রায়পুর শ্রী শ্রী মহামায়া মন্দির

  • Home
  • Bangladesh
  • Lakshmipur
  • রায়পুর শ্রী শ্রী মহামায়া মন্দির

রায়পুর শ্রী শ্রী মহামায়া মন্দির যা দেবী সর্বঃভূতেসু শক্তি রূপেণসংস্থিতা l

নমঃস্তসে || নমঃস্তসে || নমঃস্তসে ||

নমো নমঃ

|| শিবকে ধুতুরা ফুল ও ফল কেন দেওয়া হয়? ||আজ শ্রাবণের শেষ সোমবার। তাই বাবার মাথায় জল ঢালার জন্য ভিড়ও প্রচন্ড। শুধুই ক...
17/08/2026

|| শিবকে ধুতুরা ফুল ও ফল কেন দেওয়া হয়? ||
আজ শ্রাবণের শেষ সোমবার। তাই বাবার মাথায় জল ঢালার জন্য ভিড়ও প্রচন্ড। শুধুই কি বাবার মাথায় জল ঢালা? তার সাথে অনেকে আজকে দেবেন ধুতুরা ফুল ও ফল, বেলপাতা ইত্যাদি। বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম উপাচার নিয়ে যান। তবে সর্বাপেক্ষা বেশি যেটি ব্যবহৃত হয় সেটি হল ধুতুরা ফুল ও ধুতুরা ফল ‌। কিন্তু হঠাৎ করে এই ধুতুরা ফুল ও ফলের ব্যবহারই কেন এলো?

এ সম্বন্ধীয় ব্যাখ্যা খুবই সহজ। মনে করা হয় পৌরাণিক কালে যখন সমুদ্রমন্থন হয়েছিল তখন হলাহল দেবাদিদেব মহাদেব নিজে গ্রহণ করেছিলেন। এই বিষ গ্রহণ করার জন্য তাঁর সারা শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এখন শরীরে ও মাথায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা প্রশমনের জন্য দেহকে শীতল করা দরকার। ধুতুরা ফুলের বিশেষ শীতল গুণ রয়েছে এমনটাই মনে করা হয় পৌরাণিক ব্যাখ্যায়। বামন পুরাণেও দেবাদিদেবের বক্ষ থেকে ধুতুরা ফুল বের হয়েছিল এমনটা শোনা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোকমুখে প্রচারিত। যার জন্য দেবাদিদেবের মাথায় জল ঢালার পাশাপাশি ধুতুরা ফুলকেও ব্যবহার করা হয়। যাতে তাঁর শরীর শীতল হয়।

একটা সহজ প্রাপ্ত ফুল ও ফল যা বনেবাদাড়ে পাওয়া যায়। আপনি সচরাচর ধুতুরা ফুল কোন বাড়িতে সেভাবে পেতে দেখবেন না। হয়তো বা পাওয়া যেতে পারে তবে মূলত বন এলাকাতেই ধুতরা ফুল ও ফল বেশি পাওয়া যায়। এটার সাথে শিবের একটা যোগসূত্র আছে। শিব যেমন আশুতোষ নিজে খুব সহজ, অহংকারী একদমই নয়, তেমনি ধুতুরা ফুল সর্বত্র পাওয়া যায়। খুব সহজলভ্য।

ধুতুরা নিজে কিন্তু একটি বিষাক্ত গাছ । এর ফল বিষাক্ত। আবার সেই দিক থেকে দেখতে গেলে শিব নিজে কিন্তু বিষকে কন্ঠে ধারণ করেছেন। অর্থাৎ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিষ প্রতীকী অর্থ বহন করছে। অনেক ক্ষেত্রে মনে করা হয় বিষ, বিষ কে প্রশমন করে সেই ধারণা কতটা এখানে প্রযোজ্য সেটা আলোচনা সাপেক্ষ। তবে উভয়ের ক্ষেত্রে যে বিষ প্রতীকী অর্থ আছে, সেটার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ধুতুরা ফুল ত্যাগ ও সংযমের প্রতীক। শিবও তাই। সবকিছু ত্যাগ করেই তিনি মহাযোগী হয়েছেন। তাই এই প্রতীকী ব্যাখ্যাটিও এর সাথে যায়।

ধুতুরা ফুল ও ফল প্রকৃতিতে বিষাক্ত। অনেক ধুতুরা ফল খেলে মারা যান। তাই সরাসরি খাওয়া একদমই নিষিদ্ধ। কিন্তু এই বিষ গুণের জন্য ওর কিছু ঔষধি গুণ আছে। যেটা বিভিন্ন ঔষধি তৈরি করতে সক্ষম। অর্থাৎ এটাও বুঝাচ্ছে যে ধুতুরা ফলের সঠিক ব্যবহারে তা উপকার এবং বেঠিক ব্যবহার করে তা মৃত্যুর কারণ। দেবাদীদের কেও যদি সঠিক কর্মের জন্য ডাকা হয় তবে তিনি কল্যাণকারী, কিন্তু নিজের খারাপ কর্মের জন্য যদি ডাকা হয় তাহলে কিন্তু তিনি ততটাই সংহার মূর্তি ধারণ করেন।

