হওয়া এবং শিথিল করা সুন্নাত।[ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৪; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫০]

(৪৩).স্ত্রীদের সাথে একই পাত্র থেকে গোসল করা সুন্নাত।[ছহীহ বুখারী, হা/২৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/৩২১;নাসাঈ, হা/২৩৯]

(৪৪). স্ত্রীকে সুন্দর নাম নিয়ে ডাকা সুন্নাত।[নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৮৯০২; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩২৭৭।]

(৪৫).স্ত্রীর পিছনে খরচ করা অন্যান্য সকল ব্যয়ের চেয়ে নেকীই অধিক। [সহীহ মুসলিম ৯৯৫, আহমাদ ১০১৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৬৯৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫১,মিশকাত,১৯৩১]

(৪৬).স্ত্রীদেরকে দান সাদাক্বাহ করতে উপদেশ দেয়া সুন্নত। [মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৯৮০, সনদ হাসান; সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮৬৫ আবূ দাউদ, হা/১৭০০; নাসাঈ, হা/২৫৪৯]

(৪৭). নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করা সুন্নাত।[ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯, ‘ভরণ-পোষণ’ অধ্যায়, ‘অনুচ্ছেদ-৬৯।আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৪১; শামায়েলে তিরমিযী, হা/৩৪৩; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৯৯৬, সনদ ছহীহ।মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৯০৩; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৫৬৭৭; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৯৩৭, সনদ ছহীহ]

(৪৮).রাতে স্ত্রীরা জেগে থাকলে তাঁদের সাথে গল্প করা, কথাবার্তা বলা সুন্নাত।[ছহীহ বুখারী, হা/১১৬৭ ও১১৬১।আবু দাউদ হা/১২৬২; মিশকাত হা/১১৮৯, সনদ ছহীহ]

(৪৯).স্ত্রী অসুস্থ হ’লে তার সেবা-শুশ্রূষা করা সুন্নত।[আবু দাউদ হা/৪০৮৪; মিশকাত হা/১৯১৮, সনদ ছহীহ। বুখারী হা/২৯৮৯; মুসলিম হা/১০০৯; মিশকাত হা/১৮৯৬।

(৫০).স্ত্রীর সাথে বৈধ খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করাও সুন্নাত।[আবূ দাঊদ, হা/২৫৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২০; মিশকাত, হা/৩২৫১, সনদ ছহীহ; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৩১]

(৫১).স্ত্রীর প্রশংসা করা সুন্নাত। রাসূল (ﷺ) আয়েশা (রাঃ) সবার সেরা, এবং খাদিজা (রাঃ) এর ভালোবাসার প্রশংসা করতেন। (বুখারীঃ৫২২৯, ৩৪১১)

(৫২).অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ছাড়াও স্ত্রীদের চুম্বন করা ও তাদের শরীরের সাথে শরীর মিলানো সুন্নাত।[ছহীহ বুখারী, হা/১৯২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১১০৬।]

(৫৩).রাতে সালাত আদায় করার সময় স্ত্রীদের জাগিয়ে তোলা সুন্নত।[ছহীহ বুখারী, হা/৫১২; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৪৪ আবু দাউদ, হা: ১৩০৮; নাসায়ি, হা: ১৬১০]

(৫৪).বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় চুম্বন করা সুন্নাত।[তিরমিযী, হা/৮৬; আবূ দাউদ, হা/১৭৮]

(৫৫).সফরে স্ত্রীদের সঙ্গে এক সাওয়ারীতে আরোহণ করা এবং তাঁদের সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলা সুন্নাত।[ছহীহ বুখারী, হা/৫২১১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৪৫]

(৫৬).নিজের পরিবারের ব্যক্তিগত সদস্য এবং বন্ধুদের কাছে তার ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ না করা সুন্নাত।প্রকাশ করা হারাম[মুসলিম, হাদিস : ৩৪৩৪-৩৫]

(৫৭).স্ত্রীর পরিবার ও বান্ধবীদেরকে ভালোবাসা সুন্নাত।
[সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৫ ও ৬০৬০]

(৫৮).নিজের পিতা মাতার পাশাপাশি স্ত্রীর পিতা-মাতাকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা করা সুন্নাত।[সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৫ ও ৬০৬০]

(৫৯).স্ত্রীকে তার পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া সুন্নত। [বুখারী হা/২৬৬১, ৪১৪১; মুসরিম হা/২৭৭০; আহমাদ হা/২৫৬৬৪]

(৬০). স্ত্রীর এটো খাবার খাওয়া সুন্নাত।[ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০; মিশকাত, হা/৫৪৭।]

(৬১).স্ত্রী যেখান থেকে পানি পান করতেন সেখান থেকে পানি পান করা সুন্নাত।[ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০ সুনানে নাসাঈ, হা/৩৭৮]

(৬২).হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস না করে সাধারণ মেলামেশা করা সুন্নাত। [সহীহ বুখারী মুসলিম, হা/৩০০; মিশকাত, হা/৫৪৭]

(৬৩). স্ত্রীর কোলে শুয়ে কুর'আন তিলাওয়াত করা সুন্নাত।[সহীহ বুখারীঃ২৯৭ ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৮২]

(৬৪).বাড়িতে প্রবেশের সময় স্ত্রীকে সালাম দেওয়া সুন্নাত।[তিরমিযী হা/২৬৯৮; সহীহ আত-তারগীব হা/১৬০৮; তারাজু‘আত হা/২৫৯; ইরওয়া হা/২০৪১, সনদ হাসান]

পরিশেষে, আমরা অনেক পুরুষই আছি, যারা উপরোক্ত ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতগুলো তার ১ম স্ত্রীর জন্যই পালন করতে রাজি নই বা সামর্থ্য রাখিনা কিন্ত ৪ বিয়ের সুন্নাত পালন এবং বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করাতে সদা প্রস্তুত। তাই নিজেকে আদর্শ স্বামী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত ৬৪ টি পয়েন্ট পালন করার চেষ্টা করতে হবে, প্রিয় নবী রাসূল (ﷺ) বলেন,
তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।[ইবনে মাজা,১৯১৭ তিরমিজি,৩৮৯৫]
সুতরাং উপরোক্ত হাদিসের আলোকে নিজেকে উত্তম স্বামী প্রমাণ করতে চাইলে যে উপরোক্ত বিষয়গুলো সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করার বিকল্প কোনো পথ নেই অতএব, যার যার স্ত্রী আছেন তার অধিকারগুলা ভালোভাবে আদায় করেন, যারা অবিবাহিত আছে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তাহলে দুনিয়াটা যেমন জান্নাত হবে তেমনি পরকালটাতেও রবের সান্নিধ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ।আল্লাহু আলাম

যে ছালাত ছেড়ে দিল, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।মৃত্যুশয্যায় আমিরুল মুমিনীন ওমরের (রা.) এর শেষ হুশিয়ারি!ইসলামের ইতিহাসের দ্ব...
23/04/2026

যে ছালাত ছেড়ে দিল, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।

মৃত্যুশয্যায় আমিরুল মুমিনীন ওমরের (রা.) এর শেষ হুশিয়ারি!
ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় স্তম্ভ, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহান সাহাবী ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা)। তাঁর জীবন ছিল সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী (আল-ফারুক)।

আজ আমরা জানবো তাঁর শাহাদাতের সেই ঐতিহাসিক ঘটনা, যা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে—জীবন চলে গেলেও ছালাত (নামাজ) কখনো ছাড়া যাবে না।
ওমর (রা) সবসময় একটি দোয়া করতেন,
"হে আল্লাহ! আমাকে আপনার পথে শাহাদাত দান করুন এবং আপনার রাসূলের (ছা.) শহরে আমার মৃত্যু নসিব করুন।"
📚সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১৮৯০

