শ্রী শ্রী রাধা মদনগোপাল সেবাশ্রম

শ্রী শ্রী রাধা মদনগোপাল সেবাশ্রম মানিকছড়ি , খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম only hinduism

আগামীকাল  ২৭-মে-২০২৬ ইংরোজ বুধবার পবিত্র পদ্মিনী একাদশী ব্রত।  বাংলাদেশ- পারণের সময়:পরের দিন সকাল ০৫:২৫ থেকে ০৯:১০ মি: ম...
26/05/2026

আগামীকাল ২৭-মে-২০২৬ ইং
রোজ বুধবার পবিত্র পদ্মিনী একাদশী ব্রত।

বাংলাদেশ- পারণের সময়:পরের দিন সকাল ০৫:২৫ থেকে ০৯:১০ মি: মধ্যে।

স্মার্তগণ পুরষোত্তম মাস বা অধিমাসকে ‘মলমাস’ বলে এই মাসে সমস্ত শুভকার্য পরিত্যাগ করে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মাসকেপারমার্থিক মঙ্গলের জন্য অন্য সকল মাস থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে নির্ণয় করেছেন। তিনি নিজের নামানুসারে এই মাসের নাম ‘পুরুষোত্তম’ মাসরেখেছেন। যুধিষ্ঠির বললেন- হে জনার্দন ! আমি বহুধর্ম ও ব্রতের কথা শুনেছি। এখন পুরুষোত্তম মাসের সর্বপাপবিনাশিনী ও পুন্যদায়িনী শুক্লপক্ষীয় ‘পদ্মিনী’ একাদশীর কথা আমার কাছে বর্ণনা করুন। যা শ্রবন করলে পরমপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন- দশমীর দিন থেকেই ব্রতের শুরু হয়। কঁসার পাত্রে ভোজন, মসুর , ছোলা, শাক এর্ব অপরের অন্ন ও আমিষ দশমীর দিনবর্জন করতে হয়। পরের দিন প্রাতঃকৃত্যের পর সুগন্ধী ধূপ, দীপ , চন্দনাদি দিয়ে ভগবানের পূজা করতে হয়। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ভগবানের নাম ও গুন কির্ত্তন করতে হয়। এখন এই ব্রতের একটি ইতিহাস বর্ণনা করছিলেন। একসময় রাজা কার্তবীর্যলঙ্কপতি রাবনকে পরাজিত করে তাঁর কারাগারে বন্দী করে রাখে। পুলস্ত মুনি রাজার কাছে রাবনের মুক্তি কামনা করেন। মুনির আজ্ঞায় রাজারাবনকে মুক্ত করে দেন। এই আশ্চর্যজনক কথা শুনে নারদ পুলস্ত মুনিকে জিজ্ঞাসা করেন- হে মুনিবর! ইন্দ্র সহ সকল দেবতা যেখানে রাবনেরকাছে পাজিত হয়েছিল সেখানে কিভাবে কার্তবীর্য রাবণকে পরাজিত করল? কৃপা করে তা কলুন। পুলস্ত মুনি তখন রাবনের কাছে কার্তবীর্যেরজন্মরহস্য বর্ননা করনে।

ত্রেতাযুগে হৈহয় বংশে কৃতবীর্য নামে এক রাজা ছিলেন। মহিস্ষ্মতীপুরে তার রাজধানী ছিল। রাজার এক হাজার পত্মী ছিল। কিন্তু রাজ্যভারগ্রহনের মতো কোন পুত্র রাজার ভাগ্যে হয়নি। দেবতাদের আরাধনাতেও সুফল মেলেনি তার। অবশেষে সাধুদের আজ্ঞানুসারে বিভিন্ন ব্রত পালনকরলেন। তথাপি রাজা ছিলেন অপুত্রক। মন্ত্রীর উপর রাজ্যভার অর্পণ করে তপস্যায় যাবেন বলে স্থির করলেন রাজা কৃতবীর্য। বরানী মহারাজহরিশচন্দ্রের কন্যা পদ্মিনী ছিলেন অন্তত্য পতিব্রতা । স্বামীর সঙ্গে তিনিও তপস্যার জন্য মন্দার পর্বর্তে গমন করলেন। সেখানে তারা দশ হাজারবৎসর কঠোর তপস্যা করলেন। কিন্তু ত ও কৃতবীর্য পুত্রসুখে বঞ্চিতিই রইলেন। রাণী পদ্মিনী মহাসাধ্বী অনুসূয়াকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে সাধ্বী! পুত্র লাভের জন্য আমার স্বামী দশ হাজার বছর তপস্যা করেও বিফল হয়েছে ।এখন যে ব্রত পালনে ভগবান প্রসন্নহন অতিশ্রেষ্ঠ পুত্র লাভ হয়, এমন কোন উপায় বিধান করুন।

পদ্মিনীল প্রার্থনায় অনুসূয়া প্রসন্ন হয়ে বললেন- বত্রিস মাস অন্তরে এক অধিমাস বা পুরুষোত্তম মাস আসে। এই মাসেক পদ্মিণী ও পরমা দুইএকাদশী। এই ব্রত পালন করলে পুত্র দাতা ভগবান শীঘ্রই প্র সন্ন হবেন। অনুসূয়ার নির্দেশে পদ্মিনী পরম শ্রদ্ধায় এই একাদশী ব্রত পালনকরলেন। সেই ব্রতে সন্তুষ্ঠ হয়ে স্বয়ং ভগবান গরুড় বাহনে আরোহন করে পদ্মিনীর সম্মূখে উপস্থিত ভগবান বললেন- হে ভদ্রে! আমি প্রসন্ন হয়েছি। পুরুষোত্তম মাসের সমান কোন মাস আমার প্রিয় নয়। এই মাসের একাদশী আমার প্রিয়। তুমিসেই ব্রত যথাযথ পালন করেছ। তাই আমি তোমার ইচ্ছানুরূপ বর প্রদান করব। ভগবানের স্তব করে রাণী বললেন- হে ভগবান! আমার স্বামীকেআপনি বরপ্রদান করুন। ভগবান তখন রাজার কাছে এস বললেন- হে রাজেন্দ্র! আপনার অভিলষিত বর প্রার্থনা করুন। মহানন্দে রাজা বললেন- হে জগৎপতি, মধুসূধন! দেবতা, মানুষ, নাগদৈত্যম রাক্ষস আদি কেই তাকে পরাজিত করতে পারবে না, এমন পুত্র আমি প্রার্থনা করি। রাজার প্রার্থনা অনুসারে বরদান করে ভগবান অন্তর্হিতহলেন। রাজা পত্নীসহ সগরে ফিরে গেলন। যথা সময়ে রাণী পদ্মিনীর গর্ভে মহাবলশালী এক পুত্রের জন্ম হয়। মহারাজ কৃতবীর্য পুত্রের নাম রাখেকার্তবীর্য। ত্রিলোক তার সমান কোন বীর ছিলনা । তাই দশানন রাবন তার কাছে পরাজিত হয়।

