05/07/2025
উল্টো রথযাত্রার মাহাত্ম্য:
উল্টো রথ, ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র দেব ও সুভদ্রাদেবী মাসীর বাড়ী গুন্ডিচা মন্দিরে যান। উল্টো রথের দিন মাসীর বাড়ী থেকে পুনরায় মূল মন্দিরে আগমন করেন। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরেই “উল্টো রথ” অনুষ্ঠিত হয়।
উল্টো রথকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রার দিনের মতোই রথ টানা হয়। ব্যাতিক্রম থাকে কিছু জায়গায় যে রথকে উল্টো দিক থেকে আকর্ষণ করা হয়। এই উল্টোরথযাত্রা উৎসবে বিভিন্ন স্থানে মেলা ও ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয় ।
রথযাত্রা যেমন বৈষ্ণব দিগের কাছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মথুরা ছেড়ে বৃন্দাবনে আসবার মতো। তেমনি উল্টোরথযাত্রা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন ছেড়ে পুনঃ মথুরা গমনের ন্যায় । যিনি কৃষ্ণ তিনিই জগন্নাথ। ভক্ত যে রূপে দর্শন চান- ভগবান সেই রূপেই আসেন।
কঠোপনিষদে বলা হয়েছে,— যম তাঁর পুত্র নচিকেতাকে বলছেন, যে ব্যক্তি বুদ্ধিমত্তাকে তার জীবনরথের সারথি করেন, যার মন তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে, তিনি ওইভাবে এ সংসারে বিচরণ করে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারেন।
রামায়ণে রামচন্দ্র বিভীষণকে বলছেন,— আমাদের সংসার যাত্রার রথটির চাকা হল সাহস আর জেদ, অপরিবর্তনীয় সত্য আর চরিত্র হচ্ছে এর পতাকা, এর চারটি ঘোড়া শক্তি, বিবেচনা, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ আর বদান্যতা, এবং ঈশ্বরের প্রতি ভক্তিই হল এর সারথি। এমন রথে লোকে সকল সংসারবাধা অতিক্রম করতে পারে।
মহাভারতে,— কৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথি হয়ে পঞ্চপাণ্ডবকে জয়ের দিকে পরিচালিত করেছেন। জীবনযাত্রার রথে সংসার পাড়ি দেয়ার সময় কেউ যদি তার সমস্ত নিয়তি যথার্থ সারথির উপর সমর্পণ করেন, তবে তিনি পূর্ণতার পথে চলতে পারবেন।
রথযাত্রার অনেক কারণ আছে তা আমরা বিভিন্ন পোষ্টে তা শ্রবণ করেছি, এ ছাড়াও জড় জা ভাবে দেখতে গেলেও মূলত এটি আমাদের হৃত আত্মার পুনরুদ্ধার কৌশল। আমাদের হৃদয়ে কৃষ্ণ, অর্থাৎ ঈশ্বরকে স্থান দেয়ার ধ্যানই রথযাত্রা। এই ধ্যানের প্রথম ধাপ হচ্ছে হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করা। কাম, ঈর্ষা, ঔদ্ধত্য, লোভ, ক্রোধ আর মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত করার মাধ্যমে পরিশুদ্ধির কাজটি করা যায়। শুধু নিজেকে নয়, অন্যকেও সুন্দর হৃদয় ধারণ করতে সাহায্য করা রথযাত্রার দর্শন।
রথে জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রা থাকেন। জগত মানে পৃথিবী আর নাথ মানে পতি।
জগন্নাথ অর্থ "জগতের পতি", অর্থাৎ জগতের সকল কর্মকাণ্ডের প্রভু। বল মানে শক্তি আর রাম মানে আনন্দ। বলরাম হচ্ছেন, যিনি আমাদের আত্মিক শক্তি দান করেন যাতে আমরা ঈশ্বরের আশীর্বাদ গুলি উপভোগ করতে পারি।
"সু" -মানে ভালো আর "ভদ্রা" -মানে কল্যাণ। ফলে যখন জগন্নাথ বলরাম আর সুভদ্রা একসাথে থাকেন, তখন এ ত্রিশক্তি মানুষের জীবনকে মঙ্গলময় করেন, মানুষ তার সৌভাগ্যকে পুনরুদ্ধার করতে পারে।
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, “আমি সকলের হৃদয়ে আছি।” হৃদয়ে ঈশ্বরের অধিষ্ঠান থাকলে আমাদের দেহ একটা রথ ছাড়া আর কিছু নয়।
সে রথের সারথি আমাদের হৃদয়।
রথের সুন্দর যাত্রাই আমাদের জীবনের সুন্দর যাত্রা। রথযাত্রা মূলত আমাদের জীবনকে সত্য ও সুন্দর পথে পরিচালিত করার আধ্যাত্মিক প্রয়াস।
*"নীলাচলে নীল মাধব প্রভু জগন্নাথ"*
*"ভক্ত জনে কৃপা করো দওগো আশীর্বাদ।"*
'রথযাত্রা মহোৎসব
"হরে"কৃষ্ণ"হরে"কৃষ্ণ"
"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"হরে"হরে।"
"হরে"রাম"হরে"রাম"
"রাম"রাম"হরে"হরে।।"