শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবনা ,চন্দ্রনাথধাম,সীতাকুণ্ড,চট্টগ্রাম।

  • Home
  • Bangladesh
  • Kumira
  • শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবনা ,চন্দ্রনাথধাম,সীতাকুণ্ড,চট্টগ্রাম।

শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবনা ,চন্দ্রনাথধাম,সীতাকুণ্ড,চট্টগ্রাম। Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবনা ,চন্দ্রনাথধাম,সীতাকুণ্ড,চট্টগ্রাম।, Religious organisation, sitakund, Kumira.

তুমি কি শুধু আচার করছো…‎নাকি সত্যিই ঈশ্বরকে ডাকছো? 🙏‎শ্রীশ্রীঠাকুর বলতেন—‎সাধনা গোপনে করো, অন্তরকে শুদ্ধ করো।‎বাহ্য আচার...
01/05/2026

তুমি কি শুধু আচার করছো…
‎নাকি সত্যিই ঈশ্বরকে ডাকছো? 🙏
‎শ্রীশ্রীঠাকুর বলতেন—
‎সাধনা গোপনে করো, অন্তরকে শুদ্ধ করো।
‎বাহ্য আচার নয়—
‎ভক্তি আর বিশ্বাসই আসল।
‎যখন মন সত্যিই তাঁকে ডাকে,
‎তখন পথ নিজেই খুলে যায়…
‎আজ নিজেকে জিজ্ঞেস করো—
‎আমি কি শুধু দেখাচ্ছি…
‎নাকি সত্যিই বদলাচ্ছি?




🌺সঠিক কাজের জন্য দোষ নেওয়া🌺একবার এক আশ্রমে (সম্ভবত শিলং আশ্রমের সময়কালের ঘটনা), হঠাৎ কয়েকজন ভক্ত এসে উপস্থিত হন। তাঁদ...
25/04/2026

🌺সঠিক কাজের জন্য দোষ নেওয়া🌺

একবার এক আশ্রমে (সম্ভবত শিলং আশ্রমের সময়কালের ঘটনা), হঠাৎ কয়েকজন ভক্ত এসে উপস্থিত হন। তাঁদের আপ্যায়নের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যে ব্রহ্মচারী বা সাধুর তাঁদের জলখাবারের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, তিনি দ্বিধায় ভুগছিলেন।
স্বামী গহনানন্দজি যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে সে কেন ভক্তদের কিছু খেতে দিচ্ছে না, তখন সেই সাধুটি উত্তর দেন, "আমি রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা মহারাজের বাজার থেকে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁকে না জিজ্ঞাসা করে আমি নিজে থেকে কিছু দিলে তিনি খুব বিরক্ত হন।"
এই কথা শুনে স্বামী গহনানন্দজি অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে একটি অবিস্মরণীয় কথা বলেছিলেন:
"এই আশ্রম হলো ঠাকুরের (শ্রীরামকৃষ্ণ)। আর এই যে ভক্তরা এসেছেন, তাঁরা হলেন তাঁর অতিথি। অতিথিদের যত্ন নেওয়া কি আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য নয়? যাও, গিয়ে তাঁদের জলখাবার দাও। এর জন্য রান্নাঘরের মহারাজ যদি তোমার ওপর রাগও করেন, তাতে কিছু যায় আসে না। কখনও কখনও সঠিক কাজ করার জন্য নিজের কাঁধে দোষ নেওয়াটাও অনেক ভালো।"
#সপ্তদশ_সংঘাধ্যক্ষ
#স্বামী_গৌতমানন্দজী_মহারাজ

*স্বামী স্মরণানন্দ মহারাজের ঘটনা*একবার মঠের এক নবীন সন্ন্যাসী তাঁকে কিছুটা কৌতূহল নিয়েই প্রশ্ন করেছিলেন, "মহারাজ, আপনাকে...
23/04/2026

