আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা একাডেমি

আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা একাডেমি ইসলামিক জাতি গঠনে দ্বীনদার আদর্শ মা গ?

14/03/2023
"সারোগেসি" গর্ভ নেই প্রসব নেই একেমন মাতৃত্ব.মুফতি আবুল হাসান আব্দুল্লাহ (হাফি.)হাল আমলে একশ্রেণীর লোকদের নবজাতক নিয়ে গণ...
20/06/2022

"সারোগেসি" গর্ভ নেই প্রসব নেই একেমন মাতৃত্ব.
মুফতি আবুল হাসান আব্দুল্লাহ (হাফি.)

হাল আমলে একশ্রেণীর লোকদের নবজাতক নিয়ে গণমাধ্যমের কৌতূহল লক্ষ করা যাচ্ছে। গণমাধ্যম যাদেরকে ‘তারকা’ হিসেবে প্রচার করে তাদের ঘরে কোনো সন্তান এলেই সেটাকে দেখানোর জন্য- সে খবরাখবর প্রচারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনই একটি খবর এসেছে দুজন দু’দেশী তারকাখ্যাত দম্পতির ঘরে সন্তান আসা নিয়ে। ওই মহিলার দাবি, তিনি মা হয়েছেন। অথচ গণমাধ্যমের প্রচার-প্রচারণা অনুযায়ী মানুষ কাছাকাছি সময়ে তার মধ্যে মায়ের কোনো আলামতই লক্ষ করেনি। এ প্রশ্নের জবাব তারাই বের করে এনেছেন। তিনি সারোগেসি তথা গর্ভ ভাড়া নিয়ে মাতৃত্বের স্বাদ নিয়েছেন। এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ আবার এর শরয়ী বিষয়ও জানতে চেয়েছেন। আজ শরয়ী বিষয় বলা মূল উদ্দেশ্য নয়। আজ থেকে ১৭ বছর আগে আমরা মাসিক আলকাউসারে ‘টেস্ট টিউব বেবী’ নিয়ে কথা বলেছিলাম। সেখানেও এধরনের গর্ভ ভাড়ার কথা সম্ভবত ছিল। এ বিষয়ের শরয়ী হুকুমের কিছুটা বিশ্লেষণও ছিল।১ সারোগেসির শরয়ী হুকুমের চেয়েও খবরটি দেখার পরেই যে কারণে অবাক হয়েছি সেটি হল, গর্ভ নেই প্রসব নেই এ আবার কেমন মাতৃত্ব! সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে পড়েছে আলকুরআনুল কারীমের এই আয়াত-

وَ وَصَّیْنَا الْاِنْسَانَ بِوَالِدَیْهِ اِحْسٰنًا حَمَلَتْهُ اُمُّهٗ كُرْهًا وَّ وَضَعَتْهُ كُرْهًا.

আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার হুকুম দিয়েছি। তার মা তাকে অতি কষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। -সূরা আহকাফ (৪৬) : ১৫

সংবাদটি পড়ে আমি এই আয়াত বহুবার জপেছি। ঘুরে-ফিরে একথাই মনে এসেছে, আহ দুনিয়াতে মা-বাবার প্রতি সদাচার করতে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে কতভাবে বলেছেন। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মায়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার কথা বলেছেন। আমরা সবাই তো জানি, হাদীসে তিনবার মায়ের কথা বলা হয়েছে। চতুর্থবার বাবার কথা বলা হয়েছে। মায়ের যে সম্মান ও মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি সদয় হওয়ার যে গুরুত্ব- উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেদিকে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখানে মা-বাবা উভয়ের প্রতি সদয় হতে বলেছেন, যত্নবান হতে বলেছেন। এই নির্দেশের মধ্যে আল্লাহ তাআলা মায়ের মহত্ত্ব এমনভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যেন তা সন্তানের মনের ভেতর ভালো করে গেঁথে যায়। আল্লাহ বলেছেন-

حَمَلَتْهُ اُمُّهٗ كُرْهًا وَّ وَضَعَتْهُ كُرْهًا.

তার জীবনের শুরু যেখানে সেখান থেকেই তাঁর মা তাকে নয় মাস পেটে ধারণ করেছেন। আল্লাহ كُرْهًا শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ হল, খুব কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছেন। وَضَعَتْهُ كُرْهًا প্রসবও হয়েছে খুব কষ্ট করে। এখনকার সময়ের কেউ বলতে পারে, আজকাল তো সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে অনেক শিশুর জন্ম হয়। এতে তো প্রসবের কষ্ট নেই। প্রসবের কষ্ট না থাকলেও সিজারের কষ্ট তো আছে। প্রসবের সেই কষ্ট না থাকলেও সন্তানের জন্য পেট কাটতে দিতে হয়। এর ফলে সারা জীবন কাটার কষ্ট বয়ে বেড়াতে হয়। গর্ভধারণ, প্রসব ও পরিচর্যার কষ্ট সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা সৃষ্টি করে। গর্ভধারণ ও প্রসবের কষ্টই যদি না থাকে- সন্তানের প্রতি মায়ের, মায়ের প্রতি সন্তানের কীসের মমতা তৈরি হবে? সাধারণত যে কোনো শিশুর প্রতি পৃথিবীর মানুষ যেই স্বাভাবিক মমতা অনুভব করে সে মমতা হয়তো থাকবে; কিন্তু গর্ভধারণ, প্রসব ও পরিচর্যার দরুন যে মমতার সৃষ্টি হয় তা কী করে হবে?

আমরা তো এখন বুড়ো হতে চলেছি। নাতি-নাতনি হয়েছে। ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় হওয়ার সুবাদে ছোট ভাই-বোনদের সময় নিজ মায়ের মাতৃত্বকালীন কষ্ট কিছুটা অনুভব করতে পেরেছি। এরপর বাবা হয়েছি। তখন তো মাতৃত্বের কষ্ট আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে। এরপর আল্লাহ তাআলা নানা, দাদাও বানিয়েছেন। মেয়ে ও বউমাদের কষ্টও অনুভব করতে হয়েছে। কিন্তু এটি তো শুধু দূর থেকে যা উপলব্ধি করা যায় তা। আসল কষ্ট তো তিনিই বোঝেন, যিনি মা হয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, এই গর্ভধারণ, জন্মদান, জন্মপরবতীর্ পরিচর্যা ও লালন পালনের ব্যাপারটি না থাকলে আসলে মাতৃত্বের সেই মমতা সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়।

