বিবেকানন্দ সেবা সংঘ

বিবেকানন্দ সেবা  সংঘ ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্বধর্মস্বরূপিণে।।

অবতারবরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ।।

📚📚যমপুরী ও ধর্মরাজের বিচারসভা📚📚বৈতরণী নদী ও ১৬টি ভয়ংকর নগর পার হয়ে দীর্ঘ ৪৭ দিন পর (মৃত্যুর পর থেকে) জীবাত্মা অবশেষে যমপ...
14/12/2025

📚📚যমপুরী ও ধর্মরাজের বিচারসভা📚📚

বৈতরণী নদী ও ১৬টি ভয়ংকর নগর পার হয়ে দীর্ঘ ৪৭ দিন পর (মৃত্যুর পর থেকে) জীবাত্মা অবশেষে যমপুরীতে পৌঁছায়। এই যমপুরী বিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, যার চারটি প্রধান দরজা রয়েছে।

শ্রীবিষ্ণু গরুড়কে বললেন,
"হে তাক্ষ্য! যমপুরী দেখতে অত্যন্ত সুন্দর কিন্তু পাপীদের জন্য তা ভয়ের কারণ। সেখানে গন্ধর্ব ও অপ্সরাদের গান-বাজনা চলে, সাধু-সন্তরা সেখানে সম্মানিত হন, কিন্তু পাপীরা সেখানে প্রবেশ করলেই ভয়ে কাঁপতে থাকে।"

যমরাজের দ্বার ও চিত্রগুপ্তের খাতা

যমপুরীর প্রধান ফটকে পৌঁছে আত্মা দেখতে পায় বিশাল সব দ্বাররক্ষী (যমদূত) দাঁড়িয়ে আছে। তারা আত্মাকে ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে সিংহাসনে বসে আছেন চিত্রগুপ্ত—যিনি যমরাজের প্রধান হিসাবরক্ষক।
চিত্রগুপ্তের কাছে 'অগ্রসন্ধানী' নামে একটি বিশাল খাতা বা গ্রন্থ থাকে। এই খাতায় প্রতিটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তের হিসাব লেখা থাকে।

চিত্রগুপ্তো মহাপ্রাজ্ঞঃ সর্বশাস্ত্রবিশারদঃ ।
গণয়ত্যুভয়ং রাশিং পাপং পুণ্যং চ সর্বদা ॥

মহাজ্ঞানী ও সর্বশাস্ত্রে বিশারদ চিত্রগুপ্ত সর্বদা মানুষের পাপ এবং পুণ্য—এই দুই রাশিরই গণনা বা হিসাব নিখুঁতভাবে রাখেন।
আত্মা যখন সেখানে দাঁড়ায়, তখন চিত্রগুপ্ত যমরাজকে বলেন,

"হে ধর্মরাজ! এই জীব পৃথিবীতে অমুক কাজ করেছে, এর পাপ ও পুণ্যের তালিকা এই।"

সাক্ষী কারা দেয়? (লুকানো পাপের প্রকাশ)

অনেক সময় পাপী আত্মা মিথ্যা কথা বলে। সে বলে, "আমি এই পাপ করিনি, কেউ তো দেখেনি!" তখন যমরাজ তাকে মনে করিয়ে দেন যে, মানুষ পাপ করার সময় মনে করে কেউ দেখছে না, কিন্তু ১৪ জন সাক্ষী সর্বদা উপস্থিত থাকে।

সূর্যোঽগ্নিঃ খং মরুদ্দেবঃ সোমঃ সন্ধ্যা হ্যহঃ ক্ষপা ।
দিশশ্চ কালঃ ধর্মশ্চ সর্বে সাক্ষ্যপ্রদায়িনঃ ॥

সূর্য, অগ্নি, আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সন্ধ্যা, দিন, রাত, দিকসমূহ, কাল (সময়) এবং স্বয়ং ধর্ম—এরা সবাই মানুষের পাপকর্মের সাক্ষী দেয়।

যমপুরীতে এই সাক্ষীদের সাক্ষ্য শুনে পাপী আত্মা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তার আর অস্বীকার করার উপায় থাকে না।

ধর্মরাজ যমের দুই রূপ (ভয়ংকর ও শান্ত)

গরুড় প্রশ্ন করলেন, "হে প্রভু! যমরাজকে দেখতে কেমন?"

