17/08/2026
|| শিবকে ধুতুরা ফুল ও ফল কেন দেওয়া হয়? ||
আজ শ্রাবণের শেষ সোমবার। তাই বাবার মাথায় জল ঢালার জন্য ভিড়ও প্রচন্ড। শুধুই কি বাবার মাথায় জল ঢালা? তার সাথে অনেকে আজকে দেবেন ধুতুরা ফুল ও ফল, বেলপাতা ইত্যাদি। বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম উপাচার নিয়ে যান। তবে সর্বাপেক্ষা বেশি যেটি ব্যবহৃত হয় সেটি হল ধুতুরা ফুল ও ধুতুরা ফল । কিন্তু হঠাৎ করে এই ধুতুরা ফুল ও ফলের ব্যবহারই কেন এলো?
এ সম্বন্ধীয় ব্যাখ্যা খুবই সহজ। মনে করা হয় পৌরাণিক কালে যখন সমুদ্রমন্থন হয়েছিল তখন হলাহল দেবাদিদেব মহাদেব নিজে গ্রহণ করেছিলেন। এই বিষ গ্রহণ করার জন্য তাঁর সারা শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এখন শরীরে ও মাথায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা প্রশমনের জন্য দেহকে শীতল করা দরকার। ধুতুরা ফুলের বিশেষ শীতল গুণ রয়েছে এমনটাই মনে করা হয় পৌরাণিক ব্যাখ্যায়। বামন পুরাণেও দেবাদিদেবের বক্ষ থেকে ধুতুরা ফুল বের হয়েছিল এমনটা শোনা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোকমুখে প্রচারিত। যার জন্য দেবাদিদেবের মাথায় জল ঢালার পাশাপাশি ধুতুরা ফুলকেও ব্যবহার করা হয়। যাতে তাঁর শরীর শীতল হয়।
একটা সহজ প্রাপ্ত ফুল ও ফল যা বনেবাদাড়ে পাওয়া যায়। আপনি সচরাচর ধুতুরা ফুল কোন বাড়িতে সেভাবে পেতে দেখবেন না। হয়তো বা পাওয়া যেতে পারে তবে মূলত বন এলাকাতেই ধুতরা ফুল ও ফল বেশি পাওয়া যায়। এটার সাথে শিবের একটা যোগসূত্র আছে। শিব যেমন আশুতোষ নিজে খুব সহজ, অহংকারী একদমই নয়, তেমনি ধুতুরা ফুল সর্বত্র পাওয়া যায়। খুব সহজলভ্য।
ধুতুরা নিজে কিন্তু একটি বিষাক্ত গাছ । এর ফল বিষাক্ত। আবার সেই দিক থেকে দেখতে গেলে শিব নিজে কিন্তু বিষকে কন্ঠে ধারণ করেছেন। অর্থাৎ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিষ প্রতীকী অর্থ বহন করছে। অনেক ক্ষেত্রে মনে করা হয় বিষ, বিষ কে প্রশমন করে সেই ধারণা কতটা এখানে প্রযোজ্য সেটা আলোচনা সাপেক্ষ। তবে উভয়ের ক্ষেত্রে যে বিষ প্রতীকী অর্থ আছে, সেটার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ধুতুরা ফুল ত্যাগ ও সংযমের প্রতীক। শিবও তাই। সবকিছু ত্যাগ করেই তিনি মহাযোগী হয়েছেন। তাই এই প্রতীকী ব্যাখ্যাটিও এর সাথে যায়।
ধুতুরা ফুল ও ফল প্রকৃতিতে বিষাক্ত। অনেক ধুতুরা ফল খেলে মারা যান। তাই সরাসরি খাওয়া একদমই নিষিদ্ধ। কিন্তু এই বিষ গুণের জন্য ওর কিছু ঔষধি গুণ আছে। যেটা বিভিন্ন ঔষধি তৈরি করতে সক্ষম। অর্থাৎ এটাও বুঝাচ্ছে যে ধুতুরা ফলের সঠিক ব্যবহারে তা উপকার এবং বেঠিক ব্যবহার করে তা মৃত্যুর কারণ। দেবাদীদের কেও যদি সঠিক কর্মের জন্য ডাকা হয় তবে তিনি কল্যাণকারী, কিন্তু নিজের খারাপ কর্মের জন্য যদি ডাকা হয় তাহলে কিন্তু তিনি ততটাই সংহার মূর্তি ধারণ করেন।
ধুতুরা ফল ও ফুল বিষাক্ত। এই সব কিছু জিনিসই আমরা দেবাদিদেবকে অর্পণ করছি। অর্থাৎ যা আমাদের কাছে ত্যজ্য তা ওনার কাছে গ্রহণীয়। এই ভাবেই তো তিনি বিশ্বপিতা হয়ে উঠেছেন। এবং সকলের যা পরিত্যজ্য তাই তিনি গ্রহণ করে থাকেন।
এবার কয়েকটা শাস্ত্রীয় দিক বলি। ভক্তি ভরে একটি ধুতুরা ফুল দেবাদিদেব কে দিলে মনে করা হয় এক বছরের একাদশী ব্রতের পালনের সমান ফল লাভ হয়। শনিবার শিবলিঙ্গে ধুতুরা ফুল দিলে শনির দোষ ও কর্ম ক্ষেত্রে বাধা দূর হয়। যদিও আপনাকে আপনার কর্মের ফল পেতেই হবে । তাই নিজের কর্ম ভালো থাকা দরকার।
আমাদের জীবনে যা কিছু নেতিবাচক তা তা শিবের কাছে অর্পণ করে নিজে শুদ্ধ হওয়াই আমাদের কর্তব্য। ধুতুরা সেই দায়িত্বই নেয়। তবে এমন কোন বিষয় নেই যে শুধু ধুতুরাই দিতে হবে। মন থেকে আপনি যা দেবেন আশুতোষ সেটাই গ্রহণ করবেন। কিন্তু অটল ভক্তি থাকাটা দরকার।
হর হর মহাদেব। আপনাদের কল্যাণ হোক!
লেখায় : Krishnendu Mondal