Nouman Ali K͛han • বাংলা

Nouman Ali K͛han • বাংলা A page for Islamic Knowledge Seekers

আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার ধারণা কুরআনে বহুল উল্লেখিত একটি ধারণা। যদি আপনি একবার "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলেন আপনি শতশত আয়াতের...
22/02/2025

আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার ধারণা কুরআনে বহুল উল্লেখিত একটি ধারণা। যদি আপনি একবার "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলেন আপনি শতশত আয়াতের উপর আমল করছেন।

যেমন—
১. সূরা আল-বাকারা (2:199): "এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।"

২. সূরা আলে-ইমরান (3:135): "এবং যারা অশ্লীল কাজ করে বা নিজের উপর জুলুম করে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা জেনে শুনে যা করেছে তাতে লিপ্ত থাকে না।"

৩. সূরা হুদ (11:3): "এবং তোমার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর কাছে তওবা কর। তিনি তোমাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবিকা দেবেন এবং প্রত্যেক অনুগ্রহকারীকে তাঁর অনুগ্রহ দেবেন। কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্য একটি মহাদিনের শাস্তির আশঙ্কা করি।"

৪. সূরা নূহ (71:10-12): "এবং বল, 'তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী প্রবাহিত করবেন।'"

৫. সূরা আয-যুমার (39:53): "বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।'"

৬. সূরা আল-মুজাম্মিল (73:20): "এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।"

৭. সূরা আত-তাহরীম (66:8): "হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা কর। সম্ভবত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নীচে নদী প্রবাহিত..."

আরো অসংখ্য আয়াতে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

তাই, প্রতিটি দিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। বার বার পড়ুন। ধীরে ধীরে বিনম্র অন্তরে পড়ুন।

আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ...

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, বিশেষ করে আমাদের কিশোরেরা, আমাদের একটি ব্যাপার বুঝতে হবে। পশ্চিমা সমাজ তোমাকে যাই শেখাক না কেন, কা...
07/02/2025

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, বিশেষ করে আমাদের কিশোরেরা, আমাদের একটি ব্যাপার বুঝতে হবে। পশ্চিমা সমাজ তোমাকে যাই শেখাক না কেন, কার্টুনগুলো তোমাকে যাই দেখাক না কেন, ডিজনী চ্যানেলে যাই প্রদর্শন করা হোক না কেন— আমাদের বুঝতে হবে মানবজাতি পুরুষ এবং নারীতে বিভক্ত।

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন—"ইয়া আইয়ুহান নাস! ইন্না খালাকনাকুম মিন জাকারিন ওয়া উনসা।" "ও মানুষ! আমি তোমাদের এক পুরুষ এবং এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি।" (৪৯:১৩)

আমরা সবাই একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে এসেছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন- "ওয়া বাসসা মিনহুমা রিজালান কাসীরাও ওয়া নিসাআ।" ওই দুইজন থেকে আমি বহু পুরুষ এবং বহু নারী ছড়িয়ে দিয়েছি। (৪:১)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন— "ওয়া লাইসাস জাকারু কাল উনসা" - "পুরুষ নারীর মত নয়।" (৩:৩৬) এতো সহজ একটি আয়াত। শত শত বছর যাবৎ মানুষ এই আয়াতটার প্রতি ঐভাবে গুরুত্ব দেয়নি। এমন সহজ একটি কথা কেন কুরআনে উল্লেখ করা হলো! কিন্তু এখন, আধুনিক জাহেলিয়াতের এই যুগে আমাদেরকে এই আয়াতটির উদ্ধৃতি দিতে হচ্ছে। এখন, এই সহজ আয়াতটি বিশাল একটি অর্থ প্রদান করছে।

"ওয়া লাইসাস জাকারু কাল উনসা- পুরুষ নারীর মত নয়।" এত সহজ একটি ফ্যাক্ট! এমন অকাট্য একটি ফ্যাক্ট! এমন অবিতর্কিত একটি বিষয়! তথাপি আল্লাহ এটি কুরআনে উল্লেখ করেছেন। কারণ, মডার্ন জাহেলিয়াতের এই যুগে আমাদেরকে এই আয়াতটি উল্লেখ করতে হবে।

