Bangladesh Anjumane Talamije Islamia is one of the leading Islamic student organizations of Bangladesh founded on 18 Feb, 1980 by the eminent Islamic Scholar and great saint of the 20th Century, ardent follower of the holy prophet (pbuh), Shamsul Ulama Hazrat Allama Fultali Saheb Qibla (R.). It is based on the convictions of Ahle-Sunnat-wal-Jama'at and aimed at preaching, promoting, and establishi
ng true Ideologies of Islam to the young Muslim Students of Bangladesh. Social Welfare and 5. Spreading Education and Solving problems especially those are related to Islamic Education.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মানুষের সমাজ- সভ্যতা ও পরিবেশকে সুনিশ্চিতরূপে চিরন্তন সুখ-শান্তি, প্রগতি-সমৃদ্ধি ও পূর্ণতার দিকে এগিয়ে নিতে ইসলামের কোন বিকল্প নেই। ইসলামী শরী’আতের মৌলিক উৎস পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ। যা সব যুগে, সব দেশে সর্বাবস্থায় সকল জাতির কল্যাণে প্রযোজ্য। আজকের দুনিয়ায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে সত্যিকার ইসলামী পরিবেশ ও সমাজ গড়ে তোলার জন্যে ইসলামী আদর্শের চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুপম জীবনাদর্শই হলো পবিত্র কালামের বাস্তব রূপায়ন। ইহ-পরলৌকিক যে কোন জিজ্ঞাসা বা জীবন-জগতের যে কোন সমস্যার সমাধান পেতে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জীবনাদর্শের আশ্রয়ই আমাদের একমাত্র পথ। মহান স্রষ্টা আল্লাহপাক মাখলুকাত সৃষ্টি করে মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঘোষণা করেছেন । কেননা মানব জাতিকে তিনি বিবেক-বুদ্ধি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গুণ-গরিমায় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাদেরকে সত্য ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে যুগে যুগে পাঠিয়েছেন অনেক নবী ও রাসূল। সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে মানব জাতির জন্য তাঁর দ্বীনকে করেছেন পূর্ণাঙ্গ। তাদের অগ্রযাত্রাকে ’সিরাতুল মুস্তাকীম’-এর উপর করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত। শেষ নবীর আগমনে আম্বিয়ায়ে কিরামের আবির্ভাবের পথ বন্ধ হওয়ায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উত্তরসূরীদের উপর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। নায়িবে রাসূল তথা উলামায়ে কিরামই পেয়েছেন ইসলাম ও ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নীতি আদর্শ বাস্তবায়নে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার মহান দায়িত্ব। আসহাবে রাসূল, তাবিঈন, তাবে তাবিঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন তথা উলামায়ে দ্বীন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ দুনিয়াবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে জিহাদ করেছেন, মিথ্যার মুকাবিলায় সত্যের বিজয়কে সুনিশ্চিত করতে কুরবানী দিয়েছেন জীবন ও সম্পদ। এ উপমহাদেশে একদিন পৌত্তলিকতার ধ্বংসস্তুপের উপর ইসলামের বিজয় নিশান উড়িয়েছিলেন আউলিয়ায়ে কিরাম ও খালিদ-তারিকের উত্তরসূরী বীরপুরুষরা। আবার যখনই এখানে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, দ্বীনকে মিটিয়ে ফেলার পাঁয়তারা চলেছে, তখনই দ্বীনের ধারক হিসেবে ময়দানে নেমেছেন তাঁরাই। যেমন সম্রাট আকবরের মনগড়া মাযহাব ’দ্বীনে এলাহী’র বিরুদ্ধে মুজাদ্দিদে আলফেসানী হযরত শায়খ আহমদ সিরহিন্দি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি জিহাদ করে এর মূলোৎপাটন করেন, বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা করেন ইসলামকে। এমনিভাবে মুজাদ্দিদে যামান, আমাদের আযাদী আন্দোলনের প্রথম সিপাহসালার হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বালাকোটের ময়দানে শাহাদাত বরণ করেন। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক বিরাট অংশ জুড়ে আছে স্বাধীনতা রক্ষায় সুদীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনী। ১৭৫৭ সালে বিশ্বাসঘাতক কুটিল চক্রের যুদ্ধরূপ প্রহসনের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক শহীদ নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ের ফলে পলাশীর প্রান্তরে যে স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়, তা ফিরে পেতে স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ রদ্ধুর পথ আমাদের পাড়ি দিতে হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে বখতিয়ার খিলজী থেকে আমাদের যে গৌরবমন্ডিত ইতিহাসের সূচনা, কালের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েও সে অগ্রগমন অব্যাহত ছিল। হৃত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের নানামুখী সংগ্রাম ছিল সংগঠিত ও বিকশিত। সর্বশেষ স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত সশস্ত্র যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ নামের প্রিয় ভূখন্ড লাভের মাধ্যমে আমরা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাঞ্ছিত গতিবেগ প্রদান করেছি। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ আজ আগ্রাসী শক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার। শত কোটি জনঅধ্যুষিত মুসলিম জনপদে সম্পদ ও প্রাচুর্যের কমতি নেই। কিন্তু সেই ধন-সম্পদ পাচার হয়ে যাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহ’র একটি দেশও আজ অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। খাদ্য, শিল্পপণ্য ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আজকে তাদের পাশ্চাত্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে করে তাদের উপর চলছে অপশক্তির খবরদারি। তারা হারিয়ে ফেলেছে স্বকীয়তা। অপরদিকে মুক্তিকামী মুসলিম জনপদ হচ্ছে আগ্রাসী শক্তির হিংস্র আক্রমণের শিকার। স্বাধীনতার স্পৃহাকে চিরতরে দমিয়ে দিতে যালিমরা আমাদের জাতির এক এক অংশকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। তারা আমাদের যুবকদের করছে হত্যা, মায়েদের লুটছে ইজ্জত, বোনদের উপর চালাচ্ছে গণধর্ষণ, আমাদের মসজিদ দিচ্ছে গুড়িয়ে, অগ্নিসংযোগ করে জনপদের পর জনপদ করছে ছারখার। আমাদের প্রথম কিবলা বায়তুল মাকদিস আজ ইয়াহুদী হার্মাদদের দখলে। বিশ্বব্যাপী আমাদের দুর্গতি ও দুর্দশার সীমা নেই। সম্পদ থাকতেও আজ আমরা দরিদ্র, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমরা পরমুখাপেক্ষী, সম্ভাবনা থাকতেও অনিশ্চিত আমাদের ভবিষ্যৎ, আমরা অনৈক্যের বেড়াজালে আবদ্ধ। ভাই হয়ে ভাইয়ের বুকে আমরা অস্ত্র ধরছি। আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য থেকে আমরা আজ অনেক দূরে। আল্লাহ ও রাসূলের দুশমন ইয়াহুদী-নাসারাকে আমরা মুরব্বী, অভিভাবক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়ে নিয়েছি। আমাদের পেট্রো-ডলার তাদেরই ব্যাংকে গচ্ছিত। আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় পরামর্শ, উপদেশ, কর্মসূচী তাদের নিকট থেকেই গৃহীত। অথচ বিশ্বব্যাপী তাদেরই হাতে দুর্গতি-দুর্দশা ও লাঞ্ছনা-বাঞ্চনার শিকার হচ্ছি আমরা। গোটা মুসলিম উম্মাহ মিলে এক দেহসত্তা। কিন্তু উম্মাহর ঘরে ঘরে আজ অনৈক্য, বিভেদ-বৈষম্য। ইয়াহুদী, নাসারা ও পৌত্তলিকদের কূটচালের শিকার গোটা উম্মাহ। প্রগতি ও সভ্যতার নামে অশ্লীলতা, নগ্নতা, বেলেল্লাপনা-বেহায়াপনাসহ অনৈসলামিক কর্মতৎপরতা বিপুলভাবে প্রসার লাভ করেছে। একদিকে বিভ্রান্তিকর লেখা, আত্মঘাতী প্রকাশনা, অশ্লীল পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ ইলেকট্রনিকস্ মিডিয়ার অপব্যবহার, অন্যদিকে খ্রিস্টান মিশনারীদের ষড়যন্ত্র, নাস্তিক মুরতাদ ও ধর্মদ্রোহীদের নানাবিধ অপকৌশল ও লোভ-প্রলোভনের