31/01/2023
তরুণ সমাজ বিয়ের জন্য কেন হঠাৎ তৎপর?
এই প্রশ্নটার জবাব বিশেষ করে অভিভাবক শ্রেণীর জানা উচিত। একটু পেছনে যাওয়া যাক....দুই কিংবা সর্বোচ্চ তিন জেনারেশন আগে, যখন বিজাতীয় সংস্কৃতি ছিলো না, সমাজে অশ্লীলতার ব্যাপক প্রসার ছিলো না তখন ছেলেমেয়েদের বিয়ের বয়স ১০/১২/১৪ সর্বোচ্চ ১৮-২০। এর চেয়ে বেশী বয়সে বিয়ের কথা মানুষ চিন্তাও করতে পারতো না। হ্যাঁ, এর বেশী বয়সের যেসব ছেলেরা বিয়ে করতো তাদের স্ত্রীর বয়স এবং তাদের বয়সের পার্থক্য থাকতো দশ থেকে পনেরো বছর। আমাদের এক জেনারেশন আগ থেকেই অর্থাৎ আমাদের বাবা মায়ের সময় থেকে বিভিন্ন নাটক, সিনেমা, গান- বাজনার অনুপ্রবেশ ঘটে যার ফলস্বরূপ বিয়ের Average বয়স পিছিয়ে যায়। ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত লাগছে তাই না।
নাটক, সিনেমা, গানবাজনার জন্য বিয়ে পিছিয়ে যাওয়া? একটু পরিষ্কার করে দিই, যখন থেকে সমাজে এসব হারাম জিনিসের অনুপ্রবেশ ঘটে তখন সাথে করে আরেকটা কঠিন রোগ মহামারী আকার ধারণ করে আর তা হলো "বিবাহ বহির্ভূত ভালবাসা/ সম্পর্ক/প্রেম " যা শরীয়তের ভাষায় জেনা ও ব্যভিচার। এসব হারাম বিনোদন কিংবা হারাম সম্পর্কের কারণে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না। বর্তমানে হারাম বিনোদনের অভাব নেই এটাও সত্যি তেমনি ধর্মীয় জ্ঞানও সহজপ্রাপ্য যেটা আগের দিনে ছিলো না। এখন যে ছেলেটা সারাদিন হারাম বিনোদনে ব্যস্ত থাকে, হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে সে নিজেও কিন্তু জানে এটা হারাম। কিন্তু এক জেনারেশন আগে ফিরে তাকালে দেখবেন অনেকে এখনো জানে না গানবাজনা, নাটক-সিনেমা এগুলো হারাম। প্রেম-ভালবাসা তো বয়সের দোষ। বিশেষ কিছু না।
ডাঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ এই ব্যাপারে অসাধারণ একটি মন্তব্য করেছিলেন যা মোটামুটি এরকম ছিলো,
"আপনারা ভাবেন ছেলে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট
পরে কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুরে। এই ছেলে ইসলামের কি বুঝে? কিন্তু আপনি জানেন না সে কুরআন হাদিসের অনেক কিছুই জানে যা আপনি
জানেন না। এজন্যই সে বিয়ের কথা বলে। "
আপনি ভাবছেন আপনার সন্তান এখনো কিছু বুঝে না। অথচ সে অনেক কিছু বুঝে ফেলায় সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে বিয়ের কথাটা বলতে পেরেছে। তার দিকে দু চারটা খারাপ বাক্য ছুঁড়ে দেয়ার আগে ধৈর্য ধরে আশেপাশের দু-চারটা পার্কে হেঁটে আসবেন। বর্তমান তরুণ সমাজের বাস্তবতা দেখে এসে নিজের ছেলে কিংবা মেয়েকে ধিক্কার না দিয়ে শুকরিয়া আদায় করবেন আপনার ছেলে অথবা মেয়ে ওই পার্কের নোংরা সম্পর্কের চেয়েও হালাল সম্পর্ককে উত্তম মনে করে সকল লজ্জার উর্ধ্বে গিয়ে আপনাকে বিয়ের কথা বলেছে কিংবা সেগুলো ফেলে এসে সে আপনাকে বিয়ের কথা বলছে। আপনিও পারিপার্শ্বিক চিন্তা ফেলে শুধু এটা ভাবুন তো,মানুষের একেবারে মৌলিক একটা বৈশিষ্ট্য তো সূরা নিসার প্রথম আয়াতের তাফসিরেই দেখতে পাবেন যে পুরুষ মাত্রই নারীর প্রতি আকর্ষিত হবে আর নারী মাত্রই পুরুষের প্রতি আকর্ষিত হবে। আপনার পাঁচ বছরের বাচ্চা ছেলেটাও একটা ছেলে বন্ধুর চেয়ে একটা মেয়ে বান্ধবীকে বেশী পছন্দ করে।
বর্তমানের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতিতে হালাল-হারাম সম্পর্কে স্বশিক্ষিত হওয়া লাগে। আর এই শিক্ষাটা পাওয়ার আগ পর্যন্ত একটা ছেলে কিংবা মেয়ে বুঝে না বিবাহ বহির্ভূত প্রেম ইসলামে বৈধ না। নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল গান বাজনা অবৈধ প্রেমের শিক্ষা দেয়। মা অথবা পরিবারের মহিলা সদস্যরা সন্তানদের সাথে নিয়ে এগুলো দেখে থাকেন। আর এই অবৈধ সম্পর্কের প্রভাবটা তার মনে গিয়ে বাসা বাঁধে।
তারপর একটা ছেলেকে কিংবা মেয়েকে আপনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠালেন যেখানে ছেলে-মেয়ে সবাই আছে।
তাকে শিখালেন না প্রেম ভালবাসা হারাম। কিংবা শিক্ষা দিলেও আশেপাশের ছেলেমেয়েদের দেখে, নাটক সিনেমা দেখে শিশুটা নিজের সুবিধামত খারাপটাকেই বেছে নিবে।
তারা তখন থেকেই শিখে যায় নারী পুরুষের মেলামেশা দোষের কিছু না। দায়টা আপনার কোথায় এবার বুঝতে পেরেছেন? সহশিক্ষা একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর হারাম হলেও এই শিশুর স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্যে যখন এই জিনিসটা আর পাপ হিসেবে থাকে না তখন বড় হলেও একটা মেয়ের অনেকগুলো ছেলেবন্ধু কিংবা একটা ছেলের অনেকগুলো মেয়েবন্ধু পরবর্তীতে থাকে। এটা না হলে হারাম "Relationship"এ জড়িয়ে পড়ে। ধৈর্য হারাবেন না। পুরোটা পড়ুন। আপনার জানা দরকার আপনার পরবর্তী জেনারেশনে কি হচ্ছে!
যখন কোনো ছেলে বা মেয়ে দ্বীনের আলো দেখে ফিরে আসতে চায় তখন সব লজ্জা, প্রচলিত নিয়ম ভেঙে আপনাকে বিয়ের কথা বলে। দেখুন, আপনার সন্তান বিনোদনের জন্য গেম খেলে,টিভি দেখে, খেলা দেখে, মুভি দেখে, গান শোনে কিন্তু যখন হিদায়াত প্রাপ্ত হয় তখন এই হারাম বিনোদনের সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। বিনোদনের অন্যতম উৎস হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে- মেয়েদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় পর্ণগ্রাফি.... আবারো পড়ুন "ছেলে মেয়েদের "
যারা এই বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছে। এই বিষাক্ত ছোবল তার চারপাশে যখন ঘুরছে ফিরছে সে নিজেকে সংযত রাখার জন্য কুরআন হাদিসে দেখানো পদ্ধতি খুঁজছে। জবাব কি? তার আগে আরেকবার মনে করুন তার সকল হারাম বিনোদন যেখানে বন্ধ, সকল হারামে, অন্ধকারে যখন পুরো সমাজটা ডুবে আছে তখন আপনার ছেলে কিংবা মেয়ে সবগুলো শিকল ছিঁড়ে এসে আপনার কাছে একমুষ্টি চাইছে...... আলো ভিক্ষা
কিন্তু ভেবে দেখুন, আপনি অভিভাবক হিসেবে সেই দায়িত্বটা ছিলো আপনার। ছেলে কিংবা মেয়ে ধর্মের দিকে ফিরে এসে জেনেছে বিয়েকে যত কঠিন করা হবে অশ্লীলতা ততো ঘিরে ধরবে। সে জেনেছে দৃষ্টি, লজ্জাস্থান হেফাজত করতে হলে বিয়ে করতে হবে। একবার চিন্তা করে দেখুন তো, পার্কে দেখে আসা দশ্যগুলিতে আপনার সন্তানকে দেখতে পেলে আপনি যদি আরোদৃশ্যগুলিতে আপনার সন্তানকে দেখতে পেলে আপনি যদি আরো খুশি হতেন? যদি খুশি হোন তাহলে আপনি তাকে তিরষ্কার করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে। সেক্ষেত্রে বলার আর কিছুই থাকবে না। এই ঘুটঘুটে অন্ধকার জগত থেকে আপনার হাত ধরে আলোতে আসতে চেয়ে সে যদি ধিক্কার, তিরস্কার পায় তখন আপনিই একমাত্র কারণ হবেন যিনি জেনেশুনে সন্তানকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে ছেড়ে দিয়েছেন যেখান থেকে জীবিত ফিরে আসতে পারলেও সসম্মানে ফেরত আসতে পারবে না।
সমাজ অল্পবয়সে প্রেম করতে দেখলে কখনোই ধিক্কার দিবে না। কিন্তু অল্পবয়সে বিয়ে করা প্রসঙ্গে সমাজ মুখ বাঁকাবে। আপনি যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষের কথা চিন্তা করে বিয়েকে বিলম্বিত করার চিন্তা করেন, তাহলে মনে রাখুন আপনার সমাজ আপনাকেসমাজ অল্পবয়সে প্রেম করতে দেখলে কখনোই ধিক্কার দিবে না। কিন্তু অল্পবয়সে বিয়ে করা প্রসঙ্গে সমাজ মুখ বাঁকাবে। আপনি যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষের কথা চিন্তা করে বিয়েকে বিলম্বিত করার চিন্তা করেন, তাহলে মনে রাখুন আপনার সমাজ আপনাকে জান্নাত কিংবা জাহান্নামে নিয়ে যেতে না পারলেও আপনার সন্তানের সেই ক্ষমতা পুরোপুরিই আছে।