Ahmed Hafiz

Ahmed Hafiz Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ahmed Hafiz, Manikganj.

20/02/2026

দ্বীনে অটল থাকা, হিদায়াহ, একবার তাওবা করার পর আর গুনাহে না ফিরে যাওয়ার দুআ -

এই দুআটি সেই হৃদয়ের জন্য, যে আল্লাহর পথে ফিরেছে-কিন্তু ভয় পায় আবার পথ হারানোর। যে চায় একটি অটল, অদম্য, মজবুত ঈমান-এমন একজন মুমিনের ব্যক্তিত্ব যে কোনো গুনাহ, ফিতনা, দুনিয়ার মোহ এবং শয়তানের ধোঁকা তাকে চাইলেই যেন টলাতে না পারে।

ইয়া হাদী, ইয়া রাহীম, ইয়া মাতিন...

হে আমার রব্ব! হে অন্তরকে স্থির রাখার মালিক! হে হিদায়াত দানকারী! আমি আজ আপনার দরবারে এসেছি একটি কাঁপা কাঁপা অন্তর নিয়ে-এমন এক অন্তর, যা বারবার আপনাকে চাইলেও কেন যেন বারবার পথ হারিয়ে ফেলে। আপনি আমাকে দ্বীনে অটল থাকার তাওফিক দিন। আপনি আমার হৃদয়কে এমনভাবে স্থির করে দিন, যেন কোনো গুনাহ, কোনো দুনিয়ার প্রলোভন, কোনো ফিতনা আমাকে আপনার পথ থেকে সরাতে না পারে।

হে আল্লাহ, আপনি তো বলেন-আপনি যাকে হিদায়াত দেন, কেউ তাকে ভ্রান্ত করতে পারে না। আমি সেই হিদায়াহ চাই-এমন আলো, যেটা শুধু আমাকে পথ দেখায় না বরং আমাকে আঁকড়ে রাখে, টেনে ধরে, তুলে নেয় যখন আমি পড়ে যাই। আমি চাই-এমন ঈমান, যেটা পাহাড়ের মতো অটল, উহুদের মতো দৃঢ়, দুনিয়া একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পরেও যে ঈমান তার জায়গায় অনড় থাকে।

হে আল্লাহ, আমি বহুবার তাওবা করেছি-আপনি জানেন। আপনি জানেন আমি কত রাত কেঁদেছি, কত প্রতিজ্ঞা করেছি- "আর গুনাহ করব না।" কিন্তু আমি দুর্বল ছিলাম। আমি বারবার ভুল করেছি। আমি আবারও ফিরে গিয়েছি সেই পুরোনো পথগুলোতে, যেখান থেকে ফিরে আসা আপনারই রহমতে সম্ভব হয়েছিল। হে আল্লাহ, এবার আপনি আমাকে এমন আত্মা দিন, যে একবার ফিরে এলে আবারও ওই একই গর্তে পড়বে না। যে গুনাহ এবং খারাপ কাজ থেকে কান্নাকাটি করে তাওবা করেছি, আবার সেই গুনাহের দিকেই যেন আমি বোকার মতন ফিরে না যাই। মানুষ যেহেতু গুনাহপ্রবণ-আমি কখনো ফেরেশতা হয়ে যাব না।

প্রিয় রব আমার,

আপনি তো আমাকে সৃষ্টি করেছেন। সবচেয়ে ভালো জানেন আপনি আমার সিস্টেমের ভেতরটা কীভাবে কাজ করে, তাই না? আমি গুনাহের ফাঁদে পড়বো কিনা সেটা আমার ঈমানের পরীক্ষা। আপনি যেভাবে পছন্দ করবেন সেভাবে এই পরীক্ষা আমাকে দিতে হবে। এই পরীক্ষাগুলো আপনি আমার জন্য এমনভাবে সহজ করে দিন, যা অকল্পনীয় সুন্দর। আপনি এমন ব্যবস্থা করে দিন যেন গুনাহের পরিবেশ নিজ থেকেই আমার জীবন থেকে সরে যায় এবং আমার অন্তর পুণ্য এবং নেকির পথে হাঁটার একাধিক দরজা খোলা পায়।

