07/02/2025
প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, বিশেষ করে আমাদের কিশোরেরা, আমাদের একটি ব্যাপার বুঝতে হবে। পশ্চিমা সমাজ তোমাকে যাই শেখাক না কেন, কার্টুনগুলো তোমাকে যাই দেখাক না কেন, ডিজনী চ্যানেলে যাই প্রদর্শন করা হোক না কেন— আমাদের বুঝতে হবে মানবজাতি পুরুষ এবং নারীতে বিভক্ত।
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন—"ইয়া আইয়ুহান নাস! ইন্না খালাকনাকুম মিন জাকারিন ওয়া উনসা।" "ও মানুষ! আমি তোমাদের এক পুরুষ এবং এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি।" (৪৯:১৩)
আমরা সবাই একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে এসেছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন- "ওয়া বাসসা মিনহুমা রিজালান কাসীরাও ওয়া নিসাআ।" ওই দুইজন থেকে আমি বহু পুরুষ এবং বহু নারী ছড়িয়ে দিয়েছি। (৪:১)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন— "ওয়া লাইসাস জাকারু কাল উনসা" - "পুরুষ নারীর মত নয়।" (৩:৩৬) এতো সহজ একটি আয়াত। শত শত বছর যাবৎ মানুষ এই আয়াতটার প্রতি ঐভাবে গুরুত্ব দেয়নি। এমন সহজ একটি কথা কেন কুরআনে উল্লেখ করা হলো! কিন্তু এখন, আধুনিক জাহেলিয়াতের এই যুগে আমাদেরকে এই আয়াতটির উদ্ধৃতি দিতে হচ্ছে। এখন, এই সহজ আয়াতটি বিশাল একটি অর্থ প্রদান করছে।
"ওয়া লাইসাস জাকারু কাল উনসা- পুরুষ নারীর মত নয়।" এত সহজ একটি ফ্যাক্ট! এমন অকাট্য একটি ফ্যাক্ট! এমন অবিতর্কিত একটি বিষয়! তথাপি আল্লাহ এটি কুরআনে উল্লেখ করেছেন। কারণ, মডার্ন জাহেলিয়াতের এই যুগে আমাদেরকে এই আয়াতটি উল্লেখ করতে হবে।
একেবারে প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর মত নয়। আপনি যেকোনো শরীর থেকে যেকোনো একটি সেল নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন এটি কি এক্সএক্স নাকি এক্সওয়াই ক্রোমোজোম? আপনি তখন বলতে পারবেন সেলটি কি একজন পুরুষ থেকে এসেছে নাকি একজন নারী থেকে। পুরুষের শরীর এবং নারীর শরীর ভিন্ন। ফিজিওলজিক্যাল্লি এটি আলাদা, জেনিটেলিয়ার দিক থেকে এটি আদালা। বডি ম্যাস এবং মাসল ম্যাস এর দিক থেকে এটি আদালা। প্রতিটি দিক থেকে।
হাড়ের ঘনত্বের দিক থেকে এটি আলাদা। দশ লাখ বছর পূর্বের কোনো কঙ্কাল পরীক্ষা করে আপনি বলতে পারবেন কঙ্কালটি কি পুরুষের নাকি নারীর। এমনকি হাড়ের দিক থেকেও নারী পুরুষ আলাদা। হরমনাল্লি, ইন্টেলেকচুয়াল্লি, ফিজিক্যালি সব দিক থেকে নারী পুরুষ ভিন্ন।
আমি যখন বলছি বুদ্ধিগত দিক থেকে আলাদা, আমি বলছি না যে একজন আরেকজন থেকে উত্তম। না। নারীরা এমনসব বিষয়ে খুবই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিভাসম্পন্ন যেখানে পুরুষরা প্রতিভাসম্পন্ন নয়। আবার পুরুষরা এমনসব ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিভাসম্পন্ন যেখানে নারীরা প্রতিভাসম্পন্ন নয়। একের এমনসব ট্যালেন্ট রয়েছে যা অন্যের নেই। তাদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন শক্তিমত্তা রয়েছে।
এভাবে এই উভয় ধরণের শক্তিমত্তার একত্রীকরণের মধ্য দিয়েই, নারীর শক্তিমত্তা এবং পুরুষের শক্তিমত্তার একত্রীকরণের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী পরিবার গড়ে উঠে। পরিবার সুরক্ষিত থাকে।
প্রিয় ভাই এবং বোনেরা,
