03/09/2017
ধর্ম ও ধর্ম প্রতিস্থাপন
ধর্মান্তরীত হওয়ার কারণ কী নিজের ধর্মকে না জানা......
প্রকৃতপক্ষে ধর্ম বলতে বোঝায়-কৃষ্ণকে জানা,তাকে
বোঝা,তাকে ভালোবাসা এবং পরিশেষে তার প্রতি
সমর্পন,আত্মনিবেদন। ইহাই ধর্ম,বাকি সব অধর্ম।
রাজ্য বা দেশের যেমন নির্দিষ্ট আইন থাকে,ভগবানেরও তেমন কিছু আইন আছে। সেই আইন লঙ্ঘন করলে দুইক্ষেত্রেই
আপনার জন্য দন্ড নির্ধারিত। যারা এই আইন মানেন তারা
ধার্মিক,না মানলে অধার্মিক।
গীতা- 4/7 পড়ুন
তাৎপর্য:- যখনই ধর্মকে ছাপিয়ে অধর্ম বেশি হবে তখনই
ভগবান অবতরন করবেন। সাধুদের রক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি আসবেন।
এই কারনেই মহাপ্রভুর আবির্ভাব। সেই সময়ে সনাতন ধর্ম
বিলুপ্তির পথে ছিল। তবে আজকাল যেমন নতুন ধর্মমত তৈরী
হতে দেখা যাচ্ছে,তিনি কিন্তু কোন ধর্মমত তৈরী করেননি।
সেই একই গীতার বাণী,একই বেদমন্ত্র "হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র
"। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম তৈরী করা যায় না। . মহাপ্রভু আসলে একটু নতুন সাজে,নতুন স্বাদে একই জিনিস
দেখিয়েছেন। আজ আমরা মুন্ডন করা শিখাযুক্ত ব্যাক্তিকে
বৈষ্ণব জাতি আখ্যা দিলাম। প্রভু--বৈষ্ণব কোন নির্দিষ্ট
জাতি নয়। ব্রহ্মা,বিষ্ণু,
মহেশ্বর,সমস্ত দেবদেবী,সমস্ত ব্রহ্মান্ড বৈষ্ণব। যিনি
দিনে একবারও ভক্তিভরে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করে,সেই বৈষ্ণব।
হিন্দু,মুসলমান,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান কোন ধর্মই ছিল না,আজ কত
ভাগে বিভক্ত। হিন্দুত্বেই কত ভাগ হতে চলেছে। কেউ
কালি,কেউ শিব,কেউ দূর্গা কত কি !! সমস্ত দেবতারা বৈষ্ণব-
কারন সকলে সেই কৃষ্ণেরই উপাসনা করে। আজ কৃষ্ণবিহীন
মানুষ বেড়েই চলেছে,অর্থাৎ অধর্ম বাড়ছে। চরম সীমায় অধর্ম যাওয়ার আগে ভগবানকে আসতে হবে,অনাচারী-দুষ
্কৃতদের নাশ করতে। আর কল্কী-রূপে ভগবান আসবেন তলোয়ার
হাতে। তার হাতে কাটা পড়ার আগে তার স্মরণে এসে
ভালোবাসা আদায় করা শ্রেয়।
বৈষ্ণবদের অনেকে আবার গোঁসাই বা গোস্বামীও বলেন। গো-
এর তিনটি অর্থ- ভূমি,গাভী আর ইন্দ্রিয়। নিজের ইন্দ্রিয়ের উপর প্রভুত্ব অর্থাৎ ইন্দ্রিয়গুলিকে নিজের বশে যিনি
রাখতে পারেন,তিনিই গোস্বামী উপাধির উপযুক্ত।
দেখা যায়, এমন বৈষ্ণবদেরও অনেকে নিন্দা করেন, এই বলে
যে-" কুঁড়েমি করে কর্ম করার ভয়ে হরে কৃষ্ণ করে বেড়াচ্ছে
"।তিনি যা রোজগার করছেন,তা পরজন্মে নিয়ে যাবেন। আর
আপনার রোজগার সব এখানেই পড়ে থাকবে- এটাই পার্থক্য। আপনার রাগ ঘৃণা গোপন রাখুন। বৈষ্ণবরা কৃপা বর্ষনে অত্যন্ত
পটু,শাপ দিতে জানেন না। দূর থেকে দেখে প্রণাম
করুন,তাদের সঙ্গ করুন। শুধুমাত্র তাদের একটু কৃপাতেই আপনি
ভক্তি পেতে পারেন।
" সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্ব্বশাস্ত্র কয় লবমাত্র সাধুসঙ্গে
সর্বসিদ্ধি হয়।" কৃষ্ণভক্ত হউন- সমস্ত দুঃখ নাশ হয়ে যাবে ।