Religion is survival

Religion is survival কল্কি অবতার পরম ঋষি পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র।

সত্য জানতে সকলের পড়া উচিত। যেহেতু জগন্নাথ মন্দির থেকে বই ও কথাটা বেরিয়েছে তাহলে সত্যি কথা কইছে এটাই তো? হ্যাঁ সত্যের কাছ...
30/03/2026

সত্য জানতে সকলের পড়া উচিত।
যেহেতু জগন্নাথ মন্দির থেকে বই ও কথাটা বেরিয়েছে তাহলে সত্যি কথা কইছে এটাই তো? হ্যাঁ সত্যের কাছাকাছি বলেছেন। আর আমরা সৎসঙ্গ এতোদিন চিল্লাচিল্লি করছি মানুষ ভাবে উল্টোটা মনে করে আজগুবি কথা আমরা বলে বেড়াই এটাই ভাবে মানুষ। যাহোক অবশেষে সত্য কথা বের হচ্ছে তাদের ভিতর থেকে এবং সত্যের কাছাকাছি তথ্য গুলো সবজায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেই এগুলো বের হবেই। ঐ ভবিষ্য মালিকা পুরাণ এও সত্যি কথা পুরোটা নেই। কিন্তু সত্যিটার কাছাকাছি এতেও ঐ লেখক পন্ডিত কাশীনাথ মিশ্র মহাশয় কে ধন্যবাদ নমস্কার যে তাদের মতো মানুষ গুলো সত্য কে লালন করে ছিল পৃথিবীতে। এবার আর রক্ষা নেই মানুষ গুলোর যারা আমাদের তথ্য ও সত্য গুলোকে আজগুবি বলে ঠাট্টা করত। এবার সৎসঙ্গের সত্যি কথা গুলো বিশ্বাস না করে উপায় নেই তাদের। এই যে ইন্দ্র মিত্র দাদা উনিও কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুর কে হেয় করে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। এবং উনি নিজেও যুগের বয়স সম্পর্কে পোস্ট করেছেন। কিন্তু আজকে তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন যে সত্যি টা। এটা তিনি ও অন্য সকলেই মেনে নিবেন যে যেহেতু এটা জগ্ননাথ মন্দির থেকে বই ও কথা বেরিয়েছে তাই তারা এখন মেনে নিতে বাধ্য। আর পৃথিবীর সকল মানুষ হয়তো মানুষ হওয়ার জন্য সৎসঙ্গের শ্রীশ্রীঠাকুর কে গ্রহণ না করে উপায় বা পথ পাবে না।

অথচ আমরা ঠাকুরের পথে চলে এই কথা সেই ১০০ বছর ধরে বলে আসছি। আর সত্য যুগের শুরু হয়েছে ঐ ১৮৮৮ সালে। কিন্তু জঞ্জাল পরিষ্কার হতে তো সময় লাগে তাই এখনো এতো বিশৃঙ্খলা। পরমপিতার শ্বাস প্রশ্বাস এই পৃথিবীতে বহে চলছে পৃথিবীর ভালো না হয়ে উপায় নেই। আসতেই হবে পরমপিতার কাছে। যে আসবে না তার চুরাশি লক্ষ যৌন ভ্রমণ হয়তো শেষ হয়নাই তাই ঘুরে বেড়াতে হবে তো?

এই ভবিষ্য মালিকা পুরাণ এর লেখক পন্ডিত কাশীনাথ মিশ্র মহাশয় দাদার সূচিপত্র থেকে কলি যুগের অবতার তিন জন হবেন এটাই সবচেয়ে দারুণ আর সেটা হল ১. চৈতন্য মহাপ্রভু, ২. রামকৃষ্ণ, ৩. অনুকূল ঠাকুর। সর্বশেষ যিনি তিনি সম্পূর্ণ পূর্ণ। চৈতন্য মহাপ্রভু রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব তারা ক্ষেত্র তৈরির জন্য এসেছেন মুলত অনুকূল ঠাকুরই ওভাবে এসেছেন।

এই বইয়ে যুগ বয়স সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা তো সঠিকই। তবে কেউ যদি সম্পূর্ণ বইয়ের পিডিএফ কপি দিতে পারেন উপকৃত হব। আমি গুগল থেকে যেটুকু পেলাম সেটাই তুলে ধরলাম।

এই বইয়ের বিশেষত আর অবাক করার তথ্য হল আজ থেকে ৬০০ বছর আগে লেখা এবং ২০২৫ সালে যখন শনি মিন রাশি তে প্রবেশ করবে তখন কম্পিউটার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি স্যাটেলাইট ইত্যাদি স্থবির হয়ে যাবে। যা আজকের দিনের জন্য উপযোগী তথ্য যা মিলতে চলেছে।

যাহোক পৃথিবীতে সত্য কখনো ধ্বংস হয় না এটা কোথাও না কোথাও থাকেই যা আমি উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছি।

সৎসঙ্গ কি সনাতনের মুল ধারা বহন করে? নাকি ভুঁইফোড় কিছু গান্ডুস কৃষ্ণ কৃষ্ণ করলে তারাই সনাতনের মুল ধারা বহন করে? কিভাবে সৎ...
24/03/2026

সৎসঙ্গ কি সনাতনের মুল ধারা বহন করে? নাকি ভুঁইফোড় কিছু গান্ডুস কৃষ্ণ কৃষ্ণ করলে তারাই সনাতনের মুল ধারা বহন করে? কিভাবে সৎসঙ্গ মুল সনাতনী ধারা বহন করে সেটাই বিস্তারিত দেখব আজকের বিস্তারিত তথ্যে। সৎসঙ্গ-ই ঐ সনাতনের মুল ধারা বহন করে। সৎসঙ্গ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ সনাতনী হতে পারে না। সনাতনী হিন্দুগণ যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবেন তত তারাতাড়ি বুঝতে পারবেন তত তারাতাড়ি সনাতন ধর্মালম্বী আবার সনাতনী হতে পারবে। ভারত আবার মহাভারত হতে পারবে। তত তারাতাড়ি মুল কৃষ্ণ কে ধরতে পারবে। বুঝতে পারবেন। তত তারাতাড়ি ভগবান ঈশ্বর পরমব্রহ্ম কে লাভ করতে পারবেন। এছাড়া উপায় নেই পথ নেই। এটা ঐ ধারা যা হিন্দুদেরকে মুলে পৌঁছে দেবে। অমৃত সুধা জীবন চিরন্তন জীবন লাভ সম্ভব হবে। পরম পুরুষ পুরুষোত্তম তিনি যিনি সৎসঙ্গের পরমপ্রেমময় আদর্শ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র। তাকে ব্যক্তি হিসেবে না দেখে কল্কি অবতার পুরুষোত্তম হিসেবে ভাবলে বোধ হয় মানুষ সহজে উপলব্ধি করতে পারবেন। সৎসঙ্গীরাই হল আসল বেদান্তবাদী, বৈষ্ণবী, শৈব্য, শাক্ত, ব্রাহ্মণ্যবাদী, যোগী, ভোগী। যদি প্রকৃত সৎসঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন তাহলে একজন সৎসঙ্গীই হলেন বেদান্তবাদী, বৈষ্ণবী, ব্রাহ্মণ্যবাদী, যোগী, ভোগী, শৈব্য, শাক্ত।

সৎসঙ্গ সনাতনের মুল ধারা বহন করে তা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অনুমোদিত স্বীকৃত বৈষ্ণব সম্প্রদায় মূলত ৪টি সম্প্রদায়ের মধ্যে শ্রী সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত। এখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু চারটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত করেন তাহলে দেখেন অন্য তিন সম্প্রদায় আমাদের সনাতনের মধ্যে আছে কিন্তু আংশিক সত্য নিয়ে। সম্পূর্ণ সত্য নিয়ে শুধু মাত্র শ্রী সম্প্রদায় বহন করে গেছে। আর ঐ শ্রী সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত সৎসঙ্গ সনাতনের মুল ধারা বহন করে আছে। তাই নিজেকে জানার উপরে রাখতে হয়। অবতার পরস্পরেরা দিক দিয়েও শ্রীশ্রীঠাকুর কল্কি অবতার সনাতনী ধারা বহন করে। যদি গুরু বা আচার্য পরস্পরা ধারা অনুযায়ী দেখেন সেখানেও সনাতনী ধারা বহন করে। যুগের সময় অনুযায়ী যদি বিবেচনা করেন সেখানেও অমূলক ধারণা বাদ দিয়ে বাস্তবতার নিরিখে দেখেন সেখানেও সৎসঙ্গ সনাতনী ধারা বহন করে। যদি পৃথিবী গ্রহের সম্পূর্ণ মানব জাতির ধারা অনুযায়ী দেখেন সেখানেও সৎসঙ্গ হলেন মানব জাতির বাঁচা বাড়ার জন্য মুল পথ।

*****************
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অনুমোদিত ও স্বীকৃত বৈষ্ণব সম্প্রদায় মূলত ৪টি, যা «চতুঃসম্প্রদায়» নামে পরিচিত। এগুলো হলো: ১. ব্রহ্ম সম্প্রদায় (মাধবাচার্য), ২. শ্রী সম্প্রদায় (রামানুজাচার্য), ৩. রুদ্র সম্প্রদায় (বিষ্ণুস্বামী), এবং ৪. কুমার সম্প্রদায় (নিম্বার্কাচার্য)। এই সম্প্রদায়গুলো ভক্তি ও শ্রীকৃষ্ণের উপাসনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
মহাপ্রভুর স্বীকৃত প্রধান ৪টি বৈষ্ণব সম্প্রদায়:
ব্রহ্ম সম্প্রদায় (মাধবাচার্য): এটি দ্বৈতবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
শ্রী সম্প্রদায় (রামানুজাচার্য): বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ ভিত্তিক সম্প্রদায়।
রুদ্র সম্প্রদায় (বিষ্ণুস্বামী): শুদ্ধাদ্বৈতবাদ ভিত্তিক।
কুমার সম্প্রদায় (নিম্বার্কাচার্য): দ্বৈতাদ্বৈতবাদ ভিত্তিক এবং বর্তমানে এটি নিম্বার্ক সম্প্রদায় নামে পরিচিত।
অপসম্প্রদায় সম্পর্কে সতর্কতা:
মহাপ্রভুর প্রচারিত বিশুদ্ধ ভক্তির বাইরে ১৩টি অপসম্প্রদায় বা 'মত' প্রচলিত রয়েছে, যা মহাপ্রভুর পথ পরিত্যাগ করে ভ্রান্ত পথে চলে গেছে বলে মনে করা হয়।

******************
বর্তমান জীবন্ত অাদর্শ পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র। ঠাকুরের গুরু হল মাতা মনমোহিনী দেবী।
মাতা মনমোহিনী দেবীর গুরু হল হুজুর মহারাজ।
হুজুর মহারাজের গুরু হল কবীর ( তিনি শিখ না মুসলিম জানা যায় না)।
কবীরের গুরু হল রামানন্দ।
রামানন্দের ও গুরু ছিল রামানুচার্য।
রামানুচার্যের পূর্ববর্তী ছিল শংকরাচার্য।
শংকরাচার্যের পূর্ববর্তী ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্র সন্তানেরা।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্রের পূর্ব ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছিল।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূর্বে ছিল ভগবান শ্রীরাম।
তার পূর্বে এভাবেই এগিয়ে গেলে ঐ ধারা অনুযায়ী পাওয়া যাবে মিলে যাবে। তাই মানুষ যদি মানুষ হতে চায় তাহলে সৎসঙ্গের দেওয়া নাম নামীর ধ্যান করা ও আদর্শ মানা ছাড়া কেউ প্রকৃত জীবন লাভ করতে পারেন না।

**********************
শ্রীশ্রীঠাকুর সংকেত সুত্র গুলো দিয়ে গেছেন। রামানন্দ সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর কি বলেছেন দেখুনঃ

শ্রীশ্রীঠাকুর ------ আমি সবাইকে মানি । আমার মা হুজুর মহারাজের শিষ্য ছিলেন । আমি অবশ্য এদের কাউকেই দেখিনি ।

প্রশ্ন : স্বামীজী মহারাজই এই নাম প্রথম প্রকট করেন ?

