10/12/2025
হিফজ শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্য ৮টি পরামর্শ
১. হিফজের বিষয়টা নির্ভর করে একটা সন্তানের মেধার ওপর। মেধার তারতম্যভেদে সময় কমবেশি লাগতে পারে। সাধারণ মেধার একটা সন্তান যদি ঠিকমতো পড়াশোনা করে, তবে পুরো কুরআন হিফজ করতে ৩ বছর লাগে সাধারণত। আর মেধা একটু বেশি হলে দুই-আড়াই বছর বা তারচেয়ে কম সময় লাগে।
২. হিফজের ক্ষেত্রে মাদরাসা কতটুকু ভালো, এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, যেই উস্তাদের কাছে পড়ছে তিনি কতটুকু ভালো।
৩. হিফজের ক্ষেত্রে মূল হলো পেছনের পড়া মনে রাখা। সামনে যত দ্রুতই আগাক না কেন, পেছনের পড়া যদি ইয়াদ (মনে) না থাকে, তাহলে ফলাফল শূন্য।
৪. হিফজখানার পড়ালেখার নিয়মনীতি ভালোমতো জেনে নিন। সকালে সবক, তারপর সাতসবক, তারপর দুপুরে আমুখতা, দৈনিক তিলাওয়াত, বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সবিনা, সবকের পারা শোনানো ইত্যাদি ঠিকমতো সবকিছু হচ্ছে কি না খোঁজ নিন।
৫. হাফেজী কুরআনের প্রতি পারা ২০ পৃষ্ঠা করে থাকে। শুধু ২৯ ও ৩০ একটু বেশি। প্রতিদিন সাধারণ মেধার একটা ছেলে ১ পৃষ্ঠা করে নতুন সবক শোনাতে পারে। সেই হিসেবে ২০ দিনে ১ পারা। চলতি পারার নতুন সবকের পরে সেই পারার পেছনের অংশটুকু শোনাতে হয়। এটাকে সাতসবক বলে। পেছনের অন্য পারার পড়া শোনানোকে আমুখতা বলে।
৬. ওপরের বিবরণ পড়ে নিশ্চয়ই বুঝেছেন, হিফজখানার একটা সন্তানকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। তাই তার ভালো খাওয়া-দাওয়া, প্রয়োজনীয় বিশ্রামের খোঁজখবর রাখুন। একঘেয়েমি দূর করতে ছুটির দিনগুলোকে কোথাও ঘুরতে/বেড়াতে নিয়ে যান। যাতে তার মন-ব্রেইন ফ্রেশ হয়।
৭. হিফজখানার একজন শিক্ষকের প্রচুর পরিশ্রম হয়। তাদের ডিউটি থাকে ২৪ ঘণ্টার এবং সারাদিন অনবরত। সেই তুলনায় তাদের বেতন থাকে অপ্রতুল। সাধ্য থাকলে তাদের মাঝেমাঝে হাদিয়া দিতে পারেন। এটি তাদের খুশির কারণ হবে। তাদের দুআ আপনার সন্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৮. আপনার বাসায় টিভি রাখবেন না। সন্তানকে নাচ-গান-মুভি ইত্যাদি গুনাহের আসবাব থেকে দূরে রাখুন। মোবাইল-ট্যাব এসবে সে কী দেখছে নজরদারিতে রাখুন। কেননা যে চোখে তার অন্তরে গুনাহের স্বাদ ঢুকে পড়ে, সেখানে আর আল্লাহর কালাম ঢুকে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হাফেজ সন্তানের মা-বাবা হওয়ার তাওফিক দান করুন, আমিন।
‘তাদাব্বুরের সরোবরে’ বই থেকে,
লেখক- আবদুল্লাহ আল মাসউদ