*স্বামী স্মরণানন্দ মহারাজের ঘটনা*
একবার মঠের এক নবীন সন্ন্যাসী তাঁকে কিছুটা কৌতূহল নিয়েই প্রশ্ন করেছিলেন, "মহারাজ, আপনাকে তো কখনো দীর্ঘ সময় ধরে জপ বা ধ্যান করতে দেখি না; দীর্ঘ তীর্থযাত্রায় বা তপস্যা করতে যেতেও তো দেখিনি। তাহলে, আপনার জীবনে আধ্যাত্মিক পথে নিরন্তর এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে মুখ্য সাধনাটি কী?"
একটুও বিরক্ত না হয়ে, অত্যন্ত শান্তভাবে এবং হাসতে হাসতে স্মরণানন্দ মহারাজ তাঁকে একটি চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
"দুটি বিষয় জীবনে মনে রেখো—"
প্রথমত: 'ব্রহ্ম সত্যং জগন্মিথ্যা' (ব্রহ্মই একমাত্র সত্য এবং এই জগত অনিত্য) — এই বৈদান্তিক সত্যকে জীবনসাধনা করে তোলার চেষ্টা করো।
দ্বিতীয়ত: এক সরল ও নিঃসহায় শিশুর মতো শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে নিঃশেষে আত্মসমর্পণ করো।
জপ ও সাধনার প্রকৃত রহস্য এবং নিজের জীবনদর্শন বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, "দ্যাখো, যে মুহূর্তে আমি বুঝলাম যে এই জগত অনিত্য, সেই মুহূর্তে আমার জীবনের লক্ষ্য এবং পথ সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে গেলো। আমি জানতাম আমার শরীর ও মনের সামর্থ্যের চেয়ে বেশী দ্রুত আমি এগোতে পারবো না। তাই আমি আমার শক্তি অনুযায়ী এবং ঠাকুরের উপর নির্ভর করে নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলেছি। দ্রুত কিছু পেতে হবেই, এই ভেবে কখনো আমি অধৈর্য হয়ে পড়িনি।"
সবশেষে নবীন সন্ন্যাসীকে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ উপদেশটি দেন:
"রহস্যটা এখানেই: শ্রীরামকৃষ্ণের চরণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিবেদন করো, ঠাকুরকে তোমার শরীর, মন, প্রতিভা সবকিছু তাঁর কাজে তাঁরই ইচ্ছামত ব্যবহার করতে দাও। সবসময় তাঁরই উপর নির্ভর করো, সবসময় তাঁকে স্মরণে রাখার চেষ্টা করো এবং তাঁর জন্যে কাজ করে যাও। দেখবে, তিনিই বাকী সমস্ত কিছুর দায় গ্রহণ করবেন।"

22/04/2026

জয় মা🙏

শ্রী রামকৃষ্ণের একটি সহজ উপমা—৷৷৷৷৷৷ ‘চুম্বক ও সূচ।।।।।।একদিন শ্রী রামকৃষ্ণ ভক্তদের বোঝাচ্ছিলেন—কেন আমরা ঈশ্বরকে অনুভব ক...
20/04/2026

শ্রী রামকৃষ্ণের একটি সহজ উপমা—
৷৷৷৷৷৷ ‘চুম্বক ও সূচ।।।।।।

একদিন শ্রী রামকৃষ্ণ ভক্তদের বোঝাচ্ছিলেন—কেন আমরা ঈশ্বরকে অনুভব করতে পারি না।

তিনি বললেন—

“একটি সূচ যদি কাদায় মাখা থাকে, তাহলে চুম্বক তাকে টানতে পারে না। চুম্বকের টান সবসময়ই আছে, কিন্তু কাদা থাকলে সেই টান কাজ করে না।”

তারপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন—

“এই সূচের মতোই আমাদের মন।
কামনা-বাসনা, আসক্তি—এইগুলোই সেই কাদা।
আর ঈশ্বর হলেন চুম্বক—যিনি সর্বদা আমাদের দিকে টানছেন।”

“যখন মন পরিষ্কার হয়—ভক্তি, জপ, সাধনার মাধ্যমে—
তখন সেই মন স্বাভাবিকভাবেই ঈশ্বরের দিকে আকৃষ্ট হয়।”

এই ছোট্ট উপমার মধ্যেই তিনি গভীর সত্যটি বোঝালেন—
ঈশ্বরকে পেতে বাইরে কোথাও যেতে হয় না,
শুধু নিজের মনকে শুদ্ধ করতে হয়।

📖 Source:
• শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত


শুভ নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা, প্রণাম🙏🙏
15/04/2026

শুভ নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা, প্রণাম🙏🙏

*পণ্ডিতের চৈতন্য লাভ*সেকালে শ্যামাপদ ন্যায়বাগীশ নামে একজন নামী পণ্ডিত ছিলেন। তিনি নানা শাস্ত্রে, বিশেষ করে ন্যায় ও ব্য...
26/04/2025

*পণ্ডিতের চৈতন্য লাভ*
সেকালে শ্যামাপদ ন্যায়বাগীশ নামে একজন নামী পণ্ডিত ছিলেন। তিনি নানা শাস্ত্রে, বিশেষ করে ন্যায় ও ব্যাকরণে দারুণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই জ্ঞান ও বিদ্যার জন্য বিদ্বজ্জনেরা তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা করতেন। তবে তাঁর মনে নিজের বিদ্যা বুদ্ধি নিয়ে একটু অহঙ্কারও ছিল।