শ্রীশ্রীঠাকুর : তিনি প্রকট করছেন যা' ছিল তাই , শব্দের ভিতর দিয়ে । যা' ছিল না তাকে নয় ।

প্রশ্ন : প্রাচীন গ্রন্থাদিতে কোথাও কি এই নামের কথা লেখা আছে ?

শ্রীশ্রীঠাকুর : যেমন আছে কবীরের গ্রন্থে ।

সুশীলদা : কবীর ছাড়া আর কারো গ্রন্থে দেখা যায় না ?

শ্রীশ্রীঠাকুর : দেখিনি ! কিন্তু কবীর জানলেই তার গুরু রামানন্দ জানতেন ।

প্রশ্ন : কিন্তু তিনি কিছু প্রকাশ করেনি ?

শ্রীশ্রীঠাকুর : প্রকাশ করা হয় যখন age ( যুগ ) আসে ।
দীপ রক্ষী পৃ : ৬৯ ।।

বৈষ্ণব সাধক স্বামী রামানন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যঃ
**************************
স্বামী রামানন্দ বা রামানন্দ ছিলেন চতুর্দশ শতকের একজন বৈষ্ণব ভক্তিমূলক কবি সাধক, যিনি উত্তর ভারতের গাঙ্গেয় অববাহিকার অধিবাসী ছিল।[৩] হিন্দু ঐতিহ্য তাকে রামানন্দী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়,[২] আধুনিক সময়ে সবচেয়ে বড় সন্ন্যাসী হিন্দু ত্যাগী সম্প্রদায়।[৪][৫]

জন্ম
৩০ ডিসেম্বর, আনুমানিক ১৩০০-১৩৮০ খ্রিস্টাব্দ[১][২]
প্রয়াগ, বর্তমান উত্তরপ্রদেশ, ভারত
মৃত্যু
অনিশ্চিত তারিখ, আনুমানিক ১৪০০-১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দ[২]
বারাণসী, উত্তরপ্রদেশ
ধর্ম
হিন্দুধর্ম
সম্প্রদায়
শ্রী বৈষ্ণবধর্ম (দেবতা রাম), হিন্দুধর্ম
যে জন্য পরিচিত
রামানন্দী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান কবি-সাধকদের গুরু, উত্তরভারতে ভক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ, সমাজ সংস্কারক।

রামানন্দ গৌড় ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন,[৬] তার জীবনের বেশিরভাগ সময় পবিত্র শহর বারাণসীতে বসবাস করেন।[১][৭] তার জন্ম তারিখ ৩০ ডিসেম্বর কিন্তু মৃত্যু অনিশ্চিত, তবে ঐতিহাসিক প্রমাণ থেকে জানা যায় যে তিনি প্রথম দিকের একজন সাধু এবং ভক্তি আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব ছিলেন কারণ এটি উত্তর ভারতে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল, ১৪ ও ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামী শাসনের সময়কাল।[২][৩] ঐতিহ্য বলে যে রামানন্দ দক্ষিণ ভারতীয় বেদান্ত দার্শনিক রামানুজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তার দর্শন এবং ভক্তিমূলক থিমগুলি তৈরি করেছিলেন, তবে, প্রমাণ এও ইঙ্গিত করে যে রামানন্দ হিন্দু দর্শনের যোগ দর্শনের নাথপন্থী সন্ন্যাসীদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।[৫]

একজন প্রাথমিক সমাজ সংস্কারক, রামানন্দ লিঙ্গ, শ্রেণীভেদে কাউকে বৈষম্য না করেই শিষ্য গ্রহণ করেছিলেন। প্রথাগত পাণ্ডিত্যের মতে তার শিষ্যদের মধ্যে পরবর্তী ভক্তি আন্দোলনের কবি-সন্তান যেমন কবীর, রবিদাস, ভগৎ পীপা এবং অন্যান্য,[৫][৭] যাইহোক, কিছু উত্তর-আধুনিক পণ্ডিত এই আধ্যাত্মিক বংশের কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যখন অন্যরা ঐতিহাসিক প্রমাণ সহ এই বংশকে সমর্থন করেছেন।[৮][৯] তাঁর শ্লোকটি শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৫][১০]

রামানন্দ তার কাজ রচনা করার জন্য এবং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিকে আঞ্চলিক হিন্দিতে আলোচনা করার জন্য পরিচিত ছিলেন, বলেছেন যে এটি জনসাধারণের কাছে জ্ঞানকে সুগম করে তোলে।[৩]

জীবনী
সম্পাদনা
জন্ম ও মৃত্যুর বছর সহ রামানন্দের জীবন সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে খুব কমই জানা যায়।[৫][১১] তার জীবনী মাধ্যমিক সাহিত্য এবং অসংলগ্ন হ্যাজিওগ্রাফিতে তার উল্লেখ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।[২][৩][৯]

সর্বাধিক স্বীকৃত সংস্করণে বলা হয়েছে যে রামানন্দ একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন,[১২] প্রায় ১৪ শতকের মাঝামাঝি, এবং প্রায় ১৫ শতকের মাঝামাঝি মারা যায়।[১৩][১৪][১৫] যদিও খুব কম লোকই তাকে দক্ষিণী বংশোদ্ভূত বলে ধরেন, তবে এই ধরনের দাবিকে সমর্থন করার কোনো প্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, সমস্ত প্রকৃত ভারতীয় সূত্র একমত যে রামানন্দের জন্ম প্রয়াগে (এলাহাবাদ)।[১৬]

নভদাসের মধ্যযুগীয় ভক্তমাল পাঠ অনুসারে, রামানন্দ বৈষ্ণবধর্মের বেদান্ত-ভিত্তিক ভাটকালই (উত্তর, রাম-অবতার) বিদ্যালয়ে গুরু রাঘবানন্দ এর অধীনে অধ্যয়ন করেছিলেন।[১৭]

অন্যান্য পণ্ডিতদের মতে, রাঘবানন্দের সাথে সাক্ষাতের পূর্বে রামানন্দের শিক্ষা আদি শঙ্করের অদ্বৈত বেদান্ত বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছিল, এবং রামানুজের বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্ত বিদ্যালয়েও তিনি পড়াশোনা করেছিলেন।[১৮]

সাহিত্যকর্ম
সম্পাদনা
রামানন্দকে অনেক ভক্তিমূলক কবিতার রচয়িতা হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তবে বেশিরভাগ ভক্তি আন্দোলনের কবিদের মতো, তিনি আসলে এই কবিতাগুলির লেখক ছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। হিন্দি ভাষায় দুটি গ্রন্থ, জ্ঞান-লীলা এবং যোগ-চিন্তামণি ও রামানন্দকে দায়ী করা হয়, যেমন সংস্কৃত রচনা বৈষ্ণব মাতা ভজভাস্কর এবং রামরচন পদদ্ধতি।[১১] যাইহোক, শিখধর্ম এবং হাতে লেখা নাগরী-প্রচারিণী সভা-এর মূল এবং সু-সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া কবিতাগুলিকে প্রামাণিক বলে মনে করা হয় এবং রামানন্দের নির্গুণ (গুণহীন ঈশ্বর) চিন্তাধারাকে তুলে ধরে।[১১]

আমার কোথায় যাওয়া উচিত?
আমি বাড়িতে খুশি।
আমার হৃদয় আমার সাথে যাবে না,
আমার মন পঙ্গু হয়ে গেছে।

একদিন আমার মনে একটা ইচ্ছা জাগে,
আমি বেশ কিছু সুগন্ধি তেলের সাথে চন্দন কাঠের কাঠ দিয়েছি।
আমি মন্দিরে গিয়েছিলাম, সেখানে তাকে পূজা করতে,
তারপর আমার গুরু আমাকে ব্রহ্ম [পরম বাস্তবতা, ঈশ্বর] দেখালেন, আমার হৃদয়ে।

যেখানেই যাই, সেখানেই পাই শুধু জল আর পাথর,
কিন্তু ব্রহ্ম সব কিছুতেই আছে।
আমি সমস্ত বেদ ও পুরাণ অনুসন্ধান করেছি,
আপনি সেখানে যান, যদি ব্রহ্ম এখানে না থাকে।

হে সত্যগুরু, আমি তোমার কাছে উৎসর্গ।
আপনি আমার সমস্ত বিভ্রান্তি এবং সন্দেহ দূর করে দিয়েছেন।
রামানন্দের ভগবান হলেন সর্বব্যাপী ব্রহ্ম,
গুরুর বাণী লক্ষ লক্ষ কর্মের অবসান ঘটায়।

— রাগ বসন্তে রামানন্দ, গুরু গ্রন্থ সাহিব[১৫][১৯]
দর্শন
সম্পাদনা
রামানন্দ দক্ষিণ ভারতীয় বেদান্ত দার্শনিক রামানুজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তার দর্শন এবং ভক্তিমূলক থিমগুলি তৈরি করেছিলেন, তবে, প্রমাণ এও ইঙ্গিত করে যে রামানন্দ হিন্দু দর্শনের যোগ দর্শনের নাথপন্থী তপস্বীদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।[৫]