যৌক্তিকভাবে এটি অসম্ভব মনে হতো, কারণ শাহাদাত সাধারণত যুদ্ধের ময়দানে হয়, আর মদিনা ছিল নিরাপদ শহর। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এই দুই দোয়াই কবুল করেছিলেন।

হিজরি ২৩ সনের জিলহজ মাসের শেষ দিকে। মুগিরা ইবনে শু’বা (রা)-এর পারসিক দাস আবু লু’লু আল-মাজুসি খলিফাকে হ*ত্যার পরিকল্পনা করে।
ফজরের নামাজ শুরু হয়েছে। ওমর (রা) সুরা পাঠ শেষ করে রুকুতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ঘাতক বিষাক্ত খঞ্জর দিয়ে তাঁর ওপর হামলা করে। সে মোট ৬টি (মতান্তরে ৩টি) আঘাত করে, যার মধ্যে একটি ছিল নাভির নিচে।
📚সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৩৭০৪;
📚আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৩৭

আঘাতের পর ওমর (রা) সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, যন্ত্রণায় ছটফট না করে তিনি প্রথম যে প্রশ্নটি করেছিলেন তা হলো— "মানুষ কি নামাজ আদায় করেছে?"
জবাব এলো, "জি হ্যাঁ।" তখন তিনি ইসলামের ইতিহাসের সেই অমর উক্তিটি করেন,
"জেনে রেখো, যে ব্যক্তি ছালাত (নামাজ) ত্যাগ করে ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।"
📚মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক হা/ ৫৫৯
📚মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, হাদিস নং ৩২৯০৮

এরপর তিনি রক্তাক্ত জখম নিয়ে সেই অবস্থাতেই নামাজ আদায় করেন।
যখন তাঁকে জানানো হলো যে হ'ত্যাকারী কোনো মুসলিম নয় বরং একজন অগ্নিপূজক (মাজুসি), তখন তিনি প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার মৃত্যু এমন একজনের হাতে নির্ধারণ করেননি যে অন্তত একবারও আল্লাহর সামনে সিজদা করেছে।
📚তারিখুল ইসলাম, ইমাম জাহাবি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩২৯; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১৪৪)

#উল্লেখ্যঃ- ওমর (রা.) হ'ত্যাকারী অগ্নিপূজক আবু লু’লু আল-মাজুসির
মাজার ইরানের কাশান (Kashan) শহরের ফিন (Fin) নামক এলাকায় অবস্থিত।

আমিরুল মুমিনীন ওমরের (রা.)
শেষ ইচ্ছাঃ- রাসূলের (ছা.) পাশে ঠাঁই
মৃত্যুর পূর্বে তিনি পুত্র আব্দুল্লাহকে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা)-এর কাছে পাঠান। অনুরোধ করেন যেন তাঁকে রাসূল (ছা.) ও আবু বকর (রা)-এর পাশে দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়। আয়েশা (রা) নিজের জন্য রাখা সেই জায়গাটি ওমর (রা)-কে দিয়ে দেন।
📚সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৯২

শিক্ষণীয় বার্তা কী?
১. নামাজের গুরুত্বঃ পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাচ্ছে, রক্তে শরীর ভিজে গেছে—এমন অবস্থাতেও খলিফাতুল মুসলিমিন নামাজ ছাড়েননি। আর আমরা সুস্থ শরীরে কত অবহেলায় নামাজ কাজা করছি!
২. নিষ্ঠাঃ- আপনি যদি সত্য অন্তরে আল্লাহর কাছে কিছু চান (শাহাদাতের মতো কঠিন চাওয়াও), আল্লাহ তা অসম্ভব উপায়েও পূরণ করতে পারেন।
ওমর (রা) আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে বাঁচতে হয় এবং কীভাবে মাথা উঁচু করে আল্লাহর দরবারে ফিরে যেতে হয়। আল্লাহ আমাদের তাঁর মতো ছালাতের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন

এই বিষয়টি—অর্থাৎ টাক মাথাওয়ালা ব্যক্তির জন্য পরচুলা ব্যবহার জায়েয হওয়া—স্পষ্ট হতে চাই। এটা কি সত্যি? হাদীসে যে কৃত্র...
21/04/2026

এই বিষয়টি—অর্থাৎ টাক মাথাওয়ালা ব্যক্তির জন্য পরচুলা ব্যবহার জায়েয হওয়া—স্পষ্ট হতে চাই। এটা কি সত্যি? হাদীসে যে কৃত্রিম চুল এর ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা এসেছে! আসলেই কি এটা উনার বক্তব্য? কেননা বুখারীর ৫৯৩৫ নং হাদীসে এসেছে: আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আমি আমার একটি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এরপর সে রোগাক্রান্ত হয়, ফলে তার মাথার চুল পড়ে যায়। তার স্বামী এর কারণে আমাকে তিরস্কার করে। আমি কি তার মাথায় পরচুলা লাগিয়ে দিব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পরচুলা লাগায় এবং যে তা অন্যকে লাগিয়ে দেয়, তাদের নিন্দা করলেন। [বুখারীতে আরো রয়েছে : ৫৯৩৬, ৫৯৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৯৭)

***

জবাব: হ্যাঁ, এটি উনারই বক্তব্য। আর সত্য কথা হচ্ছে এতে কোনো ভুল নেই। আর আপনি যে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, সে হাদীসটি তার বক্তব্যের সাথে কোনো প্রকার সাংঘর্ষিকতা রাখে না। আর উক্ত যা অনুবাদ উল্লেখ করা হয়েছে হাদীসের, এটি সঠিক অনুবাদ নয়। আর পরচুলা ব্যবহার নিষেধ প্রসঙ্গে কোনো হাদীস আসেনি। হাদীসের নিষেধ করা হয়েছে চুল জোড়া লাগানো থেকে, যেমনটা সামনে আসছে। আর উক্ত হাদীসের মূল ভাষ্যের সঠিক অনুবাদ হলো:

ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنِ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمِّي، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَتْ: إِنِّي أَنْكَحْتُ ابْنَتِي ثُمَّ أَصَابَهَا شَكْوَى فَتَمَرَّقَ رَأْسُهَا، وَزَوْجُهَا يَسْتَحِثُّنِي بِهَا، أَفَأَصِلُ رَأْسَهَا؟ فَسَبَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ.

আমার কাছে আহমাদ ইবনু আল-মিক্বদাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ফুদাইল ইবনু সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মানসূর ইবনু ‘আবদির রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আমার মা বর্ণনা করেছেন, আসমা’ বিনতু আবী বাকর রায্বিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে যে, এক নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল: নিশ্চয়ই আমি আমার মেয়েকে বিবাহ দিয়েছি, অতঃপর তার একটি অসুখ হয়েছিল; ফলে তার মাথার চুল ঝরে গেছে। আর তার স্বামী আমাকে তার জন্য তাগিদ দিচ্ছে, আমি কি তার মাথায় চুল জোড়া লাগাতে পারি?