শ্রীবিষ্ণু বললেন, "যমরাজ বা ধর্মরাজ নিজের রূপ পরিবর্তন করতে পারেন। তিনি পাপীদের কাছে একরকম এবং পুণ্যবানদের কাছে আরেকরকম।"

পাপীদের জন্য ভয়ংকর রূপ:

যখন বিচার শুরু হয় এবং দেখা যায় আত্মা মহাপাপী, তখন যমরাজ প্রলয়কালের মেঘের মতো গর্জন করে ওঠেন।

কৃষ্ণং অঞ্জনবর্ণাভং প্রলয়ম্বুদনিঃস্বনম্ ।
জ্বলদগ্নিসমং নেত্রং দণ্ডহস্তং মহাবলম্ ॥

পাপীরা দেখে—যমরাজ কাজলের মতো কালো, প্রলয়কালের মেঘের মতো তাঁর গর্জন। তাঁর চোখ দুটি জ্বলন্ত আগুনের মতো লাল, হাতে বিশাল দণ্ড (গদা), এবং তিনি মহাবলশালী মহিষের ওপর বসে আছেন। তাঁর বিশাল দাঁত ও ভ্রুকুটি দেখে পাপী আত্মা ভয়ে মূর্ছিত হয়ে যায়।

পুণ্যবানদের জন্য সৌম্য রূপ:

কিন্তু যারা জীবনে সত্য কথা বলেছে, দান করেছে এবং ভক্তি করেছে, তারা যমরাজকে দেখে ভয় পায় না। তাদের কাছে যমরাজ বিষ্ণুর মতো সৌম্য মূর্তিতে দেখা দেন।

শ্রীবিষ্ণু বলেন, "পুণ্যবানরা দেখে—যমরাজ সৌম্য দর্শন, তাঁর মুখে হাসি, তিনি রত্নখচিত অলংকার পরে আছেন এবং তিনি তাদের 'বন্ধু' বা 'মিত্র' বলে সম্বোধন করছেন।"

বিচারের রায় (স্বর্গ না নরক?)

চিত্রগুপ্তের খাতা এবং সাক্ষীদের প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্মরাজ রায় দেন।

পাপীদের রায়: যমরাজ তখন যমদূতদের আদেশ দেন, "এই পাপীকে নিয়ে যাও! একে কুম্ভীপাক নরকে ফেলো (ফুটন্ত তেলের কড়াই) অথবা অসিপত্রবনে (ধারালো পাতার জঙ্গল) নিক্ষেপ করো।" তখন যমদূতরা তাকে মারতে মারতে নরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। আত্মারা তখন আর্তনাদ করে বলতে থাকে, "হা দৈব! আমি কেন পাপ করলাম!"

পুণ্যবানদের রায়: আর যদি পুণ্য বেশি হয়, তবে যমরাজ বলেন, "হে পুণ্যাত্মা! তুমি ধন্য। তুমি এখন স্বর্গের সুখ ভোগ করো।" তখন স্বর্গ থেকে দিব্য বিমান আসে এবং গন্ধর্বরা গান গাইতে গাইতে সেই আত্মাকে স্বর্গে নিয়ে যায়।

একটি বিশেষ শিক্ষা: কর্মফল অমোঘ

এই কথার শেষে শ্রীবিষ্ণু গরুড়কে একটি ধ্রুব সত্য বলেন।

অবশ্যমেব ভোক্তব্যং কৃতং কর্ম শুভাশুভম্ ।
নাভুক্তং ক্ষীয়তে কর্ম কল্পকোটিশতৈরপি ॥

মানুষকে তার কৃত শুভ বা অশুভ কর্মের ফল ভোগ করতেই হবে। শত কোটি কল্প বা যুগ পার হয়ে গেলেও, ভোগ না করা পর্যন্ত কর্মফল ক্ষয় হয় না।👏

🤔যাদের পুত্র সন্তান নেই শুধু কন্যা সন্তান তাদের কি হবে,❓ #গরুড়ের_প্রশ্নএকদিন বৈকুন্ঠ ধামে পক্ষীরাজ গরুড় অত্যন্ত চিন্তিত ...
11/12/2025

🤔যাদের পুত্র সন্তান নেই শুধু কন্যা সন্তান তাদের কি হবে,❓

#গরুড়ের_প্রশ্ন

একদিন বৈকুন্ঠ ধামে পক্ষীরাজ গরুড় অত্যন্ত চিন্তিত মুখে শ্রীবিষ্ণুর পদসেবা করছিলেন। শ্রীবিষ্ণু জিজ্ঞেস করলেন, "হে পক্ষীরাজ! তোমার মনে কীসের সংশয়?"