অ্যান্টোনিও রিগোপোলোস বলেন রামানন্দের শিক্ষা ছিল "অদ্বৈত বেদান্ত এবং বৈষ্ণব ভক্তির মধ্যে সংশ্লেষণের প্রচেষ্টা"।[২০] তিনি যোগ করেন যে একই লিঙ্কটি ১৫ শতকের অধ্যাত্ম রামায়ণের পাঠে পাওয়া যায়, কিন্তু রামানন্দের শিক্ষাগুলি সেই পাঠকে অনুপ্রাণিত করেছিল এমন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।[২০]

শাস্ত্রী এই তত্ত্বটি প্রস্তাব করেছেন যে রামানন্দের দুটি স্বতন্ত্র হিন্দু দর্শনে জটিল ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষা ব্যাখ্যা করে যে কেন তিনি যথাক্রমে সগুণ ও নির্গুণ ব্রহ্ম, বা বৈশিষ্ট্যযুক্ত ঈশ্বর এবং গুণহীন ঈশ্বর উভয়কেই গ্রহণ করেছিলেন। শাস্ত্রী পরামর্শ দেন যে তার তত্ত্বটি ব্যাখ্যা দেয় কেন রামানন্দের শিষ্যরা ভক্তি আন্দোলনের দুটি সমান্তরাল স্রোত হিসাবে সগুণ ও নির্গুণকে সহ-বিকশিত করেছিল।[২১] যাইহোক, এই তত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং এটি পণ্ডিতদের দ্বারা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।[২১]

রামানন্দ সাহিত্য যেটিকে প্রামাণিক বলে মনে করা হয়, এনজো টারবিয়ানি বলেন, ভক্তি আন্দোলনের আধিভৌতিক নীতিতে একটি মাইলফলক বিকাশের পরামর্শ দেন।[২২] রামানন্দ জোর দিয়ে বলেছেন যে তপস্যার মাধ্যমে তপস্যা এবং তপস্যা অর্থহীন, যদি একজন ব্যক্তি হরি (বিষ্ণু) কে তাদের অন্তর্নিহিত হিসেবে উপলব্ধি না করে। তিনি উপবাস এবং আচার-অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন, এই বলে যে যান্ত্রিকতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এবং যে ব্যক্তি যদি ব্রহ্ম (সর্বোচ্চ সত্তা) প্রকৃতির প্রতি প্রতিফলন ও আত্মদর্শনের সুযোগ না নেয় তবে এগুলো অকেজো।[২২] রামানন্দ বলেছেন যে পবিত্র পাঠ্য পাঠ করে কোনো লাভ নেই, যদি ব্যক্তি বুঝতে ব্যর্থ হয় যে পাঠ্যটি কী যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।[২২]

উত্তরাধিকার
সম্পাদনা
রামানন্দকে প্রায়ই উত্তর ভারতে সন্ত-পরম্পরা (আক্ষরিক অর্থে ভক্তি সন্তদের ঐতিহ্য) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্মানিত করা হয়।[২৩] তার প্রচেষ্টা, এমন সময়ে যখন উত্তর ভারতের গঙ্গা নদীর সমভূমি ইসলামী শাসনের অধীনে ছিল, হিন্দুদেরকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং রাম উপাসনার একটি ব্যক্তিগতকৃত, প্রত্যক্ষ ভক্তিমূলক রূপ, তার উদারতাবাদ এবং জন্ম বা লিঙ্গের পরিবর্তে ভক্তের প্রতিশ্রুতিতে কেন্দ্রবিন্দু করতে সাহায্য করেছিল। যা মানুষকে আকৃষ্ট করেছেজীবনের বিভিন্ন স্তর থেকে আধ্যাত্মিকতার প্রতি, এবং আধ্যাত্মিক ধারণার জন্য সংস্কৃতের পরিবর্তে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার জনসাধারণের জন্য ভাগাভাগি ও প্রতিফলনকে সহজ করে তোলে।[২৪]

শিষ্যগণ
সম্পাদনা
রামানন্দের চৌদ্দজন প্রভাবশালী শিষ্যের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী কবি-সন্ত ছিলেন। ভক্তমাল অনুসারে, এরা হলেন:[২৫]

পুরুষ সন্ত:

অনন্তানন্দ
সুরসুরানন্দ
সুখানন্দ
নরহরিদাস
ভবানন্দ
বিঠলপন্ত কুলকার্নি
ভগৎ পীপা
কবীর
রবিদাস
সেন
ধন্ন
সাধন
নারী সন্ত:

শুরসুরী
পদ্যবতী
উত্তর-আধুনিক পণ্ডিতরা উপরের কিছু গুরু-শিষ্য বংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যরা ঐতিহাসিক প্রমাণ দিয়ে এই বংশকে সমর্থন করেছেন।[৮][৯] সুত্রঃ ইউকিপিডিয়া থেকে।

#শ্রীশ্রীঠাকুরঅনুকূলচন্দ্র #সৎসঙ্গ #ধর্ম #সনাতন #হিন্দু

একজন হিন্দু বন্ধু থাকা দরকার হয়তো প্রেম হবে তবুও তো ধর্ম পরিবর্তন হবে না।🙏
11/10/2025

একজন হিন্দু বন্ধু থাকা দরকার হয়তো প্রেম হবে তবুও তো ধর্ম পরিবর্তন হবে না।🙏

সৎসঙ্গের এই সৎনাম পৃথিবীর সকল নাম বা মন্ত্রের বীজস্বরূপ। কলি যুগের উদ্ধারের পরম নাম। সত্য যুগের পরিণাম। 📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕প...
09/10/2025

সৎসঙ্গের এই সৎনাম পৃথিবীর সকল নাম বা মন্ত্রের বীজস্বরূপ। কলি যুগের উদ্ধারের পরম নাম। সত্য যুগের পরিণাম।
📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕📕

প্রশ্নঃ-- সৎমন্ত্র বা সৎনাম মানে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- “সৎমন্ত্র মানে তাই যার অনুশীলনে মানুষের বাঁচা-বাড়া অব্যাহত থাকে। সদ্গুরু হ'লেন সৎনামের প্রতীক। তাঁর প্রতি নিষ্ঠা চাই। মূৰ্ত্ত সদ্গুরুর কাছে দীক্ষা নিয়ে অন্যত্র দীক্ষা নেওয়া চলে না। সদগুরুকে গ্রহণ ক'রে তদনুগ চলনায় চলা চাই । তবেই নাম করা সার্থক হয়। সৎনামের সঙ্গে কোন নামের বিরোধ নেই। এতেই যা'-কিছু পরিপূরিত হয়।" (আ.প্র. ৯/১৭)।

প্রশ্নঃ-- সৎ নাম এলো কোথা থেকে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- এ নামকে বলা যায় ধুনাত্মক নাম। বিশ্বব্রহ্মান্ডের যা'- কিছু কম্পন থেকে সৃষ্ট। এই নামের মধ্যে অাছে কম্পনের mechanism (মরকোচ)। তাই, এটা সব যা'-কিছুকেই fulfil (পরিপূরন) করে। অাঃ প্রঃ ১৯/১০.৪.১৯৫০।

জনার্দ্দনদা-- যে কোন নাম করলেই কি হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- নাম তিন প্রকার ধুনাত্মক ধ্বন্যাত্মক ও ভাবাত্মক।

জনার্দ্দনদা-- এর মধ্যে কোন নাম করতে হবে এবং নাম করলে কি হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- ধুনাত্মক নাম স্পন্দন - প্রধান। যেখানে ধ্বনি শোনা যায় না, সেখানেও ধুন টের পাওয়া যায় । ধুন আরোও স্থুল হয় যেখানে , সেখানে ধ্বনী বা নাদ শোনা যায় -- সেটা হল ধ্বন্যাত্মক। আর ভাবাত্মক যেমন কালী ,শিব ,দুর্গা । স্পন্দনাত্মক নাম নামিতে অনুরাগ নিয়ে করলে ভালো হয়। নামে আমাদের প্রত্যেকটা কোষের মধ্যে স্পন্দন সৃষ্টি হয়। নাম - অনুপাতিক কৌষিক সংহতি ও সাড়াপ্রবণতাও তেমন হয়। বোধি বেড়ে যায়, ব্যক্তিত্ব বেড়ে যায়। তবে সদ্গুরুর প্রতি টান নিয়ে সুকেন্দ্রিক হয়ে নাম না করলে অসংহতও হয়ে যেতে পারে। সুকেন্দ্রিক হব, সুকেন্দ্রিক হব ,করলে হয় না। ভালোবাসা থেকে মানুষ সহজেই সুকেন্দ্রিক হয়। আঃ প্রঃ ৩১.১২.১৯৫২.।

কেষ্টদা নাম সম্বন্ধে প্রশ্ন তুললেন ।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- এই নাম হল সর্বপ্রকার কম্পনের মূল mechanism (মরকোচ)। এই কম্পনে কম্পিত থাকলে যে কোন কম্পনের original cause (মূল কারণ)-- এ চলে যাওয়া যায়। কেউ যদি আগে অন্য নাম নিয়ে থাকে তবে এ নাম আগে করে অন্য নাম পরে করলে যে গতিটা cause (কারণ)--এর দিকে যাচ্ছিল তা --effect (ফল)--এর দিকে চলে যাবে --ক্ষতি হবে। র- মহাপ্রাণ বর্ণ, কম্পনাত্মক, ধ-- stoppage (স্থগিতি), র ও ধ --র পর অা দিয়ে continuity of these waves--- succession of these waves হয়। স্বামী-- the original to and fro movement-- গাড়ির piston যেমন to and fro চলে। জলের উপর ঢিল পড়লে যেমন up and down movement হয়। একটা ঘন্টা যেমন বাজানো হ'ল।প্রথম হল to and fro movement -- তার vibration হল শব্দ। প্রথমটা যেন স্বামী, পরের যেন রাধা। নাম যত মনে - মনে করা যায়-- তত nerve (স্নায়ু)--এর উপর pressure (চাপ) ও vibration (স্পন্দন) বেড়ে যায়-- তত দুনিয়ায় যা'কিছুকে-- pull করার (টেনে তোলার) সুবিধা হয়।

প্রশ্নঃ-- সৎনামের পরে অন্য নাম করতে নেই।।

কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন-- "নাম করার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়,এই নামের পর ‌যেন অন্য কোন নাম না করা হয়।পূর্বে ‌যদি অন্য কোন নাম নেওয়া থাকে,আর সেটা ‌যদি করতে ইচ্ছা করে, তবে আগে সেইটে ক'রে পরে এইটে করবে।" (আ.প্র.২খণ্ড)।