মাধ্যমে মুসলিম জাতির ঐতিহ্য ও তাহযীব-তামাদ্দুন ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। ইসলামবিদ্বেষী শক্তি সরলপ্রাণ মুসলিম ছাত্র সমাজের মন ও মানস বিগড়ে দিচ্ছে। তারা কৌশলে নতুন প্রজন্ম তথা আগামী দিনের নাগরিকদের ভ্রান্তির অতল গহ্বরে পৌঁছে দিতে অপপ্রয়াসে লিপ্ত। জাতির দুরবস্থার এই করুন চিত্র এখনও কি আমদের চোখ খুলে দেবে না? আমরা এখনও কি পড়ে থাকব গাফলতির নিদ্রায়? এই গ্লানিকর পরিস্থিতির উত্তরণে কি আমরা কিছুই করতে পারি না? সকল ষড়যন্ত্র, অপকৌশল ও ভ্রান্ত মতবাদকে নস্যাত করতে আজ আমাদের হতে হবে সুসংঘবদ্ধ, গ্রহণ করতে হবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী। আর এ জন্য প্রয়োজন ছাত্রসমাজের যোগ্য নেতৃত্বশীল সংগঠনের, যা হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সম্পূর্ণ অনুগামী, যার মাধ্যমে বিকশিত হবে ছাত্রদের যোগ্যতা, পূরণ হবে তাদের ন্যায্য দাবি, অবসান ঘটবে সকল ষড়যন্ত্রের, সকল বিভ্রান্তির। এই সংগঠনের নেতৃত্বে তাযকিয়ায়ে নাফসের মাধ্যমে তারা হবে আদর্শ নাগরিক। সুন্নাতে নববীর অনুসরণে জীবন গঠন করে তারা ওয়ারিসুল আম্বিয়া হিসাবে গড়ে উঠে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীনকে করবে প্রতিষ্ঠিত। এসকল চিন্তা-ভাবনা নিয়েই উৎসাহী ছাত্র ও চিন্তাশীল উলামায়ে কিরামের সমন্বয়ে ১৯৮০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া নামে এক সুদৃঢ় ছাত্র সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যামানার মুজাদ্দিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এ সংগঠন বাংলাদেশের বিশিষ্ট উলামায়ে কিরাম পীর-মাশায়েখ ও ইসলামী চিন্তাবিদগণের দিক নির্দেশনায় বাস্তবমুখী কর্মসূচী ও সুচারু কর্মতৎপরতা নিয়ে সবসময় অগ্রসর হচ্ছে এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রে সকল নযীর স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
আল্লাহ প্রদত্ত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত, সাহাবায়ে কিরাম তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদা অনুযায়ী মুসলিম ছাত্র সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে ইসলামী আদর্শের মাধ্যমে তাদের জীবন গঠন এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
পাঁচ দফা কর্মসূচি :
উল্লেখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তালামীযে ইসলামিয়া গ্রহন করেছে পাঁচ দফা কর্মসূচি:
১. ইসলামী আদর্শ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদা বিশ্বাসকে মুসলিম ছাত্র সমাজে প্রকাশ করা।
২. ছাত্র সমাজকে তাদের দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত সংঘবদ্ধ করা।
৩. আত্মিক, নৈতিক তথা প্রকৃত মানবিক যোগ্যতা বিকাশ এবং আল্লাহর ধ্যানে মনোনিবেশের কার্যকরী পন্থা অবলম্বন করা।
৪. নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের খিদমত করা এবং সমাজ জীবনে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো।
৫. ইসলামী শিক্ষার সংস্কার, শিক্ষা সমস্যা ও ছাত্র সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।
কর্মসূচি বাস্তবায়ন:
দাওয়াত: *ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সাক্ষাতকার* ভ্রাতৃত্ব বন্ধন * সাপ্তাহিক ও মাসিক সভা * বার্ষিক সম্মেলন * সেমিনার-সিম্পোজিয়াম * ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল * আদর্শ পুস্তক পাঠ * পরিচিতি বিতরণ * আলোচনা সভা * রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ * পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশ * যোগাযোগ * দাওয়াতী সফর ইত্যাদি।
তরবিয়ত : * পাঠাগার প্রতিষ্ঠা * শিক্ষা সফর * দৈনিক রুটিন পালন * বিতর্ক সভা * বিশুদ্ধ কিরাত শিক্ষা * প্রশিক্ষণ সভা * সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান * ইসলামী বিশেষ দিনসমূহ উদযাপন * আত্মসমালোচনা * শরীর চর্চা ইত্যাদি।
