তাওহীদের দাওয়াত

তাওহীদের দাওয়াত Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from তাওহীদের দাওয়াত, Religious organisation, Munshiganj.

16/03/2022
ব্রাজিলে ইসলাম: এক করুণ ইতিহাসআরিফুল ইসলাম১৮৬০ সালে বাগদাদের ইমাম আব্দুর রহমান আফেন্দী ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো সমুদ্র বন...
08/07/2021

ব্রাজিলে ইসলাম: এক করুণ ইতিহাস

আরিফুল ইসলাম

১৮৬০ সালে বাগদাদের ইমাম আব্দুর রহমান আফেন্দী ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো সমুদ্র বন্দরে নামেন। এই বন্দরে আসাটা তাঁর পূর্ব-প্ল্যান ছিলো না। সমুদ্রের মধ্যে তাঁর জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়ে পথ হারিয়ে ফেলে। পথ হারানো জাহাজ ব্রাজিলের বন্দরে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
সম্পূর্ন অজানা পরিবেশে মুসলিমদের একটি দল এসেছে। এই বন্দরে কেউ তাদের পরিচিত নেই। এখানকার স্থানীয় মানুষ কেমন সেটা তারা জানে না। তাদেরকে যদি কিডন্যাপ করে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তাদের কিছুই করার নেই। তাদেরকে যদি মেরে ফেলে, তবুও তারা কয়জন মিলে আর কী প্রতিরোধ করবে?


ইমাম আব্দুর রহমান আফেন্দী দেখলেন তাদেরকে দেখে কিছু লোক এগিয়ে আসছে। বিপদগ্রস্ত কাফেলা বুঝতে পারছে না স্থানীয় লোকেরা তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে।
স্থানীয় লোকেরা সমুদ্র বন্দরে আশ্রয় নেয়া কাফেলার লোকদের দেখে নিলো। তাদের পরনের কাপড়, দাড়ি, পাগড়ি দেখে তাদের বুঝতে বাকি নেই যে, এই বিপদগ্রস্ত কাফেলার লোকেরা মুসলিম।


রিও ডি জেনিরোর অধিবাসীরা সালাম দিলো- ‘আসসালামু আলাইকুম’। আব্দুর রহমান আফেন্দীর চক্ষু চড়কগাছ। তিনি যেনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই অদ্ভুত, অজানা জায়গায় এসে যখন দেখতে পেলেন সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর মতো একই বিশ্বাস লালন করছে, তখন তাঁর অসম্ভব ভালো লাগা শুরু হলো।

“তোমরা তাহলে মুসলমান?”
“জ্বি, আমরা মুসলমান।”
“এখানে আরো মুসলমান আছে?”
“জ্বি, এখানে আরো মুসলমান আছে।”
আব্দুর রহমান আফেন্দী দেখতে পেলেন যে, এখানের অধিবাসীদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম হলেও ইসলামের শেকড় থেকে তারা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তারা নামাজ পড়তে পারে না, রোজা রাখতে জানে না, ইসলামের ফরজ বিধান সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট না। তারা নামাজের সময় হলে হাত তালির মতো শব্দ করে নামাজ পড়ে, নাচে। কয়েকটি ভাঙ্গা ভাঙ্গা আরবি শব্দ তারা জানে। ‘লা ইলাহা...’ বলতে পারে।



আব্দুর রহমান আফেন্দী কারণ অনুসন্ধান করতে লাগলেন। তারা মুসলিম ঐতিহ্য থেকে কিভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো, কিভাবে তারা ইসলামের প্রাথমিক বিধান ভুলে গেলো সেটা খুঁজতে গিয়ে এক করুণ ইতিহাস চলে এলো। তারা কিভাবে ব্রাজিলে এসেছিলো, সেই ইতিহাস।



আব্দুর রহমান আফেন্দী স্থানীয় লোকদের সাথে থেকে যাবার মনস্থ করলেন। তিনি বললেন, “তাদের সাথে থাকা, তাদেরকে ইলম শিক্ষাদান আমার জন্য ওয়াজিব। আল্লাহ এজন্যই হয়তো বাগদাদ থেকে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন।”

দীর্ঘ ৬ বছর আব্দুর রহমান আফেন্দী ব্রাজিলের মুসলিমদের মাঝে বসবাস করে তাদেরকে তাদের শিকড়ের সন্ধান দেন। তাদেরকে নামাজ, রোজার মতো প্রাথমিক বিধান শিক্ষা দেন। তারপর ফিরে যান স্বদেশে। ব্রাজিলে ৬ টি বসন্ত কাটিয়ে তাঁর এই বিস্ময়কর ভ্রমণের বর্ণনা নিয়ে একটি বই লিখেন। বইয়ের নাম- ***‘ব্রাজিলের সফরনামা’***।