ধুতুরা ফল ও ফুল বিষাক্ত। এই সব কিছু জিনিসই আমরা দেবাদিদেবকে অর্পণ করছি। অর্থাৎ যা আমাদের কাছে ত্যজ্য তা ওনার কাছে গ্রহণীয়।‌ এই ভাবেই তো তিনি বিশ্বপিতা হয়ে উঠেছেন। এবং সকলের যা পরিত্যজ্য তাই তিনি গ্রহণ করে থাকেন।

এবার কয়েকটা শাস্ত্রীয় দিক বলি। ভক্তি ভরে একটি ধুতুরা ফুল দেবাদিদেব কে দিলে মনে করা হয় এক বছরের একাদশী ব্রতের পালনের সমান ফল লাভ হয়। শনিবার শিবলিঙ্গে ধুতুরা ফুল দিলে শনির দোষ ও কর্ম ক্ষেত্রে বাধা দূর হয়। যদিও আপনাকে আপনার কর্মের ফল পেতেই হবে ‌। তাই নিজের কর্ম ভালো থাকা দরকার।

আমাদের জীবনে যা কিছু নেতিবাচক তা তা শিবের কাছে অর্পণ করে নিজে শুদ্ধ হওয়াই আমাদের কর্তব্য। ধুতুরা সেই দায়িত্বই নেয়। তবে এমন কোন বিষয় নেই যে শুধু ধুতুরাই দিতে হবে। মন থেকে আপনি যা দেবেন আশুতোষ সেটাই গ্রহণ করবেন। কিন্তু অটল ভক্তি থাকাটা দরকার।

হর হর মহাদেব। আপনাদের কল্যাণ হোক!

লেখায় : Krishnendu Mondal

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারশ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার—ভক্তি, প্রার্থনা আর আধ্যাত্মিকতার এক পবিত্র দিন। এই দিনে শিবভক্তদের মনে জ...
17/08/2026

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার—ভক্তি, প্রার্থনা আর আধ্যাত্মিকতার এক পবিত্র দিন। এই দিনে শিবভক্তদের মনে জাগে বিশেষ এক অনুভূতি। বেলপাতা, ধুতুরা, ফুল আর গঙ্গাজল দিয়ে মহাদেবের পূজা করে সবাই প্রার্থনা করে—জীবনের সব অন্ধকার দূর হোক, সংসারে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি।

শ্রাবণের প্রতিটি সোমবারই যেমন শিব আরাধনার জন্য বিশেষ, তেমনি শেষ সোমবারের আবেগ যেন একটু বেশি। পুরো মাসজুড়ে যে ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে মহাদেবকে স্মরণ করা হয়, শেষ সোমবারে এসে তারই পূর্ণতা অনুভব হয়।

হে মহাদেব,
আমাদের সকল দুঃখ-কষ্ট দূর করে মনকে শান্ত করো। জীবনে সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের পথে চলার শক্তি দাও। তোমার আশীর্বাদে সবার ঘর ভরে উঠুক সুখ, শান্তি ও ভালোবাসায়।

হর হর মহাদেব 🙏🙏

||শ্রাবণের মেঘ, কাদা-মাটির শিবলিঙ্গ আর এক রাজকন্যার মহাজয়: আজ কেন শ্রাবণের চতুর্থ সোমবার এত অলৌকিক?||আজ শ্রাবণ মাসের চতু...
10/08/2026

||শ্রাবণের মেঘ, কাদা-মাটির শিবলিঙ্গ আর এক রাজকন্যার মহাজয়: আজ কেন শ্রাবণের চতুর্থ সোমবার এত অলৌকিক?||

আজ শ্রাবণ মাসের চতুর্থ সোমবার। ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটা হয়তো আর পাঁচটা বর্ষণমুখর দিনের মতোই শান্ত, কিন্তু আমাদের ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের গভীরতম অলিন্দে আজকের এই প্রহর এক চরম অলৌকিকতার সাক্ষী। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, শ্রাবণের এই বিশেষ মাসেই কেন কোটি কোটি মানুষ খালি পায়ে, গঙ্গার জল পাত্রে নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যান? কেন শিবের আরাধনায় 'সোম' আর 'শ্রাবণ' একবিন্দুতে এসে এমন এক গভীর আবেগের মিলনক্ষেত্র তৈরি করে?

