খিদমাতুল ইনসান - khidmatul Insan

খিদমাতুল ইনসান - khidmatul Insan খিদমাতুল ইনসান কল্যাণ পরিষদ

[মানবতার কল্যানে নিয়োজিত সমাজ গঠনমূলক একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান]

আসসালামু আলাইকুম।বেরাদারানে আজিজ ! সবাই কেমন আছেন ? আশা করি আল্লাহর রহমতে কুশলেই আছেন।ঐতিহাসিক ' জুলাই' মাস শেষে এখন চলছ...
03/08/2025

আসসালামু আলাইকুম।

বেরাদারানে আজিজ !
সবাই কেমন আছেন ? আশা করি আল্লাহর রহমতে কুশলেই আছেন।

ঐতিহাসিক ' জুলাই' মাস শেষে এখন চলছে ' আগস্ট' মাস । ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের 'শোকাবহ আগস্ট' কিংবা নতুন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাস আগস্ট।

নতুন এই মাসে আপনার জীবনে নেমে আসুক রহমতে ফল্গুধারা। সফলতা এবং বিজয়ের হাসি আপনার ঠোঁটে লেগে থাকুক প্রতিটা মুহূর্তে। নতুন এই মাসের শুরুতেই আপনাদের প্রিয় সংগঠন ' খিদমাতুল ইনসানের' পক্ষ থেকে জানাই অনেক অনেক শুভকামনা।

আপনারা জেনে খুশি হবেন যে ' খিদমাতুল ইনসান' তার বাৎসরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বছরে তিনটি ইসলাহী মাহফিলের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ।

সমাজসেবার পাশাপাশি আত্মার পরিশুদ্ধি এবং নিজেকে গঠন করার লক্ষ্যে ইসলাহী মেহনত এবং বুজুর্গদের সান্নিধ্য-সোহবতের কোন বিকল্প নেই। আমরা যারা সমাজ, দেশ ও দশের জন্য কাজ করতে চাই মানুষের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে চাই তাদের জন্য সর্বপ্রথম যে করণীয় সেটি হলো ,আত্মশুদ্ধি। পরিশুদ্ধ হৃদয় দিয়ে শুধু সমাজ নয় বরং গোটা জাতিকে বদলে দেয়া যায় এবং মানুষের হৃদয়ে শুদ্ধতার আলো ছড়িয়ে দেয়া যায়।

আত্মশুদ্ধির এই অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে খিদমাতুল ইনসানের নির্বাহী পরিষদ সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে , কল্যাণের ব্যবস্থাপনায় বছরে নূন্যতম তিনটি ইসলাহী মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

এই বাৎসরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ৮ই আগস্ট ২০২৫ রোজ শুক্রবার হাতিমারা বদলপাড়া মাদরাসায় একটি ইসলাহী মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে । উক্ত ইসলাহী মাহফিলে নসীহত পেশ করবেন আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি পীরে কামেল মাওলানা মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম । এছাড়াও আরো অন্যান্য উলামায়ে কেরাম নসীহত পেশ করবেন ইনশাআল্লাহ।

আমরা যারা ' খিদমাতুল ইনসানের' সাথে যুক্ত আছি সকলেই উক্ত মহতি মজলিসে স্ববান্ধব শরীক হওয়ার চেষ্টা করি । আমাদের পরিচিত ও আপনজনদেরকে উক্ত কল্যাণকর কাজে যুক্ত করার মেহনত চালাই। সাথেসাথে জান,মাল এবং সময় দিয়ে এই মোবারক জলসাকে কামিয়াব করার ব্যাপারে ফিকিরবান হই ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফীক নসীব করুন এবং দ্বীনি কাজে প্রতিযোগীতামূলক ভাবে শরীক হওয়ার জন্য কবুল করুন।

খিদমাতুল ইনসান - khidmatul Insan

14/06/2025

প্রিয় ভাইয়েরা!

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের উঞ্চ এই সময়ে সবাই কেমন আছন? নতুন একটি মাস শুরু হলো। এরপর এলো কুরবানীর ঈদ 'ঈদুল আজহা' । ঈদুল আজহা ও ঈদের আমেজও শেষের পথে। গোস্ত খাওয়ার ছুটি শেষে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার সময় হয়ে গেল। তো নতুন এই সময়ে সবকিছু নতুনভাবে শুরু করার সাথেসাথে প্রিয় 'খিদমাতুল ইনসান'কেও স্মরণে রাখি। প্রিয় সংগঠনের খোঁজখবর নেই । যথাসম্ভব ভালো কাজের সাথে নিজেকে জুড়ে রাখি নিজের মেধা, শ্রম, পরামর্শ ও অর্থ দিয়ে। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফীক নসীব করেন।

১০ম রমযানের পাঠউপহাস ও তাচ্ছিল্য : মানুষ হয়ে মানুষের হৃদয়ে আঘাত করা থেকে বিরত থাকি।★ কুরআনুল কারীম থেকে -১. উপহাস,তুচ্ছত...
11/03/2025

১০ম রমযানের পাঠ
উপহাস ও তাচ্ছিল্য : মানুষ হয়ে মানুষের হৃদয়ে আঘাত করা থেকে বিরত থাকি।

★ কুরআনুল কারীম থেকে -

১. উপহাস,তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা -
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ .

হে ঈমানদারগণ! পুরুষরা যেন অন্য পুরুষদের উপহাস না করে। হতে পারে, এরা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম। এবং মেয়েরাও যেন অন্য মেয়েদের উপহাস না করে। হতে পারে, এরা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং উত্ত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমানের পর 'পাপ' কতই না নিকৃষ্ট নাম! আর যারা তওবা না করে, তারাই অন্যায়কারী।
( সূরা হুজরাত :১১)

২.উপহাসকারীদের জন্য রয়েছে আফসোস-
أَن تَقُولَ نَفْسٌ يَا حَسْرَتَى علَى مَا فَرَّطتُ فِي جَنبِ اللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ "

পাছে কেউ বলে, 'হায়! আল্লাহর ব্যাপারে আমি যে ত্রুটি করেছি, তার জন্য আফসোস! আমি তো হাসি-ঠাট্টাকারীদের দলভুক্ত ছিলাম।
(সূরা যুমার:৫৬)

৩.নিন্দাকারীদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ-
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ
বড় দুর্ভোগ প্রত্যেক ওই ব্যক্তির, যে নিন্দা করে, দোষ খুঁজে বেড়ায়'-
(সূরা হুমাজাহ:১)

★ হাদীসে নববী থেকে-

১. অন্যকে উপহাস করা হারাম
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: "الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ. التَّقْوَى هَاهُنَا - وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ -، بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ، دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ."
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "মুসলিম মুসলিমের ভাই; সে তার প্রতি জুলুম করবে না, তাকে অপমান করবে না, তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে না। তাকওয়া এখানে (তিনি তিনবার নিজের বুকের দিকে ইঙ্গিত করলেন)। কারো পক্ষে এতটুকুই মন্দ যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করে। মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান— সবই অপর মুসলিমের জন্য হারাম।" (মুসলিম: ২৫৬৪)

২. কারো বিপদে আনন্দ প্রকাশ করা নিষেধ-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: "لَا تُظْهِرِ الشَّمَاتَةَ لِأَخِيكَ، فَيَرْحَمَهُ اللَّهُ وَيَبْتَلِيكَ."

জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "তোমার ভাইয়ের বিপদের ওপর আনন্দ প্রকাশ করো না। হতে পারে, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন এবং তোমাকে সেই বিপদে ফেলে দেবেন।" (তিরমিজি: ২৫০৬)

৩. পরস্পরের প্রতি হিংসা ও শত্রুতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:"لا تَحاسَدُوا، ولا تَباغَضُوا، ولا تَجَسَّسُوا، ولا تَحَسَّسُوا، ولا تَناجَشُوا، وكُونُوا عِبادَ اللَّهِ إِخْوانًا."
(رواه البخاري 6064، ومسلم 2563)

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না, কাউকে গোয়েন্দাগিরির মাধ্যমে অনুসরণ করো না, প্রতারণামূলক দরকষাকষি করো না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই হয়ে যাও।"

৪. অন্যকে নিয়ে বিদ্রূপ করলে নিজেই তার শিকার হতে পারে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: "مَنْ عَابَ أَخَاهُ بِذَنْبٍ، لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَعْمَلَهُ."

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের কোনো গুনাহ নিয়ে উপহাস করে, সে নিজে মৃত্যুর আগে সে গুনাহে লিপ্ত না হয়ে মরবে না।" (তিরমিজি: ২৫০৫, হাসান সহিহ)

★সালাফের ভাষ্যে-

১. উপহাস করলে তুমি নিজেই তা থেকে রক্ষা পাবে না-
عن عبدِ اللهِ بنِ مسعودٍ قال:
(لو سَخِرْتُ مِن كَلبٍ لخَشِيتُ أن أكونَ كَلبًا، وإنِّي لأكرَهُ أن أرى الرَّجُلَ فارِغًا؛ ليس في عَمَلِ آخرةٍ ولا دُنيا)
رواه ابنُ المبارك في ((الزهد)) (741).

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযি.) বলেন:
"যদি আমি কোনো কুকুরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতাম, তবে আশঙ্কা করতাম যে, আমি নিজেই কুকুর হয়ে যাব। আমি এমন ব্যক্তিকে দেখতে অপছন্দ করি, যে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কাজেই ব্যস্ত থাকে না।"

وقال أبو موسى الأشعَريُّ:
(لو رأيتُ رَجُلًا يَرضَعُ شاةً في الطَّريقِ فسَخِرتُ منه، خِفتُ ألَّا أموتَ حتَّى أرضَعَها!)
ابنُ أبي شيبة (26057).

আবূ মূসা আশ'আরী (রাযি.) বলেন:
"যদি আমি কোনো ব্যক্তিকে রাস্তায় একটি ছাগীর দুধ পান করতে দেখি এবং তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করি, তবে আমি ভয় করব যে, মৃত্যুর আগে আমাকেও একই কাজ করতে হতে পারে!"

২. বিদ্রূপ করা মানুষের অধিকার লঙ্ঘন ও জুলুম-

قال عبدُ الرَّحمنِ المَيدانيُّ:
(إنَّ السُّخْريَّةَ تُنافي ما يوجِبُه الحَقُّ، وهي ظُلمٌ قبيحٌ من الإنسانِ لأخيه الإنسانِ، وعُدوانٌ على كرامتِه، وإيذاءٌ لنفسِه وقلبِه)
((الأخلاق الإسلامية)) (2/223).

শাইখ আবদুর রহমান আল-মায়দানী বলেন:
"বিদ্রূপ করা ন্যায় ও সত্যের পরিপন্থী। এটি মানুষের প্রতি একটি জঘন্য অন্যায়, যা তার মর্যাদার ওপর আঘাত হানে এবং তার হৃদয় ও আত্মাকে কষ্ট দেয়।"

৪. বিদ্রূপ করা ফাসিকদের বৈশিষ্ট্য-
وقال القُرطبيُّ:
(من لقَّب أخاه أو سَخِر منه، فهو فاسِقٌ)
((الجامع لأحكام القرآن)) (16/328).

ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি তার ভাইকে বিদ্রূপমূলক উপাধিতে ডাকবে বা তার সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করবে, সে ফাসিক গণ্য হবে।"

৫. বিদ্রূপ করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম-
وقال ابنُ جريرٍ:
(إنَّ اللهَ عَمَّ بنَهْيِه المُؤمِنين عن أن يَسخَرَ بعضُهم من بعضٍ جميعَ معاني السُّخْريَّةِ؛ فلا يَحِلُّ لمُؤمِنٍ أن يَسخَرَ من مُؤمِنٍ لا لفَقرِه، ولا لذَنبٍ رَكِبَه، ولا لغيرِ ذلك)
((جامع البيان)) (22/376).