শ্যামাপদ পণ্ডিত থাকতেন হুগলী জেলার আঁটপুর গ্রামে। পরে এই আঁটপুর বিশেষভাবে বিখ্যাত হয়ে ওঠে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের এক অনুগত শিষ্য প্রেমানন্দ, অর্থাৎ বাবুরাম মহারাজের জন্যে।
বাবুরামের আঁটপুরের বাড়িতেই রামকৃষ্ণদেবের এগারজন সাক্ষাৎ শিষ্য, নরেন্দ্রসহ, বিরজা হোম করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। তবে এই ঘটনার আগে শ্যামাপদ ও ঠাকুরের আলাপ হয়।

শ্যামাপদ ন্যায়বাগীশ ঠাকুরের নাম ও খ্যাতি শুনে, শরৎ (পরবর্তীতে সারদানন্দ) ও শশী (পরবর্তীতে রামকৃষ্ণানন্দ) ঠাকুরের সেবা করতে আসার পরে, একদিন দক্ষিণেশ্বরে এসে ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেন।

পাণ্ডিত্যের জন্য শ্যামাপদবাবুর নাম বাংলার নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁকে ডাকা হত শাস্ত্রের বিধান দেওয়ার জন্য। ধনী লোকেদের বাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যজ্ঞ-যজন- পৌরহিত্য ইত্যাদি কাজেও তিনি নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। এসব কাজ থেকে ভালোই রোজগার হত তাঁর।

জীবনের প্রায় পরিণত বয়স পর্যন্ত তিনি কেবল মাত্র শাস্ত্রচর্চা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তিনি কিন্তু কখনো ধর্মের গভীরতর তত্ত্ব নিয়ে ভাবেননি, বা অধ্যাত্মজগতের প্রতি কোনো আকর্ষণও বোধ করেননি। সেই অভাব বা ঘাটতির কথাও কখনো তাঁর মনে জাগেনি।

আত্ম-সন্তুষ্ট ছিলেন শুকনো পাণ্ডিত্যের পরিধিতে। শাস্ত্রজ্ঞানের অহঙ্কারে অভিমানে‌ তিনি পূৰ্ণ ছিলেন।
এই সময়েই একদিন উত্তরপাড়া থেকে তাঁর কাছে নিমন্ত্রণ এল। নিমন্ত্রণটি পাঠিয়েছিলেন সেখানকার বিখ্যাত জমিদার জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।

তিনি ছিলেন সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন ধনী ব্যক্তি, বিদ্যোৎসাহী এবং নানা জনকল্যাণমূলক কাজের পৃষ্ঠপোষক।
তাঁর নিজের সংগ্রহ করা বিরাট এক গ্রন্থাগার পরে তাঁরই স্মৃতিতে সাধারণ পাঠাগার হিসেবে গড়ে ওঠে উত্তরপাড়ায়।
শ্যামাপদ পণ্ডিতের যেসব প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন অন্যতম।

সেদিন জয়কৃষ্ণবাবুর পরিবারের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপলক্ষে শ্যামাপদ পণ্ডিতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে কিছু সময় পর বৈঠকখানায় দুজনের দেখা হয়। শ্যামাপদ পণ্ডিত বৈঠকখানায় ঢুকে দেখলেন, গৃহস্বামী চুপচাপ বসে একটি বই পড়ছেন।

জয়কৃষ্ণবাবুর হাতে ছিল ‘হরিদাসের গুপ্ত কথা’ নামের একটা বই। বইটি সেই সময় খুবই বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ছিল। এর আকার ছিল বড়, কিন্তু তবুও একাধিকবার বইটি ছাপা হয়েছিল-সম্ভবতঃ এগারোবার, যা সেকালের বাংলা বইয়ের ইতিহাসে বিরল ঘটনা ছিল। বইটির ভাষা ছিল কথ্যভাষা, কিন্তু সেটা ছিল দারুণ সুবিন্যস্ত ও একটা গোছানো উপস্থাপন। সেই যুগে এই ব‌ইটা ছিল কথ্যভাষার চমৎকার ব্যবহার সম্বলিত ও সাহিত্য পরিপাট্যের এক উজ্জ্বল উদাহরন।

সে যা হোক, জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় তখন গুপ্তকথা পাঠ করছিলেন বৈঠকখানায়। তাঁকে দেখে পণ্ডিত শ্যামাপদ জিজ্ঞাসা করলেন, 'কি বই পড়ছেন।'
জয়কৃষ্ণ জানালেন পুস্তকটার নাম। শুনে, পণ্ডিত মশাই সহাস্যে বললেন, 'আপনার জীবন তো প্ৰায়
শেষ হয়ে এল। এখন আর গল্প উপন্যাস পড়া কেন? এসব ছেড়ে এবার গভীর তত্ত্ব সম্বলিত গ্রন্থ পাঠ করুন'।
এমন স্পষ্ট ভাষণেও কিন্তু জয়কৃষ্ণ বিরক্তিবোধ না করে তিনিও সোজা বলে দিলেন, 'তত্ত্ব কথাও অনেক পড়েছি। কিন্তু বুঝতে পেরেছি যে ওসব পড়লেও কিছুতেই কিছু হয় না।'