গরুড় জোড়হাতে বললেন,
"হে প্রভু! আপনি বলেছেন—'পুৎ' নামক নরক থেকে যে ত্রাণ করে, সেই 'পুত্র'। তাই পুত্রই পিণ্ডদান করে পিতাকে স্বর্গে পাঠায়।
কিন্তু জগতে এমন অনেক ধার্মিক মানুষ আছেন, যাঁদের কোনো পুত্র নেই, কেবল কন্যা সন্তান আছে। তবে কি সেই সব পিতা-মাতা মৃত্যুর পর নরকে যাবেন? তাঁদের কি মুক্তি নেই? তাঁদের শ্রাদ্ধ কে করবে?"

#শ্রীবিষ্ণুর_উত্তর: কন্যা ও দৌহিত্রের মহিমা

শ্রীবিষ্ণু তখন মুচকি হেসে বললেন,
"হে গরুড়! এই ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ করো। আমার সৃষ্টিতে পুত্র ও কন্যায় কোনো ভেদ নেই। যদি কোনো ব্যক্তির পুত্র না থাকে, তবে তাঁর কন্যা অথবা দৌহিত্র (কন্যার পুত্র বা নাতি) শ্রাদ্ধ করার সম্পূর্ণ অধিকারী।"

প্রভু বিষ্ণু তখন গড়ুড় পুরাণের প্রেতখণ্ড এবং স্মৃতিশাস্ত্রের নিয়ম ব্যাখ্যা করে শ্লোক শোনালেন:

শ্লোক (মনুসংহিতা ও গড়ুড় পুরাণের সারাংশ):

যথৈবাত্মা তথা পুত্রঃ পুত্রেন দুহিতা সমা।
তস্যামাত্মনি তিষ্ঠন্ত্যাং কথমন্যো ধনং হরেৎ।।

পিতা যেমন নিজের আত্মা, পুত্রও তেমনি পিতারই আত্মার স্বরূপ। আর কন্যাও পুত্রের সমান। সুতরাং, যে পিতা নিজের কন্যার রূপে পৃথিবীতে বর্তমান, তাঁর সম্পত্তি বা পিণ্ডদানের অধিকার অন্য কেউ কেন পাবে? অর্থাৎ কন্যায় তা পাবে।

শ্রীবিষ্ণু আরও বললেন,
"পুত্রহীন ব্যক্তির জন্য তাঁর দৌহিত্র (কন্যার ছেলে) পিণ্ডদান করলে তা পুত্রের পিণ্ডদানের মতোই ফলদায়ক হয়।"

অকৃতা বা কৃতা বাপি যং বিন্দেৎ সদৃশাৎ সুতম্।
পৌত্রী মাতা মহস্তেন দদ্যাৎ পিণ্ডং হরেদ্ধনম্।।

বিবাহিতা কন্যার পুত্র (নাতি) তার দাদু - দিদিমা (মাতামহ-মাতামহী) জন্য পিণ্ডদান করতে পারবে এবং তাতে তাঁরা বৈকুন্ঠ লাভ করবেন।

ধর্মদত্ত ও তার কন্যা সুমতির কথা

শ্রীবিষ্ণু বিষয়টি বোঝানোর জন্য একটি প্রাচীন কথা বললেন:

এক গ্রামে ধর্মদত্ত নামে এক পরম ধার্মিক ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তিনি সারাজীবন পূজা-অর্চনা করতেন, কিন্তু তাঁর মনে একটাই দুঃখ ছিল—তাঁর কোনো পুত্র ছিল না। তাঁর কেবল একটি গুণবতী কন্যা ছিল, যার নাম সুমতি।

ধর্মদত্তের বয়স হলো। তিনি মৃত্যুর আগে কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রীকে বললেন,
"আমার দুর্ভাগ্য! আমার মৃত্যুর পর আমাকে কে জল দেবে? আমার বংশে বাতি দেওয়ার কেউ রইল না। আমি নিশ্চয়ই 'পুৎ' নরকে পচে মরব।"

তাঁর কন্যা সুমতি এই কথা শুনে এক ঋষির কাছে গেলেন।
ঋষি বললেন,
"মা, তুমি কেন কাঁদছ? শাস্ত্র বলে, 'পুত্রিকা-পুত্র' (কন্যার সন্তান) পুত্রের সমান। তুমি তোমার পিতাকে কথা দাও যে তোমার গর্ভে যে সন্তান হবে, সে-ই তাঁর পিণ্ডদান করবে।"