ইমাম ইবনু জারীর (রহ.) বলেন:
"আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পরস্পরের প্রতি সকল প্রকার বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কোনো মুমিনের জন্য বৈধ নয় যে, সে আরেক মুমিনের দারিদ্র্য, পাপ বা অন্য কোনো কারণে বিদ্রূপ করবে।"

৬. যার সঙ্গে উপহাস করছ, সে হয়তো তোমার চেয়ে উত্তম-
وقال ابن حجر الهيتمي:
(لا تحتَقِرْ غَيرَك؛ عسى أن يكونَ عِندَ اللهِ خيرًا منك، وأفضَلَ وأقرَبَ)
((الزواجر)) (2/8).
ইমাম ইবনু হাজর হায়তামী (রহ.) বলেন:
"তোমার ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না, হতে পারে সে আল্লাহর কাছে তোমার চেয়ে উত্তম, মর্যাদাবান ও অধিক নিকটবর্তী।"

★ আমাদের করনীয়-
অপর ভাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা একটি জঘন্যতম পাপ। একজন মূমিনের জন্য এ থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য। মানুষকে তাচ্ছিল্য করলে যেমন ওই ব্যক্তি কষ্ট পায় তেমনি আল্লাহ তাআলাও নারাজ হন। তাই সর্বাবস্থায় আমাদেরকে এধরনের ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।

#রমযান_রিমাইন্ডার

৯ম রমযানের পাঠ- জবান হেফাজত : জবান সংযমী হলে জীবন সংযমী হয়।★কুরআনুল কারীম থেকে-১. সবকথাই পর্যবেক্ষণ করা হয়-مَّا يَلۡفِظُ...
09/03/2025

৯ম রমযানের পাঠ-
জবান হেফাজত : জবান সংযমী হলে জীবন সংযমী হয়।

★কুরআনুল কারীম থেকে-

১. সবকথাই পর্যবেক্ষণ করা হয়-
مَّا يَلۡفِظُ مِن قَوۡلٍ إِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
"সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তার নিকট একজন তীক্ষ্ণদৃষ্ট বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকে।"
—(সূরা ক্বাফ ৫০:১৮)

২. ভালো কথা বলার নির্দেশ-
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُواْ ٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ يَنزَغُ بَيۡنَهُمۡ
"আর আপনি আমার বান্দাদের বলুন, তারা যেন সদ্ব্যবহারপূর্ণ কথা বলে। নিশ্চয়ই শয়তান তাদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করে।"
—(সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৫৩)

৩. মিথ্যা ও গীবত থেকে বেঁচে থাকা-
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا ٱجۡتَنِبُوا كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা অনেক অনুমান থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কিছু অনুমান গুনাহ। এবং পরস্পর গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং কেউ কারও গীবত করো না।"
—(সূরা হুজুরাত ৪৯:১২)

৪. নরমভাবে কথা বলা-
وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسۡنٗا
"আর তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ভাষায় কথা বলো।"
—(সূরা বাকারা ২:৮৩)

৫. অহেতুক কথা না বলা-
وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنِ ٱللَّغۡوِ مُعۡرِضُونَ
"(মূমিন) যারা অনর্থক বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।"
—(সূরা মু’মিনুন ২৩:৩)

৬. অজানা বিষয়ে কথা বলতে নিষেধাজ্ঞা -
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ
আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলবে না।
(সূরা ইসরা : ৩৬)

★হাদীসে নববী থেকে :

১. নাযাতের পথ-
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا النَّجَاةُ؟ قَالَ: أَمْسِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ
উকবা ইবন আমের (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির পথ কী? তিনি বললেন, তোমার জবান সংযত রাখো, তোমার ঘরেই অবস্থান করো এবং তোমার পাপের জন্য কাঁদো।
(তিরমিজি: ২৪০৬)

২. উত্তম মুসলিম কে-
عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
আবু মুসা (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, “উত্তম মুসলিম কে?” তিনি বললেন, “যার জবান ও হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।”
(বুখারি: ১১, মুসলিম: ৪২)

৩. জান্নাতের নিশ্চয়তা-
مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
সাহল ইবন সা‘দ (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার কাছে তার মুখ ও যৌনাঙ্গের হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।”
(বুখারি: ৬৪৭৪)

৪. কথা বলার পরিণাম-
إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ، لَا يُلْقِي لَهَا بَالًا، يَرْفَعُهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَاتٍ، وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ، لَا يُلْقِي لَهَا بَالًا، يَهْوِي بِهَا فِي جَهَنَّمَ
আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “একজন বান্দা কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা বলে, যা তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়, কিন্তু এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। আবার একজন বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে, যা সে গুরুত্ব দেয় না, কিন্তু এর ফলে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।”
(বুখারি: ৬৪৭৮, মুসলিম: ২৯৮৮)

★ সালাফের ভাষ্যে:

১. কথার পরিমাণ নির্ধারণ করা চাই-
عَنْ عَمْرِو بْنِ العَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: الْكَلَامُ كَالدَّوَاءِ؛ إِنْ أَقَلَلْتَ مِنْهُ نَفَعَ، وَإِنْ أَكْثَرْتَ مِنْهُ قَتَلَ
আমর ইবন আস (রাযি.) বলেছেন, “কথা ওষুধের মতো; কম বললে উপকার করে, বেশি বললে ক্ষতি করে।”
(রবীউল আবরার ২/১৩৬)

২. জবান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা-
وَعَنْ الحَسَنِ قَالَ: مَا عَقَلَ دِينَه مَن لَمْ يَحْفَظْ لِسَانَه
হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার জবান সংযত রাখতে পারে না, সে তার দ্বীন বোঝেনি।”
(ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ৩/১১১)