এই পরম তিথির সূচনা হয়েছিল এক অসম্ভব জেদ আর অচলা ভক্তির মধ্য দিয়ে। হিমালয়রাজ হিমালয় ও মেনকা দেবীর রাজপ্রাসাদে তখন সোনার অলংকারের ঝনঝনানি, রেশমি বস্ত্রে সুসজ্জিত সুখের জীবন। কিন্তু তরুণী পার্বতীর হৃদয় জুড়ে তখন কেবল এক নিরাসক্ত, শ্মশানবাসী ভোলাভাবের সন্ন্যাসী—দেবাদিদেব মহাদেব। তাঁকে পতিরূপে পাওয়ার কঠোর পণ করে রাজপ্রাসাদের সমস্ত ভোগ-বিলাস একপলকে ছুড়ে ফেলে অরণ্যের নির্জনতায় নেমে এলেন রাজকন্যা।

শ্রাবণ মাসের অঝোর ধারায় যখন আকাশ ভেঙে প্রলয় নামছে, হিমালয়ের কনকনে বাতাসে হাড় কেঁপে উঠছে, তখন শুরু হলো তাঁর সোমব্রত। প্রথম সোমবারে ভিজল শরীর, দ্বিতীয় সোমবারে ত্যাগ করলেন আহার, তৃতীয় সোমবারে গাছের শুকনো পাতাও খাওয়া ছেড়ে নাম হলো 'অপর্ণা'। আর আজকের এই চতুর্থ তথা শেষ সোমবারে তাঁর পরীক্ষা পৌঁছাল চরমে।
শ্রাবণের শেষ প্রহরে নদীর কাদা-মাটি দিয়ে নিজের হাতে গড়েছিলেন এক 'পার্থিব শিবলিঙ্গ'। আষাঢ়-শ্রাবণের উন্মত্ত জলস্রোত বারবার ধুয়ে নিয়ে যেতে চাইল সেই কাঁচা মাটির লিঙ্গকে। ভিজে জমাট বাঁধা শরীরে নিজের দুই হাত দিয়ে সেই নরম মাটির শিবলিঙ্গ আঁকড়ে ধরে রইলেন পার্বতী। চোখে কোনো জল নেই, মুখে কেবল একটিই জপ—ওঁ নমঃ শিবায়। এক রাজকন্যার এই অলৌকিক ব্যাকুলতার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেন মহাকাল। মাটির লিঙ্গ ফুঁড়ে আবির্ভূত হয়ে পার্বতীর হাত দুটি নিজের হাতে তুলে নিয়ে বললেন, "তোমার তপস্যা পূর্ণ হলো।"

কিন্তু কেন এই বিশেষ ব্রতের নাম 'শ্রাবণ সোমবার'?

বৈদিক শাস্ত্র মতে, শ্রাবণ হলো নক্ষত্রমণ্ডলীর 'শ্রবণা' নক্ষত্রের মাস, যা মানুষের চঞ্চল মনকে শান্ত ও পুণ্যমুখী করে। অন্যদিকে, 'সোম' শব্দের দুটি অতি সুন্দর অর্থ রয়েছে। প্রথমত, 'সোম' অর্থাৎ চন্দ্রদেব—যাঁকে মহাদেব নিজের মস্তকে ধারণ করে প্রবৃত্তি ও তাপ দূর করেন। দ্বিতীয়ত, 'সোম' শব্দের ব্যবচ্ছেদ করলে দাঁড়ায় 'স + উমা', অর্থাৎ উমা বা পার্বতীকে সাথে নিয়ে মহাদেবের পূর্ণ রূপ। ফলে শ্রাবণ মাসের সোমবারে জল নিবেদন করা মানেই পার্বতী ও শিবের সেই অমলিন প্রেম এবং দেবাদিদেবের পরম করুণাকে নিজের জীবনে বরণ করে নেওয়া।

বাঙালি সংস্কৃতিতে এই শ্রাবণ সোমবারের প্রভাব শিকড় ছুঁয়ে আছে। শ্রাবণের মেঘলা দিনে যখন গ্রাম-বাংলার ধানক্ষেত সবুজে ভরে ওঠে, তখন নদী থেকে জল তুলে খালি পায়ে তারকেশ্বর, বাণেশ্বর বা ভূতনাথের উদ্দেশ্যে হেঁটে চলা কেবল কোনো ধর্মীয় আচার নয়—এটি বাঙালির যৌথ আবেগ ও সংহতির এক মহাউৎসব। কাঁধে বাঁক তুলে "ভোলে বাবা পার করেগা" ধ্বনিতে মুখরিত পথগুলোতে ধনী-দরিদ্রের সমস্ত বিভেদ মুছে যায়। শ্রাবণের প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা আর শিবলিঙ্গে ঢালা একঘটি জল যেন বাঙালির আবহমান সহনশীলতা, ধৈর্য ও চিরন্তন বিশ্বাসের প্রতীক।

আজকের এই চতুর্থ সোমবারে আপনার আড়ম্বরপূর্ণ পূজোর প্রয়োজন নেই; পার্বতীর মতো একটি নিখাদ বিশ্বাস আর মনের নিভৃত ভালোবাসাই যথেষ্ট।

গল্পটি আপনার মন ছুঁয়ে থাকলে অবশ্যই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার (Share) করুন, কমেন্টে লিখুন "হর হর মহাদেব!" 🔱 এবং এই ধরনের গভীর পৌরাণিক, সাংস্কৃতিক ও মননশীল লেখা নিয়মিত পড়তে পেজটি ফলো করে সাথে থাকুন।