পিতার মৃত্যুর পর সমাজের লোকেরা বলতে লাগল, "এর তো ছেলে নেই, এর আত্মার মুক্তি হবে না।" কিন্তু সুমতি সাহসিকতার সাথে পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করলেন (শাস্ত্রানুসারে মন্ত্রহীন বা প্রতিনিধি দ্বারা)। পরবর্তীতে সুমতির একটি পুত্র হলো।
সেই পুত্র বড় হয়ে গয়াতে গিয়ে ভক্তিভরে তার নানা ধর্মদত্তের নামে পিণ্ডদান করল।

#ফলাফল:

সেই রাতেই ধর্মদত্ত দিব্য শরীরে স্বপ্নে এসে কন্যাকে দেখা দিয়ে বললেন,
"মা রে! তোর পুত্রের দেওয়া পিণ্ডে আমি তৃপ্ত হয়েছি। যমরাজ আমাকে সসম্মানে স্বর্গে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি আজ বুঝলাম, পুত্র আর কন্যায় কোনো তফাৎ নেই। তুই-ই আমার প্রকৃত সন্তান।"

গড়ুড় পুরাণের বিধি (শ্রাদ্ধের অধিকারী কে?)
গড়ুড় পুরাণে স্পষ্ট একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে যে, পুত্র না থাকলে কে কে শ্রাদ্ধ করতে পারবে। ক্রমটি নিম্নরূপ:

১. জ্যেষ্ঠ পুত্র।
২. কনিষ্ঠ পুত্রগণ।
৩. পুত্রের অভাবে পৌত্র (ছেলের ছেলে)।
৪. পৌত্রের অভাবে প্রপৌত্র।
৫. এদের কেউ না থাকলে—পত্নী (স্ত্রী)।
৬. পত্নী না থাকলে—কন্যা (মেয়ে)।
৭. কন্যা না থাকলে—দৌহিত্র (মেয়ের ছেলে)।
৮. এরা কেউ না থাকলে—ভাই বা ভাইপো।

#শাস্ত্রে_বলা_হয়েছে:

পুত্রাভাবে চ পত্নী স্যাৎ, তদভাবে চ সোদরঃ...

পুত্র না থাকলে স্ত্রী শ্রাদ্ধ করতে পারেন, আর স্ত্রী অক্ষম হলে বা না থাকলে কন্যা শ্রাদ্ধের সম্পূর্ণ অধিকারিণী।

শ্রীবিষ্ণু গরুড়কে বললেন,
"হে খগেশ্বর! যারা পুত্র নেই বলে হাহাকার করে, তারা আসলে মায়ার বশবর্তী। কন্যা যদি ভক্তিভরে পিতামাতার সেবা করে এবং মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধ করে বা করায়, তবে সেই পিতামাতা অবশ্যই মোক্ষ লাভ করেন। ভক্তি ও শ্রদ্ধাই হলো আসল, লিঙ্গভেদ শরীরের—আত্মার নয়।"

যাদের পুত্র নেই, তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। কন্যা বা কন্যার সন্তান (নাতি) পিণ্ডদান করলে তা ১০০ ভাগ গ্রাহ্য হয় এবং আত্মা শান্তি পায়।💐💐🌷🌷

03/11/2025

জয় মা

 #আত্মা_কিভাবে_৮৪_লক্ষ_যোনি_ভ্রমণ_করে? ⭕কোন কোন জন্মের পর মানব জন্ম পাওয়া যায়?আপনি নিশ্চই শুনে থাকবেন, ৮৪ লক্ষ জন্মের পর...
21/09/2025

#আত্মা_কিভাবে_৮৪_লক্ষ_যোনি_ভ্রমণ_করে?

⭕কোন কোন জন্মের পর মানব জন্ম পাওয়া যায়?
আপনি নিশ্চই শুনে থাকবেন, ৮৪ লক্ষ জন্মের পর আমরা এই দুর্লভ মানব জনম লাভ করে থাকি। অর্থাৎ, আমাদের এই মানব জন্মের আগে আমরা ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে এই মানব জনম পেয়েছি। কিন্তু জানেন কি এই আমরা এই ৮৪ লক্ষ জন্মে কোন কোন রূপে জন্মেছি এবং মৃত্যু বরণ করেছি?