৩. অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বাঁচা-
عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: دَعْ مَا لَسْتَ مِنْهُ فِي شَيْءٍ، وَلَا تَنْطِقْ فِيمَا لَا يَعْنِيكَ، وَاخْزُنْ لِسَانَكَ كَمَا تَخْزُنُ وَرَقَكَ
হুমায়দ ইবন হিলাল (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাযি.) বলেছেন, “যে বিষয়ে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই, তা থেকে দূরে থাকো। যা তোমার জন্য প্রয়োজন নয়, সে বিষয়ে কথা বলো না। এবং তোমার জবানকে ঠিক সেভাবে সংরক্ষণ করো, যেমন তুমি মূল্যবান দলিল সংরক্ষণ করো।”
(ইবনে আবি শাইবা: ৩৫৮৫৮, হিলিয়াতুল আওলিয়া ১/২৮৮)

৪. নীরবতার শক্তি-
قَالَ أَبُو اللَّيْثِ السَّمَرْقَنْدِيُّ: اعْلَمْ أَنَّ الإِنْسَانَ لَا يَغْلِبُ الشَّيْطَانَ إِلَّا بِالسُّكُوتِ؛ فَيَنْبَغِي لِلْمُسْلِمِ أَنْ يَكُونَ حَافِظًا لِلِسَانِهِ، حَتَّى يَكُونَ فِي حِرْزٍ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَيَسْتُرَ اللَّهُ عَلَيْهِ عَوْرَتَهُ
আবুল লায়স সামরকন্দি (রহ.) বলেছেন, “জেনে রাখো, মানুষ শয়তানকে পরাজিত করতে পারে না, যদি না সে নীরব থাকে। তাই মুসলিমের উচিত তার জবান সংযত রাখা, যাতে সে শয়তানের হাত থেকে নিরাপদ থাকতে পারে এবং আল্লাহ তার গোপন দোষ ঢেকে দেন।”
(তানবীহুল গাফিলীন, পৃষ্ঠা: ২১২)

৫. কথা বলার আগে চিন্তা করা-
قَالَ الشَّافِعِيُّ: إِذَا أَرَادَ الْكَلَامَ فَعَلَيْهِ أَنْ يُفَكِّرَ قَبْلَ كَلَامِهِ، فَإِنْ ظَهَرَتِ الْمَصْلَحَةُ تَكَلَّمَ، وَإِنْ شَكَّ لَمْ يَتَكَلَّمْ حَتَّى تَظْهَرَ
ইমাম শাফিয়ী (রহ.) বলেছেন, “যদি কেউ কথা বলতে চায়, তবে তার আগে চিন্তা করা উচিত। যদি কল্যাণ দেখতে পায়, তবে বলবে; আর যদি সন্দেহ থাকে, তবে না বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।”
(আল-আযকার, নববী, পৃষ্ঠা: ৩৩২)

★আমাদের করনীয়-
জবানের কারণেই অনেক ফিতনা ও ঝগড়া বিবাদের সূচনা হয়। তাই সর্বাবস্থায় জবানের হেফাজত করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয়, অহেতুক এবং অর্থহীন কথাবার্তা থেকে সবসময় বেঁচে থাকতে হবে। জবানের লাগাম টেনে ধরতে পারলে জীবনের লাগামও টেনে ধরা যাবে এবং জীবনের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের জবানের হেফাজত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

#রমযান_রিমাইন্ডার

৮ম রমযানের পাঠ- দান-সদকা: বালা মুসিবত দূর করে এবং রব্বে কারীমের ক্রোধ প্রশমিত করে।★ কুরআনুল কারীম থেকে :১. আল্লাহর রাস্ত...
08/03/2025

৮ম রমযানের পাঠ-
দান-সদকা: বালা মুসিবত দূর করে এবং রব্বে কারীমের ক্রোধ প্রশমিত করে।

★ কুরআনুল কারীম থেকে :

১. আল্লাহর রাস্তায় দানশীলদের উপমা-
مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

যারা নিজেদের ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তাদের (ব্যয় করা সম্পদের) উদাহরণ এমন : যেমন একটি শস্যদানা, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রত্যেকটি শীষে আছে একশত শস্যদানা। আর আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা আরো বর্ধিত করেন এবং আল্লাহ অসীম দাতা, সর্বজ্ঞ।
(সূরা বাকারা-২৬১)

২.দনশীলদের জন্য রয়েছে প্রতিদান এবং তাদের কোনো ভয় নেই-
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُوْنَ مَا انْفَقُوْا مَنَّا وَلَا أَذًى لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۚ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

যারা নিজেদের ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, অতঃপর তারা ব্যয় করার পর অনুগ্রহের কথা বলে বেড়ায় না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্য রয়েছে আপন রবের নিকট তাদের ছওয়াব। আর তাদের ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে।
(সূরা বাকারা-২৬২)

الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
যারা নিজেদের ধনসম্পদ (আল্লাহর পথে) রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে আপন রবের কাছে তাদের প্রতিদান। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
(সূরা বাকারা-২৭৪)

৩. দানশীলদের দৃষ্টান্ত -
وَمَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَتَثْبِيتًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَآتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِنْ لَمْ يُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلٌّ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

পক্ষান্তরে, যারা নিজেদের ধনসম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল ও নিজেদের অন্তর দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে, তাদের উদাহরণ এমন : যেমন উঁচু ভূমিতে একটি উদ্যান, তার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত হল, ফলে সেই উদ্যান স্বীয় ফলমূল দ্বিগুণ উৎপন্ন করল। আর যদি তার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত নাও হয়, তবে হালকা বৃষ্টিই (যথেষ্ট)। আর তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা উত্তমরূপে দেখেন।
(সূরা বাকারা-২৬৫)

★ হাদীসে নববী থেকে:

১. দান সদকা বালা মদসিবত দূর করে-
"إِنَّ الصَّدَقَةَ تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السُّوءِ".
"গোপন সদকা আল্লাহর ক্রোধ নিবারণ করে এবং খারাপ মৃত্যু প্রতিরোধ করে।"
(আল-মুজামুল কাবীর: ১২৯৮৪)