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুল জোড়া রচনাকারী ও জোড়া লাগানো প্রার্থনাকারীকে লা‘নত করেছেন। (বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ৫৯৩৫)

আমি এজন্য আমার ভাইদেরকে সবসময় বলি: আপনারা মূল আরবি ভাষা শিখুন, শার’য়ী পরিভাষা গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন, শার’য়ী উসূল আয়ত্ত করুন এবং কুরআন হাদীসের কোনো ভাষ্য পড়লে, তার আলোকে উলামাগণের বক্তব্যগুলো সম্পর্কে মনোনিবেশ করুন। কুরআন ও হাদীসের সাধারণ বক্তব্য পড়ে তাড়াহুড়ো করবেন না। এবং এসব বিষয়ের শর্ত পূরণ করার পূর্ব পর্যন্ত কোনো ‘উলামার কথা আপনি জানতে পারলে সেটিকে শরী‘আহ গণ্য করুন। কেননা প্রত্যেক নির্ভরযোগ্য ‘উলামার সকল বক্তব্য শরীয়ত বলে গণ্য, যতক্ষণ না কোনো নির্দিষ্ট মাসআলার নির্দিষ্ট বক্তব্যে বিপরীতে হক সুস্পষ্ট হবে। এমনকি যদিও কোনো ব্যক্তি কুরআন হাদীসের সাধারণ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি 'উলামা নির্দিষ্ট বক্তব্যের বিপরীত দেখতে পায়। (তবুও সে 'উলামার কথার উপর আমল করবে)। এমনকি যদিও তার মনের সাথে না মিলে। হক স্পষ্টভাবে উপস্থিত হওয়া ব্যতীত নিজের মনের সাথে না মিলার কারণে 'উলামার কথাকে প্রত্যাখ্যান করলে শরী'আতের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান বলে গণ্য করা হবে। কেননা মূলনীতি হচ্ছে: 'উলামার আমার কথা শরী'আত। আর যখন কোনো নির্দিষ্ট মাসআলার নির্দিষ্ট বক্তব্য ভুল সাব্যস্ত হবে, তখন সেটি প্রত্যাখ্যাত হবে; আর অন্য সব শরী‘আহ থাকবে। আর হক কিভাবে সুস্পষ্ট হয় আমরা উপরে উল্লেখ করেছি।

আর এখন আসি উল্লেখিত হাদীসের ব্যাপারে, এটার উত্তর হল আমরা পূর্বে যেমনটা বলেছি: যে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, হাদীসটি শাইখ ইবনু উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ এর বক্তব্যের সাথে কোনো প্রকার সাংঘর্ষিকতা রাখে না। মূলত উক্ত হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে: চুল জোড়া লাগানো থেকে। এবং যে নারীর মাথায় টাক রয়েছে, কোনো চুল নেই, তার ব্যাপারে আমরা বলব: সে ত্রুটি ঢাকার জন্য পরচুলা ব্যবহার করতে পারবে। এটি জায়েয। কিন্তু এর উপর সেই নারীর ঘটনাটি আপত্তি হিসেবে আসে, যে নারী তার মেয়ের ব্যাপারে বলেছিল: সে হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, ফলে তার চুল ঝরে গেছে। অতঃপর সে নবীজি (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছিল যে, সে তার মাথায় চুল জোড়া লাগাতে পারবে কি না!?

তখন তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করেছিলেন এবং তাকে তিরস্কার করেছিলেন।

আমরা বলব: এই ঘটনায় স্পষ্ট যে, এই নারীর চুল সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি, এ কারণেই সে জোড়া লাগাতে চেয়েছিল। আর জোড়া লাগানোর আবেদন প্রমাণ করে যে, মূল চুল বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যদি মূল চুল বিদ্যমান থাকে, তবে এই বৃদ্ধিটি হবে পরিপূর্ণতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু যদি চুল একদমই না থাকে এবং তা একটি ত্রুটি হয়, যেমন টাক পড়া নারী যার মাথা গালের মতো হয়ে গেছে এবং তাতে কোনো চুল নেই, আর এমনটি বাস্তবে আছে। এটা মনে করবেন না যে, এটি একটি কাল্পনিক বিষয়, বরং এটি একটি বাস্তব বিষয়, তবে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়, তা হলো, এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ জোড়া লাগানোর উদ্দেশ্যের ভিন্নতা রয়েছে, যে জোড়া লাগানোর উপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং যার উপর লা‘নত এসেছে। [দেখুন: শাইখুল ইসলাম ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ছ্বলিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ, শারহু সহীহিল বুখারী: কিতাবুল লিবাস, বাবু ওয়াসলিশ শা‘আরি, খণ্ড নং ৭, পৃষ্ঠা নং ৫৯৬-৬০১, ৫৯৩২-৫৯৩৮ নং হাদীসের ব্যাখ্যা।]

ফরয নমাজের জায়গায় সুন্নত আদায় করার দলীলসমূহ:(১) নাফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন:كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي فِي ...
21/04/2026

ফরয নমাজের জায়গায় সুন্নত আদায় করার দলীলসমূহ:
(১) নাফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন:
كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي فِي مَكَانِهِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْفَرِيضَةَ .
"আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সুন্নত সেখানেই আদায় করতেন যেখানে ফরয পড়তেন।"
(সহীহ বুখারী: ৮৪৮)
(২) উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন:
رَأَيْتُ الْقَاسِمَ وَسَالِمًا يُصَلِّيَانِ الْفَرِيضَةَ، ثُمَّ يَتَطَوَّعَانِ فِي مَكَانِهِمَا .
আমি তাবিঈ কাসিম রহিমাহুল্লাহ ও তাবিঈ সালিম রহিমাহুল্লাহকে দেখেছি যে, তারা ফরজ নামায আদায় করল, অতঃপর সেখানেই (সেই স্থানে) নফল নামায আদায় করল।
(মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ: ২/২০৮, এবং এর সনদ সহীহ)
(৩) মাতার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন: আমি বিখ্যাত তাবিঈ আতা ইবনু আবী রাবাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে ব্যক্তি ফরযের জায়গাতেই সুন্নত পড়ে নেয়। তিনি বললেন:
لَا بَأْسَ بِهِ .
"কোনো ক্ষতি নেই।"
(মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ২/২০৮, এবং এর সনদ সহীহ)
সুতরাং জানতেন না এই মত সঠিক নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছেন কি করেছেন তা সাহাবায়ে কেরাম ও তাবিঈগণ ভালো বুঝতেন তাই একই স্থানে আদায় বৈধ

এক ৮৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ আলিমের দৈনিক রুটিন:🕌 ফজর নামাজ আদায় করি🚶 আধা ঘণ্টা হাটাহাটি করি🍳 সকাল ৬ টায় নাশতা করি✍ সকাল ৭ টা থে...
14/04/2026

এক ৮৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ আলিমের দৈনিক রুটিন:

🕌 ফজর নামাজ আদায় করি
🚶 আধা ঘণ্টা হাটাহাটি করি
🍳 সকাল ৬ টায় নাশতা করি
✍ সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত কাজ করি
🕰️ (বিরতির পর পুনরায়) দুপুর ২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত কাজ করি
🍽️ রাতের খাবার সম্পন্ন করি এবং এরপরে ঘুমিয়ে পড়ি

এই ৮৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ আলিম হলেন ড. বাশশার আওওয়াদ মা'রুফ আল উবাইদী। এখান থেকে আমাদের জন্য, বিশেষতঃ যুবক ত্বলিবে ইলমদের জন্য শিক্ষা রয়েছে যে, ৮৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ আলিম কতোটা কনসিস্টেনসি মেইন্টেইন করে ইলমের ত্বলব ও প্রচারে কাজ করে যাচ্ছেন। আর আমরা মূল্যবান যৌবনের নিয়ামত পাওয়া সত্ত্বেও কতোটা সময় ও শক্তি অযথা ক্ষেত্রে অপচয় করে যাচ্ছি।...