দাদা-নানার কাছে নাতি-নাতনিরা সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। কখনো ওদের মা-বাবারা বকাঝকা বা শাসন করলে আমরা ওদের মা-বাবাকে বাধা দিই। মন্দ বলি। এত কিছুর পরও এত আদরের নাতি-নাতনিরা কাপড় নষ্ট করলে ওদের মায়েদেরকেই ডাকি, ‘এই কোথায় গেলে। বাচ্চাটা কাপড় নষ্ট করেছে ওকে ধরো।’ নিজেরা সাফ করতে পারি না। মায়েরা এসে ওদেরকে পরিষ্কার করে। কোথায়, দাদা-নানারা তো মায়ের এ কাজটা করতে পারে না। পরিচর্যার মূল জায়গাটা মাকেই করতে হয়। মায়ের কাছে মনেই হয় না, সন্তানের পায়খানা-প্রস্রাব গায়ে কিংবা কাপড়ে লেগেছে। মায়েদের কাছে কোনো গন্ধ লাগছে বলেও মনে হয় না।

এখন তো অনেকের কাছে ডায়াপারের যুগ। কিন্তু এই ডায়াপার চেঞ্জ করাও তো অনেক কঠিন। এগুলো খুশিমনে পরিষ্কার করা মায়েদের দ্বারাই সম্ভব। শুধু কি তাই- শিশুর জন্য মায়ের অসংখ্য রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়া এবং নিজে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার নজির তো অসংখ্য। কিন্তু এখনকার তথাকথিত আধুনিক সমাজ মাতৃত্বের সেই সৌন্দর্যই নষ্ট করে দিতে চাচ্ছে। তারা এমন কালচার সমাজে নিয়ে আসছে, শুধু টাকা পয়সার জোরে মাতৃত্বের স্বাদ নেবে। এ যেন ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার! এখানেও একই কথা, গর্ভ নেই, প্রসব নেই, পরিচর্যা নেই- নাম তার ‘মা’।

একটি বাস্তব ঘটনা মনে পড়ে গেল, এক দম্পতির সন্তান হাচ্ছিল না। তারা অন্য ঘর থেকে একটি মেয়েশিশু পালক আনলেন, যাদের কয়েকটি মেয়ে ছিল। মেয়েটি পালক বাবা-মায়ের কাছেই বড় হয়েছে। তারাই তার বিয়ে-শাদী দিয়েছেন। যদিও তার মা-বাবার সাথেও এ পরিবারের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু উভয় পরিবার মেয়েটির কাছে প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখেছিল। মেয়েটি তার প্রকৃত মাকে পালক নেয়া মায়ের বান্ধবী মনে করে সম্মান-শ্রদ্ধা করত। কিন্তু কোনো এক সময় আসল ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যায়। এরপর থেকে ঐ মেয়ে তার প্রকৃত মাকে অবজ্ঞা করতে শুরু করে। তার যে কোনো উপহার, আদর-যত্ন সে প্রত্যাখ্যান করে। সে পরিষ্কার বলে দেয়, আপনি যদি আমার মা-ই হতেন তাহলে নিজে লালন-পালন ও পরিচর্যা না করে আমাকে অন্যের হাতে উঠিয়ে দিলেন কী করে? আমাদের কাছের পরিচিতজনদের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি অনেকের মনেই দাগ কেটেছিল।

সারোগেসির মত বিষয়গুলো কেন দিন দিন ব্যাপকতা লাভ করছে? টেস্টটিউব বেবির কথা আমরা জানি, সেখানে কারও কারও ওযরের কারণে এ চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। মানবশিশু জন্মের যেই সাধারণ প্রক্রিয়া সে প্রক্রিয়ায় কারও সন্তান না হলে তখন দুজন থেকে প্রয়োজনীয় পদার্থ নিয়ে টিউবের মধ্যে রাখা হয়। সেখানে নির্দিষ্ট একটি সময় রেখে মায়ের গর্ভে দেওয়া হয়। এটা ওযর। এখানে মাসআলা আছে। কোন্ শর্তে জায়েয হবে, কোন্ শর্ত লঙ্ঘন হলে জায়েয হবে না- তা সুস্পষ্টভাবে আছে। যারা বর্তমানে এ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিচ্ছে তাদের কি এ ধরনের বিপদ আছে? খেঁাজ নিলে দেখা যাবে, এধরনের কোনো বিপদ তাদের নেই। আসলে তারা ফ্যাশনেবল মা, ফ্যাশনেবল বাবা। তারা নিজেরা কোনো কষ্ট সইতে চায় না। তারা শুধু তাদের অঢেল সম্পদের উত্তরাধিকারী রেখে যেতে চায়। সন্তান না হলে পালক সন্তান নেয়ার প্রচলন আছে। কিন্তু পালক তো পালকই। তাই বিত্তবানেরা নিজের সন্তান দেখাতে চায়। তাই তারা এ পদ্ধতি অবলম্বন করে। এটা পুঁজিবাদসৃষ্ট তথাকথিত মা হওয়ার একটি প্রক্রিয়া।

সারোগেসি নিয়ে পড়তে গিয়ে দেখলাম, আমেরিকাতে গর্ভ ভাড়া নিতে এক লক্ষ বিশ হাজার ডলার থেকে শুরু হয়ে দুই লক্ষ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। এক লক্ষ বিশ হাজার ডলারও যদি ধরা হয়, আমাদের দেশে কোটি টাকারও বেশি। এ বিপুল খরচ দেখলে আমরা বুঝতে পারি, এটা কোনো সাধারণ টাকা-পয়সাওয়ালাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এটা কেবলই টাকার বাহাদুরি। আমার টাকা আছে, আমি গরীবের গর্ভ ভাড়া নিয়ে বাবা-মা হয়ে যাচ্ছি। ভারতে এ প্রক্রিয়া চালু ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এখানে খরচ কিছুটা কম ছিল। ভারতে আইন করে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হলে অনেকে এটা নিয়ে লেখালেখি করে। তথাকথিত প্রগতিশীলরা এটার পক্ষে আওয়াজ তোলে। এর পক্ষে যুক্তি তৈরি করে; যে গরীবদের কথা বলে এ আইন তৈরি করা হচ্ছে তাদের তো উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের তো আরও ক্ষতি হবে। বর্তমানে আমরা লক্ষ করলে দেখি, পুঁজিবাদীদের যে কোনো কাজে, যে কোনো অন্যায়-অবিচারে, তাদের ভোগবাদী চিন্তা-চেতনায় বাধ সাধলেই তারা বলে, গরীবের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। এরা বিপদে পড়ে যাবে। এভাবে তারা দারিদ্র্য টিকিয়ে রাখতে চায়। পতিতালয় বন্ধ করতে গেলে তারা চিৎকার করে ওঠে, তারা কী খেয়ে বাঁচবে। মনে রাখবেন, এটি তাদের মুখের ভাষা-

وَمَا تُخْفِیْ صُدُوْرُهُمْ اَكْبَرُ.