৪. কিয়ামতের দিন ছায়া দানকারীদের জন্য-
"سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ... وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ".
"কিয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে, যেদিন কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হল সেই ব্যক্তি, যে এত গোপনে সদকা করে যে, তার বাঁ হাত জানে না, ডান হাত কী দান করেছে।"
(বুখারি: ১৪২৩, মুসলিম: ১০৩১)

৫. সদকা সম্পদের বরকত বৃদ্ধি করে-
"مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ".
"দান করা সম্পদ কমায় না। বরং আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।"
(মুসলিম: ২৫৮৮)

★ সালাফের ভাষ্যে:

১.প্রকৃত দানশীলতা স্বতঃস্ফূর্ত হয়
قال عليٌّ رَضِيَ اللهُ عنه:
"السَّخاءُ: ما كان ابتداءً، فأمَّا ما كان عن مسألةٍ، فحياءٌ وتذَمُّمٌ".
"সত্যিকারের দানশীলতা হলো যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করা হয়। কিন্তু যা চাওয়া-পাওয়ার পর করা হয়, তা লজ্জা ও সংকোচ মাত্র।"
(جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر: 1/767)

২. সবসময় দান সদকা করতে থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ -

قال عليٌّ رَضِيَ اللهُ عنه:
"إذا أقبَلَت الدُّنيا عليك فأنفِقْ منها؛ فإنَّها لا تفنى، وإذا أدبَرَتْ عنك فأنفِقْ منها؛ فإنَّها لا تبقى".
"যখন দুনিয়া তোমার দিকে আসবে, তখন তা ব্যয় করো; কারণ এটি কখনো শেষ হবে না। আর যখন দুনিয়া তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তখনও ব্যয় করো; কারণ এটি স্থায়ী নয়।"
(حلية الأولياء لأبي نعيم: 1/82, غرر الحكم للآمدي: 1/49)

৩. প্রকৃত ঈমানদারদের গুণ-

عن عَمَّارٍ رَضِيَ اللهُ عنه قال:
"ثلاثٌ من جمعَهنَّ جَمَع الإيمانَ: الإنصافُ من نَفْسِك، والإنفاقُ من الإقتارِ، وبَذلُ السَّلامِ للعالَمِ".
"তিনটি গুণ যার মধ্যে পাওয়া যাবে, তার মধ্যে পূর্ণ ঈমান থাকবে:
১) নিজের প্রতি সুবিচার করা,
২) প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দান করা,
৩) সবার সঙ্গে সালামের অভ্যাস করা।"
(مصنف ابن أبي شيبة: 34518)

৪. উত্তম চরিত্রের সংজ্ঞা-
عن حَسَنِ بنِ صالحٍ، قال:
"سُئِل الحَسَنُ عن حُسنِ الخُلُقِ، فقال: الكَرَمُ، والبَذْلةُ، والاحتمالُ".
"হাসান (বসরি) -কে জিজ্ঞাসা করা হলো: উত্তম চরিত্র কী? তিনি বললেন: উদারতা, দানশীলতা ও সহনশীলতা।"
(شعب الإيمان للبيهقي: 7967, حلية الأولياء لأبي نعيم: 2/150)

৫. আল্লাহর বিশেষ বান্দারা দানশীল হয়-

قال جعفَرُ بنُ محمَّدٍ الصَّادِقُ:
"إنَّ للهِ وُجوهًا من خَلْقِه، خلَقَهم لقضاءِ حوائِجِ عبادِه، يرون الجُودَ مجدًا، والإفضالَ مَغنَمًا، واللهُ يحِبُّ مكارَمَ الأخلاقِ".
"আল্লাহর কিছু বান্দা আছেন, যাদের তিনি মানুষের প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছেন। তারা দানশীলতাকে সম্মান মনে করে এবং উপকার করাকে লাভজনক মনে করে। আল্লাহ উত্তম চরিত্রকে ভালোবাসেন।"
(حلية الأولياء لأبي نعيم: 3/195, صفوة الصفوة لابن الجوزي: 1/165)

৬. দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কী-
عن عثمانَ بنِ واقدٍ قال:
"قيل لمحمَّدِ بنِ المُنكَدِرِ: أيُّ الدُّنيا أحبُّ إليك؟ قال: الإفضالُ على الإخوانِ".
"মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির -কে জিজ্ঞাসা করা হলো: দুনিয়ার মধ্যে তোমার জন্য সবচেয়ে প্রিয় কী? তিনি বললেন: ভাইদের উপকার করা।"
(حلية الأولياء لأبي نعيم: 3/194, سير أعلام النبلاء للذهبي: 5/361)

৭. সুখী ও দুর্ভাগা মানুষের লক্ষণ-
قال ذو النُّونِ المصريُّ:
"علامةُ السعادةِ ثلاثٌ: متَى ما زيد في عُمرِه نقَص مِن حرصِه، ومتَى زيد في مالِه زيد في سخائِه، ومتَى زيد في قَدْرِه زيد في تواضعِه".
"সুখী মানুষের তিনটি লক্ষণ:
১) তার বয়স যত বাড়ে, লোভ তত কমে।
২) তার সম্পদ যত বাড়ে, দানশীলতা তত বাড়ে।
৩) তার মর্যাদা যত বাড়ে, বিনয় তত বাড়ে।"
(حلية الأولياء لأبي نعيم: 8/21, صفوة الصفوة لابن الجوزي: 2/344)

★ আমাদের করনীয় -

দান-সদকা ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা কেবল মানুষের কল্যাণই আনে না, বরং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমও বটে। এটি মানুষের সম্পদে বরকত আনে, দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদ-মুসিবত দূর করে এবং আল্লাহর ক্রোধ নিবারণ করে।

আমরা যদি নিজেদের জীবনে দানশীলতার অভ্যাস গড়ে তুলি, তবে তা আমাদের আত্মার পরিশুদ্ধি, সম্পদের বরকত এবং আখিরাতের সফলতার অন্যতম মাধ্যম হবে, ইনশাআল্লাহ।

