14/04/2026
সকলকে চৈত্র সংক্রান্তির আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই,আবাহন পুজো পরিবারের পক্ষ থেকে। 🙏🙏🙏🙏
চৈত্র সংক্রান্তি সম্পর্কে শাস্ত্রীয় ও লৌকিক প্রেক্ষাপট নিচে আলোচনা করা হল🙏
* দান ও স্নান:
**************
এই দিনে গঙ্গাস্নান বা পবিত্র নদীতে স্নান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই দিনে সাধ্যমতো দান-ধ্যান করলে পরজন্মে অক্ষয় সুখ লাভ হয়।
* পিতৃতর্পণ:
************
বছরের শেষ দিন হওয়ায় অনেক পরিবারে মৃত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ বা জলদান করার বিধান রয়েছে।
২. গাজন ও শিবের উপাসনা
*****************************
চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে বড় শাস্ত্রীয় অনুষঙ্গ হলো **দেবদেব মহাদেব বা শিবের আরাধনা**। বিশেষ করে বঙ্গদেশে এই সময় 'গাজন' উৎসব পালন করা হয়।
* শিব-পার্বতীর বিবাহ:
*********************
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তির এই সময়েই শিব ও পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
* নীল পূজা:
************
সংক্রান্তির আগের দিন 'নীল ষষ্ঠী' পালন করা হয়, যেখানে মায়েরা সন্তানদের মঙ্গল কামনায় উপবাস থেকে শিবের মাথায় জল ঢালেন।
* চড়ক পূজা:
*************
সংক্রান্তির দিনে চড়ক পূজার মাধ্যমে ভক্তরা কঠোর শারীরিক কৃচ্ছ্রসাধন করেন, যা মূলত দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক সাধনারই এক রূপ।
৩. খাদ্যাভ্যাস ও শাস্ত্রীয় বিধি
***************************
শাস্ত্রীয় মতে, এই সময়টি ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ, তাই শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কথা বলা হয়েছে:
* তিতা ও শাক ভক্ষণ:
*********************
এই দিনে নিরামিষ আহার এবং তিতা (যেমন নিমপাতা, করলা) খাওয়ার রীতি আছে। শাস্ত্রীয় ও আয়ুর্বেদিক মতে, এটি রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং বসন্ত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
* ছাতু ও গুড়:
**************
অনেক অঞ্চলে এই দিনে ছাতু, দই এবং গুড় খাওয়ার নিয়ম রয়েছে, যা গ্রীষ্মের শুরুতে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
৪. সূর্য দেবের আরাধনা
**********************
যেহেতু এটি সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক উৎসব, তাই এই দিনে সূর্য দেবের আরাধনা করা হয়। নতুন বছর যেন রোগমুক্ত এবং মঙ্গলময় হয়, সেই প্রার্থনা জানিয়ে সূর্যের অর্ঘ্য প্রদান করা হয়।
সংক্ষেপে:
*********
চৈত্র সংক্রান্তি কেবল বছরের শেষ দিন নয়; এটি মূলত পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে এবং ত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে শুদ্ধ করে নতুন বছরকে বরণ করার একটি শাস্ত্রীয় প্রস্তুতি।