হে রাব্ব,

আপনি তো বলেন, "যে আমার পথে এক কদম আসে, আমি তার দিকে দশ কদম এগিয়ে যাই।" হে আল্লাহ, আমি অনেকটা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে আপনার পথে হাঁটছি, আমি আপনার দিকেই আসছি ইয়া রব, এবং আমি জানি আপনার ওয়াদা সত্য এবং আপনিও আমার দিকে কল্যাণকরভাবেই হিদায়াতের বন্দোবস্ত করে দেবেন। আপনি আমাকে থামতে দেবেন না ইয়া আল্লাহ, আবারও অন্ধকারের রাস্তায় ফিরতে দেবেন না। আপনি আমার চিন্তা, আমার সময়, আমার নফস-সবকিছুর উপর আপনার রহমতের ছায়া দিন, যেন আমি আপনার ইবাদতে দৃঢ় থাকি, দ্বীনের উপর মজবুত থাকি।

ইয়া রব, গুনাহগুলোকে আমার কাছে চোখের বিষের মতো অপছন্দনীয় বানিয়ে দিন। যেটাই আপনি অপছন্দ করেন, সেটাই যেন আমিও অপছন্দ করতে পারি, এবং যেটা আপনি পছন্দ করেন, হে আল্লাহ সেটা যেন আমি পছন্দ করতে পারি, এমনভাবে আপনি আমার মানসিকতা বদলে দিন। এমন একটি পরিশুদ্ধ অন্তর আমাকে দান করুন।

ইয়া নূর, ইয়া লতীফ, ইয়া হালিম...

আপনার নূরের আলোয় আমার অন্তরের অন্ধকার দূর করে দিন। আপনার দয়া দিয়ে আমার আত্মাকে কোমল ও সজীব করে দিন। আপনার হালিমি সহনশীলতা দিয়ে আমার গুনাহের ভার সরিয়ে দিন, আমাকে নতুন জীবন দিন।

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ.

"ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি, সাব্বিত কালবি 'আলা দীনিকা।"

"হে আল্লাহ, আমার হৃদয়কে আপনার দ্বীনের উপর স্থির রাখুন।"

হে আল্লাহ, আপনি আমাকে এমন ঈমান দিন-

-যা গুনাহকে ঘৃণা করে, ইবাদতে প্রশান্তি পায়,

-যা আপনার সন্তুষ্টিকে জীবন সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড বানায়।

-আপনি আমার অন্তরকে উহুদের মতো মজবুত করে দিন-
যাতে ঝড় আসবে, আঘাত আসবে, সে কেঁপে কেঁপে উঠবে কিন্তু তার জায়গা থেকে সরে যাবে না। কারণ সে আপনার সঙ্গেই জুড়ে আছে।

আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন...

"আমার প্রিয় দুআর ডায়েরি" বই থেকে

04/02/2026

চিরস্থায়ী, চিরঞ্জীব ও মহামহিম খালিকের সীমাহীন ভালোবাসা তাঁর মনোনীত বান্দাদের জন্য:

পারস্যের বিখ্যাত সেনাপতি হরমুজানকে বন্দী করে আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ফারুক (রা.)-এর দরবারে আনা হলো। ইসলামের অনেক ক্ষতি ক...
28/01/2026

পারস্যের বিখ্যাত সেনাপতি হরমুজানকে বন্দী করে আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ফারুক (রা.)-এর দরবারে আনা হলো। ইসলামের অনেক ক্ষতি করায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ড কার্যকর করার আগে ওমর (রা.) তাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলেন, কিন্তু হরমুজান তা প্রত্যাখ্যান করল।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে হরমুজান বলল, "আমি তৃষ্ণায় কাতর, আমাকে কি সামান্য পানি দেওয়া যাবে?" ওমর (রা.) পানি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। হরমুজান পানির পেয়ালা হাতে নিয়ে এক অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিল। সে বলল:

"আমীরুল মুমিনীন! এই পানিটুকু পান করা পর্যন্ত কি আপনারা আমাকে হত্যা করবেন না?"