#রমযান_রিমাইন্ডার

৭ম রমযানের পাঠ-তাওয়াক্কুল ( আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা) : মূমিনের অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাসের উৎস★ কুরআনুল কারীম থেকে ...
07/03/2025

৭ম রমযানের পাঠ-
তাওয়াক্কুল ( আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা) : মূমিনের অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাসের উৎস

★ কুরআনুল কারীম থেকে -

১. প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য-
(إِنَّمَا المُؤمِنونَ الَّذينَ إِذا ذُكِرَ اللَّـهُ وَجِلَت قُلوبُهُم وَإِذا تُلِيَت عَلَيهِم آياتُهُ زادَتهُم إيمانًا وَعَلى رَبِّهِم يَتَوَكَّلونَ
নিশ্চয়ই মুমিনরা তারা, যাদের হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করলে ভীত হয়, আর যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের রবের উপর ভরসা করে।"
(সূরা আল-আনফাল: ২

২. তাওয়াক্কুলকারীর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট-
(فَإِن تَوَلَّوا فَقُل حَسبِيَ اللَّـهُ لا إِلـهَ إِلّا هُوَ عَلَيهِ تَوَكَّلتُ وَهُوَ رَبُّ العَرشِ العَظيمِ)
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করেছি এবং তিনিই মহান আরশের মালিক।"
(সূরা আত-তাওবাহ: ১২৯

৩.শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তির উপায়
(فَإِذا قَرَأتَ القُرآنَ فَاستَعِذ بِاللَّـهِ مِنَ الشَّيطانِ الرَّجيمِ* إِنَّهُ لَيسَ لَهُ سُلطانٌ عَلَى الَّذينَ آمَنوا وَعَلى رَبِّهِم يَتَوَكَّلونَ)
অতএব, যখন তুমি কুরআন পাঠ করো, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তার কোনো ক্ষমতা নেই তাদের উপর, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের উপর ভরসা করে।"
(সূরা আন-নাহল: ৯৮-৯৯)

৪.আল্লাহর প্রতি তাওয়াককুলের নির্দেশ - (وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا)
"আর সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর ভরসা করো, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না এবং তাঁর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করো। আর তিনি তাঁর বান্দাদের গুনাহ সম্পর্কে যথেষ্ট খবর রাখেন।"
(সূরা আল-ফুরকান: ৫৮)

৫.তাওয়াক্কুলকারীদের জন্য রয়েছে প্রতিদান-
(وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُم مِّنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَالَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ)
আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি অবশ্যই তাদের জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে আবাস দেব, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এটি কতই না উত্তম প্রতিদান আমলকারীদের জন্য। যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তাদের রবের উপর ভরসা করে।"
(সূরা আল-আনকাবুত: ৫৮-৫৯)

৬.আল্লাহর উপর যে তাওয়াককুল করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট -
(وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّـهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّـهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّـهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তিনি তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আদেশ কার্যকর করবেন। আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।"
(সূরা আত-তালাক: ৩)

৭.নবী মূসা (আ.) ও তাঁর উম্মতের তাওয়াক্কুল-
(وَقالَ موسى يا قَومِ إِن كُنتُم آمَنتُم بِاللَّـهِ فَعَلَيهِ تَوَكَّلوا إِن كُنتُم مُسلِمينَ فَقالوا عَلَى اللَّـهِ تَوَكَّلنا رَبَّنا لا تَجعَلنا فِتنَةً لِلقَومِ الظّالِمينَ)

আর মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, 'হে আমার জাতি! যদি তোমরা আল্লাহতে ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই উপর ভরসা করো, যদি তোমরা মুসলিম হও।' তখন তারা বলল, 'আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করেছি, হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের জন্য ফিতনা করো না।'"
(সূরা ইউনুস: ৮৪-৮৫)

★ হাদীসে নববী থেকে-

১. আল্লাহর উপর ভরসাকারী সর্বদা আল্লাহর সাহায্য পায়-
"مَنْ نَزَلَ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ، وَمَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ."
(سنن أبي داود: ১৬৪৫، مسند أحمد: ২৪৪৬)

"যে ব্যক্তি কোনো সংকটে পড়ে এবং তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে (মানুষের উপর নির্ভর করে), তার সংকট মোচন করা হবে না। আর যে ব্যক্তি তা আল্লাহর কাছে পেশ করে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে দ্রুত অথবা দেরিতে (কিন্তু নিশ্চিতভাবে) রিজিক দান করবেন।"

২. তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে রিজিকের ব্যবস্থা হয়-
"لَوْ أَنَّكُمْ تَوَكَّلْتُمْ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا يُرْزَقُ الطَّيْرُ، تَغْدُو خِمَاصًا، وَتَرُوحُ بِطَانًا."
(سنن الترمذي: ২৩৪৪، سنن ابن ماجه: ৪১৬৪)

"যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করো, তবে তিনি তোমাদের তেমনিভাবে রিজিক দেবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের রিজিক দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পরিপূর্ণ উদর নিয়ে ফিরে আসে।"

৩. তাওয়াক্কুল জীবনের নিরাপত্ত-

"مَنْ قَالَ – يَعْنِي: إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ -: بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، يُقَالُ لَهُ: كُفِيتَ وَوُقِيتَ وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ."
(سنن الترمذي: ৩৪২৬، سنن أبي داود: ৫০৯৫)

"যে ব্যক্তি যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন এই দোয়া পড়ে—
'بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ'
(অর্থ: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর উপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই)।
তখন তাকে বলা হয়: ‘তুমি নিরাপদ, সংরক্ষিত এবং শয়তান থেকে মুক্ত।’"

৪. আল্লাহর উপর ভরসাকারী কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না-

"إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ... وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَإِنِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ وَجَفَّتِ الصُّحُفُ."
(سنن الترمذي: ২৫১৬، مسند أحمد: ২৬৬৬)

