Message For Ummah

Message For Ummah দৈনন্দিন ইসলামের ইতিহাস, ঈমান, আমল কোরআন সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথে থাকুন

14/08/2026

যে হালাল জিনিসটা খুব করে পেতে চান, প্রতিদিনের দুয়ায়, সিজদায়, তাহাজ্জুদে সেটা নিয়ম করে চাইতে থাকুন।
বান্দা যখন সত্যিকার অর্থে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে কিছু চায়, তিনি তাকে কখনোই ফিরান না।

- আরিফ আজাদ

13/08/2026

অপরাধবোধ আল্লাহর দেওয়া এক কম্পাস, যা আপনাকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বানানো। দুনিয়া চায়— হয় সেই কম্পাসটা ভেঙে ফেলতে, নয়তো তার কাঁটাটা ভুল দিকে ঘুরিয়ে দিতে। আর কুরআন চায় কাঁটাটা ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে, যেন এই জীবনে আল্লাহর কাছে বারবার ফিরে যাওয়াটাই আমাদের প্রস্তুত করে কিয়ামতের দিনের সেই চূড়ান্ত ফিরে যাওয়ার জন্য।

~নোমান আলী খান

10/08/2026

একজন রিযিকের আধিক‍্যতা চাইলো, তার ইনকাম বেড়ে গেলো। গাড়ি কিনলো, বাড়ি করলো। কিন্তু সেই সাথে যুক্ত হলো নতুন নতুন খরচ। মেডিকেল চেকআপ, ৮/১০ টা ক্রেডিট কার্ডের বিল, বড় বড় ক্লাবের মেম্বারশীপ ফী। বোনাস হিসেবে আছে আরও নানা দুশ্চিন্তা আর অশান্তি।

আরেকজন রিযিকের বারাকাহ চাইলো। তার চাকরীটা চলে গেলো। একজন আলিমকে হতাশ হয়ে প্রশ্ন করাতে জবাব দিলেন, হারাম ইনকামের চাকরী চলে যাওয়াটাই দুআ কবুলের প্রথম ধাপ।

ছোট খাট আরেকটা চাকরী পেলেও ইনকাম আগের চেয়ে অর্ধেক। আয় কমলেও সেই সাথে সংকুচিত হতে থাকলো ব‍্যয়ও। দিন শেষে তার কোন সেভিংস থাকছে না, কিন্তু নতুন করে তার কোন লোনও যোগ হয় না।
এই তো সেদিন ডাক্তার তার ঘুম আর প্রেসারের ঔষধের ডোজ কমিয়ে দিলেন। ঘুম এখন যদি নিয়মিত হয়, ঔষধ খাবেনই বা কেন।

রিযিকের বারাকাহ এক অদ্ভুত রহমত। আধিক‍্যতা ছাড়াই যা পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ! আপনি যা রিযিক দিবেন তাতে সন্তুষ্ট বানিয়ে দিন। এবং তাতে বরকত নাযিল করুন।

_ রেজওয়ানুল কবির হাফি.

09/08/2026

পাপ করার সময় যদি আল্লাহর কথা মনে হয়, তখন নিজের বিবেককে উপেক্ষা করবেন না, আপনার তাক্বওয়াকে উপেক্ষা করবেন না, আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তাগুলোকে উপেক্ষা করবেন না—তৎক্ষণাৎ থেমে যান।

এভাবে বলবেন না—আমি তো পাপ কাজের মাঝখানে চলে এসেছি, আমি তো প্রায় শুরু করে দিয়েছি, কাজটা করে ফেলি, পরে তওবা নিয়ে চিন্তা করা যাবে। না, এরূপ করবেন না, নিজেকে থামিয়ে দিন।

—শাইখ ওমর সুলাইমান

আমরা যাদের নিয়ে হাসছি!!!  রাত তখন দুইটা। শাহেদ বিছানায় শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করছিল। ঘরের আলো নেভানো, শুধু স্ক্রিনের নীল আ...
06/08/2026

আমরা যাদের নিয়ে হাসছি!!! রাত তখন দুইটা। শাহেদ বিছানায় শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করছিল। ঘরের আলো নেভানো, শুধু স্ক্রিনের নীল আভা তার মুখের ওপর কাঁপছিল। হঠাৎ একটা ভিডিও সামনে এলো। এক ভদ্রলোক ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলছেন। শাহেদ শব্দ করে হেসে উঠল, তারপর নিজের হাসি নিজেই থামিয়ে পাশের ঘরে মা যেন না জাগেন সেদিকে খেয়াল রাখল।