আগামী ১৩-মে-২০২৬ ইং রোজ  বুধবার পবিত্র অপরা একাদশী ব্রত। 👉 বাংলাদেশ-ঢাকা পারণের সময়: সকাল ০৫:৩০ থেকে ০৮:১৩ মি: মধ্যে।🙏 ম...
11/05/2026

আগামী ১৩-মে-২০২৬ ইং রোজ বুধবার পবিত্র অপরা একাদশী ব্রত।

👉 বাংলাদেশ-ঢাকা পারণের সময়: সকাল ০৫:৩০ থেকে ০৮:১৩ মি: মধ্যে।
🙏 মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে কৃষ্ণ! জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি এবং তার মাহাত্ম্যই বা কি, আমি শুনতে ইচ্ছা করি। আপনি অনুগ্রহ করে তা বর্ণনা করুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মহারাজ! মানুষের মঙ্গলের জন্য আপনি খুব ভাল প্রশ্ন করেছেন। বহু পুণ্য প্রদানকারী মহাপাপ বিনাশকারী ও পুত্রদানকারী এই একাদশী ‘অপরা’ নামে খ্যাত। এই ব্রত পালনকারী ব্যক্তি জগতে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ব্রহ্মহত্যা, গোহত্যা, ভ্রুণহত্যা, পরনিন্দা, পরস্ত্রীগমন, মিথ্যাভাষণ প্রভৃতি গুরুতর পাপ এই ব্রত পালনে নষ্ট হয়ে যায়। যারা মিথ্যাসাক্ষ্যদা ন করে, ওজন বিষয়ে ছলনা করে, শাস্ত্রের মিথ্যা ব্যাখ্যা প্রদান করে, জ্যোতিষের মিথ্যা গণনা ও মিথ্যা চিকিৎসায় রত থাকে, তারা সকলেই নরকযাতনা ভোগ করে। এসমস্ত ব্যক্তিরাও যদি এই ব্রত পালন করে, তবে তারা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়। ক্ষত্রিয় যদি স্বধর্ম ত্যাগ করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায়, তবে সে ঘোরতর নরকগামী হয়।

কিন্তু সেও এই ব্রত পালনে মুক্ত হয়ে স্বর্গগতি লাভ করে। মকররাশিতে সূর্য অবস্থানকালে মাঘ মাসে প্রয়াগ স্নানে যে ফল লাভ হয়; শিবরাত্রিতে কাশীধামে উপবাস করলে যে পুণ্য হয়; গয়াধামে বিষ্ণুপাদপদ্মে পিন্ডদানে য পাওয়া যায়; সিংহরাশিতে বৃহস্পতির অবস্থানে গৌতম নদীতে স্নানে, কুম্ভে কেদারনাথ দর্শনে, বদরিকাশ্রম যাত্রায় ও বদ্রীনারায়ণ সেবায়; সূর্যগ্রহণে কুরুক্ষেত্রে স্নানে, হাতি, ঘোড়া, স্বর্ণ দানে এবং দক্ষিণাসহ যজ্ঞ সম্পাদনে যে ফল লাভ হয়, এই ব্রত পালন করলে অনায়াসে সেই ফল লাভ হয়ে থাকে। এই অপরা ব্রত পাপরূপ বৃক্ষের কুঠার স্বরূপ, পাপরূপ কাষ্ঠের দাবাগ্নির মতো, পাপরূপ অন্ধকারে সূর্যসদৃশ এবং পাপহস্তির সিংহস্বরূপ। এই ব্রত পালন না করে যে ব্যক্তি জীবন ধারণ করে জলে বুদবুদের মতো তাদের জন্ম-মৃত্যুই কেবল সার হয়। অপরা একাদশীতে উপবাস করে বিষ্ণুপূজা করলে সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গতি হয়। এই ব্রতকাথা পাঠ ও শ্রবণ করলে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়। ব্রহ্মান্ডপুরণে এই ব্রত মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।

ভগবদ্ ভক্তি অনেক রকমের হয়। সে গুলি সাধারণত তিনটি পর্যায়ে পড়ে, ১) কর্মমিশ্রা ভক্তি, ২) জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি এবং ৩) শুদ্ধভক্ত...
03/05/2026

ভগবদ্ ভক্তি অনেক রকমের হয়। সে গুলি সাধারণত তিনটি পর্যায়ে পড়ে,
১) কর্মমিশ্রা ভক্তি,
২) জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি এবং
৩) শুদ্ধভক্তি।

যতোক্ষণ পর্যন্ত কর্মের প্রতি আসক্তি আছে ততক্ষণ পর্যন্ত হল কর্মমিশ্রা ভক্তি। শুদ্ধভক্তির লক্ষণ হলো,

অন্যাভিলাষিতাশূন্যং জ্ঞানকর্মাদ্যনবৃতম্।
আনুকূল্যেন কৃষ্ণানুশীলনং ভক্তিরুত্তমা॥
(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু ১/১/১১)

এই উত্তম ভক্তিটি হল অন্য অভিলাষ শূণ্য। অন্য অভিলাষ মানে জড় জগৎকে ভোগ করার বাসনা এবং জড় জগৎকে ত্যাগ করার বাসনা। ভোগ এবং ত্যাগ এই দুটি বাসনার থেকে মুক্ত হতে হবে। তবে যেখানে কৃষ্ণ সেবা ব্যতীত অন্য কিছু অভিলাষ আছে, যেমন কৃষ্ণের শরণাগত হয়ে কৃষ্ণের আনুগত্য মানা হল কিন্তু তবুও জড় সুখ ভোগের বা ইন্দ্রিয় তৃপ্তির বাসনা রয়েছে, তাহলে সেটি হলো কর্মমিশ্রা ভক্তি।