"যদি তুমি কারও কাছে কিছু চাও, তবে আল্লাহর কাছেই চাও। যদি সাহায্য চাও, তবে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও...
আর জেনে রাখো, যদি পুরো উম্মত তোমাকে উপকার করতে চায়, তবে তারা কেবল সেই উপকারই করতে পারবে, যা আল্লাহ তোমার জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর যদি তারা তোমার ক্ষতি করতে চায়, তবে তারা কেবল সেই ক্ষতিই করতে পারবে, যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কাগজ শুকিয়ে গেছে (অর্থাৎ তাকদীর নির্ধারিত হয়ে গেছে)।"

★ সালাফের বক্তব্যে-

১.তাওয়াক্কুল কাকে বলে-
قال الحسن البصري رحمه الله:
التوكل: قطع الاستشراف باليأس من الناس.
(الحلية لأبي نعيم 2/154)
হাসান বসরী (রহ.) বলেছেন: তাওয়াক্কুল হলো—মানুষের প্রতি আশা ছিন্ন করে একমাত্র আল্লাহর উপর নির্ভর করা।

২.তাওয়াক্কুলের হাকীকত-
قال سهل بن عبد الله التستري رحمه الله:
التوكل حقيقة: الأخذ بالأسباب مع سكون القلب إلى الله.
(مدارج السالكين 2/118)
সাহল ইবন আবদুল্লাহ আত-তুস্তারী (রহ.) বলেছেন: তাওয়াক্কুলের বাস্তবতা হলো—উপায় অবলম্বন করা, কিন্তু অন্তরকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল রাখা।

৩.তাওয়াক্কুল বান্দার অনেক বড় হাতিয়ার
قال ابن القيم رحمه الله:
التوكل من أقوى الأسباب التي يدفع بها العبد ما لا يطيق من أذى الخلق.
(مدارج السالكين 2/119)

ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন: তাওয়াক্কুল এমন এক শক্তিশালী মাধ্যম, যার দ্বারা বান্দা মানুষের কষ্টদায়ক বিষয় সহ্য করতে সক্ষম হয়।

★ আমাদের করনীয় -

তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা) ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং মুমিনের অন্যতম গুণ। কুরআন ও হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, প্রকৃত মূমিনরা সর্বদা আল্লাহর উপর ভরসা করে, তাঁর সাহায্য কামনা করে এবং তাদের সকল বিষয় তাঁর হাতে সমর্পণ করে। তাওয়াক্কুল শুধু নিছক আস্থা নয়, বরং এটি হলো উপায় ও প্রচেষ্টা গ্রহণের পর অন্তরকে একমাত্র আল্লাহর উপর নির্ভরশীল রাখা। সুতরাং, আমাদের উচিত প্রতিটি কাজে আল্লাহর উপর ভরসা করা, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁকে একমাত্র অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা। তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে আমাদের জীবন হবে শান্তিময়, নিরাপদ এবং কল্যাণময় ইনশাআল্লাহ।

#রমযান_রিমাইন্ডার

৬ষ্ঠ রমযানের পাঠ- আমানতদারিতা : ঈমানদারির আলামত।★ কুরআনুল কারীম থেকে:১.আমানতের হক আদায়ের নির্দেশ-إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُك...
06/03/2025

৬ষ্ঠ রমযানের পাঠ-
আমানতদারিতা : ঈমানদারির আলামত।

★ কুরআনুল কারীম থেকে:

১.আমানতের হক আদায়ের নির্দেশ-
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا...

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার মালিকদের কাছে পৌঁছে দাও..."
(সূরা আন-নিসা: ৫৮)

২.আমানতদারিতা মূ’মিনদের গুণ-
وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ
"আর ( ইমানদার তারা) যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি সংরক্ষণ করে।"
(সূরা আল-মুমিনুন: ৮)

৩. আমানতের খেয়ানত মুনাফিকদের স্বভাব-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহেও খেয়ানত করো না, যখন তোমরা জানো।"
(সূরা আল-আনফাল: ২৭)

★ হাদীসে নববী থেকে:

১. আমানতদার ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানদার-
لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ.

"যার মধ্যে আমানতদারীতা নেই, তার ঈমান নেই। আর যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুণ নেই, তার দ্বীনও নেই।"
(মুসনাদ আহমাদ: ১২৫৬৭)

২.আমানতের খেয়ানত কেয়ামতের নিদর্শন-

(إذا ضُيِّعَتِ الأمانَةُ فانْتَظِرِ السّاعَةَ قالَ: كيفَ إضاعَتُها يا رَسولَ اللَّهِ؟ قالَ: إذا أُسْنِدَ الأمْرُ إلى غيرِ أهْلِهِ فانْتَظِرِ السّاعَةَ)
নবী ﷺ বলেছেন: "যখন আমানতের অপব্যবহার শুরু হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।"
কেউ জিজ্ঞাসা করল, "হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে আমানতের অপব্যবহার হবে?"
তিনি বললেন, "যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে অর্পিত হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।"
(সহীহ বুখারী: ৬৪৯৬)

৩. মুনাফিকের লক্ষণ-

آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ.
"মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন আছে: সে কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে, এবং তার কাছে আমানত রাখলে সে খেয়ানত করে।"
(সহীহ বুখারি: ৩৩, সহীহ মুসলিম: ৫৯)

৪.আমানতদারিতা নবীদের সিফাত-

عن عبدِ اللهِ بنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عنهما قال:
(أخبرني أبو سفيانَ أنَّ هِرَقْلَ قال له: سألتُك ماذا يأمُرُكم -يعني النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم- فزعَمْتَ أنَّه أمَركم بالصَّلاةِ والصِّدقِ والعَفافِ، والوَفاءِ بالعَهدِ وأداءِ الأمانةِ. قال: وهذه صِفةُ نبيٍّ)
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: আবু সুফিয়ান আমাকে জানালেন যে, সম্রাট হিরাকল তাকে জিজ্ঞেস করল: "সে (নবী মুহাম্মদ ﷺ) তোমাদের কী শিক্ষা দেন?" তুমি বললে, "তিনি আমাদের সালাত, সত্যবাদিতা, পবিত্রতা, অঙ্গীকার পূরণ এবং আমানত আদায়ের নির্দেশ দেন।" তখন হিরাকল বলল, "এটি তো একজন নবীর বৈশিষ্ট্য!"
(সহীহ বুখারী: ২৬৮১)