তাদের অন্তরে যা গোপন আছে, তা আরও গুরুতর। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১১৮

আসলে তাদের চিন্তা হল, এসব বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের বল্গাহীন বেহায়াপনা চলবে কী করে? ভোগবিলাস চলবে কী করে। ঐ নারীদের তথাকথিত ভক্তদের চিন্তা- মহিলাটি গর্ভধারণ করলে তো তাদের লোভলালসার সমস্যা হবে, আর নারীগুলোর ভাবনা- তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে। এজন্যই ঐ জগতে বিবাহ-সন্তান সবকিছু লুকানোর একটি সংস্কৃতি লক্ষ করা যায়। হায়রে মিথ্যা সুখ!

মূলত মুখে এটা-সেটা বললেও তারাই দারিদ্র্য তৈরি করে রেখেছে এবং এই দারিদ্র্যকে টিকিয়ে রাখতে তারাই আবার দারিদ্র্যকেই যুক্তি হিসেবে পেশ করে যাচ্ছে। তারা যদি অন্যায়ভাবে সম্পদ কুক্ষিগত করে না রাখত, দারিদ্র্যবিমোচন ও সম্পদের সুষম বণ্টনের ইসলামিক ও মৌলিক পন্থাগুলোর চর্চা করত তাহলে একজন মা বাধ্য হত না গর্ভ ভাড়া দিতে। কে চায়, নিজের গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তান আরেকজনকে দিয়ে দিতে। গরীবের আট-দশটা সন্তান হলেও সে কষ্ট করে লালন-পালন করে; এর পরও সন্তান আরেকজনকে দিতে চায় না।

তাই এসমস্ত উল্টো চিন্তা থেকে সমাজকে বের হয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, পশ্চিমে পরিবার প্রথা তো রাতারাতি বা এমনি এমনিই ধ্বংস হয়ে যায়নি। সেবাযত্ন তো দূরের কথা, অনেকসময় যাদের সন্তানরা বাবা-মার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বা এর খরচাদী বহনেও আগ্রহী থাকে না। কেন? বহু কারণের মধ্যে মা-বাবা কতৃর্ক সন্তানের সেবাযত্ন ও পরিচর্যার ঘাটতিও এক্ষেত্রে বড় একটি কারণ। সুতরাং মুসলমানদের কেউ যেন এসমস্ত উল্টো ও নিকৃষ্ট চিন্তার দিকে ধাবিত না হয়- সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা এ ধরনের চিন্তা করছে তারা যেন এসব থেকে ফিরে আসে। আমাদের ভাবতে হবে, মায়ের মমতা কীভাবে হয়, মা হওয়ার প্রকৃত বাস্তবতা কী। যেই মা গর্ভ ধারণ করেন, যেই মা প্রসব করেন, যেই মা জন্মের পর সন্তানকে আগলে রাখেন তিনিই তো সত্যিকারের মা। সে মা-ই তো সন্তানের জন্য সব ত্যাগ করেন। সেই সন্তানই তো মায়ের সেবায় সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক উপলব্ধি দান করুন। এ সকল অলীক চিন্তা ও ভোগবাদী মানসিকতা থেকে মুসলিম নর-নারীদের রক্ষা করুন- আমীন। হ

১. স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো উপাদান বা অন্যের গর্ভে স্বামী-স্ত্রীর উপাদান সংরক্ষণ করে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি একের ক্ষেতে অন্যের শস্য রোপণের নামান্তর। এটি অভিশাপযোগ্য কবীরা গুনাহ। বুদ্ধির বিকৃতি ছাড়া কোনো সুস্থ চিন্তা, রুচি ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ এ ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বনে সম্মত হতে পারে না। এছাড়া এতে বংশ পরিচয় নির্ধারণেরও একটি দুরূহ সমস্যা সৃষ্টি হয়। এদিক থেকেও এ পন্থা অবলম্বন আরেকটি কবীরা গুনাহ।

ইসলামী আক্বায়েদই ঈমানের ভিত্তি।মাওলানা আব্দুল মালেক (হাফি:)আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার উপর সবচে’ বড় ফরজ হল, ঈমান। ঈ...
19/06/2022

ইসলামী আক্বায়েদই ঈমানের ভিত্তি।
মাওলানা আব্দুল মালেক (হাফি:)

আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার উপর সবচে’ বড় ফরজ হল, ঈমান। ঈমান বান্দার উপর আল্লাহর সবচে’ বড় হক। ঈমানের পরিচয় হল, ইসলামকে একমাত্র সত্যধর্ম মেনে কবুল করে নেওয়া। ইসলাম আকায়েদ ও আহকামের সমষ্টি। ইসলামের বর্ণিত সঠিক আকায়েদ, ইসলামের প্রদত্ত শরীয়ত মেনে নেওয়ার নাম ঈমান। আকায়েদ মানা, ইসলামী শরীয়ত অস্বীকার করা অথবা শরীয়ত মানা, ইসলামী আকায়েদ অস্বীকার করা উভয়ই কুফর। এ কুফর থাকা অবস্থায় ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। যেমনটি আমি ‘উম্মাহর ঐক্য’ বইয়ে বিস্তারিত লিখেছি। শাখাগত মাসআলায় তো দলীলভিত্তিক মতবিরোধ সম্ভব। এমন মতবিরোধ হয়েছেও। ঐ মতবিরোধের দরুণ আল্লাহ পাকড়াও করবেন না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে মন্দ বলেননি। অবশ্য এ ব্যাপারে মতবিরোধের আদব-কায়দা রক্ষা করতে আমরা বাধ্য এবং এ ধরনের মতবিরোধ ঝগড়া বিবাদের মাধ্যম যেন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কিন্তু আকায়েদের ব্যাপারটি (মুমিন ও মুসলিম হওয়ার জন্য যে বিষয়গুলো আন্তরিকভাবে স্বীকার করা এবং সেগুলো সত্য বলে সাক্ষ্য দেওয়া জরুরি) সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাতে দলীলভিত্তিক মতবিরোধের কল্পনাও করা যায় না। আকায়েদের বেলায় বিরোধ হয় সত্য-বিরোধীদের অন্যায় বিরুদ্ধাচরণ অথবা মূর্খতার কারণে। আকায়েদের ক্ষেত্রে বিরোধ আল্লাহ তাআলা মেনে নেননি। এক্ষেত্রে সবাইকে একমাত্র দ্বীন কবুল করে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। সত্য দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণকারীদের যালেম, ফাসেক ও কাফের আখ্যায়িত করেছেন। সুস্পষ্ট বলে দিয়েছেন, পরকালে তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লামা খালেদ মাহমূদের ভাষায়- ‘ইসলামী আকায়েদে এ কথা অকাট্য যে, আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য দ্বীন একটাই। তা হল, ইসলাম। এ হতে পারে না যে, অন্যান্য ধর্ম আপন আপন জায়গায় সঠিক। সে মতবাদ অনুযায়ী চলেও পরকালে মুক্তি লাভ হবে। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান না এনে কেউ মুক্তি পাবে না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রাযিআল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় আহলে কিতাবদের ইসলামের দাওয়াত দিতে বলেছিলেন। সেসব দ্বীন আপন আপন ক্ষেত্রে মুক্তি দেওয়ার যোগ্য হলে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রাযিআল্লাহু আনহুকে এ নির্দেশনা দিয়ে ইয়ামান পাঠান- إِنّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَن لَا إِلهَ إِلّا اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ. তুমি আহলে কিতাবের (ইহুদী ও নাসারাদের) কাছে যাচ্ছ। প্রথম তাদেরকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্র সাক্ষ্য দেওয়ার দাওয়াত দিবে এবং এ কথার শাহাদাত প্রদানের দাওয়াত দিবে- মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। তারা এ কথা মেনে নিলে তাদেরকে বলবে, আল্লাহ তাআলা দিন ও রাতে তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন। (সহীহ মুসলিম, খ. ১, পৃ. ২৩৮, হাদীস ২৯; সহীহ বুখারী, খ. ৮, পৃ. ৪৯৩, হাদীস ৪৩৪৭) ইমাম তহাবী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘আলআকিদাতুত তাহাবিয়্যাহ’ কিতাবে বিষয়টি এভাবে লেখেন- ودين الله في الأرض والسماء واحد، وهو دين الإسلام، قال الله تعالى إن الدين عند الله الإسلام. আসমান ও জমিনের অধিবাসী সবার জন্য আল্লাহ তাআলার মনোনীত দ্বীন একটিই। তা হল, দ্বীনে ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট (গ্রহণযোগ্য) দ্বীন কেবল ইসলাম। (সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৯) আলআকিদাতুত তাহাবিয়্যাহ, পৃ. ৭৮৬ ইবনে হাযম জাহেরী রাহ. লেখেন- الإسلام دين واحد، وكل دين سواه باطل. অর্থাৎ ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম। এছাড়া সব ধর্মই বাতিল। (আলমুহাল্লা, ইবনে হাযম, খ. ১, পৃ. ১০৪) আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ আকীদাকে পেশ করেছেন এভাবে- من لم يقر باطنا وظاهرا بأن الله لَايقبل دينا سوى الإسلام فليس بمسلم. অর্থাৎ যে অন্তর ও মুখে একথা স্বীকার করে না, আল্লাহর কাছে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণযোগ্য নয়, তাকে মুসলমান ধরা হবে না। -ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, খ. ২৭, পৃ. ৪৬৩ এ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেল সকল ধর্ম হক হওয়ার মতাবলম্বীরা ইসলামের দাবি করা সত্ত্বেও মুসলমান নন। (আকায়েদে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, মাওলানা মুহাম্মাদ তাহের মাসউদের ভূমিকা, পৃ. ৪৫-৪৬ থেকে গৃহিত) শায়খুল মাশায়েখ হযরত মাওলানা সালীমুল্লাহ খান রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ভাষ্য হল, মানুষের নিজস্ব বলতে কিছু নেই। অস্তিত্ব তার নিজস্ব নয়। বিবেক ও প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও বোধ নিজস্ব নয়। শোনা, দেখা এবং বলার শক্তিও নিজস্ব নয়। এ সবই খোদাপ্রদত্ত। নিঃস্ব এ মানুষের কাছে আছে কেবল শূন্যতা। এ শূন্যতা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। এ শূন্যতার মালিকও সে নয়। আসলে আল্লাহ তাআলার পুরস্কার ও অনুগ্রহ যে, তিনি মানুষকে এসব মূল্যবান নিআমতে ভূষিত করেছেন। বিবেকের সিদ্ধান্ত হল, পুরস্কারদাতা ও অনুগ্রহকর্তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন জরুরি। আর যে নিআমতদাতা এত উদারতার সঙ্গে অসংখ্য অগণিত নিআমত দিয়েছেন তার কৃতজ্ঞতা আদায় তো যে কোনো অনুগ্রহকর্তা ও নিআমতদাতার চেয়ে বেশি করা জরুরি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য সর্বপ্রথম জরুরি কাজ হল, মহাপবিত্র খোদার সত্তা ও গুণ সংশ্লিষ্ট আকীদা সঠিক হতে হবে, তিনিই আহাদ-এক। সামাদ-তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী এবং ইবাদতের যোগ্য তিনিই। তিনিই আমাদের সবার খালিক ও মালিক। তিনিই প্রতিপালক, তিনিই রিযিকদাতা, তিনিই মৃত্যু ও জীবনদাতা। অসুস্থতা-সুস্থতা, ধনাঢ্যতা-দারিদ্র্য, লাভ-ক্ষতি শুধুই তাঁর ক্ষমতাধীন। সব মাখলুক তাঁরই সৃষ্টি করা। সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। এ সৃষ্টিকর্মের মধ্যে কেউ তাঁর অংশীদার কিংবা পরামর্শক নেই। কেউ তাঁর হুকুম বদলাতে পারে না। না তাঁর কাজে কারও দখল দেওয়ার অবকাশ আছে। তিনি মালিকুল মুল্ক- রাজাধিরাজ। আহকামুল হাকিমীন- মহা বিচারক। এজন্য তাঁর প্রতিটি হুকুম মানা জরুরি। তাঁর হুকুমের বিপরীতে অন্য কারও হুকুম কখনো মানা যাবে না। চাই সে শাসনকর্তা, বাবা-মা কিংবা গোত্রপতি অথবা নিজের প্রবৃত্তি হোক। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হোক আমাদের স্বীকারোক্তি ও ঘোষণা, আমাদের বিশ্বাস ও ঈমান। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হোক আমাদের আমল ও শান। এ আকীদাই দ্বীনের মূল ভিত্তি। সমস্ত নবীর সর্বপ্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ছবক। সাত আসমান, সাত জমিন এবং যা কিছু তাতে আছে সব এক পাল্লায় রাখা হলে আর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অপর পাল্লায় রাখা হলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্র পাল্লা ভারী হবে। এ ফযীলত ও ওজন এজন্য যে, এ কালেমায় আল্লাহর তাওহীদের অঙ্গিকার ও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। তাঁরই ইবাদত-বন্দেগী করার, তাঁরই আদেশ মতো চলার, তাঁকেই পরম প্রার্থিত বানানোর, তাঁর সঙ্গেই সম্পর্ক করার সিদ্ধান্ত ও অঙ্গিকার। এটাই ঈমান ও ইসলামের রূহ। হাদীসে এসেছে- جَدِّدُوا إِيمَانَكُمْ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ نُجَدِّدُ إِيمَانَنَا؟ قَالَ: أَكْثِرُوا مِنْ قَوْلِ لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ. হে লোকসকল, ঈমান তাজা করে যাও। প্রশ্ন করা হল, কী করে ঈমান তাজা করব? বললেন, বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৭১০; আলমুসতাদরাক, হাকেম, হাদীস ৭৬৫৭; আলমুনতাখাব মিন মুসনাদি আব্দ ইবনে হুমাইদ, হাদীস ১৪২৪ সে আল্লাহ জীবিত, জ্ঞানের অধিকারী, ক্ষমতাধর, সিফাতে কালামের অধিকারী, ইচ্ছা ও শ্রবণশক্তির অধিকারী, সৃষ্টি ও সৃজন তাঁর গুণ। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সম্মান ও লাঞ্ছনা তিনিই দেন। محمد رسول الله কালেমার এ অংশে হযরত মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল হওয়ার স্বীকারোক্তি ও ঘোষণা আছে। যার মর্ম হল, আল্লাহ তাআলা তাঁকে পৃথিবীবাসীর হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি যা বলেছেন, যে খবর দিয়েছেন সব সঠিক। যেমন, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়া, ফেরেশতার অস্তিত্ব, কিয়ামত সংঘঠিত হওয়া, মৃতদের পুনরায় জীবিত হওয়া, নিজ নিজ আমল অনুযায়ী জান্নাত ও জাহান্নামে যাওয়া ইত্যাদি। রাসূলের প্রতি ঈমান আনার উদ্দেশ্যই হল, তাঁর সব কথা মানা। তাঁর শিক্ষা ও হেদায়েতকে আল্লাহ তাআলার শিক্ষা ও হেদায়েত মনে করা এবং তাঁর বিধান মোতাবেক চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কেউ যদি কালেমা পড়ে কিন্তু এ সিদ্ধান্ত না নেয়, আমি নবীজীর বর্ণিত প্রতিটি কথা একেবারে সত্য এবং তাঁর বিপরীতের সব কথা ভুল বলে বিশ্বাস করব, তাঁর আনীত শরীয়ত ও হুকুম অনুযায়ী চলব- তাহলে এমন মানুষ মুসলমান বলে গণ্য হবে না। কালেমা মূলত একটি অঙ্গীকার ও স্বীকারোক্তি। এর মর্ম এটাই- আমি শুধু আল্লাহ তাআলাকে সত্য খোদা এবং মাবুদ ও মালিক মানি। দুনিয়া ও আখেরাতের সবকিছুর চেয়ে তাঁর সাথে বেশি মুহাব্বত ও সম্পর্ক রাখছি। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য রাসূল মানছি। উম্মতের এক সদস্যের মতো আমি তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করব এবং তাঁর আনীত শরীয়তের উপর আমল করতে থাকব। আকায়েদের বিষয়টি বড় গুরুত্বপূর্ণ। আকীদা দ্বীনে ইসলামের মূল বিষয়। আমল হল, তার শাখা। আকীদা ঠিক না হলে দোযখে চিরস্থায়ী আযাব ভোগ করতে হবে। আমলে অবহেলা হলে নাজাতের আশা করা যায়। নাজাত হয়ত শুরুতেই লাভ হবে অথবা শাস্তি ভোগ করার পর। (আকায়েদে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, পৃ. ২৮-৩০) আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামী আকীদার যথার্থ ও বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করার তাওফীক দান করুন। ঈমান নবায়নের এমন তাওফীক দান করুন, যার প্রভাব আমাদের কথা ও কাজ, আমাদের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান হয়। আমাদেরকে এ বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে, যা হযরত মাওলানা আব্দুল হক খান বশীর লিখেছেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের স্বীয় যুগের ইমাম হযরত মাওলানা সারফরায খান সফদর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যার পূর্ণ সমর্থন করেছেন এভাবে- ‘উপমহাদেশ পাক-ভারতে গত চার শতাব্দীর মধ্যে অসংখ্য ফেতনার জন্ম হয়েছে। মুসলমানদেরই কিছু মূর্খ ও স্বার্থপর ধর্মীয় নেতৃত্বের কারণে শিরক ও বিদআতের উত্থান হয়। কবর পূজার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। অগণিত শরীয়তবিরোধী প্রথার জন্ম হয়। চিন্তাগত কুবিশ্বাস মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। খতমে নবুওত, হাদীসের প্রামাণ্যতা, সুন্নাহর প্রামাণ্যতা, তাকলীদের প্রামাণ্যতা, মুজিযা ও কারামাতের বাস্তবতা, সাহাবা ও আহলে বাইতের মর্যাদা এবং নবীদের নিষ্পাপ হওয়ার মতো শরীয়ত বর্ণিত সর্বসম্মত আকীদা অস্বীকার করে বিভ্রান্তির নতুন পথ খোলা হয়েছে। এ অবস্থায় ইমামে রাব্বানী, মুজাদ্দিদে আলফেসানী হযরত শাইখ আহমদ সারহিন্দী রাহ., হাকীমুল হিন্দ হযরত মাওলানা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. এবং সিরাজুল হিন্দ হযরত ইমাম শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী রাহ. প্রমুখ বুযুর্গগণ সমস্ত জটিলতা সহ্য করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মুতাওয়াতির ও মুতাওয়ারাস আকীদা হেফাজতের দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। তাঁদের পর তাদের প্রকৃত জ্ঞানগত আত্মিক উত্তরাধিকারী আকাবিরে দেওবন্দ এ দায়িত্ব যথাযথ সামলান। এদিক থেকে তাঁদের চেষ্টা-মেহনত অন্যান্য দল থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা এনে দিয়েছে। এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না; এ যুগে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মুতাওয়াতির ও মুতাওয়ারাস আকীদা ও দৃষ্টিভঙ্গি হেফাজতের ক্ষেত্রে দেওবন্দের বুযুর্গদের উপমা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাঁরা পরিপূর্ণভাবে তাদের মেধা, চিন্তা, জ্ঞান ও বোধ এ চেষ্টা ও মেহনতে ব্যয় করেন। যেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মুতাওয়াতির ও মুতাওয়ারাস আকীদা ও চিন্তায় কোনো ধরনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন অনুপ্রবেশ করতে না পারে। এমনকি এ প্রচেষ্টায় নিজের আপনজন বাধা হলেও তাদেরকে নিজেদের থেকে পৃথক করতে দ্বিধাবোধ করতেন না। যার একাধিক উদাহরণ আছে। দেওবন্দের পূর্বসূরিদের এই আন্তরিকতা, দ্বীনদারিতা ও দায়িত্বশীলতা ও পূর্ণ প্রচেষ্টার ফলাফল হয়েছে এই- আজ আমরা পূর্ণ বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে এ দাবি করতে পারি, আলহামদু লিল্লাহ আমাদের কাছে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা সে অবস্থাতেই আছে এবং সে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণসহই আছে, যে অবস্থায়, যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর মুসলমানদের কাছে ছিল। দেওবন্দের পূর্বসূরিদের জ্ঞানগত ও আত্মিক উত্তরাধিকারীরা কিয়ামত পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা সংরক্ষণের এ দায়িত্ব পালন করে যাবে। (আকায়েদে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, পৃ. ৩৫-৩৬) আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক আকীদা গ্রহণ করা, তার উপর অবিচল থাকা এবং তার সংরক্ষকদের কৃতজ্ঞতা আদায়ের তাওফীক দান করুন- আমীন।