একেবারে প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর মত নয়। আপনি যেকোনো শরীর থেকে যেকোনো একটি সেল নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন এটি কি এক্সএক্স নাকি এক্সওয়াই ক্রোমোজোম? আপনি তখন বলতে পারবেন সেলটি কি একজন পুরুষ থেকে এসেছে নাকি একজন নারী থেকে। পুরুষের শরীর এবং নারীর শরীর ভিন্ন। ফিজিওলজিক্যাল্লি এটি আলাদা, জেনিটেলিয়ার দিক থেকে এটি আদালা। বডি ম্যাস এবং মাসল ম্যাস এর দিক থেকে এটি আদালা। প্রতিটি দিক থেকে।

হাড়ের ঘনত্বের দিক থেকে এটি আলাদা। দশ লাখ বছর পূর্বের কোনো কঙ্কাল পরীক্ষা করে আপনি বলতে পারবেন কঙ্কালটি কি পুরুষের নাকি নারীর। এমনকি হাড়ের দিক থেকেও নারী পুরুষ আলাদা। হরমনাল্লি, ইন্টেলেকচুয়াল্লি, ফিজিক্যালি সব দিক থেকে নারী পুরুষ ভিন্ন।

আমি যখন বলছি বুদ্ধিগত দিক থেকে আলাদা, আমি বলছি না যে একজন আরেকজন থেকে উত্তম। না। নারীরা এমনসব বিষয়ে খুবই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিভাসম্পন্ন যেখানে পুরুষরা প্রতিভাসম্পন্ন নয়। আবার পুরুষরা এমনসব ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিভাসম্পন্ন যেখানে নারীরা প্রতিভাসম্পন্ন নয়। একের এমনসব ট্যালেন্ট রয়েছে যা অন্যের নেই। তাদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন শক্তিমত্তা রয়েছে।

এভাবে এই উভয় ধরণের শক্তিমত্তার একত্রীকরণের মধ্য দিয়েই, নারীর শক্তিমত্তা এবং পুরুষের শক্তিমত্তার একত্রীকরণের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী পরিবার গড়ে উঠে। পরিবার সুরক্ষিত থাকে।

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা,
মানবজাতি সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে ইবলিস থ্রেট দিয়েছিলো। সে বলেছিলো, আপনি আমার সাথে যা করেছেন সেজন্য আমি এই সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো - لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ - লাউগউইয়ান্নাহুম আজমা’ইন। ইবলিস আল্লাহকে বলেছিলো যে, তাদের অধিকাংশই হবে অকৃতজ্ঞ। আর জানেন ইবলিস আরো কি বলেছে ? وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ - ওয়ালাআমুরন্নাহুম ফালাইউগইয়্যিরুন্না খলক্বাল্লাহ, অর্থাৎ আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবো এবং তাদেরকে আদেশ করবো, যার ফলে আপনি যেভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাতে তারা পরিবর্তন আনবে। তারা তাদের নিজের দেহকে বিকৃত করবে। فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ - ফালাইউগইয়্যিরুন্না খলক্বাল্লাহ, আপনি যেভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারা তাতে পরিবর্তন আনবে। (৪:১১৯)

[উত্তরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাও ইবলিসকে বলে দিয়েছেন- لَاَمۡلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنۡکَ وَ مِمَّنۡ تَبِعَکَ مِنۡهُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ - "আমি তোমাকে আর তাদের (অর্থাৎ মানুষের) মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।" (৩৮:৮৫) সূরা আস-সেজদাতে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-- وَ لٰکِنۡ حَقَّ الۡقَوۡلُ مِنِّیۡ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَ النَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ -- কিন্তু আমার কথাই সত্যে পরিণত হবে যে, ‘নিশ্চয় আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব’।" (৩২:১৩) সুতরাং ও মানুষ! সাবধান হও। ]

