22/06/2026
এই পৃথিবী, এই জগত মানুষের শেষ আশ্রয় নয়। জন্ম, মৃত্যু, সৃষ্টি ও প্রলয়ের ঊর্ধ্বে আরেকটি নিত্য, অপ্রাকৃত এবং অবিনশ্বর জগত রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন—
"পরস্তস্মাত্তু ভাবোহন্যোহব্যক্তোহব্যক্তাৎ সনাতনঃ।
যঃ স সর্বেষু ভুতেষু নশ্যৎসু ন বিনশ্যতি।।৮/২০।।
অনুবাদঃ কিন্তু আর একটি অব্যক্ত প্রকৃতি রয়েছে, যা নিত্য এবং ব্যক্ত ও অব্যক্ত বস্তুর অতীত। সমস্ত ভূত বিনষ্ট হলেও তা বিনষ্ট হয় না।"
অর্থাৎ এই পৃথিবী, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা জড় প্রকৃতির অতীত আরেকটি সনাতন, অব্যক্ত প্রকৃতি রয়েছে। সমস্ত জীব ও জগৎ বিনষ্ট হলেও সেই পরম ধাম কখনও বিনষ্ট হয় না।
কিন্তু মায়ার দ্বারা আবৃত মানুষ সাধারণত এই ক্ষণস্থায়ী জগতকেই সবকিছু মনে করে। অথচ এই জড় জগৎ পরিবর্তনশীল—এখানে জন্ম আছে, মৃত্যু আছে, বিচ্ছেদ আছে। তাই যে ব্যক্তি কেবল ইন্দ্রিয়সুখকেই জীবনের লক্ষ্য মনে করে, সে বুঝতে পারে না কোন জগত তার প্রকৃত কল্যাণের স্থান।
শ্রীমদ্ভাগবতের সূচনাতেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, পরমেশ্বর ভগবান তাঁর স্বীয় ধামে চিরকাল বিরাজমান, যেখানে তাঁর অন্তরঙ্গ শক্তির প্রভাব বিদ্যমান এবং মায়া-শক্তির কোনো প্রবেশাধিকার নেই। অতএব, ভগবানের ধাম কোনো কল্পনা বা মানসিক সান্ত্বনা নয়; তা হলো বৈকুণ্ঠ—চিন্ময়, আনন্দময় এবং সম্পূর্ণ অপ্রাকৃত জগতসমূহ।
সেই ধামে নেই জন্মের ভয়, মৃত্যুর যন্ত্রণা কিংবা পুনর্জন্মের আবর্তন। সেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নিত্যসেবা, প্রতিটি সম্পর্ক বিশুদ্ধ প্রেম এবং প্রতিটি মুহূর্ত ভগবানের সান্নিধ্যের আনন্দে পরিপূর্ণ। তাই শাস্ত্র বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের জীবনের পরম লক্ষ্য কেবল সাময়িক ভোগ-বিলাস অর্জন নয়, বরং ভক্তি ও আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে সেই সনাতন ধামে প্রত্যাবর্তন করা, যেখানে পৌঁছালে আর এই দুঃখময় জগতে ফিরে আসতে হয় না।
।। হরেকৃষ্ণ।।
।। জয় শ্রীকৃষ্ণ।।
।। জয় সনাতন ধর্ম।।