মানবজাতি সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে ইবলিস থ্রেট দিয়েছিলো। সে বলেছিলো, আপনি আমার সাথে যা করেছেন সেজন্য আমি এই সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো - لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ - লাউগউইয়ান্নাহুম আজমা’ইন। ইবলিস আল্লাহকে বলেছিলো যে, তাদের অধিকাংশই হবে অকৃতজ্ঞ। আর জানেন ইবলিস আরো কি বলেছে ? وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ - ওয়ালাআমুরন্নাহুম ফালাইউগইয়্যিরুন্না খলক্বাল্লাহ, অর্থাৎ আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবো এবং তাদেরকে আদেশ করবো, যার ফলে আপনি যেভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাতে তারা পরিবর্তন আনবে। তারা তাদের নিজের দেহকে বিকৃত করবে। فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ - ফালাইউগইয়্যিরুন্না খলক্বাল্লাহ, আপনি যেভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারা তাতে পরিবর্তন আনবে। (৪:১১৯)
[উত্তরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাও ইবলিসকে বলে দিয়েছেন- لَاَمۡلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنۡکَ وَ مِمَّنۡ تَبِعَکَ مِنۡهُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ - "আমি তোমাকে আর তাদের (অর্থাৎ মানুষের) মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।" (৩৮:৮৫) সূরা আস-সেজদাতে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-- وَ لٰکِنۡ حَقَّ الۡقَوۡلُ مِنِّیۡ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَ النَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ -- কিন্তু আমার কথাই সত্যে পরিণত হবে যে, ‘নিশ্চয় আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব’।" (৩২:১৩) সুতরাং ও মানুষ! সাবধান হও। ]
মুসলিম ভাই ও বোনেরা, এরচেয়ে বড়ো বিকৃতি আর কি হতে পারে ? এরচেয়ে খারাপ অঙ্গছেদ আর কি হতে পারে ? ইবলিস কি বলেনি যে সে এটা করবে ? আর আমরা এখন এটা ঘটতে দেখছি। এরচেয়ে বড় বিকৃতি আর কি হতে পারে, যখন আল্লাহর দেয়া উপহারকে আপনি প্রত্যাখ্যান করছেন আর বলছেন যে, “না, আমি আমার নিজের অঙ্গ কেটে ফেলবো, আমি আমার নিজের শরীরকে আকৃতি নষ্ট করবো আর আমি চাই সবাই যেন আমার এ কাজের প্রশংসা করে।”
প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে আমাদের খেলা করা উচিৎ না। এই আন্দোলনটি যা করছে, তা হলো এটা নিজেই সৃষ্টিকর্তা সেজে বসে আছে। আর আপনি সৃষ্টকর্তার সৃষ্টির উপরে কৃত্রিম সৃষ্টিকর্তা সাজতে পারবেন না; কারণ আপনি সৃষ্টিকর্তা নন। এই আন্দোলনটি যা করছে-- এটা ইবলিসের পথভ্রষ্টতাকে বাস্তবায়িত করছে এবং আল্লাহর দেখানো পথকে প্রত্যাখ্যান করছে। তো এই পথভ্রষ্টতা থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁর প্রতিই আমরা নির্ভর করি।
প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, যে ব্যক্তি পুরুষের শরীর নিয়ে জন্মেছে, তাকে নিজের পুরুষত্বকে বরণ করে নিতে হবে। যে নারীর শরীর নিয়ে জন্মেছে, তাকে তার নারীত্বকে বরণ করে নিতে হবে। এই দুটি লিঙ্গ আধ্যাত্মিকভাবে সমান; এই দুই লিঙ্গের মাঝে কেউ শ্রেষ্ঠতর না। কিন্তু দুটি লিঙ্গ এক ও অভিন্ন নয়। তো নারীদের উচিৎ তাদের নারীত্বকে বরণ করে নেয়া, পুরুষদেরও উচিৎ তাদের পুরুষত্বকে বরণ করে নেয়া। আর যখন প্রত্যেকেই এটা করবে, সমাজ সমৃদ্ধি লাভ করবে, সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকবে।