05/04/2026
*■□■□■ প্রশ্নঃ ■■ দুই বছর আগে মঠে আমার দীক্ষা হয়েছে। নিয়মিতভাবে জপধ্যান করেও এগোতে পারছিনা। এখনো নানা চিন্তা ওঠে সাধনার সময়। কিভাবে আধ্যত্মিক পথে এগিয়ে যাবো ? ■■■■■■■*
_*✍️স্বামী সোমেশ্বরানন্দ*_
*============🕉️===========*
●●● _*আপনি এগোচ্ছেন না, কিভাবে বুঝলেন? কোন মানদণ্ডে নিজেকে বিচার করছেন? দু'বছর আগে জপধ্যানের সময় যত চিন্তা আসত, আজ কি তার চেয়ে কিছুটা কমেছে? অতীতের তুলনায় বর্তমান অবস্থাকে বিচার করুন। তাছাড়া নিজের মানসিকতাকে লক্ষ্য করুন।*_
_আপনার সুবিধার জন্য কয়েকটি কথা এখানে আলোচনা করা যাক। তাহলেই বুঝবেন নিজের অগ্রগতি হচ্ছে কিনা।_
_*দীক্ষা কেন নিয়েছিলেন দু'বছর আগে? হয়তো কারোর কথায়? জীবনে কোনো দু:খ পেয়ে? নিছক কৌতূহল বশত? অথবা অন্য কোনো কারণে? তখন আপনার মানসিক অবস্থা ঠাকুর বা মায়ের সম্বন্ধে, আর আজ --- কি একই আছে?* মিলিয়ে নিন তো নীচে দেওয়া অবস্থাগুলির সাথে।_
_*অগ্রগতির পথে মাইলস্টোনগুলি দেখুন। তবে তো বুঝতে পারবেন। এখানে ৭ টি মাইলস্টোন নিয়ে আলোচনা করা যাক।*_
_তখন ঠাকুরকে ভগবান ভাবতেন হয়তো। কালীঘাটে মা কালী, তিরুপতি মন্দিরে বিষ্ণু, কেদারনাথে শিব, এরকমই ঠাকুর। যেন দূরের কোনো ঈশ্বরীয় রূপ, শ্রদ্ধাযুক্ত মনে প্রণাম করতেন, আশীর্বাদ চাইতেন, সংসারের জন্য কল্যাণ কামনা করতেন। তাই না?_
_*তখন তিনি যেন দূরের কোনো সত্বা। আপনি ভক্তি করতেন তাঁকে। তাঁর ও আপনার মধ্যে পার্থক্য ছিল। আজ সেই জায়গায় আপনি তাঁর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। তখন আপনি তাঁকে ভক্তি করতেন দূর থেকে। কিন্তু আজ তাঁর প্রতি ভালবাসা। আগের ভক্তি ও আজকের ভালবাসা --- এই পরিবর্তনটা লক্ষ্য করছেন?*_
_তাহলে *প্রথম মাইলস্টোনঃ* *ঠাকুরের প্রতি আকর্ষণ।* এই পরিবর্তনটা অনুভব করছেন? অর্থাত আপনি এগোচ্ছেন আধ্যত্মিক পথে।_
_*দ্বিতীয় মাইলস্টোনঃ*_ _*তাঁকে আপনজন ভাবা।*_ _আগে মনে হত তিনি ঈশ্বর, আমার প্রভু, অনেক বড়, দূরের বিশাল সত্বা। আপনার মনে শ্রদ্ধা ছিল, ভালবাসা নয়। তিনি সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু কাছের নন। আজ তিনি যেন আপনার কাছের মানুষ। *সংসারে, অফিসে, পাড়ায়, সমাজে অনেকের সাথেই আপনার সম্পর্ক। কিন্তু ঠাকুর যেন তাদের চেয়েও বেশি আপনজন। তাঁর সাথে যেন জন্ম-জন্মান্তরের সম্পর্ক আপনার।*_
_আজ কি আপনার মনে এই ভাব? অগ্রগতির লক্ষণ।_
_বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো থাকলে আপনি পুরোহিত ডেকে পুজো করেন। বাড়ির সরস্বতী পুজোয় কোনো ভুল হলে আপনি ভয় পান। ভাবেন, মা রাগ করবেন না তো? সংসারের কোন অমঙ্গল হবে না তো!_
_কিন্তু বাড়িতে ঠাকুরের জন্মতিথিতে আপনি নিজেই পুজো করেন। পুরোহিতকে ডাকেন না। আর পুজোয় কিছু ভুল হলেও ভয় পান না। অঙ্গন্যাস না জেনে, মন্ত্র ভুল উচ্চারণ করেও আপনি নিজে পুজো করেন। কেন ভয় পান না? কেন বিধি মানার উপর গুরুত্ব দেন না আপনি? *কারণ ঠাকুরকে যে আপনজন ভাবেন, নিজেকে তাঁর সন্তান মনে করেন। জানেন যে মেয়ে ভুল করলেও বাবা রাগ করেন না।* অর্থাৎ বৈধী ভক্তিকে অতিক্রম করে আপনি রাগভক্তিতে উঠে গেছেন।_
_এটাই *তৃতীয় মাইলস্টোনঃ* *রাগভক্তির উদয়।*_
_ঈশ্বরের ভয় চলে গেছে, এখন সে-জায়গায় ভক্তির উদয় হয়েছে। পুজো এখন আর শাস্ত্র মেনে নয়, হৃদয়ের আকুতিতে।_
_*আগে সকাল-সন্ধ্যায় বসতেন সাধনায়। এখনও এটা চলছে তবে অন্য সময়েও এর বিস্তৃতি দেখা যাচ্ছে।* রান্না করতে-করতে জপ করছেন, ঘর গুছোতে-গুছোতে ভজন গাইছেন, ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন তাঁর সাথে।_
_*চতুর্থ মাইলস্টোনঃ* *ঘনঘন ঠাকুরকে মনে পড়া।*_
_*বাসে যেতেযেতে, অফিসে-রাস্তায়-বারান্দায় এমনকি ডাক্তারের চেম্বারে বসে অপেক্ষা করার সময়ও তাঁর স্মরণ-মনন, জপ চলছে মাঝে-মাঝেই। আপনার জীবনের গভীরে ঢুকে গেছেন ঈশ্বর।*_
_পাশের ফ্ল্যাটে নতুন প্রতিবেশী এসেছেন। *আপনি যেই শুনলেন তিনি বেলুড়মঠের দীক্ষিত, আপনার মনের ভাব পাল্টে গেল। তার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ, তিনি যেন আপনার নিজের লোক। এর তাৎপর্য কি? স্বামী-সন্তানকে নিয়ে নিজের সংসার থাকলেও আপনি এক বৃহৎ সংসারের সদস্য হিসেবে নিজেকে ভাবছেন। আপনার অজান্তেই যেন এই ভাব আপনার মনে বাসা বেঁধেছে।* অর্থাৎ মানসিক পরিবর্তন ঘটে গেছে আপনার।_
_*পঞ্চম মাইলস্টোনঃ*_ _*রামকৃষ্ণ পরিবারের সন্তান আমি বলে নিজেকে ভাবা*_ _নিজের সীমাবদ্ধ অস্তিত্বকে অতিক্রম করছেন আপনি।_
_আগে কেউ টাকা ধার চাইলে হয়তো আপনি এড়িয়ে যেতেন "এখন একটু টানাটানি চলছে" বলে, বা কোথাও যেতে ইচ্ছে না হলে বলে দিতেন "শরীরটা ভাল নেই" অজুহাত দিয়ে। ভাবতেন যে জগতে থাকতে হলে একটু-আধ্টু এ-রকম বলতে হয়।_
_কিন্তু *এখন এমন বলতে অস্বস্তি হয়, বিবেকের দংশন অনুভব করেন। তাই না?* নিজের মধ্যে এই পরিবর্তনটা লক্ষ্য করুন। অতএব *ষষ্ঠ মাইলস্টোনঃ* *বিবেক অনেকৎজাগ্রত এখন।*_
_*সপ্তম মাইলস্টোনঃ*_ _*দিব্যজীবনের তীব্রতাবৃদ্ধি।*_
_আধ্যাত্মিক জীবন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। আশ্রম ও তীর্থে ঘনঘন যেতে মন চায়। পুণ্য অর্জন বা প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য নয়, বরং ওখানে যেতে ভাল লাগে বলে। ধর্মের বই পড়তে বেশি আগ্রহ, ধর্মীয় বক্তৃতা-সভা-শিবিরে যেতে ভাল লাগে। *জীবনের একটা তাৎপর্য পেয়েছেন বলে অনুভব করেন।* সাধনায় বেশি করে এগিয়ে যেতে ইচ্ছা হয়।_
_এই হলো প্রাথমিকভাবে *সাধনায়_অগ্রগতির_সাত_মাইলস্টোন।*_
_এই মানদণ্ডে এবার নিজের মূল্যায়ন করুন। *আপনি দু'বছর ধরে যে সাধনা করছেন, বুঝতে পারবেন নিজের অগ্রগতি হচ্ছে কিনা। এটাই আপনাকে উৎসাহ দেবে আরও এগিয়ে যেতে।*_
_এখন বুঝতে পারছেন যে *আপনি সাধনার ফলে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন? পুকুরের মাছ খাল দিয়ে নদীতে এসে পড়েছে। এবার নদীর স্রোতই তাকে নিয়ে যাবে সাগরে।*_
*~~~~~~~~~🌻~~~~~~~~~~~~*