— এই রুটিনটি ثمانية / Thmanyah -পরিচালিত পডকাস্টে ড. বাশশার বর্ণনা করেছেন। ভিডিও ক্লিপের লিংক: https://www.facebook.com/reel/2045866745973425

[ ছবিতে ড. বাশশার “কিং ফয়সাল এওয়ার্ড” সিরেমনিতে বক্তব্য প্রদান করছেন]

অধ্যাপক ড. বাশশার আওয়াদ মারুফ (হাফিজাহুল্লহ)

তিনি ১৯৪০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বাগদাদের আল জামিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক, তারপর ১৯৬৭ সালে স্নাতকোত্তর এবং তারপর ১৯৭৬ সালে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, ১৯৮১ সালে তার অধ্যাপক পদে মনোনীত হন।

প্রফেসর মারুফ ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদে অধ্যাপনা করেন, তারপর ১৯৭০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত কলা অনুষদে অধ্যাপনা করেন। তারপর ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাগদাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রধান হন। ১৯৯২ সালের শেষ দিকে তিনি চলে যান জর্ডানে, এবং ১৯৯২ থেকে ২০১২ সময়কালে, আম্মান বিশ্ববিদ্যালয়, আল-বালকা ফলিত বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ব ইসলামিক বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জর্ডানিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। পরবর্তীকালে, তিনি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হাশেমাইট রাজকীয় আদালতে এইচআরএইচ প্রিন্স আলী বিন নায়েফ আল-হাশেমির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রফেসর মারুফ ১৯৮৫ সালে ইরাকি বিজ্ঞান একাডেমি ( আল-মাজমা' আল-'ইলমি আল-'ইরাকি ), জর্ডানিয়ান আরবি ভাষা একাডেমি ( মাজমা' আল-লুগাহ আল 'আরাবিয়াহ) নামে বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট সংস্থার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে রয়্যাল একাডেমি ( আল-মাজমা' আল-মালাকি ), এবং ২০০২ সালে দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমি ( মাজমা' আল-লুগাহ আল-আরাবিয়াহ বি দিমাশক )। অধ্যাপক ড. বাশশার আওয়াদ মারুফ ২০১৮ সালে ইসলামিক স্টাডিজে বিভাগে جائزة الملك فيصل King Faisal Prize পেয়েছেন।

তিনি অসংখ্য বই রচনা করেছেন।তার রচিত,সম্পাদিত বইয়ের মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক মাশাআল্লহ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা উনাকে নেক হায়াত ও ইলমে বারাকাহ দান করুন। আমিন।

PDF of Dr Bashar Awad Maruf's PhD thesis titled al-Dhahabi wa Manhajuhu fi Kitabihi Tarikh al-Islam:
https://ia802304.us.archive.org/30/items/FP138718/138718.pdf

সকলের জন্য উন্মুক্ত।অংশগ্রহণ ফ্রি উপরুন্ত রেজিস্ট্রেশন কারীদের জন্য থাকছে গিফট ইনশাআল্লহ।
05/04/2026

সকলের জন্য উন্মুক্ত।

অংশগ্রহণ ফ্রি উপরুন্ত রেজিস্ট্রেশন কারীদের জন্য থাকছে গিফট ইনশাআল্লহ।

এটা রুক্বইয়্যাহর ময়দানে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ ফিতনা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে। রুক্বইয়্যাহর নামে নারী রুগী...
03/04/2026

এটা রুক্বইয়্যাহর ময়দানে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ ফিতনা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে। রুক্বইয়্যাহর নামে নারী রুগীদের (মা-বোনদের) ভিডিও বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা—এটি কেবল শার‘ঈ লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি রুগীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও পর্দার চরম অবমাননা।
আমি একজন নগন্য খাদিম হিসেবে আমাদের Ruqyah World - রুক্বইয়্যাহ ওয়ার্ল্ড এর মাধ্যমে এই বিষয়ে ‘আলিম এবং অভিজ্ঞ রাক্বীদের অবস্থান বিস্তারিত তুলে ধরছি ইনশাআল্লাহ।
(১) পর্দার বিধান ও নারীর মর্যাদা :
ইসলামে একজন নারীর পর্দা কেবল সাধারণ অবস্থায় নয়, বরং অসুস্থ অবস্থায় আরও বেশি গুরুত্ব পায়।
— লঙ্ঘন : রুক্বইয়্যাহ করার সময় জ্বিন হাজির হলে অনেক সময় নারীর কাপড় এলোমেলো হয়ে যেতে পারে, তিনি অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি করতে পারেন বা তার আওয়াজ বদলে যেতে পারে। এই অবস্থায় তাকে ক্যামেরার সামনে আনা বা সেই ভিডিও ধারণ করে জনসম্মুখে প্রচার করা সম্পূর্ণ হারাম।
— সালাফদের নীতি : নবী করীম (ﷺ)-এর যুগে একজন নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেকে সামলাতে পারতেন না বলে দু‘আ চেয়েছিলেন। নবীজী (ﷺ) তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তিনি সবর করবেন এবং তার শরীর যেন অনাবৃত না হয়। সেই যুগেও পর্দার এত গুরুত্ব থাকলে আজ টেকনোলজির যুগে কেন মা-বোনদের ভিডিও ‘শো’ করানো হবে?
(২) কেন এটি বন্ধ হওয়া জরুরি?
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা :
একজন রুগী সুস্থ হওয়ার পর যখন দেখেন তার সেই অস্বাভাবিক অবস্থার ভিডিও হাজার হাজার মানুষ দেখছে, তখন তিনি যে মানসিক ট্রমার শিকার হন, তা যাদুর চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। এটি তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে।
জ্বিনের প্রদর্শনী :
জ্বিন হাজির হওয়া কোনো সার্কাস বা বিনোদনের বিষয় নয়। এটি একটি ঈমানী যুদ্ধ। লাইভে বা শর্ট ভিডিওতে এগুলো প্রদর্শন করলে মানুষের মনে রুক্বইয়্যাহর প্রতি গুরুত্ব কমে যায় এবং এক ধরণের কৌতূহল তৈরি হয় যা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।
বানিজ্যিকীকরণ :
অনেক রাক্বী কেবল ভিউ বা ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য নারীদের এই দুর্বল মুহূর্তগুলোকে সস্তা কন্টেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন। এটি চরম পর্যায়ের আমানতদারিতার খেয়ানত।
(৩) পর্দার সাথে থাকলেও কি জায়েয?
মনে রাখবেন, এটা অবশ্যই না-জায়েয; যতই না তা পর্দাসহিত নারী হোক! পর্দা থাকা সত্ত্বেও ভিডিও করা ঠিক নয় কারণ-
— নারীর কণ্ঠস্বর (বিশেষ করে জ্বিনের প্রভাবে অস্বাভাবিক কণ্ঠ) এবং তার শারীরিক নড়াচড়া ফেতনার কারণ হতে পারে।
— আধুনিক যুগে ভিডিও এডিট করে বা স্ক্রিনশট নিয়ে অপব্যবহার করার সুযোগ থাকে।
— এটি রুক্বইয়্যাহর মূল উদ্দেশ্য শিফা (সুস্থতা) থেকে সরিয়ে প্রদর্শনীবাদ-এর দিকে নিয়ে যায়।
(৪) অভিজ্ঞ রাক্বীদের পরামর্শ ও সমাধান :
উস্তায ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী এবং শায়খ আদিল মুক্ববিল (হাফিযাহুমুল্লাহ) এই ধরণের কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তাদের পরামর্শ হলো-
রেকর্ডিং নিষেধ :
রুক্বইয়্যাহ সেশনে ভিডিও রেকর্ডিং পুরোপুরি বন্ধ রাখা উচিত। যদি রুগীর নিরাপত্তার জন্য করতেও হয়, তবে তা কেবল রাক্বী এবং রুগীর মাহরামের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, ইন্টারনেটে নয়।
অডিও রেকর্ড :
যদি শেখার উদ্দেশ্যে কিছু প্রচার করতেই হয়, তবে নাম-পরিচয় গোপন রেখে কেবল কণ্ঠ বা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়া যেতে পারে, তাও রুগীর অনুমতি সাপেক্ষে।
সচেতনতা বৃদ্ধি :
রুগীদের এবং তাদের মাহরামদের সচেতন করতে হবে যেন তারা এমন রাক্বীর কাছে না যান যারা ভিডিও বা লাইভ করতে চায়।

প্রশ্ন:যদি কোনো পুত্রবধূকে জোরপূর্বক তার শ্বশুরের সাথে চার পাঁচ বছর ধরে সহবাস করতে বাধ্য করা হয়,তাহলে কি তার স্বামীর (অ...
03/04/2026

প্রশ্ন:যদি কোনো পুত্রবধূকে জোরপূর্বক তার শ্বশুরের সাথে চার পাঁচ বছর ধরে সহবাস করতে বাধ্য করা হয়,তাহলে কি তার স্বামীর (অর্থাৎ ছেলের) সাথে তার বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।
▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
​উত্তর:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।অতঃপর,

▪️প্রথমত:প্রশ্নে উল্লিখিত ঘটনাপ্রবাহটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং কল্পনানির্ভর বলেই প্রতীয়মান হয়। বরং এটি এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা বা বিভ্রান্তিকর ধারণার প্রতিফলন হতে পারে। কারণ, জোরপূর্বক ব্যভিচারের মতো একটি গুরুতর ঘটনা বছরের পর বছর ধরে একইভাবে চলমান থাকা সাধারণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিঃসন্দেহে, কোনো নারী স্বল্প সময়ের জন্য—একবার বা কয়েকবার—এ ধরনের জঘন্য নির্যাতনের শিকার হতে পারেন; কিন্তু একই পরিস্থিতি দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে অব্যাহত থাকা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও প্রশ্নসাপেক্ষ।এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিছু মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: তিনি কি এত দীর্ঘ সময় তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানাতে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম ছিলেন? পরিবারের অন্য কাউকে অবহিত করার কোনো সুযোগ কি তাঁর হয়নি? কিংবা তিনি কি কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা বা আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে পারেননি? এসব দিক গভীরভাবে বিবেচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, উত্থাপিত দাবিটি বিভিন্ন দিক থেকে দুর্বল ও অসংগত। তাই এ ধরনের অস্বাভাবিক বর্ণনাকে যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ না করে, সতর্কতা ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
▪️দ্বিতীয়ত:পবিত্র শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, পুত্রবধূ (ছেলের স্ত্রী) তার শ্বশুরের জন্য চিরতরে হারাম। এ নিষেধাজ্ঞা কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মায়েরা, তোমাদের কন্যারা… এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণ।”(সূরা আন-নিসা: ২৩) অতএব, যেসব নারী চিরস্থায়ীভাবে বিবাহের জন্য হারাম (মাহরাম), তাদের সাথে ব্যভিচার করা সাধারণ নারীর তুলনায় অধিকতর জঘন্য, ভয়াবহ ও মারাত্মক গুনাহ। কারণ, এ ধরনের অপরাধ কেবল ব্যক্তিগত পাপেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা আত্মীয়তার পবিত্র বন্ধন ছিন্ন করে এবং সমাজে ভয়াবহ ফিতনা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে।এই কারণেই বহু আলেমের মতে, মাহরাম নারীর সাথে ব্যভিচারের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। তাঁদের একটি শক্তিশালী অভিমত হলো—এ অপরাধে দোষী ব্যক্তিকে সর্বাবস্থায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে; সে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত—এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হবে না। আর এটিই তাঁদের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য (راجح) মত।
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:

الصحيح : أن الزنا بذوات المحارم فيه القتل بكل حال ؛ لحديث صحيح ورد في ذلك – وهو حديث ( مَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ فَاقْتُلُوهُ ) رواه الترمذي وغيره ، واختلف في رفعه ووقفه - ، وهو رواية عن أحمد ، وهي الصحيحة ، واختار ذلك ابن القيم في كتاب " الجواب الكافي " أن الذي يزني بذات محرم منه : فإنه يُقتل بكل حال ، مثل : ما لو زنا بأخته - والعياذ بالله - ، أو بعمته ، أو خالته ، أو أم زوجته ، أو بنت زوجته التي دخل بها ، وما أشبه ذلك ؛ لأن هذا الفرج لا يحل بأي حال من الأحوال ، لا بعقد ، ولا بغيره ؛ ولأن هذه فاحشة عظيمة ."

