19/05/2026
আপনার কুরবানী ভুল হচ্ছে নাতো?
কুরবানীর শরীকানায় অনেক সময় এমন কিছু ভুল হয়ে যায়, যা বাহ্যিকভাবে খুব সাধারণ মনে হলেও ফিকহের দৃষ্টিতে পুরো কুরবানীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে।
ধরুন, ৭ ব্যক্তি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করবেন কুরবানীর নিয়তে। সে হিসেবে প্রত্যেকের অংশ হলো ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রত্যেকে পশুর এক-সপ্তমাংশের মালিক।
কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেলো, কোনো একজন শরীক নিজের এক-সপ্তমাংশের অংশে অন্য একজনকে শরীক করে নিয়েছে। ফলে দু’জনে মিলে সেই ১০ হাজার টাকার অংশ গ্রহণ করেছে।
অথবা; ৭ জন শরীকের কোনো একজন শরীক ৭ হাজার টাকা দিয়ে শরীক হয়েছে,বাকী ৩ হাজার টাকা অন্য একজন শরীক নিজে দিয়ে ১৩ হাজার টাকার অংশ নিয়েছে।
এক্ষেত্রে কি আপনার কুরবানী সহীহ্ হয়েছে? না; আপনার কুরবানী সহীহ্ হয়নি।
কারণ, শরীয়তের দৃষ্টিতে কুরবানীর বড় পশুতে(উট,গরু,মহিষ) প্রত্যেক শরীকের অংশ স্বতন্ত্রভাবে কমপক্ষে এক-সপ্তমাংশ (السُّبُع) হওয়া আবশ্যক। এক-সপ্তমাংশের কম অংশ নিয়ে শরীক হওয়া বৈধ নয়। এখানে বাস্তবে একজনের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হয়ে গেছে। ফলে শরীকানার শর্ত ভঙ্গ হওয়ার কারণে সকলের কুরবানী নষ্ট হয়ে যাবে।
ফিকহের কিতাবে এসেছে –
“ولا يجوز أن يكون نصيب أحد أقل من السبع”
অর্থাৎ, “কোনো শরীকের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হওয়া জায়েয নয়।
— الفتاوى الهندية : ৫/৩০৪
আরেক স্থানে রয়েছে –
“إذا نقص نصيب أحدهم عن السبع لم يجز عن أحد منهم”
অর্থাৎ, “যদি কোনো একজনের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হয়, তবে কারো পক্ষ থেকেই কুরবানী সহীহ হবে না।”—
৫/৭১: بدائع الصنائع:
কুরবানীতে শরীকানা করার আগে শুধু
টাকা জমা দিলেই হবে না; শরীয়তের নির্ধারিত নিয়মও সঠিকভাবে জানা জরুরি।
কারণ, ইখলাসের সাথে আমল করার পাশাপাশি আমলটি সহীহ হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আপনার কুরবানী রবের তরে গ্রহনযোগ্য হতে গেলে অবশ্যই এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন, আমীন।
#কুরবানী #কুরবানীর_মাসআলা #ফিকহ #ঈদুল_আযহা #দারুল_উলুম_গোরস্থান_মাদরাসা_ছয়চার