শ্যামাপদ ন্যায়বাগীশ ওরকম উলটো কথা শুনে একেবারে হতবাক হয়ে গেলেন। তাঁর চটপটে মুখে একটাও উত্তর এল না। শুধু তাই নয়, তাঁর মনে হঠাৎ একটা তীব্র আত্মজিজ্ঞাসা জেগে উঠল। তিনি সচেতন হয়ে নিজের কথাই ভাবতে লাগলেন—ঠিক তো, আমি নিজেই বা গভীর তত্ত্ব থেকে কী বুঝেছি?
এতদিন ধরে কত সহস্র শাস্ত্র পড়ে এসেছি, কত আলোচনা করেছি। কিন্তু লাভ কী হয়েছে? বইয়ের পর বই পড়েছি, ব্যাখ্যা দিয়েছি, কিন্তু আসল জিনিসটা কোথায়? আমার তো অনেকটা জীবন কেটে গেল এইসব নিয়েই। কিন্তু এর মধ্যে কোনো আসল সার্থকতা পেলাম না। এখন কী করব?

সাধনা-ভজন করার মতো শিক্ষাও তো আমার নেই। তাহলে মুক্তি হবে কী করে? এইসব ভাবনা তাঁকে ভীষণ চিন্তিত করে তুলল।

এই চিন্তার মধ্যেই হঠাৎ তাঁর মনে পড়ে গেল শাস্ত্রের একটা বিশেষ কথা-‘সাধু সঙ্গ করলে আসল বস্তু পাওয়া যায়।’ কথাটা তাঁর মনে বেশ গভীর প্রভাব ফেলল।

এরপর তিনি জয়কৃষ্ণের বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে মনে মনে পাকা সিদ্ধান্ত নিলেন-এবার সাধুদের সঙ্গ করতেই হবে, মুক্তির পথ তো ওখানেই। আঁটপুরে ফিরে তিনি এ নিয়ে তৎপর হয়ে উঠলেন। কিন্তু সাধু খুঁজতে গিয়ে পড়লেন বড় বিপদে। কোথায় পাবেন এমন একজন সাধু? অনেক জায়গায় খোঁজ করেও তিনি কারও সন্ধান পেলেন না।

তবু আশায় আশায় দিন যাপন করতে লাগলেন ।
এইসময় শুনলেন দক্ষিণেশ্বরের পরমহংসদেবের
কথা। গঙ্গার পূর্বকূলে দক্ষিণেশ্বর পল্লী। সেখানকার কালী মন্দিরে এই সাধুর অধিষ্ঠান। তাঁর খুব নাম ডাক। বহু ভক্ত রয়েছেন তাঁর। অনেকে তাঁর কাছে যান এবং শুনে আসেন ঈশ্বরীয় কথা।

শ্যামাপদ ন্যায়বাগীশও দক্ষিণেশ্বরে যাবার মনস্থ করলেন, তখন একবার অহমিকাও জাগল বটে। এত বড় পণ্ডিত আমি৷ অযাচিত একজনের কাছে যাব !

কিন্তু নিজেরই গরজ । না গিয়ে উপায় কি। সাধু তো এ পর্যন্ত পাওয়া গেল না । এখানে গিয়েই দেখা যাক। ইনি কেমন সাধু। বস্তু কিছু পাওয়া যায় কিনা এঁর কাছে৷ এমনি ভেবে একদিন তিনি দক্ষিণেশ্বরে এলেন।

মন্দির চত্বরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরমহংসদেবের সংবাদও পেলেন। গঙ্গাতীরের কক্ষটিতে উপনীত হলেন বারান্দার ধারে।

তখন প্রায় অপরাহ্ণ। ঠাকুর তাঁর ঘরে উপনীত। সামনে বসে ভক্তেরা। তিনি ঈশ্বর-প্রসঙ্গ করছেন পরমানন্দে। শ্রোতারাও সাগ্রহে সেই কথামৃত পান করছেন।

সেদিন বেশ কয়েকজন সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন ওই ভক্তদের মধ্যে ৷ তা তাঁদের পোষাক পরিচ্ছদেই বোঝা যাচ্ছিল । কেউ কেউ এসেছেন গাড়িতে ।
ন্যায়বাগীশ দরজার সামনে থেকে ভেতরে একবার দেখলেন। দাম্ভিক ব্যক্তি, তাই পাদুকাও খুললেন না। সরাসরি ঢুকে গেলেন ঘরের মধ্যে।

আগন্তুকের এই ঔদ্ধত্যে কিন্তু ভক্তেরা সঙ্কুচিত হয়ে গেলেন। বিস্ময়ে কোন কথা ফুটল না তাঁদের মুখে। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের দিকে তাঁরা চাইলেন । তাঁর অধরে মৃদু হাসি। শ্যামাপদ ভক্তদের প্রশ্ন করলেন, 'এখানে পরমহংস কে? আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।'