এই কর্মমিশ্রা ভক্তির স্তরে রয়েছেন স্বর্গের দেবতারা। এই স্তরের ভক্তরা হল কনিষ্ট স্তরের ভক্ত। যেমন দেবতারা নারায়ণকে মানে কিন্তু আবার ভোগ করেও চলেছে। কিন্তু তবুও যখন অসুরদের দ্বারা দেবতারা বিপদে পড়ে তখন ভগবান তাদের রক্ষা করার জন্য আবির্ভূত হন। এমন কি ইন্দ্রের ছোট ভাই হিসেবেও ভগবান বামন দেব রূপে এসে তাদের রক্ষা করেছেন। কিন্তু তবুও তাদের ভোগ বাসনা রয়ে গেছে। তারা স্বর্গ সুখ ভোগ করতে চায়। তাই তারা ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও শুদ্ধভক্ত নয়। তারা কর্মমিশ্রা ভক্ত।

আর যারা এই জড় জগতের ভোগ বাসনা ত্যাগ করে মুক্ত হতে চায় তারা হচ্ছে জ্ঞানী এবং যে সমস্ত ভক্তের এই মুক্ত হওয়ার বাসনা রয়েছে তারাও শুদ্ধ ভক্ত নয়, তারা হলো জ্ঞানমিশ্রা ভক্ত। এদিক থেকে বিচার করে দেখলে দেখা যায় অনেক বৈষ্ণবেরাও জ্ঞানমিশ্রা ভক্ত।

মহাপ্রভু যখন উত্তর প্রদেশে গিয়েছিলেন মাধব আচার্যের যারা অনুগামী তত্ত্ববাদী তাদের সঙ্গে তাঁর যে আলোচনা হয়, তাতে তাদের বক্তব্য হলো, মুক্তিই হলো ভক্তির এক মাত্র লক্ষণ। এই মুক্তি মানে কৈবল্য বা সাযুজ্য মুক্তি নয়। তারা সামীপ্য, সারুপ্য, সালোক্য এবং সার্ষ্টি এই চার রকমের মুক্তি কামনা করে বৈকুন্ঠে ভগবানের কাছে ফিরে যেতে চায়।

মহাপ্রভু সেই তত্ত্ব বাদীদের যিনি আচার্য বা মহান্ত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "শাস্ত্রে বলা হচ্ছে ভক্তকে মুক্তি দেওয়া হলেও সে মুক্তি চায় না। ভগবান কপিল দেব বলেছেন যে,

সালোক্যসার্ষ্টিসামীপ্যসারূপ্যৈকত্বমপ্যুত।
দীয়মানং ন গৃহ্নন্তি বিনা মৎসেবনং জনাঃ ॥
(ভাগবত ৩/২৯/১৩)
অর্থাৎ, তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ করতে চায় না। তাহলে ভক্তকে ভগবানের সেবা ছাড়া যে কোনো মুক্তি দিলেও সে যদি তা গ্রহণ না করে তাহলে সেই মুক্তি কেনো আমাদের লক্ষ্য হবে?"

✅ মহাপ্রভু দ্বিতীয় শ্লোকে বলেন,

মুক্তি স্বয়ং মুকুলিতাঞ্জলি সেবতেহস্মান্।
ধর্মার্থকামগতয়ঃ সময়প্রতীক্ষাঃ॥ (শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ১০৭ শ্লোক)

মুক্তি দেবী মুকুলতাঞ্জলি হয়ে প্রার্থনা করে তাকে যেন সেবা করার সুযোগ দান করা হয়। তাহলে এখানে মুক্তি দেবী কর জোড়ে যদি প্রার্থনা করে যে আমাকে সেবা করার সুযোগ দান করুন, তাহলে ভক্ত হয়ে সেই মুক্তি কেনো গ্রহণ করবেন? মহাপ্রভু তাদের বোঝালেন তোমরা ভক্তির মাধ্যমে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা করছো, এটা প্রকৃত পক্ষে শুদ্ধ ভক্তির লক্ষন নয়। তাহলে ভক্তির উদ্দেশ্য কি? ভক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রেম।

ভগবানের প্রতি প্রেম অর্জন করাই হচ্ছে ভক্তির একমাত্র উদ্দেশ্য এবং সেই প্রেমভক্তি হচ্ছে শুদ্ধভক্তির চরম স্তর। তাহলে দেখা যাচ্ছে,তিন রকমের যে ভক্তি, কর্মমিশ্রা, জ্ঞানমিশ্রা ও শুদ্ধ ভক্তি। এই শুদ্ধ ভক্তির চরম স্তরই হল প্রেম ভক্তি। এই প্রেম ভক্তি দান করতেই মহাপ্রভু এসেছেন। প্রেম ভক্তি লাভের উপায় হচ্ছে শুদ্ধ চিত্তে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করা।
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!"

এই শুদ্ধ ভক্তি অত্যন্ত অপূর্ব বস্তু এবং এই শুদ্ধ ভক্তি যে কোনো ব্যক্তি লাভ করতে পারে।

যেই ভজে সেই বড় অভক্ত হীন ছার।
কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতি কুলাদি বিচার॥
(চৈঃ চঃ অন্ত ৪/৬৭)

এখানে বলা হচ্ছে, যেই ভজে সেই বড়। এখানে কোনো রকম উপাধির বিচার নেই।

সর্বোপাধিবিনির্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলম্।
হৃষীকেণ হৃষীকেশ-সেবনং ভক্তিরুচ্যতে॥
(নারদ পঞ্চরাত্র)

সেটি সমস্ত উপাধি মুক্ত। মহাপ্রভু সেই সম্বন্ধে বলেছেন যে,

নাহং বিপ্রো ন চ নরপতির্নাপি বৈশ্যো ন শূদ্রো
নাহং বর্ণী ন চ গৃহপতির্নো বনস্থো যতির্বা।
কিন্তু প্রোদ্যন্নিখিলপরমানন্দপূর্ণামৃতাব্ধে র্গোপীভর্তুঃ পদকমলয়োর্দাসদাসানুদাসঃ ॥ (পদ্মাবলী ৭৪)

আমি ব্রাহ্মণ নই, ক্ষত্রিয় রাজা নই, বৈশ্য বা শুদ্র নই, ব্রহ্মচারী নই, গৃহস্থ নই, বানপ্রস্থ নই, সন্ন্যাসীও নই। আমার একমাত্র পরিচয় হচ্ছে গোপীভর্তা যে কৃষ্ণ, সেই গোপীজন বল্লভ শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্রের দাসের অনুদাসের দাস। আর সেটিই হলো বৈষ্ণবের প্রকৃত পরিচয়।

কিবা বিপ্র, কিবা ন্যাসী, শুদ্র কেনে নয়।
যেই কৃষ্ণ তত্তবেত্ত্বা সেই গুরু হয়॥
(চৈঃ চঃ মধ্য ৮/১২৮

আগামীকাল ২৭-এপ্রিল-২০২৬ ইং রোজ সোমবার পবিত্র মোহিনী একাদশী ব্রত।  পারণের  সময় পরের দিন  সকাল ০৫:২৬ থেকে ০৯:৫৭ মি: মধ্যে।...
26/04/2026

আগামীকাল ২৭-এপ্রিল-২০২৬ ইং
রোজ সোমবার পবিত্র মোহিনী একাদশী ব্রত।

পারণের সময় পরের দিন সকাল ০৫:২৬ থেকে ০৯:৫৭ মি: মধ্যে।

ভারত-কলকাতা পারণের সময়: সকাল ০৫:০৫ থেকে ০৯:২৪ মি: মধ্যে।
কুর্মপুরাণে বৈশাখ শুক্লপক্ষের ‘মোহিনী’ একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন- ‘হে জনার্দন! বৈশাখ শুক্লপক্ষীয়া একাদশীর কি নাম, কি ফল, কি বিধি-এসকল কথা আমার নিকট বর্ণনা করুন।’ উত্তরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন হে ধর্মপুত্র! আপনি আমাকে যে প্রশ্ন করেছেন পূর্বে শ্রীরামচন্দ্রও বশিষ্ঠের কাছে এই একই প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন- হে মুনিবর! আমি জনকনন্দিনী সীতার বিরহজনীত কারণে বহু দু:খ পাচ্ছি। তাই একটি উত্তম ব্রতের কথা আমাকেবলুন। যার দ্বারা সর্বপাপ ক্ষয় হয় ও সর্বদু:খ বিনষ্ট হয়।

এই কথা শুনে বশিষ্ঠদেব বললেন- হে রামচন্দ্র! তুমি উত্তম প্রশ্ন করেছ। যদিও তোমার নামগ্রহণেই মানুষ পবিত্র হয়ে থাকে। তবুও লোকের মঙ্গলেরজন্য তোমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ও পরম পবিত্র একটি ব্রতের কথা বলছি। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষীয়া একাদশী ‘মোহিনী’ নামে প্রসিদ্ধা। এই ব্রত প্রভাবে মানুষের সকল পাপ, দু:খ ও মোহজাল অচিরেই বিনষ্ট হয়। তাইমানুষের উচিত সকল পাপক্ষয়কারী ও সর্বদু:খবিনাশী এই একাদশী ব্রত পালন করা। একাগ্রচিত্তে তার মহিমা তুমি শ্রবণ কর। এই কথাশ্রবণমাত্রেই সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়।

পবিত্র সরস্বতী নদীর তীরে ভদ্রাবতী নামে এক সুশোভনা নগরী ছিল। চন্দ্রবংশজাত ধৃতিমান নামে এক রাজা সেখানে রাজত্ব করতেন। সেই নগরীতেইধনপাল নামে এক বৈশ্য বাস করতেন। তিনি ছিলেন পুণ্যকর্মা ও সমৃদ্ধশালী ব্যক্তি। তিনি নলকূপ, জলাশয়, উদ্যান, মঠ ও গৃহ ইত্যাদি নির্মাণ করেদিতেন। তিনি ছিলেন বিষ্ণুভক্তি পরায়ণ ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ। সুমনা, দ্যুতিমান, মেধাবী, সুকৃতি ও ধৃষ্টবুদ্ধি নামে তার পাঁচজন পুত্র ছিল। পঞ্চমপুত্র ধৃষ্টবুদ্ধি ছিল অতি দুরাচারী। সে সর্বদা পাপকার্যে লিপ্ত থাকত। পরস্ত্রী সঙ্গী, বেশ্যাসক্ত, লম্পট ও দ্যুতক্রীড়া প্রভৃতি পাপে সে অত্যন্ত আসক্তছিল। দেবতা, ব্রাহ্মণ ও পিতামাতার সেবায় তার একেবারেই মতি ছিল না। সে অন্যায়কার্যে রত, দুষ্টস্বভাব ও পিতৃধন ক্ষয়কারক ছিল। সবসময় সেঅভক্ষ ভক্ষণ ও সুরাপানে মত্ত থাকত।

পিতা ধনপাল একদিন পথ চলছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন ধৃষ্টবুদ্ধি এক বেশ্যার গলায় হাত রেখে নি:সঙ্কোচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার নির্লজ্জপুত্রকে এভাবে চৌরাস্তায় ভ্রমণ করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। এই কুস্বভাব দর্শনে ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি তাকে গৃহ থেকে বার করে দিলেন।তার আত্মীয়-স্বজনও তাকে পরিত্যাগ করল। সে তখন নিজের অলংকারাদি বিক্রি করে জীবন অতিবাহিত করত। কিছুদিন এইভাবে চলার পরঅর্থাভাব দেখা দিল। ধনহীন দেখে সেই বেশ্যাগণও তাকে পরিত্যাগ করল। অন্নবস্ত্রহীন ধৃষ্টবুদ্ধি ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়ল। অবশেষে নিজের গ্রামে সে চুরি করতে শুরু করল। একদিন রাজপ্রহরী তাকে ধরে বন্দীকরল। কিন্তু পিতার সন্মানার্থে তাকে মুক্ত করে দিল। এভাবে বারকয়েক সে ধরা পড়ল ও ছাড়া পেল। কিন্তু তবুও সে চুরি করা বন্ধ করল না। তখনরাজা তাকে কারাগারে বদ্ধ করে রাখলেন। বিচারে সে কষাঘাত দন্ডভোগ করল। কারাভোগের পর অনন্য উপায় ধৃষ্টবুদ্ধি বনে প্রবেশ করল। সেখানেসে পশুপাখি বধ করে তাদের মাংস ভক্ষণ করে অতি দু:খে পাপময় জীবন যাপন করতে লাগল।

