28/12/2025
হাদী ভাইয়ের খু*নীকে এখনো কেন ধরা যাচ্ছে না? খু*নের পেছনে কারা কারা জড়িত আছে সেটা কেন বের করা যাচ্ছে না? সরকারও বা কেন বিচারের কথা বলছে না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাতে আপনাদেরকে একটু পিছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। কারণ ক্লু মিলাতে মিলাতে আমরা নতুন কিছু দিক খুঁজে পেয়েছি।
বর্তমান সরকার কিচ্ছু করতে পারছে না কারণ সরকারের ভেতরই আরেকটা সরকার আছে।
বর্তমানে উপদেষ্টা প্রধান হচ্ছে ড. ইউনূস। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে সব ক্ষমতার মালিক বোধহয় তিনি ই। এই কথাটা সরকার গঠনের কিছু মাস পর্যন্ত ঠিক ছিল কিন্তু এখন না।
কারণ এখন সরকার চালায় ভিতরকার আরেকটা সরকার গ্রুপ।
দেশে কোন ঝামেলা লাগলেই আমরা দোষ দেই ইউনূসকে, গালি দেই আসিফ নজরুলকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে।
কারণ তাদেরকে বসানোই হয়েছে এমনসব মন্ত্রণালয়ে যেখানে বিতর্ক বেশি, মানুষ গালি দিবে বেশি।
আর ভিতরকার কলকাঠি নাড়ার মাস্টারমাইন্ডরা বেছে নিয়েছিল কম আলোচিত মন্ত্রণালয়গুলো। কারণ এতে করে পর্দার আড়ালে থেকে ঘুটু করাটা সহজ।
যেমন বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ বশিরউদ্দিন নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এগুলো নিয়ে তেমন একটা আলোচনা নাই। এটাই ছিল ওদের প্ল্যান।
অথচ বশিরউদ্দিনের প্রভাব মোটামুটি সব মন্ত্রণালয়েই আছে। তিনি আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকের ছেলে।
তারা বিজনেস ম্যানরা মিলেই ভিতরকার একটা সরকার গঠন করে আছে। এই গ্রুপে বসুন্ধরা গ্রুপ সহ বড় বড় সব গ্রুপ এবং কিছু রাজনীতিবিদরা আছে।
আর হাদী ভাইয়ের খু*নীদের কাছে শত কোটি টাকার যে চেক এসেছিল সেগুলোও এসেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে, বিজনেসম্যানদের মাধ্যমে।
এবার আপনারা একটু চিন্তা করে হিসাবগুলো মেলাতে থাকুন।
সরকারের বাহিনীরা সেই চেকগুলো হাতে পেয়েছে। কিন্তু তারা চেকের বিষয়ে কিছুই জানাচ্ছে না। চেকের বিষয়ে তদন্ত করতে সর্বোচ্চ ২ দিন লাগার কথা।
কিন্তু এ রহস্য উদঘাটন করলেই ভিতরকার সরকারদের অনেককিছু ধরা পড়ে যাবে তাই তারা চেকগুলো যেন গায়েবই করে দিয়েছে।
নানান চেষ্টা তদবির করার পরও আমাদের টিমকে পর্যন্ত চেকের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র কিচ্ছু জানতে দেয়া হয় নাই। আমাদের সোর্স কিছুটা জানানোর পর বাকি ডিটেইলস জানাতে পারেনি।
মনে হচ্ছিল চেকগুলো পাহারা দিয়ে গায়েব করে দিয়েছে আমাদেরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওরা।
এখন প্রশ্ন হতে পারে হাদী ভাইয়ের মৃ*ত্যুতে বিজনেসম্যান গ্রুপটার লাভ কি? আসলে লাভটা পুরো গ্রুপের সবার।
কোন কাজে ওদের গ্রুপের রাজনৈতিক নেতাদের লাভ হলে পুরো গ্রুপ মিলে সাপোর্ট দেয়ার ট্রাই করে সেটাতে।
এই সাপোর্টটুকুতেও স্বার্থ থাকে। এটা দেয় যাতে যেকোন পক্ষ তাদের লাভের সময় বাকিদেরকে পাশে পায়। এভাবেই চলে ভেতরকার সরকারের গ্রুপটা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আমরা প্রচুর গালি দেই কিন্তু উনার হাতেও তেমন কিছু নাই। ক্ষমতা ছিল তার সহকারী খোদা বক্মের হাতে।
সে মাত্র একজন সহকারী হয়েও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার কথা শুনতে বাধ্য ছিল। কারণ সে ছিল সরকারের ভেতরকার সরকারেরই একজন এজেন্ট।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও ভিতরকার সরকার দ্বারা এবং বৈদেশিক কূটনীতিবিদদের দ্বারা বায়াসড। মানে তারা সবাই ই ভেতরকার মাস্টারমাইন্ডদের কাছে একপ্রকার জিম্মি।
ড. ইউনূস হাদী ভাইয়ের ভাষণে বিচারের কথা বলেননি। উনি ইচ্ছে করেই কথাটা বলেননি। উনারা কতটুকু কি বলবে সেটাও ভিতরকার সরকাররাই নির্ধারণ করে দেয়।
তারেক রহমানও হাদী ভাইয়ের বিচারের কথাটা বলেনি কারণ কিছুদিন পরই নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ডোনেশন লাগবে। এই ডোনেশনটাও দেয় ভিতরকার সরকারের বিজনেসম্যান গ্রুপটা।
ভিতরকার সরকারের গ্রুপে রাঘব বোয়াল নেতা আছে, বিজনেসম্যান আছে, মাফিয়া আছে, কিছু বিদেশি ডিপ স্টেটের ইন্টারন্যাশনাল লোকজন আছে।
তবে তারা ভাবতে পারে নাই হাদী ভাইকে মারলে এত বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যাবে। তাহলে হয়তো অন্য কোন প্ল্যান করে কিছু করতো।
আপনারা হাদী ভাইয়ের খু*নের বিচার যতই প্রধান উপদেষ্টার কাছে চান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে চান কোন লাভ নাই।
কারণ আমরা ততটুকুই হতে দেখতেছি যতটুকু এই ভিতরকার সরকারের মাস্টারমাইন্ডরা দেখাতে চাচ্ছে।
অনেকক্ষেত্রে বড় বড় রাঘব বোয়াল নেতারা ভিতরকার এই হিডেন সরকারের বন্ধু। অনেকসময় নেতারাও তাদের কথা শুনতে বাধ্য।
তাদের ইশারা ব্যতিত একটা বাহিনীর লোকও কথা বলবে না, এমনকি উপদেষ্টারাও না। তারা যেভাবে নাচাবে সেভাবেই নাচবে সবাই।
আর এজন্যেই হাদী ভাইয়ের খু*নীদের ধরার ব্যাপারে কিংবা তদন্তের ব্যাপারে কোন গতি নাই।
গতি থাকবেই বা কিভাবে? মাস্টারমাইন্ডরা যতটুকু দেখাতে চাচ্ছে ততটুকুই দেখছি আমরা, যতটুকু বলতে চাচ্ছে ঠিক ততটুকুই বলছে উপদেষ্টারা।
মাঝখান থেকে ওদের এই মাফিয়াতন্ত্রের কাছে আমরা হারালাম আমাদের প্রিয় হাদী ভাইকে। এভাবেই হয়তো শেষমেশ বিচারটুকুও পাব না!
- Ibrahim Khalil Shawon