🙏পুরাণি শাস্ত্রে যাহা আছে বর্ণন
শুন সে চুরাশি লক্ষ যোনি বিবরণ।

আপনারা নিশ্চই অবগত আছেন যে, ঈশ্বর পৃথিবীতে দুই শ্রেণীর প্রাণ সৃষ্টি করে থাকেন। এর প্রথমটি হচ্ছে স্থাবর, তথা যারা একই স্থানে জন্মে এবং একই স্থানে মৃত্যুবরণ করে। আমাদের আশেপাশের গাছপালা, তরুলতা এই শ্রেণীর উদাহরণ। আর দ্বিতীয় শ্রেণীটি হচ্ছে জঙ্গম। অর্থাৎ, যে শ্রেণীর জীব চলাচল করতে পারে।

তো ঈশ্বর স্বর্বপ্রথমে আমাদের সৃষ্টি করেন স্থাবর রূপে। এই রূপে আমরা গাছপালা, তরুলতা বা বৃক্ষরাজি হয়ে পৃথিবীতে শোভা দান করে থাকি। কিন্তু এভাবে কতকাল? রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ক্ষরায় শুকিয়ে বা ঝড়ে ভেঙে নিরন্তর চলতে থাকে বৃক্ষ জন্ম। কিন্তু অবশেষে কুড়ি লক্ষ বার গাছপালা রূপে জন্মের শেষে আমাদের জন্ম হয় তুলসী বৃক্ষ রূপে। আর সেই তুলসী গাছের পবিত্র পত্র যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে অর্পিত হয় তখনই আমাদের মুক্তি মেলে বৃক্ষ জন্ম থেকে। কবি বলেছেন,

বিশ লক্ষ বার বৃক্ষ যোনিতে জনম
তাতে যত কষ্ট হয় অশেষ কারণ।
বিশ লক্ষ বার বৃক্ষ যোনিতে ভ্রমিতে
কত যুগ যুগান্তর যাবে ক্রমেতে।

তো বৃক্ষ জন্মের শেষে আমাদের জন্ম হয় জলজ জীব হিসবে। এই পর্বে আমরা কখনো মৎস্য, কখনো কূর্ম ইত্যাদি রূপ পরিগ্রহ করতে থাকি ঈশ্বরের কৃপা লাভের আশায়। কিন্তু এভাবেও বা যাবে আর কতকাল? অবশেষে আসে মুক্তির সময়। ৯ লক্ষ বার জলজ প্রাণী হিসেবে জন্মের পর আমাদের জন্ম হয় শঙ্খ রূপে। আর যেদিন সেই জলশঙ্খের জল অর্পিত হয় শ্রীগোবিন্দের চরণে সেদিনই আমাদের মুক্তি মেলে জলজ যোনী থেকে। তাই কবির ভাষায়,

মৎস্যে কূর্মে নয় লক্ষ বার জন্ম হয়
ভ্রমিতে পাড়িতে জীব কত কষ্ট পায়।
নয় লক্ষ বার জন্ম হয় ধীরে ধীরে
ঘরবাড়ি ঠিক নাই যথা তথা ফিরে।

জলজ যোনী থেকে তো মুক্তি পাওয়া গেল, তবে কি এবার মিলবে মানব জনম? না, এবার আমাদেরকে জন্ম নিতে হয় কীট পতঙ্গ রূপে। কখনো মাছি, কখনো মশা, শুঁয়োপোকা, কেঁচো ইত্যাদি রকমের কীট হয়ে বার বার জন্ম আর বার বার মৃত্যু। আর এভাবেই কেটে যায় আরও ১১ লক্ষ জনম। কীট জন্মের শেষে জীবের জন্ম হয় মৌমাছি রূপে। আর সেই রূপে আমরা মধু সংগ্রহ করে জমা করি মৌচাকে। এবং যেদিন আমাদের সেই সংগৃহীত মধুর একটি ছোট্ট বিন্দু রাধা-মাধবের ভোগে অর্পণ করা হয়, সেদিনই আমাদের মুক্তি মেলে কীট যোনী থেকে।

কৃমি জন্ম একাদশ লক্ষ ভ্রমিয়া বিশেষে
দশ লক্ষ বার পক্ষী যোনি শেষে।
তো কীট বা কৃমি জন্মের পরে আমাদের জন্ম হয় পক্ষীকুলে। কত-শত-হাজারো পক্ষী হয়ে আমরা বিচরণ করি অন্তরীক্ষে। তবে এ জন্মেও কখনো সর্পের ভয়, কখনো তীব্র ক্ষুধায় খাদ্যাভাব, কখনো ঝড় জলে নীড় ছিড়ে পড়া ইত্যাদি রকমের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় আমাদের। তবে হ্যাঁ অন্য জন্মগুলোর মত এ জন্মেরও শেষ আছে। ১০ লক্ষ বার পক্ষীকুলে জন্ম হওয়ার পর আমাদের জন্ম হয় ময়ূর রূপে। আর যেদিন সেই ময়ূরের পালক মোহন বংশীধারীর চূড়ামণিতে স্থান পায়, সেদিনই আমরা মুক্তি লাভ করি পক্ষী জনম থেকে।