দুই.
বর্তমান সময়ে যারা সভ্য সেজে পৃথিবীর মানুষকে সভ্যতা শেখানোর দায়িত্ব পালন করছে, সেই ইংল্যান্ড, অ্যামেরিকা, পর্তুগাল, স্পেনের অসভ্যতার এক কালো ইতিহাস আছে। তাদের অসভ্যতার ইতিহাসের প্রথম তালিকায় থাকবে- **‘Atlantic Slave Trade’ **বা আটলান্টিক মহাসাগরে দাস বাণিজ্য।
প্রায় ৪০০ বছর ধরে তারা আফ্রিকা থেকে মানুষকে ধরে-বেঁধে নিয়ে যেতো ব্রাজিল, অ্যামেরিকা, ক্যারিবিয়ায়। আফ্রিকার স্বাধীন মানুষ, যারা সেখানে পরিবার নিয়ে তাদের মতো করে বসবাস করছে, তাদেরকে লোহার চেইনে বেঁধে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হতো শ্রমিক হিশেবে। তবে, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে না, দাস হিশেবে।


এই ধরণের কিডন্যাপিং দাস বাণিজ্য সর্বপ্রথম শুরু করে পর্তুগাল। ব্রাজিলে ছিলো তাদের উপনিবেশ। ১৫২৬ সালে পর্তুগীজরা সর্বপ্রথম ‘ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য’ শুরু করে। তাদের দেখে ইউরোপ-অ্যামেরিকার বাকি সব সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো এই ঘৃণ্য, অমানবিক কাজ করতে থাকে। ৪০০ বছরে ধারণা করা হয় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষকে আফ্রিকা থেকে দাস বানিয়ে তারা নিয়ে যায়। শুধুমাত্র ব্রাজিলেই নিয়ে যাওয়া হয় ৩০ লক্ষের বেশি আফ্রিকান মানুষ।

আফ্রিকার যেসব অঞ্চল থেকে মানুষ দাস বানিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো, সেসব অঞ্চলের মধ্যে অনেকগুলো ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত। সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো আফ্রিকার মুসলিমদেরকে দাস বানিয়ে নিয়ে যায় অ্যামেরিকা মহাদেশে। সবচেয়ে বেশি নিয়ে যায় ব্রাজিলে। সেখানে নিয়ে চিনি চাষ করাতো। কড়া নজরদারিতে রাখতো, যাতে তারা মাথাচড়া দিয়ে দাঁড়াতে না পারে। মুসলিমরা তাদের ধর্মচর্চা করতে তো পারতোই না। যদি নামাজ পড়ার সময় ধরা পড়ে, তাহলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হতো।

আস্তে আস্তে আফ্রিকা থেকে দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ব্রাজিলের মুসলিমরা তাদের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলে। নামাজ, রোজাসহ ইবাদাত করতে পারতো না। এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্মে হারিয়ে যায় তাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি। তারা শুধু জানতো যে, তারা মুসলিম। কিন্তু, ধর্মীয় বিধান পালনের কঠোর বিধি-নিষেধের ফলে স্বাভাবিকভাবে তারা সেগুলো ভুলে যায়। আরবিতে কথা বললে, আরবি নাম রাখলে তাদেরকে মারধর করতো তাদের মনিবরা। সুকৌশলে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা হয় গোটা মুসলিম সভ্যতা, সংস্কৃতি থেকে।

তাছাড়া অনেক মিশনারী এসে তাদেরকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে প্রলোভন দেখায়, কোনো কোনো মনিব বলপ্রয়োগ করে ব্রাজিলের মুসলিমদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে।