হযরত ওমর (রা.) সরল মনে ওয়াদা করলেন, "ঠিক আছে, যতক্ষণ তুমি এই পানি পান না করছ, ততক্ষণ তোমাকে হত্যা করা হবে না।"

ওয়াদা শোনা মাত্রই হরমুজান পানির পেয়ালাটি পান না করে মাটিতে ঢেলে দিল! এরপর ধূর্ত হাসিতে বলল, "হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি ওয়াদা করেছেন পানি পান না করা পর্যন্ত আমাকে মারবেন না। এখন যেহেতু পানি নেই, তাই আপনার ওয়াদা অনুযায়ী আমাকে আর হত্যা করতে পারবেন না।"

হযরত ওমর (রা.) মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন, কিন্তু ওয়াদার ব্যাপারে তিনি ছিলেন আপোষহীন। তিনি জল্লাদকে তলোয়ার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, "আমি আমার ওয়াদা রক্ষা করব।"

ঠিক সেই মুহূর্তে হরমুজান উচ্চস্বরে কালেমা পাঠ করল: "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ।"

বিস্মিত ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, "যখন আমি তোমাকে দাওয়াত দিলাম তখন গ্রহণ করলে না, আর এখন স্বেচ্ছায় করলে কেন?" হরমুজান উত্তর দিল:

"তখন ইসলাম গ্রহণ করলে মানুষ বলত, আমি মৃত্যুর ভয়ে মুসলমান হয়েছি। আমি চেয়েছিলাম মানুষের কাছে স্পষ্ট হোক যে, আমি সত্যকে চিনেছি বলেই ইসলাম গ্রহণ করেছি, মৃত্যুর ভয়ে নয়।"

মুগ্ধ হয়ে হযরত ওমর (রা.) মন্তব্য করলেন:
"পারস্যের মানুষদের বুদ্ধি পাহাড়ের মতো অটল ও বিশাল।"

ইসলামে ওয়াদা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হযরত ওমর (রা.) চাইলে বলতে পারতেন যে, "তুমি তো প্রতারণা করেছ, তাই আমি ওয়াদা মানতে বাধ্য নই।" কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি নিজের কথা বা প্রতিশ্রুতিকে রক্ষা করাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মুমিন কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না।

সূত্র: তারিখুত তাবারী।

ইমাম শাফেয়ীর বাবা ছিল না। ছিলো শুধু মা। একেবারে গরীব ছিলেন। এক আত্মীয় থেকে কিছু অর্থ সাহায্য নিয়ে চলতেন। এভাবে কোনোরকম দ...
08/01/2026

ইমাম শাফেয়ীর বাবা ছিল না। ছিলো শুধু মা। একেবারে গরীব ছিলেন। এক আত্মীয় থেকে কিছু অর্থ সাহায্য নিয়ে চলতেন। এভাবে কোনোরকম দিন চলে যেতো।

কিন্তু ইলম অর্জনে আগ্রহ ছিল অনেক। কিন্তু বেতন দেওয়ার টাকা ছিল না। এক আলিম তাকে এ শর্তে শিক্ষা দিতে রাজি হন যে যখন তিনি থাকবেন না, তখন ইমাম শাফেয়ী ঐ আলিমের কথাগুলোই বাকি ছাত্রদেরকে শেখাবেন।

ইমাম শাফেয়ী চাচ্ছেন মদীনায় গিয়ে ইমাম মালিকের কাছে গিয়ে পড়তে। তখনও কিন্তু ইমাম শাফেয়ী কিশোর। ইমাম হন নি।

তিনি তাই মক্কার গভর্নরের কাছে গেলেন। মক্কার গভর্নর মদীনার গভর্নরকে ইমাম শাফেয়ীকে ইমাম মালিকের কাছে নিয়ে যেতে রিকুয়েস্ট করে চিঠি লিখলেন। আরেকটা চিঠি লিখলেন ইমাম মালিককে।

সেই চিঠি ইমাম শাফেয়ী মদীনায় গিয়ে মদীনার গভর্নরকে দেখান।

কিন্তু মদীনার গভর্নর ইমাম মালিককে বেশ ভয় করতেন। তাই তিনি বললেন, "প্রিয় বৎস! ইমাম মালিকের দরজায় যাওয়ার চেয়ে আমার কাছে মদিনা থেকে মক্কায় খালি পায়ে যাওয়া বেশি সহজ। আমি তাঁর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপদস্থ করতে চাই না।"