"সঠিক মত হলো: মাহরাম (যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম) নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার শাস্তি হলো তাকে যেকোনো অবস্থাতেই হত্যা করা। এ ব্যাপারে একটি সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে— আর তা হলো: 'যে ব্যক্তি তার কোনো মাহরামের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, তাকে হত্যা করো' (হাদীসটি তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, যদিও এ হাদীসটি মারফূ’ (রাসূল ﷺ থেকে সরাসরি) নাকি মওকূফ (সাহাবীর বক্তব্য) এ নিয়ে মতভেদ আছে।এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা, যা সঠিক মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ইবনুল কাইয়্যিমও তার “আল-জাওয়াবুল কাফী” গ্রন্থে এই মতকে সমর্থন করেছেন।যে ব্যক্তি নিজের কোনো মাহরাম নারীর সাথে ব্যভিচার করে,যেমন (নাউযুবিল্লাহ) নিজের বোন, ফুফু, খালা, স্ত্রীর মা, অথবা স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর তার পূর্বের ঘরের কন্যার সাথে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া কিংবা অনুরূপ কোনো গর্হিত কাজ ইত্যাদি।তাকে যেকোনো অবস্থায় হত্যা করা হবে।কারণ এই সম্পর্ক কোনো অবস্থাতেই হালাল নয়,না বিবাহের মাধ্যমে, না অন্য কোনো উপায়ে। আর এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য ও গুরুতর অশ্লীলতা।"(ইমাম ইবনু উসামীন আশ-শারহুল মুমতি‘,আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড:১৪ পৃষ্ঠা:২৪৬-২৪৭)
আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-মুহাদ্দিস, আল-মুফাসসির, আল-ফাক্বীহ,আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] মাহরাম নারীর সাথে ব্যভিচারকারীর হত্যার শাস্তি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন,وهذا الحكم على وِفق حكم الشارع ؛ فإن المحرَّمات كلما تغلظت : تغلظت عقوباتها ، ووطء من لا يباح بحال : أعظم جُرماً مِن وطء مَن يباح في بعض الأحوال ، فيكون حدُّه أغلظ
"আর এই বিধানটি শরীয়তের বিধানেরই অনুরূপ; কেননা হারাম কাজগুলো যখনই গুরুতর হয়, সেগুলোর শাস্তিও তত কঠোর হয়।আর যে নারীর সাথে কোনো অবস্থাতেই সহবাস বৈধ নয়,(যেমন: মাহরাম),তার সাথে সহবাস করা সে নারীর তুলনায় বেশি গুরুতর অপরাধ, যার সাথে কিছু অবস্থায় সহবাস বৈধ হতে পারে (যেমন: পরনারী, যাকে বিয়ের মাধ্যমে হালাল করা যায়) তাই এর (প্রথমটির অর্থাৎ মাহরমের সাথে জিনায় লিপ্ত হওয়ার) শাস্তিও অধিক কঠোর হবে"।(ইবনু ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ,খণ্ড:৫ পৃষ্ঠা:৩৬) সুতরাং যে ব্যক্তি এ ধরনের জঘন্য পাপে পতিত হয়েছে, তার জন্য একমাত্র পথ হলো—বিলম্ব না করে আন্তরিক ও খাঁটি তওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা; যেন সে এই ভয়াবহ গুনাহের বোঝা বহন করেই তাঁর রবের সামনে উপস্থিত না হয়। অতঃপর তার কর্তব্য হলো নিজের জীবনকে সংশোধনের পথে পরিচালিত করা এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে সেই পাপের সব কারণ, পরিবেশ ও পথ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।
▪️তৃতীয়ত:যদি নির্ভরযোগ্য দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে কোনো পিতা তার পুত্রবধূর সাথে ব্যভিচারে জড়িয়েছে, তাহলে এর প্রভাব হিসেবে কি পুত্রের জন্য তার স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে, অথবা তাদের বিবাহ বন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মূলত দুইটি প্রখ্যাত মতামত পাওয়া যায়।
(১).প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে হানাফি ও হাম্বলি মাজহাবের আলেমগণ বলেন,যদি কেউ কোনো নারীর মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করে, তাহলে ঐ নারীর মেয়ে তার জন্য হারাম হয়ে যায়। কারণ, তাদের মতে অবৈধ সহবাসও (জিনা) মুসাহারার ক্ষেত্রে বৈধ সহবাসের মতোই প্রভাব ফেলে।অর্থাৎ, যেমন কেউ কোনো নারীর সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহবাস করলে ঐ নারীর কন্যা তার জন্য সর্বসম্মতভাবে হারাম হয়ে যায়, তেমনি অবৈধভাবে সহবাসের মাধ্যমেও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:( وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ ) “আর তোমাদের সৎকন্যারা যারা তোমাদের গৃহে লালিত হয়েছে, তোমাদের সেই স্ত্রীদের থেকে, যাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস করেছ; কিন্তু যদি তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাকো, তবে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।”(সূরা আন-নিসা ৪:২৩)
(২).অপরদিকে মালিকি ও শাফেয়ি মাজহাবের আলেমদের মতে, ব্যভিচারের কারণে স্ত্রী হারাম হয়ে যায় না। অর্থাৎ, কেউ যদি কোনো নারীর মায়ের (শাশুড়ীর) সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কেও লিপ্ত হয়, তবুও তার বৈধ স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যায় না।তাদের মূলনীতি হলো—“হারাম কাজ কোনো হালাল বিষয়কে হারাম করে না।” কারণ শরিয়তসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত বৈধ ও দৃঢ় বিবাহবন্ধন তৃতীয় পক্ষের অপরাধের কারণে মুহূর্তেই বাতিল হয়ে যেতে পারে না। ইসলামে তালাক ছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো বিধান নেই।এ মতের সমর্থনে হাদিস থেকেও প্রমাণ পাওয়া যায়।প্রখ্যাত সাহাবী,‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) [মৃত: ৬৮ হি.] বলেছেন:أنَّ وطءَ الحرامِ لا يُحرِّمُ"যিনা বৈবাহিক বন্ধনকে হারাম করে না"।(মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা,বায়হাক্বী হা/১৩৯৯১;ইমাম আলবানী,ইরওয়াউল গালীল খণ্ড;৬;পৃষ্ঠা;২৮৭;হা/১৮৮১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে,"এক লোক তার শাশুড়ীর সাথে যেনা করলে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘তারা পাপী। কিন্তু এ পাপ তার স্ত্রীকে তার জন্য হারাম করে না" (ইমাম বায়হাক্বী,ইরওয়াউল গালীল;খণ্ড;৬;পৃষ্ঠা;২৮৮) প্রখ্যাত সাহাবী,আলী (রাঃ) বলেন,"যেনা বৈধ বিবাহ বন্ধনকে হারাম করতে পারে না।"(ইরওয়াউল গালীল খণ্ড;৬;পৃষ্ঠা;২৮৮,তা‘লীক্ব বুখারী) হিশাম বর্ণনা করেন, কাতাদা থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন“এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে সহবাস করেছে—এ সম্পর্কে ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:تخطى حرمتين، ولا تحرم عليه امرأته."সে দুইটি পবিত্রতার সীমা লঙ্ঘন করেছে; তবে তার (নিজ) স্ত্রী তার উপর হারাম হয়ে যাবে না।” হাফিয ইবনু হাজার এর সনদ সহীহ (বিশুদ্ধ) বলেছেন।
বিশিষ্ট তাফসিরকারক শাইখ মুহাম্মদ আল-আমীন আস-শানক্বিতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: الخلاف في هذه المسألة مشهور معروف ، وأرجح القولين دليلا فيما يظهر أن الزنى لا يحرُم به حلال"এই বিষয়ে মতভেদ প্রসিদ্ধ ও পরিচিত। কিন্তু প্রমাণের দিক থেকে যে মতটি অধিক শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয় তা হলো ব্যভিচার (জিনা) দ্বারা কোনো বৈধ সম্পর্ক হারাম হয়ে যায় না।"(আযওয়াউল বায়ান,খণ্ড;৬;পৃষ্ঠা;৩৪১)
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন,"ولو وطئ أم امرأته أو بنتها حرمت عليه امرأته نص أحمد على هذا في رواية جماعةٍ ، وروي نحو ذلك عن عمران بن حصين ، وبه قال الحسن وعطاء وطاوس ومجاهد والشعبي والنخعي والثوري وإسحاق وأصحاب الرأي .وروى ابن عباس أن الوطء الحرام لا يحرِّم ، وبه قال سعيد بن المسيب ويحيى بن يعمر وعروة والزهري ومالك والشافعي وأبو ثور وابن المنذر"যদি কেউ নিজের স্ত্রীর মায়ের সঙ্গে অথবা স্ত্রীর মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তার বর্তমান স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়; যা একাধিক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।একই মত বর্ণিত হয়েছে সাহাবি ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-এর থেকেও। এ মতের পক্ষাবলম্বন করেছেন—হাসান বাসরী,আতা, তাওস, মুজাহিদ,শা‘বী, নাখাঈ,ইমাম সাওরী, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ এবং আসহাবুর রা’য় (অর্থাৎ হানাফি ফকীহগণ)। অপরদিকে, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর থেকে বর্ণিত আছে যে,“হারাম যৌন সম্পর্ক (ব্যভিচার) কোনো স্থায়ী হারামত্ব সৃষ্টি করে না।”এই মত গ্রহণ করেছেন— সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার, উরওয়া ইবনু যুবাইর,যুহরী, ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফেঈ, আবু সাওর এবং ইবনুল মুনযির (রহিমাহুমুল্লাহ)।"(ইবনু কুদামাহ আল মুগনী,খণ্ড; ৭;পৃষ্ঠা;৯০) .