তাঁকে ভালোবাসি প্রাণের চেয়েও বেশি।লেখক: মাওলানা মাসউদুযযামান.ভালবাসা হল হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক। আত্মার সাথে আত্মার ...
17/06/2022

তাঁকে ভালোবাসি প্রাণের চেয়েও বেশি।
লেখক: মাওলানা মাসউদুযযামান.

ভালবাসা হল হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক। আত্মার সাথে আত্মার বন্ধন। ভালবাসা মানে হল হৃদয়ের মণিকোঠায় কাউকে ঠাঁই দিয়ে সবকিছু তাকে সঁপে দেওয়া। ভালবাসা মানে যাকে ভালবাসি তার প্রতি হৃদয়ের গভীরে লালন করা এক অসীম আকর্ষণ, যে আকর্ষণের তীব্রতায় যাকে আমি ভালবাসি তার সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল হই, তার দর্শনলাভে অধীর হই এবং তাকে গ্রহণ ও বরণ করতে হৃদয়ের সমস্ত দরজা উন্মুক্ত করে দেই।

ভালবাসা হল হৃদয়ের মাঝে সদা অনুরণিত এক ঝংকার, এক অফুরন্ত সুখ-স্বাদ, এক অনির্বচনীয় স্নিগ্ধ আবেগ, যা রক্তধারায় মিশে গিয়ে সর্বসত্তায় আলোড়ন জাগায়। যার প্রকাশ ঘটে আমার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ ও বাক্যে, আমার নিত্যদিনের আচরণ ও কর্মে এবং দিন-রাতের ভাবনায় ও অনুভবে।

যাকে আমি ভালবাসি তাকে নিয়ে লিখি কত রচনা ও কবিতা গান। তার স্মরণে উদ্দীপ্ত হই, অশ্রু ঝরাই। তার প্রতি প্রেম, ভক্তি ও শ্রদ্ধা মিশ্রিত আলোচনায় আমার রসনা সিক্ত হয়।

যাকে আমি ভালবাসি ভালো লাগে তার সবকিছু। ভালো লাগে চলন ও বলন। ভালো লাগে তার জীবন যাপন। মনোমুগ্ধকর লাগে তার বক্তৃতা ও বয়ান। তার নীতি ও আদর্শ এবং ধারা ও ধরনকেই মনে হয় সর্বোৎকৃষ্ট। সবক্ষেত্রে তাই আমি তাকে অনুসরণ করতে চাই। সব বিষয়ে এবং সকল প্রসঙ্গে তাকেই প্রাধান্য দেই। তার ইচ্ছা ও পছন্দই অগ্রাধিকার দেই। তার আদেশ মান্য করতে, তার বারণ এড়িয়ে চলতে, তার উপদেশ পালন করতে এবং তার আবদার ও মিনতি রক্ষা করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি। তার চিন্তা ও চেতনা এবং শিক্ষা ও আদর্শের চর্চা ও প্রসারে নিবেদিত হতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভালবাসার এটাই ধর্ম, এটাই শিক্ষা।

যাকে ভালবাসি তার তরে কষ্ট বরণ হয়ে যায় আনন্দের। তার জন্য ত্যাগ ও আত্মদান হয়ে যায় গৌরবের। তাকে ভালবাসতে গিয়ে, ভালবাসার দাবি রক্ষা করতে গিয়ে যত বিপদ ও পরীক্ষা নেমে আসে, যত আঘাত ও দুর্ভোগ ধেয়ে আসে নিমিষে তা ম্লান হয়ে যায় ভালবাসার উত্তাপের কাছে। ভালবাসার এটাই স্বভাব।

যাকে ভালবাসি তার আনন্দে আমিও আনন্দিত এবং তার ব্যথায় আমিও ব্যথিত হই। তাকে কেউ আঘাত করলে সে আঘাত সরাসরি এসে লাগে আমার বুকে, আমার শরীরে। কেউ তাকে অসম্মান করলে আমি আহত হই। তাকে নিয়ে অবাস্তব কিছু বললে সংক্ষুব্ধ হই। তাকে কেউ কষ্ট দেবে এমন কথা কল্পনা করতেও কেঁপে উঠি। কেন? কারণ আমার ও তার আত্মা যে বাঁধা একই সুতোয়..!

আমার রাসূলকে, আমার প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি যে ভালবাসি, তাঁর ও আমার মাঝে ভালবাসার সেই বন্ধনসূত্রটি হল ঈমান। নবীর প্রতি ভালবাসা একইসাথে ঈমান গ্রহণের ফলাফল এবং ঈমানদারের স্বীকৃতি লাভেরও পূর্বশর্ত।

আমি মুমিন, তাই ভালবাসি আমার নবীকে। আবার নবীকে ভালবাসা ছাড়া আমি হতেই পারি না মুমিন! পেতে পারি না ঈমানের স্বাদ এবং মুমিন-হৃদয়ের তৃপ্তি ও শান্তি..। নবীজীর বাণীতেই রয়েছে নবীপ্রেমের এই বৈশিষ্ট্যের কথা। তিনি বলেছেন-

لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ.

তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, পুত্র এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৪

তিনি আরো বলেছেন-

ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلاَّ لِلهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللهُ مِنْهُ، كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ.

তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মাঝে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবে : এক. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়।

দুই. কাউকে ভালবাসলে শুধুই আল্লাহর জন্য ভালবাসে।

তিন. কুফুরি থেকে আল্লাহ তাকে পরিত্রাণ দেয়ার পর তাতে আবার ফিরে যেতে এতটাই অপছন্দ করে, যেমন অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে। -সহীহ মুসলিম , হাদীস ৪৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২০০২

আমার নবীকে তাই আমি ভালবাসি সকল মানুষের চেয়ে বেশি। তাঁকে ভালবাসি সন্তান ও সম্পদ এবং পরিজন ও প্রিয়জনের চেয়েও বেশি। সৃষ্টিজগতের সবকিছুর চেয়ে, এমনকি নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি। কেননা নবীর প্রতি মুমিনদের এমন ভালবাসাই তলব করেছেন রাব্বুল আলামীন-

اَلنَّبِیُّ اَوْلٰی بِالْمُؤْمِنِیْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَ اَزْوَاجُهٗۤ اُمَّهٰتُهُمْ.

মুমিনদের কাছে নবী তাদের প্রাণের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী আর তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা। -সূরা আহযাব (৩৩) : ৬

প্রাণের মায়া কার না আছে! মানুষ সবকিছুর মায়া ত্যাগ করতে পারে, কিন্ত জীবনের মায়া? মুমিনের কাছে নবীজীর ভালবাসা তার জীবনের চেয়েও দামী। সাহাবীদের মাধ্যমে গোটা উম্মতকে এ ভালবাসার অনুশীলন করিয়েছেন স্বয়ং নবীজী। উমর রা.-এর সঙ্গে নবীজীর সেই ঘটনাটিই এর সাক্ষী।

একবার সাহাবীগণ ছিলেন রাসূলের কাছে। তিনি ধরে রেখেছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাবের হাত। উমর তখন (ভালবাসায় উদ্বেলিত হয়ে) বললেন, ‘আপনি আমার কাছে সবকিছুর চাইতে প্রিয়; শুধু আমার জান ছাড়া’।

নবীজী বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, হবে না; যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয় হই।’

উমর এবার বললেন, ‘তাহলে এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়’।

নবীজী বললেন, ‘এখন হয়েছে উমর!’ -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৩২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৫০৩

নবীজী তাই আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও আপন। ফুলের শোভা ও সৌরভ যেমন ভালবাসি, পাখির কণ্ঠের সুমধুর গান যেমন ভালবাসি- শুধু মনের টানে, মুমিন হিসেবে নবীর প্রতি আমার ভালবাসা তেমনি স্বভাবজাত এবং তাঁর প্রতিই আমার টান সর্বাধিক। আমার মনের চূড়ামণিতে তাঁর অবস্থান। আমার হৃদয়ের সর্বোচ্চ আসনটি শুধুই তাঁর...। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

***

নবীর প্রতি আমার মায়া ও ভালবাসা কেন হবে না এমন, অথচ তিনি যে আমার প্রতি, আমাদের প্রতি এর চেয়েও বেশি দয়ালু ও মমতাশীল! তাই তো ইরশাদ হয়েছে-

لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ عَزِیْزٌ عَلَیْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِیْصٌ عَلَیْكُمْ بِالْمُؤْمِنِیْنَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ.

তোমাদের কাছে এসেছেন এমন এক রাসূল, যিনি তোমাদের নিজেদেরই লোক। তোমাদের যে-কোনও কষ্ট তার জন্য অতি পীড়াদায়ক। তিনি সর্বদা তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত সদয়, পরম দয়ালু। -সূরা তাওবা (৯) : ১২৮

রাসূলের প্রতি আমার মহব্বত কেন হবে না সবচে বেশি, অথচ তাঁর আগমন হয়েছে বলেই তো এই পৃথিবীতে আমার জন্ম-মৃত্যু হয়েছে সার্থক!

তিনিই যে আমার আলোর দিশারী! আমার শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক, আমার মুক্তির দূত, আমার নাজাতের জন্য সুপারিশকারী! ইহকাল ও পরকালে আমার মুক্তি ও সফলতার জন্য আমার চেয়েও বেশী চিন্তিত যিনি...! কেন তাঁকে ভালবাসব না, যাকে ছাড়া আমার এ-কূল ও-কূল দুই-ই ব্যর্থ, আমার চারিধার অন্ধকার?!

আমার প্রাণ উজাড় করা ভালবাসা কেন হবে না নবীর জন্য, অথচ আমার প্রতি তাঁর ঋণ যে সীমাহীন! তাঁর মাধ্যমেই তো আমি চিনেছি আমার আল্লাহকে। পেয়েছি কুরআন, লাভ করেছি এক পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও সর্বশ্রেষ্ঠ শরীয়ত! যে দ্বীন আমাদের শিখিয়েছে সভ্য মানুষের মত চলা। যে শরীয়ত আমাদের দেখিয়েছে ধরণী বক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারা।

কেন ভালবাসব না তাঁকে, যাকে ভালবেসেছেন স্বয়ং রাব্বুল আলামীন?! তাঁকে না ভালবাসলে আমি কি পাব রাব্বে কারীমের ভালবাসা?! তিনি তো তাঁর হাবীবকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন-

قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْكُمُ اللهُ وَ یَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَ اللهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.

হে নবী আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবেসে থাকো তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, চিরদয়াময়। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ৩১

কেন আমার সর্বোচ্চ ভক্তি ও শ্রদ্ধা হবে না তাঁর জন্য, যিনি সর্বোত্তম চরিত্র মাধুরীর অধিকারী সুন্দরতম মানুষ! স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা যাঁর চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন-

وَ اِنَّكَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیْمٍ.

আর নিশ্চয়ই আপনি অধিষ্ঠিত আছেন মহান চরিত্রে। -সূরা কলাম (৬৮) : ৪

আমার নবীকে আমি ভালবাসি তিনি আল্লাহর হাবীব বলে। আমার নবীকে আমি ভালবাসি তিনি আমার রাহবার বলে। প্রিয় নবীজীকে আমি ভালবাসি তাঁর চরিত্র মাধুর্যের জন্যে, তাঁর অনুপম আদর্শের জন্যে।

***

নবীকে ভালবাসি বলে আমি তাঁকে অনুকরণ করতে চাই সর্বান্তকরণে। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলার চেষ্টা করি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। নবীকে ভালবাসি বলে আমি ভালবাসি তাঁর সুন্নাহকে। আমার কথা ও কাজ সবকিছু করতে চাই তাঁর ঢঙে, তাঁর মতো ভঙ্গিতে এবং তাঁর শেখানো পদ্ধতিতে। কারণ আমি শুনেছি আমার নবী বলেছেন-

أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ.

তুমি যাকে ভালবেসেছো পরকালে তার সঙ্গেই থাকবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬১৭১, সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৩৯

তিনি আরো বলেছেন-

مَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي، وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الجَنَّةِ.