মাথায় রাখবেন, গভর্নর মানে কিন্তু পুরো শহরের প্রধান। মেয়রের মত।

তাও ইমাম শাফেয়ীর অনুরোধের মদীনার গভর্নর তাঁকে নিয়ে ইমাম মালিকের বাসায় গেলেন।

দরজায় নক দিতেই দরজা খুললো এক দাসি। দাসি পরিচয় নিয়ে বাসার ভেতরে ইমাম মালিকের অনুমতি আনতে গেলো। এসে বললো, "আমার মালিক সালাম জানিয়েছেন। আর বলেছেন, বিশেষ কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখে জানাতে। আর হাদিস শুনতে চাইলে উনি যেদিন দারস দেন, সেদিন আসতে।"

গভর্নর বললেন, "উনাকে গিয়ে বলো, মক্কার গভর্নর গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে চিঠি পাঠিয়েছেন।"

দাসি আবার ভেতরে গেলো।

এবার সে একটা চেয়ার নিয়ে বাইরে এনে রাখলো। একটু পর সবুজ একটা চাদর গায়ে দিয়ে ইমাম মালিক এসে চেয়ারে বসলেন।

গভর্নর চিঠি এগিয়ে দিলো।

চিঠিতে লেখা, "সালাম বাদ। নিবেদন এই যে, চিঠিতে যার ব্যাপারে সুপারিশ করা হচ্ছে, তিনি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় আলিম। সুতরাং, আশা করি, আপনি তাকে হাদিস ও ফিকহের দারস দেবেন ও গড়ে তুলবেন।"

ইমাম মালিক চিঠিটা পড়েই প্রচন্ড ক্ষেপে গেলেন। মাটিতে ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, "সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর রাসূলের শিখিয়ে যাওয়া ইলম কি এতই সস্তা যে চিঠির মাধ্যমে এর আদান প্রদান করতে হবে!"

মদিনার গভর্নর ইমাম মালিকের রাগ দেখে বেশ ঘাবড়ে গেলেন। কাচুমাচু হয়ে নিশ্চুপ বসে থাকলেন।

ইমাম শাফেয়ী কিছুটা সাহস নিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে বললেন, "চিঠিতে আমার ব্যাপারেই বলা হয়েছে।" এরপর তিনি সব খুলে বলেন।

ইমাম মালিক জিজ্ঞেস করলেন, "নাম কী তোমার?"

"মুহাম্মদ।"

এরপর কিছু কনভার্সেশনের পর তিনি ছাত্র হিসেবে ইমাম শাফেয়ীকে গ্রহণ করলেন।

অনেকেরই প্রশ্ন, ইসলামী শাসন নিয়ে এতো কেন কথা আমাদের। এতো কেন চিন্তা।

চিন্তার উত্তর উপরের গল্পটা।

এমন শাসনই তো আমরা চাই, যেখানে-

১. এলাকার মেয়র একজন সাধারণ যুবকের ইলম অর্জন নিয়ে সচেতন থাকবেন। তা নিশ্চিত করতে যা করা দরকার তা করবেন

২. একজন আলিমের সম্মান ও দৃঢ়তা এতো বেশি থাকবে যে স্বয়ং মেয়রও তার সামনে মাথা নিচু করে থাকবেন

৩. রাসূলুল্লাহর ﷺ হাদিসের মর্যাদা অনেক অনেক উপরে থাকবে

৪. গরীব, পিতাহীন হওয়ার কারণে একজন আগ্রহী মেধাবী কিশোরের ইলম অর্জন কোথাও আটকে থাকবে না। হাদিস ও ফিকহের টপ স্কলারের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

আল্লাহ আমাদের জীবদ্দশায়ই এমন একটা শাসন এ মাটিতে দেখে যাওয়ার তৌফিক দান করুন।

ওযুর পর মুচকি হাসা!উসমান ইবনু আফফান (রা.) একদিন ওযু শেষ করার পর মুচকি হাসলেন। এরপর তিনি (আশেপাশের লোকদের) বললেন: "আমি কে...
08/01/2026

ওযুর পর মুচকি হাসা!
উসমান ইবনু আফফান (রা.) একদিন ওযু শেষ করার পর মুচকি হাসলেন। এরপর তিনি (আশেপাশের লোকদের) বললেন: "আমি কেন হাসলাম তোমরা কি জানো?"