ইমাম ইবনু আবদুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:"আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে কি তার জন্য ঐ নারীর মেয়ে ও মাকে বিয়ে করা বৈধ হবে? তেমনি, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে কি তার ছেলে তাকে বিয়ে করতে পারবে, অথবা তার পিতা তাকে বিয়ে করতে পারবে? এবং এ সমস্ত ক্ষেত্রে, ব্যভিচার কি সেইসব বিষয়কে হারাম করে দেয়, যা সহীহ (বৈধ) বা ফাসিদ (অবৈধ) বিবাহ হারাম করে দেয়—নাকি করে না? ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর “মুয়াত্তা” গ্রন্থে বলেন:إن الزنى بالمرأة لا يحرم على من زنا بها نكاح ابنتها ولا نكاح أمها ، ومن زنا بأم امرأته لم تحرم عليه امرأته بل يقتل ولا يحرِّم الزنى شيئا بحرمة النكاح الحلال .وهو قول ابن شهاب الزهري وربيعة ، وإليه ذهب الليث بن سعد والشافعي وأبو ثور وداود ، وروي ذلك عن ابن عباس وقال في ذلك : " لا يحرم الحرام الحلال " ... .وذكر ابن القاسم عن مالك خلاف ما في " الموطأ " ، فقال : من زنا بأم امرأته فارق امرأته وهو عنده في حكم من نكح أم امرأته ودخل بها .وهو قول أبي حنيفة وأصحابه والثوري والأوزاعي كلهم يقولون : من زنا بأم امرأته حرمت عليه امرأته .قال سحنون : أصحاب مالك كلهم يخالفون ابن القاسم فيها ويذهبون إلى ما في " الموطأ " ...والله عز وجل إنما حرم على المسلم تزوج أم امرأته وابنتها وكذلك إذا ملكت يمينه امرأة فوطئها بملك اليمين حرمت عليه أمها وابنتها, وكذلك ما وطىء أبوه بالنكاح وملك اليمين وما وطىء ابنه بذلك فدل على المعنى في ذلك الوطء الحلال ، والله المستعان,وقد أجمع هؤلاء الفقهاء - أهل الفتوى بالأمصار المسلمين - أنه لا يحرم على الزاني نكاح المرأة التي زنا بها إذا استبرأها فنكاح أمها وابنتها أحرى ، وبالله التوفيق "কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে তার জন্য ঐ নারীর মেয়ে বা মাকে বিয়ে করা হারাম হবে না। আর যদি কেউ তার স্ত্রীর মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে না; বরং তাকে হত্যা করা হবে (শাস্তি হিসেবে)।অর্থাৎ, ব্যভিচার বৈধ বিবাহের মতো কোনো হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে না।এটাই ইবন শিহাব আয-যুহরী ও রাবি‘আ-এর মত। আর এ মত গ্রহণ করেছেন—লায়ছ ইবন সা‘দ, ইমাম শাফেয়ি, আবু সাওর ও দাউদ।এ মতটি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,হারাম কাজ (ব্যভিচার) হালাল জিনিসকে হারাম করে না।তবে ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে “মুয়াত্তা”-তে যা এসেছে তার বিপরীত একটি মত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক হয়ে যাবে। ইমাম মালিকের নিকট এটি ঐ ব্যক্তির মতো, যে তার স্ত্রীর মাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে।এটাই আবু হানিফা ও তাঁর সঙ্গীদের মত। একই মত পোষণ করেছেন সাওরী ও আওযাঈ। তারা সবাই বলেন:যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।সাহনূন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:ইমাম মালিকের অধিকাংশ ছাত্রই এ ব্যাপারে ইবনুল কাসিমের মতের বিরোধিতা করেছেন এবং “মুয়াত্তা”-তে যা বলা হয়েছে সেই মতকেই গ্রহণ করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমের জন্য শুধু তার স্ত্রীর মা ও মেয়েকে (স্ত্রীর কন্যা) বিবাহ করা হারাম করেছেন। তেমনি, যদি কোনো ব্যক্তি তার মালিকানাধীন দাসী নারীর সাথে সহবাস করে, তাহলে তার মা ও মেয়েও তার জন্য হারাম হয়ে যায়।এভাবেই, পিতা যাদের সাথে বৈধ বিবাহ বা মালিকানার মাধ্যমে সহবাস করেছেন, এবং ছেলে যাদের সাথে এভাবে সহবাস করেছে—তাদের ক্ষেত্রেও হারাম হওয়ার বিধান প্রযোজ্য।এ থেকে বোঝা যায়, এখানে নিষিদ্ধতার কারণ হলো বৈধ সহবাস (হালাল সম্পর্ক)। আল্লাহই সাহায্যকারী।আর মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফতোয়া প্রদানকারী ফকীহদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে,ব্যভিচারকারী ব্যক্তি, যদি ঐ নারীকে ‘ইস্তিবরা’ (গর্ভমুক্ত হওয়া নিশ্চিত করা) করে নেয়, তাহলে সে ঐ নারীকেই বিয়ে করতে পারে।সুতরাং,তার মাকে বা মেয়েকে বিয়ে করা তো আরও অধিকতর বৈধ হওয়ার কথা। আল্লাহই তাওফীক দানকারী।(ইবনু আব্দুল বার;আল-ইসতিযকার;খণ্ড;৫;পৃষ্ঠা;৪৬৩-৪৬৪)
আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-মুহাদ্দিস, আল-মুফাসসির, আল-ফাক্বীহ,আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন,والقول الراجح أن ذلك لا يُحرم، كما هو قول الشافعي وإحدى الروايتين عن مالك، فإن التحريم بذلك موقوف على الدليل ولا دليل من كتاب ولا سنة ولا إجماع ولا قياس صحيح، وقياس السفاح على النكاح في ذلك لا يصح لما بينهما من الفروق، والله تعالى جعل الصهر قسيم النسب، وجعل ذلك من نعمة التي امتن بها على عباده، فكلاهما من نعمه وإحسانه، فلا يكون الصهر من آثار الحرام وموجباته كما لا يكون النسب من آثاره، بل إذا كان النسب الذي هو أصل لايحصل بوطء الحرام فالصهر الذي هو فرع عليه ومشبه به أولى ألا يحصل بوطء الحرام، وأيضا فإنه لو ثبت تحريم المصاهرة لا تثبت المحرمية التي هي من أحكامه، فإذا لم تثبت المحرمية لم تثبت الحرمة، وأيضا فإن الله تعالى إنما قال: (وحلائل أبنائكم) ومن زنا بها الابن لا تسمى حليلة لغة ولا شرعاً ولا عرفاً، وكذلك قوله: (ولا تنكحوا ما نكح آباؤكم من النساء إلا ما قد سلف) إنما المراد به النكاح الذي هو ضد السفاح، ولم يأت في القرآن النكاح المراد به الزنا قط، ولا الوطء المجرد عن عقد وقد تناظر الشافعي هو وبعض العراقيين في هذه المسألة ونحن نذكر مناظرته بلفظها" ثم ذكرها عليه رحمة الله."সঠিক মত হলো এটি (ব্যভিচার) হুরমতে মুসাহারা' (বৈবাহিক আত্মীয়তার কারণে বিবাহ) হারাম সাব্যস্ত করে না। এটাই ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ).-এর মত এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ).-এর একটি বর্ণনাতেও এই মত পাওয়া যায়। কারণ,এ বিষয়ে হারাম হওয়ার জন্য দলিল থাকা জরুরি, অথচ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা বা সঠিক কিয়াস কোনোটিতেই এর পক্ষে কোনো দলিল নেই। আর ব্যভিচারকে বিবাহের সঙ্গে কিয়াস করা সঠিক নয়, কারণ এ দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা শ্বশুরালির সম্পর্ককে বংশগত সম্পর্কের সমপর্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে তাঁর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং, উভয়ই তাঁর অনুগ্রহ ও দান। তাই শ্বশুরালির সম্পর্ক হারাম কাজের ফল বা তার কারণে সৃষ্টি হতে পারে না যেমন বংশগত সম্পর্কও হারাম কাজের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং যখন দেখা যায় যে, বংশগত সম্পর্ক যা মূল হারাম যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না, তখন শ্বশুরালির সম্পর্ক যা তার শাখা ও অনুরূপ তা তো আরও বেশি করে হারাম কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত না হওয়াই যুক্তিযুক্ত। আরও একটি কথা হলো যদি ধরা হয় যে, শ্বশুরালির সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়, তাহলেও এর ফলে যে মাহরাম হওয়ার বিধান সৃষ্টি হয়, তা প্রমাণিত হয় না। আর যখন মাহরাম হওয়া প্রমাণিত না হয়, তখন হারাম হওয়াও প্রমাণিত হয় না। এছাড়াও, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: তোমাদের পুত্রদের স্ত্রীরা (তোমাদের জন্য হারাম) কিন্তু যে নারীর সঙ্গে পুত্র জিনা করেছে, তাকে ভাষাগতভাবে, শরিয়ত অনুযায়ী বা প্রচলিত রীতিতেও স্ত্রী বলা হয় না। তদ্রূপ, আল্লাহ বলেন:তোমাদের পিতারা যাদের সাথে বিবাহ করেছেন, তোমরা তাদের সাথে বিবাহ করো না। এখানে উদ্দেশ্য হলো বৈধ বিবাহ, যা ব্যভিচারের বিপরীত। কুরআনে কোথাও নিকাহ শব্দটি ব্যভিচারের অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, কিংবা এমন সহবাস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়নি যা কোনো বৈধ চুক্তি ছাড়া হয়েছে। এরপর ইমাম শাফেয়ী রহ. ও ইরাকের কিছু আলেমের মধ্যে এ বিষয়ে যে বিতর্ক হয়েছে, আমরা সেই বিতর্কের বিবরণ হুবহু তাঁরই (ইমাম শাফেয়ীর) শব্দে উল্লেখ করছি আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।"(ইবনু ক্বাইয়িম,ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন; খণ্ড;৩;পৃষ্ঠা;২৪৩)
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:

