গীতা দান কর্মসূচি

গীতা দান কর্মসূচি গীতার আলোকে সবাইকে আলোকিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
( প্রতিষ্ঠিত : ৪ জানুয়ারি ২০২১ ইং )

🔴রাজা হরিশ্চন্দ্র—সত্য রক্ষার এক কঠিন পণ তাঁকে রাজসিংহাসন থেকে টেনে নামিয়ে এক মুহূর্তের মধ্যে ভিখারির দশা এনে দিয়েছিল।এক...
08/09/2026

🔴রাজা হরিশ্চন্দ্র—সত্য রক্ষার এক কঠিন পণ তাঁকে রাজসিংহাসন থেকে টেনে নামিয়ে এক মুহূর্তের মধ্যে ভিখারির দশা এনে দিয়েছিল।

একদিন দেবর্ষি নারদ স্বর্গসভায় হরিশ্চন্দ্রের সত্যবাদিতা ও ধর্মপরায়ণতার উচ্চ প্রশংসা করলে, মহর্ষি বিশ্বামিত্র তা পরীক্ষার ব্রত নেন।

বিশ্বামিত্র তাঁর স্বপ্নের এক ঘটনার কথা রাজাকে জানান, যেখানে রাজা তাঁকে নিজের সমস্ত রাজত্ব দান করার কথা দিয়েছিলেন। স্বপ্নের কথা হলেও রাজা হরিশ্চন্দ্র বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তাঁর পূর্ণ রাজ্য বিশ্বামিত্রকে দান করে দেন।

দুঃখে মোড়া সেই যাত্রাপথ আরও মর্মান্তিক হয়ে ওঠে যখন বিশ্বামিত্র দান গ্রহণের পর দক্ষিণা হিসেবে ৫০০ স্বর্ণমুদ্রা দাবি করেন। সমস্ত রাজত্ব ও সম্পত্তি দান করে দেওয়ায় হরিশ্চন্দ্রের কাছে সেই দক্ষিণা দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।

বিশ্বামিত্র মুনি রাজাকে এক মাসের সময় দেন দক্ষিণা পরিশোধ করার জন্য।

সহায়-সম্বলহীন রাজা তখন নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী শৈব্যা এবং একমাত্র অবুঝ পুত্র রোহিতাশ্বকে পর্যন্ত কাশীধামে এক ব্রাহ্মণের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করতে বাধ্য হলেন। তিনি নিজেও চণ্ডালের দাস হিসেবে শ্মশানে চাকরি নেন। শ্মশানে মৃ'তদেহ দা'হ করার বিনিময়ে কর আদায় করা ছিল রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাজ। একদিন এমন এক ম'র্মান্তিক পরীক্ষা এসে হাজির হলো, যা পাথর হৃদয়কেও গলিয়ে দেয়। সাপের কা'মড়ে ম'র্মান্তিক মৃ'ত্যু হয়েছে তাঁর একমাত্র আদরের ছেলে রোহিতাশ্বের। পুত্রশোকে পাথর হয়ে রানী শৈব্যা ছিন্নবস্ত্র পরে রক্তিম চোখে মৃ'ত ছেলেকে নিয়ে শ্মশানে এলেন দা'হ করতে।

শ্মশানের নিয়ম অনুযায়ী, মৃ'তদেহ সৎকার করতে হলে নির্ধারিত কর বা শুল্ক চণ্ডালকে প্রদান করতে হতো। রাজা হরিশ্চন্দ্র নিজের স্ত্রী ও মৃ'ত সন্তানকে চিনতে পারলেও, তিনি শ্মশানের নিয়ম ও মালিকের প্রতি সততা ভঙ্গ করেননি। রাজধর্ম ও সত্য পালনের চূড়ান্ত নিদর্শন হিসেবে তিনি কর ছাড়া পুত্রকে দা'হ করতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করেন।

রানি শৈব্যার কাছে শ্মশানের শুল্ক দেওয়ার মতো কোনো অর্থ বা মুদ্রা ছিল না; তাঁর গায়ে পরিধানের সম্বল বলতে ছিল মাত্র একখণ্ড চেরা কাপড়। রানি সেই কাপড়ের একটি অংশ ছিঁড়ে কর হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

স্বামী-স্ত্রীর এই চরম নিষ্ঠা ও বেদনার দৃশ্য দেখে স্বর্গমণ্ডল কেঁপে ওঠে। দেবতারা আর সহ্য করতে না পেরে মর্ত্যে নেমে আসেন।দেবর্ষি নারদ, বিশ্বামিত্রসহ সকল দেবতারা মর্ত্যে নেমে এসে হরিশ্চন্দ্রের এই অটল সত্যনিষ্ঠা ও ধর্মবোধ দেখে ধন্য ধন্য করেন।
রোহিতাশ্বকে জীবনদান করা হয় এবং হরিশ্চন্দ্র তাঁর হারানো রাজ্য ও সম্মান ফিরে পান।