অতঃপর তিনি নিজেই বললেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ ঠিক সেভাবেই ওযু করেছিলেন যেভাবে আমি এখন করলাম, এরপর তিনি মুচকি হেসেছিলেন।

তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: 'তোমরা কি জানো আমি কেন হাসলাম?' আমরা বলেছিলাম: 'আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।'
তখন তিনি ﷺ বললেন: নিশ্চয়ই বান্দা যখন ওযু করে এবং তার ওযু পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করে, এরপর সালাতে প্রবেশ করে এবং তার সালাতও পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে, তখন সে তার সালাত থেকে (গুনাহমুক্ত হয়ে) এমনভাবে বের হয় যেন সে আজই তার মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।
(ইমাম আহমাদ হাদিসটি তাঁর 'মুসনাদে' বর্ণনা করেছেন, পৃ: ৪৩০। মুহাদ্দিস শুয়াইব আল-আরনা'উত রহ. হাদিসটি তাখরিজ করে এর সনদ সহিহ বলেছেন)

-মুহাম্মদ শাহরিয়ার

আসমানী ফায়সালার চার দুনিয়াবি নিদর্শন:১. ইস্তিগফারের তাওফিকআল্লাহ যখন কারো গুনাহ মাফের ফায়সালা করেন,দুনিয়ায় তার জিহ্বায় ই...
09/12/2025

আসমানী ফায়সালার চার দুনিয়াবি নিদর্শন:

১. ইস্তিগফারের তাওফিক
আল্লাহ যখন কারো গুনাহ মাফের ফায়সালা করেন,
দুনিয়ায় তার জিহ্বায় ইস্তিগফারের তাওফিক জাগে।
যার ইস্তিগফার নেই—তার উচিত নিজের জন্য ভয় করা।

২. যিকরের তাওফিক
আল্লাহ যাকে আসমানে স্মরণ করেন,
দুনিয়ায় সেই বান্দার জিহ্বায় যিকর ঝরে।
যার যিকর নেই—সে মাহরুম।

৩. দুআর তাওফিক
যার দুআ কবুলের ফায়সালা হয়,
আল্লাহ তার অন্তরেই দুআ করার টান জাগিয়ে দেন।
দুআ না করলে—কবুলের আশা কেমন?

৪. শুকরিয়ার তাওফিক
যাকে নিয়ামত বাড়িয়ে দিতে চান,
প্রথমে তাকে শুকরিয়ার তাওফিক দেন।
শুকরিয়া না করলে নিয়ামত হয় পরীক্ষা।

মোটকথা, ইস্তিগফার, যিকর, দুআ ও শুকরিয়া—
এগুলো শুধু আমল নয়;
আসমানে তোমার জন্য ভালো ফায়সালা হওয়ার চারটি নিদর্শন।

-উমায়ের কোব্বাদি হাফি.

31/07/2025

আপনি অনেক আমল করলেন, কিন্তু মৃত্যুর পর দেখলেন আপনার সেই আমলগুলো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারল না। আপনার এই অনেক আমলের তবে কোন মূল্য নেই।
আপনি কিছু আমল করেছেন, কিন্তু আপনি মৃত্যুর পর দেখলেন আল্লাহ আপনার উপর সন্তুষ্ট। আপনার অল্প আমলই আপনার সফলতার জন্য যথেষ্ট।

আপনি আল্লাহর ইবাদাত করতে পারছেন, এটা আপনার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকার আলামত। আর আপনি আল্লাহর আনুগত্যের ভিতর থাকতে পারছেন না, এটি আপনার প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টির আলামত। আল্লাহ যেই বান্দাকে পছন্দ করেন, তাকে নেক আমলের তাওফিক দান করেন।

আপনি বিপদআপদে সবর করতে পারছেন, এর অর্থ আল্লাহর সন্তুষ্টি আপনার সাথে আছে। কিন্তু আপনি মসিবতের সময় নিজের ভিতর সবর আনতে পারছেন না, তার মানে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আল্লাহর সন্তুষ্টি হল নেক আমলের প্রধান স্তম্ভ। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবিন বিলিয়ে দেয়, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে, তাদের জন্য এই এই প্রতিদান। কুরআন হাদীসে এরকম অসংখ্য বাণী রয়েছে। এজন্য আমল করাই হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। রক্তপাত সত্তাগতভাবে অপছন্দের জিনিস। কিন্তু এই কাজটাই যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, তখন এটা মহা সওয়াবের কাজে পরিণত।