কি ভাবছেন এবার কি পাবো সেই সাধের মানব জনম। না এবারও নয়। এবার আপনাকে জন্ম নিতে হবে পশুকুলে। অর্থাৎ কখনো মাংসাশী বাঘ, সিংহ বা নেকড়ে রূপে, আবার কখনো মাংসাশীদের ভোজনরূপে তথা মৃগ, ছাগ ইত্যাদি রূপে। আর এভাবে খাদ্য ও খাদকের রূপে আপনাকে জন্ম নিতে হবে ৩০ লক্ষ বার। এরপর একদিন শ্রীমধুসূদনের কৃপায় আমাদের জন্ম হয় ধেণু তথা গরু রূপে। এবং গাভীর গোদুগ্ধ দোহন করে যখন গোবর্দ্ধনধারীর ভোগে অর্পণ করা হয় তখনই আমাদের মুক্তি মেলে পশু যোনী থেকে।

তাই কবির ভাষায়,
ত্রিশ লক্ষ বার জন্ম পশুর যোনিতে
নানা রূপে কত কষ্ট পায় অবনীতে।
অবশেষে; গো যোনিতে জন্ম যে লয়
এর চেয়ে উত্তম জন্ম পশুকুলে নাই।
তো গোজন্মের পর আরও চার লক্ষ জন্মের পর আমরা লাভ করে থাকি দুর্লভ মানব জনম। তবে এখানে দুটি মত প্রচলিত রয়েছে। একটি মত বলছে এই চার লক্ষ জন্ম আমরা অবহেলিত মানব হিসেবে জন্ম নিয়ে থাকি।

গো যোনির শেষে পশু যোনি নাই
মানুষ্য যোনিতে এবার জন্ম তাঁর হয়।
মানব কুলেতে জন্ম চার লক্ষ বার
অপরূপ সে বারতা কহি সবিস্তার।
তবে অন্যমতে, গোজন্মের পর ৪ লক্ষবার বাণর জন্মে জন্মাতে হয় আমাদেরকে। এবং এভাবে ৮৪ লক্ষ জন্মের পর আমাদের জন্ম হয় মানুষ রূপে। তবে মানব কুলে জন্ম লাভ করার পরেও যদি আমরা আমাদের আত্মাকে মুক্তি না দিতে পারি, তাহলে আমাদেরকে আবারও এই ৮৪ লক্ষ রূপ পরিগ্রহ করতে হয়।

জন্মিয়া মানবকুলে আত্মা না উদ্ধারে
পুনঃ সে চুরাশি লক্ষ যোনি পথে ঘুরে।
বার বার জন্মলাভে কত কষ্ট পায়
শ্রীচরণ দাসে বলে নাইকো উপায়।
তাই আসুন আমরা সময় থাকতে মহান ঈশ্বরের চরণতলে আত্মসমর্পণ করি এবং শুদ্ধ কাজ ও ঈশ্বরপ্রেমের মাধ্যমে আমাদের আত্মাকে উদ্ধার করতে ব্রতী হই।
🌹





এই সেই দিনটি ছিল _৪ঠা জুলাই শুক্রবার ১৯০২!মাত্র ৩৯ বৎসর ৫মাস, ২৪দিন  বেলুড় মঠে শ্রীরামকৃষ্ণ লোকে চির ধ্যানমগ্ন হয়েছিলে...
04/07/2025

এই সেই দিনটি ছিল _৪ঠা জুলাই শুক্রবার ১৯০২!মাত্র ৩৯ বৎসর ৫মাস, ২৪দিন বেলুড় মঠে শ্রীরামকৃষ্ণ লোকে চির ধ্যানমগ্ন হয়েছিলেন! বিশ্ব বিবেক স্বামী বিবেকানন্দ!