শরৎদার প্রশ্ন-- Self-এর (অাত্মার) সাথে ধুনাত্মক নামের কি কোন যোগ অাছে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- মন্ত্র তিন রকমের অাছে,-- ভাবাত্মক, ধ্বন্যাত্মক ও ধুনাত্মক। যেমন , "ক্লীং কৃষ্ণায় বাসুদেবায় " এগুলি ভাবাত্মক নাম। এই নাম জপে, হওয়াটা যেমন আছে তাকে ঐ নাম - অানুপাতিক পরিবর্ত্তিত করে তোলে। ধ্বন্যাত্মক নাম হল ওঁ, হ্রীং, ঐং, এই সব। অার,অামাদের এই নাম হল ধুনাত্মক নাম-- Vibration (স্পন্দন )। এটা সমস্ত নামের mechanism (তুক)। এর মধ্যে অাছে expansion, contraction, and stagnation (প্রসারণ, সংকোচন ও বিরমণ)। এই বীজমন্ত্রের মধ্যে অাছে রা-- motion ( গতি), ধা-- cessation (বিরমণ), স্বা-- outward force ( বর্হিমুখী শক্তি), এবং মী-- inward force ( কেন্দ্রমুখী শক্তি)। ঐ হল দয়ী দেশ বা দয়াল দেশ, radiant unit ( বিচ্ছুরনী একক)। সত্যলোক থেকে এর অারম্ভ। তারপর টেনে নিয়ে যায় কোথায়। Radiant unit (বিচ্ছুরণী একক) কথাটা বড় ভাল। Itself radiant unit (অাপনা থেকেই বিকিরণকারী)। radiant মানে যে radiate (বিকিরণ) করে। এই radiant unit --টাই (বিচ্ছুরণী এককটাই) অামাদের life - force (জীবনীশক্তি )। রেডিয়াম যেমন always radiate ( সব সময় বিকিরণ) করে চলেছে ও - ও তাই। ঐটাকে অামাদের জীবনে যত continuous (অবিরাম) করে তুলতে পারব, জীবনটাও তত equilibrium -এ (সাম্যাবস্থায়) চলে অাসে। vibration --এর ( স্পন্দনের) বিভিন্ন রকমগুলি সব একধারায় merge করে ( বিলীন হয়ে) যায়। ২১.৫.১৯৫৭। দীপ রক্ষী।


প্রশ্নঃ-- সৎসঙ্গের বীজমন্ত্রে কি ঔং আছে?

জনৈক দাদা- অাসামের কাছাড় থেকে অাশ্রমে এসেছেন। তিনি সকালবেলা নিরালা - নিবেশে শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রণাম নিবেদন করে বললেন -- ঠাকুর, অামি বৃদ্ধ হয়েছি। অামি চিরকাল " ঔং " নাম জপ করে অাসছি। এখন অাপনার দীক্ষা গ্রহণ করেছি এবং অাপনার প্রদত্ত বীজনাম জপ করি।

ঠাকুর দাদাটির কথা শুনে তার দিকে দেখে বললেন -- রাস্বাস্বামী বীজমন্ত্রের মধ্যে তো "ঔং" অাছেই। আঃপ্রঃ। ২৩ শে অক্টোবর, ১৯৬৪ সন। আসলে এই বীজ নামের মধ্যে সকল নাম আছেই। এই নাম করলে সকল নাম করা হয়।

প্রশ্নঃ-- এক সাধুজী অজপা সাধন-সম্বন্ধে কথা তুললেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে জপ অজপা নয়।
ওটা একটা mechanical ( যান্ত্রিক) পথ।Vital flow (প্রা‌ণন প্রবাহ) ‌যা' চলছে-অনাহত ধারায়,সুরত-সম্বেগ নিয়ে নিরন্তর ইষ্টময় হ'য়ে সেই প্রাণন-প্রবাহের স্বতঃ-অনুভব‌ই অজপা সাধন। -এর মূলে থাকে স‌ত্তার ইষ্টমুখী তন্ময়তা,নামপরায়ণতা তখন সহজ হ'য়ে ওঠে। প্রাণায়াম মানে প্রাণের বিরাম। নিঃশ্বাস বন্ধ ক'রে প্রাণায়াম হয় না।‌ পূরক,রেচক,কুম্ভক করি, কিন্তু একমুখী অনুরাগমুখর চিন্তায় ঊর্দ্ধমুখী টান ‌যত হয়,আপনা থেকেই কুম্ভক হয় তত।পূরক,রেচক ইত্যাদির উদ্দেশ্য হ'লো বাইরের ‌ক্রিয়াকে সং‌যত ক'রে ভিতরে ভাব জাগিয়ে তোলা। অজপা জপ মানে ‌যার দরুন জীবনক্রিয়া হচ্ছে সেই প্রাণন-প্রবাহকে অনূভব করা। (আ.প্র.১৮খণ্ড)।

প্রশ্নঃ- অনামী পুরুষ ও রাধাস্বামী'র মধ্যে তফাৎ কী?

শ্রীশ্রীঠাকুরঃ--"রাধাস্বামী" নামটাই অনামী নাম | এটা স্পন্দনের মরকোচ মাত্র | অনামী নাম বিদ্যুতের মত | কোন শব্দ করে না | Electricity কে অনুভব করা যায় মাত্র | অনামী পুরুষ হল সর্ব্বোচ্চ ধামের অধিষ্ঠাতা দেবতা | 'রাধাস্বামী' শব্দ নয় শুধু অনুভব করা যায় মাত্র | ওঁ,ক্লীং,হ্রীং ,রং-এগুলি শব্দ | ওঁ হল শব্দ | ওঁ কারকে ভেদ করতে পারলে তারপর যেগুলি আছে,সেগুলিও পাওয়া যায় | 'রাধাস্বামী' শব্দ নয় , শব্দপ্রাণ--এই নাম নিজ নাম , সেইজন্য অনামী কয় | এই অনুভূতিটা যেমন করে গজায় মানুষের স্বরযুক্ত শব্দের মধ্যে , তাকে বলা যায় 'রাধাস্বামী' | এটা the central life of the universe (বিশ্বের কেন্দ্রীয় জীবন) হিসাবে অনুভব করা যায় -যাকে বলা যায় কারণ-স্পন্দন |
(আলোচনা:প্রসঙ্গ:১৯ খন্ড/পৃ:১৬৮)

কেষ্টদা-- শব্দযোগে সাধন সৎসঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য-এ কথা বললে কি ঠিক হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- ধুৎ! That is a fundamental exercise to attain bliss (পরমানন্দ লাভের জন্য এটা একটা মৌলিক অনুশীলন)। ঠিক জায়গায় ঠিকমত পৌঁছাতে গেলে এতজ্জাতীয় অনুশীলন এসেই পড়ে। প্রত‍্যেক রকম সাধন-পদ্ধতির মধ‍্যেই এটা আছে কোন-না-কোন রকমে। সবার পক্ষেই এটা প্রযোজ্য। সেই জন্য এটা বিজ্ঞান। আ: প্র: ১২, ২৪/৬/৪৮।

**ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কি নাম জপ করতেন? কারণ সকল অবতার পুরুষোত্তম মানুষ হিসেবে আসলে তাকে মানুষকে দেখিয়ে দেখানোর জন্য মানুষের স্বার্থে নাম করতেই হয়। যেহেতু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাঁশীর ডাক রাধা তাই তিনি রাধা নাম জিপ করতেন। যেমন শ্রীশ্রীঠাকুরও মানুষের স্বার্থে মানুষকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এই নাম জিপ করতেন।

সৎসঙ্গী দাদা-- শ্রীকৃষ্ণ নিজে বলেছেন-তিনি স্বয়ং কাল।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- অর্থাৎ অামিই কাল হয়েছি। শ্রীকৃষ্ণের স্থিতি কিন্তু সৎপুরুষে, তিনি স্বয়ং সৎপুরুষ, তিনিই নিত্যসত্তা। গতির ভিতর দিয়ে তার নানা পরিনতি হয়েছে। সৎ-বাদ দিয়ে কালের অস্তিত্ব নেই। কাউকে ফেললে হয় না। শ্রীকৃষ্ণই সেই যুগের সন্ত। রামচন্দ্রের যুগে রামচন্দ্রই সন্ত। সন্তমতে অাসল যারা, কেউ বাদ জান না। রাধা শব্দের প্রবর্ত্তক স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। সেই জন্য তাঁর হাতে বাঁশী দেয় -- যা কিনা অন্তরের সুরের বাইরের রূপ। সন্তমতে কোন অবতারই বাদ পড়েন না। তাদের কথা না থাকলে অামরা সন্তমত বুঝতে পারতাম না। যেমন বলেছেন অামি কাল, তেমনি বলেছেন, গাছের মধ্যে অামি অশ্বথ, সাপের মধ্যে অামি পর্পরাজ বাসুকি। অারো কত কী ! যা - কিছু সৃষ্টি হয়েছে সবই তিনি। তিনি বলেছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয়, তখনই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সদগুরুও তাই। যেখানে গ্লানি হয়, সেখানেই অাসেন। তাঁর কাজেই ওই। শব্দ তত্ত্বের মুল যা - তখন থেকেই দিতে অারম্ভ করেছেন শ্রীকৃষ্ণ। বলেছেন শব্দের মধ্যে অামি একাক্ষর প্রণব। অবশ্য রামচন্দ্রের সময় থেকেই পাওয়া যায়। শুনেছি ভগবতে রাধা বলে গোপিনী নেই। অামি বুঝি, রাধা মানে সেরা সৃষ্টিরচয়িতা শক্তি। শব্দের থেকেই সব। কতরকমের শব্দ শোনা যায়। ওঁ অনুভূতির পূর্ব্বে দারুণ বম্ বম্ শব্দ হয়। দুনিয়াটা যেন ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। কিছু থাকবে না, সব ধ্বংস হয়ে যাবে। সত্তাকেও বিলুপ্ত করে দেবে। এমন শব্দ, সব যেন টুকরো টুকরো হয়ে, রেনু রেনু হয়ে উড়ে যাবে। সে কি ভীষণ অবস্থা। ভয় বলি, সত্তার ভয় যে কী তখন বোঝা যায়। সত্তা বুঝি এই মুহূর্তে গুড়িয়ে দিল। তখন বোঝা যায় দয়ালের দয়া, যে দয়ায় টিকে অাছি এই দুনিয়ায়। ওঁ অনুধাবনে রং অাসে। রং এ মনোনিবেশ করলে পিকলু বাঁশীর মত শব্দ হয়। দোল অাসে। এক অবস্থায় motion and cessation ( গতি এবং বিরতি) এর মত বোধ হয়। স্বামীর অনুভূতি যেন to and fro ( একবার সামনে একবার পেছনে হচ্ছে) --- এমনতর বোধ করা যায়। ইলেকট্রিক ব্যাটারি দিলে যেমন শব্দ পাওয়া যায় না, ভিতরে বোধ হয়। রাধাও ঐ রকম সত্তা দিয়ে মালুম হয়। শেষ দিকে অাসে একটা পরম শান্ত অবস্থা।

