13/05/2026
তুলসী দেবী: হিন্দুধর্মে পূজনীয়া — কাহিনি ও মাহাত্ম্য
হিন্দুধর্মে তুলসী গাছকে অত্যন্ত পবিত্র ও দেবীস্বরূপ মানা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “যেখানে তুলসী, সেখানে শ্রীহরি।” অর্থাৎ তুলসী দেবী ভগবান বিষ্ণুর অতি প্রিয়।
পুরাণ অনুযায়ী, তুলসী দেবীর পূর্বজন্মের নাম ছিল বৃন্দা। তিনি ছিলেন এক মহান পতিব্রতা নারী এবং অসুররাজ জলন্ধরের পত্নী। বৃন্দার সতীত্বের শক্তির কারণেই জলন্ধরকে কোনো দেবতা পরাজিত করতে পারছিলেন না। তখন ভগবান বিষ্ণু এক বিশেষ লীলা করে বৃন্দার সতীত্ব ভঙ্গ করেন, ফলে জলন্ধরের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা জানার পর বৃন্দা ভগবান বিষ্ণুকে অভিশাপ দেন যে তিনি পাথররূপে পূজিত হবেন। সেই থেকেই শালগ্রাম শিলার উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। পরে বৃন্দা নিজের দেহ ত্যাগ করলে দেবতারা তাঁকে তুলসী গাছরূপে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেন। ভগবান বিষ্ণু আশীর্বাদ দেন যে, তুলসী ছাড়া তাঁর পূজা সম্পূর্ণ হবে না।
তাই হিন্দু ঘরে তুলসী গাছকে শুধু একটি গাছ নয়, বরং দেবী রূপে পূজা করা হয়। প্রতিদিন সকালে স্নান করে তুলসী গাছে জল দেওয়া, প্রদীপ জ্বালানো ও প্রণাম করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী গাছে জল দিলে সংসারে সুখ, শান্তি ও পুণ্য বৃদ্ধি পায় এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
হিন্দুধর্মে প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় তুলসী গাছে জল দিয়ে প্রণাম করার সময় এই মন্ত্রটি পাঠ করা হয়:
তুলসী প্রণাম মন্ত্র:
ওঁ বৃন্দায়ৈ তুলসীদৈব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ ।
বিষ্ণুভক্তিপ্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ ।।
অর্থ: হে বৃন্দা (তুলসী), হে কেশবপ্রিয়া (বিষ্ণুপ্রিয়া), হে বিষ্ণুভক্তি প্রদায়িনী, হে সত্যবতী দেবী, তোমাকে বারবার প্রণাম জানাই।
তুলসী প্রদক্ষিণ মন্ত্র (পরিক্রমার সময়):
যানি কানি চ পাপানি ব্রহ্মহত্যাদিকানি চ।তানি তানি প্রণশ্যন্তি প্রদক্ষিণ পদে পদে।।
তুলসী পাতা তোলার মন্ত্র:
ওঁ তুলস্যমৃতজন্মাসি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়া,কেশব-অর্থে চিনোমি ত্বাং বরদা ভব শোভনে।
জয় তুলসী দেবী। জয় শ্রীহরি।