পদ্মশ্রী শিবানন্দ বাবাজী ০৩/০৫/২০২৫ রাত্রি ৯ ঘটিকায় ১২৯বছর বয়ঃক্রমে কাশীধামে পরলোক গমন করেছেন।
04/05/2025

পদ্মশ্রী শিবানন্দ বাবাজী ০৩/০৫/২০২৫ রাত্রি ৯ ঘটিকায় ১২৯বছর বয়ঃক্রমে কাশীধামে পরলোক গমন করেছেন।

রামকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ আশ্রম,বালিয়াটি(ভক্তমন্ডলী)
29/04/2025

রামকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ আশ্রম,বালিয়াটি(ভক্তমন্ডলী)

রোগ জর্জরিত সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ(পুরোটা পড়ুন)

একদিন মিশরে থাকা অবস্থায় একান্ত নিভৃতে কাঁদছেন স্বামী বিবেকানন্দ।সেখানে ছিলেন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী মাদাম এমা কালভে।

কালভে আকুল হলেন।
দুঃখ পাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন।স্বামীজী জানালেন তিনি দেশে ফিরতে চান।
কেন?
তিনি যে তার ডাক শুনতে পেয়েছেন।
কার ডাক স্বামীজী?
পরমহংসদেবের ডাক।তিনি সব মনে করিয়ে দিলেন।
কি মনে করিয়ে দিলেন স্বামীজী?
মনে করিয়ে দিলেন আমি কে। কোথা থেকে এসেছি।কেন এসেছি।কী কাজ করতে এসেছিলাম।সব মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
আপনার কাজ কী শেষ হয়ে গিয়েছে স্বামীজী?
আপনার কণ্ঠে এমন বিদায়ের ভৈরবী কেন?
এরকম তো আগে কখনো শুনিনি।
কাজ কি শেষ হয় কালভে?
আমি এসেছিলাম কাজটুকু শুরু করে দিতে।এরপর কাজ চলতেই থাকবে।যুগযুগান্তর ধরে। প্রভুর কাজ।লয়হীন তার আলো।
ক্ষয়হীন তার প্রেম।আমি তার শ্রীচরণের দাস কালভে। আমাকে যে তার কাছে ফিরে যেতে হবে।

এসব কি বলছেন স্বামীজী। আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না।
যেতে আমাকে হবেই।দেশে ফিরে আরো দুএকটা কাজ বাকি আছে।সেগুলো সারবো।তারপর চলে যাব। সেদিনই পৃথিবীতে আমার শেষ দিন।
আমার ছুটি।

ঘটনা চক্রে স্বামীজীর কিন্তু ইতিমধ্যে দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়েছে।
মহেন্দ্রনাথ দত্ত জানিয়েছেন
একদিন মধ্যাহ্নভোজের পর স্বামীজী তার ঠেসান দেওয়া চেয়ারখানিতে বসিয়া ভাবিতেছিলেন বা ধ্যান করিতেছিলেন।
উল্টো দিকের দেওয়ালের নিকট পাশাপাশি চেয়ারে বসে ছিলেন ফক্স এবং একজন লেখক।
স্বামীজী অনেকক্ষণ স্থিরভাবে বসিয়াছিলেন।হটাৎ যেন তার মুখে বড় কষ্টের ভাব দেখা গেল।
খানিকক্ষণ পর তিনি নিঃশ্বাস ফেলিয়া ফক্স কে বলিলেন
দেখ ফক্স, আমার প্রায় হার্ট ফেল করেছিল।আমার বাবাকে এই রোগের কারণেই হারিয়েছি।প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছিল। এটা আমার বংশের রোগ।

পাঠক গণ চলুন আমরা একবার চোখ টি বুলিয়ে নি মহান সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ কে কত গুলো রোগ বহন করে দুর্দম কঠিন দুর্বার পথ পেরোতে হয়েছিল

শিরপিড়া
টনসিল
সর্দি কাশি
হাঁপানি
টাইফয়েড
ম্যালেরিয়া
নানাবিধ জ্বর
লিভার সংক্রান্ত ব্যাধি ও বদহজম
উদরি
ডায়ারিয়া
ডিসপেপসিয়া
পাথুরি
লাম্বেগো(কোমরের ব্যাথা )
ঘাড়ে ব্যাথা
ব্রাইটস ডিজিজ
কিডনির গোলযোগ
ড্রপসি -শোথ বা পা ফোলা
অ্যালবুমিনিউরিয়া
চোখে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা
চোখ লাল
নিদ্রাহীনতা
অকালে চুল সাদা হয়ে যাওয়া
স্নায়ু রোগ -নিউরাসথানিয়া
রাত্রে খাবার পর প্রচন্ড গরম অনুভব করা
গরম সহ্য করতে না পারা
অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পরা
সি -সিকনেস
সান স্ট্রোক
ডায়াবেটিস
হৃদরোগ

অবাক হতে হয় এত শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে তিনি কেমন ভাবে প্রায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন সব অবিশ্বাস্য কাজ করে গেলেন।ব্যাধি যতই মারাত্মক হোক স্বামীজী বুঝে ছিলেন রোগ কে প্রশ্রয় দিলে কর্ম কোনদিন সম্পূর্ণ হবে না।