সে ভিডিওটা কপি করে বন্ধুদের গ্রুপে ফেলে দিল। লিখল, দেখ ভাই, দেশটা কই যাইতেছে। সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপে হাসির ইমোজির ঝড় উঠল। রাত আড়াইটা পর্যন্ত সেই একটা ভিডিও নিয়ে সাতাশটা মিম তৈরি হলো। শাহেদ ঘুমাতে গেল তৃপ্ত মনে। মনে হলো দিনটা মন্দ কাটেনি।

সে জানত না, ঠিক সেই মুহূর্তে শহরের অন্য প্রান্তে আরেকজন মানুষ জেগে ছিল। তার ঘরেও আলো নেভানো, তার মুখেও স্ক্রিনের নীল আভা। কিন্তু সে হাসছিল না। সে হিসাব মিলছিল। ভিউ কত, শেয়ার কত, কতগুলো নতুন মানুষ আজ প্রথমবার তার নামটা উচ্চারণ করল। শাহেদের কাছে যা ছিল রাতের বিনোদন, তার কাছে সেটাই ছিল দিনের উপার্জন।

তারপর মাসগুলো গড়াল।

শাহেদ একদিন খবরের কাগজ খুলে দেখল, যে মানুষটাকে নিয়ে সে হেসেছিল, তাকে নিয়ে এখন ফিচার ছাপা হয়েছে। এডলফ খানকে নিয়ে একসময় যে ঠাট্টা চলত, সেই একই নাম এখন সুদর্শন পুরুষ হিসেবে আলোচিত। শাহেদ কাগজটা ভাঁজ করে রেখে দিল। মনে মনে বলল, দেশের মানুষের রুচি নষ্ট হয়ে গেছে।

কয়েক মাস পরে সে দেখল, খায়রুল দেওয়ানের একটা স্ট্যাটাসে লাখ লাখ প্রতিক্রিয়া পড়ছে, যার বড় অংশ ভালোবাসার চিহ্ন। যাকে ঘিরে একদিন শুধু রসিকতা হতো, তার পেছনে এখন মানুষের সারি। শাহেদ কমেন্টে গিয়ে আবার একটা রসিকতা লিখে এলো। তার সেই কমেন্টেও দুইশো লাইক পড়ল। সে খুশি হলো। কিন্তু খেয়াল করল না, তার সেই কমেন্টটাও পোস্টটাকে আরও উপরে তুলে দিচ্ছে।

আরও কিছুদিন পর টেলিভিশনে সে দেখল, ভাইরাল সিদ্দিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন। গলায় মাইক্রোফোনের মালা, সামনে সারি সারি ক্যামেরা। যাকে একসময় ধাক্কা খেতে দেখা যেত, সেই মানুষটা এখন গুছিয়ে ইংরেজিতে কথা বলছেন, একটা রাজনৈতিক দলও দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। শাহেদ টিভির দিকে তাকিয়ে রইল। এবার আর হাসি এলো না।

স্নিগ্ধার নামটা সে আগে কখনো শোনেনি। অথচ সেই নামটাই এখন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। যে অজ্ঞতা নিয়ে সবাই হেসেছিল, সেই অজ্ঞতাই হয়ে গেছে পরিচয়।

সেদিন রাতে শাহেদ ছাদে গিয়ে দাঁড়াল। শহরের আলো জ্বলছে নিভছে। তার হঠাৎ মনে হলো, এতদিন সে ভেবেছিল সে দর্শক। আসলে সে ছিল বিনিয়োগকারী। তার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি স্ক্রিনশট, প্রতিটি তাচ্ছিল্যের কমেন্ট ছিল একেকটা ইট। সেই ইট দিয়ে সে নিজের অজান্তে অন্য কারও জন্য মঞ্চ বানিয়েছে। এখন সেই মঞ্চে তারা দাঁড়িয়ে, আর সে নিচে দাঁড়িয়ে।

আরও একটা সত্য তার মাথায় খেলে গেল। এই খেলাটা কেউ আড়ালে বসে খেলছে না। প্রকাশ্যেই খেলছে। কারণ তারা জানে, এই দেশে মনোযোগই সবচেয়ে বড় মুদ্রা। আর সেই মুদ্রা মানুষ বিলিয়ে দেয় বিনা প্রশ্নে, শুধু একটু বিনোদনের বিনিময়ে।