অামাদের এই সৎনাম সব মন্ত্রের বীজস্বরূপ। সব বীজের সত্তা হলো কম্পন। অার কম্পনের গঠনতন্ত্র অনুভব করা যায় এই নামের মধ্যে। রেডিও তে যেমন শর্ট ওয়েভ, মিডিয়াম ওয়েভ এবং নানা মিটার অাছে অনুভূতির রাজ্যেও সেই রকম সব অাছে। এগুলি ফালতু কথা না, এগুলির সত্তা অাছে। যে সাধন করে সেই বুঝতে পারে। হ্রীং, ক্লীং ইত্যাদি স্তরে স্তরে কত শব্দ এবং তার সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতি ভেসে ওঠে। অার একটা কথা,-- পরীক্ষা করতে গেলে সদগুরুকে ধরা যায় না। কামনা নিয়ে গেলেও তাকে পাওয়া হয় না। কামনা ত্যাগ করে ধরলে তখন তাঁকে পাওয়া যায়। কামনা নিয়ে তাতে যুক্ত হতে গেলে কামনার সঙ্গে যুক্ত হই, তাতে যুক্ত হতে পারি না। নিষ্কামের কথা কয়, তার মানে গুরুই অামার একমাত্র কাম্য হবেন, অন্য কোন কামনা থাকবে না। তখনই তাকে পাওয়া যাবে। অাঃ প্রঃ ১৫ খন্ড, পৃঃ ২৬০, ২৬১।

**শ্রীশ্রীঠাকুর কি তার স্বরূপ তিনি তার পূর্ণপুঁথিতে প্রকাশিত করেছেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- যখন তোরা সেই ব্রজলীলার নিত্যরাসে মাতিস, তখন আমি প্রতি ঘটে - ঘটে শ্রীকৃষ্ণ। অাবার যখন তোরা নদীয়ার পথে - ঘাটে - ঘাটে হরিবোল হরিবোল বলে প্রেমে উন্মাদ হয়ে নৃত্য করিস, তখন সর্ব্বঘটে অামি শ্রীচৈতন্যরূপে চৈতন্য দান করি, অামিই অাবার প্রেমময়রূপে সর্ব্বঘটে প্রেম দান করি, অামি নিত্য - সাক্ষীস্বরূপ, অামিই শ্রীকৃষ্ণ, অামিই শ্রীচৈতন্য, অামিই রামকৃষ্ণ, অামিই সব অামিই সব। ৫। পূণ্যপুঁথি - ২২৫ পৃ।

কালিদাসদা--"কালে নানবচ্ছেদাৎ" মানে কী ?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- সমস্ত কথাটা কী ?

প্রফুল্ল-- "স'এব পূর্ব্বেষামপি গুরুঃ কালে নানবচ্ছেদাৎ।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- ঈশ্বরকল্প পুরুষ কালের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হন না? তাঁরা পূর্ব্বাপর এক অখন্ড ধারা বহন ক'রে চলেন। পূর্ব্বতনকে অধিকার ক'রেই পরবর্তী প্রেরীতের আবির্ভাব হয়। বর্ত্তমান প্রেরীতের মধ্যে পূর্ব্বগামীরা ত থাকেনই, তাছাড়া তাঁর মধ্যে থাকে তাঁদের যুগোপযোগী পরিপূরণ। একই ধারা বর্ত্তমান মহাপুরুষের মধ্যে পূর্ণতর পরিণতি লাভ করে। সেই হিসাবে তিনি পূর্ব্বতনদেরও গুরু। আবার বর্ত্তমান মহাপুরুষের গুরুস্থানীয় হবেন তিনিই যখন নবীনে উদ্ভিন্ন হ'য়ে উঠবেন। একজনই আসছেন। আদৎকথা পরবর্ত্তী হল পূর্ব্বতনের যুগোপযোগী বিবর্ত্তিত রূপ। (সূত্রঃ,আঃপ্র ষোড়শ খন্ড, পৃঃ ৪৭)

জীবনে অনেক লক্মী পাঁচালী পড়েছেন শুনেছেন এবার  ২০ টা মিনিট সময় নষ্ট করুন শ্রীশ্রীঠাকুরের দৃষ্টিতে লক্মী দেবী সম্পর্কে জান...
06/10/2025

জীবনে অনেক লক্মী পাঁচালী পড়েছেন শুনেছেন এবার ২০ টা মিনিট সময় নষ্ট করুন শ্রীশ্রীঠাকুরের দৃষ্টিতে লক্মী দেবী সম্পর্কে জানার জন্য। সত্যি সত্যি বলছি আপনার মধ্যে লক্মী স্বরূপ দেখতে পাবেন লক্মী সম্পর্কে সত্যি টা জানতে পারবেন। স্বার্থক হবে লক্মী পূজা। নিজেই লক্মী হয়ে উঠবেই।

শ্রীশ্রীঠাকুরের দৃষ্টিতে দেব-দেবী---- (লক্ষ্মী)
দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