আপনার জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আপনার প্রাপ্তিতে আল্লাহর সন্তুষ্ট থাকাটা আপনার জন্য মহাপ্রাপ্তি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনার রবের সন্তুষ্টির তালাশে থাকতে হবে। আপনার রব আপনার উপর সন্তুষ্ট থাকলে দুনিয়াকে পরোয়া করার কোন প্রয়োজন আপনার নেই। রব সন্তুষ্ট থাকলে আপনার দৃষ্টি শক্তি, শ্রবণ শক্তি, বাক শক্তি দেহের প্রতিটি শক্তিই আপনার রবের হয়ে যাবে।

এই উম্মতের সবচেয়ে উত্তম সদস্যরা হলেন সাহাবায়ে কেরাম। সাহাবায়ে কেরামের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা কী? আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন। এজন্যই বাকি উম্মত তাদের নাম উচ্চারণ করলে পাঠ করে, রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ( আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন)। যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন, তারাই হলেন সফল মানব। দুনিয়া এবং আখেরাতের সকল কল্যান ও নেয়ামত তাদের জন্যই বরাদ্দ।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবকিছুর তাওফিক আমাদের দান করুন। আমিন।
লিখা: ইফতেখার সিফাত

এক মু'জা'হিদ তার স্ত্রীকে বিবাহ করার কিছুদিন পরেই শাহা*দাত বরণ করলেন। অতঃপর তার একটি চিঠি পাওয়া গেলো, যাতে তিনি লিখেছিলে...
30/06/2025

এক মু'জা'হিদ তার স্ত্রীকে বিবাহ করার কিছুদিন পরেই শাহা*দাত বরণ করলেন। অতঃপর তার একটি চিঠি পাওয়া গেলো, যাতে তিনি লিখেছিলেন —

❝কখনোই এমনটি মনে করোনা যে আমি তোমাকে স্বার্থপরের মতো বিবাহ করেছি এটা জানার পরেও যে খুব দ্রুতই আমাকে আল্লাহর রাস্তায় হ*ত্যা করা হবে। বরং আমি তোমাকে বিবাহ করেছি এটা জানার পরে যে একজন শহী'দ তার পরিবারের জন্য সুপারিশ করতে পারবে। তাই আমি চাই জান্নাতে তুমি আমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হও।❞

অতঃপর তিনি তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখেন —

وخطبتكي قبل النفير
لا لأكسر ذلك القلب الحنون

আর আমি তোমাকে যু'দ্ধের আগে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সেই কোমল হৃদয়টি না ভাঙার জন্য!

وعشتقي لكن قلبي لم يزل
يرنو لساحات المنون

এবং আমি তোমাকে ভালবাসতাম, কিন্তু আমার হৃদয় এখনও শা'হাদা'তের মৃ'ত্যুর জন্য আকাঙ্ক্ষিত!

وعلمت فضل شهادةٍ
بشفاعةٍ فأردتها لكِ يا فتون

এবং আমি শিখেছি যে শাফাআত হচ্ছে শাহা'দতের একটি গুণ, তাই আমি এটি তোমার জন্য চেয়েছিলাম, হে সুন্দরী!

— সংগৃহীত

19/06/2025

নবীজি (সা.) যখন সাফিয়্যা বিনতে হুওয়াই (রাদি.)-কে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন, তখন সাহাবিদের মনে এক স্বাভাবিক দুশ্চিন্তা দেখা দেয়।
এর কারণ ছিল, সম্প্রতি নবীজি (সা.) তাঁর গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যেখানে সাফিয়্যার বাবা মারা যান।
এই পরিস্থিতিতে সাহাবিদের মনে ভয় ছিল, না জানি প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে সাফিয়্যা (রাদি.) নবীজির কোনো ক্ষতি করে বসেন।
এই আশঙ্কা এতটাই তীব্র ছিল যে, বাসর রাতে সাহাবী আবু আইয়ূব আনসারী (রাদি.) নবীজির কক্ষের বাইরে পাহারা দিতে শুরু করেন।
সকালে নবীজি (সা.) যখন আবু আইয়ূব আনসারী (রাদি.)-কে বাইরে দেখতে পেলেন এবং তাঁর পাহারার কারণ জানতে পারলেন, তখন তিনি হাসলেন।
তাঁর এই হাসি সাহাবিদের সকল আশঙ্কা দূর করে দিল।
কারণ, সাফিয়্যা (রাদি.) সত্যিকার অর্থেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং নবীজির প্রতি তাঁর মনে কোনো বিদ্বেষ ছিল না।
তিনি তাঁর জীবনের বাকিটা সময় নবীজির অনুগত স্ত্রী হিসেবে কাটান এবং উম্মুল মু'মিনীন উপাধিতে ভূষিত হন।
এই গল্প আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত বিশ্বাস এবং রাসূলের ভালোবাসার শক্তি কত গভীর হতে পারে।
উম্মুল মু'মিনীনগণের প্রত্যেকের জীবনীতেই রয়েছে আমাদের জন্য শিক্ষা।

