02/10/2026
পাপী ব্যক্তি অন্যকে পাপ ছাড়ার ব্যাপারে নসীহত করতে পারবে না- ইসলামী শরীয়তে এমন কোন বিধান ও নির্দেশনা নেই। এই ব্যাপারে আমাদের অনেকের ভিতর ভুল ধারণা আছে।
এই ভুল ধারণার জন্মের পিছনে কিছু আয়াত ও হাদীসের ভুল মর্ম বুঝা দায়ী। যেমন এক হাদিসে এসেছে, কিছু লোককে জাহান্নামে নেয়া হবে এই কারণে যে, তারা সৎ কাজের আদেশ করত, কিন্তু নিজে সেই কাজ করত না। আবার পবিত্র কুরআনেও এক জায়গায় এসেছে যে, তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছো, অথচ কিতাব পাঠ করে নিজেদেরই ভুলে যাও!
এসব হাদিস ও আয়াতের মর্ম এটা নয় যে, তুমি যেহেতু সৎ কাজ করছো না, সুতরাং সৎ কাজের নির্দেশ দেয়া তোমার জন্য বৈধ না। বরং আয়াতের মর্ম হচ্ছে, তুমি সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছো, অথচ নিজে পালন করছো না। এটা তো নিজের সাথে প্রতারণা। তোমার দায়িত্ব তো, কেবল সৎ কাজের নির্দেশ দেয়া নয়, বরং নিজে সৎ কাজ সম্পাদন করাও তোমার দায়িত্ব। অর্থাৎ দুটোই স্বতন্ত্র কর্তব্য। কেউ একটা পালন করলে, একটার দায় থেকে মুক্ত থাকবে। আর কেউ দুটো করলে দুটোর দায় থেকেই মুক্ত থাকবে। আর কেউ কোনটাই না করলে দুটোর জন্যই দায়ী থাকবে এবং আলাদা আলাদা পাকরাও হবে।
মন্দ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখার চেষ্টা করা একটি বিশেষ কর্তব্য। যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে আর অপরকে ভালো কাজের উপদেশ দেয়। তার একটি কাজ ভালো আর অপরটি মন্দ কাজ। আর যদি অপরকে নসিহত করা বর্জন করে, তবে দু’টি কাজই হবে মন্দ। তাই বে-আমল লোকও সত্যের নির্দেশ দিতে পারবে।
বেআমল উপদেশ দানকারীর প্রতি তিরস্কার রয়েছে ঠিক। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, সে অপরকে নসিহত বা উপদেশ প্রদান করতে পারবে না। বরং অপরকে নসিহতের পাশাপাশি নিজেও আমল করতে স্বচেষ্ট হবে। এটাই ইসলামী শরীয়ার নির্দেশনা। আমাদের সালফে সালেহীনরা এসব হাদীস ও আয়াত থেকে এমনটাই বুঝেছেন।
তাই বেআমল ব্যক্তির অবশ্যই অধিকার আছে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার। তার অধিকার আছে উম্মাহকে নিয়ে চিন্তিত হওয়ার এবং চিন্তা প্রকাশ করার। ( ট্রল করা এর থেকে ভিন্ন বিষয়। কারণ ট্রল করা বেআমল ব্যক্তির জন্যই নয় কেবল, বরং আমলকারী ব্যক্তির জন্যও হারাম)
তবে সে নিজের আরেকটি দায়িত্ব পালনের জন্য এবং তার দাওয়াতকে প্রভাবশালী করার জন্য নিজেও মন্দ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সচেষ্ট হবে।
~ইফতেখার সিফাত