মুসলিম ভাই ও বোনেরা, এরচেয়ে বড়ো বিকৃতি আর কি হতে পারে ? এরচেয়ে খারাপ অঙ্গছেদ আর কি হতে পারে ? ইবলিস কি বলেনি যে সে এটা করবে ? আর আমরা এখন এটা ঘটতে দেখছি। এরচেয়ে বড় বিকৃতি আর কি হতে পারে, যখন আল্লাহর দেয়া উপহারকে আপনি প্রত্যাখ্যান করছেন আর বলছেন যে, “না, আমি আমার নিজের অঙ্গ কেটে ফেলবো, আমি আমার নিজের শরীরকে আকৃতি নষ্ট করবো আর আমি চাই সবাই যেন আমার এ কাজের প্রশংসা করে।”

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে আমাদের খেলা করা উচিৎ না। এই আন্দোলনটি যা করছে, তা হলো এটা নিজেই সৃষ্টিকর্তা সেজে বসে আছে। আর আপনি সৃষ্টকর্তার সৃষ্টির উপরে কৃত্রিম সৃষ্টিকর্তা সাজতে পারবেন না; কারণ আপনি সৃষ্টিকর্তা নন। এই আন্দোলনটি যা করছে-- এটা ইবলিসের পথভ্রষ্টতাকে বাস্তবায়িত করছে এবং আল্লাহর দেখানো পথকে প্রত্যাখ্যান করছে। তো এই পথভ্রষ্টতা থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁর প্রতিই আমরা নির্ভর করি।

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, যে ব্যক্তি পুরুষের শরীর নিয়ে জন্মেছে, তাকে নিজের পুরুষত্বকে বরণ করে নিতে হবে। যে নারীর শরীর নিয়ে জন্মেছে, তাকে তার নারীত্বকে বরণ করে নিতে হবে। এই দুটি লিঙ্গ আধ্যাত্মিকভাবে সমান; এই দুই লিঙ্গের মাঝে কেউ শ্রেষ্ঠতর না। কিন্তু দুটি লিঙ্গ এক ও অভিন্ন নয়। তো নারীদের উচিৎ তাদের নারীত্বকে বরণ করে নেয়া, পুরুষদেরও উচিৎ তাদের পুরুষত্বকে বরণ করে নেয়া। আর যখন প্রত্যেকেই এটা করবে, সমাজ সমৃদ্ধি লাভ করবে, সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকবে।

বাস্তবতা। ইয়া আল্লাহ , বিয়ে তো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে ,শাহাদাত ও কি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেল ?শেষ পর্যন্ত যেতে গিয়ে স...
22/09/2024

বাস্তবতা। ইয়া আল্লাহ , বিয়ে তো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে ,শাহাদাত ও কি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেল ?
শেষ পর্যন্ত যেতে গিয়ে সকল আগ্রহ মরে যাচ্ছে।

জীবন যদি হতো নারী সাহাবীর মত ' বই থেকে
17/09/2024

জীবন যদি হতো নারী সাহাবীর মত ' বই থেকে

অনেকে বলে থাকে, “আপনি যদি আপনার কর্মে ভালো হন, যদি ভালো মানুষ হন, অন্যের ক্ষতি না করে থাকেন, তবে আপনি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্ব...
17/09/2024

অনেকে বলে থাকে, “আপনি যদি আপনার কর্মে ভালো হন, যদি ভালো মানুষ হন, অন্যের ক্ষতি না করে থাকেন, তবে আপনি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন বা না করেন, নামায-রোযা পালন করেন অথবা না করেন তাতে কোনো কিছুই যায় আসে না। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস ও তাঁর আনুগত্য একান্ত আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার ও অভ্যন্তরীণ সন্তুষ্টির বিষয়। শুধুমাত্র সৎকর্ম ও অন্যের ক্ষতি না করার মাধ্যমেই আপনি নৈতিকতা প্রকাশ করতে পারবেন। আপনাকে কোনো ধর্ম অনুসরণ করতে হবে না।”

কিন্তু সত্য কথা হলো যে- সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস ও তাঁর ইবাদাত শুধু একটা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ই নয়, এটা নৈতিকতারও বিষয়। আপনি যেমন আপনার পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করার ব্যাপারে নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ থাকেন, তেমনই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস ও তাঁর ইবাদাত করার ব্যাপারেও নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ।

জিজ্ঞেস করতেই পারেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা কিভাবে দায়বদ্ধ ? তার আগে বুঝতে হবে, আমরা আমাদের আমাদের পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করতে দায়বদ্ধ কেন? আমরা যদি সব ধর্মকে বাদ দিয়ে বলি, তাহলে সোজাসাপটা উত্তর হবে, আমরা সামাজিক জীব এবং সমাজের এই মানুষগুলো আমাদের জীবনকে সুন্দর, সহজ ও অর্থবহ করে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তাদের সাথে সদাচারণ করা। নৈতিকতার ধর্মহীন সংজ্ঞায়ন করা ব্যক্তিও এ কথা মানতে বাধ্য যে পিতামাতা এক্ষেত্রে সদাচরণ পাওয়ায় বাকিদের চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। আবার বাকিদের মাঝে যার ইম্প্যাক্ট আমার জীবনে যত বেশি, সে তত বেশি সদাচরণের দাবিদার এবং তার সাথে অসদাচরণের ফলে সামাজিকভাবে আমাকে অধিক মাত্রায় নিন্দিত হতে হবে।

এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন সৃষ্টিকর্তা আছেন এটা আপনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন কিনা? যদি উত্তর ‘হ্যা’ হয়, তাহলে ভাবুন, যেহেতু তাঁর মাধ্যমে আপনি সৃষ্ট এবং তার দয়ায় আপনার অস্তিত্ব টিকে আছে, সেহেতু তাঁকে অস্বীকার করার পরিণতি পিতামাতাকে অস্বীকার করার পরিণতির চেয়েও ভয়াবহ হওয়াটা নৈতিকভাবে সঠিক বলে বিবেচিত হবে, এবং এ কারণে সামাজিকভাবে নিন্দিত হওয়াটাও যথাযথ। অতএব, “সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করাটা অপশনাল, এর দ্বারা মানুষ হিসাবে আপনি ভালো না মন্দ সেটা নির্ধারিত হয়না”, এটা একটা কুযুক্তি। নিজ থেকে নৈতিকতার ফ্রেমওয়ার্ক একান্ত দাঁড় করানোর ইচ্ছা থাকলে বরং এই কুযুক্তিটা বাদ দিয়ে সৃষ্টিকর্তা আসলেই আছেন কি না তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা বরং বেশি কাজ দিবে।

সুতরাং শুধুমাত্র সৎকর্মেই নৈতিকতা সীমাবদ্ধ নয়। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনুগত থাকা, তাঁর ইবাদাত করাও আমাদের নৈতিক কর্তব্য। ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেক্যুলারিজম কখনও আমাদের নৈতিকতাকে পরিপূর্ণতা দিবে না, বরং এটা আমাদের নাস্তিকতা ও আস্তিকতার দুই বিপরীত ফ্রেমওয়ার্কের মাঝের এক অদ্ভুত জায়গায় দাঁড় করাবে। নাস্তিকতার ট্রোজান হর্সকে আপনার হৃদয়ের সীমানায় প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। আল্লাহ ও তাঁর নিদর্শনাবলীকে অবিশ্বাসের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় আপনাকে ঠেলে দেবে।

আমাদের নৈতিকতার পরিপূর্ণতার জন্য সৎকর্মের পাশাপাশি থাকতে হবে আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর আনুগত্য ও ইবাদাত।
আর যারা বলে, "দ্বীন পরিপূর্ণ অনুসরণ ছাড়াও ভাল মানুষ হওয়া যায়" তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন -

اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمۡ وَ لِقَآئِهٖ فَحَبِطَتۡ اَعۡمَالُهُمۡ فَلَا نُقِیۡمُ لَهُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَزۡنًا

তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে।
সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না। [সূরা কাহাফ, আয়াত ১০৫]

Islamic Knowledge Seekers-LPI

Address

LPI
Lakshmipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nouman Ali K͛han • বাংলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share