18/06/2026
এখনও পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছেন বলেই মানবতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
একটি অসহায়, গৃহকর্মী আর গৃহকর্তা একজনএস আই সঞ্জয় মিত্র এর নির্যাতনকারি স্ত্রী পপি মিত্রও পুলিশে কর্মরত। অর্থাৎ পুলিশ দম্পতি ।
যার শৈশব কেটে যাওয়ার কথা ছিল ভালোবাসা আর নিরাপত্তার ছায়ায়। অথচ তার ভাগ্যে জুটেছে নির্যাতন, ভয় আর অসহনীয় যন্ত্রণা। অভিযোগ উঠেছে , কুমড়ার তরকারি পুড়ে যাওয়ার মতো সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে নিষ্ঠুরতা তার ওপর চালানো হয়েছে, তা শুধু একটি মেয়ের শরীরকে নয়, আমাদের সমাজের বিবেককেও ক্ষতবিক্ষত করেছে।
আজ যখন মেয়েটিকে উদ্ধার করা হলো, তার শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলো যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছিল কতদিন ধরে সে যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছে। সেই দৃশ্য দেখে যে কেউই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়বে। একজন নির্যাতিতার চোখের জল, তার আতঙ্কিত মুখ, তার অসহায় কণ্ঠ—এসব কোনো সভ্য সমাজের জন্য গৌরবের নয়, বরং লজ্জার।
তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও কিছু আলোর মানুষ সামনে এসেছেন। আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য খুলনা পুলিশ কমিশনারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিক ভাই, সাবেক সদস্য সচিব টুটুল ভাই,সাংবাদিক উজ্জ্বল, সাংবাদিক মাকসুদ ভাই ও সাংবাদিক সজল ভাইকে—যারা সারাক্ষণ আমাকে রিং দিয়ে খোঁজ নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
বিশেষ ধন্যবাদ সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ভাইকে, যিনি যিনি একাধিকবার পরবর্তী প্রদক্ষেপ সম্পর্কে অবিহিত করেছেন এবং মতামত নিয়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করে মামলার অগ্রগতি জানানো এবং মানবিক অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাঁর ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। কৃতজ্ঞতা এম এ সাদির প্রতিও, যিনি সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আমার অনুরোধে থানায় থেকে অভিযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অক্লান্ত সময় ও শ্রম দিয়েছেন। তাৎক্ষনিক মেয়েটিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ জানায় খুলনার সম্মানিত নারী নেত্রীদের।
সবচেয়ে স্বস্তির খবর—অবশেষে নির্যাতিত মেয়েটির অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পথে। আমরা আশা করি, এই মেয়েটি ন্যায়বিচার পাবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো মেয়ে যেন এমন নির্মম নির্যাতনের শিকার না হয়।
আজকের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবতা তখনই বেঁচে থাকে, যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ একজন দাঁড়ায়। একটি মেয়ের কান্না থামাতে, একটি জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কিছু মানুষ আজ নিজেদের দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন।
সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। আর সেই ছোট্ট মেয়েটির জন্য ভালোবাসা, দোয়া এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।
মানবতা যেন জিতুক, অন্যায় যেন পরাজিত হো