19/06/2025

"সবচেয়ে ভালো আমল হলো, যা সবচেয়ে গোপন রাখা হয়, শয়তান থেকে সবচেয়ে সুরক্ষিত থাকে এবং লোকদেখানো (রিয়া) থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে।"
— ফুদাইল ইবনু ইয়াদ (রহ.)

সূত্র: শুআবুল ঈমান ৯/১৯৩

যখন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর উপর হত্যার চেষ্টা করা হলো এবং তিনি গুরুতর আহত হলেন, তখন তার ক্ষত চিকিৎসার জন্য দুধ পান করা...
14/01/2025

যখন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর উপর হত্যার চেষ্টা করা হলো এবং তিনি গুরুতর আহত হলেন, তখন তার ক্ষত চিকিৎসার জন্য দুধ পান করানো হয়। কিন্তু সেই দুধ তার ক্ষত থেকে বের হয়ে আসতে লাগল। এ অবস্থায় চিকিৎসক বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার জীবনসীমা শেষ হয়ে আসছে। আপনি কোনো ইচ্ছা বা ওসিয়ত করে নিন।”

উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন,
“হুযাইফা ইবনে ইয়ামানকে আমার কাছে নিয়ে আসো।”

হুযাইফা (রা.) ছিলেন সেই সাহাবি, যাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুনাফিকদের নাম জানিয়েছিলেন। এই গোপন বিষয় কেবল আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), এবং হুযাইফা (রা.)-এর জানা ছিল।

যখন হুযাইফা (রা.) এলেন, তখন উমর (রা.) রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তাকে বললেন,
“হে হুযাইফা! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি আমাকে মুনাফিকদের মধ্যে উল্লেখ করেছিলেন?”

হুযাইফা (রা.) চুপ করে থাকলেন এবং তার চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। উমর (রা.) পুনরায় জোর দিয়ে বললেন,
“আল্লাহর কসম, আমাকে বলো, তিনি কি আমার নাম নিয়েছিলেন?”

হুযাইফা (রা.) কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“আমি এই গোপন বিষয় কাউকে জানাতে পারি না। তবে আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) আপনার নাম মুনাফিকদের মধ্যে উল্লেখ করেননি।”

এ কথা শুনে উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে বললেন,
“এখন দুনিয়াতে আমার শুধু একটি ইচ্ছা বাকি আছে।”

আব্দুল্লাহ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন,
“তা কী, আব্বা জান?”

উমর (রা.) বললেন,
“আয়েশা (রা.)-এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, উমর ইবনে খাত্তাব সালাম পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাকে বলো না যে ‘আমিরুল মুমিনিন’ সালাম পাঠিয়েছেন, কারণ আজ আমি আর মুমিনদের আমির নই। তাকে বলো, উমর অনুরোধ করছেন যেন তাকে তার দুই সঙ্গীর (রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং আবু বকর (রা.)) পাশে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।”

আব্দুল্লাহ (রা.) গেলেন এবং আয়েশা (রা.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তখন আয়েশা (রা.) কাঁদছিলেন। কিন্তু তিনি বললেন,
“আমি এই জায়গাটি আমার জন্য রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আজ আমি এটি উমরের জন্য উৎসর্গ করছি।”

আব্দুল্লাহ (রা.) খুশি মনে ফিরে এসে সংবাদটি জানালেন। কিন্তু উমর (রা.) তখনও মাটিতে মুখ রেখে ছিলেন। আব্দুল্লাহ তার মুখ নিজের হাঁটুর ওপর রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উমর (রা.) বললেন,
“আমার মুখ মাটিতে থাকতে দাও, যাতে আমি আমার রবের সামনে বিনীতভাবে হাজির হতে পারি। উমরের জন্য আফসোস, যদি তার রব তাকে ক্ষমা না করেন।”