দুষ্কর্মের ফলে কেউ কখনও সুখী হতে পারে না। তাই সেই ধৃষ্টবুদ্ধি দিবারাত্রি দু:খশোকে জর্জরিত হল। এভাবে অনেকদিন অতিবাহিত হল। কোনপুণ্যফলে সহসা একদিন সে কৌন্ডিন্য ঋষির আশ্রমে উপস্থিত হল। বৈশাখ মাসে ঋষিবর গঙ্গাস্নান করে আশ্রমের দিকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন।শোককুল ধৃষ্টবুদ্ধি তার সম্মুখে উপস্থিত হল। ঘটনক্রমে ঋষির বস্ত্র হতে একবিন্দু জল তার গায়ে পড়ল। সেই জলস্পর্শে তার সমস্ত পাপ দূর হল।হঠাৎ তার শুভবুদ্ধির উদয় হল।

ঋষির সামনে সে কৃতাঞ্জলিপুটে প্রার্থণা করতে লাগল ‘হে ঋষিশ্রেষ্ঠ! যে পুণ্য প্রভাবে আমি এই ভীষণ দৃ:খযন্ত্রণা থেকে মুক্তিলাভ করতে পারি, তাকৃপাকরে আমাকে বলুন।’ ঋষিবর বললেন-‘বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষে মোহিনী নামে যে প্রসিদ্ধ একাদশী আছে, তুমি সেই ব্রত পালন কর। এই ব্রতের ফলে মানুষের বহুজন্মার্জিত পর্বত পরিমাণ পাপরাশিও ক্ষয় হয়ে থাকে। মহামুনি বশিষ্ঠ বললেন-কৌন্ডিন্য ঋষির উপদেশ শ্রবণ করে প্রসন্ন চিত্তে ধৃষ্টবুদ্ধি সেই ব্রত পালন করল। হে মহারাজ রামচন্দ্র! এই ব্রত পালনে সে নিষ্পাপ হল। দিব্যদেহ লাভ করল। অবশেষে গরুড়ে আরোহন করে সকল প্রকার উপদ্রবহীনবৈকুন্ঠধামে গমন করল। হে রাজন, ত্রিলোকে মোহিনী ব্রত থেকে আর শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই। যজ্ঞ, তীর্থস্থান, দান ইত্যাদি কোন পুণ্যকর্মই এই ব্রতেরসমান নয়। এই ব্রত কথার শ্রবণ কীর্তনে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।

সৃষ্টির সেরা জীব আমরা, তবুও আমাদের প্রতিটি জীবের মৃত্যু নিশ্চিত। প্রত্যেককেই পরবর্তী দেহে গমনের পূর্বে মৃত্যুর মুখোমুখি ...
22/04/2026

সৃষ্টির সেরা জীব আমরা, তবুও আমাদের প্রতিটি জীবের মৃত্যু নিশ্চিত। প্রত্যেককেই পরবর্তী দেহে গমনের পূর্বে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। মৃত্যুর সময় আমরা যে চেতনায় মৃত্যুবরণ হই, তা সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ন।

"শরীরং যদবাপ্নোতি যচ্চাপ্যুৎক্রামতীশ্বরঃ।
গৃহীত্বৈতানি সংযাতি বায়ুর্গন্ধনিবাশয়াৎ।।
(গী১৫/৮)।।
@ অর্থাৎ, বায়ু যেমন ফুলের গন্ধ নিয়ে অন্যত্র গমন করে, তেমনি এ জড় জগতে দেহের ঈশ্বর জীব এক শরীর থেকে অন্য শরীরে তার জীবনের বিভিন্ন ধারনা গুলো নিয়ে যায়।

এখানে জীবকে তার দেহের নিয়ন্তা বলে বর্ননা করা হয়েছে এই অর্থে যে, সে যদি ইচ্ছা করে, তাহলে সে তার দেহকে উচ্চতর শ্রেনীতে পরিবর্তন করতে পারে। আবার নিম্নতর শ্রেনীতে অধঃপতিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার অতি ক্ষুদ্র স্বাতন্ত্র রয়েছে। তার শরীরের সমস্ত পরিবর্তন নির্ভর করে সে স্বাতন্ত্রের উপর। তার চেতনাকে সে যেভাবে গড়ে তুলেছে, মৃত্যুর পর তা তাকে সেরূপ পরবর্তী শরীরে নিয়ে যাবে।

তার চেতনাকে যদি সে কুকুর বা বিড়ালের চেতনার মতো গড়ে তুলে, তাহলে সে অবশ্যই কুকুর অথবা বিড়ালের শরীর প্রাপ্ত হবে। কেউ যদি তার চেতনাকে দিব্য গুণাবলীতে ভূষিত করে, তাহলে সে দেবতাদের শরীর প্রাপ্ত হবে। সে যদি কৃষ্ণ চেতনাময় হয়, তাহলে সে অপ্রাকৃত কৃষ্ণলোকে স্হানান্তরিত হবে এবং শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গ লাভ করবে। দেহের নাশ হওয়ার সাথে সাথে দেহের সবকিছুরই নাশ হয়ে যায়, সে ধারনা ভ্রান্ত।

এক দেহ থেকে অন্য দেহে দেহান্তরিত হচ্ছে এবং তার বর্তমান শরীর ও বর্তমান কার্যকলাপ তার পরবর্তী শরীরের পটভূমি। কর্ম অনুসারে জীব একটি ভিন্ন দেহ প্রাপ্ত হয় এবং যথাসময়ে তাকে সে শরীর ত্যাগ করতে হয়। দেহত্যাগ কালে জীব সূক্ষ্ম শরীর যা পুর্ববর্তী শরীরের ধারণা বহন করে তা নিয়ে উৎক্রান্ত হয় এবং স্বকর্মানুযায়ী নূতন স্হূল দেহ ধারন করে ঐ সুক্ষ শরীর নিয়েই পরবর্তী জীবনে পুনরায় বিষয়সমূহ ভোগ করতে থাকে।