৫.আমানত রিজিক বাড়ায়, খেয়ানত দারিদ্র্য ডেকে আনে-
عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال:
(الأمانةُ تجرُّ الرِّزقَ والخيانةُ تجرُّ الفقرَ)

আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:
"আমানতদারীতা রিজিক বৃদ্ধি করে, আর খেয়ানত দারিদ্র্য ডেকে আনে।
( বাহরুল ফাওয়ায়েদ: 159

★ সালাফের বক্তব্য -

১.প্রকৃত পুরুষ কে?
وعن عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عنه أيضًا قال: (من أدَّى الأمانةَ وكَفَّ عن أعراضِ المُسلِمين فهو الرَّجُلُ)

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:"যে ব্যক্তি আমানত আদায় করে এবং মুসলিমদের সম্মানহানিতে লিপ্ত হয় না, সেই প্রকৃত পুরুষ।"
( আল-ইস্তিযকার: ৮/৫৬৩)

২.প্রকৃত দ্বীনদার চেনার উপায়-
وقال عمر بن الخطاب رض: (لا تَنظُروا إلى صيامِ أحَدٍ ولا صلاتِه، ولكِنِ انظُروا إلى صِدقِ حَديثِه إذا حدَّث، وأمانتِه إذا ائتُمِن، ووَرَعِه إذا أشفى)

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আরও বলেছেন:"কারও রোযা ও সালাতের দিকে তাকিও না, বরং দেখো, যখন সে কথা বলে তখন সে সত্যবাদী কি না, যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে তা আদায় করে কি না, আর যখন সে হারাম-হালালের সন্ধিক্ষণে পৌঁছে, তখন সে কতোটা সতর্ক থাকে।"
(হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৭)

৩.আমানতদারীতা ভালো-মন্দ নির্বিশেষে পালনীয়-
قال ميمونُ بنُ مِهرانَ: (الرَّحِمُ تُوصَلُ كانت بَرَّةً أو فاجِرةً، والأمانةُ تُؤدَّى إلى البَرِّ والفاجرِ، والعَهدُ يُوفى به للبَرِّ والفاجِرِ)
মায়মূন ইবন মিহরান বলেছেন:
"আত্মীয়তার সম্পর্ক ভালো-মন্দ নির্বিশেষে রক্ষা করা হয়, আমানত সৎ-অসৎ নির্বিশেষে আদায় করা হয়, এবং অঙ্গীকারও সৎ-অসৎ নির্বিশেষে পূরণ করা হয়।"
( শু‘আবুল ঈমান: ৫২৮২)

৪.নেতৃত্বের জন্য পাঁচটি গুণ-
قال الشَّافعيُّ: (آلاتُ الرِّياسةِ خَمسٌ: صِدقُ اللَّهجةِ، وكِتمانُ السِّرِّ، والوفاءُ بالعَهدِ، وابتداءُ النَّصيحةِ، وأداءُ الأمانة
ইমাম শাফিয়ী (রহ.) বলেছেন:
"নেতৃত্বের জন্য পাঁচটি গুণ প্রয়োজন: সত্যবাদিতা, গোপনীয়তা রক্ষা, অঙ্গীকার পূরণ, সর্বপ্রথম উপদেশ প্রদান, এবং আমানত আদায়।"
(তারীখে দামেস্ক: ৫১/৪১৩)

৫.মর্যাদা অর্জনের উপায়-
قال القاضي حُسَينٌ المَهديُّ: (إذا طلَبْتَ الخيرَ فاطْلُبْه في أداءِ الأمانةِ، وإذا عمِلْتَ البِرَّ فتحَرَّ فيه أداءَ الأمانةِ، وإذا أردتَ العِزَّ فالزَمْ في سُلوكِك الأمانةَ، وأدِّ في مسئوليَّتِك الأمانةَ، وتعامَلْ مع أهلِ الصِّدقِ والأمانةِ تَفُزْ بفَضلِ اللهِ ورِضوانِه

কাজি হুসাইন আল-মাহদী বলেছেন:
"যদি কল্যাণ কামনা করো, তবে আমানত রক্ষা করো। যদি সৎকর্ম করতে চাও, তবে আমানতের ব্যাপারে সচেতন হও। যদি মর্যাদা অর্জন করতে চাও, তবে তোমার পথচলায় আমানতদারীতা বজায় রাখো। তোমার দায়িত্বে আমানতের প্রতি যত্নশীল হও, এবং সত্যবাদী ও আমানতদারদের সাথে চলাফেরা করো—তাহলেই তুমি আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি লাভ করবে।"
(সাইদুল আফকার, ১/৫১৫)

★ আমাদের করনীয় -

আমানতদারীতা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা ও মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কুরআন ও হাদীসে আমানত যথাযথভাবে আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এর বিপরীত অর্থাৎ খেয়ানতকে মুনাফিকদের স্বভাব বলা হয়েছে। রাসূল ﷺ আমানতদারীতাকে পূর্ণ ঈমানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, আমানতের অপব্যবহার কিয়ামতের নিদর্শন। সালাফগণ আমানতের গুরুত্ব বোঝাতে বলেছেন, প্রকৃত দ্বীনদার ব্যক্তি চিনতে হলে তার আমানতদারীতা দেখা উচিত, আর নেতৃত্বের অন্যতম শর্তও হলো আমানত রক্ষা করা। সংক্ষেপে বলা যায়, আমানতদারীতা শুধু ব্যক্তিগত নয়; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য একটি গুণ, যা একজন মুসলিমের চারিত্রিক উৎকর্ষ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উক্ত গুণ হাসিল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

#রমযান_রিমাইন্ডার

Address

Munshiganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খিদমাতুল ইনসান - khidmatul Insan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share