উমর (রা.) তার ওসিয়ত করলেন,
“যখন আমার জানাজা হবে, তখন হুযাইফার প্রতি নজর রাখো। যদি তিনি আমার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন, তবে বুঝে নিও আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেছেন। এরপর আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কক্ষের দরজায় নিয়ে গিয়ে বলো, ‘হে মা! আপনার ছেলে উমর অনুমতি চাচ্ছে।’ যদি তিনি অনুমতি দেন, তাহলে আমাকে সেখানে দাফন করো। অন্যথায় আমাকে সাধারণ মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করো।”

অতঃপর যখন হুযাইফা (রা.) জানাজায় অংশগ্রহণ করলেন, তখন উমর (রা.)-কে আয়েশা (রা.)-এর কক্ষের দরজায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং অনুমতি চাওয়া হলো। তিনি অনুমতি দিলেন। এভাবে উমর (রা.) তার দুই সঙ্গীর পাশে দাফন হলেন।

আল্লাহ উমর (রা.)-এর প্রতি দয়া করুন। যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েও আল্লাহর ভয়ে কাঁপতেন। কিন্তু আজ আমরা গাফলত ও নির্ভীকতায় জীবনযাপন করছি। আমরা আমাদের কাজের হিসাব করি না, আমাদের আখিরাতের কথাও ভাবি না।

اللهم احسن خاتمتنا ولا تقبض ارواحنا الا وانت راض عنا
হে আল্লাহ আমাদের শেষ পরিণতি টা সুন্দর করুন এবং আপনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট না হয়ে আমাদের মৃত্যু দিয়েন না।

এক দ্বীনদার নারী একজন আলেমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।সেই আলেম ছিলেন অল্পবয়সী। তাঁর পরিবার থেকেও তাঁর জন্য বিয়ের কথা বলা হচ...
22/12/2024

এক দ্বীনদার নারী একজন আলেমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
সেই আলেম ছিলেন অল্পবয়সী। তাঁর পরিবার থেকেও তাঁর জন্য বিয়ের কথা বলা হচ্ছে, তিনি রাজি ছিলেন না।
কিন্তু, সেই নারীর প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিতে পারলেন না। এমন না যে তিনি নারীকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বিয়ের আগে নারীকে দেখেননি।
কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের বিয়ে হয়ে গেলো।
সেই নারী খুব খুশি হলেন।
কিন্তু, বিয়ের পর আলেম হতাশ হলেন। তিনি দেখলেন তাঁর স্ত্রী অন্ধ, খোড়া এবং কুৎসিত। বিয়ের আগে তিনি বুঝতেই পারেননি। তাঁর খুব রাগ হলো, সেই নারীর প্রতি তাঁর মনে ঘৃণা জন্মালো।
কিন্তু, তিনি রাগ প্রকাশ করলেন না। সেই নারীকে কটু কথা বললেন না। খুব ধৈর্যের সাথে সংসার করে গেলেন।
১৫ বছর সংসার করার পর সেই নারী ইন্তেকাল করেন।
একবার সেই আলেমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, “আপনি আপনার কোন আমলের কারণে জান্নাত লাভের ব্যাপারে সবচেয়ে আশাবাদী?”
সেই আলেম জবাব দিলেন, “আমি আমার স্ত্রীর মন রক্ষার্থে তার সাথে কটু কথা না বলে, তার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ১৫ বছর সংসার করেছি। আমি এই আমলটির কারণে জান্নাত লাভের ব্যাপারে আশাবাদী।”
সেই আলেম ছিলেন তৃতীয় হিজরির নিশাপুরের একজন বিখ্যাত ইমাম আবু উসমান নিশাপুরী রাহিমাহুল্লাহ।
আল্লাহর ফয়সালা মেনে নিয়ে সবর করাটা একটি ইবাদত।
ঘটনাটি বাংলায় অনূদিত একটি বই থেকে নেয়া।
মুসলিম ইতিহাসে আলেমগণ স্ত্রীদের সাথে কেমন আচরণ করেছেন সেটা জানতে পারবেন ‘স্ত্রীদের সাথে নবি ও মনীষীদের আচরণ’ বইয়ে।

Address

Manikganj
1800

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ahmed Hafiz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share