@চিত্রগুপ্ত
সংগৃহীত

দ্বিতীয় থেকে বাকী সোমবারে কি অর্পণ করবেন মহাদেবকে তা জেনে রাখুন?এই শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবার শিবলিঙ্গে এক মুষ্টি করে ন...
27/07/2026

দ্বিতীয় থেকে বাকী সোমবারে কি অর্পণ করবেন মহাদেবকে তা জেনে রাখুন?
এই শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবার শিবলিঙ্গে এক মুষ্টি করে নির্দিষ্ট শস্য অর্পণ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে ভগবান শিব প্রসন্ন হন এবং পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
🌿দ্বিতীয় সোমবার এক মুষ্ঠি সাদা তিল অর্পণ করবেন।
🪷তৃতীয় সোমবার এক মুষ্ঠি সবুজ মুগ ডাল।
🌿চতুর্থ সোমবার এক মুষ্ঠি যব অর্পণ করবেন।
🪷পঞ্চম সোমবার এক মুষ্ঠি গম।
তবে শ্রাবণের প্রতি সোমবারে অখন্ড আতপ চাল কিন্তু মহাদেবকে অর্পণ করতে ভুলবেন না।মহাদেবের কৃপা সবার উপর বর্ষিত হোক 🙏🙏
হর হর মহাদেব 🙏🙏
ॐ नमः शिवाय

||  অম্বুবাচী : কী এবং কেন  ||আজ থেকে শুরু হল অম্বুবাচী, আজ অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও যেদিন শেষ হবে সেদিন অম্বুবাচী নিবৃত্তি...
22/06/2026

|| অম্বুবাচী : কী এবং কেন ||

আজ থেকে শুরু হল অম্বুবাচী, আজ অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও যেদিন শেষ হবে সেদিন অম্বুবাচী নিবৃত্তি। গুপ্তপ্রেস মতে আজ রাত ৯টা ৮ মিনিট থেকে তিথিটি শুরু হচ্ছে। পৃথিবী যখন সূর্যের মিথুন রাশিস্থ মৃগশিরা নক্ষত্র শেষে আর্দ্রা নক্ষত্রে অবস্থান করে তখনই অম্বুবাচী শুরু হয়। এটা কিন্তু বর্ষার ও সূচনা।

শাস্ত্র বলে এই আকাশ যদি পুরুষ হয়, ধরিত্রী স্ত্রীলিঙ্গ। এই দুইয়ের মিলন ঘটে বর্ষার বৃষ্টির মাধ্যমে। দুজনের মিলনে সৃষ্টি হয় ফসল। এটাই অম্বুবাচীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। মা এইসময় ধরিত্রীর সকল নারীর মতোই ঋতুমতী হন। তাই মায়ের দরকার বিশেষ যত্নের।

আজকের দিনে দাঁড়িয়েও অম্বুবাচী সম্বন্ধে মানুষের বেশ কিছু ভুল ধারণা থেকে যাচ্ছে। এসম্পর্কে কিছু বিষয় পরিষ্কার হয় ব্রহ্মপুরাণের থেকে।

ব্রহ্মপুরাণ বলে অম্বুবাচী চলাকালীন মাটিতে খোঁড়া বা বৃক্ষরোপণ জাতীয় কাজ বন্ধ রাখতে ও পূজনীয় নদনদী গুলিতে মলমূত্র ত্যাগ করলে নরকবাসী হয়।

এখন পুরাণের কথাগুলি যদি আক্ষরিক অর্থ ধরে যদি এগোই তাহলে এর সঠিক অর্থ আমরা বুঝতে পারিনা। এর প্রধান অর্থ এই যে এই সময় বৃষ্টি বাদলের সময়, অনেক ক্ষেত্রে বন্যার মত পরিস্থিতি হয়, তাই এখন যদি আমি রাস্তায় যে কোনো কাজের জন্য বড় বড় গর্ত খুঁড়ি তা জলে ডুবে যাবে এবং পথচলতি মানুষের জন্য বিপদ হতে পারে! আবার নদীতে যদি আমি শৌচকর্ম করি , তাহলে সেই জীবাণু বন্যার জলের মাধ্যমে অন্যের বাড়িতে চলে যাবে ও রোগের প্রকোপ বাড়বে! মাথায় রাখতে হবে এই বর্ষাকাল কিন্তু রোগজ্বালা ছড়ানোর প্রধান সময়। আমি যদি নিজে এইসব কাজ করে অন্য মানুষের ক্ষতি করি, তাহলে আমার ক্ষেত্রে ভালো কখনোই হবেনা।

অনেকে এই অম্বুবাচী চলাকালীন ঘরের নিত্য পূজা বন্ধ রাখেন, দেবীমূর্তি একদম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন। এটা একদম ভুল। আমার ঘরের মেয়ে যদি ঋতুমতী হয় , আমি তাকে নিশ্চয়ই না খেতে দিয়ে শাড়ি কাপড়ে ঢেকে রাখবোনা , আমাদের ঘরের দেবদেবীরা আমাদের নিজেদের মানুষ। তাদের সাথে এই ভেদাভেদ কেন?

