07/04/2026
আঁচল ডি’ক্রুজ—মা-বাবার কলিজার টুকরো, সবার খুব আদরের মেয়ে।
আগামী ১৯ এপ্রিল তার ১৯তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল…
পড়াশোনায় ছিল ভীষণ মেধাবী। ইংলিশ মিডিয়াম ও বাংলা মিডিয়াম—দুই জায়গাতেই সমান দক্ষতার সাথে পড়াশোনা করেছে। সে ছিল A Level এবং HSC পরীক্ষার্থী। সামনে পরীক্ষা থাকলেও সে তার প্রি-টেস্ট ও টেস্ট—দুটো পরীক্ষাই অংশগ্রহণ করে এবং প্রি-টেস্টে খুব ভালো ফলাফলও করে।
কিন্তু হঠাৎ করে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে আঁচল। শুরুটা ছিল হালকা পেট ব্যথা দিয়ে। এরপর গ্যাস্ট্রোলিভারে ভর্তি করা হয়। প্রথমদিকে ডাক্তাররা কোনোভাবেই নির্ণয় করতে পারছিলেন না—কেন এই ব্যথা হচ্ছে। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও কিছুই ধরা পড়ছিল না।
কয়েকদিন পর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। সে হাঁটতে পারছিল না। পায়ের কুঁচকিতে ছোট একটি জায়গা ফুলে যায়, যেখানে অসহনীয় ব্যথা ছিল। সেই ছোট্ট ফোলা জায়গা থেকে ধীরে ধীরে পুরো পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। তখন দেখা যায় শরীরে ছোট ছোট অনেক লিম্ফোমা, যা অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এর সাথে শরীরের এক পাশে পানি জমে যায়। তবুও নিশ্চিতভাবে কিছু ধরা পড়ছিল না।
বিআরবি, ল্যাবএইড, কমফোর্টসহ বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখানো হয়—কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়নি।
অবশেষে ১৫ মার্চ নিশ্চিতভাবে ধরা পড়ে—আঁচল লিম্ফোমা ক্যান্সারে আক্রান্ত।
১৭ মার্চ তাকে প্রথম কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।
কেমো নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করায় ডাক্তাররা তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন। বাসায় ফিরে ৭-৮ দিন ছিল। এমনকি ঈদের দিন পরিবারের সবার সাথে আনন্দও করেছে। নিজের হাতে মেহেদি দিয়েছে, বোনকে সাজিয়েছে—সেই মুহূর্তগুলো ছিল অমূল্য।
কিন্তু হঠাৎ ২৬ মার্চ বিকেলে তার তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘ ১০ দিন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর, ১১তম দিনের সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে, ৫ এপ্রিল, গ্রীন লাইফ হাসপাতালে—সে সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যায়…
আঁচল চলে গেছে, কিন্তু তার স্মৃতি, তার হাসি, তার ভালোবাসা—সবকিছু আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। গ্রাম- মজিতপুর, থানা - সিরাজদিখাঁন, জেলা- মুন্সীগঞ্জ, মিশন- শুলপুর, II
সংবাদদাতা : ঋতি রীতা গমেজ....