মহামায়া দুর্গাদেবীর দক্ষিণ পার্শে লক্ষ্মীদেবীর অধিষ্ঠান। মা-দুর্গার দুই খ্যাতনামা কন্যা লক্ষ্মী এবং সরস্বতী। কথায় বলে, রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী। মায়ের পূজার সঙ্গে তাঁর এই দুই কন্যারও পূজা হ'য়ে থাকে। তা' ছাড়াও পৃথকভাবে বিশেষ তিথিতে লক্ষ্মী ও সরস্বতী পূজা হয়। লক্ষ্মীপূজা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় দেবীপক্ষের শেষ পূর্ণিমায়, যার নাম কোজাগরী পূর্ণিমা।
মা-লক্ষ্মী ধনধান্য ও সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, বাঙ্গালীর ঘরে-ঘরে মহাধুমধামে তাঁর আরাধনা হ'য়ে থাকে। পূজাশেষে গৃহস্থ তাঁর কাছে অভ্যুদয়, সম্পদ ও শ্রী প্রার্থনা করে। মা-লক্ষ্মীর কৃপালাভের জন্য বাংলার মায়েরা প্রতি বৃহস্পতিবারে নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্মীর ব্রত পালন করেন। তখন ঘটে সিন্দুরের ফোঁটা ও ঘটের উপরে আম্রপল্লব দেওয়া হয়, পান-সুপারি সাজিয়ে দেওয়া হয়, এয়োতিরা একত্রে বসে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ ও শ্রবণ করেন, পরে পরস্পরের সিঁথিতে সিন্দুর পরিয়ে দেন।
ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে বিভব, উন্নতি, সৌন্দর্য্য কে না কামনা করে ? আর, লক্ষ্মীদেবী এসবের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। লক্ষ্মীর আরাধনা যেখানে ঠিকমত হয় সেখানে এগুলি স্বতঃস্ফূৰ্ত ভাবেই জেগে ওঠে। তাই, লক্ষ্মীপূজা আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ আসন অধিকার ক'রে আছে। নিতান্ত গরীব যে, সে-ও তার সাধ্যমত যা' হোক কিছু উপকরণ সংগ্রহ ক'রে লক্ষ্মীপূজা সম্পাদন করে।
কিন্তু এমন যদি কোন বাড়ী দেখা যায়, যেখানে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন খুব, বাজী-বাজনার বিরাট ধুম, প্রসাদেরও বেশ ঘটা, অথচ সেখানকার মানুষগুলির মন অপরিচ্ছন্ন, তারা সদাচারী নয়, অখাদ্যকুখাদ্য ভোজন-বিলাসী, নারীরা স্বেচ্ছাচারী ও কলহপরায়ণা, পুরুষদের আছে চরিত্রের অধঃপতন বা হীন স্বার্থপরতা, সেখানে কি লক্ষ্মী অধিষ্ঠিত থাকেন ? ঐখানেই লক্ষ্মী চঞ্চলা হ'য়ে ওঠেন। চঞ্চলা মানে তিনি এক জায়গায় স্থির থাকেন না। হ্যাঁ, থাকেন না সেখানে, যারা তাঁকে রাখতে পারে না। কারণ, লক্ষ্মীপূজা মানে শুধু কতগুলি মন্ত্ৰপাঠ বা পাঁচালীপনা, শঙ্খধ্বনি করা, আলপনার বাহার, পান-সুপারী ও ঘট-পল্লব-সিন্দুর সাজানো নয়। লক্ষ্মীপূজা মানেই লক্ষ্মীদেবী যেমনভাবে চলতে আদেশ করেন সেইভাবে চলা, তিনি যা' পছন্দ করেন তাই করা, তাঁর দৈবী ভাবকে বিহিত অনুশীলন ও অভ্যাসের ভিতর দিয়ে চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা, এক কথায়, লক্ষ্মীদেবী হ'য়ে ওঠা।
যে সমস্ত দেব-দেবীর পূজা আমাদের দেশে চলিত আছে, সে পূজাগুলির অনুষ্ঠান হয় বৎসরের বিশেষ বিশেষ সময়ে। পূজাকালে পাথর বা মাটির মূর্ত্তিকেই দেবতা ভেবে, তাঁর সামনে ধূপ-দীপ-নৈবেদ্য দিয়ে পুঁথিতে লিখিত মন্ত্রাদি পাঠ করা হয়। পূজা সাঙ্গ হয়। তারপর দেবতার সঙ্গেও সম্বন্ধ চুকে যায়। নিজেদের সংসারে বা কর্মস্থলে ফিরে যেয়ে যে যার মত চলি। অবশ্য নিত্যপূজার ব্যবস্থা যাখানে, সেখানকার কথা আলাদা। কিন্তু সেখানেও ঐ পূজার সময়টুকুতেই যা' কিছু তৎপরতা। তাও অনেক বাড়ীতেই দেখা যায়, সেটা একটা দায়সারা কর্ত্তব্যের মত হয়। দেবতার সঙ্গে প্রাণের যোগ কতটুকু স্থাপিত হয় ? তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছা আমরা কতটুকু বুঝে চ'লে থাকি ? তা' চলি না ব'লে যে পূজার যে-ফল হওয়া উচিত তা' আর আমাদের জীবনে পাওয়া হ'য়ে ওঠে না। সেইজন্য আজকাল পূজার হৈ-হুল্লোড় একটা সাময়িক মাদকতায় এসে পর্য্যবসিত হয়েছে।
পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ কোন দেবতাকেই আমাদের কাছে শুধু মন্দিরের প্রতিমা মাত্র ক'রে রাখতে দেননি। দেবতার ভাবমূৰ্ত্তিকে তিনি আমাদের জীবনে জীবন্ত ক'রে তোলার কথাই বলেছেন। তাঁর কাছে দেবতার অপরিচিত দূরের কোন সত্তা নন। তিনি ঘরের মানুষ। দেবতার ইচ্ছা আছে, অনিচ্ছা আছে, পছন্দ-অপছন্দ আছে। তাঁকে পূজা করা মানেই তাঁর ইচ্ছা বুঝে ও জেনে সেইমত চলা, যাতে তিনি তৃপ্ত ও প্রীত হন। লক্ষ্মীপূজা মানেও লক্ষ্মী যাতে প্রীত হন সেইভাবে চলা।
মা-লক্ষ্মী যেমন ধনধান্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তেমনি সৌন্দর্য্যেরও দেবী। জগতে যা' কিছু সুন্দর, শোভার আধার, পবিত্রতার প্রতীক, সেখানেই লক্ষ্মীর বসবাস। ঈশ্বর সত্য, শিব ও সুন্দর। অতএব, সৌন্দর্য্য ঈশ্বরের একটি গুণ, আর লক্ষ্মী সেই সৌন্দর্য্যের দেবী। যাদের বাক্য সুন্দর, ব্যবহার সুন্দর, পরিচ্ছদ সুন্দর, চরিত্র সুন্দর, খাদ্যখানা, ঘরসংসার, কাজকর্ম্ম, খেলা-ধুলা, লেখাপড়া, সবই সুন্দর ও নয়নানন্দকর, সেখানেই লক্ষ্মী অচলা হ'য়ে অবস্থান করেন। সুন্দর তাকেই বলে যা' আমাদের চোখকে, কানকে বা মনকে পীড়া দেয় না, বরং স্নিগ্ধ করে, জুড়িয়ে দেয়। সুন্দর তাই, যা' দেখেশুনে মনটা বিমল আনন্দে ভ'রে ওঠে এবং নীচতা, সঙ্কীর্ণতা ও অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্তি লাভ করে। তাই, লক্ষ্মীর আর এক নাম শ্রী অর্থাৎ সৌন্দর্য্য। আর, লক্ষ্মী ষেখানে বিরাজিতা নন, তাই-ই হয়ে পড়ে হতশ্রী, যার চলতি নাম লক্ষ্মীছাড়া।
এই হতশ্রী বা লক্ষ্মীছাড়া অবস্থা মানুষের কিভাবে আসে তার সুন্দর বর্ণনা আছে শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর ব্রতকথার মধ্যে। সেখানে আছে-----
"দিবানিদ্রা অনাচার ক্রোধ অহঙ্কার
আলস্য কলহ মিথ্যা ঘিরিছে সংসার ।।
উচ্চ হাসি উচ্চ ভাষা কহে নারীগণে ।
সন্ধ্যাকালে নিদ্রা যায় ঝগড়া জনে জনে ।।
দয়ামায়া লজ্জা আদি দিয়া বিসর্জ্জন ।
যেথায় সেথায় করে সেচ্ছায় গমন ।।
... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
শ্বশুর শাশুড়ীগণে নহে ভক্তিমতী।
বাক্যবাণ বর্ষে সদা তাহাদের প্রতি ।।
পতিরে করিছে হেলা না শুনে বচন ।
ছাড়িয়াছে গৃহস্থালী ছেড়েছে রন্ধন ।।
পুরুষেরা পরিহাসে সময় কাটায় ।
মিথ্যা ছাড়া সত্য কথা কভু নাহি কয় ।।
এমনতর অবস্থা যেখানে সেখানেই তো লক্ষ্মী চপলা বা চঞ্চলা। এমনতর মানুষেরা যদি লক্ষ্মীদেবীর পূজা করে, সে-পূজা বাহ্যাড়ম্বরপূৰ্ণ প্রাণহীন অনুষ্ঠানমাত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। লক্ষ্মী সেখানে কিছুতেই থাকতে পারেন না। তাঁর থাকার মত যে অনুকূল পরিবেশটি দরকার, সেখানে তার অভাব ঘটে গেছে।
যদিও পুরুষ-নারী সকলেই লক্ষ্মীপূজা করেন, তবুও যেহেতু লক্ষ্মী স্ত্ৰী-দেবতা, সেইজন্য লক্ষ্মীপূজায় মায়েদের তৎপরতাই বেশী দেখা যায়। লক্ষ্মীর আড়ি তাঁরা পাতেন, বৃহস্পতিবারে যদি পূর্ণিমা দেখা দেয় তাহ'লে সেদিন তাঁরাই উপবাস ক'রে লক্ষ্মীব্ৰত পালন করেন, পূজাশেষে তাঁরাই এয়োতির চিহ্নস্বরূপ পরস্পরকে সিন্দুর দেন। আবার, মা-লক্ষ্মীর তরফ থেকেও দেখা যায়, নারীজাতির জন্যই যেন তাঁর মাথাব্যথা বেশী। স্কন্দপুরাণে লক্ষ্মীর উক্তি--- "যে সকল স্ত্রী গুণভক্তিযুক্তা, পতির আজ্ঞানুবর্ত্তিনী, সদা সন্তুষ্টা, ধীরা, প্রীয়াবাদিনী, সৌভাগ্যযুক্তা, লাবণ্যময়ী, প্রীয়দর্শনা, সুশীলা, এইসকল গুণযুক্তা স্ত্রীতে আমি সর্ব্বদা অবস্থান করি।" আগেকার দিনে গ্রামে-গঞ্জে পীরের গান শোনা যেত। সে গানে ছিল চলার পথের ছোট বড় অনেক রকম সঙ্কেত। ঐ গানেরই একটি অংশ----
" সকালবেলায় ছড়া ঝাঁট সন্ধ্যাবেলায় বাতি ।
লক্ষ্মী বলেন সেইখানেতে আমারই বসতি ।।"
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ছে একদিনের কথা। একটি মা সংসারের কাজকর্ম্ম সেরে এসে দাঁড়িয়েছেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সামনে। উদ্দেশ্য তাঁর, একটু ঠাকুর দর্শন করে আবার কাজে যাবেন। কিন্তু তাঁর পরণের শাড়ীটা ছিল ময়লা, মাথায় চুল ভাল ক'রে আঁচড়ানো নয়। সমস্ত বেশভূষাটাই একটু অবিন্যস্ত রকমের। মৃদু ভর্ৎসনায় ঐ মাকে সচেতন ক'রে দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন--- "তোরা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবি, সদাচারে চলবি, তবেই না সংসারে লক্ষ্মীশ্ৰী আসবে। তোদের অনেককে দেখি চুলটা ভাল ক'রে আঁচড়াস্ না, সিঁথিতে সিন্দূরটা রীতিমত দিস্ না, কপালে সিন্দূরের টিপটা ভাল ক'রে পরিস্ না, অগোছাল চলনায় চলিস। তোদের দেখে ছেলেমেয়েদের অভ্যাস অমনি হয়। এটা ভাল না। সব কাজের মধ্যে চাই সৌন্দর্য্য ও শৃঙ্খলাবোধ।"
তাহ'লে দেখা যাচ্ছে, শরীরে, মনে, বাক্যে, আচারে, ব্যবহারে, গৃহস্থালীতে, সাজসজ্জায় যেখানে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা, সেইখানেই লক্ষ্মী অচলা।
লক্ষ্মীর বীজমন্ত্র শ্রীং, অর্থাৎ তিনি শ্রী-স্বরূপিনী। তাই, যে-মানুষে বা যে-সংসারে অনাচার, কদাচার, ব্যভিচার দাপটে রাজত্ব করে, সেখান থেকে অচিরেই শ্রী অন্তর্হিত হয়। যেখানে হীন-স্বার্থপরতা, অর্থলোভ, ঝগড়াঝাটি, খিটিমিটি করা মেজাজ, অপরকে সহ্য করতে না পারা, হিংসা, স্বেচ্ছাচারী চলন, গুরুজনকে অশ্রদ্ধা করা, অহংমত্ততা, অপরকে দাবিয়ে রাখার বুদ্ধি, অভিমান বা ঠুনকো মানের আধিপত্য, শ্রী সেখানে থাকে না। ঐসব যাদের অন্তর-সম্পদ, তাদের মন হ'য়ে পড়ে কুৎসিত। মনের সেই ছবি তাদের বাইরের চেহেরা ও আচরণেও ফুটে বেরোতে থাকে। শান্ত সৎ স্বভাবের লোক এদের কাছে গেলেই বিরক্তি ও অস্বস্তি বোধ করে। ঐরকম যারা তারা মানুষের সহানুভূতি ও ভালবাসাও হারাতে থাকে। কথায় বলে, 'মানুষই লক্ষ্মীর বরযাত্রী'। মানুষ-সম্বল যার যত বেশী, সে তত বড় ঐশ্বর্য্যশালী। মানুষের জীবন পথ যিনি তিনিই নারায়ণ। তাই, মানুষের সেবাতেই নারায়ণের সেবা হয়। সেই নারায়ণকে যেখানে অগ্রাহ্য করা হয়, সতী-স্ত্রী লক্ষ্মী কি সেখানে থাকতে পারেন ? আর লক্ষ্মী যেখানে নাই, সেখানে তাঁর শ্রীও নাই।

❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️
সেইজন্য দয়াল ঠাকুর শ্রীঅনুকূলচন্দ্ৰ বলেন, "মায়েদের লক্ষ্মীপূজা করা মানে ব্যক্তিগতভাবে তারা এক একটি লক্ষ্মী হ'য়ে উঠুক"। শুধু মুখে মুখে 'লক্ষ্মীস্ত্বং সৰ্ব্বভূতানাং' ব'লে মন্ত্ৰপাঠ করলেই হবে না। মন্ত্রের অর্থগুলি অনুশীলনের ভিতর দিয়ে চরিত্রে মূর্ত্ত ক'রে তোলা চাই। তাই, 'লক্ষ্মী'-শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করার সময় তিনি শব্দটির ধাতুগত অর্থের উপর দাঁড়িয়েছেন। 'লক্ষ্মী' এসেছে 'লক্ষ্'-ধাতু থেকে, অর্থ---- অংকন, চিহ্নীতকরণ, জ্ঞান, দর্শন, আলোচনা। শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে ধাত্বর্থ--- 'অঙ্কন' মানে কী জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেছেন, 'মনে এঁকে রাখা' ; আর, 'চিহ্নীতকরণ' মানে বললেন, 'চিনে (জেনে) রাখা'। লক্ষ্মীর গুণের মধ্যে এই মনে রাখা বা বিষয় ও ব্যাপারগুলি জেনে বুঝে ঠিক রাখার প্রকৃতি আছেই। তাহ'লে ধাতুগত সমস্ত অর্থ নিয়ে ভাবলে লক্ষ্মী মানে বলা যায়---- যিনি দেখেন, আলোচনা করেন, গুণাগুণ বিচার করে যেখানে যেটি যেমনভাবে প্রযোজ্য তাকে সম্যকভাবে চিহ্নিত ক'রে রাখেন।
গুণবতী সেবাতৎপর মেয়েকে অনেকে লক্ষ্মী মেয়ে ব'লে আদর করেন, প্রশংসা করেন। এমনিতে মেয়েদের গুণের কথা অনেক জানা থাকলেও প্রকৃত লক্ষ্মী মেয়ে বলতে কী বোঝায় সে-সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুব পরিষ্কার নয়। এক একজন হয়তো এক এক ধরণের মত পোষণ করি। একদিন এই বিষয় নিয়ে কথা চলছিল দয়াময় শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে। 'লক্ষ্মী'-শব্দের ধাতুগত অর্থকে ভিত্তি ক'রে তিনি ছন্দোবদ্ধ ভাষায় ব্যক্ত ক'রে দিলেন প্রকৃত লক্ষ্মী মেয়ের স্বরূপ। তিনি বললেন----
"সব যা'-কিছু মনে আঁকা
চিহ্ন দেখে চেনে,
জ্ঞান-বোধনার ব্যবস্থিতি
গেঁথে রাখে প্রাণে,
শ্রেয়নিষ্ঠ এমন মেয়েই
লক্ষ্মী মেয়ে হয়,
এমন মেয়ে থাকলে ঘরে
নাইকো কোনো ভয়।"
(অনুশ্রুতি -- ৩য়)
এমনতর হ'য়ে ওঠাই লক্ষ্মীত্ব লাভ। এ যার হয়, লক্ষ্মীপূজা তারই ঠিক ঠিক করা হয়। প্রকৃত গৃহলক্ষ্মীকে যে কত বড় ক'রে দেখেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর আর একটি ছড়ার বাণীতে----
"ঘরের যিনি গৃহলক্ষ্মী
তাঁরই কিন্তু সব,
সেবাতীর্থ হৃদয় যে তাঁর
নারায়ণই বিভব।"
'লক্ষ্মী'-র মধ্যে আছে জ্ঞান, তাই যেখানে লক্ষ্মীর আবাস সেখানে অজ্ঞানতা থাকে না। 'লক্ষ্মী'-র মধ্যে আছে দর্শন, তাই লক্ষ্মী যেখানে থাকেন, সেখানে অদৃষ্ট তার পরিহাস সৃষ্টি করতে পারে না। কারণ সবটাই থাকে দেখা ও জানার মধ্যে। আবার, 'লক্ষ্মী'-র মধ্যে আছে সৌন্দর্য্য, তাই কুৎসিত কিছুই সেখানে ঠাঁই পায় না। এক কথায়, 'লক্ষ্মী'-তে আছে আলো, তাই সবরকম অন্ধকার সেখান থেকে বিদূরিত। এই প্রসঙ্গে পরমদয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর একদিন বড় সুন্দর ক'রে বলেছিলেন----
"No light, no sight, no knowledge" (আলো না থাকলে দর্শনও থাকে না, জ্ঞানও থাকে না)। আমরা তো আলোই চাই। জ্ঞানই চাই। আর জ্ঞানোচ্ছল, ভক্তি-উচ্ছল চলন যেখানে সেখানেই তো লক্ষ্মী অৰ্থাৎ সমৃদ্ধির আবাস।
লক্ষ্মীর রূপবৰ্ণনায় আছে--- তিনি অতিশয় সুন্দরী, নারায়ণের বাম ভাগ থেকে উৎপন্না, গৌরবর্ণা, দ্বিভুজা, স্থিরযৌবনা। তিনি নারায়ণের সঙ্গে বৈকুণ্ঠে অবস্থান করেন। এই বৈকুণ্ঠ কী ?---- বিগত কুণ্ঠা যেখানে, অর্থাৎ কুণ্ঠা যেখানে নেই এমনতর যে মানসিক অবস্থা তাই বৈকুণ্ঠ। কুণ্ঠা অর্থে সমস্ত রকম সঙ্কোচ, সঙ্কীর্ণতা, হীনতা ইত্যাদি। এগুলি যেখানে থাকে না তাই বৈকুণ্ঠ। এগুলির জাল থেকে যে নিজেকে মুক্ত রাখে, ঈশ্বরমুখী তথা ইষ্টমুখী চেতনায় চেতন থেকে সমস্ত কুণ্ঠার অপনোদন ঘটিয়ে ইষ্টপ্রীত্যর্থে জীবন পরিচালিত করে, সেই-ই বৈকুণ্ঠ ধামে স্থিতিলাভ করে।
নারায়ণের সঙ্গে লক্ষ্মী অবিচ্ছেদ্যভাবে অবস্থান করেন। আমাদের পুরাণাদিতে লক্ষ্মী-নারায়ণের কতরকম কাহিনী আছে। লক্ষ্মী নারায়ণের স্ত্রী ব'লে কথিতা। তাই, লক্ষ্মীপূজার সময় নারায়ণপূজা অবশ্য কর্ত্তব্য। নারায়ণকে যে অগ্রাহ্য করে, লক্ষ্মী তার কাছে অবস্থান করেন না, তার পূজাও গ্রহণ করেন না। কেউ যদি নারায়ণকে বাদ দিয়ে লক্ষ্মীর আরাধনা করতে চায়, তার কাছ থেকে লক্ষ্মী চঞ্চলা হ'য়ে স'রে যান।
নারায়ণকে বাদ দেওয়া মানে মানুষের সাথে অসৎ ব্যবহার করা, মানুষকে সইতে-বইতে না পারা, কদাচারী চলনে চলা, শরীরে বা মনে অথবা উভয়তঃই অপরিচ্ছন্ন থাকা, কাম-ক্রোধ-লোভ ইত্যাদির বশীভূত হ'য়ে চলা এবং তার জন্য যা' খুশী তাই করা, ইত্যাদি। এরকম চলনে চললে নারায়ণ সেখান থেকে অন্তর্দ্ধান করেন। আর নারায়ণ যেখানে নেই সেখানে সতী স্ত্রী লক্ষ্মী থাকেন না। ঐখানেই লক্ষ্মী চঞ্চলা হ'য়ে ওঠেন।
লৌকিক জগতেও আমরা কী দেখে থাকি ? কোন বাড়ীতে যেয়ে কেউ যদি সেই বাড়ীর কর্ত্তার খোঁজখবর না নিয়ে বাড়ীর বধূটির সাথে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করে, প্রকৃত সতী নারী কখনও অমন মানুষকে পাত্তা দেবে না। এমন প্রকৃতির লোক ঘরে এলে, 'এখন উনি বাড়ী নেই, বাড়ী এলে আসবেন' ব'লে হয়তো মুখের উপর দরজাই বন্ধ করে দেবে। আবার, সতী নারী যদি দেখে, কোন লোক তার স্বামীকে অন্তরের সঙ্গে শ্রদ্ধা করে, তাঁর কাজে সাহায্য করছে, তাঁর কোন প্রয়োজনে না ডাকতেই এসে দাঁড়াচ্ছে, তখন ঐ লোকটি সতী নারীর শ্রদ্ধা, ভালবাসা, আদর, স্নেহ লাভ করেন। ঠিক তেমনি নারায়ণকে যে ভালবাসে, তাকে মা-লক্ষ্মীও দয়া করেন।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ জগতের কাছে লক্ষ্মী-চরিত্রের এই আদর্শই তুলে ধরেছেন। কোন এক সময়ে জনৈকা মাকে লিখিত একখানা চিঠির মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর লিখেছিলেন-----
"যেখানে নারায়ণ নেই সেখানে কি লক্ষ্মী থাকতে পারে ? আর, লক্ষ্মীকে অপমান ক'রে, জোর ক'রে আটক ক'রে যদি কেউ রাখে, তবে রাবণের মত দশা হয় বোধ হয়। কিন্তু নারায়ণকে কেউ তুষ্ট রাখতে পারলে লক্ষ্মীকে সে পাবে---- পাবেই নিশ্চয়।..... যে কর্ম্ম নারায়ণকে (সৎ থাকা, বৃদ্ধি পাওয়া) বরণ করে না, তাতে শ্রী বা লক্ষ্মী (সেবা করা) অতুষ্ট বা অবমানিত, তা সর্ব্বনাশ এনে দেয়।"
টাকা-পয়সা যারা উপার্জ্জন করতে চায়, তাদের নারায়ণের সেবা করতেই হয়। 'নারায়ণ' শব্দটির মধ্যে আছে--- 'নার' (নরসমূহ, জনসমূহ) ও 'অয়ন' (চলন, পথ)। আর, 'নারায়ণ' শব্দের অর্থ--- সর্ব্বজীবের আশ্রয় বা পথ ; প্রাপ্তি ও বর্দ্ধনার পথ ; মানুষের জীবনপথ। তাই, নারায়ণপূজা মানে মানুষের সেবা করা, মানুষগুলি যাতে সুস্থ, সক্ষম ও তাজা থাকে, তাই ক'রে চলা। কিন্তু টাকা-বাগানোর ফন্দী নিয়ে যারা মানুষের সেবা করে, তারা শেষ পর্য্যন্ত ব্যর্থ হয়। একটি ছড়ায় বলেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর----
"টাকার টানে পিরীত হয়,
