07/12/2025
🌸🌸🕉️ওঁম নমঃ ভগবতে বাসুদেবায় 🕉️🌸🌸
( একাদশ অধ্যায় )
বিশ্বরূপদর্শনযোগ
শ্লোক ৪৩
পিতাসি লোকস্য চরাচরস্য
ত্বমস্য পূজ্যশ্চ গুরুর্গরীয়ান।
ন ত্বৎসমোহস্ত্যভ্যধিকঃ কুতোহন্যো
লোকত্রয়েহপ্য প্রতিমপ্রভাব ।। ৪৩ ।।
অনুবাদঃ হে অমিতপ্রভাব, তুমি এই চরাচর জগতের পিতা, পূজ্য, গুরু ও শ্রেষ্ঠ। ত্রিভুবনে তোমার সমান আর কেউ নেই, অতএব তোমার থেকে শ্রেষ্ঠ অন্য কে হতে পারে?
তাৎপর্যঃ পুত্রের কাছে পিতা যেমন পূজনীয়, তেমনই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণও সকলের পূজনীয়। তিনি সকলের গুরু, কারণ তিনি সর্বপ্রথম ব্রহ্মাকে বৈদিক জ্ঞান দান করেন এবং এখানে তিনি অর্জুনকে ভগবদগীতার তত্ত্বজ্ঞান দান করছেন; তাই তিনি আদিগুরু। বর্তমানে যে কোন সদ্গুরুকে অবশ্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রবর্তিত পরম্পরার ধারায় আসতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিনিধি না হয়ে কেউই অপ্রাকৃত তত্ত্বজ্ঞানের বিষয়ে গুরুপদবাচ্য হতে পারে না।
ভগবানকে সর্বতোভাবে প্রণাম নিবেদন করা হয়েছে। ভগবানের মহত্ত্ব অপরিমেয়। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। কারণ প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত উভয় জগতেই এমন কেউ নেই যিনি ভগবানের সমকক্ষ বা ভগবানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সবাই ভগবানের অধঃস্তন। কেউই ভগবানকে অতিক্রম করতে পারে না। এই কথা শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে (৬/৮) বলা হয়েছে-
ন তস্য কার্যং করণং চ বিদ্যতে
ন তৎ সমশ্চাভ্যধিকশ্চ দৃশ্যতে।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয় ও দেহ একজন সাধারণ মানুষেরই মতো, কিন্তু ভগবানের ইন্দ্রিয়, দেহ, মন এবং ভগবান স্বয়ং অভিন্ন। যে সমস্ত মুর্খ মানুষেরা ভগবানের সম্বন্ধে যথাযথভাবে জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়নি, তারাই শ্রীকৃষ্ণের আত্মা, হৃদয়, মন ও সব কিছু থেকে শ্রীকৃষ্ণকে ভিন্ন বলে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ পরম তত্ত্ব; তাই তাঁর ক্রিয়াকলাপ ও শক্তি পরম শ্রেষ্ঠ। শাস্ত্রে আরও বলা হয়েছে যে, তার আমাদের মতো ইন্দ্রিয় না থাকলেও তাঁর প্রতিটি অঙ্গই সমস্ত ইন্দ্রিয়ের কাজ করতে পারে। তাই তাঁর ইন্দ্রিয় অপূর্ণ অথবা সীমিত নয়। কেউই তাঁর থেকে মহত্তর হতে পারে না, কেউই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না এবং সকলেই তাঁর থেকে নিকৃষ্ট।
পরমেশ্বরের জ্ঞান, শক্তি ও ক্রিয়াকলাপ সবই অপ্রাকৃত। ভগবদগীতায় (৪/৯) বলা হয়েছে-
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যত্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন ।।
যাঁরা জানেন যে, শ্রীকৃষ্ণের দেহ চিন্ময় এবং তাঁর ক্রিয়াকলাপ দিব্য, তাঁরা মৃত্যুর পর ভগবদ্ধামে শ্রীকৃষ্ণের কাছে ফিরে যান এবং তাঁদের আর এই দুঃখময় জড় জগতে ফিরে আসতে হয় না। তাই আমাদের জানতে হবে যে, শ্রীকৃষ্ণের ক্রিয়াকলাপ অন্য সকলের ক্রিয়াকলাপ থেকে ভিন্ন। শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ অনুসারে জীবনযাপন করাই শ্রেষ্ঠ পন্থা; তার ফলেই জীবন সার্থক হয়। শাস্ত্রে আরও বলা হয়েছে, এমন কেউ নেই যিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রভু; সকলেই তাঁর ভৃত্য। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে (আদি ৫/১৪২) প্রতিপন্ন হয়েছে, একলে ঈশ্বর কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য-শ্রীকৃষ্ণই কেবল ভগবান এবং আর সকলেই তাঁর ভৃত্য। সকলেই তাঁর আদেশপালন করে চলেছে। এমন কেউ নেই, যে শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ অমান্য করতে পারে। তাঁর অধ্যক্ষতায়, তারই পরিচালনায় সকলে পরি-চালিত হচ্ছে। ব্রহ্মসংহিতাতে বলা হয়েছে- তিনিই সর্ব কারণের পরম কারণ।
গীতা মাহাত্ম্য : গঙ্গা, গীতা, সাবিত্রী, সীতা, সত্যা, পতিব্রতা, ব্রহ্মাবলী, ব্রহ্মবিদ্যা, ত্রিসন্ধ্যা, মুক্তগেহিনী, অর্দ্ধমাত্রা, চিদানন্দা, ভবঘ্নী, ভ্রান্তিনাশিনী, বেদত্রয়ী, পরানন্দা, তত্ত্বার্থজ্ঞানমঞ্জরী!
হরে কৃষ্ণ 🕉️
রাধে রাধে 🕉️