নিত্য পূজার অর্থ আমাদের ঘরের দেবদেবী কে নিত্য সেবা ও আহার প্রদানের মত বিষয়‌। এ বন্ধ রাখতে নেই। আর বন্ধ রাখতে নেই আগে থেকে সংকল্প করে রাখা কোনো পূজা। নিত্যদিনে একবার ভাবুন আমরা তো কতই আঘাত করে চলেছি ধরিত্রী মা কে। তা কি পুরোপুরি বন্ধ সম্ভব? সম্ভব নয়। তাই অম্বুবাচী নিয়েও আমাদের অতিরিক্ত কিছু করার নেই। তবে হ্যাঁ এই সময়টা মায়ের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন আছে। তাই বিশেষ অর্চনা করা যায় তবে একান্তে করাই শ্রেয়। মায়ের কৃপা থাকলে এই সময়ে আপনার ভাগ্য খুলে যেতে পারে। একান্তে জপ করাও খুব উপকারী।

পরিশেষে বলি অম্বুবাচী সম্পর্কিত বিধি একান্তই কামাখ্যা মন্দিরের বিধি। এই তিনদিন ঐ মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকলেও গুপ্ত পূজা চলতে থাকে। আমাদের এই বিষয়ে এত ভাবনার দরকার নেই, শুধু দেখতে হবে আমরা যাতে ঘরের মায়ের আরাধনা বন্ধ না করি। আর আমাদের পুরাণের কথাগুলির আক্ষরিক অর্থ না ধরে তার অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝাই আমাদের কর্তব্য।

✍️ লেখনী ঋণ :- কৃষ্ণেন্দু মন্ডল মহাশয়।

📸 ছবি : Ai জেনারেটেড

#দশমহাবিদ্যা

ফলহারিণী অমাবস্যা ও শনি জয়ন্তী একসাথে  দিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এই দিনে মা দক্ষিণা কালী ও শনিদেবের কৃপা পেতে কিছু সহজ ন...
16/05/2026

ফলহারিণী অমাবস্যা ও শনি জয়ন্তী একসাথে দিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী।
এই দিনে মা দক্ষিণা কালী ও শনিদেবের কৃপা পেতে কিছু সহজ নিয়ম মানতে পারেন।
১। সকাল থেকে মন শান্ত রেখে সৎ চিন্তা করুন।
২। কালো তিল ও সরিষার তেলের প্রদীপ শনিদেবকে অর্পণ করুন।
৩। মা দক্ষিণা কালীর সামনে লাল ফুল ও লাল কাপড় নিবেদন করুন।
৪। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে খাদ্য বা বস্ত্র দান করুন।
৫। কাক, কুকুর বা গরুকে খাবার দিলে শনি দোষ শান্ত হয় বলে মানা হয়।
৬। “ওঁ ক্রিং কালিকায়ৈ নমঃ” ও “ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ” জপ করতে পারেন।
৭। রাগ, অহংকার ও অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।
৮। সন্ধ্যায় বাড়িতে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করুন।
৯। মদ, মাংস ও অশুদ্ধ আচরণ এদিন এড়িয়ে চলা ভালো।
১০। ভক্তিভরে মা কালী ও শনিদেবের কাছে কর্মের শুদ্ধি ও জীবনের বাধা দূর করার প্রার্থনা করুন।
“ভক্তি, দান ও সৎকর্মই এই বিশেষ তিথিতে সবচেয়ে বড় উপায়।”
শনি দেবের আরাধ্যা মহাদেব
এবং মা দক্ষিণা কালী।
জয় মা 🌺🌺
জয় গ্রহ রাজ শনি দেবের জয়।

||এক টুকরো ফল আর অটল বিশ্বাস! কীভাবে আপনার জীবন বদলে দিতে পারে ফলহারিণী অমাবস্যা? জানুন এর অলৌকিক কাহিনি||আজ ১৬ই মে, শনি...
16/05/2026

||এক টুকরো ফল আর অটল বিশ্বাস! কীভাবে আপনার জীবন বদলে দিতে পারে ফলহারিণী অমাবস্যা? জানুন এর অলৌকিক কাহিনি||

আজ ১৬ই মে, শনিবার। বাইরে জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ, আর ঠিক এই সময়েই প্রকৃতি তার ডালি সাজিয়ে দেয় নানা রসালো ফলের সম্ভারে— আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল। কিন্তু আপনি কি জানেন, জ্যৈষ্ঠ মাসের এই অমাবস্যা তিথিটি সাধারণ কোনও রাত নয়? সনাতন ধর্ম ও বাঙালি জীবনে এই রাতটি এক পরম পবিত্র এবং রহস্যময় তিথি— ফলহারিণী অমাবস্যা।