সে-প্রেম কিন্তু কিছুই নয়।"
(অনুশ্রুতি ৭ম)
বিশ্বসত্তার দুই সমবিপরীত সত্তা---- লক্ষ্মী এবং নারায়ণ। নারায়ণ যেন 'পজিটিভ্' শক্তি, আর লক্ষ্মী 'নিগেটিভ্'। তাই কথিত আছে, নারায়ণ অনন্তশয্যায় শায়িত, আর লক্ষ্মী তাঁর পদসেবা করছেন। পদ হচ্ছে চরণ। নিগেটিভ্ প্রকৃতি 'চর', আর পজিটিভ্ পুরুষ 'স্থির'। দুইয়ের মিলনে সৃষ্টির উদ্ভব। নারায়ণের নাভিপদ্ম থেকে জাত হলেন ব্রহ্মা। তিনি সৃষ্টিকর্ত্তা। 'ব্রহ্মা' মানে যার বৃদ্ধি ও দীপ্তি আছে। সৃষ্টির প্রথম প্রকাশ ঐ ব্রহ্মার মধ্যে। ব্রহ্মা অর্থাৎ বিরাট বিস্তৃতির মাঝেই ধীরে ধীরে উদ্ভূত হয়ে উঠল নীহারিকা, গ্রহ, নক্ষত্র, পৃথিবী, বায়ুমণ্ডল, পাহাড়, নদী, সাগর, গাছপালা, জীবকুল, ইত্যাদি যা' কিছু সব। এই দিক দিয়ে দেখলে নারায়ণ ও লক্ষ্মীর কথা সমগ্র সৃষ্টি-ধারার আদিতম উৎসেরই কথা।
পূরাণে আছে, দেবাসুরের সমুদ্রমন্থনের ভিতর দিয়ে অন্যান্য অনেক কিছুর সঙ্গে লক্ষ্মীও উঠেছিলেন। তাই, তাঁর অপর নাম 'ক্ষীরাব্ধিতনয়া' বা 'জলধিজা'। এ ব্যাপারটা কী ? এইসবের তাৎপর্য্য ঠিকমত বোধ না করার দরুণ অনেক জিনিস আমাদের কাছে দুর্ব্বোধ্য বা রহস্যাবৃত থেকে যায়।
সমুদ্র মন্থন ক'রে লক্ষ্মীলাভ করতে হয়, তা' হ'ল সংসার-সমুদ্র। এ সংসারে বিহিত চেষ্টা ও অনলস পরিশ্রমের ভিতর দিয়েই সৌভাগ্যলাভ হয়ে থাকে। এই চেষ্টা ও পরিশ্রমই হচ্ছে মন্থন (আলোড়ন)। আর, মন্থনদণ্ড হচ্ছে নিজের দাঁড়া (principle)। উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য নিজের দাঁড়া ঠিক রাখতে হবে। কোন সংশয়, সংকোচ বা জড়তায় টললে-দুললে হবে না। নিজ দাঁড়ায় দাঁড়িয়ে উদ্দেশ্যে স্থির লক্ষ্য রেখে, পুরাণে বর্ণিত দেবতাদের মত সংগ্রামী, অধ্যবসায়ী, কর্ম্মকুশল তৎপরতায় এগিয়ে চলতে পারলে মানুষ সৌভাগ্যলক্ষ্মীর দেখা পায়। এই হ'ল সমুদ্রমন্থনের ভিতর দিয়ে লক্ষ্মীলাভের তাৎপর্য্য। আর, যারা শ্রমবিমুখ, তাদের ভাগ্যও পিছিয়ে চলতে থাকে, জীবনের দৌড়ে পরাজিত হয় তারা, বঞ্চিত হয় লক্ষ্মীর কৃপালাভে।
লক্ষ্মীর আর এক নাম 'ইন্দিরা'। 'ইন্দিরা' এসেছে 'ইন্দ্'-ধাতু থেকে, মানে--- পরমৈশ্বর্য্য। তিনি পরম ঐশ্বর্য্যবতী, তাই তিনি ইন্দিরা। লক্ষ্মীর আর এক নাম 'কমলা', কারণ তিনি কমভাব বা কান্তির প্রতীক। তিনি আবার 'পদ্মা'। পদ্মও সৌন্দর্য্য ও কমনীয়তা প্রকট করে। এগুলি সবই লক্ষ্মীর রূপের বিভিন্ন দিক। তাঁর 'রমা' নামের তাৎপর্য্য হ'ল--- অনুগত সন্তানগণের প্রতি তিনি স্নেহপরায়ণা, তাদের কল্যাণবিধানে নিয়ত রত বা তৎপর।
লক্ষ্মীর বাহন হ'ল অন্ধকারের জীব। সে রাতেই চরে বেড়ায়। সে মাংসাশী এবং হিংস্র। এই পেচক-চরিত্রের মানুষ সংসারে আছ। মা-লক্ষ্মী তাদের বহন করে রাখেন। তার মানে নিজ কর্ত্তৃত্বাধীনে রেখে তাদিগকে মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে শেখান, সাথে সাথে তাদের স্বভাব সংশোধনেরও চেষ্টা করেন।
অন্ধকারে কারা বিচরণ করে ? ---- যারা আলোয় আসতে ভয় পায়। দুনিয়ায় যত পাপ অনুষ্ঠিত হয় অন্ধকারে, লোকচক্ষুর অগোচরে। কালো টাকার লেনদেন যেখানে হয়, নারীর শ্লীলতা নিয়ে যেখানে ছিনিমিনি খেলা হয়, পরকে ফাঁকি দিয়ে নিজের পেট ভরানোর ব্যবস্থা যেখানে প্রধান কর্ম্ম হ'য়ে ওঠে, এ সবই অন্ধকারেরই কর্ম্ম। আলোর মাঝে অর্থাৎ প্রকাশ্যে এসব কাজ হয় না। আবার, দম্ভ, অভিমান, নিষ্ঠুরতা, কপটতা, আত্মসুখপ্রবণতা ইত্যাদি অবগুণ যাদের প্রবল, তাদের মনের মধ্যেও ঘোর অন্ধকার বাসা বেঁধে আছে।
কিন্তু অন্ধকারের হোক আর আলোকেরই হোক, সমস্ত জীবেরই স্রষ্টা সেই এক পরমপিতা। তিনি চান না---- যারা অন্ধকারে আছে তারা চিরকাল অন্ধকারে থেকেই শেষ হ'য়ে যাক, তাদের মনের ময়লা যেন কোনদিন দূর না হয়। বরং তারা আলোর সংস্পর্শে আসুক, তাদের অন্তরের অন্ধকার দূর হোক, পরার্থপরতায় তৎপর হওয়ার ভিতর দিয়ে তাদের হৃদয় প্রসারিত হোক, এই তাঁর চাহিদা। কিন্তু শুধু মনে মনে চাহিদা থাকলেই তো প্রাপ্তি ঘটে না, চাহিদা-অনুপাতিক কর্ম্ম বা প্রয়োগ-পদ্ধতি চাই। আর, নিকৃষ্ট-চরিত্রদিগকে উৎকৃষ্ট ক'রে তোলার একটা বিশেষ পদ্ধতি হ'ল তা'দিগকে শ্রেষ্ঠ, সুনিষ্ঠ, সদাচারী, দরদী মানুষের সংসর্গে রাখা, তাঁদের সেবা-অনুচর্য্যা নিয়ে যাতে চলতে পারে তার ব্যবস্থা করা। তার ভিতর দিয়ে আসবে ঐ শ্রেষ্ঠের প্রতি আসক্তি বা টান। তখন তিনি যেমন পছন্দ করেন সেইভাবে চলতে ইচ্ছা করে। এইভাবে যেমন আলো জ্বললেই অন্ধকারের বিনাশ ঘটে, তেমনি শ্রেয়-অনুরক্তি যত বাড়বে, অশ্রেয়-অনুরক্তি তত ক'মে যাবে আপনা থেকে। এই চমৎকারী পদ্ধতির কথা ভগবান শ্রীকৃষ্ণও বলেছেন----
"দুরাচারী যত্নে করি আমার ভজন
ধর্ম্মাত্মা হইয়া শীঘ্র, পায় শান্তি ধন ;
জানিবে হে ধনঞ্জয় একথা নিশ্চয়,----
কখনো আমার ভক্ত বিনষ্ট না হয়।"
(গীতা : কুমারনাথ সুধাকর)
মা-লক্ষ্মীর যে পেচকবাহন তার তাৎপর্য্যও এইখানে।
লক্ষ্মীপূজার অপরিহার্য্য অঙ্গ ধান-দূৰ্ব্বা। কেন ? কারণ, ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। পূজার উপকরণ-হিসাবে ধান রাখা মানে প্রধান খাদ্যশস্যকে অবহেলা না-করা, ফসলের যত্ন করা। যাকে রাখা যায়, সে-ই রাখে। পূর্ব্ব থেকেই বিহিত প্রস্তুতি নিয়ে, প্রাকৃতিক নানা বিপর্য্যয়কে এড়িয়ে, কৃষিকাজের যথাযোগ্য সুব্যবস্থা ক'রে ধান্যাদি ভাল উৎপাদনের ও সুরক্ষার ব্যবস্থা যদি করা হয়, তবে প্রয়োজনের সময়ে ধানও আমাদের মুখে খাদ্য যুগিয়ে আমাদের রক্ষা ক'রে চলবে একথা অতি নিশ্চয়। লক্ষ্মীপূজায় ধান্যের এই বিশিষ্ট স্থান নির্দেশ দ্বারা ফসলের প্রতি যত্ন নেওয়ার ইঙ্গিতই বুঝতে হবে।
আর দুর্ব্বা হ'ল সজীবতা ও মৃত্যুহীনতার প্রতীক। সাধারণতঃ দুর্ব্বাঘাস সহজে মরে না। এর শিকড় যদি কোনভাবে মাটিতে থেকে যায়, সেখান থেকে আবার নতুন দূর্ব্বা গজায়। দূর্ব্বা হাতে নেওয়া মানে অমরত্বের শরণ নিয়ে চলা। তাছাড়া দূর্ব্বা চিরশ্যামল। এই শ্যামলতা হ'ল সজীবতা তথা নবীণপ্রাণতার প্রতীক। দূর্ব্বা হাতে নেওয়ার ভিতর দিয়ে প্রাণবত্তা ও চিরনবীনতাকেই বরণ করা হয়।
এইভাবে তাৎপর্য্যগুলি জেনে ও বুঝে যদি লক্ষ্মীর উপাসনা করা হয়, তখনই লক্ষ্মীপূজা সাৰ্থক হয়। আবার, শুধু জানলে বা বুঝলেই হবে না, সেগুলিকে জীবনে বিহিতভাবে প্রয়োগ ও ব্যবহার করা চাই। তা' করতে গেলেই প্রয়োজন তদনুপাতিক চলন। আর, এই চলা ঠিক থাকলেই মানুষ লক্ষ্মীর আশীর্ব্বাদে ভরপুর হ'য়ে উঠতে পারে।

সমাপ্ত----



*** [ উক্ত লেখাটি - 'সৎসঙ্গ' - দেওঘর, ঝারখণ্ড থেকে প্রকাশিত 'আলোচনা' পত্রিকা আশ্বিন, ১৩৯১ (৩৬- বর্ষ, একাদশ সংখ্যা, অনুূকূলাব্দ - ৩৯) -এর শ্ৰীদেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রচিত -- "শ্রীশ্রীঠাকুরের দৃষ্টিতে দেব-দেবী - 'লক্ষ্মী'"- নামক নিবন্ধ থেকে নেওয়া। ]





Address

Matikata

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Religion is survival posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share