16/08/2025
"সকলকে পরমেশ্বর শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা"
কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ইতিহাসঃ-
5 হাজার বছর আগের কথা। তখনকার সময়কে বলা হতাে দ্বাপর যুগ। অসুর রাজারা ছিলাে খুবই অত্যাচারী।তাদের অত্যাচারে সকলেই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। দিন দিন অসুরদের অত্যাচার এতই বেশী হয়ে উঠে যে দেবদেবীগণ ক্ষীর সমুদ্র তীরে
গিয়ে ভগবানের কৃপা প্রার্থনা করতে লাগে। তাদের
প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে শুধুমাত্র ব্রহ্মাকে অবগতির জন্য দৈববাণীতে বলে, “ হে ব্রহ্মা, আমি খুব তাড়াতাড়ি যদুবংশীয় রাজাদের রাজধানী মুথরা রাজা সুরসেনের পুত্র বসুদেবের সন্তান রূপে দেবকীর অষ্টম গর্ভে আবির্ভূত হবাে। ধরিত্রী দেবসহ তােমরা আমার নির্দেশ অনুসারে দ্বারকা, মথুরা এবং ব্রজের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জন্মগ্রহণ করবে।"ব্রহ্মা বাণী শুনে অন্যান্য সকলকে জানিয়ে দিলে এবং সকলে যথাস্থানে ফিরে গেলাে।
তখন উগ্রসেন নামে মথুরার এক রাজা ছিলাে। রাজা ছিলাে প্রচন্ড রকমের ধার্মিক। কিন্তু রাজা ধার্মিক থাকলে কি হবে, তার ছেলে কংস ছিল খুবই অত্যাচারী।কংসের অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেশী ছিল যে নিজের পিতা উগ্রসেনকেও সিংহাসনচ্যুত করে কারাবন্ধী করে নিজেই মথুরায় রাজত্ব করতাে। আবার এই কংসই আরাধনা করে বর লাভ করেছিল, তার বােন দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান ছাড়া অন্য কোন ভাবে তার মৃত্যু
হবে না। আর এ জন্যই কংসের অত্যাচারের মাত্রাটাও এত বেশী ছিল।সময় সুযােগ মতাে দেবকীর বিবাহ হয় বসুদেবের সঙ্গে।বর কণেকে রথের উপর বসানাে হয়েছে এবং রথের সারথী হচ্ছে কংস। রথ চলছে এমন সময় হঠাৎ করে
সেই দৈববাণীটি কংসের কানে বেজে উঠলাে, " ওরে নির্বোধ যাকে তুমি রথে করে নিয়ে যাচ্ছে তার গর্ভের অষ্টম সন্তান তােমার প্রাণ হরণ করবে।" দৈববাণী শুনে কংস সঙ্গে সঙ্গে খড়গ হাতে দেবকীকে হত্যা করার জন্য উদ্যোত হলাে। এ দেখে বসুদেব কংসকে অনেক সবিনয় অনুরােধ করে রাজী করালাে এই বলে যে, তাদের সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরই কংসের হাতে সােপর্দ করা হবে একথা শুনে কংস শান্ত হলাে ঠিকই কিন্তু সঙ্গে
সঙ্গে দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে নিক্ষেপ করলাে। মাঝখানে কেটে গেল অনেক বছর। একে একে জন্মনিলাে ছয়টি সন্তান। সন্তান জন্মনেওয়ার পর পরই কংস আসে এবং বসুদেব পূর্ব প্রতিশ্রতিমতাে নিজেদের সন্তানকে কংসের হাতে তুলে দেয়। আর কংস সঙ্গে সঙ্গে পাথরের সাথে আছাড় দিয়ে সন্তানটিকে মেরে ফেলে।
সপ্তম গর্ভের সন্তান যখন বলদেব অধিষ্ঠিত হয়েছিলাে তখণ ভগবানের নির্দেশে যােগমায়া দেবী দেবকীর গর্ভ হতে তাকে স্থানান্তরিত করে নন্দালয়ে রােহিনীর গর্ভে স্থাপন করে এবং প্রচার করা হয় দেবকীর গর্ভপাত হয়েছে।এবার অষ্টম গর্ভের সন্তান অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মগ্রহণ করার পালা। কারাগারের বাইরে পূর্বের চেয়ে কংস এবারও আরও বেশী পাহারার ব্যবস্থা করলাে।
মাস ছিলাে ভাদ্র, তিথি ছিলাে অষ্টমী এবং রজনী ছিলাে ভীষণ দুর্যোগময়। প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে প্রকৃতি ধারণ করে এক অন্যরকম মূর্তি, বিদ্যুৎ উজ্জ্বলিত ঠিক এমন সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হন এবং দৈববানী শােনা যায় “ বসুদেব, তুমি এখনই গােকুলে যেয়ে নন্দের স্ত্রী যশােদার পাশে তােমার ছেলেটিকে রেখে এসাে এবং এই মুহূর্তে তার যে কন্যা শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে তাকে এনে দেবকীর কোলে শুয়ে
দাও। আমার মায়ায় পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এখন গভীর ঘুমে অচেতন, যার ফলে কেউ কিছুই জানতে পাবে না।” সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে বসুদেব ছুটতে লাগলাে নন্দের বাড়ীর দিকে। পথে যমুনা নদী। বর্ষাকাল তাই যমুনা কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিলাে। তখন বসুদেবের
নিরুপায় মনে হলাে। হঠাৎ করে বসুদেব দেখলাে যমুনার জল শুকিয়ে গিয়েছে এবং একটা শৃগাল যমুনা নদী পার হয়ে যাচ্ছে। বসুদেব তখন ঐ রূপধারী শৃগালকে পথ প্রদর্শক মনে করে তার পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগলাে। এমন সময় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। বসুদেব ও শ্রীকৃষ্ণকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার জন্য নাগরাজ তার বিশাল ফণা বিস্তার করলাে তাদের মাথার উপরে। কিছু সময়ের মধ্যে
বসুদেব তার ছেলেকে যশােদার কোলে রেখে যশােদার কন্যা যােগমায়াকে নিয়ে কংসের কারাগারে ফিরে এল।সকাল বেলা কংস খবর পেল দেবকীর অষ্টম সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে চলে এসে দেবকীর কোল থেকে মেয়েটিকে ছিনিয়ে নিয়ে একই ভাবে পাথরের উপরে আঁছাড় মারতেই মেয়েটি শূন্যে উঠে
যেয়েই যােগমায়া মূর্তি ধারণ করে। মহাশূন্যে মিলিয়ে যাওয়ার পূর্বে কংসকে বলে গেলাে, “ তােমাকে বধিবে যে গােকূলে বেড়েছে সে”।
এই কথা শুনে কংস মথুরার সকল শিশুকে মারার
পরিকল্পনা করে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।
কংস শ্রীকৃষ্ণকে মারার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়
অবশেষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংসকে বধ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।