ভাবুন তো, এমন একটি দিন যেখানে আপনার মনের দীর্ঘদিনের কোনও সুপ্ত বাসনা কেবল একটিমাত্র ফল উৎসর্গ করার মাধ্যমে পূরণ হতে পারে! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, যুগ যুগ ধরে অগণিত ভক্ত এই বিশেষ দিনটির দিকে চাতকের মতো চেয়ে থাকেন। আসুন, আজ গল্পের ছলে জেনে নিই এই তিথির মাহাত্ম্য এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এক অভূতপূর্ব প্রেমের ও ভক্তির কাহিনি।

# # # 'ফলহারিণী' শব্দের অর্থ কী?

খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, 'ফল' এবং 'হারিণী' (যিনি হরণ করেন)। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, মা কালী এই তিথিতে তাঁর ভক্তদের জীবনের সমস্ত অশুভ কর্মফল হরণ করে নেন। আমরা জীবনে জেনে বা না জেনে যেসব পাপ বা ভুল কাজ করে ফেলি, তার ফলে যে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয়, মা আজ সেই সব বিষাদ হরণ করে আমাদের এক নতুন, শুদ্ধ জীবন দান করেন। রোগ, ব্যাধি, দেনা বা সাংসারিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে আজ তাই মায়ের কাছে আকুল প্রার্থনা জানান ভক্তরা।

# # # আপনার ভাগ্য ফেরাতে পারে যে ছোট্ট নিয়মটি!

জ্যোতিষ এবং শাস্ত্র মতে, ফলহারিণী পুজোয় একটি অত্যন্ত অদ্ভুত ও সুন্দর নিয়ম রয়েছে, যা নিষ্ঠাভরে পালন করলে অভাবনীয় ফল মেলে। নিয়মটি ভারী চমৎকার:
* আজকের দিনে মাকে আপনার সবচেয়ে প্রিয় একটি মরশুমি ফল (যেমন ধরুন আম, লিচু বা কলা) দিয়ে পুজো দিন।
* মায়ের কাছে নিজের মনের সবচেয়ে গভীর ইচ্ছাটি জানান।
* পুজোর পর সেই নির্দিষ্ট ফলটি প্রসাদ হিসেবে বাড়িতে নিয়ে আসুন এবং সযত্নে রেখে দিন।
* আসল নিয়মটি হলো: আগামী এক বছর আপনি আর ওই নির্দিষ্ট ফলটি খেতে পারবেন না!
* যদি এক বছরের মধ্যে আপনার মনস্কামনা পূরণ হয়ে যায়, তবে সেই প্রসাদী ফলটি গঙ্গায় বা কোনও পবিত্র জলাশয়ে ভাসিয়ে দিন। এরপর থেকে আপনি আবারও স্বাভাবিকভাবে সেই ফল খেতে পারবেন।

ত্যাগেই যে আসল প্রাপ্তি লুকিয়ে থাকে, এই নিয়মটি যেন তারই এক সুন্দর প্রতীক!

# # # শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদা: এক আধ্যাত্মিক রূপকথার রাত

ফলহারিণী অমাবস্যার কথা উঠবে আর দক্ষিণেশ্বরের কথা আসবে না, তা কি হয়! ইতিহাস বলছে, ১২৮০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসের এই অমাবস্যা রাতেই দক্ষিণেশ্বরে ঘটেছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা, যা আজও হিন্দু ধর্মে নারীশক্তির সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেদিন রাতে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর নিজের স্ত্রী, মা সারদাকে দশমহাবিদ্যার তৃতীয় রূপ— ষোড়শী বা ত্রিপুরাসুন্দরী রূপে পুজো করেছিলেন। একটি আলপনা আঁকা পিঁড়িতে মা সারদাকে বসিয়ে, তাঁকে সাক্ষাৎ দেবীজ্ঞানে পুজো করেন ঠাকুর। মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে তিনি বলেছিলেন—

> "হে সর্বশক্তির অধীশ্বরী মাতঃ ত্রিপুরাসুন্দরি, সিদ্ধিদ্বার উন্মুক্ত কর, ইহার (শ্রীশ্রী মা) শরীর মনকে পবিত্র করিয়া ইহাতে আবির্ভূতা হইয়া সর্বকল্যাণ সাধন কর!"

পুজো শেষে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সারাজীবনের সাধনার ফল, জপের মালা— সবকিছু নিজের স্ত্রীরূপী দেবীর পাদপদ্মে চিরকালের জন্য সমর্পণ করেছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের এমন ঐশ্বরিক ও সম্মানজনক রূপ পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল। নারী যে কেবল ভোগের বস্তু নয়, নারী যে সাক্ষাৎ ঈশ্বরী, সেদিন তা নিজের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন ঠাকুর।

# # # বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে...

আমাদের বাংলায় যা ফলহারিণী কালীপুজো, উত্তর ভারতে সেই একই দিনটি পরিচিত 'বট সাবিত্রী ব্রত' বা 'বট অমাবস্যা' নামে। প্রাচীন ভারতের বৃক্ষ উপাসনার ঐতিহ্য মেনে এই দিনটিতে বট গাছের পুজো করা হয়। মা কালী আদিতে ছিলেন 'বলাকা মাতৃকা', আর আজও নবদ্বীপের 'পোড়ামা বৃক্ষমাতৃকা' বা বাংলার অসংখ্য বটতলায় দেবী উপাসনা সেই প্রাচীন লোকায়ত ধর্মেরই প্রমাণ দেয়।