সৌজন্য বা বিনয়ের লেশমাত্র নেই তাঁর কণ্ঠস্বরে। তা হোক, ভক্তরা ঠাকুরকে দেখিয়ে দিলেন । তিনি তক্তাপোষে বসে। পণ্ডিত তাঁকে দেখতে লাগলেন তীক্ষ্মদৃষ্টিতে। নিতান্ত সাদামাঠা চেহারা। পরণের কাপড় খানিকটা কাঁধে ওঠানো। সাধারণ গৃহস্থের
মতনই দেখতে। সাধুর কোন চিহ্নই শরীরে নেই। গৈরিক বসন বা জটাজাল, ভষ্ম মাখা অঙ্গ-কিছুই না। খাটো ধুতিটা লাল পাড়। পান খাওয়া মুখে লাল ছোপ !

এত সামান্য এক বামুন। মুখে পাণ্ডিত্যেরও কোন ছাপ নেই। এই ভেবে শ্যামাপদ ন্যায়বাগীশ ঠাকুরের পাশেই বসে পড়লেন।

কৌতুক ঝিলিক দিয়ে উঠল পণ্ডিতের মুখে চোখে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে তিনি ঘরের সব দেখে নিলেন। তারপর তামাশাচ্ছলেই ঠাকুরকে বললেন, ‘তুমিই তাহলে পরমহংস? দেখে তো বোঝবার উপায় নেই। বাঃ বেশ মজায় এখানে রয়েছ তো ! কি করে এতসব লোক জড় করলে। এমন জমাট আসর বসালে ।”
ঠাকুর নির্বাক, যদিও হাসি-মুখ । ভক্তরা স্তম্ভিত এমন বিশ্রী বাক্যে।

বক্তা তেমনি ভঙ্গিতেই শোনালেন, ‘আমি এতকাল শাস্ত্রচর্চা নিয়ে আছি। কিন্তু কি আর হল আমার । আর তুমি কেমন পরমহংস নাম নিয়েই এমন পসার জমিয়ে ফেললে।'

শ্রীরামকৃষ্ণ কোন প্রতিবাদ করলেন না। রাগ বা বিরক্তিও দেখা গেল না তাঁর। বরং হাসির আভাস মুখে চোখে । অতিথির দিকে তিনি চেয়ে আছেন ।
আগন্তুক ঘরের জিনিসপত্রও দেখছিলেন মূল্য বিচারের দৃষ্টিতে।

খাটে ধবধবে পুরু বিছানা। পরিচ্ছন্ন মশারি। পাশে আরেকটা ছোট খাট বা তক্তাপোষ, বসার জন্যে। তার একদিকে মোটা তাকিয়া। মেঝেয় পাপোশ পাতা। ঘরের চার দেয়াল পরিস্কার চুনকাম করা। নানা দেব দেবীর ছবি টাঙানো। ঘরের এক কোণে গঙ্গাজলের জালা।

তার পাশের পাটাতনে কয়েক রকমের ফল রাখা। একদিকে কাপড়ের আলনা। আর একদিকে মিষ্টান্ন ইত্যাদি খাবার রয়েছে। ওপরের শিকেয় ঝোলানো হাঁড়ি৷

দেয়ালের এক কোণে রাখা হু’কো, তার মুখে বকুল -পাতার নল। একটা জলপানের পাত্র। কোন জিনিসই মূল্যবান নয়। তবে সবই পরিচ্ছন্ন,
পরিপাটি।

অতিথি নিরীক্ষণ করছেন জিনিসগুলি। আর ঠাকুরও তাঁকে আঙ্গুল তুলে একেকটা দেখিয়ে দিচ্ছেন। যেন বাদ না যায় কিছু। তিনিও এখন কৌতুকী।
রঙ্গ করছেন দাম্ভিক পণ্ডিতকে নিয়ে। তবে নির্বাক হাবভাবে। ভক্তরাও এবার বুঝেছেন যে ঠাকুর আগন্তুকের সঙ্গে রহস্য-পর হয়েছেন।

জিনিসপত্র দেখে, পণ্ডিত এবার লক্ষ্য করলেন উপস্থিত ব্যক্তিদের দিকে৷ তারপর ঠাকুরকে ব্যঙ্গভরেই বললেন, 'এতজনকে তুমি কি করে বশ করলে ? দেখে মনে হয় এদের অনেকেই অবস্থাপন্ন ঘরের। এতগুলি লোককে তুমি ধোঁকা দিয়ে নষ্ট করছ নিজে পরমহংস নাম নিয়ে।'

শ্রীরামকৃষ্ণ এখনও মৌন। অন্য সকলেও হতবাক। বক্তা এবার ভক্তদের শোনাতে লাগলেন, পাণ্ডিত্য ফলিয়ে - 'আমার কাছে শোন, পরমহংস কাকে বলে। শাস্ত্রে পরমহংসের সব লক্ষণ দেওয়া আছে।' এই বলে, শাস্ত্রবাক্য ও তার ব্যাখ্যা শোনালেন।

তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত পরমহংস নন শ্রীরামকৃষ্ণ।
ঠাকুর এইসব কথার মধ্যে তেমনি হাসিমুখে রইলেন। এদিকে বিকেল প্রায় শেষ। তাই দেখে তিনি সবিনয়ে বললেন অতিথিকে, ‘সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আজ তুমি এখানেই থাকো। অনেক দূরে তো তোমার বাড়ি।'
নিরভিমান ঠাকুর। পরম কারুণিক। এতক্ষণ এমন অপমানের প্রতিদানেও তাঁর সৌজন্য। ন্যায়বাগীশ কি ভেবে রাজি হলেন। সন্ধ্যা সমাগত দেখে তিনি গঙ্গাতীরে গেলেন, আহ্নিক করতে।

এদিকে ঘরে ভক্তদের সঙ্গে ঠাকুর কিছুক্ষণ কথা- বার্তা বলে তারপর বাইরে এলেন বাগানে। আপন মনে বেড়াতে লাগলেন।
কখনো ফুলগাছের সামনে। কখনো গঙ্গার ধারে। পঞ্চবটীতে। তার ডালে ডালে পাখিদের কাকলি শোনা যাচ্ছে ৷ আকাশে চাঁদ উঠেছে তারাদলের মধ্যে৷

খানিক পরে ঘরে ফিরলেন। দেব দেবীর দিকে বিচরণ করতে লাগলেন, ভাবাবিষ্ট হয়ে। ওদিকে পণ্ডিত গঙ্গাতীরে রয়েছেন। চাঁদনীতে। প্রথমে সন্ধ্যাহ্নিক করে নিলেন। তারপর চোখ বন্ধ করলেন ইষ্টদেবতার স্মরণ মননে।

কিন্তু, আশ্চর্য ব্যাপার। যতবার তিনি ইষ্টকে মনে করতে চাইলেন ততবারই শ্রীরামকৃষ্ণের মূর্তি ফুটে উঠল। একবার নয়, প্রতিবার ।
তিনি তখন চিন্তা করলেন, চোখ খুলে। তাঁর মনে হল, অনেক ক্ষণ পরমহংসের কাছে ছিলেন। তাই কেবল এসে পড়ছে তাঁর রূপ। পরে আর এমন হবে না ৷

এই ভেবে তিনি আবার চোখ বুজলেন। কি বিচিত্র ব্যাপার। এবারও তাঁর মনে এল না ইষ্টমূর্তি। কেবল পরমহংস দেখা দিতে লাগলেন, তাঁর মানসপটে। এতকাল যাঁকে স্মরণ মনন করেছেন, যে রূপ চিরকাল মুদ্রিত ছিল চিত্তে, আজ শত চেষ্টাতেও তার সাক্ষাৎ মিলল না।

এবার নিরস্ত হলেন ন্যায়বাগীশ। ব্যাপারটি আবার বিবেচনা করতে চাইলেন । কিন্তু কোন কারণ ঠিক করতে পারলেন না।
এখন তাঁর মনে বিস্ময়ের চেয়ে বেশি জাগল এক সংশয়। বার বার চেষ্টা করেও ইষ্টদেবকে দেখতে পাচ্ছিনা, কেবলই পরমহংসের মূর্তি আসছে, তবে কি ইনিই আমার ইষ্ট?

পণ্ডিত চক্ষু মুদ্রিত করলেন পুনরায়। সন্দেহ এবার ধারণায় পরিণত হল ৷ প্রত্যয় করলেন যে পরমহংস -দেবই তাঁর ইষ্ট। তিনি চোখ মেলে উঠে দাড়ালেন। ছুটে গেলেন ঠাকুরের ঘরে । কোথায় সেই গর্বোদ্ধত ভাব। ঠাকুরের পাশে বসাও আর নয়। তাঁর পায়ের নীচে বসলেন মেঝেতে।

শ্রীরামকৃষ্ণ খাটে ভাবাবিষ্ট হলেন । আবেশের মধ্যে ডান পা রাখলেন পণ্ডিতের মাথায় ৷ ন্যায়বাগীশ এতক্ষণে সেই চরণের মাহাত্ম্য বুঝেছেন।
তিনি সসম্ভ্রমে পা দুটি নিলেন আপন হাতে। আর ঠাকুরের স্তব করতে লাগলেন।

চোখের জলে আপ্লুত হয়ে বার বার বললেন, 'আমায় চৈতন্য দিন । ভক্তি দিন।'
তারপর ঠাকুরের চরণ ধরে প্রার্থনা জানালেন, ‘রূঢ় বাক্য উচ্চারণের জন্যে আমায় মার্জনা করুন, দেব।'
আর ভক্তদের দিকে ফিরে বললেন, 'ইনি মানব দেহে ঈশ্বরের অবতার। আমি অন্ধ ছিলুম আমার পাণ্ডিত্যের দম্ভে। তাই এই জ্যোতি আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু তিনি পতিতপাবন। আমাদের মত ব্যক্তিকে ত্রাণ করতে এসেছেন। তিনি আমার অপরাধ আগেই ক্ষমা করেছেন। এখন আপনারা আমায় মার্জনা করুন।’

প্রণাম নিও ঠাকুর।
দিলীপকুমার মুখোপাধ্যায়ের লিখিত অলৌকিক রহস্যে রামকৃষ্ণ থেকে সংগৃহীত।
।।সংগৃহীত তথ্য

21/03/2025

রূপ হচ্ছে দৃষ্ট আর চোখ হচ্ছে দ্রষ্টা আবার
চোখ হচ্ছে দৃষ্ট মন হচ্ছে দ্রষ্টা আবার
মন হচ্ছে দৃষ্ট সাক্ষী হচ্ছে দ্রষ্টা, আসল দ্রষ্টা সাক্ষী কেউ দৃষ্ট করতে পারেনা। দ্রষ্টা দৃষ্টকে দেখে কিন্তু দ্রষ্টা নিজেকে দেখতে পারেনা কখনোও।যেমন দ্রষ্টা এক দৃষ্ট বহু। দৃষ্ট পাল্টে যায় দ্রষ্টা পাল্টায় না। দৃষ্ট পরিবর্তনশীল দ্রষ্টা অপরিবর্তনশীল।

বেদান্ত বলে, আমাদের চারপাশের সবকিছুর মধ্যেই চৈতন্যের অসীম অধিষ্ঠান রয়েছে। এর কোনও সৃষ্টি, বৃদ্ধি ও বিনাশ নেই। চৈতন্যের আলো গিয়ে যেখানে পড়ে, সে জায়গাটা আলোকিত হয়ে ওঠে। এই যে আমাদের চারিদিকে এত মানুষ, গাছপালা, অন্যান্য প্রাণী এবং জড় বস্তু, এমনকী গ্রহ-তারা-নক্ষত্র-ছায়াপথ রয়েছে, তার সব‌ই প্রকৃতপক্ষে চৈতন্যের একেকটি আধার, যদি আমরা ওরকম করে দেখতে পারি বা বুঝতে পারি।
নিজের হৃদয়ের দিকে যখন গভীরভাবে তাকাই, তখন বুঝতে পারি, আমরা কেবলই দেহ ন‌ই, সূক্ষ্ম বিবেচনায়, আমরা মূলত আমাদের মন, চিন্তা, আবেগ, ধারণা, বিশ্বাস ও স্মৃতির সমন্বয়। বেদান্ত শেখায়, এই সবকিছু মিলেমিশে একটি অভিন্ন সত্তা হয়ে প্রতিভাসিত হয়, যার নাম চৈতন্য বা সচ্চিদানন্দ। অস্তিত্ব, চেতনা ও সুখ কিংবা সত্য, চেতনা ও আনন্দ এই চৈতন্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
অজ্ঞতা ও জ্ঞান, জানা ও না জানা, দ্রষ্টা ও দৃষ্ট... এমন বিপরীত কিন্তু সহযোগী সত্তার মধ্যকার যে সেতু, তার নাম‌ই বেদান্ত। স্বামী বিবেকানন্দ প্রায়‌ই পাশ্চাত্যের লোকজনকে বলতেন, তুমি সত্যিই যা, তা যদি তুমি জানতে, অর্থাৎ তোমার নিজেকে অবিকল তোমার মতো করেই যদি জানতে পারতে, তবে দেখতে পেতে, তুমি আসলে চৈতন্যের এক মহাসমুদ্র বাদে আর কিছু ন‌ও। তোমার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট তখন দূর হয়ে যেত এবং তুমি নিজেকে নির্ভার অনুভব করতে, আর অন্তরস্থিত সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহে পরম সুখাবস্থায় বাঁচতে পারতে। এই আত্মিক সুখপ্রাপ্তিই বেদান্ত এবং সকল ধরনের আধ্যাত্মিকতার মূলকথা।

সংগৃহিত

নরেন্দ্রনাথের কাণ্ড দেখে অবাক রাখালচন্দ্র----ঠাকুরের শরীরের এই অবস্থা, আর তুই দোল খেলবি নরেন! ধীর, স্থির নরেন্দ্রনাথ। শা...
14/03/2025