কেউ কেউ এই মুদ্রা জমিয়ে ইতিমধ্যে সংসদের সিঁড়ি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর শাহেদের মতো লক্ষ মানুষ অপেক্ষা করছে পরের ভাইরাল মুখটার জন্য, যাকে নিয়ে আজ রাতে হাসা যাবে।

শাহেদ ছাদ থেকে নেমে এসে মোবাইলটা হাতে নিল। নতুন একটা ভিডিও এসেছে। আঙুলটা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল স্ক্রিনের ওপর। তারপর সে সেটা বন্ধ করে দিল।

এই একটা মুহূর্ত ছাড়া গল্পটার আর কোনো নায়ক নেই।

- মুহাম্মদ রাজ

(88) اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ زِدْنٰهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا یُفْسِد...
05/08/2026

(88) اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ زِدْنٰهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا یُفْسِدُوْنَ ۟

যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় বাধা দিয়েছে, আমি তাদেরকে আযাবের উপর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ তারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করত।
সংক্ষিপ্ত তাফসীরঃ-
[১] অর্থাৎ একটা আযাব হবে কুফরী করার জন্য এবং অন্যদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয়ার জন্য হবে আর একটা আযাব। এ শাস্তির ধরন সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ সেগুলো হবে এমন বিচ্ছু-সাপ, যার আক্রমনাত্মক দাঁতগুলো লম্বা খেজুর গাছের মত।
[মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/৩৫৫-৩৫৬]

সূরাঃ আন-নাহল - আয়াত ৮৮

▶️ নারীরা কেন পুরুষদের চেয়ে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে?সমর্পণ  আমরা এর সুনির্দিষ্ট উত্তর জানি না। ইসলামের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি...
04/08/2026

▶️ নারীরা কেন পুরুষদের চেয়ে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে?সমর্পণ
আমরা এর সুনির্দিষ্ট উত্তর জানি না। ইসলামের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বা মাকাসিদে শরিয়ার আলোকে একে ব্যাখ্যা করা যায়—ইসলামের কোন বিধানই অযৌক্তিক নয়, তবে ব্যাখ্যা যাই হোক, সর্বাবস্থায় এই বিধান মেনে নিতে হবে। কেউ যদি মনে করে, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের সমান সম্পত্তি দিতে হবে, তবে সে আল্লাহর বিধান অমান্য করল, তার মাথায় ঢুকে গেল, 'আল্লাহ বিষয়টি বুঝেননি, আমরা নিজেদের মতো বিধান ঠিক করে নিব।'

নারীরা কেন অর্ধেক সম্পত্তি পাবে? সহজ উত্তর হল, যেহেতু মুসলিম পরিবারে পুরুষরা অর্থনৈতিক দায়িত্বগ্রহণ করে থাকেন, কাজেই পুরুষরা দিগুণ সম্পত্তি লাভ করবেন। তবে কোন পরিবারে যদি পুরুষ পঙ্গু হয়, মহিলা দায়িত্বগ্রহণ করে, তবে কি মহিলা দিগুণ সম্পত্তি পাবে? না, মহিলা তখনো সেই অর্ধেকই পাবে। পুরুষরা বেশী দায়িত্ব পালন করে বলে বেশী সম্পদ পান, এটা একটা ব্যাখ্যা। তবে এই বিষয়টি পাওয়া যাক বা না পাওয়া যাক, সর্বাবস্থায় পুরুষরা দিগুণ সম্পত্তি পাবে।

আমরা এশার নামাজ চার রাকআত পড়ি কেন, ফজর কেন পড়ি দুই রাকআত? দিনেরবেলায় আস্তে কেরাআত পড়ি, ফজরে কেন কেরাআত জোরে পড়তে হয়? সহজ উত্তর হল, আল্লাহ পড়তে বলেছেন, তাই আমরা আল্লাহর বিধান মেনে চলি। শরীয়তের অনেক বিধানই এমন—সরল যুক্তিতে সেগুলোকে ধরা যায় না।

শরিয়ত অযৌক্তিক—মোটেই এমন নয়, আপনার-আমার অক্ষমতা অনেক বেশী, আমরা 'পিউর রিজন' দিয়ে সবকিছু ধরতে সক্ষম নই। কাজেই আল্লাহ নিজের থেকে অনেককিছু নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আমাদের ওপর রহমত করেছেন। যেখানে যুক্তিপ্রয়োগ করতে বলেছেন, সেখানে যুক্তি প্রয়োগ করলে সেটা আল্লাহর ইবাদত। যেখানে যুক্তি দিতে নিষেধ করেছেন, সেখানে প্রশ্নছাড়া আল্লাহর আনুগত্য করাই তাওহীদ-ইতাআত।

ধরুন আপনি একজন ছোটশিশু। আপনি কি যুক্তিপ্রমাণ পেশ করে মায়ের দুধ খেয়েছিলেন? আপনার চোখের ওপর ঘুষি দিতে চাইলে যুক্তিপ্রমাণ ছাড়াই আপনি চোখ বন্ধ করবেন, হাত দিয়ে চেহারা ঠেকাতে চেষ্টা করবেন। একইভাবে আপনি যদি ইসলামকে সত্য বলে মেনে নেন, তবে ইসলামের সব বিধান মেনে নিতে হবে। যদি প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়, তবে আরেকটু আগে থেকে প্রশ্ন করুন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনি কি আল্লাহ-রসূলের প্রতি ঈমান এনেছেন, কুরআনকে জীবনবিধান বলে মেনেছেন?

যদি মেনে নেন, তবে আপনার মনে এত প্রশ্ন কেন, এত সংশয় কেন?

- উস্তাদ ইফতেখার জামিল

04/08/2026

অনেকে বাইরে বেজায় ভদ্রলোক, কিন্তু স্ত্রীর ক্ষেত্রে ভদ্রতার কোন তোয়াক্কা করে না। সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে, গালমন্দ করে, আবার অনেকে তাদের গায়ে হাত তোলে।

অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রহার করতে নিষেধ করে বলেন,

لا تضربوا إماء الله

অর্থ : তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে প্রহার করো না।

(সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ২১৪৬)

পশ্চিমা নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতারণাগুলোর একটি হলো, তাদের সুখের সংজ্ঞাটাই বদলে দেওয়া হয়েছে। তাদের একটি মিথ্যা স্ব...
27/07/2026

পশ্চিমা নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতারণাগুলোর একটি হলো, তাদের সুখের সংজ্ঞাটাই বদলে দেওয়া হয়েছে। তাদের একটি মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, আর তা হলো: ফেমিনিজম বা নারীবাদ।

তাদের শেখানো হয়েছে যে উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার ও স্বাধীনতার মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত সুখ। "ক্ষমতায়নের" নামে শেষ পর্যন্ত তাদের একাকী করে তোলা হয়েছে, আর "স্বাধীনতার" নামে দিকহারা করে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তাদের এমন এক জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে যৌবনের সবচেয়ে মূল্যবান বছরগুলো কেটে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান আর ভ্রমণের পেছনে।

এদের অনেকেরই বিয়ে, মাতৃত্ব বা সংসারের জন্য কোনো সময় বা শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। অনেকে আবার জীবনসঙ্গী খোঁজার ইচ্ছে থাকলেও, একজন পুরুষের সাথে কীভাবে মানিয়ে চলতে হয় তার কিছুই জানতেন না। আরও অনেকে নিজেদের ফিতরাত বা নারীসুলভ সহজাত প্রকৃতিকে নির্মমভাবে অবদমন করেছেন। স্ত্রী ও মা হওয়ার যে জন্মগত আকাঙ্ক্ষা, তাকে গলা টিপে মেরেছেন।

"সমাজে অবদান রাখার" নামে, কিংবা "নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে" কাজে লাগানোর দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের স্বাভাবিক চাওয়া-পাওয়াগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তাদের বোঝানো হয়েছে—কর্পোরেট অফিসের একটি কিউবিকলে বসে কাজ করাই, বসের জন্য কফি আনা কিংবা সারাদিন স্প্রেডশিটে তথ্য বসানোই যেন জীবনের পূর্ণতা।

এক বা দুই দশক পর, এদের অনেকেই কমেন্টের ওই নারীটির মতো পরিণতি বরণ করেন, যিনি লিখেছেন:
"আমার বয়স ৪৭, আমি এখনো 'সঠিক মানুষটির' অপেক্ষায় আছি যার সাথে একটি সংসার শুরু করতে পারি! এই অলৌকিক ঘটনাটি যেন ঘটে, তার জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি।"

বিষয়টি সত্যিই মর্মান্তিক। ৪৭ বছর বয়সী একজন নারী—পুরোপুরি একাকী, স্বামী বা সন্তান নেই, কোনো পরিবার নেই। অথচ প্রায় পঞ্চাশের কোঠায় এসেও তিনি মরিয়া হয়ে এসবের স্বপ্ন দেখছেন।

এখন যখন তার ক্যারিয়ার, পড়াশোনা, ভ্রমণ আর সব তথাকথিত "অভিজ্ঞতার" পালা শেষ, রূপের জৌলুসও যখন ম্লান হতে শুরু করেছে, যখন তার উদ্দাম যৌবনের দিনগুলো ফুরিয়ে গেছে এবং ক্যাজুয়াল সম্পর্কগুলো আর সহজে মিলছে না... ঠিক তখন তিনি একজন স্বামী খুঁজে নিয়ে সন্তান জন্মদানে প্রস্তুত হয়েছেন।

কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি!

তিনি যে কাউকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে বা "আপস" করতে রাজি নন। যে পুরুষটি তাকে বিয়ে করতে সম্মত হবে, তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার মতো বোধও তার তৈরি হয়নি। বরং তিনি এখনো সেই স্বপ্নের রাজপুত্রের অপেক্ষায় আছেন। প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সী এই "রাজকন্যা" এখনো অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন, কখন সেই সঠিক মানুষটি এসে তাকে জাদুর মতো উড়িয়ে নিয়ে যাবে আর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন।

এরপর তিনি একটি পরিবার "শুরু" করবেন, মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের বয়সে এসে সন্তান জন্ম দেবেন! প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সে এসেও তিনি যেন জীববিজ্ঞান, বাস্তবতা, পরিসংখ্যান এবং সাধারণ বোধ—সবকিছুকেই অবলীলায় উপেক্ষা করছেন।

তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি "এই অলৌকিক ঘটনার জন্য প্রার্থনা করছেন।" অবচেতনভাবে হলেও তিনি অন্তত এটুকু বোঝেন যে, এই বয়সে এসে এটা ঘটা কেবল কোনো অলৌকিক ব্যাপার হলেই সম্ভব।

এটি কেবল একজন নারীর গল্প নয়। এই মোহ বা রূপকথার ফ্যান্টাসিতে তিনি একা নন। আধুনিক নারীদের একটি পুরো প্রজন্মকেই এই বিভ্রমের ওপর বড় করে তোলা হয়েছে। এই আত্মঘাতী পথে চলতে শেখানো হয়েছে। তাদের এই অসম্ভব কল্পনায় ভাসানো হয়েছে যে, চাইলেই সবকিছু একসাথে পাওয়া সম্ভব। যেমনঃ কৈশোর আর যৌবনের সিংহভাগ সময় পড়াশোনা, ডিগ্রি, ক্যারিয়ার আর ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করেও, প্রায় পঞ্চাশে পৌঁছে অবলীলায় স্বপ্নের পুরুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে এবং তারপর সংসার "শুরু" করে সন্তান নেওয়া যাবে।

কিন্তু দিন শেষে, যখন এই নারীরা কল্পনার পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন তারা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ আর হতাশায় ডুবে যান। তখন বিষণ্ণতা আর অ্যাংজাইটির ওষুধ এবং অ্যালকোহল ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।

হে মুসলিম নারীরা, তাদের এই দুর্ভাগ্যজনক পথ অনুসরণ করবেন না। আপনাদের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই। একজন মুসলিম নারী হিসেবে আপনি যে "নির্যাতিত নন", কিংবা আপনি যে "ক্ষমতায়িত" এবং "স্বাধীন", তা কাউকে দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু আল্লাহর ইবাদত করুন, একজন দীনদার মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করুন, নেককার সন্তান গড়ে তুলুন এবং আপনার সুন্দর পরিবার ও এর থেকে পাওয়া আনন্দকে পুরোপুরি উপভোগ করুন।

নিজের নারীত্বকে উদ্‌যাপন করুন। তাদের নারীবাদকে প্রত্যাখ্যান করুন।

আল্লাহ নারী ও পুরুষ উভয়কে নারীবাদের এই শোচনীয় পথ ও এর ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন, আমিন।
✍️ উম্মু খালিদ

22/07/2026

বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন -
দোআ'র চেয়ে অলৌকিক আর কিছুই নেই।
#বেশী বেশী দোআ করুন।

Address

Dhaka
Mirpur
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Message For Ummah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share