# # # শেষ কথা

সংসারের হাজারো টানাপোড়েন, অফিসের চাপ বা ব্যক্তিগত জীবনের হতাশার মাঝে এই ফলহারিণী অমাবস্যা যেন এক পশলা শান্তির বৃষ্টির মতো। আপনি আস্তিক হোন বা না হোন, নিজের অহংকার আর মন্দ স্বভাবগুলোকে আজ অন্তত মানসিক ভাবেও যদি 'বিসর্জন' দিতে পারেন, তবে কালকের সকালটা আপনার জন্য নিশ্চয়ই এক নতুন আলোর বার্তা নিয়ে আসবে।

আপনার সমস্ত অশুভ কর্মফল দূর হোক, জীবনে আসুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি— ফলহারিণী অমাবস্যার এই পুণ্য লগ্নে এটাই হোক আমাদের সকলের প্রার্থনা।

ফলহারিণী অমাবস্যা-১৪৩৩বাং ❤️ফলহারিণী অমাবস্যা হিন্দু শাক্ত ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যাকে “ফলহ...
16/05/2026

ফলহারিণী অমাবস্যা-১৪৩৩বাং ❤️

ফলহারিণী অমাবস্যা হিন্দু শাক্ত ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যাকে “ফলহারিণী কালীপূজা” বলা হয়। “ফলহারিণী” শব্দের অর্থ যিনি কর্মফল হরণ করেন বা পাপ ও দুঃখ দূর করেন। এই তিথিতে মা মা কালী-র আরাধনা করলে জীবনের দুঃখ, বাধা, অশুভ শক্তি ও পাপক্ষয় হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
বিশেষত তন্ত্রসাধনা, কালীসাধনা এবং আত্মশুদ্ধির জন্য এই অমাবস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার বহু শক্তিপীঠ ও কালীমন্দিরে এদিন বিশেষ পূজা, হোম, যজ্ঞ ও রাত্রিজাগরণ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এই তিথিতেই শ্রীশারদা দেবী-কে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন যা “ষোড়শী পূজা” নামে প্রসিদ্ধ...

ফলহারিণী অমাবস্যা অত্যন্ত পবিত্র এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি তিথি, যা মূলত জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যায় উদযাপিত হয়। এই বিশেষ দিনে...
15/05/2026

ফলহারিণী অমাবস্যা অত্যন্ত পবিত্র এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি তিথি, যা মূলত জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যায় উদযাপিত হয়। এই বিশেষ দিনে দেবী কালীর 'ফলহারিণী' রূপের আরাধনা করা হয়।

গুরুত্ব এবং মাহাত্ম্য :
১. অশুভ কর্মফল হরণ
নামের তাৎপর্য: 'ফলহারিণী' শব্দের অর্থ হলো যিনি 'ফল হরণ' করেন।
পাপ নাশ: বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতে নিষ্ঠাভরে মা কালীর পূজা করলে মানুষের জীবনের সমস্ত অশুভ কর্মফল, পাপ, দুঃখ এবং দুর্দশা দেবী হরণ করে নেন।
শুভ ফল লাভ: কু-ফল নাশ করে দেবী ভক্তকে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি এবং ইতিবাচক শুভ ফল প্রদান করেন।
২. শ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদা দেবীর 'ষোড়শী পূজা'
ঐতিহাসিক ঘটনা: রামকৃষ্ণ দেবের অনুসারীদের কাছে এই দিনটি ঐতিহাসিক। ১৮৭২ সালের এই ফলহারিণী অমাবস্যার রাতে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব দক্ষিণেশ্বরে নিজের স্ত্রী মা সারদা দেবীকে জগদম্বার 'ষোড়শী' (দশমহাবিদ্যার অন্যতম) রূপে পূজা করেছিলেন।
সর্বস্ব সমর্পণ: এই দিন ঠাকুর তাঁর সাধনার সমস্ত পুণ্য ও জপের মালা সারদা মায়ের চরণে উৎসর্গ করেন। আধ্যাত্মিক ইতিহাসে নারী শক্তিকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের কারণে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।
৩. জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি
ভাগ্য পরিবর্তন: জ্যোতিষ ও শাস্ত্র মতে, এই তিথিতে পূজা করলে ব্যবসা, চাকরি এবং অর্থভাগ্যের বাধা দূর হয়।
পারিবারিক সুখ: সাংসারিক ও দাম্পত্য জীবনের কলহ দূর করতে এই অমাবস্যার ব্রত অত্যন্ত কার্যকরী।
রোগমুক্তি: দীর্ঘদিনের কঠিন রোগব্যাধি ও মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভক্তরা এই দিন প্রার্থনা করেন।
৪. বিশেষ আচার ও ফলের নৈবেদ্য
মরশুমি ফল উৎসর্গ: জ্যৈষ্ঠ মাস নানা ফলের সময়। তাই দেবীকে আম, জাম, লিচুসহ বিভিন্ন মরশুমি ফল উৎসর্গ করে পূজা করা হয়।
সংযম পালন ও ব্রত: অনেকে এই দিন নিজের কোনো প্রিয় ফল মায়ের চরণে উৎসর্গ করে এক বছরের জন্য সেই ফলটি খাওয়া ত্যাগ করেন। মনস্কামনা পূরণ হলে পরবর্তী বছর সেই ফল গঙ্গায় ভাসিয়ে ব্রত সাঙ্গ করা হয়।
মৌনী ব্রত ও দান: এই তিথিতে গঙ্গাস্নান, মৌনী ব্রত (বাকসংযম) পালন এবং দরিদ্রদের দান করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয়।