জড়া প্রকৃতির গুণের সংস্রবে চেতনা কলুষিত হয়ে পড়ে। প্রকৃত চেতনা হচ্ছে কৃষ্ণচেতনা। যখন কেউ কৃষ্ণ চেতনায় স্হির হয়, সে তার শুদ্ধ জীবনে স্হিত হয়। কিন্তু তার চেতনা যদি জাগতিক মনোবৃত্তির দ্বারা কলুষিত হয়ে পড়ে, তাহলে পরবর্তী জীবনে সে তদনুরূপ দেহ লাভ করে।

সে পুনরায় মানুষের দেহ প্রাপ্ত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। চুরাশী লক্ষ বিভিন্ন জীব প্রজাতি রয়েছে তার যে কোনটির দেহ প্রাপ্ত হতে পারে। সব কিছুই নির্ভর করে আমাদের কর্মফলের উপর।

আগামী ২০শে এপ্রিল ২০২৬ ইং  রোজ সোমবার পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া  তিথি।  ⚛️অক্ষয় তৃতীয়া তিথি কি এবং কেন? ✅অক্ষয় তৃতীয়া হল চ...
16/04/2026

আগামী ২০শে এপ্রিল ২০২৬ ইং রোজ সোমবার পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথি।
⚛️অক্ষয় তৃতীয়া তিথি কি এবং কেন?

✅অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি।
অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে।

যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ।
তাই এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত। খেয়াল রাখতে হয় ভুলেও যেন কোনো খারাপ কাজ না হয়ে যায়। কখনো যেন কটু কথা না বেরোয় মুখ থেকে। কোনো কারণে যেন কারো ক্ষতি না করে ফেলি বা কারো মনে আঘাত দিয়ে না ফেলি। তাই এদিন যথাসম্ভব মৌন থাকাও যেতে পারে । আর এদিন পূজা,জপ,ধ্যান,দান,অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত। যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে।

✅ এই তিথিতে যে সকল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল।

১) এদিনই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জন্ম নেন পৃথিবীতে।
২) এদিনই রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।
৩) এদিনই গণপতি গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।
৪) এদিনই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।
৫) এদিনই সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়।
৬) এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
৭) এদিনই ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।
৮) এদিনই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং ভগবান তার সখীকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ।
শরনাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রী কৃষ্ণা দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।
৯) এদিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।
১০) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়।
দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।
১১) এদিনই সত্যযুগের শেষ হয়ে প্রতি কল্পে ত্রেতা যুগ শুরু হয়।

অক্ষয়_তৃতীয়া_সম্পর্কে_একটি_পুরানিক_গল্প_দেয়া_হল :

ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির একবার মহামুনি শতানিককে অক্ষয় তৃতীয়া তিথির মাহাত্ম্য কীর্তন করতে বললেন।
শতানিক বললেন পুরাকালে খুব ক্রোধসর্বস্ব , নিষ্ঠুর এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। ধর্মকর্মে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। একদিন এক দরিদ্র ক্ষুধার্ত ব্রাহ্মণ তার নিকট অন্ন এবং জল ভিক্ষা চাইলেন। রণচন্ডী হয়ে ব্রাহ্মণ কর্কশ স্বরে তাঁর দুয়ার থেকে ভিখারীকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেন আর বললেন যে অন্যত্র ভিক্ষার চেষ্টা করতে।
ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর ভিখারী চলে যেতে উদ্যত হল।
ব্রাহ্মণ পত্নী সুশীলা অতিথির অবমাননা দেখতে না পেরে দ্রুত স্বামীর নিকট উপস্থিত হয়ে ভরদুপুরে অতিথি সত্কার না হলে সংসারের অমঙ্গল হবে এবং গৃহের ধন সমৃদ্ধি লোপ পাবে … একথা জানালেন।
স্বামীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ভিখারীকে তিনি ডাক দিলেন এবং ভিখারীর অন্যত্র যাবার প্রয়োজন নেই সে কথা জানালেন। সুশীলা ত্রস্তপদে তার জন্য অন্নজল আনবার ব্যবস্থা করলেন। কিছুপরেই তিনি অতিথি ভিক্ষুকের সামনে সুশীতল জল এবং অন্ন-ব্যঞ্জন নিয়ে হাজির হলেন। ভিখারী বামুন অতীব সন্তুষ্ট হলেন এবং সে যাত্রায় সুশীলাকে আশীর্বাদ করে সেই অন্নজল দানকে অক্ষয় দান বলে অভিহিত করে চলে গেলেন।
বহুবছর পর সেই উগ্রচন্ড ব্রাহ্মণের অন্তিমকাল উপস্থিত হল। যমদূতেরা এসে তার শিয়রে হাজির। ব্রাহ্মণের দেহপিঞ্জর ছেড়ে তার প্রাণবায়ু বের হ’ল বলে। তার শেষের সেই ভয়ঙ্কর সময় উপস্থিত। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তার কন্ঠ ও তালু শুকিয়ে গেল। তার ওপর যমদূতেদের কঠোর অত্যাচার। ব্রাহ্মণ তাদের কাছে দুফোঁটা জল চাইল এবং তাকে সে যাত্রায় উদ্ধার করতে বলল।
যমদূতেরা তখন একহাত নিল ব্রাহ্মণের ওপর।
তারা বলল ” মনে নেই ? তুমি তোমার গৃহ থেকে অতিথি ভিখারীকে নির্জ্জলা বিদেয় করেছিলে ?”
বলতে বলতে তারা ব্রাহ্মণকে টানতে টানতে ধর্মরাজের কাছে নিয়ে গেল।
ধর্মরাজ ব্রাহ্মণের দিকে তাকিয়ে বললেন ” এঁকে কেন আমার কাছে এনেছ্?
ইনি মহা পুণ্যবান ব্যক্তি ।বৈশাখমাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে এনার পত্নী তৃষ্ণার্ত অতিথিকে অন্নজল দান করেছেন।
এই দানঅক্ষয় দান সেই পূণ্যফলে উনি নরকে গমন করবেন না। ব্রাহ্মণকে তোমরা জল দাও, উনি স্বর্গে গমন করবেন।