আটলান্টিক দাস বাণিজ্য সর্বশেষ বন্ধ হয় ব্রাজিলে। ১৮৩১ সালে ব্রাজিলে নতুন করে দাস নিয়ে আসার প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও অবৈধভাবে সেটা চলতে থাকে। তাছাড়া মুসলিমদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে, তাদেরকে ধর্মান্তরিত করার প্রয়াসও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
সবকিছু মিলিয়ে ব্রাজিলে দাসরা একটি বিদ্রোহ করে। ১৮৩৫ সালের সেই বিদ্রোহের নাম ‘মালী বিদ্রোহ’। এই বিদ্রোহ সংগঠিত হয় বাহিয়ায়। এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী মুসলিমদের মধ্যে প্রায় একশো জনকে হত্যা করা হয়। ব্রাজিল থেকে ইসলামের চিহ্ন মুছে দেবার জন্য নানান প্রচেষ্টা চালানো হয়। অনেক মুসলিম সুযোগ পেয়ে আবার আফ্রিকায় ফেরত যান; তাদের পিতৃপুরুষদের দেশে। তবু, ১৯১০ সালের দিকে দেখা যায় ব্রাজিলে প্রায় ১ লক্ষ মুসলিম বসবাস করে।

বর্তমানে (২০১০ সালের) সরকারি তথ্যমতে ব্রাজিলে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মুসলিম বসবাস করে। বেসরকারি তথ্যমতে বর্তমানে ব্রাজিলে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ।



প্রসঙ্গত:
কোপা অ্যামেরিকার ফাইনাল ম্যাচ যারা দেখার তারা দেখবেই। খেলা দেখা যাদের নেশার মতো হয়ে গেছে, তাদেরকে হুট করে বুঝিয়ে নেশা কাটানো মুশকিল। আলেমগণ সাধারণ মুসলিমকে সচেতন করবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাদের যৌক্তিক আলোচনা শুনে ৯০ জন না হোক, অন্তত ১০ জন বুঝবে যে তারা কোন পথে হাঁটছে। খেলা-তামাশার মধ্যে জীবন কাটানোর জন্য যে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়নি, এই উপলব্ধি আমাদের মধ্যে জাগ্রত হোক।
ফাইনাল ম্যাচ অনেকেই দেখবেন, ফলাফল শুনবেন বা হাইলাইটস দেখবেন। আমি আশা রাখি, একই সাথে আপনারা ব্রাজিলে মুসলিম সভ্যতার ইতিহাস, আটলান্টিক সাগরে দাস বাণিজ্য নিয়েও একটু হলেও ইতিহাস চর্চা করবেন। ইতিহাস চর্চা আমাদেরকে আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে সচেতন করে তোলে।

৮ জুলাই ২০২১

20/06/2021

وَ وَصّٰی بِہَاۤ اِبۡرٰہٖمُ بَنِیۡہِ وَ یَعۡقُوۡبُ ؕ یٰبَنِیَّ اِنَّ اللّٰہَ اصۡطَفٰی لَکُمُ الدِّیۡنَ فَلَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۳۲﴾ؕ
ওয়া ওয়াসসা-বিহাইবরা-হীমু বানীহি ওয়াইয়া‘কূবু ইয়া-বানিইইয়া ইন্নাল্লা-হাসতাফা-লাকুমুদ্দীনা ফালা-তামূতুন্না ইল্লা-ওয়া আনতুম মুছলিমূন।

আর ইবরাহীম ও ইয়াকূব স্বীয় সন্তানদেরকে সদুপদেশ প্রদান করেছিলঃ হে আমার বংশধরগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই ধর্ম মনোনীত করেছেন, অতএব তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা।

And this (submission to Allah, Islam) was enjoined by Ibrahim (Abraham) upon his sons and by Ya'qub (Jacob), (saying), O my sons! Allah has chosen for you the (true) religion, then die not except in the Faith of Islam (as Muslims - Islamic Monotheism).

وَ وَصّٰی بِہَاۤ اِبۡرٰہٖمُ بَنِیۡہِ وَ یَعۡقُوۡبُ ؕ یٰبَنِیَّ اِنَّ اللّٰہَ اصۡطَفٰی لَکُمُ الدِّیۡنَ فَلَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۳۲﴾ؕ

ইব্রাহীম ও ইয়াকুব এ সম্বন্ধে তাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়েছিল, ‘হে পুত্রগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনকে (ইসলাম ধর্মকে) মনোনীত করেছেন। সুতরাং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করো না।’ [১] [১] ইবরাহীম ও ইয়াকুব (আলাইহিমাস্ সালাম) স্বীয় সন্তানদেরকে যে দ্বীনের অসীয়ত করেছেন, তা হল ইসলাম, ইয়াহুদীধর্ম নয়। আর এই কথাটা এখানে যেরূপ পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়েছে, অনুরূপ কুরআন কারীমের অন্যান্য স্থানেও তার আলোচনা আসবে। যেমন, {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْأِسْلامُ} "নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট দ্বীন একমাত্র ইসলাম।"

Address

Munshiganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তাওহীদের দাওয়াত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share