ফলহারিণী অমাবস্যায় জীবনের সমস্ত অশুভ কর্মফল ও বাধা দূর করতে
বিশেষ পূজার নিয়ম ও বিধি
সংকল্প ও স্নান: এই দিন ভোরে উঠে গঙ্গাস্নান করা অত্যন্ত শুভ। গঙ্গায় যাওয়া সম্ভব না হলে বালতির জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করতে পারেন। এরপর পূজার সংকল্প করুন।
বিজোড় সংখ্যায় ফল: মা কালীকে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল বা আপেলের মতো মরশুমি ফল বিজোড় সংখ্যায় (যেমন ৩, ৫, ৭ বা ৯টি) নৈবেদ্য হিসেবে উৎসর্গ করুন।
পূজার সামগ্রী: দেবীর চরণে লাল জবা ফুল, সিঁদুর, আলতা, শাঁখা এবং মিষ্টি নিবেদন করুন।
শিবের আরাধনা: মহামায়ার পূজার পাশাপাশি এই দিন শিবলিঙ্গে পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি) ঢেলে মহাদেবের অভিষেক করুন।
মৌন ব্রত: পূজার দিন প্রয়োজন ছাড়া অন্য কথা না বলে মৌন ব্রত (বাকসংযম) পালন করা অত্যন্ত ফলদায়ী বলে মনে করা হয়।

মনস্কামনা পূরণের বিশেষ টোটকা (Astrological Totke)
১. প্রিয় ফল ত্যাগের টোটকা (ইচ্ছা পূরণের জন্য):
দেবীর চরণে আপনার খুব প্রিয় একটি ফল (যেমন আম বা লিচু) অর্পণ করে মনে মনে আপনার ইচ্ছা বা প্রার্থনা জানান।
পূজা শেষে সেই প্রসাদী ফলটি বাড়িতে এনে কোনো পবিত্র স্থানে বা ঠাকুরের আসনে রেখে দিন (এটি খাওয়া যাবে না)।
পরবর্তী এক বছর আপনি আর ওই ফলটি খাবেন না।
এক বছর পর (বা ইচ্ছা পূরণ হলে) ফলটি গঙ্গায় বা কোনো পবিত্র জলাশয়ে ভাসিয়ে দিয়ে পুনরায় মায়ের পূজা দিয়ে তবেই আবার সেই ফলটি খাওয়া শুরু করবেন।
২. শনি ও রাহু দোষ মুক্তির টোটকা:
অমাবস্যার সন্ধ্যায় একটি মাটির প্রদীপে সরষের তেল ও কালো তিল দিয়ে বাড়ির দক্ষিণ কোণে অথবা কোনো অশ্বত্থ গাছের নিচে জ্বালিয়ে দিন। এতে কুদৃষ্টি ও গ্রহের অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
৩. অশুভ শক্তি নাশের টোটকা:
এই দিন আপনার নাম ও গোত্র উল্লেখ করে মা কালীর কাছে একটি ছোট লোহার খাঁড়া বা অস্ত্র পূজা করিয়ে নিন।
পূজা শেষে সেটি আপনার বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারের উপরে বা ঠাকুরের আসনে রেখে দিন। এতে বাড়িতে কোনো নেতিবাচক বা অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারে না।
৪. বাস্তুদোষ ও মানসিক অশান্তি মুক্তির টোটকা:
সন্ধ্যার সময় অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় গঙ্গাজলের সাথে সামান্য কাঁচা দুধ ও কালো তিল মিশিয়ে অর্পণ করুন। এটি পারিবারিক কলহ দূর করে ও বাস্তুর শক্তিকে ইতিবাচক করে তোলে।
৫. দরিদ্র নারায়ণ সেবা:
অমাবস্যার দিন ক্ষুধার্ত বা দরিদ্র ব্যক্তিকে অন্ন, বস্ত্র অথবা সাধ্যমতো মুদ্রা দান করুন। সনাতন ধর্মে অমাবস্যার দিনে দান করলে বহুগুণ পুণ্য লাভ হয়।

Address

Raipur
Lakshmipur
3710

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রায়পুর শ্রী শ্রী মহামায়া মন্দির posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category