স্বামীজী ভক্তদের জানিয়ে রাখি অনেক আগেই পরমহংসদেব জানিয়েছিলেন নরেন কে শরীরের লক্ষন পরীক্ষা করে "তোর শরীরের সকল স্থানই সুলক্ষনাক্রান্ত, কেবল দোষের মধ্যে নিদ্রা যাইবার কালে নিঃশ্বাস টা একটু জোরে পরে।"যোগীরা বলেন, অত জোরে নিশ্বাস পড়িলে অল্পায়ু হয়।

অবাক হতে হয় জেনে যে স্বামীজীর কতটা পেটের ব্যামো ছিল।তিনি জাহাজ থেকে খেতড়ি কে একটি চিঠি লিখে জানাচ্ছেন "আগে দিনে লোটা হাতে করে ২৫বার পায়খানা যেতে হত,কিন্তু জাহাজে আসা অবধি পেট টা বেশ ভাল হয়ে গেছে।অতবার আর পায়খানা যেতে হয় না।"

রোগজর্জরিত স্বামীজীকে একেবারে শেষের দিকে অখন্ডানন্দ দেখে বিস্মিত হয়ে উঠেছিলেন।"স্বামীজীকে এত রুগ্ন আমি কখনো দেখিনি,ঠিক যেন একখানি ছায়ামূর্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

যেমন ইচ্ছা তেমনি ঘুরে বেড়াতেন,"কখনো চটিপায়ে কখনো খালিপায়ে এবং গায়ে, কখনো গেরুয়া পড়িয়া,কখনো বা খালি কৌপিন আঁটিয়া,অনেক সময় হাতে থাকত হুকা বা লাঠি। দিবা শয়ন পছন্দ না করলেও শরীর খারাপের দরুন নিচে নামতে পারতেন না। বেশিরভাগ সময় শয্যাগত থাকতেন।কখনো সুদীর্ঘ আলখাল্লায় নিজেকে নিমজ্জিত করিয়া একাকী পথে হাঁটতেন।।তিনি থাকতেন আপন নির্জন মানসভূমিতে।

আরো শুনুন প্রিয় পাঠক গণ তথা বিবেকানন্দ ভক্তগণ

মঠে পালিত হচ্ছে পরমহংসদেবের উৎসব। বিবেকানন্দ বিলক্ষন জানেন তার জীবনের দেখা এটাই শেষ উৎসব হতে চলেছে।কিন্তু সেই উৎসবে যোগদান করার মত শরীরের শক্তি তার নেই।তিনি প্রায় শয্যাগত।
তার পা ফুলেছে।সমস্ত শরীরে জল।
হাটবার শক্তিটুকুও নেই।
গুরুভাইরা বেশ বুঝতে পারছেন, বিবেকানন্দের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সুতরাং উৎসব হচ্ছে অথচ তাতে আনন্দ নেই।
ভালো করে কথা বলতে পারছে না।
তবু পরের বছর উৎসব আরো কত ভালো করে আয়োজন করা যায় সেই বিষয়ে কিছু কথা বলছেন।
তিনি জানেন পরের বছর এই দিনটিতে তিনি থাকবেন না।
ইতিমধ্যে কীর্তনের দল এসে উপস্থিত হয়েছে উৎসব মঞ্চে।
স্বামীজীর মনে হল,একবার দেখবেন,
উৎসব কেমন হয়েছে।
তিনি দক্ষিনের জানলার গরাদ ধরে উঠে দাঁড়ালেন।কিন্তু বেশিক্ষন পারলেন না।
শরীরের বর্তমান অবস্থায় তার পক্ষে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় দুঃসাধ্য।
তিনি বসে পড়লেন।

জয় স্বামীজি 🙏🙏🙏

✨🪷জয় শ্রী রামকৃষ্ণ 🪷✨ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্বধর্মস্বরূপিণে।অবতারবরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ।।                🌸🙏🌼  #রাম...
14/03/2025

✨🪷জয় শ্রী রামকৃষ্ণ 🪷✨
ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্বধর্মস্বরূপিণে।
অবতারবরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ।।
🌸🙏🌼
#রামকৃষ্ণ
#দক্ষিণেশ্বর
#বেলুরমঠ
#বিবেকানন্দসেবাসংঘ
fans বিবেকানন্দ সেবা সংঘ Sushanta Saha Sushanta Saha

Address

Baliati, Saturia
Manikganj
1811

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিবেকানন্দ সেবা সংঘ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to বিবেকানন্দ সেবা সংঘ:

Share