"لو زنى رجل بامرأة فهل يحرم عليها أصله وفرعه ، وهل يحرم عليه أصلها وفرعها ؟ الجواب :لا يحرم ، لأنه لا يدخل في الآية ، قال تعالى : وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ ) قال ( مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ ) والزانية لا تدخل في هذا ... ومع هذا فمذهب الحنابلة أن الزنى كالنكاح ، فإذا زنى بامرأة حرم عليه أصولها وفروعها ، وحرم عليها أصوله وفروعه تحريما مؤبدا ، بل من غرائب العلم أن يجعل السفاح كالنكاح ، بل من أغرب ما يكون ، وهو من أضعف الأقوال ... والصواب أنه لا أثر في تحريم المصاهرة لغير عقد صحيح ؛ وذلك لأن العقود إذا أطلقت في الشرع حملت على الصحيح ، فالصواب في هذه المسألة أن كل ما كان طريقه محرما فإنه لا أثر له في التحريم والمصاهرة "

"যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে কি ঐ নারীর মা ও মেয়েরা তার জন্য হারাম হয়ে যাবে? অথবা ঐ পুরুষের বংশীয় নারীসমূহ (মা,দাদি মেয়ে ইত্যাদি) ঐ নারীর জন্য হারাম হয়ে যাবে?

উত্তর: না, হারাম হবে না।কারণ এ ব্যাপারটি কুরআনের ঐ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়।যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন:"তোমাদের স্ত্রীদের মায়েরা, আর তোমাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সেসব সৎকন্যারা যারা তোমাদের সেই স্ত্রীদের সন্তান যাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস করেছ—অতএব যদি তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাকো, তবে তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই—এবং তোমাদের পুত্রদের স্ত্রীগণ...”(সূরা আন-নিসা: ২৩) এবং তিনি আরও বলেনঃ “তোমাদের পিতারা যাদের বিবাহ করেছেন, তোমরা তাদের বিবাহ করো না।”(সূরা আন-নিসা: ২২) অতএব,ব্যভিচারিণী (যার সঙ্গে জিনা করা হয়েছে) এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে, হাম্বলি ফকীহদের মতে, ব্যভিচার (জিনা) কে বিবাহের সমতুল্য ধরা হয়।তাদের মতে,যদি কেউ কোনো নারীর সঙ্গে জিনা করে, তাহলে ঐ নারীর মা ও মেয়েরা তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে, এবং একইভাবে ঐ নারীর জন্যও ঐ পুরুষের মা, দাদি, মেয়ে ইত্যাদি হারাম হয়ে যাবে।কিন্তু এটি ‘ইলম’ বা জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় যে ব্যভিচারকে বিবাহের সমতুল্য গণ্য করা হয়েছে!বরং এটি সবচেয়ে বিস্ময়কর মতগুলোর একটি,এবং নিঃসন্দেহে এটি দুর্বলতম মতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর সঠিক কথা হলো:যে সম্পর্ক বা কাজ অবৈধ (হারাম) পথে সংঘটিত হয়েছে, তার দ্বারা মাহরাম সম্পর্ক বা হারামত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। কারণ শরীয়তে যখন কোনো চুক্তি বা সম্পর্কের কথা বলা হয়, তা কেবল সহীহ (বৈধ) চুক্তিকেই নির্দেশ করে।‌অতএব,এই মাস'আলায় সঠিক মত হলো যে, কোনো সম্পর্ক যদি হারাম পথে গঠিত হয় (যেমন ব্যভিচার, অবৈধ সহবাস), তবে তার দ্বারা মাহরামত্ব বা হারামত্বের কোনো প্রভাব পড়ে না।"(ইবনু উসাইমীন;আশ শারহুল মুমতি;খণ্ড;৫;পৃষ্ঠা;২০৩)
অপর ফাতাওয়ায় ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] আরও বলেন;

القول الراجح : أن أم المزني بها ليست حراماً على الزاني ، وأن بنت المزني بها ليست حراماً على الزاني ؛ لأن الله تعالى قال : ( وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ ) النساء/24 ، وفي قراءة أخرى : ( وأَحَلَّ لَكُم ما وَرَاء ذَلِكُم ) بالبناء للفاعل ، ولم يذكر الله عزّ وجل أم المزني بها وبنتها في المحرمات ، وإنما قال : ( وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ ) النساء/23 ، ومعلوم أن المزني بها ليست من نسائه قطعاً ؛ لأن نساءه زوجاته ، فإذا لم تكن من نسائه فإنه لا يصح أن يلحق السفاح بالنكاح الصحيح ، فإذا تاب من الزنا جاز له أن يتزوج أم المزني بها وبنتها "

"প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো,যে মেয়ের সাথে একজন পুরুষ যিনা করেছে সেই মেয়ের মা ঐ পুরুষের জন্য হারাম নয়। এবং যে মহিলার সাথে সে যিনা করেছে তার মেয়েও তার জন্য হারাম নয়। কারণ,বিবাহ হারাম এমন নারীদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন; উল্লিখিত নারীগণ ব্যতীত আর সকলকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো।"(সূরা নিসা; ৪/২৪)।উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এমন কোন মহিলার মা বা মেয়ের কথা উল্লেখ করেননি যার সাথে যিনা করা হয়েছে অথচ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সাথে বিবাহ হারাম। আল্লাহ অপর আয়াতে বলেছেন; আর (বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে) তোমাদের শাশুড়িগণকে ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে,তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যাগণ, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের (কন্যাদের মাতার) সাথে সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের (বিবাহে) কোন দোষ নেই। (সূরা নিসা; ৪/২৩)।একথা সর্বজনবিদিত যে নারীর সাথে একজন পুরুষ যিনা করেছে সে তার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেহেতু সে তার স্ত্রীদের একজন নয়, তাই বৈধ বিবাহের সাথে ব্যভিচারের তুলনা করা বৈধ নয়। যদি সে যিনা থেকে তওবা করে থাকে তবে তার জন্য এমন কোন মহিলার মা বা মেয়েকে বিয়ে করা জায়েয যার সাথে সে যিনা করেছে। (ইমাম উসামীন আল-শারহ আল-মুমতি’ খন্ড:৭ পৃষ্ঠা:৩৮-৩৯, মূল ফাতওয়া গৃহীত; ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৭৮৫৯৭) অএতব এই মাসালায় অধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে,অবৈধ সম্পর্ক (জিনা) কখনো বৈধ বিবাহকে হারাম বা বাতিল করতে পারে না।(আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mymensingh Salafi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share