সকলের এবারের অক্ষয়তৃতীয়া ভালো কাজে ও ধর্মকর্মে কাটুক – এই কামনা করি।

আজ পহেলা বৈশাখ, শুভ বাংলা নববর্ষ এর দিন। সবাইকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা, প্রেম, প্রিতি, ভালোবাসা আর অভিনন্দন। রাধাকৃষ্ণে...
15/04/2026

আজ পহেলা বৈশাখ, শুভ বাংলা নববর্ষ এর দিন। সবাইকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা, প্রেম, প্রিতি, ভালোবাসা আর অভিনন্দন। রাধাকৃষ্ণের প্রেমে সকলের জীবন হয়ে উঠুক হরিময়।

বৃক্ষের ঝরা পাতার মতো, আমাদের সকলের জীবন থেকে প্রতি ক্ষণ বিদায় নেয়ার সাথে সাথে, দিন, মাস, বছর বিদায় নেয়। এটা নিয়তির অমোঘ পরিবর্তন। আর এ ভাবেই আমরা এক সময় ঝরে পড়ি এ বিশ্ব সংসার থেকে। জীবনটা বড্ড ছোট, নিয়তি একে আপন খেয়াল মতো দোলায় নিজস্ব ইচ্ছাতে।

এই পরিবর্তনের আবহে আরেকটা বছর বিদায় নিয়ে, আজ ব্রহ্ম মুহুর্তে শুরু হলো নতুন বাংলা বছর। এলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এই নতুন বছরকে আমরা স্বাগত জানাই হরিনামের মধুর সুরে।

বাংলা নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক, নব জাগরণের নবীন বার্তা। যা পরিপূর্ণ থাকবে ভগবদ্ চেতনা আর শুদ্ধ ভক্তির পবিত্র রাধাকৃষ্ণময় অপার প্রেম, ভালোবাসায়। অন্তরের সকল মলিনতা, হীনমন্যতা, কপটতা, চাতুরতা সকল অশুভ চেতনাকে চিরতরে বিসর্জন দিয়ে; সত্য, সুন্দর আর শান্তির চৈতন্যে উদ্ভাসিত হয়ে, সবাই পরমেশ্বরের পথে চালিত হই পরমানন্দে।

জীবন বড়োই ছোট গো! ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্তর জীবনের উন্নয়নে ভগবদ্ চিন্তা ব্যাতিত গত্যান্তর নেই। নতুন বছর আমাদের সেই চৈতন্যময় পথেই চালিত করুক। আমরা যেন সবাই সবাইকে ভগবানের পথে চালনোয় সহায়তা করি, সেই সামর্থ আর সদিচ্ছা নতুন বছর আমাদের নিশ্চয়ই জোগাবে। ভক্তিগত চিত্তে আমরা আমাদের সকল ভক্ত বন্ধুদের নতুন বছরে শুভেচ্ছা, স্বাগত, ভালবাসা আর অভিনন্দন জানাই।

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কার্যকলাপ, আচার আচরণ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ থেকে অভিন্ন। যতোক্ষণ মানুষ শ্রীকৃষ্ণের এই অপ্রাকৃত কার্য...
09/04/2026

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কার্যকলাপ, আচার আচরণ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ থেকে অভিন্ন। যতোক্ষণ মানুষ শ্রীকৃষ্ণের এই অপ্রাকৃত কার্যকলাপ শ্রবণে মগ্ন থাকেন, ততোক্ষণ তিনি জড়জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত থাকেন। শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় সমস্ত বিষয় এতোই মঙ্গলময় যে, তা বক্তা, শ্রোতা এবং প্রশ্নকর্তা সকলেরই সহিত বা মঙ্গল সাধন করে। তাই 'কৃষ্ণকথা'কে শ্রীকৃষ্ণের
শ্রীপাদ পদ্ম থেকে উদ্ভূত গঙ্গার জলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

গঙ্গার জল যেখানেই যায়, সেই স্থান এবং তাঁর জলে অবগাহনকারী মানুষদের পবিত্র করে। তেমনই 'কৃষ্ণকথা' বা কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় আলোচনা, এতোই পবিত্র যে, যেখানেই তা আলোচিত হোক না কেনো, সেই স্থান, বক্তা, প্রশ্নকর্তা, শ্রোতা আদি সকলেই পবিত্র থেকে পবিত্রময় হয়ে ওঠেন।

আমরা প্রত্যেকেই মৃত্যু পথ যাত্রী। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মৃত্যুরও জন্ম হয়েছে এবং সেই মৃত্যুর সঙ্গেই আমরা যাত্রী। যে কোনও সময়ে সেই মৃত্যুর চরম প্রকাশ হবেই। তাই এখন থেকেই কৃষ্ণ ভক্তি অনুশীলন করলে, গীতাপাঠ আলোচনা করলে, 'হরেকৃষ্ণ' মহামন্ত্র নাম কীর্ত্তন করার অভ্যাস করলে, অন্তিম দিনে কৃষ্ণ চিন্তাটি হ্রদয়ে থাকবে এবং পরম গতি লাভ করার সুযোগটিও সহজসাধ্য হবে।

সকল ভক্তদের উদ্দেশ্যে আমাদের সকরুণ নিবেদন, আমাদের জীবনের স্থায়ীত্ব কাল বড়ই স্বল্প। তাই এই স্বল্পতম অমুল্য সময় আমরা যেনো হেলা ফেলায় নষ্ট না করে, ভগবদ্ চিন্তায় মনোনিবেশ করার চেষ্টা করি। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে আমরা সর্বক্ষণের স্মরণ যোগ্য 'হরিনাম' সংকীর্ত্তন পেয়েছি পরমেশ্বরের অশেষ কৃপায়। অন্যান্য যুগের মতো যাগযজ্ঞ, হোম ইত্যাদি কঠোর ও কঠিন ব্রত আমাদের কোনো প্রয়োজন পড়ে না 'কৃষ্ণ কথা'র বদৌলতে।

এই প্রসঙ্গে ছোট্ট একটি উপমা দেয়া যায়। একদিন একটি গ্রামে এক বালক মারা গেলো। স্বভাবতই তাকে ঘিরে আত্মীয় স্বজনেরা ভীষণ কান্নাকাটি করতে লাগলো। তারপর তারা যখন বালকের মৃতদেহটি সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, ঠিক তখনই এক শৃগাল এসে মধুর স্বরে বালকের প্রতি উপস্থিত সবার ভালোবাসার প্রসংশা করতে লাগলো। এরপর সে বালকের বিস্ময়কর সব গুণাবলীর কথা শোনাতে লাগলো এবং শেষে সে মৃতদেহ পোড়ানোর পূর্বে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালকের মধুর স্মৃতির দ্বারা সবাইকে সিক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। আর বললো আপনারা কালকে এই মৃতদেহ পোড়াবেন এখন সবাই বাসায় চলে যান।

ইতিমধ্যে, উপর থেকে সবকিছু দেখে একটি শকুন আকষ্মিক ভাবে সেখানে উড়ে নামলো। নেমেই শৃগালের কথা গুলোকে সে দার্শনিক ভাবে খন্ডন করতে লাগলো। শকুন ব্যাখ্যা করতে লাগলো যে, যাকে আসলে ভালোবাসা যায়, সেই আত্মা দেহের ভিতরে থাকে এবং ইতিমধ্যে সে আত্মা দেহ থেকে চলে গিয়েছে। তাই এই মৃত দেহের জন্য শোক করা শুধু ভাব প্রবণতা ও মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। এ জন্যে শকুনের পরামর্শ হচ্ছে, দেহ ও আত্মাকে পৃথক জ্ঞান করে সবার উচিত আর শোক না করে এ স্থান ত্যাগ করে চলে যাওয়া।

এভাবে শকুনটি শৃগালের যুক্তি খন্ডন করলো আর আত্মীয় স্বজনদের চলে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিলো। আসলে এখানে দুজনের উদ্দেশ্য এক। শৃগালটি চেয়েছিলো বালকের প্রশংসা করে রাত করিয়ে দেওয়া আর তাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। যেহেতু শৃগাল নিশাচার, সেহেতু রাতে এই শৃগালটি মৃত দেহটি কে খেতে পারে। আর শকুনটিও চেয়েছিলো এই মৃত দেহটি আহার্য হিসেবে উভোগ করতে। তাই সে একই সাথে দুটি কাজ করেছে। এক, শৃগালকে মৃত দেহটি ভোগ না করতে দেওয়া আর শৃগালের যুক্তি খন্ডন করে আত্মীয় স্বজনদের তাড়িয়ে দেওয়া। যাতে শকুনটি এখনই মৃতদেহটিকে খেতে পারে।

ঠিক এই জগতে আমরা দেখি, কিছু স্বার্থবাদী লোক তার নিজের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করার জন্য একেক ধরনের মনগড়া দর্শন দিয়ে থাকে। আর সেই মনগড়া ব্যাখ্যা পড়ে সহজ সরল লোক তাদের পিছন পিছন ছুটতে থাকে। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না, তাদের ভিতরে যে ভক্তি নামক সম্পদ আছে, সেই সম্পদ এই ধরনের মনগড়া ব্যাখ্যাকারী দার্শনিকেরা লুটে নেয়। তাই এদের এখানে শৃগাল আর শকুনের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

তাই আমাদের সাবধান থাকা উচিত এই ধরনের শৃগাল ও শকুনের ন্যায় ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকা। যারা উপরে ভক্তি মূলক দার্শনিক কথা বলবে কিন্তু উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোগ করা। তাই ভগবান আমাদের বৈদিক শাস্ত্র গুলো দিয়েছেন যেগুলো আমরা সদগুরু দেবের সান্নিধ্যে থেকে, সদা 'কৃষ্ণ কথা' চেতনায় রেখে, পূর্বতন আচার্য্যের কাছ থেকে শুনে বৈদিক শাস্ত্রের সিধান্ত গুলোতে উপনিত হতে পারি। এই ধরনের মনগড়া ব্যাখ্যা আমাদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে আর সঠিক শাস্ত্র সিধান্ত জনগনের মাঝে তুলে ধরতে হবে। যাতে সবার পারমার্থিক প্রগতি উন্নত হয়, আর সকলের সমস্যার সমাধান হয়। আর সবাই সুখে, শান্তিতে ও আনন্দে থাকতে পারে, জীবনটা হয়ে ওঠে পরম প্রেমের আশ্রয় স্থল।

---অমৃতানন্দ নিলয় ভক্তসর্জন   ---🙏🙏 শুভ প্রণাম 🙏🙏***********************আগামী ২৮ শে ফেব্রুয়ারি , ১লাও ২রা মার্চ ১৫, ১৬...
26/01/2026

---অমৃতানন্দ নিলয় ভক্তসর্জন ---
🙏🙏 শুভ প্রণাম 🙏🙏
***********************
আগামী ২৮ শে ফেব্রুয়ারি , ১লাও ২রা মার্চ ১৫, ১৬ ও ১৭ ফাল্গুন শনিবার , রবিবার ও সোমবার ঊষালগ্ন পর্যন্ত শ্রীল মদন গোপাল দাস বাবাজি মোহন্ত মহারাজের ২৪ তম স্মরণ তিথি ও মন্দির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রীমদ ভাগবত পাঠ,মনোজ্ঞ ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান ও সার্বজনীন অষ্টপ্রহর ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ।

উক্ত মহতী অনুষ্ঠানের প্রতিটি প্রদীপ্ত পর্যায়কে সফল করার লক্ষ্যে সপরিবারে আপনার উপস্থিতি এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
🥰 আপনাদের সকলের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠুক আশ্রম অঙ্গন।
❤️🙏❤️
করজোড়ে কৃপাভিখারী ,,,,,,,,
শ্রী শ্রী রাধা মদন গোপাল সেবাশ্রম ।
01839-719187

Address

Chittagong
Manikchari
4460

Telephone

+8801839719187

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী রাধা মদনগোপাল সেবাশ্রম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী রাধা মদনগোপাল সেবাশ্রম:

Share

Category