🔴এই করুণ ও পরম পবিত্র আখ্যানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অন্নদা একাদশী ব্রতের মহিমা। অন্নদা একাদশী ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয়। হরিশ্চন্দ্র যখন চরম দুর্দশা ও অন্তহীন কষ্টের মধ্যে শ্মশানে চণ্ডালের দাসত্ব করছিলেন, তখন মহর্ষি গৌতম তাঁকে এই ব্রতের কথা উপদেশ দিয়েছিলেন।

সত্য ও ধর্মের পথ সবসময় কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং তা কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু শত বিপদের মাঝেও এই পথে টিকে থাকাই মানুষের নৈতিকতার সর্বোচ্চ জয়।

07/09/2026

শুভ অন্নদা একাদশী🙏

গীতা দান কর্মসূচি
07/09/2026

গীতা দান কর্মসূচি

07/09/2026
🌸 #অন্নদা_একাদশীর_ব্রত_মাহাত্ম্য🌸এই ভাদ্রবর্তী কৃষ্ণপক্ষীয়া অন্নদা একাদশীর মাহাত্ম্য ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বর্ণনা করা হয়েছ...
07/09/2026

🌸 #অন্নদা_একাদশীর_ব্রত_মাহাত্ম্য🌸

এই ভাদ্রবর্তী কৃষ্ণপক্ষীয়া অন্নদা একাদশীর মাহাত্ম্য ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বর্ণনা করা হয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন- হে কৃষ্ণ! ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম কি, তা শুনতে আমি অত্যন্ত আগ্রহী।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে রাজন! আমি সবিস্তারে এই একাদশীর কথা বর্ণনা করছি। আপনি একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করুন।

ভাদ্রের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীকে বলা হয় ‘অন্নদা’। এই তিথি সর্বপাপবিনাশিনী। যিনি শ্রীহরির অর্চনে এই ব্রত পালন করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হন। এমনকি এই ব্রতের নাম শ্রবণেই রাশি রাশি পাপ বিদূরিত হয়ে যায়। এই ব্রত প্রসঙ্গে একটি পৌরাণিক ইতিহাস রয়েছে।

প্রাচীন কালে হরিশচন্দ্র নামে এক নিষ্ঠাপরায়ণ সত্যবাদী, চক্রবর্তী রাজা ছিলেন। পূর্ব কর্মফল ও প্রতিজ্ঞার সত্যতা রক্ষায় তিনি রাজ্যভ্রষ্ট হন। অবস্থা এমন হল যে, তিনি নিজের স্ত্রী-পুত্র এবং অবশেষে নিজেকেও পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হলেন।

হে রাজেন্দ্র! এই পুণ্যবান রাজা চন্ডালের দাসত্ব স্বীকার করেও সত্যরক্ষার্থে দৃঢ়নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি শ্মশানে মৃতব্যক্তির বস্ত্রও কর রূপে গ্রহণ করতেন। এইভাবে তাঁর বহু বছর কেটে গেল।

দুঃখসাগরে নিমজ্জিত হয়ে ‘কি করি’ কোথায় যাই, কিভাবে এ দুর্দশা থেকে উদ্ধার পাই’- এই চিন্তায় তিনি দিনরাত্রি বিভোর হলেন। এমন সময় দৈবক্রমে পরদুঃখদুঃখী গৌতম ঋষি রাজার কাছে এলেন। রাজা মুনিকে দর্শন করে ভক্তিভরে প্রণাম করলেন। করযোড়ে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে একে একে নিজের সমস্ত কথা জানালেন। রাজার দুঃখের কথা শুনে মুনিবর বিস্ময়াপন্ন হলেন।

অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে তিনি বললেন- ‘হে রাজন! ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষের একাদশী অন্নদা নামে জগতে প্রসিদ্ধ। আপনি এই ব্রত পালন করুন। এই ব্রতপ্রভাবে আপনার সমস্ত পাপের বিনাশ হবে। আপনার ভাগ্যবশত আগামী সাত দিন পরেই এই তিথির আবির্ভাব হবে। ঐ দিন উপবাস থেকে রাত্রি জাগরণ করবেন। এইভাবে ব্রত উদযাপনে আপনার সমস্ত পাপক্ষয় হবে। হে রাজন! আপনার পুণ্যপ্রভাবে আমি এখানে এসেছি জানবেন। এইকথা বলে গৌতম মুনি অন্তর্হিত হলেন।

ঋষিবরের উপদেশ মতো তিনি শ্রদ্ধা সহকারে সেই ব্রত পালন করলেন। তার ফলে তাঁর সমস্ত পাপ দূর হল। হে মহারাজ! এই ব্রতের প্রভাব শ্রবণ করুন। যথাবিধি এই ব্রত পালনে বহু বছরের দুঃখভোগের অবসান হয়। ব্রতের প্রভাবে রাজা হরিশ্চচন্দ্রের সকল দুঃখ সমাপ্ত হল। আকাশ থেকে দেবগণ দুন্দুভিবাদ্য ও পুষ্পবর্ষণ করতে লাগলেন। নিষ্কণ্টক রাজ্যসুখ ভোগ করে অবশেষে আত্মীয়-স্বজন ও নগরবাসী সহ স্বর্গে গমন করলেন।