নরেন্দ্রনাথের কাণ্ড দেখে অবাক রাখালচন্দ্র----ঠাকুরের শরীরের এই অবস্থা, আর তুই দোল খেলবি নরেন! ধীর, স্থির নরেন্দ্রনাথ। শান্ত কন্ঠে উত্তর এল ----দোল পূর্ণিমা কি জানিস? ত্যাগ ঐশ্বর্য মণ্ডিত এক সিদ্ধ মহাপুরুষ, যিনি জগতকে অকাতরে প্রেম বিলিয়েছিলেন, সেই মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব দিবস। আমাদের ঠাকুরও তো প্রেমের ঠাকুর। তাই সবাই মিলে আমরা মহাপ্রভুর জন্মদিন পালন করব, আর ঠাকুরকে নিয়ে মাতব প্রেমানন্দে। ক্রমে সেই আয়োজন হতে লাগল।

১৮৮৬ সাল। অন্তঃলীলাকালে শ্রীরামকৃষ্ণদেব তখন কাশীপুর উদ্যানবাটীতে। ছেলেরা তো ছিলই, দোলের দিন সকাল সকাল আরও কয়েকজন গৃহী ভক্ত উপস্থিত হলেন ঠাকুরের কাছে। রেকাবিতে আবির নিয়ে সকলে দোতলার ঘরে এসেছে। প্রেমের ঠাকুর তখন কৃপা সিন্ধু।

ঠাকুরের শ্রীপাদযুগলে সকলে একে একে আবির দিচ্ছে। ছেলেদের কপালে তিনি আবিরের তিলক এঁকে দিয়ে বললেন, হ্যাঁ রা, তোরা কিন্তু আজ রঙ মেখে সঙ সেজে মহানন্দে থাকিস। ব্যাজার মুখ করে বসে থাকা এ লোকটির জন্যে আনন্দ যেন কম হয় নি। জয় মা! জয় মা!

প্রভুর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে মাকে প্রণাম নিবেদন করে বাগানে চলে গেল ছেলের দল। গেরুয়া বসন যে ওদের ভারী পছন্দের। কজন তাই ধারন করেছে। এবার খোল করতাল সহযোগে শুরু হলো হরিনাম আর আবির খেলা। দোলের সকালে কাশীপুর উদ্যানবাটীতে এক দিব্য আনন্দ।

মা এসে ঠাকুরকে বললেন, ও ঠাকুর আপনার নরেন কি সুন্দর গাইছে, খোল বাজাচ্ছে। দেখতে ইচ্ছে হয় তো! তাহলে যে বেশ হবে গা রামলেলোর খুড়ী, বেশ হবে----ঠাকুরের ভারী আনন্দ। মা কেদারাখানি নিয়ে এসে জানলার পাশটিতে রাখলেন। ধরে ধরে বসিয়ে দিলেন ঠাকুরকে। বললেন, ঐ তো ওরা গাইতে গাইতে এদিকপানে আসছে। কি ভালোই না লাগছে ওদের।

খোলা জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাগান পথে রঙিন আবিরের ধোঁয়াশা। ঠাকুর মহানন্দে হাতে তালি দিচ্ছেন। ভাবাবস্থায় কখন যেন উঠে দাঁড়িয়েছেন চেয়ার ছেড়ে। বোধহয় ইচ্ছে হচ্ছে নিচে নেমে ছেলেদের সঙ্গে আনন্দে মাততে। মনে পড়ছে ছেলেবেলার কামারপুকুরের স্মৃতি। স্যাঙাত গয়া বিষ্ণুর সঙ্গে সেই আবির খেলা। ফুটকড়াই ভাজা, নারকেল নাড়ু, আরও কত কি... দক্ষিণেশ্বরের দিনগুলোও বাদ গেল না।

উদ্যানবাটীর আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে তাঁরই নামগুণ কীর্তনে...সকলে গলা মিলিয়েছেন দেবেন মজুমদারের সঙ্গে।

"ভব সাগর তারণ কারণ হে, রবিনন্দন বন্ধন খণ্ডন হে..শরণাগত কিঙ্কর ভীত মনে, গুরুদেব দয়া করো দীনজনে..." দোল পূর্ণিমার এই পুণ্য লগ্নে ঠাকুরের শ্রীপাদপদ্মে জানাই শতকোটি প্রণাম।

🙏🙏🙏জয় ঠাকুর জয় মা জয় স্বামীজী

সংগৃহীত।।

আজ ঠাকুরের পুণ্য জন্মতিথিতে তাঁকে জানাই অভূমিলুন্ঠিত শতকোটি প্রণাম🙏
28/02/2025

আজ ঠাকুরের পুণ্য জন্মতিথিতে তাঁকে জানাই অভূমিলুন্ঠিত শতকোটি প্রণাম🙏

Address

Sitakund
Kumira

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবনা ,চন্দ্রনাথধাম,সীতাকুণ্ড,চট্টগ্রাম। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share