যে আমার সুন্নাহকে যিন্দা করল সে আমাকে ভালবাসল। আর যে আমাকে ভালবাসবে সে থাকবে জান্নাতে আমার সঙ্গে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৭৮, আলমুজামুল আউসাত, তবারানী, হাদীস ৫৯৯১

নবীকে ভালবাসি বলে আমি পছন্দ করি, যাকে ও যা-কিছু তিনি পছন্দ করেন এবং অপছন্দ করি, যাকে ও যেসব কিছুকে তিনি অপছন্দ করেন। কারণ মানুষ তার প্রিয় ব্যক্তির রুচি ও পছন্দই মেনে চলে।

নবীজীর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসা আমার রক্তধারায় প্রবাহিত বলে আমি সংবেদনশীল হই তাঁর প্রতি যে কোনো অসম্মানজনক আচরণে, তাঁকে নিয়ে অমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্যে ।

নবীর মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে আমার জীবন চলে যাওয়াও সহজ। কিন্তু দেহে প্রাণের স্পন্দন বাকি থাকতে সহ্য করা সম্ভব নয় তাঁর প্রতি সামান্যতম অসম্মান ও অসদাচরণ।

যায়েদ ইবনুদ দাছানা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কাফেরদের হাতে বন্দী হবার পর তাকে হত্যার আগে আবু সুফিয়ান বলেছিল, তুমি কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমার জায়গায় মুহাম্মাদ, তার শিরñেদ করা হচ্ছে আর তুমি রয়েছো তোমার বাড়িতে নিরাপদ? যায়েদ জবাব দিয়েছিলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি তো এটাও মানতে পারি না যে, মুহাম্মাদ (আমার জায়গায় নয়) তাঁর জায়গায়ই থাকবেন এবং একটি কাঁটাও বিদ্ধ হবে তাঁর শরীরে, অথচ আমি থাকব আমার ঘরে নিরাপদ-নিরুপদ্রব। -মা‘রিফাতুস সাহাবা, আবু নুআইম ৩/১১৮২

মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে নবীজীর এই প্রিয় সাহাবী যা বলেছিলেন তার মর্মকথা: ‘আমি নিরাপদ থাকব আর নবীজী সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হবেন, এটা আমি কখনোই মেনে নেব না...।’ মুমিন হিসেবে আমারও অভিব্যক্তি তা-ই।

আমার নবীপ্রেম আমার ঈমান। আমার প্রতি আমার আল্লাহর নির্দেশ। আমার ঈমান রক্ষায় আমি যেমন সচেতন, তেমনি সোচ্চার নবীজীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায়।

নবীকে ভালবাসি বলেই তাঁর বিধান ও ফরমান এবং তাঁর নির্দেশ ও নির্দেশনার মূল্য আমার কাছে সবচেয়ে বেশি। তাঁর আনীত দ্বীন ও শরীয়তের চর্চা ও বাস্তবায়ন এবং এর প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় জীবন বিলাতে তাই আমি ভালবাসি। এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত তাতেই যেন মগ্ন থাকি, সেই কামনা করি।

নবীজীকে ভালবাসি বলেই তাঁর বিধানের লঙ্ঘন হওয়া বরদাশত করতে পারি না। মেনে নিতে পারি না তাঁর বাণী ও বিধানের কোনো ধরনের অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি এবং কোনোরূপ অবজ্ঞা ও অমর্যাদা। যারা এ কাজ করে তাদের প্রতি তাই সংক্ষুব্ধ হই, প্রতিবাদে সরব হই এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলি, নবীপ্রেমের দাবিতেই, ঈমানের সহজাত দাবিতেই।

নবীকে ভালবাসি বলেই তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠাই। সবুজ গম্বুজের টানে দূর মদীনায় ছুটে যেতে চাই এবং তাঁর ভালবাসায় কেঁদে বুক ভাসাই।

নবীকে ভালবাসি বলেই ভালবাসি তাঁর পরিবারবর্গকে। তাঁর প্রিয় সাহাবীদেরকে এবং তাঁর আদর্শের অনুসারী ও এর শিক্ষাদানকারী মহান মানুষদের।

নবীজীকে ভালবাসি বলেই তাঁর আলোচনা শুনতে ও তাঁকে নিয়ে আলোচনা করতে ভালবাসি। তাঁর জীবনী পাঠ করে আনন্দ পাই। তাঁর বাণী ও বর্ণনার মাঝে তাঁকে খুঁজে ফিরি। যখন কুরআন পড়ি তাঁকে অনুভব করি। যখন হাদীস পড়ি তাঁকে অনুভব করি। যখন তাঁর সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের আদর্শের অনুসারীদের জীবন-বৃত্তান্ত পাঠ করি তখনও আমার নবীকে অনুভব করি। তাঁরই ছায়া ও প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই তাঁদের মাঝে, আর তাতে প্রশান্তি লাভ করি।

নবীজীকে আমি দেখিনি, তাঁর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হতে পারিনি। কিন্তু তাঁকে না দেখেও এবং তাঁর কালের বহুকাল পরে এসেও আমি ও আমরা যে ভালবাসব তাঁকে অনেক বেশি, সে কথাও বলে গেছেন তিনি-

مِنْ أَشَدِّ أُمَّتِي لِي حُبًّا، نَاسٌ يَكُونُونَ بَعْدِي، يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ رَآنِي بِأَهْلِهِ وَمَالِهِ.

আমার উম্মতের মধ্যে আমাকে সর্বাধিক ভালবাসে যারা তাদের এক দল আছে, যারা আমার পরে আসবে। এদের একেকজন কামনা করবে, যদি তার সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের বিনিময়ে হলেও আমাকে দেখতে পেত! -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৩২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৩৯৯

আমাদের কথা নবীজী স্মরণ করেছেন, আমাদের ভালবাসার আর্দ্রতা ও স্নিগ্ধতা তিনি অনুভব করেছেন- এর চেয়ে বড় সান্ত¡না আর কী!

নবীকে ভালোবেসে আল্লাহর ভালবাসা যেন নসীব হয় এবং জান্নাতে আল্লাহর দিদার ও নবীর সান্নিধ্য লাভ হয়, এটাই শুধু চাওয়া অধম উম্মতীর।

Address

সোনাপুর, সদর, নোয়াখালী, বাংলাদেশ।, Maijdee Court
Maijdee Court
3850

Opening Hours

Monday 08:00 - 22:00
Tuesday 08:00 - 22:00
Wednesday 08:00 - 22:00
Thursday 08:00 - 22:00
Friday 08:00 - 22:00
Saturday 08:00 - 22:00
Sunday 08:00 - 22:00

Telephone

+8801853551337

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা একাডেমি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা একাডেমি:

Share