#একাদশী_পালনের_নিয়মাবলী

যে মানুষ নিষ্ঠা সহকারে এই ব্রত পালন করেন, তিনি শ্রীহরি চরণে ভক্তি লাভ করে অবশেষে দিব্যধামে গমন করেন। এই ব্রতের মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
#একাদশী #কৃষ্ণ

 #গীতা_উপহার গীতা গ্রন্থ উপহার গ্রহন করেছেনঃ সাথী সরকার  স্থানঃ পুকুরকুলে, সাতক্ষীরা গীতা গ্রন্থ উপহার করেছেনঃ গীতা দান ...
19/08/2026

#গীতা_উপহার

গীতা গ্রন্থ উপহার গ্রহন করেছেনঃ সাথী সরকার


স্থানঃ পুকুরকুলে, সাতক্ষীরা

গীতা গ্রন্থ উপহার করেছেনঃ গীতা দান কর্মসূচি

🔴চতুর্যুগ, কল্প, ব্রহ্মার আয়ুষ্কাল ও মন্বন্তর চতুর্যুগের হিসাব: ১) কলি যুগ = ৪৩২০০০ সৌর বছর (সৌর বছর মানে আমাদের হিসাবে...
08/08/2026

🔴চতুর্যুগ, কল্প, ব্রহ্মার আয়ুষ্কাল ও মন্বন্তর চতুর্যুগের হিসাব:
১) কলি যুগ = ৪৩২০০০ সৌর বছর (সৌর বছর মানে আমাদের হিসাবে ১ বছর)
২) দ্বাপর যুগ = (৪৩২০০০ x ২ ) সৌর বছর
৩) ত্রেতা যুগ (৪৩২০০০X ৩) সৌর বছর
৪) সত্য যুগ (৪৩২০০০X ৪) সৌর বছর

১ চতুর্যুগ/দিব্যযুগ
= সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগের ১ বার আবর্তন
= (৪৩২০০০ + ৪৩২০০০ x ২ + ৮৯২০০০X ৪৩২০০০ X ৪) বছর
- ৪৩২০০০ (১+২+৩+৪) বছর
- ৪৩২০০০ X ১০ বছর
= ৪৩২০০০০ বছর

১ কল্প চতুর্যুগের ১০০০ বার আবর্তন = ৮৯২০০০০ X ১০০০
ব্রহ্মার ১ দিনের হিসাব
১২ ঘন্টা- ১ কল্প- ১০০০ চতুর্যুগ - ৪৩২ কোটি সৌর বছর + ব্রহ্মার রাত্রিভাগ বা ১২ ঘন্টা = ১ কল্প= ১০০০ চতুর্যুগ = ৪৩২ কোটি সৌর বছর
= ব্রহ্মার ১ দিন বা ২৪ ঘণ্টা ২ কল্প ২০০০ চতুর্যুগ ৮৬৪ কোটি সৌর বছর
ব্রহ্মার আয়ুষ্কাল

ব্রহ্মার আয়ুষ্কাল
১০০ বছর (সত্যলোকের সময়ানুসারে)
= ১ বছর X ১০০
= ১২ মাস x ১০০
= ৩০ দিন x ১২ x ১০০
= ১ দিন x ৩০ x ১২ × ১০০

- চতুর্যুগের ২০০০ বার আবর্তন x ৩০ × ১২ x ১০০

= ৮৬৪,০০,০০,০০০x ৩০×১২×১০০
= ৩,১১,০৪,০০০,০০,০০,০০০ বছর

- ৩ কোটি ১১ লক্ষ ৪ হাজার কোটি বছর (প্রায়)
১ কল্পে ১৪ জন মনু রাজত্ব করেন।।।
১ কল্প = ১০০০ চতুর্যুগ।।।
প্রত্যেক মনুর শাসনামলে প্রায় ৭১টি চতুর্যুগ
(১০০০+১৪= ৭১.৪৩) আবর্তিত হয়।।।

১৪ জন মনুর মধ্যে এখন সপ্তম মনুর (বৈবস্বত মনু) শাসনামল।।। তাঁরও অধীনে ৭১টি চতুর্যুগ আবর্তিত এভাবে কেবল সপ্তম (বৈবস্বান) মনুর ২৮ তম চতুর্যুগের দ্বাপরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আসেন। প্রত্যেক দ্বাপরে তিনি আসেন না এবং ঠিক তার পরের কলিতে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আসেন।।। অর্থাৎ, ব্রহ্মার ১ দিনে শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্য কেবল একবার আসেন।।। বর্তমান কলিযুগটি হল সেই বিশেষ স্বর্ণকলি।।। কেবল এ কলিযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরিনাম বিতরণ করেন এবং আচন্ডাল সকলের জন্য গোলক বৃন্দাবনের দ্বার খুলে দেন, প্রত্যেক কলিযুগে সে সুযোগ আসে না।।। তাই, নিতাই গৌরের আরাধনাকে সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা কর্তব্য।।।

সংগৃহীত

Address

Khulna Sadar
Khulna
9100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গীতা দান কর্মসূচি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share