খিদমতে খালক : * আর্ত-পীড়িতের সেবা ও সাহায্য করা * ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা * সৎকাজের আদেশ দান এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা।
শিক্ষা সমস্যা ও এর সংস্কার : * নিরক্ষরতা দূরীকরণ তথা শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা * ইসলামী শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষায় উন্নীত করার প্রচেষ্টা চালানো * ছাত্র কল্যাণ ও ছাত্র সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা * গরীব ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য বিশেষ বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা।
সাংগঠনিক কাঠামো :
বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ৮টি পরিষদে বিন্যস্ত- ১. প্রাথমিক শাখা ২. আঞ্চলিক শাখা ৩. শহর শাখা ৪. উপজেলা শাখা ৫. জেলা শাখা ৬. নগর/মহানগর শাখা ৭. বিভাগীয় শাখা ৮. কেন্দ্রীয় পরিষদ।
স্তর বিন্যাস :
এ সংগঠনে অন্তর্ভূক্তদের ৪টি স্তর রয়েছে-
প্রাথমিক সদস্য : বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচির প্রতি একমত পোষণ করে প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে যে কোন ছাত্র প্রাথমিক সদস্য হতে পারে।
সদস্য : যদি কোন প্রাথমিক সদস্য নিজের জীবন গঠনের জন্য নিয়মিত দৈনিক রুটিন পালন করেন, সংগঠনের সভাসমূহে উপস্থিত হন এবং সংগঠনের তাহবিলে সাহায্য করেন, তবে তাকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সদস্য স্তরে উন্নীত করা হবে।
কর্মী : কোন সদস্য যদি সংগঠনের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হন, আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং সংগঠনের নীতি-আদর্শের পরিপন্থি কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক না রাখেন তবে তাকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্মী স্তরে উন্নীত করা হবে।
কায়িদ : যখন কোন কর্মী আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্ত সুন্নতে নববীর অনুসরণে চারিত্রিক উৎকর্ষতা অর্জন করেন, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচী বাস্তবায়নে জীবনকে কুরবান করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন তখন তাকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কায়িদ স্তরে উন্নীত করা হবে।
বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া চায় এমন এক ছাত্র ও যুবসমাজ গড়তে যাদের একমাত্র লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাদের অন্তর হবে রাসূল প্রেমে সিক্ত। সাহাবায়ে কিরাম, সলফে সালেহীন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের পদাংক অনুসরণই হবে তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। তারা ইসলামকে সর্বাবস্থায় প্রকৃত ও আদর্শ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করবে, সর্বপ্রকার প্রলোভন থেকে মক্ত থাকবে এবং তারাই হবে আদর্শের সেনানী।
আসুন, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া’র পতাকা তলে সমবেত হয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের পথে অগ্রসর হই। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর দ্বীনের মহান দায়িত্ব আনজাম দেয়ার তাওফীক দান করুন, আমীন !
তালামীযে ইসলামিয়াকে আরও জানতে হলে পড়ুন
* মর্মকথা * কর্মপদ্ধতি * সাহাবা-ই-কিরাম : মর্যাদা ও মহত্ব * ইসলামী আন্দোলন : দাওয়াত, নেতৃত্ব ও আনুগত্য * নবী করীম (সা.) কি রওদ্বা শরীফে জীবিত * হাদীসে রাসূল (সা.) * মীলাদ শরীফে কিয়াম * শাফায়াত : পরিচিতি ও দলিল * সুবহে সাদিক [ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) স্মারক] * আলোর নিশান (সাংগঠনিক মুখপত্র), মাজহাব মানার প্রয়োজনীয়তা, তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাআত।