27/07/2026
পশ্চিমা নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতারণাগুলোর একটি হলো, তাদের সুখের সংজ্ঞাটাই বদলে দেওয়া হয়েছে। তাদের একটি মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, আর তা হলো: ফেমিনিজম বা নারীবাদ।
তাদের শেখানো হয়েছে যে উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার ও স্বাধীনতার মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত সুখ। "ক্ষমতায়নের" নামে শেষ পর্যন্ত তাদের একাকী করে তোলা হয়েছে, আর "স্বাধীনতার" নামে দিকহারা করে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তাদের এমন এক জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে যৌবনের সবচেয়ে মূল্যবান বছরগুলো কেটে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান আর ভ্রমণের পেছনে।
এদের অনেকেরই বিয়ে, মাতৃত্ব বা সংসারের জন্য কোনো সময় বা শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। অনেকে আবার জীবনসঙ্গী খোঁজার ইচ্ছে থাকলেও, একজন পুরুষের সাথে কীভাবে মানিয়ে চলতে হয় তার কিছুই জানতেন না। আরও অনেকে নিজেদের ফিতরাত বা নারীসুলভ সহজাত প্রকৃতিকে নির্মমভাবে অবদমন করেছেন। স্ত্রী ও মা হওয়ার যে জন্মগত আকাঙ্ক্ষা, তাকে গলা টিপে মেরেছেন।
"সমাজে অবদান রাখার" নামে, কিংবা "নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে" কাজে লাগানোর দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের স্বাভাবিক চাওয়া-পাওয়াগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তাদের বোঝানো হয়েছে—কর্পোরেট অফিসের একটি কিউবিকলে বসে কাজ করাই, বসের জন্য কফি আনা কিংবা সারাদিন স্প্রেডশিটে তথ্য বসানোই যেন জীবনের পূর্ণতা।
এক বা দুই দশক পর, এদের অনেকেই কমেন্টের ওই নারীটির মতো পরিণতি বরণ করেন, যিনি লিখেছেন:
"আমার বয়স ৪৭, আমি এখনো 'সঠিক মানুষটির' অপেক্ষায় আছি যার সাথে একটি সংসার শুরু করতে পারি! এই অলৌকিক ঘটনাটি যেন ঘটে, তার জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি।"
বিষয়টি সত্যিই মর্মান্তিক। ৪৭ বছর বয়সী একজন নারী—পুরোপুরি একাকী, স্বামী বা সন্তান নেই, কোনো পরিবার নেই। অথচ প্রায় পঞ্চাশের কোঠায় এসেও তিনি মরিয়া হয়ে এসবের স্বপ্ন দেখছেন।
এখন যখন তার ক্যারিয়ার, পড়াশোনা, ভ্রমণ আর সব তথাকথিত "অভিজ্ঞতার" পালা শেষ, রূপের জৌলুসও যখন ম্লান হতে শুরু করেছে, যখন তার উদ্দাম যৌবনের দিনগুলো ফুরিয়ে গেছে এবং ক্যাজুয়াল সম্পর্কগুলো আর সহজে মিলছে না... ঠিক তখন তিনি একজন স্বামী খুঁজে নিয়ে সন্তান জন্মদানে প্রস্তুত হয়েছেন।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি!
তিনি যে কাউকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে বা "আপস" করতে রাজি নন। যে পুরুষটি তাকে বিয়ে করতে সম্মত হবে, তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার মতো বোধও তার তৈরি হয়নি। বরং তিনি এখনো সেই স্বপ্নের রাজপুত্রের অপেক্ষায় আছেন। প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সী এই "রাজকন্যা" এখনো অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন, কখন সেই সঠিক মানুষটি এসে তাকে জাদুর মতো উড়িয়ে নিয়ে যাবে আর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন।
এরপর তিনি একটি পরিবার "শুরু" করবেন, মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের বয়সে এসে সন্তান জন্ম দেবেন! প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সে এসেও তিনি যেন জীববিজ্ঞান, বাস্তবতা, পরিসংখ্যান এবং সাধারণ বোধ—সবকিছুকেই অবলীলায় উপেক্ষা করছেন।
তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি "এই অলৌকিক ঘটনার জন্য প্রার্থনা করছেন।" অবচেতনভাবে হলেও তিনি অন্তত এটুকু বোঝেন যে, এই বয়সে এসে এটা ঘটা কেবল কোনো অলৌকিক ব্যাপার হলেই সম্ভব।
এটি কেবল একজন নারীর গল্প নয়। এই মোহ বা রূপকথার ফ্যান্টাসিতে তিনি একা নন। আধুনিক নারীদের একটি পুরো প্রজন্মকেই এই বিভ্রমের ওপর বড় করে তোলা হয়েছে। এই আত্মঘাতী পথে চলতে শেখানো হয়েছে। তাদের এই অসম্ভব কল্পনায় ভাসানো হয়েছে যে, চাইলেই সবকিছু একসাথে পাওয়া সম্ভব। যেমনঃ কৈশোর আর যৌবনের সিংহভাগ সময় পড়াশোনা, ডিগ্রি, ক্যারিয়ার আর ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করেও, প্রায় পঞ্চাশে পৌঁছে অবলীলায় স্বপ্নের পুরুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে এবং তারপর সংসার "শুরু" করে সন্তান নেওয়া যাবে।
কিন্তু দিন শেষে, যখন এই নারীরা কল্পনার পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন তারা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ আর হতাশায় ডুবে যান। তখন বিষণ্ণতা আর অ্যাংজাইটির ওষুধ এবং অ্যালকোহল ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।
হে মুসলিম নারীরা, তাদের এই দুর্ভাগ্যজনক পথ অনুসরণ করবেন না। আপনাদের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই। একজন মুসলিম নারী হিসেবে আপনি যে "নির্যাতিত নন", কিংবা আপনি যে "ক্ষমতায়িত" এবং "স্বাধীন", তা কাউকে দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু আল্লাহর ইবাদত করুন, একজন দীনদার মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করুন, নেককার সন্তান গড়ে তুলুন এবং আপনার সুন্দর পরিবার ও এর থেকে পাওয়া আনন্দকে পুরোপুরি উপভোগ করুন।
নিজের নারীত্বকে উদ্যাপন করুন। তাদের নারীবাদকে প্রত্যাখ্যান করুন।
আল্লাহ নারী ও পুরুষ উভয়কে নারীবাদের এই শোচনীয় পথ ও এর ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন, আমিন।
✍️ উম্মু খালিদ